শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

রামাযানের ইবাদতসমূহ : গুরুত্ব, উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন 

-আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম* 


ভূমিকা 

রামাযান ইসলামী বর্ষপঞ্জির সর্বশ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ মাস। এ মাসে আল্লাহ তা‘আলা মানবজাতির হেদায়াতের জন্য আল-কুরআন নাযিল করেছেন এবং ছিয়ামকে ফরয করেছেন। রামাযান এমন এক প্রশিক্ষণমাস, যেখানে একজন মুমিন আত্মসংযম, তাক্বওয়া ও আল্লাহভীতির বাস্তব অনুশীলন করে। এই মাসের প্রতিটি ইবাদত বান্দাকে গুনাহ থেকে দূরে সরিয়ে নৈকট্যের পথে অগ্রসর করে। 

রামাযান মাসের গুরুত্ব

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيْ أُنْزِلَ فِيْهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيْضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيْدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيْدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ

‘রামাযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হেদায়াতস্বরূপ ও হেদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে ছিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে সে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হেদায়াত দিয়েছেন, তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা শোকর কর’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৫)।

عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصِّيَامَ فَإِنَّهُ لِيْ وَأَنَا أَجْزِيْ بِهِ وَالصِّيَامُ جُنَّةٌ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلَا يَرْفُثْ يَوْمَئِذٍ وَلَا يَسْخَبْ فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ وَالَّذِيْ نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوْفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ رِيْحِ الْمِسْكِ وَلِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ يَفْرَحُهُمَا إِذَا أَفْطَرَ فَرِحَ بِفِطْرِهِ وَإِذَا لَقِيَ رَبَّهُ فَرِحَ بِصَوْمِهِ

আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, ‘আদম সন্তানের যাবতীয় আমল তার নিজের জন্য কিন্তু ছিয়াম বিশেষ করে আমার জন্যেই রাখা হয়। আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দিব’। আর ছিয়াম ঢাল স্বরূপ। সুতরাং যখন তোমাদের কারো ছাওমের দিন আসে সে যেন ঐ দিন অশ্লীল কথাবার্তা না বলে এবং অনর্থক শোরগোল না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সাথে বিবাদ করতে চায়, সে যেন বলে, ‘আমি একজন ছিয়াম পালনকারী। সে মহান আল্লাহর শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন! ছিয়াম পালনকারীদের মুখের গন্ধ ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহর কাছে কস্তুরীর সুগন্ধির চেয়েও উত্তম হবে। আর ছিয়াম পালনকারীদের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে। এর মাধ্যমে সে অনাবিল আনন্দ লাভ করে। একটি হলো যখন সে ছিয়াম শেষ করে ঈদুল ফিতর পালন করে আর দ্বিতীয়টি হলো যখন সে তার প্রভুর সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন সে তার ছিয়ামের জন্য আনন্দিত হবে’।[১] ছহীহ মুসলিমের অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে,

كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ الْحَسَنَةُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِيْ وَأَنَا أَجْزِيْ بِهِ يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِيْ لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ وَلَخُلُوْفُ فِيْهِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِّيْحِ الْمِسْكِ

আদম সন্তানের নেক আমল বাড়ানো হয়ে থাকে। প্রত্যেক নেক আমল দশগুণ হতে সাতশ’ গুণ পর্যন্ত পৌঁছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তবে ছিয়াম ব্যতীত। কারণ ছিয়াম আমারই জন্য পালন করা হয় এবং তার প্রতিদান আমিই দিব। সে আমার জন্য স্বীয় প্রবৃত্তি ও খাদ্য-পানি ত্যাগ করে। ছিয়াম পালনকারীর জন্য দু’টি প্রধান আনন্দ রয়েছে। একটি তার ইফতারের সময় এবং অপরটি জান্নাতে আপন প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের সময়। আর নিশ্চয় তার মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধি অপেক্ষাও অধিক সুগন্ধময়।[২]

عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ فَإِذَا دَخَلُوْا أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ

সাহল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি (ﷺ) বলেন, জান্নাতে রাইয়্যান নামক একটি দরজা আছে। এ দরজা দিয়ে ক্বিয়ামতের দিন ছিয়াম পালনকারীরাই প্রবেশ করবে। তারা ব্যতীত আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। তাদের প্রবেশের পরই দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। যাতে করে এ দরজাটি দিয়ে আর কেউ প্রবেশ না করে।[৩]

عَنْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِنَّمَا الصِّيَامُ جُنَّةٌ يَسْتَجِنُّ بِهَا الْعَبْدُ مِنَ النَّارِ هُوَ لِيْ وَأَنَا أَجْزِيْ بِهِ

জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, নিশ্চয় ছিয়াম ঢাল স্বরূপ, যার দ্বারা বান্দা জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেকে আচ্ছাদিত রাখে। ছিয়াম একমাত্র আমার জন্যই রাখা হয় এবং আমিই তার প্রতিদান দিব’।[৪]

عَنْ أَبِيْ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أُمَامَةَ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ! مُرْنِيْ بِعَمَلٍ قَالَ عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَا عَدْلَ لَهُ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ مُرْنِيْ بِعَمَلٍ قَالَ عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَا عَدْلَ لَهُ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ مُرْنِيْ بِعَمَلٍ قَالَ عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَا مِثْلَ لَهُ

আবূ উমামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাকে কোন একটি আমলের কথা বলুন। তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি ছিয়াম রাখ, কেননা তার সমকক্ষ কিছু নাই। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাকে একটি আমলের কথা বলুন, তিনি বললেন, তুমি ছিয়াম রাখ, কেননা তার সমকক্ষ কিছু নাই। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাকে একটি আমলের কথা বলুন, তিনি বললেন, তুমি ছিয়াম রাখ, কেননা তার সমান কিছু নাই।[৫]

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ وَصُفِّدَتِ الشَّيَاطِيْنُ

আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘রামাযান মাস এলে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে শিকলবন্ধী কর হয়’।[৬] ছহীহ মুসলিমের অন্য বর্ণনায় এসেছে, فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الرَّحْمَةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِيْنُ ‘(রামাযান আসলে) রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শৃংখলিত করে দেয়া হয় শয়তানকে’।[৭]

রামাযানের উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হল ছিয়াম। আল্লাহ তা‘আলা রামাযানকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। এই মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে, জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়। কিন্তু রামাযানের মূল উদ্দেশ্য কী শুধু ক্ষুধা ও পিপাসা সহ্য করা, না-কি এর চেয়েও গভীর কোন লক্ষ্য রয়েছে? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে রামাযানের প্রকৃত উদ্দেশ্য অনুধাবন করা যরূরী। এক্ষণে রামাযানের উদ্দেশ্য ও তা বাস্তবায়নের প্রকৃতি তুলে ধরা হল:

১- গুনাহ মাফ নেয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা

মহান আল্লাহ ছিয়াম পালনকারীর জন্য মাগফিরাত ও মহান প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন’ (সূরা আল-আহযাব : ৩৫)। রামাযান মাস হলো গুনাহ মাফের অন্যতম মাধ্যম। হাসান ইবনু মালিক ইবনুল হুওয়াইরিছ পিতার সুত্রে দাদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন,

صَعِدَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ الْمِنْبَرَ فَلَمَّا رَقِيَ عَتَبَةً قَالَ آمِيْنَ ثُمَّ رَقِيَ أُخْرَى فَقَالَ آمِيْنَ ثُمَّ رَقِيَ عَتَبَةً ثَالِثَةً فقَالَ آمِيْنَ ثُمَّ قَالَ أَتَانِيْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ مَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ فَأَبْعَدَهُ اللهُ فَقُلْتُ آمِيْنَ قَالَ وَمَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ أَوْ أَحَدَهُمَا فَدَخَلَ النَّارَ فَأَبْعَدَهُ اللهُ فَقُلْتُ آمِيْنَ قَالَ وَمَنْ ذُكِرَتْ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ فَأَبْعَدَهُ اللهُ فَقُلْتُ آمِيْنَ

একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বারে আরোহন কালে প্রথম স্তরে আরোহন করে বললেন, ‘আমীন’। অতঃপর দ্বিতীয় স্তরে আরোহন করে বললেন, ‘আমীন’ এবং তৃতীয় স্তরেও আরোহন করে বললেন, ‘আমীন’। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমার নিকটে জিবরীল আমীন এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ! যে ব্যক্তি রামাযান মাস পেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না, আল্লাহ তাকে স্বীয় রহমত হতে বঞ্চিত করেন, আমি বললাম, আমীন। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা উভয়কে অথবা একজনকে পেল, অথচ এরপরেও সে জাহান্নামে প্রবেশ করে, আল্লাহ তাকে রহমত থেকে বঞ্চিত করেন, আমি বললাম, আমীন। তিনি আবার বললেন, যে ব্যক্তির সামনে আপনার নাম নেওয়া হয় অথচ সে আপনার উপর দরূদ পাঠ করে না, আল্লাহ তাকে রহমত থেকে বঞ্চিত করেন, বলুন ‘আমীন’ আমি বললাম, আমীন।[৮] আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيْمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيْمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيْمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও ছওয়াবের আশায় রামাযানের ছিয়াম পালন করে তার পূর্বের (ছগীরা) গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়। যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও ছওয়াবের আশায় রামাযানের রাত্রি ইবাদতে কাটায় তার পূর্বের (ছগীরা) গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও ছওয়াবের আশায় ক্বদরের রাত্রি ইবাদতে কাটায় তার পূর্ববর্তী (ছগীরা) গুনাহ সমূহ মাফ করে দেয়া হয়।[৯]

২- ছিয়াম রাখা ও ক্বিয়ামুল লাইল করা এবং লাইলাতুল ক্বদরে ইবাদতে কাটানো

আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

قَالَ مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيْمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيْمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও ছওয়াবের আশায় ক্বদরের রাত্রি ইবাদতে কাটায় তার পূর্ববর্তী (ছগীরা) গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও ছওয়াবের আশায়[১০] রামাযানের ছিয়াম পালন করে তার পূর্বের (ছগীরা) গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়’।[১১] অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে,

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ دَخَلَ رَمَضَانُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ هَذَا الشَّهْرَ قَدْ حَضَرَكُمْ وَفِيْهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ مَنْ حُرِمَهَا فَقَدْ حُرِمَ الْخَيْرُ كُلُّهُ وَلَا يُحْرَمُ خَيْرُهَا إِلَّا مَحْرُوْمٌ

আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রামাযান মাস শুরু হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমাদের নিকট এ মাস সমুপস্থিত। এতে রয়েছে এমন এক রাত, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এ থেকে যে ব্যক্তি বঞ্চিত হলো সে সমস্ত কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হল। কেবল বঞ্চিত ব্যক্তিরাই তা থেকে বঞ্চিত হয়।[১২]

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছাহাবীদেরকে নিয়ে তারাবীহ বা ক্বিয়ামুল লাইল জামা‘আত সহকারে আদায় করেছেন। হাদীছে এসেছে, আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমরা নবী (ﷺ)-এর সাথে ছিয়াম পালন করেছি। তিনি আমাদেরকে নিয়ে রামাযান মাসের শেষ ছয়দিন বাকী থাকার পূর্ব পর্যন্ত কোন (নফল) ছালাত আদায় করেননি। অবশেষে তিনি রামাযানের পাঁচ রাত বাকী থাকতে (২৫ শে রামাযান রাত্রে) আমাদেরকে নিয়ে ছালাতে দাঁড়ালেন। ছালাত শেষে তিনি রাত্রি অতিবাহিত হওয়ার অপেক্ষা করতে লাগলেন। ফলে আমরা তাকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! যদি আমাদেরকে নিয়ে বাকী রাতটিও নফল ছালাত আদায় করে পার করে দিতেন! তিনি বললেন, إِنَّهُ مَنْ قَامَ مَعَ الْإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ ‘ইমামের সাথে যদি কোন লোক ছালাতে শামিল হয়ে ছালাত আদায় শেষ করে, তাহলে সে লোকের জন্য সারা রাত (নফল) ছালাত আদায়ের ছাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়’। এরপর মাসের তিন রাত বাকী থাকা পর্যন্ত তিনি আর আমাদের নিয়ে ছালাত আদায় করেননি। আবার তিনি তৃতীয় (২৭ শে) রাত থাকতে আমাদের নিয়ে ছালাতের জন্য দাঁড়ালেন। তার পরিজন ও স্ত্রীগণকেও তিনি এ রাতে ডেকে তুললেন। এত (দীর্ঘ)-সময় ধরে তিনি ছালাত আদায় করলেন যে, যার ফলে আমরা ফালাহ এর সময় চলে যাওয়ার আশঙ্কা করলাম। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, ‘ফালাহ’ কী? তিনি বললেন, সাহারী খাওয়া।[১৩]

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পরে ছাহাবীগণও জামা‘আতে রামাযান মাসে ক্বিয়ামুল লাইল আদায় করেছেন। ইবনু আবি শায়বাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমার কাছে ওয়াকী‘ বর্ণনা করেছেন হিশাম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করে বলেন, ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রামাযান মাসে লোকদের জন্য দু’জন পৃথক পৃথক ক্বারী নিয়োগ করতেন। (হিশাম বলেন) উবাই পুরুষদের ছালাতের ইমামতি করতেন এবং ইবনু আবী হাছমাহ নারীদের ছালাতের ইমামতি করতেন’।[১৪]

ইবনু আবী শায়বাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমার কাছে মারওয়ান ইবনে মু‘আবিয়া ওমর ইবনে আব্দুল্লাহ আছ-ছাক্বাফী থেকে, তিনি আরফাযাহ থেকে বর্ণন করেছেন, তিনি বলেন, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) লোকদেরকে রামাযানে ক্বিয়াম করার নির্দেশ দিতেন। তিনি পুরুষ এবং নারীদের জন্য আলাদা আলাদা ইমাম নিয়োগ করতেন। আরফাযাহ বলেন, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে নির্দেশ দিলেন, সুতরাং আমি নারীদের ইমাম হিসাবে নিযুক্ত ছিলাম।[১৫]

ইবনু আবী শায়বাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমার কাছে ওয়াক্বী‘ হিশাম ইবনে ঊরওয়াহর সূত্রে, তিনি আবূ বাকার ইবনে আবি মুলায়কাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আয়েশা ছিদ্দীক্বা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তার মুদাব্বির (শর্ত সাপেক্ষে স্বাধীন) গোলামকে মুক্ত করে দিলে, সে রামাযানে তাঁর ইমামতি করেছিল।[১৬]

এমনকি তাবেঈগণও রামাযানে জামা‘আতের সাথে ক্বিয়ামুল লাইল আদায় করেছেন। ইবনু আবী শায়বাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমার কাছে মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়াহ, আব্দুর রহমান ইবনে ইরাক ইবনে মালিক থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমরা রামাযান মাসে মানুষদেরকে দীর্ঘ ক্বিয়ামের কারণে রশির সাথে নিজেদেরকে বেঁধে রাখতে দেখতাম।[১৭] ইবনু আবী শায়বাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমার কাছে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সায়েব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, রামাযান মাসে আমি লোকদের ছালাত আদায় করাতাম, এমন সময় মসজিদের দরজায় ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর তাকবীর ধ্বনি শুনতে পেতাম, তিনি পরিদর্শনকারী হিসাবে মসজিদে প্রবেশ করতেন এবং আমার পিছনে ছালাত আদায় করতেন।[১৮]

৩- বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করা

আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

الصِّيَامُ وَالْقُرْآنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ يَقُوْلُ الصِّيَامُ أَيْ رَبِّ إِنِّيْ مَنَعْتُهُ الطَّعَامَ وَالشَّهْوَاتِ بِالنَّهَارِ فَشَفِّعْنِيْ فِيْهِ وَيَقُوْلُ الْقُرْآنُ مَنَعْتُهُ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ فَشَفِّعْنِيْ فِيْهِ فَيُشْفَعَانِ

‘ছিয়াম এবং কুরআন ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ্র নিকট বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। ছিয়াম বলবে, হে প্রতিপালক! আমি তাকে দিনে তার খাদ্য ও প্রবৃত্তি হতে বাধা দিয়েছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কুরআন বলবে, আমি তাকে রাত্রে নিদ্রা হতে বাধা দিয়েছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। অতঃপর উভয়ের সুপারিশ বকুল করা হবে।[১৯]

৪- বেশি বেশি দান-ছাদাক্বাহ করা

আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَجْوَدَ النَّاسِ بِالْخَيْرِ وَكَانَ أَجْوَدَ مَا يَكُوْنُ فِيْ رَمَضَانَ وَكَانَ جِبْرِيْلُ يَلْقَاهُ كُلَّ لَيْلَةٍ فِيْ رَمَضَانَ يَعْرِضُ عَلَيْهِ النَّبِيُّ ﷺ الْقُرْآنَ فَإِذَا لَقِيَهُ جِبْرِيْلُ كَانَ أَجْوَدَ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيْحِ الْمُرْسَلَةِ

দানের ব্যপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী। আর তাঁর হৃদয়ের এ প্রশস্ততা রামাযান মাসে সবচেয়ে বেশী বেড়ে যেত। রামাযানে প্রত্যেক রাতেই জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তিনি তাঁকে কুরআন শুনাতেন যখন তাঁর সাথে জিবরীল (আলাইহিস সালাম) সাক্ষাৎ করতেন, তাঁর দান প্রবাহিত  বাতসের বেগের চেয়েও বেড়ে যেত।[২০]

৫- বেশি বেশি দু‘আ করা

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِيْ عَنِّيْ فَإِنِّيْ قَرِيْبٌ أُجِيْبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيْبُوْا لِيْ وَلْيُؤْمِنُوْا بِيْ لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُوْنَ

‘এবং যখন আমার বান্দাগণ তোমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে, আমি তো নিশ্চয় নিকটবর্তী। আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেই, যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে। আশা করা যায় তারা সঠিক পথে চলবে’ (সূরা আল-বাক্বারা : ১৮৬)। হাদীছে এসেছে, আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

ثَلَاثَةٌ لَا تُرَدُّ دَعْوَتُهُمْ اَلْإِمَامُ الْعَادِلُ وَالصَّائِمُ حَتَّى يُفْطِرَ وَدَعْوَةُ الْمَظْلُوْمِ تُحْمَلُ عَلَى الْغَمَامِ وَتُفْتَحُ لَهَا أَبْوَابُ السَّمَاوَاتِ وَيَقُوْلُ الرَّبُّ عَزَّ وَجَلَّ وَعِزَّتِيْ لَأَنْصُرَنَّكَ وَلَوْ بَعْدَ حِيْنٍ

‘তিন ব্যক্তির দু‘আ ফেরত দেয়া হয় না। ছিয়াম পালনকারীর দু‘আ- যতক্ষণ না সে ইফতার করে; ন্যায়পরায়ণ শাসকের দু‘আ এবং মাযলূমের দু‘আ। তার দু‘আ আল্লাহ তা‘আলা মেঘের উপরে উঠিয়ে নেন এবং এর জন্য আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। অতঃপর আল্লাহ বলেন, আমার সম্মানের কসম! আমি তোমাকে সাহায্য করব, যদিও বিলম্বে হয়’।[২১]

৬- জিহ্বা ও অঙ্গ-প্রতঙ্গের হেফাযত করা

আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,

لَيْسَ الصِّيَامُ مِنَ الْأَكْلِ وَالشُّرْبِ إِنَّمَا الصِّيَامُ مِنَ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ فَإِنْ سَابَّكَ أَحَدٌ أَوْ جَهِلَ عَلَيْكَ فَلْتَقُلْ إِنِّيْ صَائِمٌ إِنِّيْ صَائِمٌ

‘ছিয়াম শুধু আহার ও পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়, নিশ্চয় ছিয়াম হল, অনর্থক কথাবার্তা ও অশালীন আচরণ থেকে বেঁচে থাকা। যদি কেউ তোমাকে গালি দেয় অথবা তোমার সাথে মূর্খসুলভ আচরণ করে, তাহলে তুমি তাকে বল, নিশ্চয় আমি ছায়েম, নিশ্চয় আমি ছায়েম’।[২২]

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّوْرِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلهِ حَاجَةٌ فِيْ أَنْ يَّدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা এবং কাজ ছাড়েনি, তার পানাহার ছেড়ে দেয়াতে আল্লাহ্র কোন প্রয়োজন নেই।[২৩]

৭- সাহারী করা

আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, تَسَحَّرُوْا فَإِنَّ فِي السَّحُوْرِ بَرَكَةً ‘তোমরা সাহারী খাও। কেননা সাহারীতে বরকত রয়েছে।[২৪] ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّوْنَ عَلَى الْمُتَسَحِّرِيْنَ ‘নিশ্চয় মহান আল্লাহ ও ফেরেশতামণ্ডলী সাহারীকারীদের উপর শান্তি বর্ষণ করেন’।[২৫]

عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ دَعَانِيْ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِلَى السَّحُوْرِ فِيْ رَمَضَانَ فَقَالَ هَلُمَّ إِلَى الْغَدَاءِ الْمُبَارَكِ

ইরবায ইবনু সারিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা রামাযানে আমাকে সাহরী খেতে ডাকলেন এবং বললেন, এস এই বরকতময় খানার দিকে।[২৬] আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মুমিনদের উত্তম সাহারী হল খেজুর।[২৭]

৮- দ্রুত ইফতার করা ও বিলম্বে সাহারী করা

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُوْنَ أَنْفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنْكُمْ فَالْآنَ بَاشِرُوْهُنَّ وَابْتَغُوْا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ وَكُلُوْا وَاشْرَبُوْا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ وَلَا تُبَاشِرُوْهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُوْنَ فِي الْمَسَاجِدِ تِلْكَ حُدُوْدُ اللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُوْنَ

‘ছিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের জন্য পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের জন্য পরিচ্ছদ। আল্লাহ জেনেছেন যে, তোমরা নিজেদের সাথে খিয়ানত করছিলে। অতঃপর তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন। অতএব, এখন তোমরা তাদের সাথে মিলিত হও এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে দিয়েছেন, তা অনুসন্ধান কর। আর আহার কর ও পান কর যতক্ষণ না (রাতের) কাল রেখা থেকে (ফজরের) সাদা রেখা স্পষ্ট হয়। অতঃপর রাতপর্যন্ত ছিয়াম পূর্ণ কর। আর তোমরা মাসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না। এটা আল্লাহর সীমারেখা, সুতরাং তোমরা তার নিকটবর্তী হয়ো না। এভাবেই আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ মানুষের জন্য স্পষ্ট করেন যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৭)। সাহল ইবনু সা‘দ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوْا الْفِطْرَ. ‘মানুষ কল্যাণের সাথে থাকবে, যতকাল তারা তাড়াতাড়ি ইফতার করবে।[২৮] সাহল ইবনু সা‘দ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,لَا تَزَالُ أُمَّتِيْ عَلَى سُنَّتِيْ مَا لَمْ تَنْتَظِرْ بِفِطْرِهَا النُّجُوْمَ ‘আমার উম্মত ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের উপর থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ছিয়াম ভাঙ্গার জন্য নক্ষত্র উদিত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না’।[২৯]

৯- তাজা বা শুকনা খেজুর দ্বারা ইফতার করা। আর তা না পেলে পানি দ্বারা ইফতার করা

আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,

كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يُفْطِرُ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ عَلٰى رُطَبَاتٍ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ فَتَمَرَاتٍ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَمَرَاتٌ حَسٰى حَسَوَاتٍ مِنْ مَاءٍ

‘নবী করীম (ﷺ) ছালাত আদায়ের পূর্বে কয়েকটি তাজা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। যদি তাজা খেজুর না থাকত, তাহলে শুকনা খেজুর দ্বারাই ইফতার করতেন। আর যদি শুকনা খেজুরও না থাকত, তাহলে কয়েক কোশ পানি পান করতেন।[৩০]

১০- ছায়েমকে ইফতার করানো

যায়েদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ غَيْرَ أَنَّهُ لَا يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِ الصَّائِمِ شَيْئًا ‘কোন ছিয়াম পালনকারীকে যে লোক ইফতার করায় সে লোকের জন্যও ছিয়াম পালনকারীর সমপরিমাণ ছাওয়াব রয়েছে। কিন্তু এর ফলে ছিয়াম পালনকারীর ছাওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।[৩১]

১১- রামাযানের শেষ দশকের পুরোটা জুড়ে মসজিদে ই‘তিকাফ করা

ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ ‘নবী করীম (ﷺ) রামাযানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করতেন’।[৩২] অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে,

عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتّٰى تَوَفَّاهُ اللهُ ثُمَّ اعْتَكَفَ أَزْوَاجُهُ مِنْ بَعْدِهِ

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, নবী করীম (ﷺ) রামাযানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করতেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ইন্তেকাল করলেন, তারপর তাঁর স্ত্রীগণ ই‘তিকাফ করতেন।[৩৩]

১২- ভাল কাজে অগ্রগামী হওয়া এবং মন্দ কাজ পরিহার করা

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

إِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ صُفِّدَتِ الشَّيَاطِيْنُ وَمَرَدَةُ الْجِنِّ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ فُتِحَتْ اَبْوَابُ الْجَنَّةِ فَلَمْ يُغْلَقْ مِنْهَا بَابٌ وَيُنَادِيْ مُنَادٍ يَا بَاغِيَ الْخَيْرِ أَقْبِلْ وَيَا بَاغِيَ الشَّرِّ أقْصِرْ وَلِلهِ عُتَقَاءُ مِنَ النَّارِ وَذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ

‘যখন রামাযান মাসের প্রথম রাত্রি আসে, তখন শয়তান ও অবাধ্য জিনদেরকে শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয়, অতঃপর তার কোন দরজাই খোলা হয় না। জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা হয়, অতঃপর তার কোন দরজাই বন্ধ করা হয় না। এ মাসে এক আহ্বানকারী আহ্বান করতে থাকে, হে কল্যাণের অšে¦ষণকারী! অগ্রসর হও। হে মন্দের অšে¦ষণকারী! থাম। আল্লাহ তা‘আলা এ মাসে বহু ব্যক্তিকে জাহান্নাম হতে মুক্তি দেন, আর এটা প্রত্যেক রাতেই হয়ে থাকে’।[৩৪]

১৩- ছাদাক্বাতুল ফিতর আদায় করা

ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,

فَرَضَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ صَدَقَةَ الْفِطْرِ طُهْرَةً لِلصَّائِمِ مِنَ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ وَطُعْمَةً لِلْمَسَاكِيْنِ فَمَنْ أَدَّاهَا قَبْلَ الصَّلَاةِ فَهِيَ زَكَاةٌ مَقْبُوْلَةٌ وَمَنْ أَدَّاهَا بَعْدَ الصَّلَاةِ فَهِيَ صَدَقَةٌ مِنَ الصَّدَقَاتِ

‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছাদাক্বাতুল ফিতর ফরয করেছেন, অশ্লীল কথা ও বেহুদা কাজ হতে (রামাযানের) ছিয়ামকে পবিত্র করতে এবং মিসকীনদের খাদ্যের ব্যবস্থার জন্য। যে ব্যক্তি (ঈদের) ছালাতের পূর্বে তা আদায় করে সেটা কবুল ছাদাক্বাহ গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি ছালাতের পরে আদায় করে, তা সাধারণ দান হিসাবে গৃহীত হবে’।[৩৫]

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ فَرَضَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِّنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِّنْ شَعِيْرٍ عَلَى الْعَبْدِ وَالْحُرِّ وَالذَّكَرِ وَالْأُنْثَى وَالصَّغِيْرِ وَالْكَبِيْرِ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ وَأَمَرَ بِهَا أَنْ تُؤَدَّى قَبْلَ خُرُوْجِ النَّاسِ إِلَى الصَّلَاةِ

আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বাধীন, কৃতদাস, পুরুষ, নারী, ছোট এবং বড় সকল মুসলিমের উপর ছাদাক্বাতুল ফিতর এক ছা‘ খেজুর বা যব ফরয করেছেন এবং মানুষ ঈদগাহে রওয়ানা হওয়ার পূর্বে আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।[৩৬]

ছহীহ বুখারীতে অতিরিক্ত আরো বর্ণিত হয়েছে,

وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا يُعْطِيْهَا الَّذِيْنَ يَقْبَلُوْنَهَا وَكَانُوْا يُعْطُوْنَ قَبْلَ الفِطْرِ بِيَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ

ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ছাদাক্বার দ্রব্য গ্রহীতাদেরকে দিয়ে দিতেন এবং ঈদুল ফিতরের এক-দুই দিন পূর্বেই আদায় করে দিতেন।[৩৭] আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,

كُنَّا نُخْرِجُ زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِّنْ طَعَامٍ أَو صَاعًا مِّنْ شَعِيْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِّنْ أَقِطٍ أَوْ صَاعًا مِّنْ زَبِيْبٍ

‘আমরা ছাদাক্বাতুল ফিতর হিসাবে এক ছা‘ খাদ্য বা এক ছা‘ যব বা এক ছা‘ খেজুর বা এক ছা‘ পনির বা এক ছা‘ কিশমিশ দিতাম’।[৩৮]

উপসংহার

মহান আল্লাহ আমাদেরকে রামাযানের ইবাদতসমূহ যথাযথভাবে আদায় ও বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে তাক্বওয়া অর্জন, জান্নাত লাভ এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচার তাওফীক্ব দান করুন-আমীন!!


* পি-এইচ. ডি গবেষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

তথ্যসূত্র :
[১]. ছহীহ বুখারী, হা/১৮৯৪; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৫১।
[২]. ছহীহ বুখারী, হা/১৯০৪; ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৪৫।
[৩]. ছহীহ বুখারী, হা/১৮৯৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৫২।
[৪]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫২৬৪, সনদ হাসান।
[৫]. নাসাঈ, হা/২২২৩; ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ, হা/১৮৯৩, সনদ ছহীহ।
[৬]. ছহীহ মুসলিম, হা/১০৭৯।
[৭]. ছহীহ মুসলিম, হা/১০৭৯।
[৮]. ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৪০৯, সনদ ছহীহ লি গাইরিহী।
[৯]. ছহীহ বুখারী হা/৩৭, ৩৮, ২০০৯, ২০১৪; ছহীহ মুসলিম হা/৭৫৯, ৭৬০।
[১০]. "إِحْتِسَابًا" أي طلبا لوجه الله تعالى وثوابه. এখানে"إِحْتِسَابًا"  বলতে আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি ও তাঁর থেকে ছওয়াবের প্রত্যাশা করা।
[১১]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৭, ৩৮, ২০০৯, ২০১৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৫৯, ৭৬০; মিশকাত, হা/১৯৫৮।
[১২]. ইবনু মাজাহ, হা/১৬৪৪, সনদ হাসান ছহীহ।
[১৩]. ছহীহ ইবনে হিব্বান হা/২৫৪৭; তিরমিযী, হা/৮০৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১৪৪৭, সনদ ছহীহ।
[১৪]. মুছান্নাফে ইবনু আবী শায়বাহ, হা/৬১৪৯, সনদ ছহীহ।
[১৫]. মুছান্নাফে ইবনু আবী শায়বাহ, হা/৬১৫২, সনদ ছহীহ।
[১৬]. মুছান্নাফে ইবনু আবী শায়বাহ, হা/৭২১৭, সনদ ছহীহ।
[১৭]. মুছান্নাফে ইবনু আবী শায়বাহ, হা/৭৬৭৮, সনদ ছহীহ।
[১৮]. মুছান্নাফে ইবনু আবী শায়বাহ, হা/৭২২০, সনদ ছহীহ।
[১৯]. বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/১৯৯৪।
[২০]. ছহীহ বুখারী হা/১৯০২, ৪৯৯৭; ছহীহ মুসলিম হা/২৩০৮।
[২১]. মুসনাদে আহমাদ, হা/৮০৪৩; তিরমিযী, হা/২৫২৬ ও ৩৫৯৮; ইবনু মাজাহ, হা/১৭৫২; শাহেদের কারণে হাদীছটি ছহীহ।
[২২]. ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ, হা/১৯৯৬; ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৩৪৭৯; হাকেম, হা/১৫৭০; এর মূল কথা ছহীহায়নে রয়েছে। ছহীহ বুখারী, হা/১৯০৪; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৫১।
[২৩]. ছহীহ বুখারী হা/১৯০৩, ৬০৫৭।
[২৪]. ছহীহ বুখারী, হা/১৯২৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৯৫; মিশকাত, হা/১৯৮২।
[২৫]. ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল আওসাত্ব, হা/৬৪৩৪; ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৩৪৬৭, সনদ ছহীহ।
[২৬]. আবূ দাঊদ, হা/২৩৪৪; নাসাঈ, হা/২১৬৫; মিশকাত, হা/১৯৯৭, সনদ হাসান।
[২৭]. আবূ দাঊদ, হা/২৩৪৫; মিশকাত, হা/১৯৯৮, সনদ ছহীহ।
[২৮]. ছহীহ বুখারী, হা/১৯৫৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৯৮; মিশকাত, হা/১৯৮৪।
[২৯]. ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৩৫১০, সনদ ছহীহ।
[৩০]. তিরমিযী, হা/৬৯৬; মিশকাত, হা/১৯৯১, সনদ ছহীহ।
[৩১]. তিরমিযী, হা/৮০৭, সনদ ছহীহ।
[৩২]. ছহীহ বুখারী, হা/২০২৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৭১।
[৩৩]. ছহীহ বুখারী, হা/২০২৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৭২; মিশকাত, হা/২০৯৭।
[৩৪]. তিরমিযী হা/৬৮২; ইবনু মাজাহ হা/১৬৪২।
[৩৫]. আবূ দাঊদ, হা/১৬০৯; ইবনু মাজাহ, হা/১৮২৭; হাকেম, হা/১৪৮৮, সনদ হাসান।
[৩৬]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫০৩; ছহীহ মুসলিম, হা/৯৮৪; মিশকাত, হা/১৮১৫।
[৩৭]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫১১।
[৩৮]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫০৬, ১৫০৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৯৮৫; মিশকাত, হা/১৮১৬।




প্রচলিত তাবলীগ জামা‘আত সম্পর্কে শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের অবস্থান (শেষ কিস্তি) - অনুবাদ : আব্দুর রাযযাক বিন আব্দুল ক্বাদির
ছালাতে একাগ্রতা অর্জনের ৩৩ উপায় (৫ম কিস্তি) - আব্দুল হাকীম বিন আব্দুল হাফীজ
ইসলামী পুনর্জাগরণের মূলনীতি (৪র্থ কিস্তি) - ড. মুযাফফর বিন মুহসিন
ইমাম মাহদী, দাজ্জাল ও ঈসা (আলাইহিস সালাম) -এর আগমন সংশয় নিরসন (৭ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
আল-কুরআন সম্পর্কে অমুসলিম মনীষীদের মূল্যায়ন - রাফিউল ইসলাম
ইসলামী পুনর্জাগরণের মূলনীতি (৬ষ্ঠ কিস্তি) - ড. মুযাফফর বিন মুহসিন
সূদ-ঘুষ ও অবৈধ ব্যবসা (৩য় কিস্তি) - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর
জঙ্গিবাদ বনাম ইসলাম (৪র্থ কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
ইসলামী পুনর্জাগরণের প্রতিবন্ধকতা ও তার সমাধান (৪র্থ কিস্তি) - ড. মুযাফফর বিন মুহসিন
বিদ‘আত পরিচিতি (২৬তম কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
আল-কুরআন তেলাওয়াতের ফযীলত - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
ক্রোধের ভয়াবহতা ও তার শারঈ চিকিৎসা - হাসিবুর রহমান বুখারী

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ