শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কারে আলিমগণের গৃহীত মূলনীতিসমূহ: একটি পর্যালোচনা

-ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান


(৫ম কিস্তি)

৪. ইসলামী আদর্শের বাস্তব রূপায়ন (Practical implementation of Islamic ideology)

ইসলাম এক বৈপ্লবিক অনুকরণীয় আদর্শের নাম। ইসলামী আদর্শ একটি চিরস্থায়ী সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তির পতাকাবাহী। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর একনিষ্ঠ অনুসারী সম্মানিত ছাহাবীগণ কঠোর পরিশ্রম ও অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করে ইসলামী জীবনাদর্শ বাস্তবে রূপ দান করেছিলেন। ‘ইবাদত ও ‘আমলে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থেকে মনোবলকে শানিত করেছিলেন। উত্তম চরিত্র, নম্র ব্যবহার, আমানতদারি, উদারতা, মহানুভবতায় তারা ছিলেন অতুলনীয়। তাই উক্ত গুণাবলীর প্রকৃত রূপ দেশের সর্বত্র উন্মোচন করতে হবে। অনুরূপ সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ক্ষেত্রসমূহে ইসলাম যে রূপরেখা প্রদান করেছে, তার সম্পর্কে বাস্তব সচেতনতা তুলে ধরতে হবে। তাইতো ‘আলিমগণণ ইসলামী আদর্শের বাস্তব রূপ দানের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করেন। এভাবেই বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কারের পথ সুপ্রশস্ত হবে।

ইসলামের অনুপম আদর্শের মূর্তপ্রতিক ছিলেন বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (ﷺ)। যিনি ছিলেন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের এক উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত। তাঁর সেই স্বচ্ছ, সুন্দর ও সাবলীল আদর্শ যথাযথভাবে ধারণ করতে পারলে একজন ব্যক্তি, একটি পরিবার, সমাজ ও জাতি উন্নত, সুখ-সম্মৃদ্ধি ও শান্তির স্বর্ণ শিখরে আরোহণ করতে সক্ষম হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সকল প্রকার উন্নত মানবিক চরিত্র ও অসাধারণ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন। বন্ধু-শত্রু, মুসলিম-অমুসিলম সকলেই তাঁর অনুপম চরিত্র মাধুর্যের প্রশংসা করেছেন। কঠোর প্রতিপক্ষ আবূ সুফিয়ান সম্রাট হেরাক্লিয়াসের সম্মুখে অকুণ্ঠ চিত্তে তাঁর সততা, আমানাতদারিতা ও সচ্চরিত্রতার সুউচ্চ প্রশংসা করেছেন।[১] এমনকি আল্লাহ তা‘আলা নিজেই তাঁর প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, وَ  اِنَّکَ لَعَلٰی خُلُقٍ عَظِیۡمٍ ‘নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী’ (সূরা আল-কালাম : ৪)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ مَكَارِمِ اْلأَخْلَاقِ ‘আমি প্রেরিত হয়েছি সর্বোত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্য’।[২] তাই দেখা যায় যে, নবুওয়াত পূর্ববর্তী জীবনে সকলের নিকটে প্রশংসিত হিসাবে তিনি ছিলেন ‘আল-আমীন’ এবং নবুওয়াত পরবর্তী জীবনে চরম শত্রুতাপূর্ণ পরিবেশেও তিনি ছিলেন ধৈর্য ও সহনশীলতা, সাহস ও দৃঢ়চিত্ততা, দয়া ও সহমর্মিতা, পরোপকার ও পরমতসহিষ্ণুতা, লজ্জা ও ক্ষমাশীলতা প্রভৃতি অন্যান্য গুণাবলীর জীবন্ত প্রতীক। তাইতো মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন,

لَقَدۡ کَانَ لَکُمۡ  فِیۡ رَسُوۡلِ اللّٰہِ  اُسۡوَۃٌ حَسَنَۃٌ  لِّمَنۡ کَانَ یَرۡجُوا اللّٰہَ وَ الۡیَوۡمَ  الۡاٰخِرَ  وَ ذَکَرَ  اللّٰہَ  کَثِیۡرًا

‘তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূল (ﷺ)-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’ (সূরা আল-আহযাব : ২১)। এজন্য তাঁর অনুপম চরিত্রমাধুর্য ও অতুলনীয় বৈশিষ্ট্যসমূহ পূর্ণভাবে বর্ণনা করা ঐরূপ অসম্ভব, যেরূপ পূর্ণচন্দ্রের সৌন্দর্য বর্ণনা করা এবং খালি চোখে আকাশের তারকারাজি গণনা করা অসম্ভব।[৩] তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অনুপম কিছু নিদর্শন নিম্নের হাদীছদ্বয়ে ফুটে উঠেছে।

عَنْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَعَلَيْهِ بُرْدٌ نَجْرَانِيٌّ غَلِيْظُ الْحَاشِيَةِ فَأَدْرَكَهُ أَعْرَابِيٌّ فَجَبَذَهُ جَبْذَةً شَدِيْدَةً وَرَجَعَ نَبِيُّ اللهِ ﷺ فِيْ نَحْرِ الْأَعْرَابِيِّ حَتَّى نَظَرْتُ إِلَى صَفْحَةِ عَاتِقِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ قَدْ أَثَرْتَ بِهِ حَاشِيَةُ الْبُرْدِ مِنْ شِدَّةِ جَبْذَتِهِ ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدُ ﷺ مُرْ لِيْ مِنْ مَالِ اللهِ الَّذِي عَنْدَكَ فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثُمَّ ضَحِكَ ثُمَّ أَمَرَ لَهُ بِعَطَاءٍ

আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে পথ চলছিলাম। তাঁর গায়ে ছিল মোট পাড়ের একখানা নাজরানী চাঁদর। এমন সময় একজন গ্রাম্য বেদুইন তাঁকে চাঁদরটি ধরে জোরে টান দিল। টানের চোটে নবী করীম (ﷺ) উক্ত বেদুইনের বক্ষের কাছে এসে পড়লেন। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি রাসূল্ল্লুাহ (ﷺ)-এর কাঁধের প্রতি নজর করে দেখলাম যে, জোরে টানার কারণে তাঁর কাঁধে চাঁদরের ডোরায় ছাপ পড়েছে। অতঃপর বেদুইন বলল, হে মুহাম্মাদ (ﷺ)! আল্লাহ তা‘আলার যে মাল তোমার নিকট আছে, তা হতে আমাকে কিছু দেয়ার নির্দেশ দাও। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার দিকে ফিরে তাকালেন এবং হাসলেন। অতঃপর তাকে কিছু দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন’।[৪] উক্ত হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অতুলনীয় ধৈর্য ও দনশীলতার প্রমাণ পাওয়া যায়।

عَنْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ فِىْ الْمَسْجِدِ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ إِذْ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَقَامَ يَبُوْلُ فِىْ الْمَسْجِدِ فَقَالَ أَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ مَهْ مَه فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا تَزْرِمُوْهُ دَعُوْهُ فَتَرَكُوْهُ حَتَّى بَالَ ثُمَّ إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ إِنَّ هَذِهِ الْمَسَاجِدَ لَا تَصْلَحُ لِشَيْءٍ مِّنْ هَذَا الْبَوْلِ وَالْقَذِرِ إِنَّمَا هِيَ لِذِكْرِ اللهِ عَزَّوَجَلَّ وَالصَّلَاةِ وَقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ أَوْ كَمَا قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قَالَ وَأَمَرَ رَجُلًا مِّنَ الْقَوْمِ فَجَاءَ بِدَلْوٍ مِّنْ مَّاءٍ فَسَنَّهُ عَلَيْهِ

আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূল (ﷺ)-এর সাথে মসজিদে ছিলাম, এসময় এক বেদুইন আগমন করল এবং মসজিদে দাঁড়িয়ে পেশাব করতে লাগল। রাসূল (ﷺ)-এর সাহাবীগণ বলে উঠলেন, থাম! থাম! তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, তার পেশাব বন্ধ কর না, বরং তাকে তার অবস্থায় ছেড়ে দাও। সুতরাং তাঁরা তাকে ছেড়ে দিলেন যতক্ষণ পর্যন্ত তার পেশাব শেষ না হল। অতঃপর রাসূল (ﷺ) তাকে ডাকলেন এবং বললেন, দেখ এই মসজিদসমূহ পেশাব ও নোংরা করার জায়গা নয়। এটা শুধু আল্লাহর যিকির, ছালাত ও কুরআন পাঠের জন্য। রাবী বলেন, রাসূল (ﷺ) ঠিক এই বাক্য বলেছেন অথবা অনুরূপ বাক্য। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, অতঃপর রাসূল (ﷺ) লোকদের মধ্যে একজনকে হুকুম করলেন। সে এক বালতি পানি আনল এবং তার উপর ঢেলে দিল’।[৫] নবী করীম (ﷺ)-এর অনুপম চরিত্র ও বহুমুখী প্রতিভার প্রতি আকৃষ্ট ও অভিভূত হয়ে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ান বোনাপোর্ট  আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন যে,

"I hope the time is not for off when I shall be able to unite all the wise and educated man of all the countries and establish a uniform regime based on the ideals of Muhammad and the principal of Quran which alone are true which alone can lead men to happiness".

‘আমি আশা করি সেই সময় অদূরে নয় যখন আমি সকল দেশের জ্ঞানী ও শিক্ষিত মানুষকে একত্রিত করতে মুহাম্মাদের আদর্শের ভিত্তিতে এবং কুরআনের মূলধারার উপর ভিত্তি করে একটি অভিন্ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হব, যা একাই মানবতাকে সুখ ও সমৃদ্ধির দিকে নেতৃত্ব দিতে পারে’।[৬] অনুরূপভাবে মাইকেল এইচ হার্ট তার বিখ্যাত ‘দি হান্ড্রেড’ গ্রন্থে বলেন,

"My choice of Mohammad to lead the list of the world's most influential person's may surprise some readers and may be history who was supremely successful on both the religious and secular levels".

‘সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় যার নাম সর্বাগ্রে স্থান পেতে পারে তিনি হচ্ছেন মুহাম্মাদ (ﷺ)। তিনিই ইতিহাসের সেই অনন্য ব্যক্তিত্ব, যিনি ধর্মীয় ও বৈষয়িক উভয় ক্ষেত্রে অতুলনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন’।[৭]

সংস্কার আন্দোলনের জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন দৃঢ় মনোবল ও ‘আক্বীদার মজবুতী। আর এই মবজুতির জন্য চাই নিয়মিত আদর্শিক প্রশিক্ষণ। যা সর্বদা সংস্কারককে তার আদর্শমূলে দৃঢ়ভাবে অটল রাখে। সেকারণে আদর্শিক প্রশিক্ষণের প্রাথমিক কাজ হিসাবে মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে নবুওয়াতের শুরু থেকেই সকাল ও সন্ধ্যায় দু’বার ছালাত আদায়ের নির্দেশ প্রদান করা হয়।[৮] আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ سَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ بِالۡعَشِیِّ وَ الۡاِبۡکَارِ ‘আপনি আপনার প্রভুর প্রশংসা জ্ঞাপন করুন সন্ধ্যায় ও সকালে’ (সূরা আল-মুমিন : ৫৫)। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  فَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ وَ کُنۡ مِّنَ السّٰجِدِیۡنَ-وَ اعۡبُدۡ رَبَّکَ حَتّٰی یَاۡتِیَکَ الۡیَقِیۡنُ ‘আপনি আপনার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং সিজদাকারীদের মধ্যে শামিল হোন। আর মৃত্যু আসা পর্যন্ত আপনি আপনার রবের ইবাদত করুন’ (সূরা আল-হিজর : ৯৮-৯৯)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ‘আব্দুর রহমান ইবন নাসির আস-সা‘দী (১৩০৭-১৩৭৬ হি.) বলেন,

يا محمد { فَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ وَ کُنۡ مِّنَ السّٰجِدِیۡنَ} أي: أكثر من ذكر الله وتسبيحه وتحميده والصلاة فإن ذلك يوسع الصدر ويشرحه ويعينك على أمورك. { وَ اعۡبُدۡ رَبَّکَ حَتّٰی یَاۡتِیَکَ الۡیَقِیۡنُ} أي: الموت أي: استمر في جميع الأوقات على التقرب إلى الله بأنواع العبادات، فامتثل صلى الله عليه وسلم أمر ربه، فلم يزل دائبا في العبادة، حتى أتاه اليقين من ربه صلى الله عليه وسلم تسليما كثيرا

‘হে মুহাম্মাদ (আপনি আপনার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন) অর্থাৎ বেশী বেশী আল্লাহর যিকির করুন, সুবহানাল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ পাঠ করুন এবং ছালাত আদায় করুন। তাহলে আপনার সকল বিষয়ের উপর বক্ষ সম্প্রসারিত হবে এবং চক্ষু খুলে যাবে। (আর মৃত্যু আসা পর্যন্ত আপনি আপনার রবের ইবাদত করুন) অর্থাৎ মৃত্যু পর্যন্ত সকল সময়ে আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার  জন্য বিভিন্ন প্রকার ‘ইবাদতে নিমগ্ন থাকবেন, যেমন আপনার প্রভু আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন। এভাবেই আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে মৃত্যু আসা পর্যন্ত ‘ইবাদতের সাধনা অব্যাহত রাখুন’।[৯] ইমাম ইবনু কাছীর (৭০১-৭৭৪ হি.) বলেন,

فإن الأنبياء عليهم السلام كانوا هم وأصحابهم أعلم الناس بالله وأعرفهم بحقوقه وصفاته، وما يستحق من التعظيم وكانوا مع هذا أعبد الناس وأكثر الناس عبادة ومواظبة على فعل الخيرات إلى حين الوفاة

‘নিশ্চয় নবী-রাসূলগণ এবং তাঁদের সাথীরা আল্লাহ সম্পর্কে বেশী জানতেন, তাঁর অধিকার, গুণাবলী এবং তাঁর যথাযথ সম্মান সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি করতেন। এছাড়া তাঁরা অন্যান্য মানুষের মধ্যে বেশী ইবাদতগুজার ছিলেন, তারা বেশী বেশী ইবাদত করতেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তাঁরা নিয়মিত বেশী বেশী ভাল কাজের আঞ্জাম দিতেন’।[১০]

জাহিলী সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন আনয়নে আধ্যাত্মিক শক্তির পুনর্জাগরণের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। অন্যথা ময়দানে সুদৃঢ়ভাবে টিকে থাকা সম্ভব হয় না। আর সেটা অর্জন হয় কেবল মহান আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা ও কষ্ট স্বীকারের মাধ্যমে নিয়মিত ইবাদতে আত্মনিয়োগ করা। এই আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘ইবাদতের ক্ষেত্রে অতুলনীয় ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ‘ইবাদতের জন্য কেমন ত্যাগ স্বীকার করতেন তার কয়েকটি দৃষ্টান্ত নিম্নরূপ-

عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ نَبِىَّ اللهِ ﷺ كَانَ يَقُوْمُ مِنَ اللَّيْلِ حَتَّى تَتَفَطَّرَ قَدَمَاهُ فَقَالَتْ عَائِشَةُ لِمَ تَصْنَعُ هَذَا يَا رَسُوْلَ اللهِ وَقَدْ غَفَرَ اللهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ قَالَ أَفَلاَ أُحِبُّ أَنْ أَكُوْنَ عَبْدًا شَكُوْرًا فَلَمَّا كَثُرَ لَحْمُهُ صَلَّى جَالِسًا فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ قَامَ فَقَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ 

‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাত্রিতে ছালাত আদায় করতেন। এমনকি তাঁর দু’পা ফুলে যায়। তখন ‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি এটা করেন কেন? আপনার তো পূর্বের ও পরের সমস্ত পাপই ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উত্তরে বলেন, আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হতে ভালোবাসি না? যখন তিনি মোটা হয়ে গেলেন, বসে বসে ছালাত আদায় করতেন। যখন রুকূ করার ইচ্ছা করতেন তখন দাঁড়াতেন। অতঃপর ক্বিরাআত করতেন এবং রুকূ করতেন’।[১১] অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, ‘হুযাইফাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِىِّ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَافْتَتَحَ الْبَقَرَةَ فَقُلْتُ يَرْكَعُ عِنْدَ الْمِائَةِ. ثُمَّ مَضَى فَقُلْتُ يُصَلِّى بِهَا فِىْ رَكْعَةٍ فَمَضَى فَقُلْتُ يَرْكَعُ بِهَا. ثُمَّ افْتَتَحَ النِّسَاءَ فَقَرَأَهَا ثُمَّ افْتَتَحَ آلَ عِمْرَانَ فَقَرَأَهَا يَقْرَأُ مُتَرَسِّلًا إِذَا مَرَّ بِآيَةٍ فِيهَا تَسْبِيْحٌ سَبَّحَ وَإِذَا مَرَّ بِسُؤَالٍ سَأَلَ وَإِذَا مَرَّ بِتَعَوُّذٍ تَعَوَّذَ ثُمَّ رَكَعَ فَجَعَلَ يَقُوْلُ «سُبْحَانَ رَبِّىَ الْعَظِيْمِ». فَكَانَ رُكُوْعُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ ثُمَّ قَالَ «سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ». ثُمَّ قَامَ طَوِيْلًا قَرِيْبًا مِمَّا رَكَعَ ثُمَّ سَجَدَ فَقَالَ «سُبْحَانَ رَبِّىَ الْأَعْلَى». فَكَانَ سُجُوْدُهُ قَرِيْبًا مِنْ قِيَامِهِ.

‘এক রাতে আমি নবী করীম (ﷺ)-এর সাথে তাহাজ্জুদের ছালাত আদায় করলাম। তিনি সূরা আল-বাকারাহ‌ পড়তে শুরু করলে আমি ভাবলাম তিনি হয়ত একশ’ আয়াত পড়ে রুকূ‘ করবেন। কিন্তু এরপরেও তিনি পড়ে চললেন। তখন আমি চিন্তা করলাম। তিনি এর (সূরা আল বাকারাহ‌) দ্বারা পুরা দু’রাকা‘আত পড়ে সালাম ফিরাবেন। কিন্তু তিনি এরপরেও পড়তে থাকলে আমি ভাবলাম সূরাটি শেষ করে তিনি রুকু করবেন। কিন্তু এরপর তিনি সূরা নিসা পড়তে শুরু করলেন এবং তা পাঠ করলেন, অতঃপর তিনি সূরা‌ আলি ‘ইমরান শুরু করলেন এবং তা পাঠ করলেন। তিনি থেমে থেমে ধীরে ধীরে পড়ছিলেন এবং তাসবীহর আয়াত আসলে তাসবীহ পড়ছিলেন, কিছু চাওয়ার আয়াত আসলে চাইলেন এবং যখন আশ্রয় প্রার্থনা করার কোন আয়াত পড়ছিলেন তখন প্রার্থনা করছিলেন। অতঃপর তিনি রুকূ‘ করলেন। রুকূ‘তে তিনি বলতে থাকলেন, ‘সুবহা-না রাব্বিয়াল ‘আযীম’ (আমার মহান প্রভু পবিত্র, আমি তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। তাঁর রুকূ‘ ক্বিয়ামের মতই দীর্ঘ ছিল। এরপর ‘সামি‘আল্ল-হু লিমান হামিদাহ’ (আল্লাহ শুনে থাকেন যে তাঁর প্রশংসা করে) বললেন, এরপর যতক্ষণ সময় রুকূ‘ করেছিলেন প্রায় ততক্ষণ সময় পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকলেন। এরপর সাজদাহ‌ করলেন। সাজদাতে তিনি বললেন, ‘সুবহা-না রাব্বিয়াল আ‘লা’ (মহান সুউচ্চ সত্তা আমার প্রভু পবিত্র, আমি তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। তাঁর এ সিজদায়ও প্রায় ক্বিয়ামের সময়ের মত দীর্ঘায়িত হলো’।[১২]

গোটা বিশ্ব যখন অশান্তির অগ্নিকুণ্ডে দাউ দাউ করে জ্বলছিল, অজ্ঞতা-বর্বরতা, যালেমের যুলুমের আগ্রাসনে বিশ্ববাসী যখন নিষ্পেষিত, ধর্মের নামে অসংখ্য ভ্রান্ত মতবাদ বিক্ষুব্ধ পৃথিবী যখন অধঃপতনের অতলতলে নিমজ্জিত, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক আগ্রাসনে বিদ্ধস্ত ও স্নায়ুতান্ত্রিক আক্রমণে ছিন্নভিন্ন; তখন ইসলাম তার আদর্শিক স্বাতন্ত্রবোধে উজ্জীবিত হয়ে কুঠারাঘাত হেনেছিল যাবতীয় অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে। চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছিল সকল যুলুম-অত্যাচারের কালো হাতকে। মানবতা যখন মরণযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল, দুনিয়া তার যাবতীয় সাজ-সরঞ্জাম নিয়ে ধ্বংসের ভীতিপ্রদ ও গভীর গর্তে নিক্ষিপ্ত হতে চলেছিল। ঠিক তখনই আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে প্রেরণ করে মুমূর্ষু মানবতাকে নবজীবন দান করেন এবং লোকদের অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে আনয়ন করেন।[১৩] তিনি আগমন করে মানবজাতিকে এক নবজীবন, নতুন আলোকরশ্মি, নবতর শক্তি, নতুন ঈমান, নবতর প্রত্যয়, নতুন সভ্যতা-সংস্কৃতি এবং নতুন সমাজ দান করেন।[১৪] তিনি প্রতিষ্ঠিত জাহিলিয়াতের মুকাবেলায় ইসলামী জীবনদার্শকে মডেল হিসাবে উপস্থাপন করেন। যার সোনালী স্পর্শে সেইসব সিংহপুরুষরা আলোকিত হয়, যারা মৃত্যুভয়ে ভীত ছিলেন না, যারা নিজেদের ঈমান ও ‘আকীদার জন্য অগ্নিকুণ্ডের মাঝেও ঝাঁপিয়ে পড়তে ও জ্বলন্ত আগুনে শুয়ে পড়তেও কুন্ঠিত হতো না।[১৫]

অতঃপর মুহাম্মাদ (ﷺ) তাদেরকে দৈনিক পবিত্রতা ও অন্তরের ভয়-মিশ্রিত বিনয় শেখাতেন। প্রতিদিন পাঁচবার আল্লাহ তা‘আলার সম্মুখে দেহের পবিত্রতা, হৃদয়ের সমর্পিতি ও চিন্তার একাগ্রতার সঙ্গে দাঁড় করাতেন। তিনি তাদের দ্বীনের উপর দৃঢ়তা ও সংহতি এবং প্রবৃত্তির উপর নিয়ন্ত্রণ শিক্ষা দিতেন। সততা ও আমানতদারিতায় পরিপূর্ণ মানুষ হিসাবে তিনি তাদেরকে গড়ে তুলেছিলেন। এজন্য তারা যেখানেই থাকতেন এবং যে অবস্থায় থাকতেন, দ্বীন ও নীতি-নৈতিকতার সর্বোত্তম নমুনা হতেন। তারা শাসক হিসাবেই থাকুন অথবা সাধারণ কর্মচারী হিসাবে, পুলিশই হোন অথবা সৈনিক, তাদের সর্বদাই সংযত, শুচি-শুভ্র, চরিত্রবান, আমানতদার, সততা ও বিশ্বস্ততার অতুলনীয় দৃষ্টান্ত এবং আল্লাহভীরু ও বিনয়ী হিসাবেই পাওয়া যেত।[১৬] ফলে তাদের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্ব ইতিহাসে এক ভারসাম্যপূর্ণ ও দৃষ্টান্তহীন এক অতুলনীয় সমাজ ব্যবস্থা। সর্বশ্রেষ্ঠ ছাহাবী আবূ বাকর সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ‘ইবাদতের বাস্তব রূপ নিম্নের হাদীছে প্রস্ফুটিত হয়।

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ «مَنْ أَصْبَحَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ صَائِمًا». قَالَ أَبُوْ بَكْرٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَا. قَالَ «فَمَنْ تَبِعَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ جَنَازَةً». قَالَ أَبُوْ بَكْرٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَا. قَالَ «فَمَنْ أَطْعَمَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ مِسْكِيْنًا ». قَالَ أَبُوْ بَكْرٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَا. قَالَ «فَمَنْ عَادَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ مَرِيْضًا». قَالَ أَبُوْ بَكْرٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَا. فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ «مَا اجْتَمَعْنَ فِى امْرِئٍ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ».

আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (ছাহাবীদেরকে) জিজ্ঞেস করলেন, আজ তোমাদের মধ্যে কে ছিয়াম অবস্থায় সকাল করেছ? আবূ বাকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আমি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আজ তোমাদের মধ্যে কে জানাযার ছালাতে শরীক হয়েছ? আবূ বাকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আমি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আজ তোমাদের মধ্যে কে দরিদ্রকে আহার প্রদান করেছ? আবূ বাকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আমি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আজ তোমাদের মধ্যে কে রোগীকে দেখতে গিয়েছ? আবূ বাকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আমি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ সৎগুণগুলো যার মধ্যে একত্রিত হবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’।[১৭]

ইয়ারমুকের যুদ্ধে রোমান বাহিনীর শোচনীয় পরাজয় ও বিপুল সেনা নিহত হওয়ার সংবাদ শুনে সম্রাট হিরাকল মানসিকভাবে প্রচণ্ড আঘাত পান। যন্ত্রণা ও বিমর্ষতা তাকে চেপে ধরে। কিছু রোমান সেনা ইনতাকিয়া থেকে ফেরত আসার পর হিরাকল তাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘দুর্ভাগ্য তোমাদের! যারা তোমাদের প্রতিপক্ষ তারা কি তোমাদের মতই মানুষ নয়?’ তারা বলল, ‘হ্যাঁ’। হিরাকল আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘সংখ্যায় কি তোমরা তাদের চেয়ে অনেক বেশী ছিলে না?’ তারা বলল, ‘হ্যাঁ’। তখন হিরাকল বললেন, ‘তাহলে কেন এমনভাবে পরাজিত হলে?’ এসময় তাদের মধ্য থেকে প্রবীণ ও বিজ্ঞ এক লোক উত্তর দিল,

مِنْ أَجْلِ أَنَّهُمْ يَقُوْمُوْنَ اللَّيْلَ، وَيَصُوْمُوْنَ النَّهَارَ، وَيُوْفُوْنَ بِالْعَهْدِ، وَيَأْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ، وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ، وَيَتَنَاصَفُوْنَ بَيْنَهُمْ. وَمِنْ أَجْلِ أَنَّا نَشْرَبُ الْخَمْرَ، وَنَزْنِيْ، وَنَرْكَبُ الْحَرَامَ، وَنَنْقُضُ الْعَهْدَ، وَنَغْضَبُ وَنَظْلِمُ، وَنَأْمُرُ بِالسَّخَطِ، وَنَنْهَى عَمَّا يَرْضَى اللهُ، وَنُفْسِدُ فِي الْأَرْضِ. فَقَالَ: أَنْتَ صَدَقْتَنِيْ.

‘আমরা হেরেছি, কারণ তারা এমন এক জাতি, যারা রাত জেগে ছালাত আদায় করে, দিনে ছিয়াম পালন করে, তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, ভাল কাজের আদেশ দেয়, খারাপ কাজে নিষেধ করে আর তারা নিজেদের মধ্যে ন্যায়নুগ। অন্যদিকে আমরা মদ্যপান করি, ব্যভিচার করি, অবৈধ কাজ করি, চুক্তি ভঙ্গ করি, জবরদখল করি, অন্যের উপর অবিচার করি। আমরা সহিংসতার আদেশ দিই, যেসব কাজে আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন সেগুলো থেকে মানুষকে বাধা দিই; আর পৃথিবীজুড়ে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়াই’। হিরাকল তখন তাকে বললেন, তুমি সত্য বলেছ’।[১৮]

সম্রাট হিরাকল সিরিয়ার যুদ্ধে পরাজয়ের কারণ জানার জন্য এক গুপ্তচরকে মুসলিম সেনাবাহিনীর মধ্যে পাঠিয়েছিলেন। গুপ্তচর একদিন একরাত থাকার পর এসে রিপোর্ট পেশ করে বলেন,

هُمْ فُرْسَانٌ بِالنَّهَارِ، رُهْبَانٌ بِاللَّيْلِ، لَا يَأْكُلُوْنَ فِيْ ذِمَّتِهِمْ إِلَّا بِثَمَنٍ، وَلَا يَدْخُلُوْنَ إِلَّا بِسَلَامٍ، يَقِفُوْنَ عَلَى مَنْ حَارَبُوْهُ حَتَّى يَأْتُوْا عَلَيْهِ. لَئِنْ كُنْتَ صَدَقْتَنِيْ لَيَمْلِكَنَّ مَوْضِعَ قَدَمَيَّ هَاتَيْنِ

‘তাঁরা দিনের বেলায় ঘোড়সওয়ার বীর, রাতের বেলায় ইবাদতগুজার। তাদের আয়ত্বে থাকা সম্পদ মূল্য ছাড়া ভক্ষণ করেন না, শান্তির বার্তা না দিয়ে কোন এলাকায় প্রবেশ করেন না। তাঁরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেন, যে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, যতক্ষণ তারা তার উপর বিজয় লাভ না করেন’। উক্ত স্বীকারুক্তি শুনে হিরাকল বলেন, ‘তুমি যদি সত্য বলে থাক, তবে অবশ্যই অচিরেই তারা আমার এই দুই পায়ের সিংহাসনটারও অধিপতি হয়ে যাবে’।[১৯] এতদ্ভিন্ন সম্রাট হিরাক্লিয়াস সিরিয়ার যুদ্ধে পরাজয়ের কারণ জানার জন্য এক গুপ্তচরকে মুসলিম সেনাবাহিনীর মধ্যে পাঠিয়েছিলেন। গুপ্তচর একদিন একরাত থাকার পর এসে রিপোর্ট পেশ করে বলেন,

هُمْ فُرْسَانٌ بِالنَّهَارِ، رُهْبَانٌ بِاللَّيْلِ، لَا يَأْكُلُوْنَ فِيْ ذِمَّتِهِمْ إِلَّا بِثَمَنٍ، وَلَا يَدْخُلُوْنَ إِلَّا بِسَلَامٍ، يَقِفُوْنَ عَلَى مَنْ حَارَبُوْهُ حَتَّى يَأْتُوْا عَلَيْهِ، لَئِنْ كُنْتَ صَدَقْتَنِيْ لَيَمْلِكَنَّ مَوْضِعَ قَدَمَيَّ هَاتَيْنِ

‘তাঁরা দিনের বেলায় ঘোড়সওয়ার বীর, রাতের বেলায় ইবাদতগুজার। তাদের আয়ত্বে থাকা সম্পদ মূল্য ছাড়া ভক্ষণ করেন না, শান্তির বার্তা না দিয়ে কোন এলাকায় প্রবেশ করেন না। তাঁরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেন, যে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, যতক্ষণ তারা তার উপর বিজয় লাভ না করেন’। উক্ত স্বীকারুক্তি শুনে হারাকল বলেন, ‘তুমি যদি সত্য বলে থাক, তবে অবশ্যই অচিরেই তারা আমার এই দুই পায়ের সিংহাসনটারও অধিপতি হয়ে যাবে’।[২০] প্রখ্যাত পণ্ডিত ইমাম তাবারী (২২৪-৩১০ হি./৮৩৯-৯২৩ খ্রি.) উল্লেখ করেছেন,

بِاللَّيْلِ رُهْبَانٌ، وَبِالنَّهَارِ فُرْسَانٌ، وَلَوْ سَرَقَ ابْنُ مَلِكِهِمْ قَطَعُوْا يَدَهُ، وَلَوْ زَنَى رَجَمُوْهُ، لِإِقَامَةِ الْحَقِّ فِيْهِمْ. فَقَالَ لَهُ الْقَبْقَلَارُ: لَئِنْ كُنْتَ صَدَقْتَنِيْ لَبَطْنُ الْأَرْضِ خَيْرٌ مِنْ لِقَاءِ هَؤُلَاءِ عَلَى ظَهْرِهَا

‘দিনের বেলায় ঘোড়সওয়ার বীর, রাতের বেলায় ‘ইবাদতগুজার। আর যদি তাদের রাজপুত্রও চুরি করে, তবুও তারা তার হাত কেটে দেয়। আর যদি কেউ যেনা করে, তবে তাকে রজম করা হয় তাদের মাঝে হক্ব প্রতিষ্ঠার জন্য’। উক্ত কথা শুনে সম্রাট বলেছিলেন, ‘আল্লাহর কসম! তুমি যদি সত্য বলে থাক, তবে পৃথিবীর চেয়ে আমাদের জন্য কবরই উত্তম’।[২১] আল্লাহ তা‘আলা নিজেই তাঁদের ত্যাগের কথা তুলে ধরেছেন এভাবে-

مُحَمَّدٌ  رَّسُوۡلُ اللّٰہِ ؕ وَ الَّذِیۡنَ مَعَہٗۤ اَشِدَّآءُ  عَلَی الۡکُفَّارِ  رُحَمَآءُ  بَیۡنَہُمۡ تَرٰىہُمۡ  رُکَّعًا سُجَّدًا یَّبۡتَغُوۡنَ  فَضۡلًا مِّنَ  اللّٰہِ  وَ رِضۡوَانًا ۫ سِیۡمَاہُمۡ  فِیۡ وُجُوۡہِہِمۡ  مِّنۡ  اَثَرِ السُّجُوۡدِ ؕ

‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। আর তাঁর সাথে যারা আছেন, তারা কাফেরদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি রহম দিল। আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় আপনি তাদেরকে রুকূ‘ ও সিজদায় অবনত দেখতে পাবেন। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন থাকবে। তাওরাত ও ইঞ্জীলে তাদের বর্ণনা এভাবেই দেয়া হয়েছে’ (সূরা আল-ফাতহ : ২৯)।

উক্ত আলোচনায় স্পষ্টরূপে প্রতিভাত হয় যে, সংস্কার আন্দোলনের গতিধারাকে আরো শানিত, উন্নত ও মজবুত করার জন্য একাজে নিয়োজিত সকলকে ইসলামী আদর্শের বাস্তবতা কঠোর সাধনা ও চারিত্রিক মাধুর্যের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে। যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজেকে যেমন জাহিলিয়াতের বিরুদ্ধে দৃঢ়পদ শক্তিশালী ঈমান ও কঠোর পরিশ্রমী রূপে গড়ে তুলেছিলেন। তেমনি ছাহাবীগণও তাঁর শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দ্বীন সম্পর্কে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান ও দায়িত্বশীল ছিলেন।[২২] বাংলাদেশেও ধর্মীয় সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনাকারী ‘আলিমগণ ইসলামী আদর্শের অনুশীলন ও চারিত্রিক সৌন্দর্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এমনকি একাজে তারা রীতিমত সংগ্রাম পরিচালনা করেন। যেমন,

মাওলানা হাজী শরীয়াতুল্লাহ (রাহিমাহুল্লাহ) যেমন ব্যক্তিজীবনে নিখুঁত ও আদর্শ জীবনচারণের অধিকারী ছিলেন, অনুরূপভাবে সমাজে ইসলামী আদর্শের বাস্তব রূপদানের জন্য আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর শান্ত স্বভাব ও অনন্য নেতৃত্বের প্রভাবে তৎকালীন অশিক্ষিত ও অবহেলিত জনমানুষ তাঁর ভক্তে পরিণত হয়ে যায়। তাঁর প্রভাব এতই মজবুত ছিল যে, তাঁর কথা মান্য করতে কোন ব্যক্তি দ্বিধাবোধ করত না।[২৩]

মাওলানা বেলায়েত আলী সাদেকপুরী (১২০৫-১২৬৯ হি./১৭৯০-১৮৫২ খ্রি.) বাংলাদেশ সহ গোটা ভারতবর্ষে ধর্মীয় সংস্কারেই তাঁর জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবনযাপন করা সত্ত্বেও বায়‘আত গ্রহণের পরে তিনি ইসলামের জন্য তাঁর গোটা জীবনকে তৈরি করেন। নিজ গ্রাম থেকে রায়বেরেলীতে যাওয়ার সংবাদ তাঁর পিতা যখন জানতে পারেন, তখন বাড়ীর একজন কর্মচারীর মাধ্যমে ছেলের জন্য কিছু নগদ টাকা ও কাপড় পাঠিয়ে দেন। কর্মচারী যখন পৌঁছায়, তখন তিনি সাইয়িদ আহমাদ মেহমানদের জন্য মুজাহিদগণের সাহায্যে একটি ঘর তৈরি করছিলেন। সাইয়িদ আহমাদ নিজেও কাজ করছিলেন এবং বিভিন্নজনকে বিভিন্ন দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ঘরের কাদামাটি তৈরির দলে ছিলেন মাওলানা বেলায়েত আলী (রাহিমাহুল্লাহ)। কর্মচারীটি তাঁর কাদামাটি মাখা কালো তহবন্দ পরিধান করা অবস্থায় প্রথমে চিনতে পারিনি। চিনার পর কর্মচারীটি টাকা ও কাপড়গুলো দিলে তখনই তিনি সাইয়িদ আহমাদের নিকট তা জমা দিলেন। তিনচার দিন অপেক্ষা করেও তিনি সেসব উত্তম পোশাক পরলেন না বরং ময়লা তহবন্দ পরেই থাকলেন, তখন কর্মচারীটি হতবাক হয়ে দুঃখিত মনে পাটনায় ফিরে যায়।[২৪] ইসলামের জন্য তাঁর আত্মত্যাগের এটা প্রকৃষ্ট উদাহরণ। যা ইসলামী আদর্শের এক অনুপম বৈশিষ্ট্য।

ইসলামী আদর্শের বাস্তব রূপায়নের ক্ষেত্রে মাওলানা আব্দুল্লাহিল কাফী আল-কুরাইশী (১৩১৮-১৩৮০ হি./১৯০০-১৯৬০ খ্রি.) অত্যন্ত তৎপর ও আন্তরিক ছিলেন। তাঁর বিশেষ গুণ ছিল ধর্ম-জ্ঞানের সাথে কাণ্ডজ্ঞানের, গভীর পাণ্ডিত্যের সাথে ‘আমলের ও নতুনের সাথে পুরাতনের একত্রে সমাবেশ। ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠনে সৌহার্দ ও সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর চারিত্রিক ব্যবহার ছিল এতই অমায়িক যে, শত্রু ভাবাপন্ন লোকও তাঁর সম্মুখে হাজির হলে বিরোধ ভুলে যেত এবং অল্প সময়ের ব্যবধানে অন্তরঙ্গ বন্ধুতে পরিণত হত। তিনি আত্মত্যাগী ও সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন। মেহমান আপ্যায়নের মত উত্তম গুণাবলী তাঁর অন্যতম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি নিজেও যেমন ইসলামী আদর্শ ও শিক্ষায় দৃঢ় সংকল্প ছিলেন, তেমনি বাংলাদেশের মুসলিম সমাজকেও ইসলামী আদর্শ ও শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে ব্রত গ্রহণ করেছিলেন।[২৫]

মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (১৯১৮-১৯৮৭ খ্রি.) উত্তম চরিত্র ও ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নে আপসহীন ছিলেন। তিনি আল্লাহতে নিবেদিতপ্রাণ এক মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই ছিল তাঁর সকল কাজের মৌলিক প্রেরণা। আল-কুরআন ও সুন্নাহ সম্মত প্রক্রিয়ায় তিনি তাঁর ‘ইবাদত পালন করতেন। রিয়া বা প্রদর্শনেচ্ছামূলক সকল কাজ তিনি এড়িয়ে চলতেন।


তিনি পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর কাছে ইসলামী আদর্শ ও উত্তম চরিত্রের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি ছিলেন। তিনি ঘনঘন মৌখিক নসীহতের চেয়ে বাস্তব দৃষ্টান্তের মাধ্যমেই সংস্কার কাজের পক্ষপাতি ছিলেন। আড়ম্বর ও জাঁকজমপূর্ণ জীবনে অনীহা ছিল তাঁর চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তিনি পরিতৃপ্ত জীবন-যাপন করতেন। সঙ্গী-সাথী ও বন্ধু-বান্ধবদের প্রতি তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহৃদয়। সময়ানুবতির্তার ব্যাপারে তিনি ছিলেন অত্যন্ত কঠোর।[২৬]

মাওলানা মুহাম্মদ আলীমুদ্দীন (১৯২৫-২০০১ খ্রি.) ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে তৎপর ছিলেন। তিনি আত্মপ্রচার বিমুখ এবং ‘ইলম ও ‘আমলের বিনিময়ে অনাবশ্যক চাহিদায় বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি সাদাসিধে অনাড়ম্বর জীবন-যাপন করতেন, সাধারণ পোশাক-পরিচ্ছেদ ব্যবহার করতেন। খাদ্য-খাবারে আল্লাহর গুণকীর্তনে যেন তাঁর পেটের ক্ষুধা নিবারণ হত। তিনি নিয়মিত তাহাজ্জুদ ছালাত আদায় করতেন। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কুরআন তেলাওয়াত করতেন, রুকূ‘-সিজদায় নীরবে অশ্রু ঝরাতেন। পূর্বসূরীদের অনুসৃত পথেই ছিল তাঁর জীবন প্রবাহ।[২৭]

(ইনশাআল্লাহ চলবে)


তথ্যসূত্র :
[১]. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, পৃ. ২০-২২, হাদীছ নং-৭, ‘অহীর সূচনা’ অধ্যায়-১, অনুচ্ছেদ-৬।
[২]. আল-মুসতাদরাকু ‘আলাস সহীহাইন, ২য় খণ্ড, পৃ. ৬৭০, হাদীছ নং-৪২২১; মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১০৪।
[৩]. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, সীরাতুল রাসূল (ছাঃ) (রাজশাহী : হাদীছ ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ, ২য় সংস্করণ ২০১৫), পৃ. ৭৮১।
[৪]. ছহীহ বুখারী, পৃ. ৯৫৯, হা/৫৮০৯ ‘আচার-ব্যবহার’ অধ্যায়-৭৮; ‘মুসকি হাসি ও হাসি প্রসঙ্গ’ অনুচ্ছেদ-৬৮; ৬০৮৮; সহীহ মুসলিম, পৃ. ৩১৬, হা/১০৫৭; মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৬১, হা/৫৮০৩।
[৫]. ছহীহ বুখারী, পৃ. ৫৭, হা/২২০; সহীহ মুসলিম, পৃ. ১০৭-১০৮, হা/২৮৫; মিশকাতুল মাসাবীহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ১০৬, হা/৪৯২।
[৬]. মুহাম্মদ গোলাম মুস্তফা (সম্পা.), বিশ্ব শান্তি ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) (ঢাকা : ইসলামিক ফাইন্ডেশন বাংলাদেশ, ১ম প্রকাশ, এপ্রিল ২০০৫ খ্রি.), পৃ. ২০৮ ।
[৭]. মাইকেল এইচ হার্ট, দি হাণ্ড্রেড, বঙ্গানুবাদ : শ্রেষ্ঠ ১০০ (ঢাকা : পরশ পাবলিসার্স, ১৪১৫ হি.), পৃ. ৩, ভূমিকা দ্র।
[৮]. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, সীরাতুল রাসূল (সাঃ) (রাজশাহী : হাদীছ ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ, ২য় সংস্করণ ২০১৫), পৃ. ৯৭।
[৯]. তাইসীরুল কারীরিম রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, পৃ. ৪৩৫।
[১০]. তাফসীরুল কুরআনিল ‘আযীম, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৫৫৪।
[১১]. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, পৃ. ৭০৫, হাদীছ নং-৪৮৩৭ ‘তাফসীর’ অধ্যায়-৬৫, ‘সূরাতুল ফাতহ’ অনুচ্ছেদ-৪৮; আবুল কাসিম সুলাইমান ইবনু আহমাদ আত-তাবারানী, আল-মু‘জামুল আওসাত, ৭ম খণ্ড (কায়রো : দারুল হারামাইন, ১৪১৫ হি.), পৃ. ১৭৪, হাদীছ নং-৭১৯৯।
[১২]. ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, পৃ. ২৩৬, হাদীছ নং-৭৭২, ‘মুসাফিরদের ছালাত ও তার কসর’-৬, ‘রাতের ছালাতে কিরাআত দীর্ঘ করা মুস্তাহাব’-২৭; আল-আহকামুশ শার‘ইয়্যাহ আল-কুবরা, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩০৪।
[১৩]. সূরা ইবরাহীম : ১। 
[১৪]. মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?, পৃ. ৮৭-৮৮। 
[১৫]. প্রাগুক্ত, পৃ. ৯৫। 
[১৬]. মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?, পৃ. ১৪০। 
[১৭]. ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, পৃ. ৩০৯-৩১০, হাদীছ নং-১০২৮ ‘যাকাত’ অধ্যায়-১২, ‘যে ব্যক্তি সাদাকাহ একত্রিত করে এবং সৎ ‘আমল করে’ অনুচ্ছেদ-২৬; মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক ইবন খুযায়মাহ আবূ বাকর আস-সুলামী আন-নায়সাপুরী, আস-সহীহ, (তাহকীক : ড. মুহাম্মাদ মুসতফা আল-আ‘জমী), ৩য় খণ্ড (বৈরূত : আল-মাকতাবুল ইসলামী, ১৩৯০ হি./১৯৭০ খ্রি.), পৃ. ৩০৪, হাদীছ নং-২১৩১; মিশকাতুল মাসাবীহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪২৬, হাদীছ নং-১৮৯১।
[১৮]. আবুল কাসিম ‘আলী ইবনিল হাসান ইবন হিবাতুল্লাহ ইবন ‘আব্দিল্লাহ আশ-শাফি‘ঈ, তারীখু মাদীনাতি দিমাশ্ক, ২য় খণ্ড (বৈরূত : দারুল ফিকর, ১৯৯৫ খ্রি.), পৃ. ৯৭।
[১৯]. আবুল ফিদা আল-হাফিয ইবন কাছীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৪র্থ খণ্ড (কায়রো : দারুল হাদীছ, ১৪২৭ হি./২০০৬ খ্রি.), ৭ম অংশ, পৃ. ৫১।  
[২০]. আবুল ফিদা আল-হাফিজ ইবনু কাসীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৪র্থ খণ্ড (কায়রো : দারুল হাদীস, ১৪২৭ হি./২০০৬ খ্রি.), ৭ম অংশ, পৃ. ৫১।  
[২১]. মুহাম্মাদ ইবনু জারীর আবু জা‘ফর আত-তাবারী, তারীখুল উমাম ওয়ার রুসুল ওয়াল মুলূক, ২য় খণ্ড (বৈরুত : দারুল কুতুবিল ‘ইলমিয়াহ, ১ম সংস্করণ, ১৪০৭ হি.), পৃ. ৩৪৭।  
[২২]. মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?, পৃ. ১১৩।   
[২৩]. হাজী শরীয়ত উল্লাহ’র ফারায়েজী আন্দোলন, পৃ. ৭, ১২০।   
[২৪]. তাযকিরায়ে সাদেকাহ, পৃ. ৯৪-৯৫।
[২৫]. আবূ আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী (সংকলনে), বিশিষ্ট গবেষকদের কলমে আল্লামা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী আল-কুরায়শী (রহ.) (ঢাকা : আল-খাইর পাবলিকেশন্স, ১ম প্রকাশ, মার্চ ২০১৭ খ্রি.), পৃ. ৬৪, ১১১-১১২, ১১৯, ১২০-১২১।
[২৬]. মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ), পৃ. ৩৯৭-৪০৫ ।
[২৭]. আবূ ‘আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম রিজাল শাস্ত্রবিদ ‘আল্লামা আবূ মুহাম্মাদ আলীমুদ্দীন (রহ.) (ঢাকা : আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ, ১ম প্রকাশ, জুলাই ২০১১ খ্রি.), পৃ. ৫৩, ৫৯-৬০।





প্রসঙ্গসমূহ »: সমাজ-সংস্কার
ছালাতের সঠিক সময় ও বিভ্রান্তি নিরসন (৩য় কিস্তি) - মাইনুল ইসলাম মঈন
সুন্নাতের রূপরেখা (৩য় কিস্তি) - মাইনুল ইসলাম মঈন
প্রচলিত তাবলীগ জামা‘আত সম্পর্কে শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের অবস্থান (৮ম কিস্তি) - অনুবাদ : আব্দুর রাযযাক বিন আব্দুল ক্বাদির
বিদ‘আত পরিচিতি (৯ম কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
সমকামীতার ভয়াবহতা ও তার অপকার - হাসিবুর রহমান বুখারী
শারঈ মানদন্ডে শবেবরাত - আল-ইখলাছ ডেস্ক
ইখলাছই পরকালের জীবনতরী (শেষ কিস্তি) - আব্দুল গাফফার মাদানী
মাদক : সুশীল সমাজ ধ্বংসের অন্যতম হাতিয়ার - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর
‘কুরআনই যথেষ্ট, সুন্নাহর প্রয়োজন নেই’ সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা - ওমর ফারুক বিন মুসলিমুদ্দীন
সর্বশ্রেষ্ঠ আমল - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
ইসলামী জামা‘আতের মূল স্তম্ভ (১৪তম কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ মুছলেহুদ্দীন
বিদ‘আত পরিচিতি (৬ষ্ঠ কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান

ফেসবুক পেজ