বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কারে আলিমগণের গৃহীত মূলনীতিসমূহ: একটি পর্যালোচনা
- ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
শতধা বিভক্ত বাংলাদেশে মুসলিম সমাজের ইসলামের আলোকে সংস্কার করা নিঃসন্দেহে কঠিন চ্যালেঞ্জের কাজ। এরপরেও এ চ্যালেঞ্জ মুকাবিলায় ‘আলিমগণের প্রচেষ্টা তাৎপর্যের দাবী রাখে। এক্ষেত্রে এমন শক্তিশালী কাঠামো ও যুক্তিপূর্ণ মূলনীতি আবশ্যক, যা হতে হবে চিরস্থায়ী ও সুপ্রতিষ্ঠিত। কেননা ধর্মীয় সংস্কারের মত চ্যালেঞ্জিং কার্যক্রমকে সহজভাবে বুঝানোর জন্য মূলনীতির গুরুত্ব অপরিসীম। আর কোন বিষয়কে বোধগম্য করে উপস্থাপন করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হৃদয়কে আকৃষ্ট করার জন্য মূলনীতিভিত্তিক আলোচনা অনেক ফলপ্রসু। তাই ধর্মীয় সংস্কারের এই বন্ধুর যাত্রাপথ পাড়ি দেয়ার জন্য যুক্তিগ্রাহ্য ও স্থায়ী মূলনীতি আবশ্যক।[১] বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (ﷺ)ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকেই জাহিলিয়াতের অমানিশা ও অন্ধকারকে দূরীভূত করে সমগ্র বিশ্ব আলোকিত করেছিলেন। সংস্কার করেছিলেন বর্বর ও ঘুনে ধরা জাহেলেী সমাজ ব্যবস্থাকে। যেমন আল্লাহ বলেন,
وَ لَوْ اَنَّ اَهْلَ الْقُرٰۤى اٰمَنُوْا وَ اتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكٰتٍ مِّنَ السَّمَآءِ وَ الْاَرْضِ
‘জনপদের অধিবাসীরা যদি ঈমান আনয়ন করে এবং আল্লাহভীতি অর্জন করে তবে অবশ্যই আমরা তাদের প্রতি ভূ-মণ্ডল ও নভোমণ্ডলের বরকতের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দেব’ (সূরা আল-আ‘রাফ : ৯৬)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ‘আব্দুর রহমান ইবনু নাছির আস-সা‘দী (১৩০৭-১৩৭৬ হি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘নিশ্চয় জনপদের অধিবাসীরা যদি আন্তরিকভাবে ঈমান আনয়ন করত, তার ভিত্তিতে ‘আমলকে শানিত করত এবং প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত বিষয়গুলো পরিত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহভীতি নিয়ে ‘আমল করত, তাহলে তাদের জন্য আসমান ও যমীনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত হয়ে যেত। ফলে তিনি তাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণকারী আকাশ প্রেরণ করে থাকেন, যমীন থেকে তাদের জন্য উৎপন্ন করেন এমন কিছু, যার দ্বারা তারা নিজেরা বাঁচে এবং তাদের পশুদেরও বাঁচায়। যা সকল ঝামেলা, ক্লান্তি, কষ্ট বা কোন ক্লেশ ছাড়াই সবচেয়ে উর্বর জীবনযাপন এবং প্রচুর জীবিকা নির্বাহ করতে সক্ষম’।[২] আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّنْ ذَكَرٍ اَوْ اُنْثٰى وَ هُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهٗ حَيٰوةً طَيِّبَةً١ۚ وَ لَنَجْزِيَنَّهُمْ اَجْرَهُمْ بِاَحْسَنِ مَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ
‘পুরুষ কিংবা নারীদের মধ্যে মুমিন হয়ে যে সৎকর্ম সম্পাদন করবে, অবশ্যই আমরা তাকে আনন্দময় জীবন দান করব এবং অবশ্যই আমরা তাদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার প্রদান করব’ (সূরা আন-নাহল : ৯৭)। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আদম সন্তানের মধ্যে নারী ও পুরুষের মধ্যে যারা আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাত অনুযায়ী ‘আমল করবে এবং আন্তরিকভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনয়ন করবে; যে ‘আমল আল্লাহ প্রদত্ত শরী‘আত কর্তৃক অনুমোদিত আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াতে তাদের জন্য পবিত্র জীবন দান করবেন এবং আখিরাতের জীবনে উক্ত ‘আমল করার কারণে উত্তম পুরস্কারে ভূষিত করবেন।[৩]
সুধী পাঠক! উক্ত আয়াতদ্বয় থেকে প্রমাণিত হয় যে, বান্দা যদি আল্লাহ প্রদত্ত শর্ত পূরণ করে, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের বিজয় দান করবেন। যে বিজয়ের পিছনে আল্লাহ প্রদত্ত নীতিমালার নিঃশর্ত অনুসরণ সর্বদা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকে।
কুফর ও শিরকে নিমজ্জিত জাতিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে বাক্য দ্বারা আহ্বান করেছিলেন তা ইতিহাসে চির ভাস্বর। রবী‘আহ ইবনু ‘আব্বাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মেলায় সমবেত লোকদের লক্ষ্য করে বলেন, قُوْلُوْا لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ تُفْلِحُوْا ‘তোমরা ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বল, তাহলে তোমরা সফলতা অর্জন করতে পারবে’।[৪] অন্যদিকে তিনি বিদায় হজ্জের ভাষণে মানব জাতিকে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّيْ قَدْ تَرَكْتُ فِيْكُمْ مَا إِنِ اعْتَصَمْتُمْ بِهِ فَلَنْ تَضِلُّوْا أَبَدًا كِتَابَ اللهِ وَ سُنَّةَ نَبِيِّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ
‘হে মানবমণ্ডলী! আমি তোমাদের মধ্যে যা ছেড়ে যাচ্ছি তা যদি তোমরা শক্ত করে আঁকড়ে ধরে থাক, তবে কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। আর তা হলো- আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবী (ﷺ)-এর সুন্নাত’।[৫]
হুজ্জাতুল ইসলাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী (১৭০৩-১৭৬৫ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) স্বীয় বিশ্বনন্দিত গ্রন্থ ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা’য় মতবিরোধপূর্ণ অবস্থায় আল-কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার চূড়ান্ত দু’টি মূলনীতি উল্লেখ করেছেন।[৬] এমনকি তিনি অছিয়াত করে বলেন যে, ‘উম্মতকে ‘আক্বীদা ও ‘আমলে কিতাব ও সুন্নাতের সাথে যুক্ত থাকতে হবে’।[৭]
সাইয়িদ আহমাদ বেরীলভী (১২০১-১২৪৬ হি./১৭৮৬-১৮৩১ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) ইসলামী শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করতেন। তিনি কোথাও কাফেলা প্রেরণ করলে যে পত্র লিখে দিতেন- তাতে তিনি নির্দেশনা দিতেন যে, তোমরা মুসলিমদেরকে আল-কুরআন ও সুন্নাতের হুকুম-আহকাম শিক্ষা দিবে। তাদেরকে শিরক ও বিদ‘আত থেকে দূরে রাখবে। তোমাদেরকে এ কাজ অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে করতে হবে।[৮] তাঁর নিকট বাই‘আত গ্রহণ করলে তিনি তাদেরকে বলতেন, ‘ভাইয়েরা! বাই‘আত গ্রহণের উদ্দেশ্য হলো তোমরা যেসব শিরক ও বিদ‘আত করো, তাযিয়া বানাও, নিশানা স্থাপন করো, পীর ও শহীদদের কবরের পূজা করো, তাদের নামে নজর-নিয়ায মানত করো- এসব কাজ ছেড়ে দিবে। আর আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে লাভ-লোকসানের কিংবা উপকার ও ক্ষতির মালিক মনে করবে না। আল্লাহ ছাড়া কাউকে অভাব পূরণকারী বা প্রয়োজন মেটানোর মালিক মনে করবে না। তোমরা যদি এসব শিরক-বিদ‘আত করতে থাকো তবে শুধু শুধু বাই‘আত গ্রহণ করায় কোন ফায়দা হবে না’।[৯]
শাহ ইসমা‘ঈল শহীদ (১১৯৩-১২৪৬ হি./১৭৭৯-১৮৩১ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহর জন্য ‘ইবাদতের পূর্ব শর্ত হলো, ‘আক্বীদাহ ও ঈমানকে পরিশুদ্ধ করা। যে ব্যক্তি তার ‘আক্বীদায় মিথ্যা ও নোংরা বিষয় মিশ্রণ করবে, তার পক্ষ থেকে ‘ইবাদত কবুল করা হবে না এবং ‘আমলও শুদ্ধ হবে না। আর যে ব্যক্তির ‘আক্বীদা পরিশুদ্ধ হবে এবং ঈমান দৃঢ় হবে তার কম ‘আমলও বেশী হয়ে যাবে। তাই প্রত্যেক মানুষের উচিত ঈমানকে পরিশুদ্ধ করার জন্য চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালানো’।[১০]
নওয়াব ছিদ্দীক হাসান খান ভূপালী (১২৪৮-১৩০৭ হি./১৮৩২-১৮৯০ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) সর্বদা কিতাব ও সুন্নাতের মধ্যকার লুপ্ত হওয়া বিধানগুলোর পুনর্জীবন চেয়েছেন। সত্য প্রকাশে কোন সংকোচবোধ করেননি। সুন্নাতের পথ অনুসরণ করেই তিনি বেশী আনন্দিত হতেন ও তৃপ্তিবোধ করতেন।[১১] হাজী শরীয়াতউল্লাহ (১১৯৬-১২৫৬ হি./১৭৮১-১৮৪০ খ্রি.)-এর ‘ফারায়েযী আন্দোলন’ আল-কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক মূলনীতির উপর ভিত্তিশীল ছিল।[১২] মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ (১৮৬৮-১৯৬৮ খ্রি.) সুনির্দিষ্ট মূলনীতি অনুসরণ করেই সংস্কার কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন।[১৩] যা পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচিত হবে ইনশাআল্লাহ।
মূলনীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ (Features of the Principle)
ধর্মীয় সংস্কারের মূলনীতিকে আরো কার্যকরী ও বাস্তবতার নিরিখে উপস্থাপনের জন্য মূলনীতির বৈশিষ্ট্য পেশ করা যরূরী। কেননা এর পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত।
১. দৃঢ় লক্ষ্য নির্ধারণ করা (Determine the firm aim)
সংস্কারের মত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে হয়। তাই এ কাজ কিভাবে করবে, কখন করলে সুবিধা হয়, কী করা উচিত বা অনুচিত ইত্যাদি বিষয়ে একটি লক্ষ্য নির্ণয় করা যরূরী হয়ে পড়ে। মূলনীতি এ সকল বিষয়ের উপর দিক-নির্দেশনা দিয়ে থাকে। আর বিজয় তো আল্লাহ তা‘আলা দৃঢ়চিত্ত মুমিনদের জন্যই নির্ধারণ করে রেখেছেন। যারা আল্লাহকে সাহায্য করার ব্যাপারে দৃঢ় লক্ষ্য নির্ধারণ করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْۤا اِنْ تَنْصُرُوا اللّٰهَ يَنْصُرْكُمْ وَ يُثَبِّتْ اَقْدَامَكُمْ
‘হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, তবে তিনি তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের (অবস্থান) সুদৃঢ় করবেন’ (সূরা মুহাম্মাদ : ৭)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ‘আব্দুর রহমান ইবনু নাছির আস-সা‘দী (১৩০৭-১৩৭৬ হি./১৮৮৯-১৯৫৬ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ আদেশ ঐ সকল মুমিনদের জন্য, যারা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠার কাজে, তাঁর পথে দাওয়াতী কাজে, শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদের কাজে সাহায্য করে। তারা যদি এরূপ কাজ করে, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সাহায্য করবেন, তাদের পদযুগলকে দৃঢ় রাখবেন অর্থাৎ ধৈর্য, প্রশান্তি, দৃঢ়তা, শারীরিক ধৈর্যশীলতা এবং শত্রুদের উপর তাদের সাহায্যের মাধ্যমে তাদের অন্তরকে শক্তিশালী করবেন’।[১৪]
২. সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা (Make the right decision)
যে কোন বিষয়ে লক্ষ্য স্থির করতে হলে তার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। ধর্মীয় সংস্কারের মূলনীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ একান্ত প্রয়োজন। কারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ হলো অনেকগুলো বিকল্পের মধ্য থেকে একটি সঠিক ও বাস্তবসম্মত বিষয় নির্ধারণ করা। সংস্কার কাজে সব সময় এ বিষয়ের উপর জোর দেয়া যরূরী। এজন্য মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল (ﷺ)-কে লক্ষ্য করে বলেন, فَاِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللّٰهِ١ؕ اِنَّ اللّٰهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِيْنَ ‘যখন কোন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেন, তখন আল্লাহ তা‘আলার উপর ভরসা করুন; আল্লাহ ভরসাকারীদের ভালোবাসেন’ (সূরা আলি ‘ইমরান : ১৫৯)।
৩. বাস্তবায়ন (Implementation)
যে কোন নীতি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে লক্ষ্য নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল- উক্ত নীতির যথাযথ বাস্তবায়ন। সুতরাং সংস্কারের মূলনীতি বাস্তবায়ন করা মূলনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَ لَيَنْصُرَنَّ اللّٰهُ مَنْ يَّنْصُرُهٗ١ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَقَوِيٌّ عَزِيْزٌ۰۰۴۰ اَلَّذِيْنَ اِنْ مَّكَّنّٰهُمْ فِي الْاَرْضِ اَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتَوُا الزَّكٰوةَ وَ اَمَرُوْا بِالْمَعْرُوْفِ وَ نَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ١ؕ وَ لِلّٰهِ عَاقِبَةُ الْاُمُوْرِ
‘আল্লাহ নিশ্চয় তাকে সাহায্য করেন যে তাঁকে সাহায্য করে; আল্লাহ নিশ্চয় শক্তিমান, পরাক্রমশালী। আমি তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দান করলে তারা ছালাত কায়িম করবে, যাকাত দিবে এবং সৎকাজের আদেশ করবে ও অসৎকার্য হতে নিষেধ করবে; সকল কর্মের পরিণাম আল্লাহর ইখতিয়ারে’ (সূরাহ আল-হাজ্জ : ৪০-৪১)। তবে বাস্তবায়নে ত্রুটি দেখা দিলে ঐ নীতি বাস্তবতা বিবর্জিত বলে গণ্য হবে এবং তাকে মূলনীতি হিসাবে গণ্য করা যাবে না।
৪. ইতিবাচক ও নেতিবাচক (Positive and negative)
ইসলামী সংস্কারের মূলনীতি ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয়ই হতে পারে। কারণ লক্ষ্য নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যদি আল-কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক না হয়ে মস্তিষ্ক প্রসূত ও বিভিন্ন দার্শনিক মতাদর্শের আলোকে হয়, তখন তার প্রভাব স্থায়ী ফল বয়ে আনে না। পক্ষান্তরে নীতিমালা যদি আল-কুরআন, সুন্নাহ ও সালফে সালিহীনের নীতির অনুকূলে হয়, তাহলে তার প্রভাব হয় কল্যাণকামী ও ইতিবাচক। আবার খুলূছিয়্যাতের ত্রুটির কারণে অনেক দাঈ কাক্সিক্ষত ফলাফল না পেয়ে হতাশা, নৈরাশ্যে পতিত হয়। এমতাবস্থায় সে কখনও নিজেকে দোষারোপ করে, কখনো তার জাতিকে আবার কখনো তাদের গৃহীত নীতিমালা, তার অনুসারী ও সহযোগিদের দোষারোপ করে। এভাবে ঐ প্রচারক তার কার্যক্রম সম্পর্কে হতাশা ও নৈরাশ্যে নিপতিত হয়। ফলে সে সংস্কার কার্যক্রমে থেকে হাত গুটিয়ে বসে থাকে এবং যাবতীয় দা‘ওয়াতী কাজকে এড়িয়ে চলতে থাকে।[১৫] এভাবে নীতিমালার যেমন নেতিবাচক দিক রয়েছে আবার ইতিবাচক দিকও রয়েছে। যেমন, যুগের পরম্পরায় এমন অনেক দাঈ ছিলেন, যারা তাদের জীবদ্দশায় কঠোর ত্যাগ স্বীকার ও পরিশ্রম করেও কাক্সিক্ষত প্রত্যাশা অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু জীবিত থাকাবস্থায় যতটুকু বিজয় অর্জিত হয়েছিল তাদের মৃত্যুর পর তার চেয়ে অনেক বড় বিজয় অর্জিত হয়। কেননা জয় মানে কোন ব্যক্তির জয় নয় বরং মূলনীতি ও কর্মসূচীর জয়।[১৬] প্রত্যেক দাঈ ও সংস্কারককে এ বিষয়ে সূক্ষ্ম দৃষ্টি রাখা যরূরী।
৫. তথ্য (Information)
মূলনীতি বাস্তবায়নের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো নির্ভুল তথ্য। মূলত একটি প্রকৃত ঘটনাকেই কেন্দ্র করে নীতি প্রণীত হয়। কারণ নীতি নির্ধারণে কতগুলো তথ্যের প্রয়োজন পড়ে। সে জন্য প্রকৃত ঘটনা নয় বরং প্রকৃত তথ্যের উপর ভিত্তি করেই নীতি প্রণয়ন করা হয়। যা নীতির কার্যকারিতাকে নির্ভরযোগ্যতা প্রদান করে। সুতরাং যে কাজ সংশোধনের জন্য মূলনীতি প্রণয়ন করা হবে, সে ব্যাপারে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করা অপরিহার্য। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন,
يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْۤا اِنْ جَآءَكُمْ فَاسِقٌۢ بِنَبَاٍ فَتَبَيَّنُوْۤا اَنْ تُصِيْبُوْا قَوْمًۢا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوْا عَلٰى مَا فَعَلْتُمْ نٰدِمِيْنَ
‘হে মুমিনগণ! যদি কোন ফাসিক ব্যক্তি তোমাদের নিকট কোন বার্তা আনয়ন করে, তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়কে কষ্ট না পৌঁছাও, যাতে পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হয়ে যাও’ (সূরা আল-হুজুরাত : ৬)।
৬. নমনীয়তা (Flexibility)
নীতি প্রণয়নকারী ও বাস্তবায়নকারী উভয়কেই নমনীয়তার অধিকারী হওয়া বাঞ্ছনীয়। কেননা বিভিন্ন সময় ও ঘটনার প্রেক্ষিতে নীতিমালার পরিবর্তন প্রয়োজন পড়ে। যদিও ইসলামের মৌলিক নীতিমালা যেমন ‘আক্বীদা, তাওহীদ, ঈমান ইত্যাদি পরিবর্তনযোগ্য নয়। এছাড়া নীতিমালার স্থায়ীত্বের কথা বিবেচনা করে নীতি নির্ধারণ করা উচিত। নীতির স্থায়িত্বের খুবই প্রয়োজন। দ্রুত পরিবর্তনশীল নীতি যে কোন কাজের স্থায়িত্বের পক্ষে অন্তরায়। আর যে আন্দোলনের মূলনীতি স্থায়ী নয়, তা সমাজ থেকে খুব দ্রুত হারিয়ে যায়। অন্যদিকে নীতি বাস্তবায়নকারীকেও নমনীয়তা ও কোমলতার অধিকারী হতে হবে। আচরণ রূঢ় ও কঠোর এবং কর্কশভাষী হলে সমাজে নীতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে লক্ষ্য করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللّٰهِ لِنْتَ لَهُمْ١ۚ وَ لَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيْظَ الْقَلْبِ لَا نْفَضُّوْا مِنْ حَوْلِكَ١۪ فَاعْفُ عَنْهُمْ ‘অতএব আল্লাহর অনুগ্রহ এই যে, আপনি তাদের প্রতি কোমল চিত্ত হয়েছিলেন, আপনি যদি কর্কশ ভাষী ও কঠোর হৃদয় হতেন, তবে নিশ্চয় তারা আপনার সংসর্গ হতে সরে যেত’ (সূরাহ আলি ‘ইমরান : ১৫৯)।
৭. সফলতা (Success)
লক্ষ্যহীন নীতি কখনো সাফল্যের দিকে অগ্রসর হতে পারে না। যে নীতি সফলতা অর্জন করতে পারে না মূলত সে ধরনের নীতির কোন প্রয়োজন নেই। যে কোন কাজে সফলতার লক্ষ্য স্থির করে অগ্রসর হলে নীতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য সকল বাধা-বিপত্তি, জেল, হত্যা, উদ্বাস্ত হওয়া, বিভিন্ন যুলুম-নির্যাতন ইত্যাদি অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করতে হয়। আল্লাহদ্রোহী সকল শক্তির চোখ রাঙ্গানীকে হজম করতে হয়। এমনকি তাকে দেশান্তরিত হতে হয়। অতঃপর মূলনীতির উপর অবিচল থাকার মাধ্যমে সফলতার স্বর্ণ শিখরে আরোহণ করা যায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
اِنْ تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ١ٞ وَ اِنْ تُصِبْكُمْ سَيِّئَةٌ يَّفْرَحُوْا بِهَا١ؕ وَ اِنْ تَصْبِرُوْا وَ تَتَّقُوْا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْـًٔا١ؕ اِنَّ اللّٰهَ بِمَا يَعْمَلُوْنَ مُحِيْطٌؒ
‘যদি তোমাদেরকে কল্যাণ স্পর্শ করে তবে তারা অসন্তুষ্ট হয়; আর যদি তোমাদের অমঙ্গল উপস্থিত হয, তারা আনন্দিত হয়ে থাকে এবং তাতে যদি তোমরা ধৈর্যধারণ কর ও সংযমী হও, তবে তাদের চক্রান্ত তোমাদের কোনই ক্ষতি করতে পারবে না; তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ তার পরিবেষ্টনকারী’ (সূরা আলি ‘ইমরান : ১২০)। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَ لَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا
الْمُرْسَلِيْنَۚۖ۰۰۱۷۱ اِنَّهُمْ
لَهُمُ الْمَنْصُوْرُوْنَ۪۰۰۱۷۲ وَ اِنَّ جُنْدَنَا لَهُمُ الْغٰلِبُوْنَ.
‘আমার প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে আমার এ বাক্য পূর্বেই স্থির হয়েছে যে, অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে এবং নিশ্চয় আমার বাহিনী হবে বিজয়ী’ (সূরা আছ-ছাফ্ফাত : ১৭১-১৭৩)। নিম্নের হাদীছটি আরো স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।
عَنْ صُهَيْبٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ كُلِّهِ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَلِكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ
‘সুহাইব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘ঈমানদারের ব্যাপারটাই অদ্ভূত। বস্তুত তার প্রতিটি কাজই মঙ্গলময়। আর এটা একমাত্র মুমিনদেরই বৈশিষ্ট্য। তার স্বচ্ছতা অর্জিত হলে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, এটা তার জন্য কল্যাণকর। তার উপর কোন বিপদ আসলে সে ধৈর্যধারণ করে, এটাও তার জন্য কল্যাণকর’।[১৭]
উপর্যুক্ত আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, ধর্মীয় সংস্কার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য মূলনীতির গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবহিত হওয়া অত্যন্ত যরূরী। কার্যক্রম যতই যৌক্তিক ও গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, মূলনীতি যদি যুক্তিগ্রাহ্য, পরিপূর্ণ, সারগর্ভ, প্রাঞ্জল ও বোধগম্য না হয়, তাহলে সেই আন্দোলনের দ্বারা কোন সফলতা লাভ করা সম্ভব নয়। ধর্মীয় সংস্কারের মূলনীতির গুরুত্ব এখানেই স্পষ্টরূপে উদ্ভাসিত হয়েছে।
অতএব ধর্মীয় সংস্কার কার্যক্রম সুষ্ঠু ও স্থায়ীভাবে পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজন মজবুত ও দৃঢ় মূলনীতি। এ জন্য অধঃপতিত সমাজ ব্যবস্থা, উদ্ভূত ভ্রান্ত ফিরকাসমূহ, শিরক-বিদ‘আত ও ভ্রান্তমতের প্রভাব সহ ইসলাম পরিপন্থী বিধানাবলী থেকে ইসলামকে সংরক্ষণের জন্য এদেশে আলিমগণ প্রাণান্তকর সংগ্রাম করেছেন। তাদের মূলনীতি ছিল অভ্রান্ত সত্যের চূড়ান্ত উৎস ও একমাত্র মানদণ্ড আল-কুরআন ও আস-সুন্নাহ। যার পতাকাতলে সমবেত হয়ে তাক্বওয়া-সম্পন্ন আলিমগণ নির্ভিকচিত্তে বন্ধুর ও কণ্টকাকীর্ণ এ ধর্মীয় সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
যদিও একাজে তারা অসংখ্য ষড়যন্ত্র-সংঘাত, বিপদ-আপদ, জেল-যুলুম, নির্বাসন, নির্যাতন ও বহিষ্কার ইত্যাদির সম্মুখীন হয়েছেন কিন্তু তারা তা অত্যন্ত সাহসিকতা ও দৃঢ় ধৈর্যশীলতার সাথে মোকাবেলা করেছেন।[১৮] দুঃখজনক বিষয় হলো, সম্মুখে আগুয়ান এ অদম্য কাফেলা এক সময় হতাশা ও বেদনায় পর্যবসিত হয়; চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় তাদের দীর্ঘদিনের সার্বিক সংস্কারের কাক্সিক্ষত বাসনা। যার মৌলিক কারণ হলো, ধর্মীয় সংস্কার কার্যক্রমের মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হওয়া ও পূর্ণাঙ্গরূপে অনুসরণ না করা।
অতএব বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কারের পথ সুগম করতে হলে আলিমগণের গৃহীত ও যুক্তিগ্রাহ্য মূলনীতিসমূহের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করেই করতে হবে। চির কাঙ্ক্ষিত এ সংস্কার কার্যক্রমকে ঈপ্সিত লক্ষ্যে পরিচালনা করতে এবং তাকে বিজয়ী ও তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী করতে মূলনীতির যথাযথ অনুসরণ ব্যতীত বিকল্প কোন পথ নেই। মূলত একটি বাস্তবভিত্তিক সুদৃঢ় মূলনীতি অনুসরণ করেই ধর্মীয় সংস্কার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে। তাই এ অধ্যায়ে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কারে ‘আলিমগণের গৃহীত ১২টি মূলনীতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
তথ্যসূত্র :
[১]. ইবরাহীম মুসতফা ও অন্যান্য, আল-মু‘জামুল ওয়াসীত, ১ম খণ্ড (প্রকাশনা স্থান বিহীন : দারুদ দা‘ওয়াহ, তা.বি.), পৃ. ৪২।
[২]. ‘আব্দুর রহমান ইবনু নাসির ইবনু ‘আব্দিল্লাহ আস-সা‘দী, তাইসীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরী কালামিল মান্নান (বৈরূত : মুওয়াস্সাসাতুর রিসালাহ, ১ম সংস্করণ ১৪২০ হি./২০০০ খ্রি.), পৃ. ২৯৮।
[৩]. তাইসীরুল কারীমির রহমান ফীস তাফসীরি কালামিল মান্নান, পৃ. ৬০১।
[৪]. মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক ইবন খুযাইমাহ আবূ বাকর আস-সুলামী আন-নাইসাপুরী (তাহকীক : ড. মুহাম্মাদ মুসতফা আল-আ‘যামী), আছ-ছহীহ, ১ম খণ্ড (বৈরূত : আল-মাকতাবুল ইসলামী, ১৩৯০ হি./১৯৭০ খ্রি.), পৃ. ৮২, হাদীছ নং-১৫৯।
[৫]. মুহাম্মাদ ইবনু ‘আব্দিল্লাহ আবূ ‘আব্দিল্লাহ আল-হাকিম আন-নাইসাপুরী, আল-মুসতাদরাকু ‘আলাছ ছহীহাইন, ১ম খণ্ড (বৈরূত : দারুল কুতুবিল ‘ইলমিয়্যাহ, ১ম সংস্করণ ১৪১১ হি./১৯৯০ খ্রি.) পৃ. ১৭১, হাদীছ নং-৩১৮।
[৬]. শাহ ওয়ালিউল্লাহ ইবন ‘আব্দির রহীম আদ-দেহলভী, হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ, (তাহকীক : সাইয়িদ সাবিক) (কায়রো : দারুল কুতুবিল হাদীছাহ, ত.বি.), পৃ. ৩১৪।
[৭]. শাহ ওয়ালিউল্লাহ ইবন ‘আব্দির রহীম আদ-দেহলভী, অসিয়াতনামা (কানপুর ছাপা, ১২৭৩ হি./১৮৫৭ খ্রি.), ১ম অসিয়াত, পৃ. ১।
[৮]. সাইয়িদ আবুল হাসান আলী নদভী, সীরাতে সাইয়িদ আহমদ শহীদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি, ১ম খণ্ড (ঢাকা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, আগস্ট ২০০৩ খ্রি.), পৃ. ২৭৪।
[৯]. সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী, সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস (আবু সাঈদ মুহাম্মাদ ওমর আলী রহ. অনূদিত), ৬ষ্ঠ খণ্ড (ঢাকা : মাকতাবাতুল হেরা, ২য় সংস্করণ, সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রি.), পৃ. ২৭৪।
[১০]. শাহ ইসমা‘ঈল ইবন ‘আব্দিল গনী আদ-দেহলভী, রিসালাতুত তাওহীদ (সউদী আরব : ওয়াযারাতুশ শুয়ূনিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল আওকাফ ওয়াদ দা‘ওয়াতু ওয়াল ইরশাদ, ১৪১৭ হি.), পৃ. ১১।
[১১]. ছিদ্দীক হাসান খান, ইবকাউল মিনান বি ইলকাইল মিহান (লাক্ষ্মৌ : ইসলামিক একাডেমী, ২য় প্রকাশ, ১৪২৫ হি./২০০৪ খ্রি.), পৃ. ১০১।
[১২]. Wahiduzzaman And others, Islam in South Asia (Islamabad, 1993), P. 339.
[১৩]. মোহাম্মদ আকরম খাঁ, মোছলেম বঙ্গের সামাজিক ইতিহাস (ঢাকা : আজাদ অফিস, ঢাকেশ্বর রোড, ১ম সংস্করণ, নভেম্বর ১৯৬৫ খ্রি.), পৃ. ১৮১।
[১৪]. তাইসীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, পৃ. ৭৮৫।
[১৫]. ড. নাসির ইবন সুলাইমান আল-‘উমার, হাকীকাতুল ইনতিসার (প্রকাশস্থান, প্রকাশক, সংস্করণ ও তারিখ বিহীন), পৃ. ৫।
[১৬] ড. নাসির ইবন সুলাইমান আল-‘উমার, ইসলামী আন্দোলনের বিজয়ের স্বরূপ, অনুবাদ : মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক (রাজশাহী : হাদীছ ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ, ১ম প্রকাশ, ২০১০ খ্রি.), পৃ. ৬৯।
[১৭]. আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনল হাজ্জাজ আল-কুশাইরী আন-নাইসাপুরী, আস-সহীহ (কায়রো : দারুল হাদীছ, ১৪৩১ হি./২০১০ খ্রি.), পৃ. ৯৪১, হাদীছ নং-২৯৯৯ ‘যুহদ ও রিকাক’ অধ্যায়-৫৩, ‘মুমিনের সকল বিষয়ই কল্যাণকর’ অনুচ্ছেদ-১৩; মুহাম্মাদ ইবন ‘আব্দিল্লাহ আল-খাতীব আত-তিবরীজী, মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩য় খণ্ড (বৈরূত : আল-মাকতাবুল ইসলামী, ৩য় সংস্করণ, ১৪০৫ হি./১৯৮৫ খ্রি.), পৃ. ১৪৮, হাদীছ নং-৫২৯৭।
[১৮]. ‘আব্দুর রহমান কীলানী, সারগুযাস্তে নূরিস্তান (লাহোর : সেভেন ব্রাদার্স প্রেস, ১৯৮৬ খ্রি.), পৃ. ২৮৪-২৮৫।