বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন

 যাদুটোনার শারঈ সমাধান 

-মূল: ড. আব্দুল মুহসিন ইবনে মুহাম্মাদ আল-কাসিম* 
-অনুবাদ: মাসঊদুর রহমান** 


(শেষ কিস্তি)  

গণক

গণকের পরিচয়

যে ব্যক্তি দাবি করে যে, ভবিষ্যতে যা কিছু ঘটবে এর সব কিছু সে জানে তাকে গণক বলে। যেমন : সে দাবি করে অমুক ব্যক্তি কবে মারা যাবে সে জানে অথবা একজন ব্যক্তি সে ভালোভাবে জীবন যাপন করবে? না খারাপ ভাবে জীবন যাপন করবে সে তা জানে। এমনিভাবে ভবিষ্যতের বিভিন্ন  বিষয়ে সে জানে বলে দাবি করে। এই গণক এমন কিছু দাবি করে, যা ফেরেশতাগণ ও নবী রাসূলগণও জানে না। কেননা গায়েব বা অদৃশ্যের খবর আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘বলুন, আল্লাহ ব্যতীত আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে কেহই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখেনা এবং তারা জানেনা তারা কখন পুনরুত্থিত হবে’ (সূরা আন-নামল : ৬৫)। গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞানের  বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলা নিজের ব্যাপারে বলেন, ‘তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’ (সূরা আত-তাগাবুন : ১৮)। রাশিফল দেখে ভাগ্য সম্পর্কে যা বলা হয় এটাও গনকের  অন্তর্ভুক্ত।

গণকদের প্রকৃত রূপ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে যখন তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় তাদের বাস্তবতা সম্পর্কে বলেছিলেন।  তিনি বলেছিলেন, لَيْسُوا بِشَيْءٍ ‘তারা কিছুই নয়’।[১]

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, গণকেরা জ্যোতিষী ও  পণ্ডিতদের  অনুরূপ, কারণ তাদের মধ্যে এমন অজ্ঞতা, বিভ্রান্তি, মিথ্যা এবং অসম্ভবপর বিষয় রয়েছে, যা মহান আল্লাহ ছাড়া কেউ গণনা করতে পারবে না।[২] 

অদৃশ্যের চাবি কাঠি এক অদ্বিতীয় সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তা‘আলার হাতে এবং লোকেরা জানে যে যাদুকররা মিথ্যা বলে এবং সত্য বলে না।  কিন্তু ঈমানের দুর্বলতা এবং শয়তানের আধিপত্য তাদেরকে আল্লাহর অবাধ্যতার দিকে নিয়ে যায়। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন “সম্ভ্রান্ত ও সাধারণ মানুষ অভিজ্ঞতা ও পরম্পরার মাধ্যমে জানতে পারে যে, জ্যোতিষীদের মতে, একটি মিথ্যা একটি সত্যের চেয়ে দ্বিগুণ ভাল’’।[৩]

গণকদের প্রতারণা

গণকদের নিকট যখন মানুষ আসে তখন তারা বিভিন্ন প্রতারণা মূলক কৌশল গ্রহণ করে মানুষদেরকে বুঝায় যে, তারা গায়েবের খবর জানে। তাদের প্রতারণা গুলো হলো :

যখন তাদের নিকটে কেউ এসে ভবিষ্যতের কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে, তখন তারা তাকে প্রতিটি ব্যক্তির সাথে ঘটে যাওয়া সাধারণ ঘটনাগুলি বলে। যেমন তারা বলে, অচিরেই তোমাকে দুঃখ পেয়ে বসবে অতঃপর তা দূর হয়ে যাবে। তারা কথার মধ্যে এই কৌশলটি গ্রহণ করে। কেননা তারা যানে যে, দুঃখ মানুষের দীর্ঘ সময় ধরে থাকে না বরং  আল্লাহর রহমতে তা আবার দূর হয়ে যায়।

অথবা তারা বলে, অচিরেই তুমি রিযিক প্রাপ্ত হবে। কেননা তারা যানে যে, আল্লাহ তা‘আলা সকল সৃষ্টির রিযিকের দায়িত্ব নিয়েছেন।

অথবা তারা বলে, অচিরেই তুমি এমন সংবাদ শুনবে, যা তোমাকে আনন্দ দেবে। কেননা তারা যানে যে, জীবনে আনন্দ, দুঃখ ও দুশ্চিন্তা আছে কিন্তু তা আবার  দূর হয়ে যায়। এমনিভাবে তারা প্রতারণা মূলক কথা বলে এমন ব্যক্তির নিকটে, যে তাদের মিথ্যার ব্যাপারে অবগত নয়।

গণকদের মিথ্যাচার

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, গনকেরা একটা সংবাদ প্রদান করলে তার সাথে একশত মিথ্যা কথা বলে। যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,

حَتَّى يُلْقِيَهَا عَلَى لِسَانِ السَّاحِرِ أَوِ الْكَاهِنِ فَرُبَّمَا أَدْرَكَ الشِّهَابُ قَبْلَ أَنْ يُلْقِيَهَا وَرُبَّمَا أَلْقَاهَا قَبْلَ أَنْ يُدْرِكَهُ فَيَكْذِبُ مَعَهَا مِائَةَ كَذْبَةٍ

‘এমনিভাবে এ খবর দুনিয়ার যাদুকর ও জ্যোতিষের কাছে পৌঁছে দেয়। কোন কোন সময় কথা পৌঁছানোর আগে তার উপর অগ্নিশিখা নিক্ষিপ্ত হয় আবার অগ্নিশিখা নিক্ষিপ্ত হওয়ার আগে সে কথা পৌঁছিয়ে দেয় এবং এর সাথে শত মিথ্যা মিশিয়ে বলে’।[৪]

আপনার যদি এমন কোনো বন্ধু থাকে, যে একটা  সংবাদ সম্পর্কে পাঁচটি মিথ্যা বলে, তাহলে সাধারণত আপনি তাকে পরিত্যাগ করবেন  এবং তার সঙ্গ এড়িয়ে যাবেন।  কারণ সে আপনার সাথে বেশি মিথ্যা বলার মাধ্যমে আপনার মনকে অবমূল্যায়ন করেছে। তাহলে সেই গনকের  কী হবে? যে পাঁচটি নয় একশটি মিথ্যা বলে?  তার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, তার থেকে সাবধান থাকা এবং তার কাজ-কর্ম থেকে দূরে থাকা কি মানুষের উচিত নয়?

গণকেরা যে মিথ্যা কথা বলে তার প্রমাণ সমূহ

গণকেরা যদি অদৃশ্য বা ভবিষ্যতের ব্যাপারে জানত, তাদের ধারণা অনুপাতে তাহলে অবশ্যই তাদের ওপর পতিত হওয়া অনিষ্ঠ তারা দূর করত। পাশাপাশি তারা যদি অদৃশ্য সম্পর্কে জানত, তাহলে তাদের মৃত্যুর সময় সম্পর্কেও তারা জানতো। অতঃপর তাদের রবের সাথে যে কুফুরি করেছে, মৃত্যুর পূর্বে তা হতে তাওবা করত। যাতে করে তারা জাহান্নামে চিরস্থায়ী না হয়। আর  জিনদের ব্যাপারে তারা ধারণা করে যে, জিনেরা তাদেরকে সাহায্য করে এটাও ভুল, কেননা তারা সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর মৃত্যুর ব্যাপারটা জানতে পারেনি যতক্ষণ না তার লাঠি পোকাতে খেয়ে ফেলেছিল। তাহলে কিভাবে তারা গায়েবের খবর জানে? আল্লাহ তা’আলা বলেন,

فَلَمَّا قَضَیۡنَا عَلَیۡہِ  الۡمَوۡتَ مَا دَلَّہُمۡ عَلٰی مَوۡتِہٖۤ  اِلَّا دَآبَّۃُ  الۡاَرۡضِ تَاۡکُلُ مِنۡسَاَتَہٗ ۚ فَلَمَّا خَرَّ تَبَیَّنَتِ الۡجِنُّ اَنۡ لَّوۡ کَانُوۡا یَعۡلَمُوۡنَ الۡغَیۡبَ مَا لَبِثُوۡا فِی الۡعَذَابِ الۡمُہِیۡنِ

‘যখন আমি সুলাইমানের মৃত্যু ঘটালাম তখন জিনদেরকে তার মৃত্যু বিষয় জানালো শুধু মাটির পোকা, যা সুলাইমানের লাঠি খাচ্ছিল। যখন সুলাইমান পড়ে গেল তখন জিনেরা বুঝতে পারল যে, তারা যদি অদৃশ্য বিষয় অবগত থাকত, তাহলে তারা লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তিতে আবদ্ধ থাকত না’ (সূরা সাবা : ১৪)।

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকটে গণকের স্বীকৃতি

যখন কোন মিথ্যাবাদী তার মিথ্যা বলাটা অব্যাহত রাখবে, তখন তার বিষয়টা প্রকাশ পাবেই যদিও তা দেরিতে হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,فَإِنَّ الصِّدْقَ طُمَأْنِينَةٌ وَإِنَّ الْكَذِبَ رِيبَةٌ ‏‘সত্য হলো শান্তি ও স্বস্তি এবং মিথ্যা হলো দ্বিধা-সন্দেহ’।[৫]

গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞানের ব্যাপারে গণক আল্লাহর শরিকানা বা অংশীদার দাবি করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি এমন কিছু দাবি করে সে তার মালিক নয়, আল্লাহ তা‘আলা অচিরেই তাকে লাঞ্চিত-অপমানিত করবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, الْمُتَشَبِّعُ بِمَا لَمْ يُعْطَ كَلاَبِسِ ثَوْبَيْ زُورٍ ‘যা তোমাকে দেয়া হয়নি, তা দেয়া হয়েছে বলা ঐরূপ প্রতারকের কাজ, যে প্রতারণার জন্য দুপ্রস্থ মিথ্যার পোশাক পরিধান করল’।[৬] 

ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ)-এর শাসনামলে একজন গণক স্বীকার করেছে যে, সে জনগণের কাছে মিথ্যা বলে। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, জ্যোতিষীরাও এমনিভাবে মিথ্যা বলে। কেননা যখন আমি দামেস্কে তাদের ডেকেছিলাম, তখন তাদের নেতারা এসেছিল। আমি তাদের কাজের দুর্নীতিকে যখন যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ  করেছি, তখন তারা  তা সত্য বলে স্বীকার করেছে। তাদের একজন নেতা আমাকে বলেছে, আল্লাহর কসম! আমরা একটা সত্য  কথা বলতে গিয়ে ১০০ টা মিথ্যা কথা বলি।

গণকেরা শুধু মিথ্যা কথাই নয় বরং অনেক মিথ্যা কথা বলা এবং সেটার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা স্বীকার করে, তাহলে মানুষ কেন তাদের নিকটে যায়? মানুষ তো তাদের নিকটে গিয়ে মিথ্যা প্রতারণা অদৃশ্য সম্পর্কে দাবি ও আল্লাহর জ্ঞানের অংশীদারের দাবি করা ছাড়া আর কোন কিছুই অর্জন করতে পারবে না?[৭]

গণকের নিকটে আসার বিধান

একজন গণক অদৃশ্যের জ্ঞানের ব্যাপারে  আল্লাহর সাথে  অংশীদারিত্বের দাবি করে এবং আল্লাহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। বিধায় তাদের জন্য কঠিন শাস্তির অঙ্গিকার রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,

من أتى عرافا أو كاهنا فصدقه فيما يقول فقد كفر بما أنزل على محمد صلى الله عليه و سلم

‘যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে আসলো এবং তার বক্তব্যকে সত্য বলে মেনে নিল, সে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপর অবতীর্ণ সত্যকে অস্বীকার করল’।[৮]

জ্যোতিষী কে?

চোখের আড়ালে অদৃশ্যের বিষয়ে জানে বলে যে দাবি করে, তাকে জ্যোতিষী বলে। যেমন সে দাবি করে, বাগানের পেছনে কি আছে সে জানে। এই মুহূর্তে অমুক ব্যক্তি অমূক দেশে কি করতেছে সে তা জানে। এমনিভাবে সে বিভিন্ন কথা বলে।

জ্যোতিষীর নিকটে আসার বিধান

যে ব্যক্তি তাদের নিকটে আসার মাধ্যমে কুফরী করবে, তার জন্য কঠিন শাস্তির ওয়াদা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,

من أتى عرافا أو كاهنا فصدقه فيما يقول فقد كفر بما أنزل على محمد صلى الله عليه و سلم

‘যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে আসে এবং তার বক্তব্যকে সত্য বলে মেনে নেয়, সে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপর অবতীর্ণ সত্যকে অস্বীকার করল’।[৯]

হস্তরেখাবিদ এবং জ্যোতিষী

জ্যোতির্বিদ, বালুতে দাগ প্রদানকারী, পাথরে আঘাতকারী, হাত ও বাটিতে কোন কিছু পাঠকারী এদের পরিচয় কী?

জ্যোতির্বিদ : যে ব্যক্তি হারাম-নিষিদ্ধ লক্ষে পৌঁছতে মাধ্যম হিসেবে জ্যোতির্বিদ্যা গ্রহণ করে, তাকে জ্যোতির্বিদ বলে।

রম্মাল বা বালু ওয়ালা : যে ব্যক্তি বালুময় স্থানে দাগ টানে যার মাধ্যমে সে দাবি করে যে,  সে অদৃশ্যের জ্ঞান  রাখে।

পাথরে আঘাতকারী : যে ব্যক্তি একটি পাথর দিয়ে আরেকটি পাথরে আঘাত করে, অতঃপর তা ওলটপালট করে এবং সে ধারণা করে, এর মাধ্যমে সে অদৃশ্য বিষয়ে অবগত হবে।

হাত ও বাটি চালানকারী : যে ব্যক্তি মানুষের হাত ও বাটির উপরে ফিসফিস করে এমন কিছু কথা বলে, যা অস্পষ্ট বোঝা যায় না। অতঃপর সে এর মাধ্যমে দাবি করে যে, সে ভবিষ্যতের বিষয়ে জ্ঞান রাখে।

জ্যোতির্বিদ শাস্ত্র, বালুতে দাগ দেওয়া, পাথরে আঘাত করা, হাত ও বাটিতে কোন কিছু পাঠ করা সবগুলোই একেকটি মাধ্যম, যা গণক ও জ্যোতিষীরা গ্রহণ করে থাকে। এগুলোর মাধ্যমে তারা ভবিষ্যৎ ও অদৃশ্যের ব্যাপারে জ্ঞান রাখে বলে দাবি করে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

জ্যোতির্বিদ বালুতে কোন কিছু অঙ্কন কারি পাথরে আঘাতকারী এবং হাতে কোন কিছু পাঠকারী, সে হয় গণক অথবা জ্যোতিষী। কখনো কখনো ভেলকিবাজ যাদুকর এই কাজগুলো করার ক্ষেত্রে গণক ও জ্যোতিষীর অনুসরণ করে এবং মানুষের থেকে অন্যায়ভাবে টাকা খাওয়ার জন্য সে নিজেকে গণক অথবা জ্যোতিষী দাবি করে।

ভেলকিবাজ কে?

ভেলকিবাজ : যে ব্যক্তি দাবি করে, সে একজন যাদুকর অথবা গণক, অথচ সে একজন মিথ্যাবাদী। এর দ্বারা তার উদ্দেশ্য হল, মানুষদের থেকে মিথ্যা কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। এজন্য সে হয়তো যাদু করে অথবা যাদুর চিকিৎসা করে অথবা সে ভবিষ্যতের ব্যাপারে জানে বলে দাবি করে। অথচ সে এগুলোর কিছুই নয়। উক্ত কাজ সে সুন্দর করে করতেও পারে না। বরং সে তাদের অনুসরণ করে এবং সাদৃস্য অবলম্বন করে।

যাদুকর, গণক, জ্যোতিষী এবং ভেলকিবাজদের মধ্যে পার্থক্য

যাদুকর : যে ব্যক্তি  যাদুর কাজ করে এবং আল্লাহ তা‘আলার আদেশে যাদুকৃত ব্যক্তির ওপর প্রভাব বিস্তার করে।

গণক হল : যে ব্যক্তি নিকটবর্তী ভবিষ্যতে কি ঘটবে সে তা জানে বলে দাবি করে। যেমন, সে খবর দেয় যে, অমুক ব্যক্তি দুই মাস পরে মারা যাবে ইত্যাদি।

জ্যোতিষী : যে ব্যক্তি দাবি করে চোখের আড়ালে তথা অদৃশ্যে যে ঘটনাগুলো ঘটে,  সেটা সে  জানে। যেমন সে বলে, অমুক ব্যক্তি এখন গাড়িতে আছে। অমুক ব্যক্তি অমুক শহরে আছে। তবে সে ভবিষ্যতের কোন বিষয়ে দাবি করে না।

ভেলকিবাজ : সে একজন মিথ্যাবাদী, সে যাদুও জানে না, গণকও নয়, জ্যোতিষীও নয়। কিন্তু সে মানুষদের থেকে অন্যায় ভাবে টাকা খাওয়ার জন্য তা জানে বলে দাবি করে। আর তার এই কাজটি সরলমনা বোকা  মানুষদের নিকটে ছড়িয়ে পড়ে।

তাওবার জন্য আহ্বান

যে ব্যক্তি গণকের কাছে আসে বা যাদুকরের দরজার কড়া নাড়ায়, অতঃপর এর মাধ্যমে অন্যের ক্ষতি করতে চায়, সে যেন সেসব পাপ ত্যাগ করে, যা দীনকে কলুষিত করে। সে যে বিপর্যয়কর অপকর্ম করেছে, তার জন্য সে যেন অনুতপ্ত হয়ে উক্ত লজ্জাকর খারাপ কাজ থেকে প্রত্যাবর্তন করে। সে যাদুর মাধ্যমে যাদের ক্ষতি করেছে, তাদেরকে যাদু থেকে মুক্ত করে ক্ষতি দূর করে। সে যে বড় অপরাধ করেছে, এইজন্য সে যেন তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর নিকটে ফিরে আসে। সে যেন বেশি বেশি ইস্তেগফার পাঠ করে ও তাওবা করে। অতঃপর নফল ইবাদতসমূহ ও  সৎ আমল গুলো করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ اِنِّیۡ لَغَفَّارٌ لِّمَنۡ تَابَ وَ اٰمَنَ وَ عَمِلَ صَالِحًا  ثُمَّ  اہۡتَدٰی ‘এবং আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল তার প্রতি যে তাওবা করে, ঈমান আনে, সৎ কাজ করে ও সৎ পথে অবিচল থাকে’ (সূরা ত্ব-হা : ৮২)।

কেননা যখন ফের‘আউনের যাদুকররা তাওবা করেছিল ও তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল। আল্লাহ তা‘আলা তাদের তাওবা কবুল করেছিলেন এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিয়েছিলেন। অতঃপর তারা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর অনুসারী হয়েছিলেন।

সুতরাং তুমি তাওবাকারীদের পথ অনুসরণ করো, আর জাদুকর ও ভেলকিবাজদের পথের ব্যাপারে সতর্ক ও সাবধান থাকো।

আল্লাহ তা‘আলার নিকটে দু‘আ করি, তিনি যেন মুসলমানদেরকে অনিষ্টকারী যাদুকরের কার্যাবলী থেকে রক্ষা করেন এবং যাদেরকে যাদু করা হয়েছে তাদের কষ্ট দূর করেন। তাদেরকে যেন এই বিপদ থেকে পুর্ণভাবে মুক্তি দান করেন এবং উত্তম প্রতিদান দান করেন।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর পরিবার ও সাথী বর্গের উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।


* ইমাম ও খত্বীব, মসজিদ নববী
** শিক্ষক, দারুল হুদা ইসলামী কমপ্লেক্স, বাউসা, হেদাতীপাড়া, বাঘা, রাজশাহী।

তথ্যসূত্র :
[১]. ছহীহ বুখারী, হা/৭৫৬১।
[২]. দূরউ তা‘আরিযিল  আক্বলি ওয়ান নাক্বলি, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৬৭।
[৩]. আল ফাতাওয়া, ৩৫তম খণ্ড, পৃ. ১৭২।
[৪]. ছহীহ বুখারী, হা/৪৮০০।
[৫]. তিরমিযী, হা/২৫১৮।
[৬]. ছহীহ বুখারী, হা/৫২১৯।
[৭]. বাদাই‘উল ফাওয়াইদ, ৩৫তম খণ্ড, পৃ. ১৭২।
[৮]. ছহীহ মুসলিম, হা/২২৩০।
[৯]. ছহীহ মুসলিম, হা/২২৩০। 




আত্মসাতের পরিণাম - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর
মহামারী থেকে বেঁচে থাকার দশটি উপদেশ - অনুবাদ : আযহার বিন আব্দুল মান্নান
শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী: মুসলিম বিশ্বে তার অবদান - ড. মুকাররম বিন মুহসিন মাদানী
রামাযানের শেষ দশকের গুরুত্ব ও করণীয় - মাইনুল ইসলাম মঈন
ইসলামের দৃষ্টিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা (শেষ কিস্তি) - মুহাম্মাদ আযীযুর রহমান
তাক্বওয়া অর্জনে ছিয়াম - প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
শারঈ মানদন্ডে শবেবরাত - আল-ইখলাছ ডেস্ক
ইখলাছই পরকালের জীবনতরী (৬ষ্ঠ কিস্তি) - আব্দুল গাফফার মাদানী
মু‘তাযিলা মতবাদ ও তাদের ভ্রান্ত আক্বীদাসমূহ (৪র্থ কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
এমফিল ও পিএইচডি : গবেষণার প্রকৃতি ও পদ্ধতি - ড. মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ
ছালাতের সঠিক সময় ও বিভ্রান্তি নিরসন (শেষ কিস্তি) - মাইনুল ইসলাম মঈন
ছালাতের সঠিক সময় ও বিভ্রান্তি নিরসন (২য় কিস্তি) - মাইনুল ইসলাম মঈন

ফেসবুক পেজ