হজ্জ ও ওমরাহর ইবাদতসমূহ : গুরুত্ব ও ফযীলত
-ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম*
ভূমিকা
মহান আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রদত্ত পদ্ধতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট কার্যক্রম সম্পাদন করাকে ‘হজ্জ’ বলে। আর বায়তুল্লাহ, ছাফা-মারওয়া ত্বাওয়াফ এবং মাথার চুল চেঁছে ফেলা কিংবা খাটো করার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করাকে ‘ওমরাহ’ বলে’।[১] হজ্জ ও ওমরাহতে নির্ধারিত কিছু ইবাদত থাকে, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে হজ্জ ও ওমরাহর হুকুম, গুরুত্ব ও ফযীলত তুলে ধরা হলো।
হজ্জ ও ওমরাহর হুকুম
হজ্জ ফরয হওয়ার শর্তসমূহ যার মধ্যে বিদ্যমান থাকবে, তার উপর হজ্জ ফরয। মহান আল্লাহ বলেন, وَ لِلّٰہِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الۡبَیۡتِ مَنِ اسۡتَطَاعَ اِلَیۡہِ سَبِیۡلًا ‘মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, তাকে আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে ঐ গৃহে হজ্জ করা অবশ্যই কর্তব্য’ (সূরা আলে ইমরান : ৯৭)। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা আমাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন,أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ فُرِضَ عَلَيْكُمُ الْحَجُّ فَحُجُّوْا ‘হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের উপর হজ্জ ফরয করা হয়েছে। তাই তোমরা হজ্জ কর’। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! প্রত্যেক বছরই কি হজ্জ আদায় করা ফরয? তিনি চুপ থাকলেন। লোকটি তিনবার একই কথা জিজ্ঞেস করলেন। অতঃপর রাসূল (ﷺ) বললেন, لَوْ قُلْتُ نَعَمْ لَوَجَبَتْ وَلَمَا اسْتَطَعْتُمْ ‘আমি যদি হ্যাঁ বলতাম, তাহলে প্রত্যেক বছর তা ফরয হয়ে যেত এবং তোমরা তা পালন করতে সক্ষম হতে না’।[২]
হজ্জের ন্যায় সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর ওমরাও ওয়াজিব। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, আমি একদা রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)!هَلْ عَلَى النِّسَاءِ مِنْ جِهَادٍ؟ قَالَ نَعَمْ عَلَيْهِنَّ جِهَادٌ لَا قِتَالَ فِيْهِ: الْحَجُّ وَالْعُمْرَةُ ‘নারীদের উপর কি জিহাদ আছে? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ তাদের উপর জিহাদ আছে; তবে তাতে লড়াই নেই। আর তা হচ্ছে, হজ্জ এবং ওমরাহ’।[৩] অনুরূপ হাদীছে জিবরীলের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,
اَلْإِسْلاَمُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ اللهِ وَأَنْ تُقِيْمَ الصَّلاَةَ وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ وَتَحُجَّ وَتَعْتَمِرَ وَتَغْتَسِلَ مِنَ الْجَنَابَةِ وَأَنْ تُتِمَّ الْوُضُوْءَ وَتَصُوْمَ رَمَضَانَ
‘ইসলাম হল, আল্লাহ ছাড়া কোন হক্ব মা‘বূদ নেই ও মুহাম্মাদ আল্লাহ্র রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া, ছালাত ক্বায়েম করা, যাকাত আদায় করা, হজ্জ ও ওমরাহ করা, বীর্যপাত অথবা সহবাস জনিত কারণে অপবিত্র হলে গোসল করা, পূর্ণরূপে ওযূ করা এবং রামাযান মাসে ছিয়াম পালন করা’।[৪] তাছাড়া আবূ রাযীন উক্বায়লী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে এসে বললেন,
إِنَّ أَبِىْ شَيْخٌ كَبِيْرٌ لَا يَسْتَطِيْعُ الْحَجَّ وَلَا الْعُمْرَةَ وَلَا الظَّعْنَ قَالَ حُجَّ عَنْ أَبِيْكَ وَاعْتَمِر
আমার পিতা খুবই বৃদ্ধ। তিনি হজ্জ, ওমরাহ বা সফর কোনটিই করতে সক্ষম নন’। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ এবং ওমরাহ আদায় কর’।[৫]
হজ্জের রুকন ও ওয়াজিবসমূহ
হজ্জের রুকন চারটি। (ক) ইহরাম বাঁধা।[৬] (খ) আরাফায় অবস্থান করা।[৭] (গ) ত্বাওয়াফে ইফাযা করা।[৮] (ঘ) ছাফা-মারওয়া সাঈ করা।[৯] উক্ত রুকনগুলোর কোনটা ছাড়া পড়লে হজ্জ শুদ্ধ হবে না।
হজ্জের ওয়াজিব সাতটি। (ক) মীক্বাত হতে ইহরাম বাঁধা।[১০] (খ) যিলহজ্জের নয় তারিখে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করা।[১১] (গ) ঈদের রাত্রিতে ফজর পর্যন্ত মুযদালিফায় অবস্থান করা।[১২] (ঘ) কুরবানীর দিন সূর্য ঢলে যাওয়ার পূর্বে বা পরে জামরায়ে আক্বাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা এবং ১১, ১২, এবং ১৩ তারিখে সূর্য ঢলে যাওয়ার পর তিন জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা।[১৩] (ঙ) মাথার চুল কর্তন অথবা খাটো করা।[১৪] (চ) মিনাতে দুই রাত অবস্থান করা।[১৫] (ছ) বিদায়ী ত্বাওয়াফ করা।[১৬]
ওমরাহর রুকন ও ওয়াজিবসমূহ
ওমরাহর রুকন তিনটি। (ক) ইহরাম বাঁধা।[১৭] (খ) ত্বাওয়াফ করা।[১৮] (গ) সাঈ করা।[১৯] উক্ত রুকনগুলোর কোনটা ছাড়া পড়লে ওমরাহ শুদ্ধ হবে না।
ওমরাহর ওয়াজিব দু’টি। যথা : (ক) মীক্বাত হতে ইহরাম বাঁধা।[২০] (খ) মাথার চুল কর্তন করা বা খাটো করা।[২১]
হজ্জ ও ওমরাহতে খরচ করার ফযীলত
হজ্জ ও ওমরাহতে খরচ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি জিহাদের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ নেকির কাজ। হাদীছে এসেছে,
عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لَهَا فِيْ عُمْرَتِهَا وَلَكِنَّهَا عَلَى قَدْرِ نَصَبِكِ أَوْ قَالَ نَفَقَتِكِ
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে তাঁর ওমরাহর বিষয়ে বলেছেন, বরং তোমার পরিশ্রম অথবা খরচ অনুযায়ী (এ ওমরাহর ছাওয়াব পাবে)।[২২]
عَنْ بُرَيْدَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ النَّفَقَةُ فِي الْحَجِّ كَالنَّفَقَةِ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ بِسَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ
বুরায়দাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, হজ্জে খরচ করা আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদে) খরচ করার চেয়ে সাতশত গুণ বেশি নেকী’।[২৩]
হজ্জ ও ওমরাহর ফযীলত
মহান আল্লাহ বলেন,
اَلۡحَجُّ اَشۡہُرٌ مَّعۡلُوۡمٰتٌ فَمَنۡ فَرَضَ فِیۡہِنَّ الۡحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَ لَا فُسُوۡقَ وَ لَا جِدَالَ فِی الۡحَجِّ وَ مَا تَفۡعَلُوۡا مِنۡ خَیۡرٍ یَّعۡلَمۡہُ اللّٰہُ وَ تَزَوَّدُوۡا فَاِنَّ خَیۡرَ الزَّادِ التَّقۡوٰی وَ اتَّقُوۡنِ یٰۤاُولِی الۡاَلۡبَابِ
‘হজ্জের সময় নির্দিষ্ট মাসসমূহ। অতএব এই মাসসমূহে যে নিজের উপর হজ্জ আরোপ করে নিল, তার জন্য হজ্জে অশ্লীল ও পাপ কাজ এবং ঝগড়া-বিবাদ বৈধ নয়। আর তোমরা ভালো কাজের যা কর, আল্লাহ তা জানেন। আর পাথেয় গ্রহণ কর, নিশ্চয় উত্তম পাথেয় তাক্বওয়া। আর হে বিবেক সম্পন্নগণ, তোমরা আমাকে ভয় কর’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৯৭)। মহান আল্লাহ বলেন,
وَ اَذِّنۡ فِی النَّاسِ بِالۡحَجِّ یَاۡتُوۡکَ رِجَالًا وَّ عَلٰی کُلِّ ضَامِرٍ یَّاۡتِیۡنَ مِنۡ کُلِّ فَجٍّ عَمِیۡقٍ
‘এবং মানুষের নিকট হজ্জের ঘোষণা দাও; তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং কৃশকায় উটে চড়ে দূর পথ পাড়ি দিয়ে’ (সূরা আল-হজ্জ : ২৭)। মহান আল্লাহ বলেন,
وَ اذۡکُرُوا اللّٰہَ فِیۡۤ اَیَّامٍ مَّعۡدُوۡدٰتٍ فَمَنۡ تَعَجَّلَ فِیۡ یَوۡمَیۡنِ فَلَاۤ اِثۡمَ عَلَیۡہِ وَ مَنۡ تَاَخَّرَ فَلَاۤ اِثۡمَ عَلَیۡہِ لِمَنِ اتَّقٰی وَ اتَّقُوا اللّٰہَ وَ اعۡلَمُوۡۤا اَنَّکُمۡ اِلَیۡہِ تُحۡشَرُوۡنَ
‘আর আল্লাহকে স্মরণ কর নির্দিষ্ট দিনসমূহে। অতঃপর যে তাড়াহুড়ো করে দু’দিনে চলে আসবে। তার কোন পাপ নেই। আর যে বিলম্ব করবে, তারও কোন অপরাধ নেই। (এ বিধান) তার জন্য, যে তাক্বওয়া অবলম্বন করেছে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, নিশ্চয় তোমাদেরকে তাঁরই কাছে সমবেত করা হবে’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২০৩)।
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سُئِلَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ؟ قَالَ إِيْمَانٌ بِاللهِ وَرَسُوْلِهِ قِيْلَ ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ أَلْجِهَادُ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ قِيْلَ ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ حَجٌّ مَبْرُوْرٌ
আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, সর্বশ্রেষ্ঠ আমল কোন্টি? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। অতঃপর জিজ্ঞেস করা হল, তারপর কী? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হল, তারপর কী? তিনি বললেন, কবুলযোগ্য হজ্জ।[২৪]
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ مَنْ حَجَّ لِلهِ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ مِنْ ذُنُوْبِهِ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ
আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য হজ্জ করবে এবং এ হজ্জের মধ্যে কোন অশ্লীল কথা ও কর্মে লিপ্ত হবে না, সে ঐ দিনের মত নিষ্পাপ হয়ে প্রত্যাবর্তন করবে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল।[২৫] রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরো বলেছেন,
أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الْإِسْلَامَ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ؟ وَأَنَّ الْهِجْرَةَ تَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهَا؟ وَأَنَّ الْحَجَّ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ؟
‘(আমর) তুমি জান না! ‘ইসলাম’ তার পূর্বেকার সকল কিছু বিদূরিত করে দেয়, ‘হিজরত’ তার পূর্বেকার সকল কিছুকে বিনাশ করে দেয় এবং ‘হজ্জ’ তার পূর্বের সবকিছুকে বিনষ্ট করে দেয়’।[২৬]
عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ نَرَى الْجِهَادَ أَفْضَلَ الْأَعْمَالِ أَفَلَا نُجَاهِدُ؟ فَقَالَ لَكِنَّ أَفْضَلَ الْجِهَادِ حَجٌّ مَبْرُوْرٌ
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! জিহাদকে আমরা সর্বোত্তম আমল মনে করি। কাজেই আমরা কি জিহাদ করব না? তিনি বললেন, বরং তোমাদের জন্য সর্বোত্তম জিহাদ হল, কবুল হজ্জ।[২৭]
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ تَابِعُوْا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوْبَ كَمَا يَنْفِي الْكِيْرُ خَبَثَ الْحَدِيْدِ وَالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلَيْسَ لِلْحَجَّةِ الْمَبْرُوْرَةِ ثَوَابٌ إِلَّا الْجَنَّةَ
আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা হজ্জ ও ওমরাহ কাছাকাছি সময়ে কর। নিশ্চয় হজ্জ ও ওমরাহ এমনভাবে দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে যেভাবে কামারের হাঁপর লোহা ও সোনা-রূপার মরিচা দূর করে। কবুল হজ্জের ছাওয়াব জান্নাত ব্যতীত কিছুই নয়।[২৮]
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ اَلْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِّمَا بَيْنَهُمَا وَالْحَجُّ الْمَبْرُوْرُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلَّا الْجنَّةُ
আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, এক ওমরাহ হতে অপর ওমরাহ মধ্যবর্তী সময়ের কাফফারা স্বরূপ। কবুল হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া কিছুই নয়।[২৯]
ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ) -এর সাথে মিনার মসজিদে (খায়েফে) বসেছিলাম। এমন সময় জনৈক আনছারী এবং ছাক্বীফ গোত্রের একজন লোক আগমন করে সালাম দিয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা কিছু কথা জিজ্ঞাসা করার জন্যে আপনার নিকট এসেছি। তিনি বললেন, যে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে এসেছো চাইলে তোমাদেরকে আমি তা বলে দিতে পারি। আর চাইলে আমি বিরত থাকি, তোমরাই আমাকে জিজ্ঞাসা কর। তারা বলল, আপনিই বলে দিন হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! সাকাফী লোকটি আনছারী লোকটিকে বলল, তুমি প্রশ্ন কর, সে বলল, আপনি আমাকে বলুন হে আল্লাহর রাসূল! (আমি আপনাকে কি জিজ্ঞাসা করতে এসেছি)। তিনি বললেন, আমাকে জিজ্ঞাসা করতে এসেছো, গৃহ থেকে তোমার বায়তুল হারামের উদ্দেশ্যে বের হওয়া এবং এতে তোমার কী ছওয়াব রয়েছে সে সম্পর্কে। তাওয়াফের পর তোমার দু’রাকাত ছালাত ও তার ছাওয়াব সম্পর্কে। সাফা-মারওয়ার সাঈ ও তার ছাওয়াব সম্পর্কে। আরাফাত দিবসের বিকালে সেখানে (আরাফাতের মাঠে) অবস্থান ও তার ছাওয়াব সম্পর্কে। জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ ও তার ছওয়াব সম্পর্কে। তোমার কুরবানী ও তার ছাওয়াব সম্পর্কে এবং ত্বাওয়াফে এফাযার (ছাওয়াব) সম্পর্কে। লোকটি বলল, শপথ সেই সত্ত্বার যিনি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, নিশ্চয় এগুলো সম্পর্কেই আপনাকে আমি জিজ্ঞাসা করতে এসেছি। তিনি বললেন, বায়তুল হারামের উদ্দেশ্যে গৃহ থেকে যখন তুমি বের হবে, তখন তোমাকে বহনকারী উটনী যখনই একটি পা রাখবে এবং অপর পা উঠাবে, তখনই বিনিময়ে আল্লাহ তোমার জন্যে একটি নেকী লিখে দিবেন এবং তোমার একটি গোনাহ মোচন করবেন। ত্বাওয়াফের পর তোমার দু’রাকাত ছালাতের ছাওয়াব ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশের একটি কৃতদাস মুক্তির সমপরিমাণ। সাফা-মারওয়ায় সাঈর ছাওয়াব সত্তরজন কৃতদাস মুক্ত করার সমপরিমাণ।
আরাফার ময়দানে তোমার ঐ দিন বিকালে অবস্থান করা; তখন আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন, অতঃপর তোমাদেরকে নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব প্রকাশ করতে থাকেন। তিনি বলেন, আমার বান্দারা এলোকেশে দূর-দূরান্ত থেকে আমার কাছে আগমন করেছে। ওরা আমার রহমত পাওয়ার আশা করে। তোমাদের পাপরাশী যদি (মরুভূমির) বালুর সংখ্যা পরিমাণ হয় অথবা বৃষ্টির ফোটা পরিমাণ হয় অথবা সাগরের ফেনা পরিমাণ হয়, তবু আমি তা ক্ষমা করে দিব। হে আমার বান্দাগণ তোমরা প্রস্থান কর, তোমাদেরকে এবং তোমরা যাদের জন্য সুপারিশ করবে তাদেরকে ক্ষমা করা হবে।
তোমার কঙ্কর নিক্ষেপে; প্রত্যেকটি কঙ্করের বিনিময়ে একটি করে ধ্বংসাত্বক কাবীরা গুনাহের কাফফারা হবে। তোমার পশু কুরবানী; পালনকর্তার নিকট উহা সঞ্চিত সম্পদরূপে সংরক্ষিত হবে। তোমার মাথা মুণ্ডনে, প্রত্যেকটি চুলের বিনিময়ে একটি নেকী দেয়া হবে এবং একটি গুনাহ মোচন করা হবে। এরপর তোমার কা‘বা গৃহের ত্বাওয়াফে, যখন তুমি ত্বাওয়াফে এফাযা করবে তোমার কোন পাপই অবশিষ্ট থাকবে না। একজন ফেরেশতা এসে তোমার দু’স্কন্ধের মধ্যবর্তী স্থানে হাত রেখে বলবে, ভবিষ্যতের জন্যে আমল কর, পূর্ববর্তী তোমার সকল কিছু ক্ষমা করা হয়েছে’।[৩০]
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ خَرَجَ حَاجًّا فَمَاتَ كُتِبَ لَهُ أَجْرَ الْحَاجِّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ خَرَجَ مُعْتَمِرًا فَمَاتَ كُتِبَ لَهُ أَجْرَ الْمُعْتَمِرِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ خَرَجَ غَازِيًا فَمَاتَ كُتِبَ لَهُ أَجْرَ الْغَازِيْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হয়ে মৃত্যুবরণ করে, ক্বিয়ামতের দিন তাকে হজ্জের ছাওয়াব দান করা হবে। যে ব্যক্তি ওমরার নিয়তে বের হয়ে মৃত্যুবরণ করে, ক্বিয়ামতের দিন তাকে ওমরার ছাওয়াব দান করা হবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের নিয়তে বের হয়ে ঐ পথে মৃত্যুবরণ করে, তাকে গাজী হওয়ার নেকি প্রদান করা হবে।[৩১]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ بَيْنَا رَجُلٌ وَاقِفٌ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ بِعَرَفَةَ إِذْ وَقَعَ عَنْ رَاحِلَتِهِ فَأَقْعَصَتْهُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ اغْسِلُوْهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَكَفِّنُوْهُ فِيْ ثَوْبَيْهِ وَلَا تُخَمِّرُوْا رَأْسَهُ وَلَا تُحَنِّطُوْهُ فَإِنَّهُ يَبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلَبِّيًا
ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এক ব্যক্তি (হজ্জের সফরে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিল। সে তার উটনী থেকে পড়ে গেল, ফলে সে ঘাড় মটকে (ইহরাম অবস্থায়) মারা গেল তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে বরই পাতার কশ দেয়া পানিতে গোসল দাও এবং তার ইহরামের কাপড় দু’টি দ্বারা তাকে কাফন দাও। তার মাথা ঢেকনা এবং তার গায়ে সুগন্ধি দিও না। কেননা সে ক্বিয়ামতের দিন এভাবেই লাব্বাইকা বলতে বলতে উঠবে।[৩২]
ইহরাম বাধা, উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া পাঠ করার ফযীলত
হজ্জ-ওমরাহতে ইহরাম বাধা অন্যতম রুকন এবং উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া পাঠ করা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই যারা হজ্জ-ওমরাহ করার জন্য বাড়ী বা অবস্থান স্থল থেকে বের হবেন, তাদের প্রথম কাজ হবে ইহরাম বাধা। হাজ্জীগণ সাধারণত হজ্জে তামাত্তু‘ করে। হজ্জের সফরে বের হলেও তামাত্তু‘ হজ্জ করার কারণে আগে ওমরাহর ইহরাম বাঁধতে হয়। তাই ওমরাহর উদ্দেশ্যে সফরের দু‘আ পড়ে বাড়ী থেকে বেরিয়ে যাবে। সুবিধামত জায়গায় ইহরামের কাপড় পরে নিবে- বিমান বন্দরে বা হজ্জ ক্যাম্পে অথবা নিকটস্থ বাড়ী বা হোটেল থেকে বের হলে ইহরামের কাপড় পরে বেরিয়ে যাবে। অতঃপর মীক্বাত পর্যন্ত পৌঁছলে বা বিমানের মধ্যে মীক্বাতে পৌঁছার ঘোষণা দিলে لَبَّيْكَ عُمْرَةً (লাব্বায়কা ওমরাতান) ‘হে আল্লাহ! আমি ওমরাহর জন্য হাযির’[৩৩] বলে ওমরার ইহরাম বাঁধবে বা নিয়ত করে তালবিয়া পাঠ শুরু করবে।[৩৪] তালবিয়া হল-
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ
উচ্চারণ : লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান-নি‘মাতা লাকা ওয়াল-মুলক, লা শারীকা লাক।
অর্থ : ‘আমি আপনার ডাকে সাড়া দিয়েছি, হে আল্লাহ! আমি আপনার ডাকে সাড়া দিয়েছি। আমি আপনার ডাকে সাড়া দিয়েছি, আপনার কোন শরীক নেই, আমি আপনার ডাকে সাড়া দিয়েছি। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা, নে‘মত এবং সাম্রাজ্য আপনারই। আপনার কোন শরীক নেই’।[৩৫] তালবিয়ার সাথে সাথে অন্যান্য দু‘আ, যিকির, তাসবীহ, তাহলীলও করা যাবে।[৩৬] ওমরাহ পালনকারী ত্বাওয়াফ শুরু করার সময় তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করবে।[৩৭]
আর হজ্জের ক্ষেত্রে মক্কায় হাজীগণ যেখানে অবস্থান করবেন, সেখান থেকেই ৮ই যিলহজ্জ ওযূ, গোসল ও সুগন্ধি মেখে لَبَّيْكَ حَجًّا (লাব্বায়কা হাজ্জান) ‘হে আল্লাহ! আমি হজ্জের জন্য হাযির’[৩৮] বলে হজ্জের ইহরাম বেঁধে বা নিয়ত করে তালবিয়া পাঠ করতে করতে মিনার উদ্দেশ্যে রওনা করবেন। হজ্জ পালনকারী ১০ তারিখে জামরাতুল আক্বাবায় কঙ্কর নিক্ষেপের পর তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করবে।[৩৯] উল্লেখ্য যে, হোটেলে অবস্থানকারী হাজীগণ হজ্জের ইহরাম বাঁধার জন্য মসজিদে হারামে যাওয়া যাবে না।
উল্লেখ্য যে, হজ্জ ও ওমরাহর ইহরাম বাঁধার সময় কোন ছালাত নেই। দুই রাক‘আত ছালাত পড়ার যে নিয়ম চালু আছে, শরী‘আতে তার কোন ভিত্তি নেই। তবে কোন ছালাতের সময় হলে ছালাতের পর ইহরাম বাঁধবে।[৪০] উল্লেখ্য, পুরুষরা উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া পাঠ করবে।[৪১] তবে মহিলারা নিম্নস্বরে তালবিয়া পাঠ করবে।[৪২] মহান আল্লাহ বলেন,
ذٰلِکَ وَ مَنۡ یُّعَظِّمۡ شَعَآئِرَ اللّٰہِ فَاِنَّہَا مِنۡ تَقۡوَی الۡقُلُوۡبِ
‘এটাই হল আল্লাহর বিধান; যে আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে সম্মান করে, নিঃসন্দেহে তা অন্তরের তাক্বওয়া থেকেই’ (সূরা আল-হজ্জ : ৩২)।
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ قَالَ مَا مِنْ مُلَبٍّ يُلَبِّيْ إِلَّا لَبَّى مَا عَنْ يَمِيْنِهِ وَشِمَالِهِ مِنْ حَجَرٍ أَوْ شَجَرٍ أَوْ مَدَرٍ حَتَّى تَنْقَطِعَ الْأَرْضُ مِنْ هَهُنَا وَهَهُنَا عَنْ يَمِيْنِهِ وَشِمَالِهِ
সাহল ইবনু সা‘দ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন কোন তালবিয়া পাঠকারী তালবিয়া পাঠ করে, তখন তার ডান এবং বামের পাথর, গাছ অথবা মাটির ঢিলা এমনকি দুনিয়ার সর্বশেষ প্রান্ত উভয় দিকের সবকিছু তালবিয়া পাঠ করে।[৪৩]
عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ جَاءَنِيْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ مُرْ أَصْحَابَكَ فَلْيَرْفَعُوْا أَصْوَاتَهُمْ بِالتَّلْبِيَةِ فَإِنَّهَا مِنْ شِعَارِ الْحَجِّ
যায়দ বিন খালিদ আল-জুহানী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমার নিকট জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এসে বললেন, আপনি আপনার ছাহাবীদের নির্দেশ দিন, তারা যেন উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া পাঠ করে। কারণ তা হজ্জের অন্যতম নিদর্শন।[৪৪]
عَنْ يَعْقُوْبَ بْنِ زَيْدٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ أَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ لَا يَبْلُغُوْنَ الرَّوْحَاءَ حَتَّى تُبَحَّ أَصْوَاتُهُمْ مِنْ شِدَّةِ تَلْبِيَتِهِمْ
ইয়া‘কূব ইবনু যায়েদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ছাহাবীগণ রাওয়াহা নামক স্থানে পৌঁছার পর তালবিয়াহ পাঠের আওয়াজে তাদের কন্ঠস্বর উঁচু হয়ে যেত।[৪৫]
عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا مَا بِرُّ الْحَجِّ؟ قَالَ الْعَجُّ وَالثَّجُّ
সাঈদ ইবনু জুবাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, হজ্জের প্রতিদান কী? তিনি বললেন, উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া পাঠ ও রক্ত প্রবাহিত (কুরবানী) করা।[৪৬]
عَنْ أَيُّوْبَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ رَأَيْتُ سَعِيْدَ بْنَ جُبَيْرٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ يُوْقِظُ أنَاسًا مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ فِي الْمَسْجِدِ وَيَقُوْلُ قُوْمُوْا لَبُّوْا فَإِنَّ زِيْنَةَ الْحَجِّ التَّلْبِيَةُ
আইয়ূব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি সাঈদ ইবনু জুবাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে দেখেছি, তিনি মসজিদে ইয়ামানবাসীদের (ঘুম থেকে) জাগিয়ে তুলে বলতেন, তোমরা দাড়াও এবং তালবিয়াহ পাঠ কর, কেননা হজ্জের সৌন্দর্যই হল তালবিয়াহ পাঠ করা।[৪৭]
(ইনশাআল্লাহ আগামী সংখ্যায় সমাপ্য)
* সহকারী সম্পাদক, মাসিক আল-ইখলাছ।
তথ্যসূত্র :
[১]. আশ-শারহুল মুমতে‘ আলা যাদিল মুস্তানকি‘, ৭ম খণ্ড, পৃ. ৫।
[২]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৩৭; মিশকাত, হা/২৫০৫।
[৩]. মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৩৩৬১; ইবনে মাজাহ, হা/২৯০১, সনদ ছহীহ।
[৪]. ছহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৩০৬৫, সনদ ছহীহ।
[৫]. তিরমিযী, হা/৯৩০, হাসান-ছহীহ।
[৬]. ছহীহ বুখারী, হা/১ ও ১৫৪১।
[৭]. সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৯৮; ইবনু মাজাহ, হা/৩০১৫।
[৮]. সূরা আল-হজ্জ : ২৯; ছহীহ বুখারী, হা/১৭৩৩।
[৯]. সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৫৮; দারাকুৎনী, হা/২৬১৩; আহমাদ, হা/২৭৪০৭, সনদ ছহীহ, ইরওয়াউল গালীল, হা/১০৭২।
[১০]. ছহীহ বুখারী, হা/১৮৪৫; মিশকাত, হা/২৫১৬।
[১১]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২১৮, ১২৯৭; মিশকাত, হা/২৫৫৫, ২৬১৮।
[১২]. সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৯৮; ছহীহ বুখারী, হা/১৬৭৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১২৯৫।
[১৩]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২৯৯; ছহীহ বুখারী, হা/১৭৪৬; নাসাঈ, হা/৩০৬৯।
[১৪]. সূরা আল-ফাত্হ : ২৭; সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৯৬; ছহীহ বুখারী, হা/১৭২৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩০৩।
[১৫]. সূরা আল-বাক্বারাহ : ২০৩; ছহীহ বুখারী, হা/১৩১৫, ১৬৩৪; মিশকাত, হা/২৬৬২; আবূ দাঊদ, হা/১৯৪৯; তিরমিযী, হা/৮৮৯; মিশকাত, হা/২৭১৪।
[১৬]. ছহীহ বুখারী, হা/১৭৫৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩২৮; মিশকাত, হা/২৬৬৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩২৭; ছহীহ বুখারী, হা/১৭৩৩।
[১৭]. ছহীহ বুখারী, হা/১ ও ১৫৪১।
[১৮]. ছহীহ বুখারী, হা/১৭৯৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১২৩৪; সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৫৮; দারাকুৎনী, হা/২৬১৩; /১০৭২।
[১৯]. সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৫৮; দারাকুৎনী, হা/২৬১৩; আহমাদ, হা/২৭৪০৭, সনদ ছহীহ, ইরওয়া, হা/১০৭২।
[২০]. ছহীহ বুখারী, হা/১৮৪৫; মিশকাত, হা/২৫১৬।
[২১]. সূরা আল-ফাত্হ : ২৭; সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৯৬; ছহীহ বুখারী, হা/১৭২৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩০৩।
[২২]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২১১।
[২৩]. মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩০০০; সনদ হাসান লি গাইরিহী।
[২৪]. ছহীহ বুখারী, হা/২৬, ছহীহ মুসলিম, হা/৮৩; মিশকাত, হা/২৫০৬।
[২৫]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫২১, ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৫০; মিশকাত, হা/২৫০৭।
[২৬]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২১; মিশকাত, হা/২৮।
[২৭]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫২০।
[২৮]. তিরমিযী, হা/৮১০; নাসাঈ, হা/২৬৩০; মিশকাত, হা/২৫২৪, সনদ হাসান ছহীহ।
[২৯]. ছহীহ বুখারী, হা/১৭৭৩, ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৪৯; মিশকাত, হা/২৫০৮।
[৩০]. মুসনাদে বাযযার, হা/৬১৭৭; ত্বাবারানী, আল-মু‘জামুল কাবীর, হা/১৩৫৬৬; ছহীহ ইবনে হিব্বান, হা/১৮৮৭; সনদ হাসান লি গাইরিহী, ছহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১১১২।
[৩১]. মুসনাদু আবী ই‘আলা, হা/৬৩৫৭; বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, হা/৪১০০; মিশকাত, হা/২৫৩৯; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৫৫৩।
[৩২]. ছহীহ বুখারী, হা/১৮৫১; ছহীহ মুসলিম, হা/১২০৬; মিশকাত, হা/১৬৩৭।
[৩৩]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২৩২ ও ১২৫১।
[৩৪]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫৫১।
[৩৫]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫৪৯; ছহীহ মুসলিম, হা/২৮১১।
[৩৬]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫৫১।
[৩৭]. বায়হাক্বী, ৫/১০৪।
[৩৮]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২৩২ ও ১২৫১।
[৩৯]. ছহীহ বুখারী, হা/১৬৮৫।
[৪০]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫৫১; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৮৪; মিশকাত, হা/২৫৫১।
[৪১]. নাসাঈ, হা/২৭৫৩।
[৪২]. তিরমিযী, হা/৯২৭।
[৪৩]. তিরমিযী, হা/৮২৮; ইবনু মাজাহ, হা/২৯২১; মিশকাত, হা/২৫৫০; সনদ ছহীহ।
[৪৪]. ইবনু মাজাহ, হা/২৯২৩; সনদ ছহীহ, ছহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১১৩৬।
[৪৫]. মুছান্নাফে ইবনু আবী শায়বাহ, হা/১৫০৫১।
[৪৬]. মুছান্নাফে ইবনু আবি শায়বাহ, হা/১৫০৪৯; সনদ ছহীহ।
[৪৭]. মুছান্নাফে ইবনু আবি শায়বাহ, হা/১৫০৫৮; সনদ ছহীহ।
প্রসঙ্গসমূহ »:
হজ্জ ও ওমরাহ