সুন্নাহ বিরোধী ও সংশয় উত্থাপনকারীদের চক্রান্তসমূহ ও তার জবাব
- হাসিবুর রহমান বুখারী*
(১০ম কিস্তি)
সমর্পিত চিত্তে সুন্নাহর মর্যাদা ও প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করার মধ্যেই রয়েছে সমস্ত রকমের ভিন্নতা থেকে উত্তরণের উপায়
মুসলিম উম্মাহ পরস্পর ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং নিজেদের একতা ও সংহতি রক্ষা করা ইসলামের একটি মৌলিক ফরয। অনুরূপভাবে সুন্নাহর অনুসরণ তথা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর শরী’আত এবং তাঁর আদর্শকে সমর্পিত চিত্তে স্বীকার করা এবং বাস্তবজীবনে চর্চা করা তাওহীদ ও ঈমান বিল্লাহর পর ইসলামের সবচেয়ে বড় ফরয ইবাদত। সুতরাং যে দ্বীনের বিধান হল- উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি রক্ষা এবং বিভেদ ও অনৈক্য থেকে বেঁচে থাকা, সেই দ্বীনেরই বিধান সুন্নাহর অনুসরণ করা। তাই এই দু’য়ের মাঝে বিরোধ ও সংঘাত হতেই পারে না। সুতরাং একটির কারণে অপরটি ত্যাগ করারও প্রশ্ন আসে না। কিন্তু এখন আমরা এই দুঃখজনক বাস্তবতার সম্মুখীন যে, হাদীছ অনুসরণ নিয়ে উম্মাহর মাঝে বিবাদ-বিসংবাদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। উম্মাহর ঐক্য ও সংহতির প্রশ্নে হাদীছকে দায়ী করা হচ্ছে। অথচ হাদীছ হচ্ছে মূলত কুরআনের বিধি-বিধানেরই ব্যাখ্যা এবং তার সুবিন্যস্ত ও সংকলিত রূপ।
আমাদের অনেকেই সুন্নাহ অনুসরণের মর্ম ও তার সুন্নাহসম্মত পন্থা এবং সুন্নাহর প্রতি আহ্বানের সুন্নাহসম্মত উপায় সম্পর্কে দুঃখজনকভাবে উদাসীন। তদ্রূপ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতির সঠিক উপলব্ধি এবং ঐক্যবিনাশী বিষয়গুলো চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ভ্রান্তি ও বিভ্রান্তির শিকার। আদতে ইসলাম তাওহীদের দ্বীন এবং ঐক্যের ধর্ম। এখানে শিরকের সুযোগ নেই এবং অনৈক্য ও বিভেদের অবকাশ নেই। ইসলামে ঐক্যের ভিত্তি হচ্ছে তাওহীদ অর্থাৎ এক আল্লাহর ইবাদত ও এক আল্লাহর ভয়। এই তাওহীদপন্থী সমাজকে ইসলাম আদেশ করে সীরাতে মুস্তাক্বীম ও মুমিনদের আদর্শের উপর একতাবদ্ধ থাকার, নিজেদের ঐক্য ও সংহতি এবং সৌহার্দ ও সম্প্রীতি রক্ষা করার, ইজমা ও মুমিনদের পথের বিরোধিতা পরিহার করার এবং এমন সব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার যা উম্মাহর একতা বিনষ্ট করে এবং সম্প্রীতি ধ্বংস করে।
পূর্ববর্তী মুমিনদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে কুফর এবং পরস্পর কলহ-বিবাদে লিপ্ত হওয়া হারাম ও কাবীরা গুনাহ। বিষয়টি যদিও দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট এবং উম্মাহর সর্বসম্মত আক্বীদা, তবুও পুনস্মরণের স্বার্থে কিছু আয়াত ও হাদীছ উল্লেখ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মোটামুটি আটটি সূরার সর্বমোট ২৭টি আয়াত রয়েছে। এখানে কয়েকটি আয়াত উল্লেখ করা হল। মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَ اِنَّ هٰذِهٖۤ اُمَّتُكُمْ اُمَّةً وَّاحِدَةً وَّ اَنَا
رَبُّكُمْ فَاتَّقُوْنِ۰۰۵۲ فَتَقَطَّعُوْۤا اَمْرَهُمْ بَيْنَهُمْ زُبُرًا١ؕ كُلُّ
حِزْبٍۭ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُوْنَ۰۰۵۳ فَذَرْهُمْ فِيْ غَمْرَتِهِمْ حَتّٰى حِيْنٍ.
‘নিশ্চয় তোমাদের এই জাতি একই জাতি (তাওহীদের জাতি) এবং আমিই তোমাদের প্রতিপালক, অতএব তোমরা আমাকে ভয় কর। কিন্তু তারা নিজেদের দ্বীনকে নিজেদের মাঝে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে, বহু ভাগে বিভক্ত করেছে, প্রত্যেক দলই তাদের নিকট যা আছে, তা নিয়েই আনন্দিত। সুতরাং তুমি কিছুকালের জন্য তাদেরকে স্বীয় বিভ্রান্তিতে থাকতে দাও’ (সূরা আল-মুমিনুন : ৫২-৫৪; সূরা আল-আম্বিয়া : ৯২-৯৩)।
উপরিউক্ত আয়াতে নবীগণ যে তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছেন তা বর্ণনা করার পর বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে জাতি একটিই। আর তা হচ্ছে- তাওহীদের জাতি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘সমস্ত মানুষ প্রথমে এক জাতিই ছিল, অতঃপর তারা কুফর ও শিরকের মধ্যে লিপ্ত হয়ে মতভেদ সৃষ্টি করল’ (সূরা ইউনুস : ১৯; সূরা আল-বাক্বারাহ: ২১৩)। শিরক হল মানুষের নিজেদের মনগড়া কর্ম। কেননা, প্রথমে এর কোন অস্তিতত্ত্বই ছিল না। সকল মানুষ একই দ্বীন ও একই পথের পথিক ছিল, আর সে পথ হল- ইসলামের পথ, যার আসল ভিত্তি হল তাওহীদ। নূহ (আলাইহিস সালাম) পর্যন্ত মানুষ সেই তাওহীদের উপর অটল ছিল। পরবর্তীতে তাদের মাঝে তাওহীদের মতবিরোধ সৃষ্টি হয় এবং কিছু মানুষ আল্লাহর সাথে অন্যদেরকেও উপাস্য, প্রয়োজন পূরণকারী এবং দুঃখ-কষ্ট মোচনকারী ভাবতে আরম্ভ করে।
নিঃসন্দেহে উম্মাহর ঐক্য ও সংহতির কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে তাওহীদ। (তারা নিজেদের দ্বীনকে নিজেদের মাঝে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে) বাক্যে তাওহীদ এবং দ্বীনের অন্যান্য মৌলিক ও অকাট্য আক্বীদা ও বিধানসমহ অস্বীকার বা অপব্যাখ্যার মাধ্যমে আলাদা মিল্লাত ও আলাদা উম্মাত সৃষ্টির নিন্দা করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন দ্বীন, যার নির্দেশ দিয়েছিলেন নূহকে, আর যা আমরা ওহী করেছি আপনাকে এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে, এ বলে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টি কর না। আপনি মুশরিকদেরকে যার প্রতি ডাকছেন তা তাদের কাছে কঠিন মনে হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে তার দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে তিনি দ্বীনের দিকে হিদায়াত করেন। আর তাদের কাছে জ্ঞান আসার পর শুধু পারস্পরিক বিদ্বেষবশত তারা নিজেদের মধ্যে মতভেদ ঘটায়। আর এক নির্ধারিত কাল পর্যন্ত অবকাশ সম্পর্কে আপনার রবের পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকলে তাদের বিষয় ফয়সালা হয়ে যেত। আর তাদের পর যারা কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছে, নিশ্চয় তারা সে সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর সন্দেহে রয়েছে। সুতরাং আপনি আহ্বান করুন এবং দৃঢ় থাকুন, যেভাবে আপনি আদিষ্ট হয়েছেন। আর আপনি তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না, এবং বলুন, আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন আমি তাতে ঈমান এনেছি এবং আমি আদিষ্ট হয়েছি তোমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করতে। আল্লাহ আমাদের রব এবং তোমাদেরও রব। আমাদের আমল আমাদের এবং তোমাদের আমল তোমাদের; আমাদের ও তোমাদের মধ্যে কোন বিবাদ-বিসম্বাদ নেই। আল্লাহ আমাদেরকে একত্র করবেন এবং ফিরে যাওয়া তারই কাছে’ (সূরা আশ-শূরা : ১৩-১৫)।
দ্বীনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অর্থ- তাওহীদ বা অন্য কোন মৌলিক বিষয় সরাসরি অস্বীকার করে কিংবা তাতে অপব্যাখ্যা করে তাওহীদের উম্মাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া। অন্য অনেক আয়াতের মত উপরের আয়াতগুলোতেও স্পষ্ট নির্দেশনা আছে যে, দ্বীনের মৌলিক বিষয়ে মতভেদ হতে পারে না। এখানে মতভেদ অর্থই বিভেদ-বিচ্ছিন্নতা। আর এই বিভেদের দায় ঐ মতভেদকারীকেই বহন করতে হবে। যারা হক্বপন্থী তাদেরকে নয়। কারণ ঐক্যের ভিত্তি হচ্ছে তাওহীদ ও মৌলিক আক্বীদা ও বিধান। যারা এর উপর আছে তারা তো মূল পথেই রয়েছে। যারা মতভেদ করেছে তারা এই পথ থেকে সরে গিয়েছে এবং বিভেদ ও বিচ্ছিন্নতার জন্ম দিয়েছে। আর এ কথা বলাই বাহুল্য যে, তাওহীদের বিষয়ে বা দ্বীনের অন্য কোন মৌলিক বিষয়ে হক্ব থেকে বিচ্যুত হওয়া বা সন্দেহ-সংশয় পোষণ করা খেয়াল-খুশির অনুগামিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
সূরা আলে ইমরানের ১০২-১০৭ নং আয়াতের আলোকে আরও বুঝা যায় যে, তাওহীদপন্থী উম্মাহর পারস্পরিক সৌহার্দ ও সম্প্রীতি আল্লাহ তা‘আলার অনেক বড় নে‘মত। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আর অনুসারীগণ ‘আল্লাহর রজ্জুকে ধারণ করার এবং বিভক্ত ও বিচ্ছিন্ন না হওয়ার’ আদেশ পালন করছেন, যার পুরস্কার তারা দুনিয়াতে পেয়ে থাকেন পরস্পর সৌহার্দ ও সম্প্রীতির মাধ্যমে। আর আখিরাতে তাদের চেহারা উজ্জ্বল হবে। পক্ষান্তরে যারা কালিমাহ পাঠ করেও সুন্নাহ ছেড়ে বিদ‘আত অবলম্বন করবে কিংবা উম্মাহর ঐক্যে আঘাত করে মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হবে তাদেরও আশঙ্কা আছে আয়াতের কঠিন হুঁশিয়ারির মাঝে পড়ে যাওয়ার।
দল মূলত দু’টি। যথা : (১) হিযবুল্লাহ বা আল্লাহর দল, (২) হিযবুশ শয়তান বা শয়তানের দল। যার অন্তরে ঈমান আছে এবং মুমিনদের সাথে হৃদ্যতা পোষণ করে আর কাফির-মুশরিকদের থেকে সম্পর্কহীনতা প্রকাশ করে সে হিযবুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত। তাকে হিযুবল্লাহ থেকে খারিজ করা কিংবা হিযবুশ শয়তানের দিকে ইঙ্গিত করা সম্পূর্ণ হারাম। হিযবুল্লাহর মাপকাঠি হচ্ছে ঈমান, মুমিনদের প্রতি হৃদ্যতা এবং আহলে কুফর ও শিরকের সাথে শত্রুতা। বন্ধুত্ব ও শত্রুতার এই ইসলামী নীতি থেকে পরিষ্কার হয় যে, ঐক্যের অর্থ ঈমান ও ইসলামের সূত্রে একতাবদ্ধ থাকা। ঐক্যের ভিত্তি হবে তাওহীদ। তাওহীদ ত্যাগ করে এবং দ্বীনের মূলনীতি বিসর্জন দিয়ে কোনরূপ ঐক্য গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ তা করলে সে আল্লাহ ও রাসূল (ﷺ)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং তাওহীদ ও ইত্তিহাদের বিরুদ্ধে যায়। মহান আল্লাহ বলেন,
وَ اَطِيْعُوا اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ وَ لَا تَنَازَعُوْا فَتَفْشَلُوْا وَ تَذْهَبَ رِيْحُكُمْ وَ اصْبِرُوْا١ؕ اِنَّ اللّٰهَ مَعَ الصّٰبِرِيْنَۚ
‘এবং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর। পরস্পর বিবাদ করো না তাহলে দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব বিলুপ্ত হবে। আর ধৈর্যধারণ কর। নিশ্চিত জেনো, আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন’ (সূরা আল-আনফাল : ৪৬)। উক্ত আয়াতে একমাত্র আল্লাহকেই বিধানদাতা বলে বিশ্বাস করার আদেশ আছে। শর্তহীন আনুগত্য একমাত্র আল্লাহর এবং আল্লাহর আদেশে তাঁর রাসূলের। সাথে সাথে কলহ-বিবাদ থেকে বিরত থাকার আদেশ করা হয়েছে এবং এর বড় দু’টি কুফল সম্পর্কে সাবধান করা হয়েছে। যথা : (১) এর দ্বারা উম্মাহ শক্তিহীন হয়ে পড়বে, (২) তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি লোপ পাবে।
বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর আনুগত্য তথা সুন্নাহর অনুসরণের আদেশের সাথে ঐক্য ও সংহতি রক্ষা এবং কলহ-বিবাদ থেকে আত্মরক্ষার তাকীদ করা হয়েছে। এখান থেকে স্পষ্টরূপে বুঝা যায় যে, সুন্নাহর আনুগত্য বিভেদের নয় বরং ঐক্যের আহ্বায়ক। ঈমানী ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বিষয়ে হাদীছের মধ্যে এসেছে, আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘তোমরা ধারণা থেকে বেঁচে থাক। কারণ ধারণা হচ্ছে নিকৃষ্টতম মিথ্যা। তোমরা ওঁত পেতো না, গোপন দোষ অন্বেষণ করো না, স্বার্থের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ো না, হিংসা করো না, বিদ্বেষ পোষণ করো না, সম্পর্কচ্ছেদ করো না, পরস্পর কথাবার্তা বন্ধ করো না, একে অপর থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিও না, প্রতারণা করো না এবং নিজের ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের মাঝে ক্রয়-বিক্রয়ের চেষ্টা করো না। হে আল্লাহর বান্দারা! আল্লাহ যেমন আদেশ করেছেন, সবাই তোমরা আল্লাহর বান্দা ও ভাই ভাই হয়ে যাও’।[১]
আবূ বারযাহ আল-আসলামী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যারা মুখে মুখে ঈমান এনেছ, কিন্তু ঈমান তাদের অন্তরে এখনো প্রবেশ করেনি তারা শোন! মুসলিমের গীবত করো না এবং তাদের দোষত্রুটি অন্বেষণ করো না। কারণ যে তাদের দোষ খুঁজবে স্বয়ং আল্লাহ তার দোষ খুঁজবেন। আর আল্লাহ যার দোষ খুঁজবেন তাকে তার নিজের ঘরে লাঞ্ছিত করবেন।[২] ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ হাদীছের মধ্যে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। যেমন : নিজের কথা বা কাজের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন মুসলিমকে কষ্ট না দেয়ার আদেশ, কোন মুসলিমকে উপহাস ও তাচ্ছিল্য না করার আদেশ, মুসলিমদের মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠার এবং এর জন্য সহায়ক সকল পন্থা অবলম্বনের আদেশ ইত্যাদি। ক্বাযী আয়ায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘সম্প্রীতি দ্বীনের অন্যতম ফরয। শরী‘আতের অন্যতম রুকন এবং বৈচিত্রপূর্ণ মুসলিম সমাজকে একতাবদ্ধ করার উপায়’।[৩]
ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো অভিন্ন। সিংহভাগ মাসায়িলের বিধান সকল মাযহাবে এক ও অভিন্ন। যেমন : পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ফরয, সর্বমোট সতেরো রাকা’আত ছালাত ফরয, প্রতি রাকা’আতে একটি রুকু ও দু’টি সাজদাহ্, তাকবীরে তাহরীমার মাধ্যমে ছালাত শুরু হয় এবং সালামের মাধ্যমে শেষ হয় ইত্যাদি। ইবাদত থেকে মীরাছ পর্যন্ত শত শত নয় বরং হাজার হাজার মাসআলা আছে, যে ব্যাপারে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ একমত। অর্থাৎ এসব মাসআলায় গোটা উম্মাহর তথা মুজতাহিদ ইমামগণের ইজমা রয়েছে। আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামা’আতের কোন নির্ভরযোগ্য কিতাবে ভিন্ন বিধান পাওয়া যাবে না। এসব বিষয়ে ইজমা এ কারণেই হয়েছে যে, এই বিধানগুলো হয়তো কোন আয়াত বা মুতাওয়াতির হাদীছে সরাসরি বিদ্যমান রয়েছে। কিংবা এমন কোন ছহীহ হাদীছে আছে, যা উছূলে হাদীছের মানদণ্ডে দলীলযোগ্য হওয়ার বিষয়ে হাদীছ বিশেষজ্ঞ মুহাদ্দিছদের মাঝে কোন মতভিন্নতা নেই। অথবা ছাহাবী-তাবীঈনের যুগে কিংবা পরবর্তী ফক্বীহগণের মাঝে ঐ বিষয়ে ইজমা’ সংগঠিত হয়েছিল।
দ্বীন ইসলামে এমন অসংখ্য বিষয় রয়েছে যেগুলোকে কোন লোক ঐক্যের পরিপন্থী মনে করতে পারে অথচ তা উম্মাহর ঐক্য রক্ষার জন্যই যরূরী। যেমন—
- কুফর ও শিরক থেকে আলাদা থাকা। তাদের বাতিল বিষয়াদিতে সঙ্গ না দেয়া। তাদের জাতীয় নিদর্শন ও সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকা। তাদের সাথে অন্তরঙ্গতা না রাখা।
- বিদ’আতী ও বিচ্ছিন্নতার বিষয়ে একমত না হওয়া। প্রয়োজনে তাদের সাহচর্য গ্রহণ না করা। কারণ সাহচর্যের দ্বারা মানুষ প্রভাবিত হয়। কুপ্রবৃত্তির দাসত্বকারীদের সাহচর্য গ্রহণ করার বিষয়ে সালাফে ছালিহীনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
- প্রকাশ্যে গোনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের সংশ্রব থেকে দূরে থাকা।
- অন্যায় ও ভুল কাজে কারো সাহায্য না করা। দলাদলির ক্ষেত্রে কাউকে সঙ্গ না দেয়া।
- যেসব ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে ভুল হয়েছে এমন ক্ষেত্রে দলীলকে আঁকড়ে ধরা এবং আকাবির ও মাশাইখের তাক্বলীদ না করা।
- যালিমকে যুল্ম থেকে বিরত রাখা।
- ইলমী আদব রক্ষা করে মতবিনিময়ের উদ্দেশ্যে মতভেদপূর্ণ ইজতিহাদী বিষয়াদিতে দলীলের ভিত্তিতে আলোচনা-পর্যালোচনা করা।
প্রকৃত বাস্তবতা হল— আহলে কুরআন ও অন্যান্য বিচ্ছিন্ন জাহিল সম্প্রদায় তাদের ইবাদত ও দ্বীনের ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ নয়। জাহিল সম্প্রদায়-ই তাদের দ্বীনের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি করেছে। যেমন, আল্লাহ তা’আলা বলেন, كُلُّ حِزْبٍۭ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُوْنَ ‘প্রত্যেক দলই নিজেদের যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত’ (সূরা আর-রূম : ৩২)। এটাই তাদের শাস্তি ও পরীক্ষা। মানুষ যে বাতিলের উপর রয়েছে তা নিয়েই সে আনন্দবোধ করে। মানুষের উপর আবশ্যক এর বিপরীত অবস্থানে থাকা। মানুষের উচিত ভ্রষ্টতাকে এড়িয়ে চলা, সঠিক দ্বীন থেকে বিমুখ না হওয়া ও ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে শঙ্কিত থাকা। কিন্তু তারা এগুলোর বিপরীত কাজ করে। মানুষ চিন্তাই করে না সে কি হক্বের উপর আছে, না-কি বাতিলের উপর! বাপদাদা, পূর্ব-পুরুষ, আত্নীয়-স্বজন ও জাতি গোত্রের রীতিনীতিই যেন তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাতিল নিয়েই তারা আনন্দিত, এটাই তাদের শাস্তি। যখন মানুষ এভাবে আনন্দবোধ করে তখন সে এ থেকে মুখ ফিরাতে পারে না। এটা জাহিলদের স্বভাব। অনুরূপভাবে তারা দুনিয়ার ব্যাপারেও পার্থক্য সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করত, এ ধরণের কর্মকাণ্ডই সঠিক। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে দ্বীনে একতাবদ্ধ থাকার ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
شَرَعَ لَكُمْ مِّنَ الدِّيْنِ مَا وَصّٰى بِهٖ نُوْحًا وَّ الَّذِيْۤ اَوْحَيْنَاۤ اِلَيْكَ وَ مَا وَصَّيْنَا بِهٖۤ اِبْرٰهِيْمَ وَ مُوْسٰى وَ عِيْسٰۤى اَنْ اَقِيْمُوا الدِّيْنَ وَ لَا تَتَفَرَّقُوْا فِيْهِ
‘তিনি তোমাদের জন্য দ্বীন বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন, যে নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন, আর যা আমরা আপনার কাছে অহী পাঠিয়েছি এবং ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে যে নির্দেশ দিয়েছিলাম তা হল— তোমরা দ্বীন ক্বায়িম করবে এবং এতে বিছিন্ন হবে না (সূরা আশ-শূরা : ১৩)।
সকল নবী-রাসূলের দ্বীন এক। তা হল- একমাত্র আল্লাহ তা’আলার ইবাদত করা, যার কোন শরীক নেই। সাধারণভাবে তা ছিল সকল রাসূলের দ্বীন, এ ব্যাপারে কোন মতানৈক্য ও মতপার্থক্য গ্রহণযোগ্য নয়। এ দ্বীন এককভাবে কোন নবীর নয়, কোন জাতিরও নয়। বরং সকলের দ্বীন এক। সকল সৃষ্টির উপরই আল্লাহ্ তা’আলার একক দ্বীন সাব্যস্ত। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
اِنَّ الَّذِيْنَ فَرَّقُوْا دِيْنَهُمْ وَ كَانُوْا شِيَعًا لَّسْتَ مِنْهُمْ فِيْ شَيْءٍ
‘নিশ্চয় যারা তাদের দ্বীনকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং দল-উপদলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের কোন ব্যাপারে তোমার দায়িত্ব নেই’ (সূরা আল-আন‘আম : ১৫৯)। আল্লাহ তা‘আলা তাদের অনুকরণ করতে নিষেধ করে বলেন,
وَ لَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِيْنَ تَفَرَّقُوْا وَ اخْتَلَفُوْا مِنْۢ بَعْدِ مَا جَآءَهُمُ الْبَيِّنٰتُ
‘আর তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা বিভক্ত হয়েছে এবং মতবিরোধ করেছে তাদের নিকট স্পষ্ট নির্দশনসমূহ আসার পর। আর তাদের জন্যই রয়েছে কঠোর আযাব’ (সূরা আলে ইমরান : ১০৫)।
জাহিলদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা আমাদের জন্য নিষিদ্ধ। তাদের দ্বীনে তারা বিভক্তি ও মতপার্থক্য সৃষ্টি করেছে। এটা তাদের অজ্ঞতার কারণে হয়নি বরং তাদের কুপ্রবৃত্তির কারণে তা হয়েছে। সুতরাং দুনিয়ায় বিভক্তি সৃষ্টি করা থেকে তিনি আমাদেরকে নিষেধ করে বলেন, وَ اعْتَصِمُوْا بِحَبْلِ اللّٰهِ جَمِيْعًا وَّ لَا تَفَرَّقُوْا ‘আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং বিভক্ত হয়ো না’ (সূরা আলে ইমরান : ১০৩)। এ ব্যাপারে রাসূল (ﷺ) জাহিলদের বিরোধিতা করেন। দ্বীন ও দুনিয়া উভয় ব্যাপারে জাহিলরা বিভক্তি সৃষ্টি করে। তাদের স্বভাবই ছিল অনৈক্য থাকা ও বিভক্ত হওয়া। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
مِنَ الَّذِيْنَ فَرَّقُوْا دِيْنَهُمْ وَ كَانُوْا شِيَعًا١ؕ كُلُّ حِزْبٍۭ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُوْنَ
‘আর মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। যারা নিজেদের দ্বীনকে বিভক্ত করেছে এবং যারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে (তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না)। প্রত্যেক দলই নিজেদের যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত’ (সূরা আর-রূম : ৩২)।
এটাই ইয়াহুদী, খ্রিস্টান ও মূর্তিপূজক জাহিলদের বৈশিষ্ট্য। সমস্ত জাহিলী দল এভাবে তাদের দ্বীনের মধ্যে বিভক্তি ঘটায়। প্রত্যেকের নিজস্ব দ্বীন ছিল, যার দিকে তারা ডাকত ও আর ঐ দ্বীনে সম্পৃক্ত হত। খ্রিস্টানরা তাদের খ্রিষ্টীয় ধর্মের দিকে আহ্বান জানায় ও ইয়াহুদীরা তাদের ইহুদী ধর্মের দিকে ডাকে। আর তারা প্রত্যেকে অন্যের দ্বীনকে অস্বীকার করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَ قَالَتِ الْيَهُوْدُ لَيْسَتِ النَّصٰرٰى عَلٰى شَيْءٍ١۪ وَّ قَالَتِ النَّصٰرٰى لَيْسَتِ الْيَهُوْدُ عَلٰى شَيْءٍ١ۙ وَّ هُمْ يَتْلُوْنَ الْكِتٰبَ١ؕ كَذٰلِكَ قَالَ الَّذِيْنَ لَا يَعْلَمُوْنَ مِثْلَ قَوْلِهِمْ
‘আর ইয়াহুদীরা বলে, খ্রিস্টানদের কোন ভিত্তি নেই এবং খ্রিস্টানরা বলে ইয়াহুদীদের কোন ভিত্তি নেই। অথচ তারা কিতাব পাঠ করে। এভাবেই, যারা কিছু জানে না, তারা তাদের কথার মত কথা বলে’ (সূলা আল-বাক্বারাহ : ১১৩)।
যারা দ্বীন সম্পর্কে জানে না তারা মুশরিক। কেননা তাদের কোন কিতাব নেই, আর আসমানী কোন দ্বীনও নেই। তারা পরস্পরকে কাফির বলে আখ্যা দেয় এবং পরস্পরে বিরোধিতায় লিপ্ত হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
فَاللّٰهُ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيٰمَةِ فِيْمَا كَانُوْا فِيْهِ يَخْتَلِفُوْنَ
‘সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামত দিবসে যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করত সে বিষয়ে তাদের মধ্যে ফায়সালা করবেন’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১১৩)। আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন— কে হক্বের উপর এবং কে বাতিলের উপর রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলার দ্বীন একটিই। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর আমি জিন্ন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমার ‘ইবাদত করবে’ (সূরা আয-যারিয়াত : ৫৬)।
সকল সৃষ্টি বলতে জিন্ন ও মানব জাতি উদ্দেশ্য, তাদের দ্বীন এক হওয়ার আবশ্যকতা প্রমাণিত হয়। আর তা হল— তাওহীদ। যাতে ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর এককত্ব প্রকাশ করা হয়। রাসূলগণের ভাষায় মানুষের জন্য স্পষ্টভাবে ইবাদতের পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়। আল্লাহ তা‘আলা মানুষের নিকট নাবী-রাসূল প্রেরণ করে তাদের উপর কিতাব নাযিল করেন। আর বলা হয় এটাই দ্বীন ও এটাই ইবাদত, এটাই সমন্বয়সাধন ও দ্বীনের সমাপ্তি। মানুষের অধিকার নেই যে, তারা দ্বীন তৈরি করে নিজেদের জন্য তা বিধিবদ্ধ করে নিবে। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, يٰۤاَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوْا رَبَّكُمُ الَّذِيْ خَلَقَكُمْ وَ الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَۙ ‘হে মানুষসকল! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত কর, যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদেরকে, যাতে তোমরা তাক্বওয়া অবলম্বন কর’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২১)।
ইয়াহুদী, খ্রিস্টান, মূর্তিপূজক, আরব জাতি ও অনারব জাতি সকল সৃষ্টির জন্য দ্বীন একটিই। ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্যই নির্ধারিত, যার কোন শরীক নেই। ঐ সব জাহিলরা তাদের দ্বীনকে বিভক্ত করে। তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে একদল অপরের দ্বীনের বিরোধিতা করে। ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানরা নিজেদের মাঝে মতবিরোধে লিপ্ত হয় তারা সবাই ভিন্ন ভিন্ন মতে বিভক্ত, এমনকি বর্তমানেও তারা মতবিরোধের উপর প্রতিষ্ঠিত। অনুরূপভাবে আরবের মূর্তিপূজকরাও তাদের ইবাদতে মতপার্থক্য সৃষ্টি করে। তাদের মধ্যে কেউ সূর্য ও চন্দ্রপূজা করে, আবার কেউ করে মূর্তিপূজা, কেউ ফেরেশতা, আওলীয়া ও নেক লোকদের পূজা করে এবং কেউ গাছ ও পাথর পূজা করে, এটাই জাহিলদের অবস্থা। তাদের দ্বীন তাদেরকে একীভূত করতে পারেনি। তাদের অনেক দল রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
اَمْ لَهُمْ شُرَكٰٓؤُا شَرَعُوْا لَهُمْ مِّنَ الدِّيْنِ مَا لَمْ يَاْذَنْۢ بِهِ اللّٰهُ
‘নাকি তাদের জন্য এমন কিছু শরীক আছে, যারা তাদের জন্য দ্বীনের বিধান দিয়েছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?’ (সূরা আশ-শূরা : ২১)।
এটা আল্লাহ তা‘আলাকে অস্বীকার করা বুঝায়। আল্লাহ্ তা‘আলা যা তাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন তা পালন করা তাদের উপর আবশ্যক। তার কিতাব সমূহে ও রাসূলগণের ভাষায় আল্লাহ তা‘আলা দ্বীনের বর্ণনা দিয়েছেন, দ্বীনের সমাপ্তি টেনেছেন। আর রাসূলগণ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দ্বীনের প্রচারক। বান্দার জন্য আল্লাহ তা‘আলা যা বিধিবদ্ধ করেছেন তারা তা প্রচার করতেন। এটা ছিল রাসূলগণের দায়িত্ব। দ্বীনের পদ্ধতি অনুসারে তারা ইবাদত করতেন। জাতির জন্য নির্ধারিত দ্বীনের বিধিবদ্ধ নিয়মানুসারে আল্লাহর বান্দারা তার ইবাদত করে।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
* মুর্শিদাবাদ, ভারত।
তথ্যসূত্র:
[১]. ছহীহ বুখারী, হা/৫১৪৩, ৬০৬৪, ৬০৬৫; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৬৩, ২৫৬৪।
[২]. মুসনাদে আহমদ, হা/১৯৭৭৬; আবূ দাঊদ, হা/৪৮৮০।
[৩]. শারহু ছহীহ মুসলিম, ২য় খণ্ড, পৃ. ১০।