রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০২:০১ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কারে আলিমগণের গৃহীত মূলনীতিসমূহ: একটি পর্যালোচনা 

- ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান 


(৭ম কিস্তি)

৬. দা‘ওয়াতী কার্যক্রমের ব্যাপকতা বৃদ্ধি (Massive increase in Da`wah activities)

আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য দা‘ওয়াহ বা প্রচারই একমাত্র মাধ্যম। যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ এই দা‘ওয়াতের মাধ্যমেই আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করেছেন। বিশ্বের দরবারে ইসলামের প্রকৃত স্বরূপ ও সৌন্দর্য উপস্থাপন করতে দা‘ওয়াহর কোন বিকল্প নেই। কেননা আদর্শ যতই উন্নত ও শক্তিশালী হোক না কেন প্রচার ছাড়া তা প্রতিষ্ঠিত হওয়া অসম্ভব। তাই বাংলাদেশে ব্যাপকভিত্তিক দা‘ওয়াতী কার্যক্রমের মাধ্যমেই সংস্কার আন্দোলন পরিচালনা করতে হবে। মূলত সংস্কার আন্দোলনের মৌলিক মূলনীতিই হলো এই দা‘ওয়াত।

আল্লাহ তা‘আলা তাঁর আদর্শ তথা ইসলামী আদর্শকে বাস্তবায়নের জন্য অসংখ্য নবী-রাসূল দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন। যারা প্রত্যেকেই ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ لَقَدۡ بَعَثۡنَا فِیۡ کُلِّ اُمَّۃٍ  رَّسُوۡلًا اَنِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ  وَ اجۡتَنِبُواالطَّاغُوۡتَ ‘আল্লাহর ‘ইবাদত করা ও ত্বাগূতকে বর্জন করার নির্দেশ দেয়ার জন্য আমরা প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি’ (সূরা আন-নাহল : ৩৬)। বিশেষ করে শেষনবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে লক্ষ্য করে বলেন,

یٰۤاَیُّہَا الرَّسُوۡلُ بَلِّغۡ  مَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ  مِنۡ رَّبِّکَ ؕ وَ  اِنۡ لَّمۡ تَفۡعَلۡ فَمَا بَلَّغۡتَ رِسَالَتَہٗ ؕ وَ اللّٰہُ یَعۡصِمُکَ مِنَ النَّاسِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ  لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الۡکٰفِرِیۡنَ

‘হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, আপনি তা পৌঁছে দিন। আর যদি এরূপ না করেন, তবে আপনি আল্লাহর পয়গাম পৌঁছাননি বলে বিবেচিত হবে। আর আল্লাহ আপনাকে মানুষের আক্রমণ থেকে সংরক্ষণ করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৬৭)।

শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (৬৬১-৭২৮ হি./১২৬৩-১৩২৮ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

الدَّعْوَةُ إلَى اللهِ هِيَ الدَّعْوَةُ إلَى الْإِيْمَانِ بِهِ وَبِمَا جَاءَتْ بِهِ رُسُلُهُ بِتَصْدِيْقِهِمْ فِيْمَا أَخْبَرُوْا بِهِ وَطَاعَتِهِمْ فِيْمَا أَمَرُوْا

‘আল্লাহর দিকে আহ্বান (দা‘ওয়াহ) হল- তাঁর প্রতি ঈমান আনার দিকে আহ্বান করা এবং তাঁর রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতিও ঈমান আনার দিকে আহ্বান করা; অর্থাৎ তারা যা সংবাদ দিয়েছেন তাতে তাঁদেরকে সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং তাঁরা যা আদেশ করেছেন তাতে তাঁদের আনুগত্য করা’।[১] অনুরূপভাবে শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-‘উছাইমীন (১৩৪৭-১৪২১ হি./১৯২৮-২০০১ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এটা হচ্ছে উত্তম চরিত্র, সৎ আমল, পারস্পরিক অধিকারসমূহের সংরক্ষণ এবং প্রাপকের যথাযথ হক ও যথোপযুক্ত মর্যাদা দানের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ইনছাফ বা ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠার দিকে আহ্বান জানানো। যাতে পূর্ণাঙ্গ ‘আক্বীদা ও শরী‘আতের বিধি-বিধান উন্নত ও প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাতিল ‘আক্বীদা, জাহেলী নিয়ম-কানুন ও নিকৃষ্ট বিধানসমূহ দূরীভূত হয়’।[২]

ধর্মীয় সংস্কারের এ মূলনীতি বাস্তবায়ন করার জন্য বাংলাদেশের ‘আলিমগণ নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অগ্রাধিকার প্রদান করেছেন। যথা: (ক) দা‘ওয়াহর মৌলিক লক্ষ্য নির্ধারণ (খ) দা‘ঈ বা দা‘ওয়াহ প্রদানকারীর বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা এবং (গ) দা‘ওয়াহর অভিন্ন মূলনীতি নির্ধারণ। নিম্নে প্রত্যেক বিষয়ে আলোচনা করা হল-

(ক) দা‘ওয়াতের মৌলিক লক্ষ্য নির্ধারণ (Select the basic goals of the da`wah)

লক্ষ্য হল- কোন কিছুর ইপ্সিত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রকল্প সীমানা বিশেষ। আর দা‘ওয়াতের মূল লক্ষ্যই হল সমাজের সার্বিক সংস্কার। সমাজের সকল স্তরে যখন অন্যায় ও আইন বিরোধী কর্মকাণ্ডের সয়লাব প্রবাহিত হয়, তখন দা‘ওয়াতের মাধ্যমেই তার সংস্কার করার প্রচেষ্টা চালাতে হয়। এজন্য দা‘ওয়াহর কিছু সুদূরপ্রসারী ও কল্যাণকামী লক্ষ্য নির্ধারণ করা যরূরী। যেমন,

১. মানুষকে আল্লাহর বান্দায় রূপান্তরিত করা (Transforming people inti servants of Allah)

সৃষ্টিগত স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের কারণে মানুষ আল্লাহর অনুগত। ইচ্ছা-অনিচ্ছায় আল্লাহমুখী হওয়া মানুষের সৃষ্টিগত আচরণ। কিন্তু পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট তার জীবনকে ওলট-পালট করে দেয়। বস্তুবাদী চিন্তায় আকৃষ্ট হয়ে আল্লাহকে ভুলে সে বস্তুপূজায় লিপ্ত হয়। সে একদিকে যেমন প্রবৃত্তির গোলামে পরিণত হয় অন্যদিকে প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার কাছে নিজেকে সপে দেয়। প্রকৃতির দোহায় দিয়ে নাস্তিক্যবাদী চিন্তায় দিশাহারা হয়ে উঠে। সত্য-মিথ্যার মানদণ্ড নিরূপণে ব্যর্থ হয়ে নিজেকে শিরক-বিদ‘আত ও যাবতীয় কুসংস্কারে নিমজ্জিত করে। বিশাল এ পৃথিবীর স্রষ্টার একত্বকে অস্বীকার করে কুফরিয়্যাতের জীবন-যাপন শুরু করে। তখন সে গাছ-পালা, প্রাণী, গ্রহ-উপগ্রহ এমনকি জীবিত ও মৃত মানুষের নিকট আত্মসমপর্ণ করে। এভাবে সে যে মহান আল্লাহর বান্দা সেটাই ভুলেই যায়। এছাড়া সমাজে ধনী-গরীব, সাদা-কালো, উঁচু-নীচু, শিক্ষিত-অশিক্ষিত ইত্যাদি মানুষের মাঝে পাহাড়সম বিভেদ লক্ষ্যণীয়। শাসকরা শাসিতের উপর যুলুম-নির্যাতনের স্টিমরোলার চালায়। মানুষের এ আত্মিক রোগ, বিভেদ ও নির্যাতনের কালো শিকড়কে উপড়ে ফেলে ইসলামের ভিত্তিতে গোটা মানব সমাজকে এক আল্লাহর বান্দায় পরিণত করা দা‘ওয়াতের অন্যতম লক্ষ্য। মহান আল্লাহ বলেন, وَ مَا خَلَقۡتُ الۡجِنَّ وَ الۡاِنۡسَ  اِلَّا لِیَعۡبُدُوۡنِ ‘আমি জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ‘ইবাদতের জন্য’ (সূরা আয-যারিয়াত : ৫৬)। বিদায় হজ্জের ভাষণে সকল মানুষকে এক আল্লাহর বান্দা ঘোষণা করে রাসূলুল্লাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘হে মানুষ সকল! জেনে রাখ, তোমার প্রভু এক এবং তোমাদের পিতাও এক। জেনে রাখ! কোন অনারবীর উপরে ‘আরবীর মর্যাদা নেই, কোন আরবীর উপর কোন অনারবের মর্যাদা নেই, কালোর উপরে লালের এবং লালের উপরে কালোর কোন মর্যাদা নেই তাক্বওয়া ব্যতীত’।[৩]

২. শান্তি প্রতিষ্ঠা (To make peace)

দা‘ওয়াহর অন্যতম লক্ষ্য হল- সমাজের সামগ্রিক শান্তি বিধান করা। সমাজে মানুষ যেন শান্তিপূর্ণ জীবন-যাপন করতে পারে, কেউ যেন কোন বিপর্যয় ডেকে আনতে না পারে কিংবা সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য বলিষ্ঠ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা। এছাড়া সামাজিক নেতৃত্ব যেন সৎ ও যোগ্য মানুষের হাতে থাকে এবং তাদের দ্বারা যেন শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা হয়, তার জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা। মহান আল্লাহ বলেন, وَ ابۡتَغِ  فِیۡمَاۤ  اٰتٰىکَ اللّٰہُ  الدَّارَ الۡاٰخِرَۃَ  وَ لَا تَنۡسَ نَصِیۡبَکَ مِنَ الدُّنۡیَا وَ اَحۡسِنۡ کَمَاۤ  اَحۡسَنَ اللّٰہُ  اِلَیۡکَ وَ لَا تَبۡغِ الۡفَسَادَ فِی الۡاَرۡضِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ  لَا یُحِبُّ الۡمُفۡسِدِیۡنَ ‘আল্লাহ যা তোমাকে দিয়েছেন তার দ্বারা আখিরাতের আবাস অনুসন্ধান কর। আর দুনিয়া হতে তোমার অংশ ভুলো না এবং পরোপকার কর যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, আর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে কামনা কর না। নিশ্চয় আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীকে ভালবাসেন না’ (সূরা আল-ক্বাছাছ : ৭৭)। এভাবে মানুষের আত্মা, দেহ ও সমাজের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের মাধ্যমে শান্তি, নিরাপত্তা, সৌভাগ্য ও স্বাচ্ছন্দ প্রতিষ্ঠা করাই দা‘ওয়াহর লক্ষ্য।

৩. গোমরাহী থেকে হিদায়াতের পথ সুস্পষ্ট করা (To clarify the path of guidance from misguidance)

মানব সমাজকে জাহিলিয়াতের অন্ধকার থেকে দূর করে ইসলামের আলোর পথে নিয়ে আসা, সকল পাপাচার থেকে বিরত রেখে হিদায়াতের দিকে আনয়ন করা এবং সকল প্রকার ভ্রান্ত ধর্ম, কর্ম ও মতবাদ মুক্ত হয়ে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় একত্রিত করা দা‘ওয়াহর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। সাথে সাথে বৈষয়িক সংকীর্ণতাকে ছিন্ন করে ইসলামের উদারতার জায়গাকে প্রশস্ত করা। মহান আল্লাহ বলেন,

الٓرٰ ۟ کِتٰبٌ اَنۡزَلۡنٰہُ  اِلَیۡکَ لِتُخۡرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوۡرِ ۬ۙ بِاِذۡنِ رَبِّہِمۡ  اِلٰی صِرَاطِ الۡعَزِیۡزِ  الۡحَمِیۡدِ

‘এ কিতাব এটা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানব জাতিকে তাদের প্রতিপালকের নির্দেশক্রমে বের করে আনতে পারেন অন্ধকার হতে আলোর দিকে, তাঁর পথে, যিনি পরাক্রমশালী, প্রশংসিত’ (সূরা ইবরাহীম : ১)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ‘তাফসীর আস-সা‘দী’-এর প্রণেতা বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা এ মর্মে সংবাদ দিচ্ছেন যে, নিশ্চয় এ কিতাব (কুরআন) সৃষ্টির কল্যাণের জন্য তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উপর অবতীর্ণ করেছেন। যাতে করে তিনি মানুষকে মূর্খতা, কুফরি, খারাপ আচরণ ও যাবতীয় পাপাচারের জাহিলিয়াত থেকে বের করে ‘ইলম, ঈমান ও উত্তম চরিত্রের নূরের দিকে বের করে আনেন’।[৪] তাই মানুষকে যাবতীয় শিরক-বিদ‘আত, কুসংস্কার, কুফর, নিফাক সহ সকল প্রকার ইসলাম পরিপন্থী বিষয়গুলো থেকে তাওহীদ, সুন্নাহ, ইসলামী তাহযীব-তমাদ্দুন, ঈমানের দিকে আনয়ন করা দা‘ওয়াতের লক্ষ্য। যা বাংলাদেশের ‘আলিম সমাজ অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে প্রতিপালন করেছেন।

৪. সত্যকে বিজয়ী করা এবং মিথ্যাকে পরাজিত করা (To conquer truth and defeat falsehood)

ইসলামী দা‘ওয়াহর আরেকটি মৌলিক লক্ষ্য হল- মিথ্যাকে পরাজিত করে সত্যকে বিজয়ী করা। আর এ লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করতে হলে দৃঢ় মনোবল সম্পন্ন দাঈ প্রয়োজন। যারা মিথ্যার বিস্তৃত ময়দান থেকে সত্যকে পৃথক করবে ও মিথ্যাকে প্রতিহত করবে। এতদুদ্দেশ্যেই আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াতে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, لِیُحِقَّ الۡحَقَّ وَ یُبۡطِلَ الۡبَاطِلَ وَ لَوۡ  کَرِہَ الۡمُجۡرِمُوۡنَ ‘যেন সত্যকে সত্যরূপে এবং মিথ্যাকে মিথ্যারূপে প্রমাণিত করে দেন, যদিও এটা অপরাধিরা অপসন্দই করে’ (সূরা আল-আনফাল : ৮)। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন, بَلۡ نَقۡذِفُ بِالۡحَقِّ عَلَی الۡبَاطِلِ فَیَدۡمَغُہٗ فَاِذَا ہُوَ زَاہِقٌ ‘কিন্তু আমি সত্য দ্বারা আঘাত হানি মিথ্যার উপর; ফলে ওটা মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ মিথ্যা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়’ (সূরা আল-আম্বিয়া : ১৮)। রাসূলুল্লাহ (রাহিমাহুল্লাহ) মূর্তিকে ভেঙ্গে ফেলে মিথ্যার বুকে কুঠরাঘাত করে সত্যকে বিজয়ী করেছিলেন।[৫]

৫. আল্লাহর যমীনে ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করা (To establish Islam in the land of Allah)

আল্লাহ প্রদত্ত জীবন ব্যবস্থা ইসলামকে আল্লাহর যমীনে প্রতিষ্ঠা করা দা‘ওয়াহর মূল লক্ষ্য। তজ্জন্য ইসলামী বিধানসমূহের প্রচার, প্রসার ও শিক্ষা প্রদানের সুব্যবস্থা করা এবং সকল প্রকার বাধা প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে সমাজের সার্বিক ক্ষেত্র তথা পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইসলামী বিধান পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করা। আল্লাহ প্রদত্ত শর্তগুলো পূরণ করলেই পৃথিবীতে ইসলামকে করবেন বলে তিনি ওয়াদা করেছেন। তিনি বলেন,

وَعَدَ  اللّٰہُ  الَّذِیۡنَ  اٰمَنُوۡا مِنۡکُمۡ وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَیَسۡتَخۡلِفَنَّہُمۡ فِی الۡاَرۡضِ کَمَا اسۡتَخۡلَفَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ۪ وَ لَیُمَکِّنَنَّ لَہُمۡ دِیۡنَہُمُ  الَّذِی ارۡتَضٰی لَہُمۡ وَ لَیُبَدِّلَنَّہُمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِ خَوۡفِہِمۡ  اَمۡنًا ؕ یَعۡبُدُوۡنَنِیۡ لَا  یُشۡرِکُوۡنَ بِیۡ شَیۡئًا ؕ وَ مَنۡ  کَفَرَ بَعۡدَ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ  الۡفٰسِقُوۡنَ

‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি তাদেরকে পৃথিবীতে খেলাফত (প্রতিনিধিত্ব) অবশ্যই দান করবেন, যেমন তিনি (প্রতিনিধিত্ব) দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য সুদৃঢ় করবেন তাদের দ্বীনকে যা তিনি তাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে তাদেরকে অবশ্যই নিরাপত্তা দান করবেন; তারা শুধু আমার ‘ইবাদত করবে, আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না, অতঃপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে তারা তো সত্যত্যাগী (ফাসিক)’ (সূরা আন-নূর : ৫৫)। অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন, یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنۡ تَنۡصُرُوا اللّٰہَ یَنۡصُرۡکُمۡ  وَ  یُثَبِّتۡ  اَقۡدَامَکُمۡ ‘হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, তবে তিনি তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের (অবস্থান) সুদৃঢ় করবেন’ (সূরা মুহাম্মাদ : ৭)।

(খ) দা‘ঈ বা দা‘ওয়াহ প্রদানকারীর বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা (Review the characteristics of Da`ee or da`wah provider)

বাংলাদেশে দা‘ওয়াহ কার্যক্রম উপর্যুক্ত লক্ষ্যকে সামনে রেখে সম্মুখে এগিয়ে নিতে হবে। এজন্য ‘আলিম সমাজকে এ ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে যে, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যপথ থেকে কোন রকম যেন বিচ্যুতি না ঘটে। অন্যথা দ্বীনের সংস্কার অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। মূলত আল-কুরআন ও সুন্নাহয় বর্ণিত একজন প্রকৃত মুসলিমের চরিত্রই হলো একজন দা‘ঈর বৈশিষ্ট্য।[৬] দা‘ঈকে দা‘ওয়াহর লক্ষ্যকে অক্ষুণ্ন রেখে নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হবে।

প্রথমতঃ স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য (Inherent features)

ফিতরাতী বা স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য বলতে আল্লাহ প্রদত্ত এমন অনুগ্রহপ্রাপ্তির অধিকারী হওয়া, যা কোন ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করে। ব্যতিক্রমধর্মী ও গ্রহণীয় এমন বিশেষ আচরণ ও গুণের সমাহার, যা কিনা দা‘ঈকে সংস্কার আন্দোলনের মত চ্যালেঞ্জিং ও কঠিন কাজে তাকে দৃঢ় ও অবিচল রাখে। যেমন,

>> ক. মেধা ও বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হওয়া : দা‘ঈকে প্রজ্ঞা, উদ্দীপ্ত চেতনা ও প্রতিভাবান হওয়ার প্রয়োজন এ কারণে যে, দা‘ওয়াতের বিষয়বস্তু সুন্দর ও সাবলীলভাবে উপস্থাপনে যেন কোন সমস্যা না হয়। এছাড়া বুদ্ধিমত্তা ছাড়া ঐক্যবদ্ধ সামাজিক জীবন পরিচালনা করা সম্ভব হয়ে উঠে না। তাই আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত নে‘মত সামগ্রির মধ্যে বুদ্ধিমত্তা হল অন্যতম (সূরা আল-বাকারাহ : ২৬৯)।

>> খ. শক্তিমত্তা ও সাহসিকতা : দা‘ওয়াতী কাজে দৃঢ় শক্তিমত্তার যেমন দরকার তেমিন সাহসি ভূমিকারও প্রয়োজন। এটা দা‘ঈর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কেননা গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শক্তিমত্তা ও সাহসিকতা দু’টিই যরূরী। নবী-রাসূলগণ আল্লাহকে ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করতেন না (সূরা আল-আহযাব : ৩৯)।

>> গ. লজ্জাশীলতা ও শালীনতাবোধ : ইসলামী মূল্যবোধ সংরক্ষণ ও উন্নত সংস্কৃতির চর্চার ক্ষেত্রে লজ্জাশীলতা ও শালীনতাবোধের ভূমিকা অপরিসীম। এছাড়া প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে উঠার জন্য এর অবদানও কম নয়। এজন্য দা‘ঈকে এ গুণে গুণান্বিত হওয়া যরূরী। কেননা লজ্জালশীলতা ঈমানের একটি অংশ।[৭]

>> ঘ. ধৈর্য ও সংযম : এটি দা‘ওয়াতী কার্যক্রমের মেরুদণ্ড সদৃশ। তাই দা‘ঈকে এ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়া অপরিহার্য। কেননা তাকে বিভিন্ন মেজাযের মানুষের সাথে উঠা-বসা করতে হয়। কেউ কটু কথা বলতে পারে, অবজ্ঞাও করতে পারে কিংবা কাক্সিক্ষত সফলতা আসতে দেরী হতে পারে। এজন্য দা‘ঈকে সর্বদা ধৈর্য ও সংযমশীলতার অধিকারী হতে হয়। দা‘ওয়াহ প্রদানে নবী-রাসূল ধৈর্যধারণ করেছিলেন (সূরা আল-আহকাফ : ৩৫)। অনুরূপভাবে ক্ষমা করে দেয়ার বৈশিষ্ট্যেও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হতে হবে।[৮]

দ্বিতীয়তঃ অর্জনগত বৈশিষ্ট্য (Acquisitive features)

সংস্কার কাজ করার জন্য একজন দা‘ঈকে কিছু বৈশিষ্ট্য অর্জন করতে হয়, যার জন্য তাকে অনেক ত্যাগ স্বীকার ও পরিশ্রম করতে হয়। বৈশিষ্ট্যের দিকে দিয়ে অর্জনগত বিষয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশী। কেননা অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ও অর্জনগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করেই দা‘ওয়াহর সোনালী সৌধ নির্মাণ করা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও দৃঢ় মনোবল। তাই একজন দা‘ঈকে তাক্বওয়া, সত্যবাদিতা, দয়া-মমতা, আতিথেয়তা, আত্মনিয়ন্ত্রণ করা, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির অধিকারী হওয়া এবং অন্যের জন্য শুভাকাক্সক্ষী হওয়া ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জন করা যরূরী। অনুরূপভাবে হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার, ছিদ্রান্বেষণ, গীবত-তোহমত, পদলোভী ও আমীত্বপরায়ণ ইত্যাদি বদগুণ থেকে বিরত থাকতে হবে। এতদসত্ত্বেও দায়িত্ব সচেতনতা, শৃংখলাবোধ, আত্মত্যাগের মানসিকতা, আল্লাহর প্রতি অগাধ ভালোবাসা, বিনয়ী হওয়া, আত্মসম্মানবোধ থাকা, পারস্পরিক পরামর্শ করার মনোবৃত্তি, জিহাদী জাযবা, বিচক্ষণতা ও ভারসাম্যতা, অন্যদের সম্পর্কে ভাল ধারণা পোষণ করা, সামাজিক মনোভাবের হওয়া এবং আত্মসমালোচনা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যগুলোও অর্জন করতে হয়।

ইখলাস দা‘ওয়াহর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। যা অনেক ত্যাগ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। তাই দা‘ঈকে লোক দেখানো, মানুষের প্রশংসা পাওয়ার আশা করা যাবে না। বরং কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য দা‘ওয়াতী কাজ করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, فَاعۡبُدِ اللّٰہَ  مُخۡلِصًا لَّہُ  الدِّیۡنَ ‘তুমি আল্লাহর ‘ইবাদত কর তাঁর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে’ (সূরা আয-যুমার : ২)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘তারাতো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ‘ইবাদত করতে এবং ছালাত কায়েম করতে ও যাকাত প্রদান করতে। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন’ (সূরা আল-বাইয়িনাহ : ৫)। এজন্য দা‘ওয়াতের মাধ্যমে দুনিয়া হাসিল করার স্বার্থ ইখলাছ পরিপন্থী।[৯]

তৃতীয়তঃ জ্ঞানগত বৈশিষ্ট্য (Cognitive features)

যেসকল বিষয়ের উপর ইসলামী সংস্কার সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন ‘ইলম বা জ্ঞান হল তার অন্যতম। আর সে ‘ইলম বা জ্ঞান হল অহিভিত্তিক জ্ঞান তথা আল-কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান। অতএব জ্ঞান অর্জন করেই দা‘ওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সুতরাং যে বিষয়ে আহ্বানকারী (মানুষকে) আহ্বান করবেন, সে বিষয়ে তার কুরআন-সুন্নাহর উপর সুপ্রতিষ্ঠিত বিশুদ্ধ জ্ঞান থাকতে হবে। ইমাম বুখারী (১৯৪-২৫৬ হি./৮১০-৮৭০ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ছহীহুল বুখারীতে اَلْعِلْمُ قَبْلَ الْقَوْلِ وَالْعَمَلِ ‘বলা ও ‘আমল করার পূর্বে জ্ঞানার্জন করা আবশ্যক’ শিরোনামে অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন এবং আল্লাহর বাণী- فَاعۡلَمۡ  اَنَّہٗ  لَاۤ اِلٰہَ  اِلَّا اللّٰہُ  وَ اسۡتَغۡفِرۡ لِذَنۡۢبِکَ ‘সুতরাং জেনে রাখ, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন মা‘বূদ নেই, তোমার পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো’ দ্বারা দলীল পেশ করেছেন।[১০] আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

قُلۡ ہٰذِہٖ سَبِیۡلِیۡۤ  اَدۡعُوۡۤا  اِلَی اللّٰہِ ۟ؔ عَلٰی بَصِیۡرَۃٍ  اَنَا  وَ مَنِ اتَّبَعَنِیۡ ؕ وَ سُبۡحٰنَ اللّٰہِ  وَ مَاۤ   اَنَا مِنَ  الۡمُشۡرِکِیۡنَ

‘(হে মুহাম্মাদ!) আপনি বলুন! ইহাই আমার পথ, আমি ও আমার অনুসারীগণ ডাকি আল্লাহর দিকে, জাগ্রত জ্ঞান সহকারে। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত নই’ (সূরা ইউসুফ : ১০৮)। মুহাম্মাদ আল-আমীন মুখতার আশ-শানক্বীতী (১৩২৫-১৩৯৩ হি./১৯০৭-১৯৭৩ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহর পথে দা‘ঈর ব্যাপারে এটা সাব্যস্ত হয় যে, তাকে অবশ্যই জাগ্রত জ্ঞান তথা সত্যের সাথে অন্য কিছু না মিশিয়ে সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণ সহকারে দা‘ওয়াতী কাজ করতে হবে। তাকে হিকমত, উত্তম পদ্ধতিসমূহ ও হক্বের সূক্ষ্ম ব্যাখ্যার মাধ্যমে আল্লাহর রাস্তায় দা‘ওয়াত দেয়া বাঞ্ছনীয়’।[১১] শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-‘উসাইমীন (১৩৪৭-১৪২১ হি./১৯২৮-২০০১ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ইলম বা জ্ঞান হচ্ছে দা‘ওয়াতের ভিত্তি ও উপাদান। জ্ঞানের উপর প্রতিষ্ঠিত না হলে কোন দা‘ওয়াতই এমনভাবে সম্পন্ন হতে পারে না, যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে’। একটু পরেই তিনি আরো বলেন, ‘জ্ঞানহীন দা‘ওয়াত মূর্খতার উপর ভিত্তিশীল দা‘ওয়াত। আর মূর্খতার উপর ভিত্তিশীল দাওয়াতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়। কারণ এক্ষেত্রে দাওয়াতদাতা নিজেকে দিকনির্দেশক ও পথপ্রদর্শক রূপে নিয়োজিত করেন। যদি তিনি মূর্খ হন, তাহলে সেই মূর্খতার দ্বারা তিনি নিজে যেমন পথভ্রষ্ট হন ও অন্যকে পথভ্রষ্ট করেন। নাঊযুবিল্লাহ’।[১২]

অতএব একজন দা‘ঈকে সার্বিক পরিস্থিতি ও শরী‘আতের গূঢ় রহস্য অনুধাবন ও হৃদয়াঙ্গম করার ক্ষমতা থাকতে হবে, সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গী ও সিদ্ধান্তে পৌঁছার সামর্থ্য থাকতে হবে, দা‘ওয়াহ সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান থাকতে হবে, বিভিন্ন বিষয়ের উপর সম্যক ধারণা থাকতে হবে এবং সর্বোপরি ‘ইলমী জগতে প্রাধান্য লাভের চেষ্টা করতে হবে। সুতরাং দা‘ওয়াত প্রদানের ক্ষেত্রে দা‘ঈকে অবশ্যই আল-কুরআন ও সুন্নাহর যথেষ্ট ‘ইলম থাকতে হবে। অন্যথা সংস্কার আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

(গ) দা‘ওয়াহর অভিন্ন মূলনীতি নির্ধারণ (Select the uniform principles of Da`wah)

বাংলাদেশে দা‘ওয়াহ কার্যক্রমের ব্যাপকতা বৃদ্ধির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দা‘ওয়াহর অভিন্ন মূলনীতি নির্ধারণ করা। মূলনীতি যদি অভিন্ন না হয়, তাহলে সংস্কার কাজ তার গতি হারাবে। সাময়িক ফলপ্রসূ হলেও স্থায়ীভাবে তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ইসলামী সংস্কারের জন্য প্রয়োজন দক্ষ দা‘ঈ তৈরি করা এবং অভিন্ন মূলনীতি নির্ধারণ করা।[১৩] রাসূলুল্লাহ (রাহিমাহুল্লাহ) ও তাঁর ছাহাবীগণ মূলনীতির আলোকেই দা‘ওয়াতী কাজ পরিচালনা করেছেন (সূরা আন-নাহল: ১২৫)। দা‘ওয়াহর মূলনীতিসমূহ নিম্নরূপ-

১. সর্বাগ্রে তাওহীদের প্রতি দা‘ওয়াহ প্রদান (First of all, giving da`wah to Tawheed)

ইসলামের মূল রূহ হলো তাওহীদ। তাওহীদের পূর্ণ স্বীকৃতি ও তদনুযায়ী কাজের উপরই ভিত্তিশীল একজন মুমিনের জীবন। তাওহীদের উপরই নির্ভর করে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি। কারো তাওহীদ যদি ত্রুটিযুক্ত ও বিনষ্ট হয় তাহলে সে পথভ্রষ্ট হবে। পক্ষান্তরে তাওহীদ যদি ত্রুটিহীন ও স্বচ্ছ হয় তাহলে সে সৎ পথে পরিচালিত হবে। এজন্যই নবী-রাসূলগণ তাঁদের স্ব স্ব উম্মতদেরকে সর্বপ্রথম নির্ভেজাল তাওহীদের দা‘ওয়াত দিয়েছিলেন (সূরা আল-আম্বিয়া : ২৫)। রাসূলুল্লাহ (রাহিমাহুল্লাহ) যখন মু‘আয ইবনু জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ইয়ামানে অমুসলিমদের মাঝে ইসলামের দা‘ওয়াতের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন, তখন তাকে প্রথমে তাওহীদের প্রতি দা‘ওয়াহ প্রদানের নির্দেশনা দান করেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন,

ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُوْلُ لَمَّا بَعَثَ النَّبِىُّ ﷺ مُعَاذًا نَحْوَ الْيَمَنِ قَالَ لَهُ إِنَّكَ تَقْدَمُ عَلَى قَوْمٍ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا تَدْعُوْهُمْ إِلَى أَنْ يُوَحِّدُوا اللهَ تَعَالَى فَإِذَا عَرَفُوْا ذَلِكَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللهَ فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِىْ يَوْمِهِمْ وَلَيْلَتِهِمْ فَإِذَا صَلُّوْا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ زَكَاةً فِىْ أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ غَنِيِّهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فَقِيْرِهِمْ فَإِذَا أَقَرُّوْا بِذَلِكَ فَخُذْ مِنْهُمْ وَتَوَقَّ كَرَائِمَ أَمْوَالِ النَّاسِ

‘নবী কারীম (রাহিমাহুল্লাহ) যখন মু‘আয (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ইয়ামানে পাঠালেন, তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি আহলি কিতাব সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছ। সুতরাং তাদেরকে প্রথম আহ্বান করবে, তারা যেন আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদকে মেনে নেয়। যদি তারা তা স্বীকার করে, তবে তাদেরকে বলবে, আল্লাহ তাদের উপর দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতকে ফরয করেছেন। তারা যদি ছালাত আদায় করে, তবে তাদেরকে জানাবে, আল্লাহ তাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন, যা ধনীদের নিকট থেকে আদায় করা হবে এবং গরীবদের মাঝে বিতরণ করা হবে। তারা যদি এটা মেনে নেয়, তাহলে তাদের নিকট থেকে তা গ্রহণ করবে। তবে মানুষের সর্বোত্তম সম্পদ গ্রহণের ব্যাপারে সাবধান থাকবে’।[১৪]

২. আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর দিকে দা‘ওয়াত দেয়া (Invites to Allah and His Messengers (Rasool) (SM)

কোন ব্যক্তি, মতবাদ, ইযম, তরীকা, সংগঠন, সংস্থা কিংবা কোন দেশের দিকে মানুষকে আহ্বান না করে কেবল আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল (রাহিমাহুল্লাহ) দিকেই আহ্বান করতে হবে। বলা যায় এটিই দা‘ওয়াতের ফাউন্ডেশন।[১৫] আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

قُلۡ ہٰذِہٖ سَبِیۡلِیۡۤ  اَدۡعُوۡۤا  اِلَی اللّٰہِ ۟ؔ عَلٰی بَصِیۡرَۃٍ  اَنَا  وَ مَنِ اتَّبَعَنِیۡ ؕ وَ سُبۡحٰنَ اللّٰہِ  وَ مَاۤ   اَنَا مِنَ  الۡمُشۡرِکِیۡنَ

‘(হে মুহাম্মাদ!) আপনি বলুন! ইহাই আমার পথ, আমি ও আমার অনুসারীগণ ডাকি আল্লাহর দিকে, জাগ্রত জ্ঞান সহকারে। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত নই’ (সূরা ইউসুফ : ১০৮)। উক্ত ‘আয়াতের سَبِيْلِيْ শব্দে অর্থ প্রসঙ্গে ইমাম বাগাভী (৪৩৬-৫১০ হি./১০৪৫-১১১৭ খ্রি.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সুন্নাত ও মানহাজ’।[১৬]

৩. দলীলভিত্তিক দা‘ওয়াহ প্রদান (Providing document based da`wah)

দা‘ওয়াহর অন্যতম মূলনীতি হল- দলীলভিত্তিক হওয়া। এক্ষেত্রে আল-কুরআন ও সুন্নাহর মনগড়া ব্যাখ্যা যেমন গ্রহণীয় নয়, তেমনি যঈফ ও মওযূ‘ বা জাল হাদীছ ও ভিত্তিহীন গল্প-কাহিনীও অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اِنۡ  اَتَّبِعُ اِلَّا مَا یُوۡحٰۤی اِلَیَّ ۚ اِنِّیۡۤ  اَخَافُ اِنۡ عَصَیۡتُ رَبِّیۡ  عَذَابَ  یَوۡمٍ  عَظِیۡمٍ ‘আমি তো আমার প্রতি যা অহী অবতীর্ণ হয় তারই অনুসরণ করি। বস্তুত আমি যদি আমার রবের অবাধ্য হই, তাহলে আমি কিয়ামতের কঠিন দিনের শাস্তির ভয় করি’ (সূরা ইউনুস : ১৫)। অন্যত্র আরো কঠোরভাবে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَ لَوۡ تَقَوَّلَ عَلَیۡنَا بَعۡضَ الۡاَقَاوِیۡلِ- لَاَخَذۡنَا مِنۡہُ  بِالۡیَمِیۡنِ- ثُمَّ  لَقَطَعۡنَا مِنۡہُ  الۡوَتِیۡنَ

‘যদি আপনি নিজে কোন কথা বানিয়ে আমার কথা বলে চালিয়ে দিতেন, তবে অবশ্যই আমি তার ডান হাত ধরে ফেলতাম, এবং কেটে দিতাম তার জীবন-ধমনী’ (সূরা আল-হাক্কা : ৪৪-৪৬)।

‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী করীম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও তা পৌঁছে দাও এবং বনী ইসরাঈলের কাহিনী বর্ণনা কর, তাতে কোন দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত আমার উপর মিথ্যারোপ করবে, সে যেন তার নিজের স্থানকে জাহান্নামে করে নেয়’।[১৭]

৪. সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের সমন্বয় (The combination of the order of good deeds and the prohibition of evil deeds)

সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা দা‘ওয়াহর ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি। কোন জাতির কল্যাণ ও মুক্তি এর উপরই ভিত্তিশীল। মানবতাকে যাবতীয় পাপাচার থেকে মুক্ত রাখার এটিই একমাত্র অবলম্বন। ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সংশোধন ও সংস্কারের এক অনন্য উপায় হলো সৎকাজের আদেশ দান এবং অসৎকাজে নিষেধ প্রদান। নির্ভেজাল তাওহীদ ও বিশুদ্ধ সুন্নাহ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধানতম অবলম্বন। এটিকে আল্লাহ তা‘আলা একই সাথে উল্লেখ করেছেন।[১৮] রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الإِيْمَانِ 

‘তোমাদের যখন কেউ কোন অপসন্দনীয় কথা বা কাজ হতে দেখবে, তখন সে যেন হাত দ্বারা বাধা প্রদান করে। এতে  সম্ভব না হলে যেন কথার মাধ্যমে বাধা প্রদান করে। এটাও সম্ভব না হলে সে যেন অন্তর থেকে ঘৃণা করে। আর এটিই হচ্ছে দুর্বলতম ঈমান’।[১৯]

৫. হিকমাহ অবলম্বল করা (To exercise wisdom/Hikmah)

দাওয়াতী কাজ সফলভাবে সম্পাদনের জন্য হিকমাহ অবলম্বন করা খুবই যরূরী। বর্তমান নব্য জাহিলিয়াতের যুগে ধর্মীয় সংস্কারের পথকে সুগম করতে হলে গভীর জ্ঞানের পাশাপাশি প্রয়োজন বিচক্ষণতা ও কৌশল। তাই আল্লাহ বলেন,

اُدۡعُ  اِلٰی سَبِیۡلِ رَبِّکَ بِالۡحِکۡمَۃِ وَ الۡمَوۡعِظَۃِ  الۡحَسَنَۃِ وَ جَادِلۡہُمۡ بِالَّتِیۡ ہِیَ اَحۡسَنُ ؕ اِنَّ رَبَّکَ ہُوَ اَعۡلَمُ بِمَنۡ ضَلَّ عَنۡ سَبِیۡلِہٖ  وَ ہُوَ  اَعۡلَمُ بِالۡمُہۡتَدِیۡنَ

‘আপনি মানুষকে আপনার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করুন হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন। কোন ব্যক্তি আল্লাহ্র পথ ছেড়ে বিপথগামী হয় সে সম্পর্কে আপনার প্রতিপালক অধিক অবহিত এবং কে হেদায়াতের পথে আছে, সে সম্পর্কে তিনি সম্যকভাবে অবহিত’ (সূরা আন-নাহল : ১২৫)।

বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কার কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুবিস্তৃতভাবে করার জন্য এদেশের ‘আলিম সমাজও ইসলামী দা‘ওয়াহ সম্প্রসারণে আত্মনিয়োগ করেন। আলোচনা সভা, সাপ্তাহিক দারস, জুমু‘আর খুতবা, জালসা ও মাহফিল সহ বিভিন্ন সেমিনার-সেম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণের জন্য দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। মানুষের নিকট ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা ও অনুপম সৌন্দর্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে দা‘ওয়াহ প্রদানের উপরিউক্ত লক্ষ্য ও মূলনীতিকে অনুসরণ করেছেন। এ দা‘ওয়াতী কাজের ব্যাপকতা বৃদ্ধির ফলে শিরক-বিদ‘আত, অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড, ভ্রান্তমতের কুপ্রভাব ও পাশ্চাত্য মতবাদসমূহের প্রভাব বহুলাংশে হ্রায় পায়।

(ইনশআল্লাহ চলবে)

তথ্যসূত্র : 
[১]. শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ, মাজমূ‘ঊল ফাতাওয়া, ১৫তম খণ্ড, পৃ. ১৫৭।  
[২]. ‘আলী ইবন নাইফ আশ-শুহূদ, আল-মুফাসসাল ফী ফিকহিদ দা‘ওয়াহ ইলাল্লাহি তা‘আলা (প্রকাশস্থান, প্রকাশ ও তারিখ বিহীন), পৃ. ২১০, ‘দা‘ওয়ার রুকনসমূহ’ অনুচ্ছেদ।  
[৩]. ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল, আল-মুসনাদ, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৪১১, হাদীছ নং-২৩৫৩৬; আবূ বাকার আহমাদ ইবনুল হুসাইন আল-বাইহাকী, শু‘আবুল ঈমান, ৪র্থ খণ্ড (বৈরূত : দারুল কুতুবিল ‘ইলমিয়্যাহ, ১ম সংস্করণ ১৪১০ হি.),  পৃ. ২৮৯, হাদীছ নং-৫১৩৭।  
[৪]. তাইসীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, পৃ. ৪২১।
[৫]. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, পৃ. ৩৯৬-৩৯৮, হাদীছ নং-২৪৭৮ ‘মাযালিম’ অধ্যায়-৪৬, অনুচ্ছেদ-৩২।
[৬]. ড. ‘আব্দুল কারীম যাইদান, উসূলুদ দা‘ওয়াহ (প্রকাশান স্থান, ও সংস্থা বিহীন, ৩য় সংস্করণ, ১৩৯৬ হি./১৯৭৬ খ্রি.), পৃ. ৫৪৭।
[৭]. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, পৃ. ২৩, হাদীছ নং-৯ ‘ঈমান’ অধ্যায়-২।
[৮]. সূরাহ আলি ‘ইমরান : ১৫৯; ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল, আলÑমুসনাদ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১৫৮, হাদীছ নং-১৭৪৮৮।
[৯]. মুহাম্মাদ ইবন সাহিল ইবন মুহাম্মাদ আল-‘উসাইমীন, মাজমূ‘ঊ ফাতাওয়া রাসাইল, ১ম খণ্ড (প্রকাশনা স্থান বিহীন : দারুল ওয়াতান, ১৪১৩ হি.), পৃ. ৩২০।
[১০]. সূরা মুহাম্মাদ : ১৯; ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, পৃ. ২৪, ‘ইলম’ অধ্যায়-৩, অনুচ্ছেদ-১০।
[১১]. মুহাম্মাদ আল-আমীন ইবন মুহাম্মাদ আল-মুখতার ইবন ‘আব্দিল কাদির আশ-শানকীতী, আযওয়াউল বায়ান ফী ইযাহিল কুরআন বিল কুরআন, ১ম খণ্ড (বৈরূত : দারুল ফিকর, ১৪১৫ হি./১৯৯৫ খ্রি.), পৃ. ৪৬৩ ।
[১২]. আস-সাহওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ : যাওয়াবিতু ওয়া তাওযিহাত, পৃ. ১৫-১৭।
[১৩]. ড. আব্দুল করীম যায়দান, উছূলুদ দাওয়াহ (বৈরুত : মুওয়াস্সাসাতুর রিসালাহ, ১৪২৬ হি./২০০৫ খৃ.), পৃ. ৪৭০।   
[১৪]. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, পৃ. ১১৭১, হাদীছ নং-৭৩৭২, ‘তাওহীদ’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১।
[১৫]. ড. ‘আব্দুল কারীম যাইদান, উসূলুদ দ্বীন, পৃ. ৫।
[১৬]. মহিউস সুন্নাহ আবূ মুহাম্মাদ আল-হুসাইন ইবন মাস‘ঊদ আল-বাগাভী, মা‘আলিমুত তানযীল, ৪খণ্ড (প্রকাশনা স্থান বিহীন : দারু তাইয়িবা, ৪র্থ সংস্করণ, ১৪১৭ হি./১৯৯৭ খ্রি), পৃ. ২৮৪; মুহাম্মাদ ইবন ‘আলী ইবন মুহাম্মাদ ইবন ‘আব্দিল্লাহ আশ-শাওকানী, ফাতহুল কাদীর, ৩য় খণ্ড (দামেস্ক : দারু ইবনি কাছীর, ১ম সংস্করণ, ১৪১৪ হি.), পৃ. ৭১।
[১৭]. ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল, আল-মুসনাদ, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৫৯, হাদীছ নং-৬৪৮৬; ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, পৃ. ৫৬৬, হাদীছ নং-৩৪৬১ ‘নবীগণের কাহিনী’ অধ্যায়-৬০, ‘বানী ইসরাঈলের বর্ণনা’ অনুচ্ছেদ-৫০।
[১৮]. সূরাহ আলে ইমরান : ১০৪-১০৫, ১৯০; সূরাহ আত-তওবাহ : ৭১।  
[১৯]. ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল, আল-মুসনাদ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১০, হাদীছ নং-১১০৮৮; ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, পৃ. ৪০-৪১, হাদীছ নং-৪৯; মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১১৪, হাদীছ নং-৫১৩৭।




বিদায় হজ্জের ভাষণ : তাৎপর্য ও মূল্যায়ন (শেষ কিস্তি) - অধ্যাপক মো. আকবার হোসেন
বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কারে আলিমগণের গৃহীত মূলনীতিসমূহ: একটি পর্যালোচনা (৫ম কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কারে আলিমগণের গৃহীত মূলনীতিসমূহ: একটি পর্যালোচনা (২য় কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
ইমাম মাহদী, দাজ্জাল ও ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর আগমন সংশয় নিরসন (৫ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
ইমাম মাহদী, দাজ্জাল ও ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর আগমন : সংশয় নিরসন (৪র্থ কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
ইমাম মাহদী, দাজ্জাল ও ঈসা (আলাইহিস সালাম) -এর আগমন সংশয় নিরসন (৭ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ - অনুবাদ : মুহাম্মদ ইমরান বিন ইদরিস
তাক্বওয়াই মুক্তির সোপান - আব্দুর রশীদ
ছয়টি মূলনীতির ব্যাখ্যা (২য় কিস্তি) - অনুবাদ : আব্দুর রাযযাক বিন আব্দুল ক্বাদির
আধুনিক যুগে দাওয়াতী কাজের পদ্ধতি (২য় কিস্তি) - ড. মুকাররম বিন মুহসিন মাদানী
প্রচলিত তাবলীগ জামা‘আত সম্পর্কে শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের অবস্থান (৮ম কিস্তি) - অনুবাদ : আব্দুর রাযযাক বিন আব্দুল ক্বাদির
মসজিদ: ইসলামী সমাজের প্রাণকেন্দ্র (৯ম কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ