হজ্জ ও ওমরাহর ইবাদতসমূহ : গুরুত্ব ও ফযীলত
- ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম*
(২য় কিস্তি)
ত্বাওয়াফ করা এবং মাক্বামে ইবরাহীমে ছালাত আদায় করা
হজ্জের অন্যতম ইবাদত ত্বাওয়াফ করা এবং ত্বাওয়াফ শেষে মাক্বামে ইবরাহীমে ছালাত আদায় করা। মহান আল্লাহ বলেন,
وَ اِذۡ بَوَّاۡنَا لِاِبۡرٰہِیۡمَ مَکَانَ الۡبَیۡتِ اَنۡ لَّا تُشۡرِکۡ بِیۡ شَیۡئًا وَّ طَہِّرۡ بَیۡتِیَ لِلطَّآئِفِیۡنَ وَ الۡقَآئِمِیۡنَ وَ الرُّکَّعِ السُّجُوۡدِ
‘আর স্মরণ কর, যখন আমি ইবরাহীমকে সে ঘরের (বায়তুল্লাহর) স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম, আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না এবং আমার ঘরকে পাক-সাফ রাখবে তাওয়াফকারী, রুকু-সিজদা ও দাঁড়িয়ে ছালাত আদায়কারীর জন্য’ (সূরা আল-হজ্জ : ২৬)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ لۡیَطَّوَّفُوۡا بِالۡبَیۡتِ الۡعَتِیۡقِ ‘তোমরা প্রাচীনগৃহ (কা‘বাকে) ত্বাওয়াফ কর’ (সূরা আল-হজ্জ : ২৯)।
হাদীছে এসেছে, আয়েশা ছিদ্দীক্বা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় পৌঁছে সর্বপ্রথম যে কাজ করেছেন তা ছিল এই যে, তিনি ওযূ করেন, এরপর বায়তুল্লাহ-এর ত্বাওয়াফ করেছেন, অতঃপর আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হজ্জ করেছেন। তিনি (মাক্কায় পৌঁছে) সর্বপ্রথম বায়তুল্লাহ-এর ত্বাওয়াফ করেছেন এবং এরপর ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-ও অনুরূপ করেছেন। অতঃপর ওছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হজ্জ করেছেন। আমি তাকে সর্বপ্রথম বায়তুল্লাহ-এর তা¡ওয়াফ করতে দেখেছি এবং এছাড়া অন্য কিছু করেননি। অতঃপর মু‘আবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ও আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-ও (অনুরূপ করেছেন)। এরপর আমি আমার পিতা যুবাইর ইবনুল ‘আউওয়াম (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে হজ্জ করেছি। তিনিও সর্বপ্রথম বায়তুল্লাহ-এর ত্বাওয়াফ করেছেন। এছাড়া অন্য কিছু করেননি। অতঃপর আমি মুহাজির ও আনছারদের অনুরূপ করতে দেখেছি। এছাড়া তারা অন্য কিছু করেননি। অতঃপর সর্বশেষে আমি যাকে অনুরূপ করতে দেখেছি, তিনি হচ্ছেন আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)। তিনি হজ্জকে ওমরাহ দ্বারা ভঙ্গ করেননি। আর সে ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তো তাদের মধ্যে বর্তমান আছে। তারা কেন তাকে জিজ্ঞেস করছে না? এভাবে যত লোক অতীত হয়েছে, তারা মক্কায় পা রেখেই সর্বপ্রথম বায়তুল্লাহ-এর ত্বাওয়াফ করতেন। অতঃপর তারা ইহরাম খুলতেন না। আর আমি, আমার মা [আসমা বিনতু আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)] ও আমার খালা [আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)]-কেও দেখেছি যে, তাঁরা মাক্কায় পৌঁছে প্রথমেই বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করেছেন। এরপরও ইহরাম খুলেননি।[১]
বায়তুল্লাহ ত্বাওয়াফ করা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, مَنْ طَافَ بِالْبَيْتِ وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَ كَعِتْقِ رَقَبَةٍ ‘যে ব্যক্তি কা‘বা ঘর ত্বাওয়াফ করল এবং দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করল, সে একজন গোলাম আযাদ করল।[২] অন্য হাদীছে এসছে, مَنْ طَافَ بِهَذَا الْبَيْتِ أُسْبُوعًا فَأَحْصَاهُ كَانَ كَعِتْقِ رَقَبَةٍ ‘যে ব্যক্তি সাতবার এই ঘরের ত্বাওয়াফ করবে, তার একটি দাসমুক্তির নেকী হবে’।[৩] অন্য বর্ণনায় এসেছে, مَنْ طَافَ سَبْعًا فَهُوَ كَعِدْلِ رَقَبَةٍ ‘যে ব্যক্তি সাতটি ত্বাওয়াফ করল, সে যেন একটি দাস মুক্ত করল’।[৪]
অন্য হাদীছে তিনি বলেন, لَا يَضَعُ قَدَمًا وَلَا يَرْفَعُ أُخْرَى إِلاَّ حطَّ اللهُ عَنْهُ بهَا خَطِيْئَةً وَكَتَبَ لَهُ بِهَا حَسَنَةً وَرَفَعَ لَهُ بِهَا دَرَجَةً ‘কোন ব্যক্তি ত্বাওয়াফের সময় যতবার পা উঠাবে বা নামাবে, ততবার আল্লাহ একটি গুনাহ ক্ষমা করবেন, একটি নেকী নির্ধারণ করবেন এবং একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন’।[৫]
আব্দুল্লাহ ইবনু উবায়েদ ইবনু ঊমায়ের হতে বর্ণিত, তিনি তার পিতাকে বলতে শুনেছেন, ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর চার দিকে সাতবার ত্বাওয়াফ করবে এবং দুই রাকা‘আত ছালাত আদায় করবে, তার জন্য গোলাম আযাদ সমপরিমাণ নেকী হবে। ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি তাঁকে আরো বলতে শুনেছি, مَا رَفَعَ رَجُلٌ قَدَمَا وَلَا وَضَعَهَا إِلَّا كُتِبَتْ لَهُ عَشْرُ حَسَنَاتٍ وَحُطَّ عَنْهُ عَشْرُ سَيِّئَاتٍ وَرُفِعَ لَهُ عَشْرُ دَرَجَاتٍ ‘কোন ব্যক্তি ত্বাওয়াফের সময় যতবার পা উঠাবে বা নামাবে, ততবার তার জন্য দশটি নেকী লিখে দেয়া হয়, দশটি গুনাহ ক্ষমা করা হয় ও দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়’।[৬]
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ مَنْ طَافَ بِالْبَيْتِ سُبُوْعًا وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَ مِثْلَ يَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ
আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর চার দিকে সাতবার ত্বাওয়াফ করবে এবং দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করবে, সে ঐ দিনের ন্যায় পবিত্র হয়ে যায়, যে দিন তার মাতা তাকে প্রসব করেছিল।[৭]
হাজারে আসওয়াদে চুম্বন, রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করা
ত্বাওয়াফকারী ত্বাওয়াফের সময় ‘হাজারে আসওয়াদ’ চুম্বন করবে এবং ‘রুকনে ইয়ামানী’ স্পর্শ করবে। ভীড় না থাকলে হাজারে আসওয়াদে চুম্বন করবে।[৮] সম্ভব না হলে হাত কিংবা হাতের লাঠি দ্বারা স্পর্শ করবে এবং হাতে বা লাঠিতে চুম্বন করবে।[৯] তাও সম্ভব না হলে কেবল হাত দ্বারা ইশারা করবে, কিন্তু হাতে চুম্বন করবে না।[১০] আর রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করা অত্যন্ত ফযীলতপূণ। এই কোণে কেবল স্পর্শ করবে।[১১] হাতে চুম্বন করবে না। স্পর্শ করতে না পারলে ইশারাও করা যাবে না। এখানে নির্দিষ্ট কোন দু‘আও পড়া যাবে না। তবে রুকনে ইয়ামানী ও হাজারে আসওয়াদের মাঝে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিম্নের দু‘আ পাঠ করতেন, رَبَّنَا آتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِى الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আপনি দুনিয়াতে আমাদেরকে কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন। আর আপনি আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন’।[১২]
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, إِنَّ مَسْحَهُمَا يَحُطَّانِ الْخَطِيْئَةَ ‘এই কোণাদ্বয় স্পর্শ করলে তা গোনাহ ঝরিয়ে দেয়’।[১৩] অন্য বর্ণনায় এসেছে, إِنَّ مَسْحَهُمَا كَفَّارَةٌ لِلْخَطَايَا ‘এই কোণাদ্বয় স্পর্শ করলে যাবতীয় পাপ ঝরে যায়’।[১৪] অন্য হাদীছে হাজারে আসওয়াদ সম্পর্কে এসেছে,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فِى الْحَجَرِ وَاللهِ لَيَبْعَثَنَّهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَهُ عَيْنَانِ يُبْصِرُ بِهِمَا وَلِسَانٌ يَنْطِقُ بِهِ يَشْهَدُ عَلَى مَنِ اسْتَلَمَهُ بِحَقٍّ
ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাজারে আসওয়াদ সম্পর্কে বলেন, আল্লাহর কসম ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে উঠাবেন, তখন তার দু’টি চোখ থাকবে, যা দ্বারা তা দেখবে এবং তার একটি জিহ্বা হবে, যা দ্বারা তা কথা বলবে এবং যে তাকে ঈমানের সাথে চুম্বন করেছে তার জন্য সাক্ষ্য দিবে।[১৫]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ نَزَلَ الْحَجَرُ الْأَسْوَدُ مِنَ الْجَنَّةِ وَهُوَ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ فَسَوَّدَتْهُ خَطَايَا بَنِيْ آدَمَ
ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাত হতে হাজারে আসওয়াদ অবতীর্ণ হয়েছিল দুধ হতেও বেশি সাদা অবস্থায়। কিন্তু এটিকে আদম সন্তানের গুনাহ কালো করে দিয়েছে।[১৬]
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ وَهُوَ مُسْنِدٌ ظَهْرَهُ إِلَى الْكَعْبَةِ يَقُوْلُ الرُّكْنُ وَالْمَقَامُ يَاقُوْتَتَانِ مَنْ يَوَاقِيْتِ الْجَنَّةِ وَلَوْلَا أَنَّ اللهَ طَمَسَ نُوْرَهُمَا لَأَضَاءَتَا مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ
আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কা‘বার সাথে তার পিঠ দিয়ে বলতে শুনেছি, হাজারে আসওয়াদ ও মাক্বামে ইবরাহীম জান্নাতের ইয়াকূতসমূহের মধ্য হতে দু’টি ইয়াকূত[১৭]। আর আল্লাহ যদি তাদের জ্যোতি দূর করে না দিতেন, তবে তারা পূর্ব-পশ্চিম দিগন্তের মধ্যে যা আছে তাকে জ্যোতির্ময় করে দিত।[১৮]
যমযমের পানি পান করা
ত্বাওয়াফ শেষ করে মাক্বামে ইবরাহীমের পিছনে গিয়ে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করবে।[১৯] প্রথম রাক‘আতে সূরা আল-কাফেরূন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে সূরা আল-ইখলাছ পড়বে।[২০] সম্ভব না হলে হারামের যেকোন স্থানে ছালাত পড়ে নিবে।[২১] অতঃপর যমযমের পানি পান করবে এবং মাথায় যমযমের কিছু পানি দিবে।[২২] মহান আল্লাহ বলেন,
رَبَّنَاۤ اِنِّیۡۤ اَسۡکَنۡتُ مِنۡ ذُرِّیَّتِیۡ بِوَادٍ غَیۡرِ ذِیۡ زَرۡعٍ عِنۡدَ بَیۡتِکَ الۡمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِیُـقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ فَاجۡعَلۡ اَفۡئِدَۃً مِّنَ النَّاسِ تَہۡوِیۡۤ اِلَیۡہِمۡ وَارۡ زُقۡہُمۡ مِّنَ الثَّمَرٰتِ لَعَلَّہُمۡ یَشۡکُرُوۡنَ
‘হে আমাদের রব, নিশ্চয় আমি আমার কিছু বংশধরদেরকে ফসলহীন উপত্যকায় আপনার পবিত্র ঘরের নিকট বসতি স্থাপন করালাম, হে আমাদের রব, যাতে তারা ছালাত কায়েম করে। সুতরাং কিছু মানুষের হৃদয় আপনি তাদের দিকে ঝুঁকিয়ে দিন এবং তাদেরকে রিযিক প্রদান করুন ফলÑফলাদি থেকে, আশা করা যায় তারা শুকরিয়া আদায় করবে (সূরা ইবরাহীম : ৩৭)। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মারফূ‘ সূত্রে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে,
অতঃপর তিনি যখন মারওয়া পাহাড়ে উঠলেন, তখন একটি শব্দ শুনতে পেলেন এবং তিনি নিজেকেই নিজে বললেন, একটু অপেক্ষা কর। তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। তখন তিনি বললেন, তুমি তো তোমার শব্দ শুনিয়েছ। যদি তোমার নিকট কোন সাহায্যকারী থাকে। হঠাৎ যেখানে যমযম কূপ অবস্থিত, সেখানে তিনি একজন ফেরেশতা দেখতে পেলেন। সেই ফেরেশতা আপন পায়ের গোড়ালি দ্বারা আঘাত করলেন অথবা তিনি বলেছেন, আপন ডানা দ্বারা আঘাত করলেন, ফলে পানি বের হতে লাগল। তখন হাযেরা (আলাইহিস সালাম)-এর চারপাশে নিজ হাতে বাঁধ দিয়ে এক হাউজের মত করে দিলেন এবং হাতের কোষভরে তাঁর মশকটিতে পানি ভরতে লাগলেন। তখনো পানি উপচে উঠছিল। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, يَرْحَمُ اللهُ أُمَّ إِسْمَاعِيْلَ لَوْ تَرَكَتْ زَمْزَمَ أَوْ قَالَ لَوْ لَمْ تَغْرِفْ مِنَ الْمَاءِ لَكَانَتْ زَمْزَمُ عَيْنًا مَعِيْنًا ‘ইসমাঈলের মাকে আল্লাহ রহম করুন। যদি তিনি বাঁধ না দিয়ে যমযমকে এভাবে ছেড়ে দিতেন কিংবা বলেছেন, যদি কোষে ভরে পানি মশকে জমা না করতেন, তাহলে যমযম একটি কূপ না হয়ে একটি প্রবাহমান ঝর্ণায় পরিণত হতো।[২৩]
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ مَاءُ زَمْزَمَ لِمَا شُرِبَ لَهُ
জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যমযমের পানি যে উপকার লাভের আশায় পান করা হবে, তা অর্জিত হবে।[২৪]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ خَيْرُ مَاءٍ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ مَاءُ زَمْزَمَ فِيْهِ طَعَامُ الطُّعْمِ وَشِفَاءُ السُّقْمِ
ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, পৃথিবীর বুকে সর্বোত্তম পানি হচ্ছে যমযমের পানি। এতে আছে ক্ষুধার্তের খাদ্য। রোগীর আরোগ্য।[২৫] রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরো বলেন,إِنَّهَا مُبَارَكَةٌ ‘নিশ্চয় এটা বরকতময়’।[২৬]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَاءُ زَمْزَمَ لِمَا شَرِبَ لَهُ إِنْ شَرِبْتَهُ تَسْتَشْفِيْ شَفَاكَ اللهُ وَإِنْ شَرِبْتَهُ لِشِبَعِكَ أَشْبَعَكَ اللهُ وَإِنْ شَرِبْتَهُ لِقَطْعِ ظَمَئِكَ قَطَعَهُ اللهُ
ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে উদ্দেশ্যে যমযমের পানি পান করা হয়, তা পূর্ণ হয়। যদি তুমি আরোগ্য লাভের জন্য তা পান কর, তাহলে আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করবেন। আর যদি তা পান কর পরিতৃপ্তির জন্য, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তার মাধ্যমে তোমাকে পরিতৃপ্ত করবেন। যদি তা ক্ষুধা নিবারণের জন্য পান কর, তাহলে আল্লাহ তোমার ক্ষুধা নিবারন করে দিবেন।[২৭]
ছাফা-মারওয়া সাঈ করা
হজ্জ ও ওমরাহর অন্যতম ইবাদত হলো ছাফা ও মারওয়া সাঈ করা। হাজীগণ যমযম পানি পান করার পর ছাফা পাহাড়ের দিকে যাবে এবং ছাফা হতে মারওয়া সাতবার সাঈ করবে। সাঈ সম্পাদনকারী ছাফা এবং মারওয়ার উপরে ক্বিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে হাত তুলে আল্লাহর একত্ব ও বড়ত্ব বর্ণনা করে বলবে,
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كَلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ أَنْجَزَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ
‘এক আল্লাহ ছাড়া আর কোন হক্ব মা‘বূদ নেই, যার কোন শরীক নেই। তাঁরই সকল রাজত্ব এবং তাঁর জন্যই যাবতীয় প্রশংসা। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। এক আল্লাহ ছাড়া আর কোন হক্ব মা‘বূদ নেই। তিনি তাঁর অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে বিজয়ী করেছেন এবং তিনি একাই শত্রু বাহিনীকে পরাস্ত করেছেন’।[২৮] এভাবে যত ইচ্ছা দু‘আ করবে। এটা তিনবার করবে।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
* সহকারী সম্পাদক, মাসিক আল-ইখলাছ।
তথ্যসূত্র :
[১]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২৩৫।
[২]. ইবনু মাজাহ, হা/২৯৫৬, সনদ ছহীহ।
[৩]. তিরমিযী, হা/৯৫৯, সনদ হাসান; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৯১৬।
[৪]. নাসাঈ, হা/২৯১৯, সনদ ছহীহ।
[৫]. তিরমিযী, হা/৯৫৯; ছহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৬৮৯; তারগীব, হা/১১৪৩; সনদ ছহীহ লিগাইরিহী।
[৬]. তিরমিযী, হা/৯৫৯; মিশকাত, হা/২৫৮০, সনদ ছহীহ।
[৭]. মুছান্নাফে ইবনু আবী শায়বাহ, হা/১২৮০৯, সনদ ছহীহ।
[৮]. ছহীহ বুখারী, হা/১৬১১; মিশকাত, হা/২৫৬৭।
[৯]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২৭৫; মিশকাত, হা/২৫৭১।
[১০]. ছহীহ বুখারী, হা/১৬১২; মিশকাত, হা/২৫৭০।
[১১]. ছহীহ বুখারী, হা/১৬০৯।
[১২]. আবূ দাঊদ, হা/১৮৯২; মিশকাত, হা/২৫৮১, সনদ হাসান।
[১৩]. নাসাঈ, হা/২৯১৯, সনদ ছহীহ।
[১৪]. তিরমিযী, হা/৯৫৯, সনদ ছহীহ।
[১৫]. তিরমিযী, হা/৯৬১, সনদ ছহীহ; মিশকাত, হা/২৫৭৮।
[১৬]. তিরমিযী, হা/৮৭৭; সনদ ছহীহ।
[১৭]. ইয়াকূত হল- জান্নাতে অবস্থিত এমন প্রবহমান নদী বা ঝর্ণা, যার পাড়গুলো হবে সোনা দ্বারা বাঁধা অথবা জান্নাতে স্থাপিত এমন আলোকরশ্মী যার দ্বারা দুনিয়ার সব অন্ধকার দূরীভূত হয়ে উজ্জ্বল আলোয় উদ্ভাসিত হবে। দ্রষ্টব্য : ইবনু হাজার আল-‘আসক্বালানী, ফাৎহুল বারী, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৪৬২।
[১৮]. তিরমিযী, হা/৮৭৮; মিশকাত, হা/২৫৭৯, সনদ ছহীহ।
[১৯]. ছহীহ বুখারী, হা/১৬২৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১২৩৪।
[২০]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২১৮।
[২১]. ছহীহ বুখারী, হা/১৬২৬।
[২২]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫২৮০, সনদ ছহীহ, ইরওয়াউল গালীল, হা/১০১৭।
[২৩]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৩৬৪।
[২৪]. ইবনু মাজাহ, হা/৩০৬২; সনদ ছহীহ।
[২৫]. ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল কাবীর, হা/১১১৬৭; সনদ হাসান, ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১১৬১।
[২৬]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৪৭৩।
[২৭]. দারাকুতনী, হা/২৭৩৯; মুসতাদরাক হাকেম, হা/১৭৩৯, সনদ হাসান।
[২৮]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২১৮; আবূ দাঊদ, হা/১৮৭২; মিশকাত, হা/২৫৭৫, সনদ ছহীহ।