বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন

ইসলামী দৃষ্টিতে বিয়ে ও দাম্পত্য জীবন 

- আবূ মাহদী মামুন বিন আব্দুল্লাহ* 


(৩য় কিস্তি)  

ইসলামী বিয়ের প্রকৃতি

ইসলামের প্রতিটি আমলের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও ধরণ রয়েছে, বিয়েও এর ব্যতিক্রম নয়। ইসলামে বিয়ের উদ্দেশ্য শুধু দাম্পত্য জীবন নয়; বরং সমাজে পবিত্রতা রক্ষা, বংশবিস্তার এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। উপযুক্ত বয়সে ছেলে-মেয়ের অভিভাবক বিয়ের প্রস্তাব দেন। উভয়ের সম্মতি হলে নির্ধারিত দিনে ন্যায়পরায়ণ দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মেয়ের অভিভাবক নির্দিষ্ট মোহর (মোহরানা)-এর বিনিময়ে বিয়ে সম্পন্ন করেন। এরপর পাত্র ‘কবুল’ বলে গ্রহণ করে, যাকে ইজাব ও কবুল বলা হয়। কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে নিচে ইসলামী বিয়ের কিছু প্রকৃতি আলোচনা করা হলো।

(১) নিয়ত শুদ্ধ করা

বিয়ের আগে ছেলে মেয়ের উচিত নিজ নিজ নিয়ত ঠিক করা। নিজেকে খারাপ কাজ ও অবৈধ সম্পর্ক থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই বিয়ে করতে হবে। তাহলে উভয়েই সওয়াব লাভ করবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

وَفِىْ بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ أَيَأْتِى أَحَدُنَا شَهْوَتَهُ وَيَكُوْنُ لَهُ فِيهَا أَجْرٌ؟ قَالَ: أَرَأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِىْ حَرَامٍ أَكَانَ عَلَيْهِ فِيهَا وِزْرٌ؟ فَكَذَلِكَ إِذَا وَضَعَهَا فِى الْحَلاَلِ كَانَ لَهُ أَجْرٌ

‘তোমাদের কারো স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কও ছাদাক্বাহ। ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাদের কেউ কি নিজের জৈবিক চাহিদা পূরণ করবে এবং এজন্যও সে নেকী পাবে? নবী করীম (ﷺ) বললেন, তোমরা কী মনে কর, যদি সে ঐ চাহিদা হারাম পথে মেটাতো, তবে কি তার গুনাহ হতো না? সুতরাং যখন সে তা হালাল উপায়ে পূরণ করে, তখন তার জন্য নেকী রয়েছে’।[১]

বিয়ে যদি শুধুমাত্র দুনিয়াবি স্বার্থ, সৌন্দর্য বা সামাজিক মর্যাদার জন্য করা হয়, তাহলে তা সাধারণ একটি সামাজিক চুক্তিতে সীমাবদ্ধ থাকে; কিন্তু যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, নিজেকে হারাম থেকে রক্ষা এবং একটি পবিত্র জীবন গঠনের উদ্দেশ্যে করা হয়, তাহলে সেটি ইবাদতে পরিণত হয়। সুতরাং বিয়ের ক্ষেত্রে নিয়ত শুদ্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যে কোনো আমলের গ্রহণযোগ্যতা মূলত নিয়তের উপর নির্ভরশীল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى ‘সমস্ত কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে, যা সে নিয়ত করেছে’।[২]

(২) পাত্র-পাত্রীর সম্মতি

বিয়ের মধ্যমনি হলো পাত্র-পাত্রী বা বর-কনে, যারা সারা জীবন একসাথে ঘর-সংসার করবে। সুতরাং বিয়ের পূর্বে তাদের উভয়ের স্পষ্ট সম্মতি থাকা আবশ্যক। কোন অবস্থাতেই কোন ছেলে-মেয়েকে তার অসম্মতিতে বিয়ে করতে বাধ্য করা উচিত নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا یَحِلُّ لَکُمۡ اَنۡ تَرِثُوا النِّسَآءَ کَرۡہًا ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য বৈধ নয় যে, তোমরা বলপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকারী হবে’ (সূরা আন-নিসা : ৪/১৯)। নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, لاَ تُنْكَحُ الأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ وَلاَ تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ وَكَيْفَ إِذْنُهَا؟ قَالَ أَنْ تَسْكُتَ ‘বিধবাকে তার সম্মতি না নিয়ে বিয়ে দেওয়া যাবে না, আর কুমারীকে তার অনুমতি না নিয়ে বিয়ে দেওয়া যাবে না। তারা জিজ্ঞেস করল, তার অনুমতি কীভাবে হবে? তিনি বললেন, চুপ থাকাই হচ্ছে তার অনুমতি’।[৩] অন্য বর্ণনায় রয়েছে, وَالْبِكْرُ تُسْتَأْذَنُ فِىْ نَفْسِهَا وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا ‘যুবতী বা কুমারী মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে পিতাকে তার অনুমতি নিতে হবে। আর তার অনুমতি হচ্ছে চুপ থাকা’।[৪]

কুমারী মেয়ে বিবাহের প্রস্তাব শুনার পর চুপ থাকলে তার সম্মতি আছে বলে ধরে নিতে হবে। কিন্তু বিধবা মহিলার ক্ষেত্রে সরাসরি সম্মতি নিতে হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘বিধবা মেয়েরা নিজেদের ব্যাপারে ওলীর থেকে অধিক হক্বদার’।[৫] এছাড়াও কোন মেয়েকে অভিভাবক তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দিলে সে ইচ্ছা করলে বিয়ে বহাল রাখতে পারে, ইচ্ছা করলে বিয়ে ভঙ্গ করতে পারে।[৬]

(৩) অভিভাবক বা ওলীর অনুমতি

ছেলে-মেয়ের সম্মতির পাশাপাশি অভিভাবকের সম্মতিও প্রয়োজন। বিশেষ করে মেয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি অপরিহার্য। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ ‘ওলী ছাড়া কোনো বিয়ে নেই’।[৭] তিনি আরো বলেন,

أَيُّمَا امْرَأَةٍ نُكِحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَإِنْ دَخَلَ بِهَا فَلَهَا الْمَهْرُ بِمَا اسْتَحَلَّ مِنْ فَرْجِهَا فَإِنِ اشْتَجَرُوْا فَالسُّلْطَانُ وَلِىُّ مَنْ لاَ وَلِىَّ لَهُ

‘যদি কোনো নারী তার ওলীর অনুমতি ছাড়া বিয়ে করে, তবে তার বিয়ে বাতিল, বাতিল, বাতিল। এইরূপ অবৈধ পন্থায় বিবাহিত নারীর সাথে সহবাস করলে তাকে মোহর দিতে হবে। কারণ স্বামী মোহরের বিনিময়ে তার লজ্জাস্থানকে ব্যবহার করেছে। যদি ওলীগণ বিবাদ করেন, তবে যার ওলী নেই তার ওলী দেশের শাসক’।[৮]

ছেলে মেয়েকে লালন-পালনের পাশাপাশি অভিভাবকের দায়িত্ব হলো যোগ্য স্থানে বিয়ের ব্যবস্থা করা। অভিভাবক সাধারণতঃ পিতা, দাদা, ভাই, চাচা ইত্যাদি। পিতার উপস্থিতিতে অন্য কেউ ওলী হতে পারবে না। অপরদিকে কোনো মহিলা ওলী হতে পারবে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, لاَ تُزَوِّجُ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ وَلاَ تُزَوِّجُ الْمَرْأَةُ نَفْسَهَا فَإِنَّ الزَّانِيَةَ هِىَ الَّتِى تُزَوِّجُ نَفْسَهَا ‘কোনো নারী কোনো নারীর বিয়ে দিতে পারে না এবং কোন নারী নিজে বিয়ে করতে পারে না। কোনো নারী নিজেই বিয়ে করলে সে ব্যভিচারী বলে গণ্য হবে’।[৯]

(৪) পাত্র-পাত্রীর মধ্যে সমতা

বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার আগে লক্ষ্য করতে হবে পাত্র-পাত্রীর মধ্যে সমতা আছে কিনা। সম্পদ ও বংশ মর্যাদার সমতা হলে ভালো হয়, তবে অবশ্যক নয়। কিন্তু দ্বীনের বিষয়ে সমতা থাকা একান্ত যরূরী। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

تُنْكَحُ المَرْأَةُ لأرْبَعٍ: لِمالِها ولِحَسَبِها، وجَمالِها، ولِدِينِها، فاظْفَرْ بذاتِ الدِّينِ، تَرِبَتْ يَداكَ

‘সাধারণতঃ নারীদেরকে চারটি গুণ দেখে বিয়ে করা হয়। তার ধন-সম্পদ, বংশ-মর্যাদা, সৌন্দর্য এবং ধর্ম। তোমরা ধার্মিক মেয়েকে অগ্রাধিকার দাও। অন্যথায় তোমাদের উভয় হস্ত অবশ্যই ধূলায় ধূসরিত হবে’।[১০] রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, وَانْكِحُوا الأَكْفَاءَ وَأَنْكِحُوا إِلَيْهِمْ ‘তোমরা বিয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্রী নির্বাচন কর এবং সমতা দেখে বিয়ে কর’।[১১]

তবে বিয়েতে সমতা হবে কেবল দ্বীনদারী ও চরিত্রের ক্ষেত্রে। যেমন আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ولكن يجب أن نعلم أن الكفاءة إنما هي في الدين والخلق فقط ‘তবে জানা আবশ্যক যে, সমতা হচ্ছে কেবল দ্বীনদারী ও চরিত্রের ক্ষেত্রে’।[১২] রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,مَنْ تَرْضَوْنَ دِيْنَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوْهُ ‘যার দ্বীনদারী এবং উত্তম আচরণে তোমরা সন্তুষ্ট, তার সাথে বিয়ে দাও’।[১৩]

(৫) বিয়ের প্রস্তাব

বর বা কনে যে কোনো এক পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসতে পারে। এমনকি বর সরাসরি কনেকে অথবা কনে সরাসরি বরকেও প্রস্তাব দিতে পারে। ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে,

أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ حِينَ تَأَيَّمَتْ حَفْصَةُ بِنْتُ عُمَرَ مِنْ خُنَيْسِ بْنِ حُذَافَةَ السَّهْمِيِّ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَتُوُفِّيَ بِالْمَدِينَةِ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَتَيْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ فَعَرَضْتُ عَلَيْهِ حَفْصَةَ فَقَالَ سَأَنْظُرُ فِي أَمْرِي فَلَبِثْتُ لَيَالِيَ ثُمَّ لَقِيَنِي فَقَالَ قَدْ بَدَا لِي أَنْ لاَ أَتَزَوَّجَ يَوْمِي هٰذَا قَالَ عُمَرُ فَلَقِيتُ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ فَقُلْتُ إِنْ شِئْتَ زَوَّجْتُكَ حَفْصَةَ بِنْتَ عُمَرَ فَصَمَتَ أَبُو بَكْرٍ فَلَمْ يَرْجِعْ إِلَيَّ شَيْئًا وَكُنْتُ أَوْجَدَ عَلَيْهِ مِنِّي عَلٰى عُثْمَانَ فَلَبِثْتُ لَيَالِيَ ثُمَّ خَطَبَهَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَنْكَحْتُهَا إِيَّاه“ فَلَقِيَنِي أَبُو بَكْرٍ فَقَالَ لَعَلَّكَ وَجَدْتَ عَلَيَّ حِينَ عَرَضْتَ عَلَيَّ حَفْصَةَ فَلَمْ أَرْجِعْ إِلَيْكَ شَيْئًا قَالَ عُمَرُ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ أَبُو بَكْرٍ فَإِنَّه“ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أَرْجِعَ إِلَيْكَ فِيمَا عَرَضْتَ عَلَيَّ إِلاَّ أَنِّي كُنْتُ عَلِمْتُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ ذَكَرَهَا فَلَمْ أَكُنْ لِأُفْشِيَ سِرَّ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَلَوْ تَرَكَهَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَبِلْتُهَا

‘যখন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মেয়ে হাফসা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) খুনায়স ইবনে হুযাইফা সাহমীর মৃত্যুতে বিধবা হলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর একজন ছাহাবী ছিলেন এবং মদীনায় ইন্তিকাল করেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি উছমান ইবনু আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে গেলাম এবং হাফসাকে বিয়ে করার জন্য প্রস্তাব দিলাম; তখন তিনি বললেন, আমি এ ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করে দেখি। এরপর আমি কয়েক রাত অপেক্ষা করলাম, তারপর আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, আমার কাছে এটা প্রকাশ পেয়েছে যে, যেন এখন আমি তাকে বিয়ে না করি। উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, তারপর আমি আবূ বকর ছিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম, যদি আপনি চান তাহলে আপনার সঙ্গে উমরের মেয়ে হাফসাকে বিয়ে দেই। আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নীরব থাকলেন এবং প্রতিত্তরে আমাকে কিছুই বললেন না। এতে আমি উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর চেয়ে অধিক অসন্তুষ্ট হলাম, তারপর আমি কয়েক রাত অপেক্ষা করলাম।

তারপর রাসূলুল্লাহ‌ (ﷺ) হাফসাকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব পাঠালেন এবং হাফসাকে আমি তার সঙ্গে বিয়ে দিলাম। এরপর আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, সম্ভবত আপনি আমার উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। আপনি যখন হাফসাকে আমার জন্য পেশ করেন, তখন আমি কোন উত্তর দেইনি। উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আপনার প্রস্তাবে সাড়া দিতে কোন কিছুই আমাকে বিরত করেনি এ ছাড়া যে, আমি জানি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাফসার বিষয় উল্লেখ করেছেন। আর রাসূলুল্লাহ‌ (ﷺ)-এর গোপন ভেদ প্রকাশ আমার পক্ষে কখনও সম্ভব নয়। যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা ত্যাগ করতেন, তাহলে আমি হাফসাকে গ্রহণ করতাম’।[১৪]

অন্য এক হাদীছে এসেছে, আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, একজন মহিলা নবী করীম (ﷺ)-এর কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনার কি আমার প্রয়োজন আছে?[১৫]

তবে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পূর্বে লক্ষ্য করতে হবে যে, এই মহিলাকে অন্য কেউ বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে কিনা? যদি দিয়ে থাকে তাহলে নতুন করে প্রস্তাব দেওয়া যাবে না। নবী করীম (ﷺ) এক ভাই (ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে) দর-দাম করলে অন্যকে দরদাম করতে নিষেধ করেছেন এবং এক মুসলিম ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের উপর অন্য ভাইকে প্রস্তাব দিতে নিষেধ করেছেন, যতক্ষণ না প্রথম প্রস্তাবকারী তার প্রস্তাব উঠিয়ে নেয় বা তাকে অনুমতি দেয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, وَلاَ يَخْطُبُ الرَّجُلُ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ، حَتَّى يَنْكِحَ أَوْ يَتْرُكَ ‘কোনো ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না করে, যতক্ষণ না সে বিয়ে করে অথবা প্রত্যাখ্যান করে’।[১৬] যাদেরকে বিয়ে করা ইসলামে হারাম করা হয়েছে, তাদেরকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

(ইনশাআল্লাহ চলবে)

 

* দাওরায়ে হাদীছ, মাদরাসাতুল হাদীস, নাজির বাজার, ঢাকা। অধ্যয়নরত, আক্বীদা ও দাওয়াহ বিভাগ, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব।

তথ্যসূত্র :
[১]. ছহীহ মুসলিম, হা/১০০৬।
[২]. ছহীহ বুখারী, হা/১।
[৩]. ছহীহ বুখারী, হা/৫১৩৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪১৯।
[৪]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৪১৯।
[৫]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৪২১।
[৬]. আবূ দাঊদ, হা/২০৯৬; ইবনে মাজাহ, হা/১৮৭৩।
[৭]. আবূ দাঊদ, হা/২০৮৫; তিরমিযী, হা/১১০১।
[৮]. আবূ দাঊদ, হা/২০৮৩; তিরমিযী, হা/১১০২।
[৯]. ইবনে মাজাহ, হা/১৮৮২, মিশকাত, হা/৩১৩৭; বুলূগুল মারাম, হা/৯৮৬।
[১০]. ছহীহ বুখারী, হা/৫০৯০; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৬৬।
[১১]. ইবনে মাজাহ, হা/১৯৬৮; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১০৬৭।
[১২]. সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১০৬৭-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।
[১৩]. ইবনে মাজাহ, হা/১৯৬৭; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১০২২।
[১৪]. ছহীহ বুখারী, হা/৫১২২।
[১৫]. ছহীহ বুখারী, হা/৫১২০।
[১৬]. ছহীহ বুখারী, হা/৫১৪৪।




প্রসঙ্গসমূহ »: পরিবার বিবাহ ও তালাক
মাতুরীদী মতবাদ ও তাদের ভ্রান্ত আক্বীদাসমূহ (১৫তম কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
সুন্নাতের আলো বিদ‘আতের অন্ধকার (৯ম কিস্তি) - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
সূদ-ঘুষ ও অবৈধ ব্যবসা (৪র্থ কিস্তি) - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর
বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কারে আলিমগণের গৃহীত মূলনীতিসমূহ: একটি পর্যালোচনা (৯ম কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
মুসলিম বিভক্তির কারণ ও প্রতিকার (২য় কিস্তি) - ড. মুযাফফর বিন মুহসিন
ক্যারিয়ার : শিক্ষক নিবন্ধনের প্রস্তুতির ধরন ও বিষয়াবলী - ড. মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ
ইসলামী জামা‘আতের মূল স্তম্ভ (৪র্থ কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ মুছলেহুদ্দীন
জঙ্গিবাদ বনাম ইসলাম (৪র্থ কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
মুহাররম ও আশূরা : গুরুত্ব, করণীয় ও বর্জনীয় - আবূ মাহদী মামুন বিন আব্দুল্লাহ
ছালাতে একাগ্রতা অর্জনের ৩৩ উপায় (৪র্থ কিস্তি) - আব্দুল হাকীম বিন আব্দুল হাফীজ
নক্ষত্র গড়ার কারিগর : মহীয়সী আম্মুদের গল্প - আযহারুল ইসলাম
মাতুরীদী মতবাদ ও তাদের ভ্রান্ত আক্বীদাসমূহ (৩য় কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম

ফেসবুক পেজ