বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কারে আলিমগণের গৃহীত মূলনীতিসমূহ: একটি পর্যালোচনা 

-ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান 


(৬ষ্ঠ কিস্তি) 

৫. ইসলামের উপর দৃঢ় অবস্থান ও আপোসহীনতা (Strong position and non-compromise on Islam)

সংস্কার কার্যক্রম কুসুমাস্তীর্ণ নয়। বরং কণ্টকাকীর্ণ। সংস্কারের এ সুদীর্ঘ পিচ্ছিল পথ পাড়ি দেয়ার ক্লান্তিকর অভিযাত্রা, চলার পথে অসহনীয় শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা ধরনের অত্যাচার, নিপীড়ন সহ্য করেই এ পথে দৃঢ় অবিচল থাকতে হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ), ছাহাবীগণ ও পরবর্তীতে তাদের অনুসারী সালাফে ছালিহীন দ্বীনের এ কাজে অসংখ্য অপবাদ ও যুল্ম-নির্যাতন সহ্য করেছেন, বয়কটের শিকার হয়েছেন, কারো হত্যা করা হয়েছে, কারান্তরীণ হতে হয়েছে, ঘর-বাড়ী, বাস্তুভিটা ও জন্মভূমি ছাড়তে হয়েছে। এরপরেও তাঁরা সমাজ সংস্কারের এ গুরু দায়িত্ব থেকে সরে আসেননি, দ্বীন থেকে বিচ্যুতি হননি এবং ভীত-বিহ্বল না হয়ে দৃঢ় অবিচল থেকে সকল ষড়যন্ত্র ও বিপদ-আপদ মোবাবেলা করেছেন। অন্যদিকে শয়তানী কুটকৌশল, ইহুদী-খ্রিস্টান ও সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর উদ্ভাবিত মতবাদ, দর্শন, থিওরি ও সকল লোভনীয় প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে সর্বদা আপোসহীন ভূমিকা পালন করেছেন। তাই ইসলামের উপর দৃঢ় অবস্থান ও আপোসহীন থাকার মূলনীতির পথ ধরেই বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কার কাজকে সম্মুখে এগিয়ে নিতে হবে।

সমাজে প্রতিষ্ঠিত শিরক-বিদ‘আতকে যখন উচ্ছেদের ও নির্মূলের চেষ্টা করা হয়, সুন্নাতকে পুনর্জীবিত করতে চেষ্টা করা হয়, প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার ভয়াবহ অবস্থা তুলে ধরে মানুষকে যখন ইসলামের পথে আহ্বান করা হয়, সূদ-ঘুষ, প্রতারণা ইত্যাদির বিরুদ্ধে যখন মানুষকে সচেতন করা হয়, আল্লাহদ্রোহী রাজনীতির বিষবাষ্প থেকে মুসলিমকে দূরে সরিয়ে আনার কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়, পুঁজিবাদী ও সমাজতন্ত্রী অর্থনীতির কালো থাবার বিরুদ্ধে যখন উচ্চকিত করা হয়, মানুষকে পরকালমুখী করার দাওয়াত দেয়া হয় এবং সমাজে জেঁকে বসা ইহুদী-খ্রিস্টান ও সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর চালু করা বিভিন্ন রসম-রেওয়াজের বিরুদ্ধে যখন প্রতিরোধ, সংস্কার ও সংগ্রাম করা হয়, তখন একশ্রেণীর স্বার্থপর সমাজ ও রাজনৈতিক নেতা এবং মিডিয়ার দুষ্টু ধ্বজাধারীরা পরিকল্পিতভাবে বিরুদ্ধাচরণ শুরু করে দেয়। বয়কট, মিথ্যাচার, হুমকি-ধমকি, যুুল্ম-নির্যাতন ও বিভিন্ন ষড়যন্ত্র এবং কৌশল করে এ পথের পরিচালিত কার্যক্রমকে দাবিয়ে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করে। যেমন তৎকালীন মক্কার কুরাইশ কাফির-মুশরিকরা বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাথে করেছিল। তিনি প্রতিষ্ঠিত গোটা জাহিলী সমাজের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বৈপ্লবিক ঘোষণা কালেমা তাইয়েবার আহ্বান করেছিলেন। যে আহ্বান এমন তীব্র ছিল, যা জাহিলিয়াতের উদ্ধত মস্তকে সর্বাত্মক আঘাত হেনেছিল এবং আল্লাহদ্রোহী সকল রীতি-নীতিকে সমূলে উৎপাটিত করেছিল। তাই ভবিষ্যতের প্রমাদ গুণে ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায় জাহিলিয়াতের কুখ্যাত বীরপুরুষরা ফুঁসে উঠেছিল ও দলবেঁধে নেমে পড়েছিল। যেমন তারিক ইবন ‘আব্দিল্লাহ আল-মাহারিবী[১] (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,

رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ مَرَّ فِيْ سُوْقِ ذِي الْمَجَازِ وَعَلَيْهِ حُلَّةٌ حَمْرَاءُ وَهُوَ يَقُوْلُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ قُوْلُوْا لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ تُفْلِحُوْا وَرَجُلٌ يَتْبَعُهُ يَرْمِيَهُ بِالْحِجَارَةِ قَدْ أَدْمَى كَعْبَيْهِ وَعُرْقُوْبَيْهِ وَهُوَ يَقُوْلُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ لَا تُطِيْعُوْهُ فَإِنَّهُ كَذَّابٌ فَقُلْتُ مَنْ هَذَا ؟ قَالُوا غُلَامُ بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ

‘আমি জাহিলী যুগে যুল-মাজায বাজারে লাল জুব্বা পরিহিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ মর্মে দাওয়াত দিতে শুনেছি যে, হে জনগণ! তোমরা বল ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ তথা নেই কোন সত্য মা‘বূদ আল্লাহ ব্যতীত, তাহলে তোমরা সফলকাম হবে’। তখন তাঁর পিছে পিছে একজন লোককে তাঁর পায়ে পাথর ছুড়ে মারতে দেখলাম। যা তাঁর দুই গোঁড়ালি ও গোঁড়ালির উপরাংশ রক্তাক্ত করে দিচ্ছে। আর সে বলছে, হে জনগণ! তোমরা এর আনুগত্য করো না। কারণ সে মহা মিথ্যাবাদী। (রাবী বলেন) আমি বললাম, এই লোকটি কে? লোকেরা বলল, ‘আব্দুল মুত্তালিবের বংশধর’।[২]

এছাড়া কুরাইশ নেতারা মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে ঠেকানোর জন্য বিভিন্ন পথ ও পন্থা উদ্ভাবন করে। মানসিকভাবে যেমন তাঁকে কষ্ট দিত অনুরূপভাবে শারীরিক ভাবেও তাঁকে অসংখ্যবার নির্যাতনের শিকার হতে হয়। যেমন তাঁর নামে নানাবিধ অপবাদ রটনা করা, তাঁকে কষ্ট দেয়ার জন্য নাচ-গানের আসর করা, ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করা, কা‘বা গৃহে ছালাতরত অবস্থায় উঠের গোবর, রক্ত ও নাড়িভুঁড়ি তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে চাপিয়ে দিয়ে কষ্ট দান, মুখে থুথু নিক্ষেপ করা, মুখে পচা হাড়ের গুড়া ছুঁড়ে মারা, কা‘বা গৃহে ছালাত আদায়ে বাধা সৃষ্টি এবং ত্বায়েফের ময়দানের মারাত্মক নির্যাতনের ইতিহাস প্রমাণ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কত কঠিন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল।[৩] তবুও তিনি তাঁর প্রদত্ত দায়িত্ব ছেড়ে দেননি, দৃঢ় অবিচল থেকে সংস্কার কাজ অব্যাহত রাখেন। জাহিলী সমাজের পাহাড়সম বিপদের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরই নির্দেশ প্রদান করে মহান আল্লাহ বলেন,

فَاسۡتَقِمۡ کَمَاۤ  اُمِرۡتَ وَ مَنۡ تَابَ مَعَکَ وَ لَا تَطۡغَوۡا ؕ اِنَّہٗ  بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ -وَ لَا تَرۡکَنُوۡۤا اِلَی الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا فَتَمَسَّکُمُ النَّارُ ۙ وَ مَا لَکُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مِنۡ اَوۡلِیَآءَ ثُمَّ  لَا  تُنۡصَرُوۡنَ

‘অতএব, আপনি যেভাবে আদিষ্ট হয়েছেন, সেভাবে দৃঢ় থাকুন এবং সেই লোকেরাও যারা (কুফরী হতে) তাওবাহ করে আপনার সাথে রয়েছে, সীমালঙ্ঘন করবেন না; নিশ্চয় তিনি আপনাদের কার্যকলাপ সম্যকভাবে প্রত্যক্ষ করেন। আর তোমরা যালিমদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না, অন্যথা তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে, আর আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কেউ সহায় হবে না, অতঃপর তোমাদেরকে কোন সাহায্যও করা হবে না (সূরা হূদ : ১১২-১১৩)’। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ‘আব্দুর রহমান ইবনু নাসির আস-সা‘দী (১৩০৭-১৩৭৬ হি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘(উক্ত আয়াত) যাবতীয় বিরোধিতা ও বাড়াবাড়ির পরেও তাদের দৃঢ় অবিচল থাকার সংবাদ দেয়। নবী কারীম (ﷺ) ও তাঁর ঈমানদার সাথীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, তাদেরকে যেমন নির্দেশ দেয়া হয়েছে তেমনি যেন তারা অবিচল থাকে। তারা যেন শরী‘আতের বিধানাবলীর উপর অটল থাকে, আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত বিশুদ্ধ ‘আক্বীদায় বিশ্বাসী হয় এবং সফলতা ও সহজতা থেকে বিচ্যুতি না হয়ে দৃঢ় অবিচল থাকে’।[৪] হাদীছেও সকল অবস্থায় দৃঢ়তা অবলম্বনের কথা বর্ণিত হয়েছে। সুফিয়ান ইবন ‘আব্দিুল্লাহ আস-সাক্বাফী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গিয়ে বললাম, يَا رَسُوْلَ اللهِ قُلْ لِىْ فِى الإِسْلَامِ قَوْلًا لَا أَسْأَلُ عَنْهُ أَحَدًا بَعْدَكَ قَالَ قُلْ آمَنْتُ بِاللهِ فَاسْتَقِمْ ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাকে ইসলামের ব্যাপারে এমন কথা বলে দিন, যেন সে বিষয়ে আপনি ছাড়া আর কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করতে না হয়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি বল যে, আমি আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম অতঃপর তার উপর দৃঢ় অবিচল থাকলাম’।[৫]

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর মানসিক ও দৈহিক অত্যাচারের পরেও কুরাইশ কাফির-মুশরিকরা ক্ষ্যান্ত হয়নি। তারা তাঁর ছাহাবীগণের উপরও নির্যাতন ও নির্মমতার কালো ইতিহাস রচনা করে। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

كَانَ أَوَّلُ مَنْ أَظْهَرَ إِسْلَامَهُ سَبْعَةً رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَأَبُوْ بَكْرٍ وَعَمَّارٌ وَأُمُّهُ سُمَيَّةُ وَصُهَيْبٌ وَبِلَالٌ وَالْمِقْدَادُ فَأَمَّا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَمَنَعَهُ اللهُ بِعَمِّهِ أَبِىْ طَالِبٍ وَأَمَّا أَبُوْ بَكْرٍ فَمَنَعَهُ اللهُ بِقَوْمِهِ وَأَمَّا سَائِرُهُمْ فَأَخَذَهُمُ الْمُشْرِكُوْنَ فَأَلْبَسُوْهُمْ أَدْرَاعَ الْحَدِيْدِ وَصَهَرُوْهُمْ فِى الشَّمْسِ فَمَا مِنْهُمْ إِنْسَانٌ إِلَّا وَقَدْ وَاتَاهُمْ عَلَى مَا أَرَادُوْا إِلَّا بِلَالٌ فَإِنَّهُ هَانَتْ عَلَيْهِ نَفْسُهُ فِى اللهِ وَهَانَ عَلَى قَوْمِهِ فَأَعْطَوْهُ الْوِلْدَانَ وَأَخَذُوْا يَطُوْفُوْنَ بِهِ شِعَابَ مَكَّةَ وَهُوَ يَقُوْلُ أَحَدٌ أَحَدٌ

‘সর্বপ্রথম সাত ব্যক্তি তাদের ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ করেন। তারা হলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আবূ বক‌র (রাযিয়াল্লাহু আনহু), ‘আম্মার (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তাঁর মাতা সুমাইয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু), সুহায়ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু), বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ও মিক্বদাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। অতঃপর আল্লাহ‌ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চাচা আবু তালিবের মাধ্যমে তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন। আল্লাহ‌ তা‘আলা আবূ বাকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন তার স্বগোত্রীয়দের দ্বারা। অবশিষ্ট সকলকে মুশরিকরা আটক করে। তারা তাদেরকে লৌহবর্ম পরিধান করিয়ে প্রখর রোদের মাঝে চিৎ করে শুইয়ে দিত। তাদের মাঝে এমন কেউ ছিল না, যাকে দিয়ে তারা তাদের ইচ্ছানুসারে স্বীকারোক্তি করায়নি। কেবল বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নিজে আল্লাহ‌র রাস্তায় অপমানিত হন এবং লোকেরাও তাকে অপমানিত করে। তারা তাকে আটক করে বালকদের হাতে তুলে দেয়। তারা তাকে নিয়ে মক্কার অলিতে-গলিতে ঘুরে বেড়াত এবং তিনি শুধু ‘আহাদ’, ‘আহাদ’ তথা আল্লাহ‌ এক, আল্লাহ‌ এক বলতেন’।[৬]

খাব্বাব ইবনুল আরাত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মুসলিম হওয়ার অপরাধে তাকে জ্বলন্ত লোহার উপর চিৎ করে শুইয়ে বুকের উপরে পাথর চাপা দিয়েছিল। ফলে পিঠের চামড়া ও গোশত গলে লোহার আগুন নিভে গিয়েছিল। বারবার নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গিয়ে বলেন, আপনি আল্লাহর নিকট কেন দু‘আ করেন না? তখন তিনি বললেন,

كَانَ الرَّجُلُ فِيْمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ يُحْفَرُ لَهُ فِي الْأَرْضِ فَيُجْعَلُ فِيْهِ فَيُجَاءُ بِمِنْشَارٍ فَيُوْضَعُ فَوْقَ رَأْسِهِ فَيُشَقُّ بِاثْنَيْنِ فَمَا يَصُدُّهُ ذَلِكَ عَنْ دِيْنِهِ وَيُمْشَطُ بِأَمْشَاطِ الْحَدِيْدِ مَا دُوْنَ لَحْمِهِ مِنْ عَظْمٍ أَوْ عَصَبٍ وَمَا يَصُدُّهُ ذَلِكَ عَنْ دِيْنِهِ وَاللهِ لَيَتِمَّنَّ هَذَا الْأَمْرُ حَتَّى يَسِيْرَ الرَّاكِبُ مِنْ صَنْعَاءَ إِلَى حَضْرَمَوْتَ لَا يَخَافُ إِلَّا اللهَ أَو الذِّئْبَ عَلَى غَنَمِهِ وَلَكِنَّكُمْ تَسْتَعْجِلُوْنَ

‘তোমাদের উপর এমন আর কী নির্যাতন চলছে! তোমাদের পূর্ববর্তী যুগে যারা (ঈমানদার) ছিল; তাদের কারও জন্য মাটিতে গর্ত খোঁড়া হয়েছে। আর তাকে সেই গর্তে রেখে দেয়া হয়েছে। অতঃপর (কাউকে) করাত দ্বারা শরীর থেকে মাথাকে দু’ভাগে আলাদা করা হয়েছে; তবুও সে দ্বীন হতে বিরত হয়নি। আবার কারও কারও লোহার চিরুনী দ্বারা শরীরের শিরা এবং হাড্ডি থেকে গোশতকে আঁচড়ানো হয়েছে; তবুও সে দ্বীন হতে বিরত হয়নি। আল্লাহর কসম! নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা দ্বীন ইসলামকে পরিপূর্ণ করবেন এবং সর্বত্র নিরাপত্তা বিরাজ করবে। এমনকি একজন আরোহী ছান‘আ হতে হাযরামাউত পর্যন্ত নির্ভয়ে এমনভাবে সফর করবে যে, সে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করবে না বা সে নিজের মেষপাল সম্পর্কে নেকড়ে বাঘ ব্যতীত অপর কিছুর ভয় করবে না। কিন্তু তোমরা খুব বেশী তাড়াহুড়া করছ’।[৭]

অটল ও অবিচল থাকার ক্ষেত্রে শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (৬৬১-৭২৮ হি./১২৬৩-১৩২৮ খ্রি.)-এর ভূমিকা অপরিসীম। তিনি আটবার জেল-যুল্মের শিকার হন এবং অষ্টমবারে কারাগারেই ইন্তিকাল করেন, তবুও বিদ‘আতী ও ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে আপোস করেননি। তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছেন, ‘আমার শত্রুরা আমাকে কী করতে পারবে? আমাকে বন্দি করা হলে তা হবে আমার জন্য ‘ইবাদতের সুবর্ণ সুযোগ। আমাকে দেশান্তরিত করা হলে তা আমার জন্য আনন্দ ভ্রমণে পরিণত হবে। আর আমাকে হত্যা করা হলে তা আমার জন্য শহীদের মর্যাদা বয়ে আনবে’। ইবনুল ক্বাইয়িম (৬৯১-৭৫১ হি./১২৯২-১৩৫০ খ্রি.) বলেন, ‘আমি শায়খুল ইসলামকে জেলখানায় অত্যন্ত সুখী-সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে জীবন-যাপন করতে দেখেছি। শত ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে প্রশান্ত ও খুশী মনে দৃঢ় অন্তরে স্থির থাকতে দেখেছি। তাঁর চেহারায় আনন্দ ও লাবণ্যতা সবসময় যেন ঢেউ খেলত’।[৮] 

ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল (১৬৪-২৪১ হি./৭৮০-৮৫৫ খ্রি.) দৃঢ়তা ও অবিচলতার বাস্তব নিদর্শন ছিলেন। তাঁকে ‘খালকে কুরআন’ তথা কুরআন সৃষ্ট বস্তু কথাটি মেনে নেয়ার জন্য দৈহিক ও মানসিকভাবে প্রচণ্ড নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। কিন্তু তিনি শত্রুর যাবতীয় অত্যাচার, প্রলোভন ও অপচেষ্টার সামনে নতি স্বীকার না করে স্বীয় আদর্শে অটল থেকেছেন। তাঁকে গ্রেফতারের পর যখন তাঁর হাতে কড়া পরিয়ে জনগণের সম্মুখে নিয়ে যাওয়া হলো, তখন সেখানে পৌঁছার আগে তাকে অনেক ভয় দেখানো হলো। এমনকি ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর একজন খাদেম তাঁকে বলল, হে আবূ ‘আব্দিল্লাহ! আমার ভয় হচ্ছে যে, খলীফা মামুন একটি তরবারী কোষমুক্ত করছে যা ইতিপূর্বে কখনো করেনি এবং সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আত্মীয়তার শপথ করছে, যদি আপনি কুরআনকে মাখলূক হওয়ার দাবীতে সাড়া না দেন, তবে সে অবশ্যই এ তলোয়ার দ্বারা আপনাকে হত্যা করবে’।[৯] তবুও ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) মু‘তাযিলাদের উক্ত ভ্রান্ত আকীদার সাথে আপোস করেননি।

অতএব সংস্কার কাজ করতে গেলে বাধা-বিপত্তি ও যুলুম-নির্যাতন আসবে কিন্তু যতই বাধা-বিপত্তি ও অত্যাচার-নির্যাতন আসুক না কেন দ্বীনের উপর অবিচল থাকতে হবে। বাংলাদেশের ‘আলিম সমাজও সংস্কার কার্যক্রমে অসংখ্য বাধার সম্মুখীন হয়েছেন, মাতৃভূমি থেকে নির্বাসিত হয়েছেন, জেল-যুল্ম এবং বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদের শিকার হয়েছেন। তবুও তারা ধর্মীয় সংস্কারের গুরু দায়িত্ব থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নেননি, দ্বীন থেকে বিচ্যুত হননি এবং ভীত-বিহ্বল না হয়ে বরং ইসলামের উপর সর্বদা দৃঢ় অবিচল থেকে সমাজ সংস্কারে জীবন অতিবাহিত করেছেন। সাথে সাথে ইসলাম বিরোধী পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ও আইন-কানুনের সাথে আপোসহীন সংগ্রাম করেছেন। যেমন,

মাওলানা হাজী শরীয়তুল্লাহ (১১৯৬-১২৫৬ হি./১৭৮১-১৮৪০ খ্রি.) ও তাঁর ‘ফারায়েজী আন্দোলনে’র মাধ্যমে যখন ধর্মীয় সংস্কার শুরু করেন, তখন তিনি শিরক-বিদ‘আতের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেন, ভণ্ড পীর-ফকীদের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করেন, মুসলিম সমাজে প্রচলিত হিন্দুয়ানী প্রথা-বিশ্বাসের সংশোধনের প্রচেষ্টা করেন। এমনকি তাঁর সঙ্গী-সাথীরা মুসলিমদেরকে হিন্দুদের পূজা-পার্বনে বাধা প্রদান করে, হিন্দুদের দেব-দেবীর নামে চাঁদা দানে বাধা প্রদান করে। এরকম পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকার তাকে একাধিকবার গ্রেফতার করে। তদুপরি তিনি তাওহীদ ও সুন্নাহর পুনর্জাগরণী আন্দোলন থেকে বিরত হননি।[১০]

সৈয়দ নিসার আলী তিতুমীর (১১৯৭-১২৪৬ হি./১৭৮২-১৮৩১ খ্রি.) ছিলেন বাংলার বঞ্চিত, নির্যাতিত মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন। তিনি বাংলার মুসলিম ও হিন্দুদেরকে তাদের অধিকার সম্বন্ধে সচেতন করতে সক্ষম হন। ফলে ফিরে পায় মুসলিমদের হারানো সভ্যতা ও সংস্কৃতি। সৈয়দ তিতুমীর ইংরেজ সরকার ও হিন্দু জমিদারদের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র করেননি। তদুপরি তাঁর বিরুদ্ধে কোন দোষ না পাওয়ায় তারা ষড়যন্ত্রমূলক তাঁর উপর মিথ্যা মামলা দায়ের করে।[১১] এমনকি যারা তিতুমীরের শীষ্যত্ব গ্রহণ করবে তাদের দাড়ি রাখার জন্য ২.৫/= টাকা এবং গোফ ছাটার জন্য ৫ সিকা খাজনা প্রদান করা, কাচা মসজিদ নির্মাণ করলে ৫০০/= টাকা এবং পাকা মসজিদ নির্মাণ করলে ১০০০/= টাকা এবং আরবী নাম রাখলে ৫০/= টাকা জরিমানা প্রদান, গরু যব্হ করলে ডান হাত কেটে ফেলা এবং তিতুমীরকে যারা তাদের বাড়ীতে আশ্রয় দিবে তাদেরকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের আইন জারি করেছিল।[১২] তবুও তিনি ভেঙ্গে পড়েননি বরং নিজ কাজে দৃঢ় ছিলেন। তেমনি তাঁর সঙ্গী-সাথীরাও ধৈর্যহারা হননি।

মাওলানা আকরাম খাঁ (১৮৬৮-১৯৬৮ খ্রি.) একজন অকুতোভয় সম্পাদক ছিলেন। কাউকে তোয়াক্কা না করেই তিনি হকের পথে তাঁর হস্ত সঞ্চালিত করেছিলেন। তাঁকে যেদিন ব্রিটিশ নীতির সমর্থনে লেখার কথা বলা হলো এবং এ জন্য তাঁকে আর্থিক লোভ দেখানো হলো, সেদিন তিনি অপরিসীম অর্থ কষ্টের মধ্যে থেকেও অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে উক্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এতে নবাব ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বন্দুকের গুলিতে হত্যা করার হুমকি দিলে তিনি ধীর-গম্ভীর ও অকম্পিত কণ্ঠে বললেন, ‘দেখুন জনাব, আমি জীবনে বহুবার শিকার করেছি। বন্দুকের গুলীতে অনেক পাখি মেরেছি। আমার প্রতি গুলী নিক্ষিপ্ত হলে মারা যেতে পারি, এ কথা আমি ভাল ভাবেই জানি। কিন্তু আপনি নিশ্চয় জানবেন, আমাকে বন্দুকের গুলীতে নিহত করা হলে আমার দেহ হতে যত বিন্দু রক্তপাত হবে, বাংলার বুকে ঠিক ততজন আকরম খাঁ পুনর্বার জন্মাবে’।[১৩] মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী (১৮৭৫-১৯৫০ খ্রি.) যুলুমের শিকার হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের যোগদানের পর তিনি তাঁর সঙ্গী-সাথীদের বলেছিলেন, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণের সময় সমুপস্থিত। এর মাত্র কিছুদিন পর জাপানীদের সাথে যোগসাজশের সন্দেহে ব্রিটিশ সরকার তাকে ১৯৪৪ সালের ১৩ অক্টোবর গ্রেফতার করে। অতঃপর ১৯৪৫ সালে জেল থেকে মুক্তিলাভ করেন।[১৪]

মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (১৮৮৮-১৯৫৮ খ্রি.) নিজ জন্মভূমি থেকে নির্বাসিত হন, নজরবন্দি ও কারা অন্তরীণ হন। তবুও তিনি যেমন দ্বীন থেকে বিচ্যুত হননি, তেমনি সংস্কার আন্দোলন থেকেও পিছিয়ে যাননি। ১ম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক মিত্রশক্তির সাথে যোগদান করায় তুরস্কের প্রতি আস্থাশীল আবুল কালাম আজাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে তদানিন্তন বাংলা সরকারের ডিফেন্স এ্যক্টের ৩য় ধারা অনুযায়ী চারদিনের মধ্যে বাংলা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করে। ফলে তিনি ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচী চলে যান এবং তাঁকে সেখানে ৫ মাস নজরবন্দী করে রাখা হয়। সে সময় রাঁচীতে দু’বার এবং কলকাতায় তিনবার তাঁর গৃহ তল্লাশী করে সমাপ্ত বা সমাপ্ত প্রায় মূল্যবান কতিপয় গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি নিয়ে যায়। নজরবন্দি থাকা অবস্থায় তিনি রাঁচীর মুসলিমদেরকে ইসলামের দা‘ওয়াত দেন। সেখানে একটি ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং কয়েকটি গ্রন্থও রচনা করেন। অতঃপর ১৯২১ সালের ১০ ডিসেম্বর পুনরায় এক বছরের জন্য গ্রেফতার হন।[১৫]

মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (১৯১৮-১৯৮৭ খ্রি.) ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রামের কারণে তিনি যেমন গ্রেফতার হয়েছেন, তেমনি ইসলাম পরিপন্থী কোন আইন বা কার্যক্রমের সাথে কখনো আপোস করেননি। পাশ্চাত্যের আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রাভিযানের ফলে মুসলিম জাহানের ইসলামী চিন্তাবিদদের ওপরও তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছিল। এর ফলে আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরব জাহানের অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোর সমাধানে পাশ্চাত্য নীতি-ভঙ্গির প্রতি একটা নমনীয় মনোভাব প্রদর্শন করছিলেন। আন্তর্জাতিক ‘ফিকাহ একাডেমী’তে যখন পরিবার পরিকল্পনা, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, বাণিজ্যিক সূদ ইত্যাদি বিষয় আলোচনায় আসে, তখন এসব ইসলামী চিন্তাবিদের পাশ্চাত্য-ঘেঁষা মনোভাবের পরিচয় স্পষ্টতর হয়ে উঠে। কিন্তু মওলানা আবদুর রহীম (রাহিমাহুল্লাহ) এর কোন ব্যাপারেই পাশ্চাত্য মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির সাথে এতটুকু আপোস করার পক্ষপাতী ছিলেন না। তিনি একাডেমীতে উত্থাপিত প্রতিটি স্পর্শকাতর প্রশ্নে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিকে অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরেন। এ পর্যায়ে তাঁর বক্তব্য ছিল এই যে, ‘পাশ্চ্যত্য নীতিÑভঙ্গি বস্তুবাদী দর্শন ও ভোগবাদী দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভরশীল। মানুষের জৈবিক দিকটাই সেখানে একমাত্র বিবেচ্য বিষয়, সে আলোকেই লোকেদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাবলীর মূল্যায়ন ও সমাধানের নির্দেশ ভিত্তিশীল। লোকদের নৈতিক ও মানবিক দিকটাই সেখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে আলোকেই ইসলাম সমাজ ও সভ্যতার তাবৎ প্রশ্নাবলীর নিষ্পত্তি করে। অতএব, কোন মুসলিম সমাজের জন্য পাশ্চাতের নীতি-ভঙ্গি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না’।[১৬] মাওলানা আবু তাহের বর্ধমানী (১৯২১-২০০১ খ্রি.)ও অনেক ষড়যন্ত্র ও যুলম, অত্যাচার ও উৎপীড়নের কারণে নিজ মাতৃভূমি ভারতের বর্ধমান ছেড়ে বাংলাদেশে আগমন করেন।[১৭]

অতএব প্রতিকূল পরিস্থিতি ও সকল ধরনের ফিতনার সময় দ্বীনের উপর দৃঢ়পদ অবিচল থাকতে হবে এবং যাবতীয় ইসলাম পরিপন্থী ও ত্বাগূতী ব্যবস্থাপনার সাথে আপোসহীনভাবে সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করতে হবে। আর এভাবেই ধর্মীয় সংস্কার কার্যক্রম সুপ্রশস্ত ও বেগবান হবে।

(ইনশাআল্লাহ চলবে)


তথ্যসূত্র :
[১]. তারিক ইবনু ‘আব্দিল্লাহ আল-মাহারিবী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর একজন ছাহাবী। যিনি কূফা এলাকার অধিবাসী ছিলেন। দ্রষ্টব্য: আবুল হাসান আহমাদ ইবন ‘আব্দিল্লাহ ইবন সালিহ আল-‘আজলী আল-কূফী, মা‘রিফাতুছ ছিক্বাহ মিন রিজালি আহলিল ‘ইলম ওয়াল হাদীছ, ১ম খণ্ড (আল-মদীনাতুল মুনাওয়রাহ: মাকতাবাতুদ দার, ১ম সংস্করণ, ১৪০৫ হি./১৯৮৫ খ্রি.), পৃ. ৪৭৫।   
[২]. ইমাম ইবন খুযায়মাহ, আস-সহীহ, , ১ম খণ্ড, পৃ. ৮২, হাদীছ নং-১৫৯; আল-মুসতাদরাকু ‘আলাস সহীহাইন, ২য় খণ্ড, পৃ. ৬৬৮, হাদীছ নং-৪২১৯; ইমাম ইবনু হিব্বান, আস-সহীহ, ১৪তম খণ্ড, পৃ. ৫১৭, হাদীছ নং-৬৫৬২; ইমাম বায়হাকী, সুনানুল কুবরা, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ২০, হাদীছ নং-১০৮৭৯, সনদ সহীহ।   
[৩]. সূরাহ আল-আনফাল : ৩১; ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, পৃ. ১০২, হাদীছ নং-৫২০; ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, পৃ. ৮৮৬, হাদীছ নং-২৭৯৭; ‘আব্দুল মালিক ইবন হিশাম ইবন আইয়ূব আল-হুমাইরী, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (তাহকীক : তোহা ‘আব্দুর রাঊফ সা‘দ), ২য় খণ্ড (বৈরূত : দারুল জীল, ১৪১১ হি.), পৃ. ১৩৮ ও ২০৭; আবূ রাবী‘ সুলাইমান ইবন মূসা আল-কিলা‘ঈ আল-আন্দালুসী, আল-ইকতিফা বিমা তাযাম্মানাহু মিন মাগাযী রাসূলিল্লাহ ওয়াস সালাসাতুল খুলাফা, ১ম খণ্ড (বৈরূত : দারু ‘আলিমিল কুতুব, ১৪১৭ হি.), পৃ. ২০০; সফীউর রহমান আল-মুবারকপুরী, আর-রাহীকুল মাখতূম (কুয়েত : জামঈয়াতু ইহ্ইয়াইত তুরাছিল ‘আরাবী, ১ম সংস্করণ, ১৪১৬ হি./১৯৯৬ খ্রি.), পৃ. ৯৮।    
[৪]. তাইসীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, পৃ. ৩৯০।   
[৫]. ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, পৃ. ৩৯, হাদীছ নং-৩৮, ‘ঈমান’ অধ্যায়-১, ‘ইসলামের বৈশিষ্ট্যসমূহ’ অনুচ্ছেদ-১৩।   
[৬]. ইবনু মাজাহ, হা/১৫০; ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৭০৮৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৮৩২, সনদ হাসান।
[৭]. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, পৃ. ৫৮৭, হাদীছ নং-৩৬১২; আর-রাহীকুল মাখতূম, পৃ. ৯০।
[৮]. মুহাম্মাদ ইবন আবী বাকর আইয়ূব আয-যার‘ঈ ইবনুল ক্বাইয়িম আল-জাওযিয়াহ, আল-ওয়াবিলুস সাইয়িব মিনাল কালামিত তাইয়িব (বৈরূত : দারুল কিতাবিল ‘আরাবী, ১ম সংস্করণ, ১৪০৫ হি./১৯৮৫ খ্রি.), পৃ. ৬৭।
[৯]. আবুল ফিদা আল-হাফিজ ইবন কাছীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৫ম খণ্ড, (তাহকীক : আহমাদ জাদ) (কায়রো : দারুল হাদীছ, ১৪২৭ হি./২০০৬ খ্রি.), ১০ম অংশ, পৃ. ৩৩৮।
[১০]. হাজী শরীয়ত উল্লাহ’র ফারায়েজী আন্দোলন, পৃ. ১১।
[১১]. আব্দুল গফুর সিদ্দিকী, শহীদ তিতুমীর (ঢাকা : বাংলা একাডেমী, ১৩৭৫ বাং), পৃ. ৪৬।
[১২]. Atul Chandra Gupta, Studies in the Bengal Renaissance (Calcutta : National Council of Education, 1958), p. 520; A.R. Mallick, British policy and Muslim in Bengal (Dacca : Asiatic Society of Pakistan, 1966), P. 76.
[১৩]. আবু জাফর, মাওলানা আকরম খাঁ (ঢাকা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ১ম প্রকাশ, ডিসেম্বর ১৯৮৬), পৃ. ১২ ‘প্রসঙ্গ কথা’ দ্র.।
[১৪]. ডক্টর মুহাম্মদ আবদুল্লাহ, রাজনীতিতে বঙ্গীয় উলামার ভূমিকা (ঢাকা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ৩য় সংস্করণ, ফেব্রুয়ারী ২০০৯ খ্রি.), পৃ. ১৪১।
[১৫]. সম্পাদনা পরিষদ, ইসলামী বিশ্বকোষ, ২য় খণ্ড (ঢাকা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ২য় সংস্করণ, জুন ২০০৫ খ্রি.), পৃ. ৫২০-৫২১।
[১৬]. মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ), পৃ. ২১৫।
[১৭]. মাওলানা আবূ তাহের বর্ধমানী (রহ.), রচনা সমগ্র (ঢাকা : যায়েদ লাইব্রেরী, ১ম প্রকাশ, জানুয়ারী ২০২০ খ্রি.), পৃ. ৮-৯ ‘জীবনী’ দ্র.। 




প্রসঙ্গসমূহ »: সমাজ-সংস্কার
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা (৩য় কিস্তি) - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
যমযমের ইতিহাস ও ফযীলত - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর
ইত্তিবাউস সুন্নাহর প্রকৃতি ও স্বরূপ - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
ছালাতের সঠিক সময় ও বিভ্রান্তি নিরসন - মাইনুল ইসলাম মঈন
বিদ‘আত পরিচিতি (১৬তম কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
সন্তানের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ এবং তার প্রতিদান - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর
মসজিদ: ইসলামী সমাজের প্রাণকেন্দ্র (২য় কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
মাহে রামাযানে শিশু-কিশোর প্রতিপালন - আব্দুর রশীদ
ঐক্যের মর্যাদা ও মানদণ্ড (২য় কিস্তি) - ড. মুযাফফর বিন মুহসিন
মসজিদ: ইসলামী সমাজের প্রাণকেন্দ্র (১২তম কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
প্রশ্নোত্তরে নাজাতপ্রাপ্ত দলের আক্বীদাসমূহ - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
মসজিদ: ইসলামী সমাজের প্রাণকেন্দ্র (৬ষ্ঠ কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ