উত্তর : প্রশ্নে উল্লেখিত হাদীছটির সনদ ছহীহ নয়। তবে সকল মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য দু’আ করার আদেশ ও ফযীলাত সম্পর্কে কুরআন ও ছহীহ হাদীছে একাধিক আয়াত ও হাদীছ রয়েছে। যঈফ বর্ণনাটি হল,
مَنِ استغفَر للمؤمنين والمؤمناتِ كتَب اللهُ له بكلِّ مؤمنٍ ومؤمنةٍ حسنةً
‘যে ব্যক্তি সকল মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর জন্য দু‘আ করবে আল্লাহ তা‘আলা তাকে প্রতিটি মুমিন পুরুষ ও নারীর পরিবর্তে একটি করে পুণ্য দেবেন’ (ত্বাবারাণী বর্ণনা করেছেন মুসনাদুশ শামিইয়্যিন এ, ৩/২৩৪ পৃ.)। উক্ত বর্ণণার সনদে ঈসা বিন সিনান নামক একজন দুর্বল রাবী রয়েছে। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল, ইমাম আবু জুরা’আহ্, আবু হাতীম, ইমাম নাসাঈ ও ইমাম ইবনে মাঈন ‘ঈসা বিন সিনান’-কে যঈফ বা দুর্বল বলেছেন (তাহযীবুত তাহযীব, ৮/২১২ পৃ.)। অনুরূপভাবে অপর একজন রাবী ‘উতবাহ্ বিন হুমাইদ’ সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন, সে দুর্বল, সবল নয়। যদিও আবু হাতীম তাকে গ্রহণযোগ্য বলেছেন। পক্ষান্তরে তৃতীয় রাবী ‘বাকর বিন খুনাইস’ সম্পর্কে অধিকাংশ মুহাদ্দিছ যঈফ বলেছেন (তাহযীবুত তাহযীব, ১/৪২৮ পৃ.)।
উক্ত হাদীছ যঈফ হলেও আমরা সকল মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য দু‘আ করার আদেশ ও ফযীলাতের কথা মাথায় রেখে যে কোন কল্যাণকর দু’আ করতে পারি। যেমন
رَبَّنَا اغۡفِرۡ لَنَا وَ لِاِخۡوَانِنَا الَّذِیۡنَ سَبَقُوۡنَا بِالۡاِیۡمَانِ وَ لَا تَجۡعَلۡ فِیۡ قُلُوۡبِنَا غِلًّا لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا رَبَّنَاۤ اِنَّکَ رَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ
‘হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের পূর্ববর্তী মুমিন ভাইদেরও ক্ষমা করুন। আর আমাদের হৃদয়ে মুমিনদের প্রতি কোন বিদ্বেষ রাখিয়েন না। নিশ্চয় আপনি দয়ালু, পরম দয়ালু’ (সূরা আল-হাশর: ১০)।
আব্দুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘আমি রাসূল (ﷺ)-কে দেখেছি এবং তাঁর সাথে গোশত ও রুটি খেয়েছি কিংবা বলেছেন, সারদ খেয়েছি। রাবী বলেন, আমি তাকে বললাম, রাসূল (ﷺ) কি আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ তোমার জন্যও। অতঃপর এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন, ‘তোমার পাপের জন্য মার্জনা চাও এবং ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের জন্য’ (সূরা মুহাম্মাদ: ১৯; ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৪৬)।
প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ সজল, চুয়াডাঙ্গা।