মঙ্গলবার, ১৪ Jul ২০২৬, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন

হজ্জ ও ওমরাহর ইবাদতসমূহ : গুরুত্ব ও ফযীলত 

- ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম* 


(শেষ কিস্তি) 

মিনায় অবস্থান

হাজীগণ ৮ই যিলহজ্জ মিনার উদ্দেশ্যে রওনা করবেন। মিনায় পৌঁছে যোহর, আছর, মাগরিব, এশা ও ফজর ছালাত স্ব স্ব ওয়াক্তে আদায় করবে এবং যোহর, আছর ও ইশার ছালাত দুই দুই রাক‘আত করে পড়ে ক্বছর করবে।[১] জমা করবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিনায় ছালাত জমা করছেন মর্মে দলীল পাওয়া যায় না।[২] ছালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট সুন্নাতগুলো আদায় করবে না।[৩] তবে বিতর, তাহাজ্জুদ ও ফজরের সুন্নাত আদায় করবে।[৪]     

‘আরাফায় অবস্থান

হাজীগণ ৯ তারিখে সূর্য উঠার পর মিনা থেকে আরাফার উদ্দেশ্যে বের হবে।[৫] আরাফার দিকে যাওয়ার সময় তালবিয়া পড়বে এবং ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে বলতে যাবে।[৬] সূর্য ঢলে যাওয়ার পর থেকে সূর্য ডুবে যাওয়া পর্যন্ত আরাফায় অবস্থানের মূল সময়।[৭] এখানে যোহরের সময়ে এক আযানে দুই ইক্বামতে যোহর ও আছর ছালাত জমা করবে ও ক্বছর করবে। অর্থাৎ আযানের পর ইক্বামত দিয়ে যোহর দুই রাক‘আত পড়ে সালাম ফিরাবে। অতঃপর ইক্বামত দিয়ে আছর দুই রাক‘আত পড়বে।[৮] আরাফায় অবস্থান কালীন আর কোন ছালাত নেই। শুধু যিকির আযাকার, তাসবীহ, তাহলীল করবে এবং হাত তুলে আল্লাহ্র কাছে কাকুতি-মিনতি করে দীর্ঘক্ষণ দু‘আ করবে।[৯] ক্ষমা প্রার্থনা করবে, জান্নাত চাইবে এবং জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ চাইবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, خَيْرُ الدُّعَاءِ دُعَاءُ يَوْمِ عَرَفَةَ  ‘উত্তম দু‘আ হল আরাফার দিনের দু‘আ’।[১০] বিশেষ করে বেশী বেশী নিম্নের দু‘আ পাঠ করবে- لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ  ‘আল্লাহ ছাড়া কোন হক্ব মা‘বূদ নেই। তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শরীক নেই। যাবতীয় সাম্রাজ্য তাঁরই এবং তাঁর জন্যই যাবতীয় প্রশংসা। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান’।[১১] মহান আল্লাহ বলেন,

لَیۡسَ عَلَیۡکُمۡ جُنَاحٌ اَنۡ تَبۡتَغُوۡا فَضۡلًا مِّنۡ رَّبِّکُمۡ ؕ فَاِذَاۤ اَفَضۡتُمۡ مِّنۡ عَرَفٰتٍ فَاذۡکُرُوا اللّٰہَ عِنۡدَ الۡمَشۡعَرِ الۡحَرَامِ وَ اذۡکُرُوۡہُ  کَمَا ہَدٰىکُمۡ وَ اِنۡ  کُنۡتُمۡ مِّنۡ قَبۡلِہٖ  لَمِنَ الضَّآلِّیۡنَ- ثُمَّ  اَفِیۡضُوۡا مِنۡ حَیۡثُ اَفَاضَ النَّاسُ وَ اسۡتَغۡفِرُوا اللّٰہَ  اِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ

‘তোমাদের উপর কোন পাপ নেই যে, তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ অনুসন্ধান করবে। সুতরাং যখন তোমরা ‘আরাফা থেকে বের হয়ে আসবে, তখন মাশ‘আরে হারামের নিকট আল্লাহকে স্মরণ কর এবং তাকে স্মরণ কর যেভাবে তিনি তোমাদেরকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যদিও তোমরা এর পূর্বে অবশ্যই পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে। অতঃপর তোমরা প্রত্যাবর্তন কর, যেখান থেকে মানুষেরা প্রত্যাবর্তন করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৯৮-১৯৯)। জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

وَمَا مِنْ يوْمٍ أَفْضَلُ عِنْدَ اللهِ مِنْ يوْمِ عَرَفَةَ يَنْزِلُ اللهُ ﷺ  إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيُبَاهِيْ بِأَهْلِ الْأَرْضِ أَهْلَ السَّمَاءِ فَيَقُوْلُ انْظُرُوْا إِلَى عِبَادِيْ جَاءُوْنِيْ شُعْثًا غُبْرًا ضَاحِيْنَ جَاءُوْا مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيْقٍ يَرْجُوْنَ رَحْمَتِيْ وَلَمْ يَرَوْا عَذَابِيْ فَلَمْ يُرَ يَوْمٌ أَكْثَرُ عِتْقًا مِنَ النَّارِ مِنْ يوْمِ عَرَفَةَ

‘আল্লাহর নিকটে ‘আরাফাহর দিনের চেয়ে উত্তম কোন দিন নেই, এই দিনে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং হাজীদের নিয়ে দুনিয়াবাসী ও ফেরেশতাদের নিকট গর্ব করেন এবং বলেন, ‘দেখ আমার বান্দাদের দিকে, তারা আমার নিকট এসেছে এলোমেলো কেশে, ধুলা-বালি গায়ে, ফরিয়াদ করতে করতে বহু দূর-দূরান্ত হতে। তারা আমার রহমতের আশা করে, আমার শাস্তিকে তারা দেখতে চায় না। ‘আরাফাহর দিন অপেক্ষা এমন কোন দিন নেই, যাতে জাহান্নাম হতে এতো অধিক সংখ্যাক মানুষকে মুক্তি দেয়া হয়’।[১২]

عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ مِنْ أَنْ يُعْتِقَ اللهُ فِيْهِ عَبْدًا مِنَ النَّارِ مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ وَإِنَّهُ لَيَدْنُوْ ثُمَّ يُبَاهِيْ بِهِمُ الْمَلَائِكَةَ فَيَقُوْلُ مَا أَرَادَ هَؤُلَاءِ؟

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আরাফাহ দিবসের তুলনায় এমন কোন দিন নেই, যেদিন আল্লাহ তা‘আলা সর্বাধিক সংখ্যক লোককে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দান করেন। আল্লাহ তা‘আলা নিকটবর্তী হন, অতঃপর বান্দাদের সম্পর্কে ফেরেশতাদের সামনে গৌরব প্রকাশ করেন এবং বলেন, তারা কী চায়?[১৩]

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ النَّبِىَّ ৎ كَانَ يَقُوْلُ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يُبَاهِىْ مَلاَئِكَتَهُ عَشِيَّةَ عَرَفَةَ بِأَهْلِ عَرَفَةَ فَيَقُوْلُ انْظُرُوْا إِلَى عِبَادِىْ أَتَوْنِىْ شُعْثاً غُبْراً

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আছ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলতেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা আরাফার দিন বিকালে আরাফায় অবস্থানকারী ব্যক্তিদের নিয়ে ফেরেশতাদের নিকট গর্ববোধ করেন। অতঃপর বলেন, তোমরা আমার বান্দাদের দিকে লক্ষ্য কর, তারা আমার কাছে এসেছে মাথায় এলোমেলো চুল নিয়ে ধূলায় মলিন হয়ে।[১৪]

অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি নিম্ন আকাশে নেমে আসেন ও ফেরেশতাদের বলেন,اِشْهَدُوْا أَنِّيْ قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ ذُنُوْبَهُمْ وَإِنْ كَانَ عَدَدَ قَطْرِ السَّمَاءِ وَرَمْلِ عَاِلجٍ ‘হে আমার ফেরেশতারা! তোমরা সাক্ষী থাক, আমি তাদের যাবতীয় পাপ ক্ষমা করে দিলাম, যদি তা আকাশের বৃষ্টির ফোটা সমতুল্য এবং তরঙ্গের বালিকোণার মতও হয়’।[১৫]

মুযদালিফায় অবস্থান

মহান আল্লাহ বলেন, فَاِذَاۤ اَفَضۡتُمۡ مِّنۡ عَرَفٰتٍ فَاذۡکُرُوا اللّٰہَ عِنۡدَ الۡمَشۡعَرِ الۡحَرَامِ وَ اذۡکُرُوۡہُ  کَمَا ہَدٰىکُمۡ وَ اِنۡ  کُنۡتُمۡ مِّنۡ قَبۡلِہٖ  لَمِنَ الضَّآلِّیۡنَ ‘সুতরাং যখন তোমরা ‘আরাফা থেকে বের হয়ে আসবে, তখন মাশ‘আরে হারামের নিকট আল্লাহকে স্মরণ কর এবং তাকে স্মরণ কর যেভাবে তিনি তোমাদেরকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যদিও তোমরা এর পূর্বে অবশ্যই পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৯৮)। এখানে ‘মাশ‘আরে হারাম’ বলতে মুযদালিফাকে বুঝানো হয়েছে।

হাজীগণ সূর্য ডুবে যাওয়ার পর আরাফার মাঠ ত্যাগ করে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা করবে। আরাফা ত্যাগ করতে অনেক রাত হয়ে গেলেও মাগরিব ও ইশা আরাফার ময়দানে আদায় করবে না। রাত যতই হোক মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও ইশার ছালাত জমা ও ক্বছর করবে।[১৬] অর্থাৎ তিন রাক‘আত মাগরিব এবং দুই রাক‘আত ইশা পড়বে। আর কোন ছালাত আদায় করবে না।[১৭] অতঃপর ঘুমিয়ে পড়বে। ঘুম থেকে উঠে ফজরের ছালাত আদায় করবে। অতঃপর সকাল পরিষ্কার হওয়া পর্যন্ত ক্বিবলার দিকে মুখ করে দু‘আ করবে বা তাসবীহ-তাহলীল ও যিকির-আযকারে মশগুল থাকবে।[১৮] অতঃপর সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বেই মুজদালিফা ত্যাগ করবে।[১৯]

জামরাতুল আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ

মুযদালিফা থেকে ফিরে ১০ তারিখে কুরবানীর দিন সূর্য উঠার পর শুধু বড় জামারাতে ৭টি কঙ্কর নিক্ষেপ করবে।[২০] প্রত্যেক বারই ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে।[২১] এই কঙ্কর মুযদালিফা থেকে ফিরার পথে যেকোন জায়গা থেকে সংগ্রহ করতে পারে।[২২] অসুস্থতা ও অক্ষমতার কারণে যেতে না পারলে অন্যের মাধ্যমেও পাথর মারার কাজ শেষ করা যাবে। অসুস্থ পুরুষ বা মহিলা, নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা সূর্য উদয়ের পূর্বেই কঙ্কর নিক্ষেপ করে মক্কায় রাত্রি যাপন করতে পারে।[২৩] উল্লেখ্য, ১০ তারিখে জামরাতুল আক্বাবায় বা শেষ জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপের পর তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করবে।[২৪] হাদীছে এসেছে,

ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, وَإِذَا رَمَى الْجِمَارَ لَا يَدْرِيْ أَحَدٌ مَا لَهُ حَتَّى يُوَفَّاهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‘যখন কেউ কংকর নিক্ষেপ করে, তখন তার প্রতিদান সম্পর্কে কেউ বলতে পারে না, ক্বিয়ামত দিবসে তা পূর্ণরূপে দেয়া হবে’।[২৫] মুসনাদে বাযযারের বর্ণনায় এসেছে, وَأَمَّا رَمْيُكَ الْجِمَارَ فَلَكَ بِكُلِّ حَصَاةٍ رَمَيْتَهَا كَبِيْرَةٌ مِنَ الْمُوْبِقَاتِ ‘অতঃপর তোমার কঙ্কর নিক্ষেপে; তোমার নিক্ষিপ্ত প্রতিটি কঙ্করের বিনিময়ে একটি করে ধ্বংসকারী কাবীরা গুনাহের কাফফারা হবে’।[২৬]

ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) মারফূ‘ সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, ইবরাহীম খলীলুল্লাহ যখন কুরবানী করতে এসেছিলেন, তখন শয়তান জামরা ‘আক্বাবার নিকট তাঁকে বাধা দিয়েছিল, সে সময় তিনি তাকে সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করেছিলেন। ফলে সে মাটিতে দেবে গিয়েছিল। পুনরায় দ্বিতীয় জামরার কাছে তাঁকে বাধা দিয়েছিল, তিনি আবার তাকে সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করেছিলেন। ফলে সে মাটিতে দেবে গিয়েছিল। আবার তৃতীয় জামরার কাছে শয়তান তাঁকে বাধা দিয়েছিল, তিনি আবার তাকে সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করেছিলেন। ফলে সে মাটিতে দেবে গিয়েছিল’। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন,  الشَّيْطَانَ تَرْجُمُوْنَ وَمِلَّةَ أَبِيْكُمْ إِبْرَاهِيْمَ تَتَّبِعُوْنَ ‘তোমরা শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপ করে থাক এবং তোমাদের পিতা ইবরাহীমের ধর্মের অনুসরণ করে থাক’।[২৭]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ  إِذَا رَمَيْتَ الْجِمَارَ كَانَ لَكَ نُوْرًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ

ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তুমি যখন জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ কর তবে, ক্বিয়ামত দিবসে তা তোমার জন্য নূর হবে।[২৮] অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে,

عَنِ الْهَيْثَمِ بْنِ حَنَشٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ حِيْنَ رَمَى الْجِمَارَ يَقُوْلُ اللهم اجْعَلْهُ حَجًّا مَبْرُوْرًا وَذَنْبًا مَغْفُوْرًا

হায়ছাম ইবনু হানাশ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপের সময় বলতে শুনেছি, ‘হে আল্লাহ! আপনি একে কবুল হজ্জ ও গুনাহ মাফের কারণ হিসাবে গ্রহণ করুন’।[২৯]

কুরবানী ও মাথা মুণ্ডন করা

১০ তারিখ কঙ্কর নিক্ষেপের পর কুরবানী করে মাথা মুণ্ডন করবে। কুরবানী করার আগেও মাথা মুণ্ডন করা যায়।[৩০] পুরুষেরা মাথা মুণ্ডন করবে। এটাই উত্তম। তবে মাথার চুল ছাটতেও পারে।[৩১] মহিলারা চুলের আগা থেকে একটু ছেটে ফেলবে।[৩২] মহান আল্লাহ বলেন,

لَقَدۡ صَدَقَ اللّٰہُ  رَسُوۡلَہُ  الرُّءۡیَا بِالۡحَقِّ  لَتَدۡخُلُنَّ  الۡمَسۡجِدَ الۡحَرَامَ اِنۡ شَآءَ اللّٰہُ  اٰمِنِیۡنَ مُحَلِّقِیۡنَ  رُءُوۡسَکُمۡ وَ مُقَصِّرِیۡنَ لَا  تَخَافُوۡنَ فَعَلِمَ  مَا لَمۡ تَعۡلَمُوۡا فَجَعَلَ مِنۡ  دُوۡنِ ذٰلِکَ فَتۡحًا قَرِیۡبًا

‘অবশ্যই আল্লাহ তাঁর রাসূলকে স্বপ্নটি যথাযথভাবে সত্যে পরিণত করে দিয়েছেন। তোমরা ইনশাআল্লাহ নিরাপদে, তোমাদের মাথা মুণ্ডন করে এবং চুল ছেঁটে নির্ভয়ে মসজিদুল হারামে অবশ্যই প্রবেশ করবে। অতঃপর আল্লাহ জেনেছেন যা তোমরা জানতে না। সুতরাং এ ছাড়াও তিনি দিলেন এক  নিকটবর্তী বিজয় (সূরা আল-ফাত্হ : ২৭)।

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ اَللهم اغْفِرْ لِلْمُحَلِّقِيْنَ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ! وَلِلْمُقَصِّرِيْنَ؟ قَالَ اَللهم اغْفِرْ لِلْمُحَلِّقِيْنَ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ! وَلِلْمُقَصِّرِيْنَ؟ قَالَ اَللهم اغْفِرْ لِلْمُحَلِّقِيْنَ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ! وَلِلْمُقَصِّرِيْنَ؟ قَالَ وَلِلْمُقَصِّرِيْنَ

আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ! মাথা মুণ্ডনকারীদের ক্ষমা করুন। ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ! মাথা মুণ্ডনকারীদেরকে ক্ষমা প্রদর্শন করুন। ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ! মাথা মুণ্ডনকারীদেরকে ক্ষমা প্রদর্শন করুন। ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও? তিনি বললেন, যারা চুল ছোট করেছে তাদের প্রতিও।[৩৩]

عَنْ أُمِّ الْحُصَيْنِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهَا سَمِعَتِ النَّبِيَّ ﷺ فِيْ حَجَّةِ الْوَدَاعِ دَعَا لِلْمُحَلِّقِيْنَ ثَلَاثًا وَلِلْمُقَصِّرِيْنَ مَرَّةً وَاحِدَةً

ইয়াহইয়া ইবনু হুসাইন তাঁর দাদী হতে বর্ণনা করেন, তাঁর দাদী বিদায় হজ্জে নবী করীম (ﷺ)-কে দু‘আ করতে শুনেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাথা মুণ্ডনকারীদের জন্য তিনবার, আর যারা ছেঁটেছে তাদের জন্য একবার দু‘আ করেছেন।[৩৪] পূর্বে উল্লেখিত ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত ছহীহ হাদীছে অতিবাহিত হয়ে গেছে,

وَأَمَّا حِلَاقُكَ رَأْسِكَ فَلَكَ بِكُلِّ شَعْرَةٍ حَلَقْتَهَا حَسَنَةٌ وَيُمْحَى عَنْكَ بِهَا خَطِيْئَةٌ

‘তোমার মাথা মুণ্ডনে, প্রত্যেকটি চুলের বিনিময়ে একটি নেকী দেয়া হবে এবং একটি গুনাহ মোচন করা হবে’।[৩৫]

ত্বওয়াফে ইফাযা ও সাঈ করা

কুরবানী করার পর ত্বাওয়াফে ইফাযা ও সাঈ করবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ১০ তারিখে কুরবানী করার পর ত্বাওয়াফে ইফাযা ও সাঈ করে মক্কায় যোহরের ছালাত আদায় করেছেন। অতঃপর মিনায় গিয়ে রাত্রি যাপন করেছেন।[৩৬] ত্বাওয়াফে ইফাযাকে ত্বাওয়াফে যিয়ারাও বলা হয়।

১১, ১২ ও ১৩ তারিখ মিনায় অবস্থান

১১, ১২ ও ১৩ তারিখ মিনায় রাত্রি যাপন করবে। তবে দুই রাত্রি যাপনের পরও মিনা ত্যাগ করতে পারে।[৩৭] মিনায় রাত্রি যাপন করা ওয়াজিব। যদি কেউ রাত্রিতে অবস্থান না করে, তবে তাকে ফিদইয়া দিতে হবে।[৩৮] এই তিনদিন সূর্য ঢলে যাওয়ার পর তিন জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবে। সূর্য ঢলে পড়ার পূর্বে নিক্ষেপ করা যাবে না।[৩৯] প্রথম জামারায় কঙ্কর মারার পর পার্শ্বে সরে গিয়ে ক্বিবলা মুখী হয়ে দীর্ঘ সময় যাবৎ হাত তুলে দু‘আ করবে। অনুরূপ দ্বিতীয় জামারায় পাথর মারার পর পার্শ্বে সরে গিয়ে ক্বিবলা মুখী হয়ে দীর্ঘ সময় যাবৎ হাত তুলে দু‘আ করবে। শেষ বা বড় জামারায় কঙ্কর মারার পর বের হয়ে চলে আসবে, বিলম্ব করবে না। প্রত্যেক জামারায় ৭টি করে কঙ্কর মারবে এবং প্রত্যেক বারই ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে।[৪০] রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাশরীক্বের তিন রাতই মিনায় যাপন করেন এবং ১৩ তারিখে সূর্য ঢলে যাওয়ার পর তিন জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপের পর মিনা ত্যাগ করেছেন। 

বিদায়ী ত্বাওয়াফ

হজ্জ ও ওমরার কাজ শেষ করে যখন বিদায় নিবে, তখন সর্বশেষ ত্বাওয়াফ করবে। এটা হজ্জের ওয়াজিব।[৪১]

মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদে কুবায় ছালাত আদায় করার ফযীলত

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ صَلَاةٌ فِيْ مَسْجِدِيْ هَذَا أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيْمَا سِوَاهُ إِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ

ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, আমার এ মসজিদে এক ছালাত অপর মসজিদে এক হাযার ছালাত অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ, তবে মসজিদে হারাম ব্যতীত।[৪২]

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ صَلَاةٌ فِيْ مَسْجِدِيْ هَذَا أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيْمَا سِوَاهُ مِنَ الْمَسَاجِدِ إِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ وَصَلَاةٌ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَفْضَلُ مِنْ مِائَةِ صَلَاةٍ فِيْ هَذَا

আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মসজিদুল হারাম ব্যতীত অপরাপর মসজিদের ছালাত অপেক্ষা আমার মসজিদের ছালাত হাজার গুণ শ্রেষ্ঠ। মসজিদে হারামে এক ছালাত আমার এই মসজিদে (মসজিদে নববী) ছালাত আদায় অপেক্ষা একশ গুণ শ্রেষ্ঠ।[৪৩]

عَنْ أُسَيْدِ بْنِ ظُهَيْرٍ الْأَنْصَارِيِّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ صَلَاةٌ فِيْ مَسْجِدِ قُبَاءٍ كَعُمْرَةٍ

উসাইদ ইবনু যুহাইর আল-আনছারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম (ﷺ)-এর ছাহাবী ছিলেন। তিনি (ﷺ) বলেন, কুবার মসজিদে ছালাত আদায় করলে ওমরাহ করার সমান নেকী পাওয়া যায়।[৪৪]

عَنْ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ تَطَهَّرَ فِيْ بَيْتِهِ ثُمَّ أَتَى مَسْجِدَ قُبَاءَ فَصَلَّى فِيْهِ صَلَاةً كَانَ لَهُ كَأَجْرِ عُمْرَةٍ

সাহল বিন হুনাইফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের ঘরে পবিত্রতা অর্জন করল, অতঃপর কুবা মাসজিদে এসে এক ওয়াক্ত ছালাত পড়ল, তার জন্য একটি উমরাহর সমান ছাওয়াব রয়েছে’।[৪৫] ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী করীম (ﷺ) আরোহণ করে কিংবা পায়ে হেঁটে কুবা মসজিদে আসতেন।[৪৬] অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ يَأْتِيْ مَسْجِدَ قُبَاءَ كُلَّ سَبْتٍ رَاكِبًا وَ مَاشِيًا ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রতি শনিবার কুবা মসজিদে কখনো সওয়ারীতে আবার কখনো পদব্রজে আসতেন।[৪৭]


* সহকারী সম্পাদক, মাসিক আল-ইখলাছ।

তথ্যসূত্র :
[১]. ছহীহ বুখারী, হা/১০৮২, ১০৮৩, ১০৮৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৯৪; মিশকাত, হা/১৩৪৭।
[২]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২১৮; ফাতাওয়া উছায়মীন, ২৪তম খণ্ড, পৃ. ২৯৩ ও ৪১৭।
[৩]. ছহীহ মুসলিম, হা/৬৮৯;  মিশকাত, হা/১৩৩৮, পৃঃ ১১৮।
[৪]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৩; ছহীহ বুখারী, হা/১১৫৯, ১০০০। 
[৫]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২১৮।
[৬]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২৮৪; ছহীহ বুখারী, হা/৯৭০।
[৭]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২১৮; মিশকাত, হা/২৫৫৫।
[৮]. ছহীহ বুখারী, হা/১৬৬২; ছহীহ মুসলিম, হা/১২১৮; মিশকাত, হা/২৫৫৫, ২৬১৭; মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক, হা/৪৪২০; মুওয়াত্ত্বা মালেক, হা/১৫০৮; নাসাঈ, হা/৩০১০; নাসাঈ, সুনানুল কুবরা, হা/৪০০৫; বায়হাক্বী, ছুগরা, হা/৩০৫; মানাসিকুল হাজ্জ, পৃ. ২৮।
[৯]. নাসাঈ, হা/৩০১১, সনদ ছহীহ; ছহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২৮২৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১৮৭০।
[১০]. তিরমিযী, হা/৩৫৮৫; মিশকাত, হা/২৫৯৮।   
[১১]. তিরমিযী, হা/৩৫৮৫; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৫০৩।
[১২]. মুসনাদে আবী ই‘আলা, হা/২০৯০; বাযযার, কাশফুল আসত্বার, হা/১১২৮; ছহীহ ইবনে খুযায়মাহ, হা/২৮৪০; ছহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৮৫৩।
[১৩]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৪৮।
[১৪]. মুসনাদে আহমাদ হা/৮০৩৩; সনদ ছহীহ, ছহীহ তারগীব হা/১১৩২।   
[১৫]. ছহীহ ইবনে হিব্বান, হা/১৮৮৭, সনদ হাসান; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১১৫৫।
[১৬]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২১৮; মিশকাত, হা/২৫৫৫।
[১৭]. ছহীহ বুখারী, হা/১৬৭৩; মিশকাত, হা/২৬০৭।
[১৮]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২১৮; মিশকাত, হা/২৫৫৫।
[১৯]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২১৮; মিশকাত, হা/২৫৫৫।
[২০]. ছহীহ বুখারী, হা/১৬৮৬; তিরমিযী, হা/৮৯৩ ও ৯০০; আবূ দাঊদ, হা/১৯৮১ ও ১৯৪০; মিশকাত, হা/২৬১৩।
[২১]. ছহীহ বুখারী, হা/১৭৫৩, ১৭৪১, ১৭৫২।
[২২]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২৮২; মিশকাত, হা/২৬১০।
[২৩]. ছহীহ বুখারী, হা/১৬৩৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৩১৭৭।
[২৪]. ছহীহ বুখারী, হা/১৬৮৫।
[২৫]. ছহীহ ইবনে হিব্বান, হা/১৮৮৭; সনদ হাসান, ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১১৫৫।
[২৬]. মুসনাদে বাযযার, হা/৬১৭৭; সনদ ছহীহ, ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৭।
[২৭]. মুসতাদরাক হাকেম, হা/১৭১৩; ছহীহ ইবনে খুযায়মাহ, হা/২৯৬৭; সনদ ছহীহ, ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৭।
[২৮]. বাযযার, কাশফুল আসত্বার, হা/১১৪০; সনদ হাসান, ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১১৫৭।
[২৯]. মুছান্নাফে ইবনু আবী শায়বাহ, হা/১৪০১৭; বায়হাক্বী, হা/৯৫৫০, সনদ মওকুফ ছহীহ।
[৩০]. ছহীহ বুখারী, হা/১৭৩৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩০৬; মিশকাত, হা/২৬৫৫।
[৩১]. ছহীহ বুখারী, হা/১৭২৭, ১৭২৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩০৩, ১৩০৪; মিশকাত, হা/২৬৪৮, ২৬৪৯।
[৩২]. আবূ দাঊদ, হা/১৯৮৪; মিশকাত, হা/২৬৫৪।
[৩৩]. ছহীহ বুখারী, হা/১৭২৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩০২।
[৩৪]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৩০৩; মিশকাত, হা/২৬৪৯।
[৩৫]. মুসনাদে বাযযার, হা/৬১৭৭; ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল কাবীর, হা/১৩৫৬৬; ছহীহ ইবনে হিব্বান, হা/১৮৮৭; সনদ হাসান লি গাইরিহী, ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১১১২।
[৩৬]. আবূ দাঊদ, হা/১৯৭৩; মিশকাত, হা/২৬৭৬, সনদ ছহীহ।
[৩৭]. নাসাঈ, হা/৩০৪৪; মিশকাত, হা/২৭১৪, সনদ ছহীহ।
[৩৮]. ছহীহ বুখারী, হা/১৬৩৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৩১৭৭।
[৩৯]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২৯৯; ছহীহ বুখারী, হা/১৭৪৬; মিশকাত, হা/২৬২০।
[৪০]. ছহীহ বুখারী, হা/১৭৫৩, ১৭৪১, ১৭৫২, ১/২৩৬ পৃঃ।
[৪১]. ছহীহ বুখারী, হা/১৭৩৩, ১৭৫৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩২৭, ১৩২৮; মিশকাত, হা/২৬৬৮।
[৪২]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৯৫।
[৪৩]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬১১৭; ছহীহ ইবনে হিব্বান, হা/১৬২০, সনদ ছহীহ।
[৪৪]. তিরমিযী, হা/৩২৪; ইবনু মাজাহ, হা/১৪১১; সনদ ছহীহ।
[৪৫]. ইবনু মাজাহ, হা/১৪১২; নাসাঈ, হা/৬৯৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫৯৮১, সনদ ছহীহ।
[৪৬]. ছহীহ বুখারী, হা/১১৯৪; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৯৯।
[৪৭]. ছহীহ বুখারী, হা/১১৯৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৯৯।




প্রসঙ্গসমূহ »: হজ্জ ও ওমরাহ
আত্মসাতের পরিণাম - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর
ছালাতের সঠিক সময় ও বিভ্রান্তি নিরসন (২য় কিস্তি) - মাইনুল ইসলাম মঈন
রামাযানের ইবাদতসমূহ : গুরুত্ব, উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ১১ রাক‘আতের নির্দেশ দিয়েছিলেন (শেষ কিস্তি) - ব্রাদার রাহুল হোসেন (রুহুল আমিন)
ছালাতে একাগ্রতা অর্জনের ৩৩ উপায় (৪র্থ কিস্তি) - আব্দুল হাকীম বিন আব্দুল হাফীজ
দু‘আ ও যিকর : আল্লাহর অনুগ্রহ ও প্রশান্তি লাভের মাধ্যম (৪র্থ কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
সূদ-ঘুষ ও অবৈধ ব্যবসা (৮ম কিস্তি) - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর
যাদুটোনার শারঈ সমাধান (২য় কিস্তি) - মাসঊদুর রহমান
শিক্ষাদানে নববী পদ্ধতি ও কৌশল - হাসিবুর রহমান বুখারী
যাকাত বণ্টনে সমস্যা ও সমাধান - ড. মুযাফফর বিন মুহসিন
সমকামীতার ভয়াবহতা ও তার অপকার - হাসিবুর রহমান বুখারী
মাতুরীদী মতবাদ ও তাদের ভ্রান্ত আক্বীদাসমূহ (৮ম কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ