উত্তর : জানাবাত অবস্থায় (যেমন সহবাস, স্বপ্নদোষ বা বীর্যপাতের পর গোসল না করা পর্যন্ত) কুরআন পাঠ করা হারাম। এটি ইমামদের চার মাযহাবসহ অধিকাংশ আলেমের ঐকমত্য। ইমাম তিরমিযী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘নবী (ﷺ)-এর ছাহাবীগণ, তাবেঈন এবং পরবর্তী যুগের অধিকাংশ আলেম যেমন সুফিয়ান ছাওরী, ইবনু মুবারক, ইমাম শাফঈ, ইমাম আহমাদ ও ইসহাক্ব সহ তারা সবাই মত দিয়েছেন যে, জানাবাত অবস্থায় কুরআন পাঠ করা নিষিদ্ধ’ (তিরমিযী, ১/১৯৫ পৃ.)। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘চার ইমাম (আবু হানিফা, মালিক, শাফঈ ও আহমাদ) এই ব্যাপারে একমত যে, জানাবাত অবস্থায় কুরআন পড়া নিষিদ্ধ’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ২১/৩৪৪ পৃ.)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে সুন্নাহর স্পষ্ট দলীল রয়েছে যে, জানাবাত অবস্থায় কুরআন পাঠ করা বৈধ নয়’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ১২/১৭ পৃ.)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন যে, ‘জানাবাত অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করা যাবে না, কুরআন তেলাওয়াত বা শিক্ষাদানও করা যাবে না, যতক্ষণ না গোসল করে নেয়’ (ফাতাওয়াল আল-লাজনা আদ-দায়েমা, ৫/৩৮০ পৃ.)। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জানাবাত অবস্থায় পড়ে যায়, তার জন্য আবশ্যক সে গোসল করবে, এরপর কুরআন পড়বে। কেননা জানাবাত অবস্থায় কুরআন পাঠ করা হারাম। কেউ যদি কুরআন পাঠ করার নিয়তে কোন আয়াত পড়ে, তাহলে সেটা জায়েয হবে না’ (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ)।
প্রশ্নকারী : রাকিব হাসান, বাবুবাজার, ঢাকা।