শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন

ঘুম ও রাত্রিকালীন দু‘আ ও যিকর 

-আবূ মাহী* 



ঘুম ও রাত্রিকালীন দু‘আ ও যিকর 

রাতে ও শয্যা গ্রহণের পূর্বে এবং পরে রয়েছে নির্ধারিত কিছু দু‘আ ও যিকর। যদি কেউ মহান আল্লাহকে স্মরণ করে সেই দু‘আ ও যিকরগুলো করে, তাহলে সে কল্যাণময় জীবন লাভ করে[১] এবং সকালে উঠে প্রফুল্ল মন ও পবিত্র অন্তরে অন্যথায় (দু‘আ ও যিকির না করলে) সকালে উঠে কলুষিত অন্তর ও অলস মনে।[২] এ কারণে ঘুম ও রাত্রিকালীন দু‘আ ও যিকিরের রয়েছে অত্যধিক গুরুত্ব ও মর্যাদা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

قُلۡ مَنۡ یَّکۡلَؤُکُمۡ  بِالَّیۡلِ وَ النَّہَارِ مِنَ الرَّحۡمٰنِ ؕ بَلۡ ہُمۡ عَنۡ ذِکۡرِ رَبِّہِمۡ مُّعۡرِضُوۡنَ

‘বল, ‘রাতে এবং দিনে পরম করুণাময় হতে কে তোমাদেরকে রক্ষা করবে? তবুও তারা তাদের রবের স্মরণ হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়’ (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত : ৪২)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

فَاصۡبِرۡ عَلٰی مَا یَقُوۡلُوۡنَ وَ سَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ قَبۡلَ طُلُوۡعِ الشَّمۡسِ وَ قَبۡلَ غُرُوۡبِہَا ۚ وَ مِنۡ اٰنَآیِٔ الَّیۡلِ فَسَبِّحۡ وَ اَطۡرَافَ النَّہَارِ لَعَلَّکَ تَرۡضٰی

‘সুতরাং এরা যা বলে তার উপর ধৈর্য ধারণ করুন এবং তাসবীহ পাঠ করুন আপনার রবের প্রশংসা বর্ণনার মাধ্যমে, সূর্যোদয়ের পূর্বে, সূর্যাস্তের পূর্বে এবং তাসবীহ পাঠ করুন রাতের কিছু অংশে ও দিনের প্রান্তসমূহে, যাতে আপনি সন্তুষ্ট হতে পারেন’ (সূরা ত্ব-হা, আয়াত : ১৩০)।

عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَبِيْتُ عَلَى ذِكْرٍ طَاهِرًا فَيَتَعَارَّ مِنَ اللَّيْل فَيسْأَلُ اللهُ خَيْرًا إِلَّا أَعْطَاهُ اللهُ إِيَّاهُ

মু‘আয ইবনু জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে কোন মুসলিম পবিত্র অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে সন্ধ্যায় শয়ন করে এবং রাতে উঠে আল্লাহর নিকট কোনরূপ কল্যাণ কামনা করে, নিশ্চয় আল্লাহ তাকে তা দান করেন।[৩]

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِىَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلَاثَ عُقَدٍ يَضْرِبُ عَلَى كُلِّ عُقْدَةٍ عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيْلٌ فَارْقُدْ فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللهَ اِنْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَإِنْ تَوَضَّأَ اِنْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَإِنْ صَلَّى اِنْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَأَصْبَحَ نَشِيْطًا طَيِّبَ النَّفْسِ وَإِلَّا أَصْبَحَ خَبِيْثَ النَّفْسِ كَسْلَانًا

আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ ঘুমায়, তখন শয়তান তার মাথার পিছন দিকে তিনটি গিরা দেয় এবং প্রত্যেক গিরার উপর প্রহার করে আর বলে, এখনও অনেক রাত্রি আছে, সুতরাং তুমি ঘুমাও। যদি সে জাগে এবং আল্লাহকে স্মরণ করে, তাহলে একটি গিরা খুলে যায়। অতঃপর যদি সে ওযূ করে, তাহলে আরো একটি গিরা খুলে যায়। এরপর যদি সে ছালাত আদায় করে, তবে অপর গিরাটিও খুলে যায়, এভাবে সে সকালে উঠে প্রফুল্ল মন ও পবিত্র অন্তরে অন্যথায় সে সকালে উঠে কলুষিত অন্তর ও অলস মনে।[৪]

عَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ ذُكِرَ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ رَجُلٌ فَقِيْلَ لَهُ مَازَالَ نَائِمًا حَتَّى أَصْبَحَ مَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ قَالَ ذَلِكَ رَجُلٌ بَالَ الشَّيْطَانُ فِىْ أُذُنِهِ أَو قَالَ فِىْ أُذُنَيْهِ

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) -এর নিকট এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হল এবং বলা হল, সে সকাল হওয়া পর্যন্ত সারা রাত্রি ঘুমিয়ে থাকল, এমনকি ছালাতের জন্য উঠল না। শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সে এমন ব্যক্তি, যার কানে অথবা তিনি বলেছেন, তার  দুই কানে শয়তান প্রস্রাব করে দিয়েছে।[৫]

عَنْ أمِّ سَلمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ اِسْتَيْقَظَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَيْلَةً فَزِعًا يَقُوْلُ سُبْحَانَ اللهِ مَاذَا أُنْزِلَ اللَّيْلَةَ مِنَ الْخَزَائِنِ؟ وَمَاذَا أُنْزِلَ مِنَ الْفِتَنِ؟ مَنْ يُّوْقِظُ صَوَاحِبَ الْحُجُرَاتِ يُرِيْدُ أَزْوَاجَهُ لِكَيْ يُصَلِّيْنَ؟ رُبَّ كَاسِيَةٍ فِى الدُّنْيَا عَارِيَةٍ فِى الْآخِرَةِ

উম্মে সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একরাতে আশঙ্কিত অবস্থায় জাগ্রত হলেন এবং বলতে লাগলেন, সুবহানাল্লাহ, এ রাত্রিতে কত রহমত নাযিল হল এবং কত বিপদ এসে পৌঁছল। কে জাগিয়ে দিবে এই হুজরাবাসিনীদেরকে? এটা দ্বারা তিনি তাঁর স্ত্রীগণের প্রতিই ইঙ্গিত করছিলেন, যাতে তাঁরা ছালাত আদায় করে। আহা! দুনিয়াতে সুশোভিতা কত নারী আখেরাতে সম্পূর্ণ উলঙ্গিনী হবে।[৬]

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ  رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِيْنَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الْآخِرُ يَقُوْلُ مَنْ يَّدْعُوْنِىْ فَأَسْتَجِيْبَ لَهُ مَنْ يَّسْأَلُنِىْ فَأُعْطِيَهُ مَنْ يَّسْتَغْفِرُنِىْ فَأَغْفِرَ لَهُ. وَفِيْ رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ- ثُمَّ يَبْسُطُ يَدَيْهِ وَيَقُولُ مَنْ يُّقْرِضُ غَيْرَ عَدُوْمٍ وَلَا ظَلُوْمٍ؟ حَتَّى يَنْفَجِرَ الْفَجْرُ

আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক রাতেই দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ হন, যখন রাত্রির শেষ তৃতীয় ভাগ অবশিষ্ট থাকে এবং বলতে থাকেন, কে আছো, যে আমায় ডাকবে আর আমি তার ডাকে সাড়া দিব? কে আছো, যে আমার নিকট কিছু চাইবে, আর আমি তাকে তা দান করব? এবং কে আছো, যে আমার নিকট ক্ষমা চাইবে, আর আমি তাকে ক্ষমা করব?[৭]

মুসলিমের এক বর্ণনায় এটাও আছে, অতঃপর তিনি হাত বাড়িয়ে দেন এবং বলেন, কে আছে যে, এমন লোককে ঋণ দিবে, যে ফকীর বা অত্যাচারী নয়? এভাবেই তিনি ফজর প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত বলতে থাকেন।[৮]

عَنْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعَتُ النَّبِىَّ ﷺ يَقُوْلُ إِنَّ فِى اللَّيْلِ لَسَاعَةً لَا يُوَافِقُهَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللهَ خَيْرًا مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ وَذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ

জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন, রাতের মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যদি কোন মুসলিম তা লাভ করে এবং আল্লাহ্র নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের কোন কল্যাণ চায়, আল্লাহ নিশ্চয় তাকে তা দান করেন। আর এই মুহূর্তটি প্রত্যেক রাতেই আছে।[৯]

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَحَبُّ الصَّلَاةِ إِلَى اللهِ صَلَاةُ دَاوُدَ وَأَحَبُّ الصِّيَامِ إِلَى اللهِ صِيَامُ دَاوُدَ كَانَ يَنَامُ نِصْفَ اللَّيْلِ وَيَقُوْمُ ثُلُثَهُ وَيَنَامُ سُدُسَهُ وَيَصُوْمُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ছালাত হল দাঊদ (আলাইহিস সালাম)-এর ছালাত এবং সবচেয়ে প্রিয় ছিয়াম হল দাঊদ (আলাইহিস সালাম)-এর ছিয়াম। তিনি প্রথমে অর্ধরাত্রি ঘুমাতেন, অতঃপর এক তৃতীয়ভাগ রাত ছালাতে কাটাতেন, পুনরায় এক ষষ্ঠাংশ রাত ঘুমাতেন। অনুরূপভাবে তিনি একদিন ছিয়াম রাখতেন এবং একদিন ছিয়াম ছাড়তেন।[১০]

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ تَعْنِىْ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ يَنَامُ أَوَّلَ اللَّيْلِ وَيُحْيِىْ آخِرَهُ ثُمَّ إِنْ كَانَتْ لَهُ حَاجَةٌ إِلَى أَهْلِهِ قَضَى حَاجَتَهُ ثُمَّ يَنَامُ فَإِنْ كَانَ عِنْدَ النِّدَاءِ الْأَوَّلِ جُنُبًا قَالَتْ وَثَبَ فَأَفَاضَ عَلَيْهِ الْمَاءَ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ جُنُبًا تَوَضَّأَ لِلصَّلَاةِ ثُمَّ صَلَّى الرَّكْعَتَيْنِ

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাধারণত রাতের প্রথম ভাগে ঘুমাতেন এবং শেষভাগে জেগে থাকতেন। অতঃপর আপন পরিবারের প্রতি নিজের কোন প্রয়োজন থাকলে তা পূর্ণ করতেন। অতঃপর কিছুক্ষণ ঘুমাতেন। যদি আযানের প্রাক্কালেও অপবিত্র অবস্থায় থাকতেন, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, তখন তিনি তাড়াতাড়ি উঠে গোসল করতেন। আর যদি অপবিত্র না থাকতেন, তাহলে শুধু ছালাতের জন্য ওযূ করতেন এবং ফজরের দুই রাক‘আত সুন্নাত ছালাত আদায় করতেন।[১১]

عَنْ أَبِىْ أُمَامَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَلَيْكُمْ بِقِيَامِ اللَّيْلِ فَإِنَّهُ دَأْبُ الصَّالِحِيْنَ قَبْلَكُمْ وَهُوَ قُرْبَةٌ لَكُمْ إِلَى رَبِّكُمْ وَمَكْفَرَةٌ لِلسَّيِّئَاتِ وَمَنْهَاةٌ عَنِ الْإِثْمِ

আবূ উমামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা রাতে ছালাত আদায় করবে। এটা হচ্ছে তোমাদের পূর্ববর্তী সৎ লোকদের নিয়ম! আর এ কাজটি তোমাদের জন্য তোমাদের আল্লাহ্র নৈকট্য লাভের পন্থা, গুনাহ মাফের উপায় এবং অপরাধ, অশ্লীলতা হতে বাধাদানকারী।[১২]

عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِىَّ ﷺ يَقُوْلُ  أَقْرَبُ مَا يَكُوْنُ الرَّبُّ مِنَ الْعَبْدِ فِىْ جَوْفِ اللَّيْلِ الْآخِرِ فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تَكُوْنَ مِمَّنْ يَذْكُرُ اللهَ فِىْ تِلْكَ السَّاعَةِ فَكُنْ

আমর ইবনু আবাসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন, বান্দার মধ্যে আল্লাহ্র সর্বাধিক নিকটবর্তী হন, যে রাত্রির শেষার্ধের মধ্যভাগে ইবাদতের জন্য জাগ্রত হয়। অতএব যদি তোমরা সক্ষম হয়, তাহলে যারা আল্লাহ্র ইবাদত করে, তুমি যদি তাদের অন্তর্গত হতে পার, তাহলে চেষ্টা কর।[১৩]

عَنْ أَبِىْ أُمَامَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قِيْلَ يَا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ  أَيُّ الدُّعَاءِ أَسْمَعُ؟ قَالَ جَوْفُ اللَّيْلِ الْآخِرِ وَدُبُرِ الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوْبَاتِ

আবূ উমামা বাহেলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কোন্ দু‘আ কবুল হয়? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, রাত্রির শেষার্ধের মধ্য ভাগের দু‘আ এবং ফরয ছালাতের পরের দু‘আ।[১৪]

عَنْ أَبِىْ مَالِكِ الْأَشْعَرِيِّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ فِى الْجَنَّةِ غُرَفًا يُرَى ظَاهِرُهَا مِنْ بَاطِنِهَا وَبَاطِنُهَا مِنْ ظَاهِرِهَا أَعَدَّهَا اللهُ لِمَنْ آلَانَ الْكَلَامَ وَأَطْعَمَ الطَّعَامَ وَتَابَعَ الصِّيَامَ وَصَلَّى بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ

আবূ মালেক আশ‘আরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতের মধ্যে এমন সব বালাখানা আছে, যার বাহিরের জিনিসসমূহ ভিতর হতে এবং ভিতরের জিনিস সমূহ বাহির হতে দেখা যায়। সে সকল বালাখানা আল্লাহ তা‘আলা সেই ব্যক্তির জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন, যে ব্যক্তি নরম কথা বলে, খাদ্য দান করে, পরপর ছিয়াম পালন এবং রাতে ছালাত আদায় করে যখন মানুষ তখন ঘুমিয়ে থাকে।[১৫]

ঘুমানোর আদব

মহান আল্লাহ রাত্রিকে করেছেন আবরণ স্বরূপ। আর বিশ্রামের জন্য দিয়েছেন নিদ্রা বা ঘুম এবং জাগ্রত হওয়ার জন্য দিয়েছেন দিন (সূরা আল-ফুরক্বান, আয়াত : ৪৭; সূরা আন-নাবা, আয়াত : ৯-১০)। মহান আল্লাহর বিশেষ নে‘মত ঘুমকে যদি আমরা ইবাদতে রূপান্তরিত করতে চাই, তাহলে ঘুমানোর আদব পালন করা যরূরী। ঘুমানোর আদবগুলো হল,

১. ওযূ করা।[১৬] ২. ঘুমানোর আগে কুরআন তেলাওয়াত করা।[১৭] ৩. তিনবার বিছানা ঝেড়ে নেয়া।[১৮] ৪. ডান পাশের উপর ডান হাত গালের নীচে রেখে কাত হয়ে শুয়ে পড়া।[১৯] অতঃপর দু‘আগুলো পাঠ করা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাত্রিতে যখন ঘুমাতে যেতেন, তখন অনেকগুলো দু‘আ পাঠ করতেন। যেমন,

দু‘আ-১ : রাতে শয্যা গ্রহণের সময় সূরা আল-ইখলাছ, সূরা আল-ফালাক্ব ও সূরা আন-নাস পড়া। এসময় দু’হাতের তালু একত্রিত করে তাতে ‘সূরা আল-ইখলাছ, সূরা আল-ফালাক্ব ও সূরা আন-নাস’ পড়ে ফুঁ দেয়া। অতঃপর সেই দু’হাত দ্বারা তিনবার স্বীয় শরীরের মাথা থেকে শুরু করে চেহারা এবং শরীরের যতটুকু সম্ভব মুছে ফেলা।[২০]

দু‘আ-২ : সূরা আল-কাফিরূন পড়া।[২১]

قُلۡ یٰۤاَیُّہَا الۡکٰفِرُوۡنَ  . لَاۤ  اَعۡبُدُ مَا تَعۡبُدُوۡنَ   . وَ لَاۤ  اَنۡتُمۡ عٰبِدُوۡنَ مَاۤ  اَعۡبُدُ  .وَ لَاۤ  اَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدۡتُّمۡ  . وَ لَاۤ  اَنۡتُمۡ عٰبِدُوۡنَ مَاۤ  اَعۡبُدُ  . لَکُمۡ  دِیۡنُکُمۡ  وَلِیَ  دِیۡنِ 

অর্থ : ‘(হে নবী!) আপনি বলুন, হে কাফিরগণ! আমি তার ইবাদত করি না যার ইবাদত তোমরা কর, এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও যাঁর ইবাদত আমি করি, এবং আমি ইবাদতকারী নই তার, যার ইবাদত তোমরা করে আসছো। এবং তোমরা তাঁর ইবাদতকারী নও যাঁর ইবাদত আমি করি। তোমাদের দ্বীন (কুফর) তোমাদের জন্য এবং আমার দ্বীন (ইসলাম) আমার জন্য’ (সূরা আল-কাফিরূন : ১-৬)।

ফযীলত
১. সূরা আল-কাফিরূন পড়া কুরআনের এক-চতুর্থাংশের সমান।[২২]  ২. এই সূরা শিরক হতে মুক্ত রাখে।[২৩] 

(ইনশাআল্লাহ চলবে)   


* পি-এইচ. ডি গবেষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

তথ্যসূত্র :
[১]. মুসনাদে আহমাদ, হা/২২১০১; আবূ দাঊদ, হা/৫০৪২।
[২]. ছহীহ বুখারী, হা/১১৪২; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৭৬; মিশকাত, হা/১২১৯।
[৩]. মুসনাদে আহমাদ, হা/২২১০১; আবূ দাঊদ, হা/৫০৪২।
[৪]. ছহীহ বুখারী, হা/১১৪২; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৭৬; মিশকাত, হা/১২১৯।
[৫]. ছহীহ বুখারী, হা/১১৪৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৭৪; মিশকাত, হা/১২২১।
[৬]. ছহীহ বুখারী, হা/১১৫, ১১২৬; মিশকাত, হা/১২২২।
[৭]. ছহীহ বুখারী, হা/১১৪৫; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৫৮।
[৮]. ছহীহ মুসলিম, হা/৭৫৮।
[৯]. ছহীহ মুসলিম, হা/৭৫৭।
[১০]. ছহীহ বুখারী, হা/১১৩১; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৫৯।
[১১]. ছহীহ মুসলিম, হা/৭৩৯; মিশকাত, হা/১২২৬।
[১২]. তিরমিযী, হা/৩৫৪৯; মিশকাত, হা/১২২৭, সনদ হাসান লি গায়রিহী।
[১৩]. তিরমিযী, হা/৩৫৭৯; মিশকাত, হা/১২২৯।
[১৪]. তিরমিযী, হা/৩৪৯৯; মিশকাত, হা/১২৩১, সনদ হাসান।
[১৫]. শু‘আবুল ঈমান, বায়হাক্বী হা/৩৮৯২; মিশকাত, হা/১২৩২, সনদ ছহীহ।
[১৬]. ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪; ছহীহ মুসলিম, হা/২৭১০; আবূ দাঊদ, হা/৫০৪৫; সনদ ছহীহ।
[১৭]. ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, নবী (ﷺ) মুসাব্বিহাত সূরাগুলো পাঠ না করা পর্যন্ত ঘুমাতেন না। তিনি বলতেন, তাতে এমন একটি আয়াত আছে যা হাজার আয়াত অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ। দ্র. তিরমিযী, হা/৩৪০৬; ইবনু হিব্বান, হা/২৬৪৩; সনদ হাসান।
[১৮]. আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ বিছানায় আশ্রয় নেয়, তখন যেন তার লুঙ্গির ভিতর দিক দ্বারা বিছানা ঝেড়ে নেয়। কেননা সে জানে না তার পর বিছানার উপর কী এসেছে। দ্র. ছহীহ বুখারী, হা/৬৩২০,৭৩৯৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২৭১৪; মিশকাত, হা/২৩৮৪।
[১৯]. ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪; ছহীহ মুসলিম, হা/২৭১০; আবূ দাঊদ, হা/৫০৪৫; সনদ ছহীহ।
[২০]. ছহীহ বুখারী, হা/৫০১৭; মিশকাত, হা/২১৩২।
[২১]. আবূ দাঊদ, হা/৫০৫৫; তিরমিযী, হা/৩৪০৩; দারেমী, হা/৩৪২৭; মিশকাত, হা/২১৬১।
[২২]. তিরমিযী, হা/২৮৯৩, ২৮৯৪; সনদ হাসান।
[২৩]. আবূ দাঊদ, হা/৫০৫৫; তিরমিযী, হা/৩৪০৩; দারেমী, হা/৩৪২৭; মিশকাত, হা/২১৬১।




প্রসঙ্গসমূহ »: দু‘আ
বিদ‘আত পরিচিতি (৩১তম কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
ইমাম মাহদী, দাজ্জাল ও ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর আগমন সংশয় নিরসন (৮ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
কেমন ছিল রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রামাযানের দিনগুলো? - শরীফ বিন আব্দুস সামাদ
ইসরাঈলি বর্বরতায় রক্তাক্ত মানবতা - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
ফাযায়েলে কুরআন (শেষ কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
যাদুটোনার শারঈ সমাধান (শেষ কিস্তি) - মাসঊদুর রহমান
সুন্নাতের রূপরেখা - মাইনুল ইসলাম মঈন
সুন্নাহ বিরোধী ও সংশয় উত্থাপনকারীদের চক্রান্তসমূহ ও তার জবাব (৭ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
ছালাতে একাগ্রতা অর্জনের ৩৩ উপায় - আব্দুল হাকীম বিন আব্দুল হাফীজ
ভ্রান্ত ফের্কাসমূহের ঈমান বনাম আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের ঈমান : একটি পর্যালোচনা (শেষ কিস্তি) - ড. আব্দুল্লাহিল কাফী বিন লুৎফর রহমান মাদানী
রামাযানের স্বরূপ - আল-ইখলাছ ডেস্ক
ইসলামের দৃষ্টিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা (২য় কিস্তি) - মুহাম্মাদ আযীযুর রহমান

ফেসবুক পেজ