শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ন
উত্তর : প্রশ্নে উল্লেখিত হাদীছটির সনদ ছহীহ নয়। তবে সকল মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য দু’আ করার আদেশ ও ফযীলাত সম্পর্কে কুরআন ও ছহীহ হাদীছে একাধিক আয়াত ও হাদীছ রয়েছে। যঈফ বর্ণনাটি হল,

مَنِ استغفَر للمؤمنين والمؤمناتِ كتَب اللهُ له بكلِّ مؤمنٍ ومؤمنةٍ حسنةً

‘যে ব্যক্তি সকল মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর জন্য দু‘আ করবে আল্লাহ তা‘আলা তাকে প্রতিটি মুমিন পুরুষ ও নারীর পরিবর্তে একটি করে পুণ্য দেবেন’ (ত্বাবারাণী বর্ণনা করেছেন মুসনাদুশ শামিইয়্যিন এ, ৩/২৩৪ পৃ.)। উক্ত বর্ণণার সনদে ঈসা বিন সিনান নামক একজন দুর্বল রাবী রয়েছে। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল, ইমাম আবু জুরা’আহ্, আবু হাতীম, ইমাম নাসাঈ ও ইমাম ইবনে মাঈন ‘ঈসা বিন সিনান’-কে যঈফ বা দুর্বল বলেছেন (তাহযীবুত তাহযীব, ৮/২১২ পৃ.)। অনুরূপভাবে অপর একজন রাবী ‘উতবাহ্ বিন হুমাইদ’ সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন, সে দুর্বল, সবল নয়। যদিও আবু হাতীম তাকে গ্রহণযোগ্য বলেছেন। পক্ষান্তরে তৃতীয় রাবী ‘বাকর বিন খুনাইস’ সম্পর্কে অধিকাংশ মুহাদ্দিছ যঈফ বলেছেন (তাহযীবুত তাহযীব, ১/৪২৮ পৃ.)।

উক্ত হাদীছ যঈফ হলেও আমরা সকল মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য দু‘আ করার আদেশ ও ফযীলাতের কথা মাথায় রেখে যে কোন কল্যাণকর দু’আ করতে পারি। যেমন

رَبَّنَا  اغۡفِرۡ لَنَا وَ لِاِخۡوَانِنَا  الَّذِیۡنَ سَبَقُوۡنَا بِالۡاِیۡمَانِ وَ لَا تَجۡعَلۡ  فِیۡ قُلُوۡبِنَا غِلًّا  لِّلَّذِیۡنَ  اٰمَنُوۡا  رَبَّنَاۤ  اِنَّکَ رَءُوۡفٌ  رَّحِیۡمٌ

‘হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের পূর্ববর্তী মুমিন ভাইদেরও ক্ষমা করুন। আর আমাদের হৃদয়ে মুমিনদের প্রতি কোন বিদ্বেষ রাখিয়েন না। নিশ্চয় আপনি দয়ালু, পরম দয়ালু’ (সূরা আল-হাশর: ১০)।

আব্দুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘আমি রাসূল (ﷺ)-কে দেখেছি এবং তাঁর সাথে গোশত ও রুটি খেয়েছি কিংবা বলেছেন, সারদ খেয়েছি। রাবী বলেন, আমি তাকে বললাম, রাসূল (ﷺ) কি আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ তোমার জন্যও। অতঃপর এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন, ‘তোমার পাপের জন্য মার্জনা চাও এবং ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের জন্য’ (সূরা মুহাম্মাদ: ১৯; ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৪৬)।


প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ সজল, চুয়াডাঙ্গা।





প্রশ্ন (৩০) : সিজদাহ অবস্থায় পাগুলো কি একত্র থাকবে, না-কি ফাঁকা থাকবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ছাদাক্বাহ ও ওছিয়তের মধ্যে পার্থক্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : জামা‘আতের ছালাতে ইমাম সাহেব জোরে তাকবীর বলা এবং মুক্তাদির নিঃশব্দে তাকবীর বলার দলীল কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : রোম ও পারস্যের সম্রাটের নাম কী? রাসূল (ﷺ) ও খলীফাগণের যুগে তাদের অবস্থান কেমন ছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : ‘খাবার খেয়ে শুকরিয়া আদায়কারী ধৈর্যশীল ছওমপালনকারীর ন্যায়’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : বিতর ছালাতের পর দুই রাক‘আত নফল ছালাত বসে বসে করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : দীর্ঘ মেয়াদী ঋণী ব্যক্তি কি হজ্জ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩): ‘সূরা যিলযাল নেকীর দিক দিয়ে কুরআনের অর্ধেকের সমান’ (তিরমিযী, হা/২৮৯৪; মিশকাত, হা/২১৫৬) মর্মে বর্ণিত হাদীছটি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : ইসলামে বান্দার হক্ব তথা হাক্বুল ইবাদের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এখন কেউ যদি ঘুষ খায়, তাহলে তো বান্দার হক্ব সরাসরি বিনষ্ট হল। আর বান্দার হক্ব নষ্ট করলে, তা সেই বান্দার নিকট গিয়ে ক্ষমা চাইতে হয়। এখন ঘুষ খেলে তো পুরো দেশবাসীর নিকটই ক্ষমা চাইতে হবে! এমতাবস্থায় সে ব্যক্তির ব্যাপারে ক্বুরআন ও হাদীছের ফায়সালা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : কারো বিরুদ্ধে বদদু‘আ করা বৈধ কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : স্বর্ণ ও রৌপ্যের নিছাব কত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদের নিকট থেকে পরীক্ষার ফী বাবদ যে অর্থ গ্রহণ করা হয়ে থাকে, সেই অর্থ কি শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টন করা যাবে? উল্লেখ্য, শিক্ষকগণ নির্ধারিত হারে বেতন পেয়ে থাকেন। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ