বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন

সৎ স্ত্রীর গুণাবলী

 -মূল: আব্দুর রাযযাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-বদর 
 -অনুবাদ: সাইনুল ইসলাম বিন শাহজাহান আলী* 


[গত সংখ্যার পর থেকে]  

সৎ স্ত্রীর গুণাবলীর মধ্যে আরও রয়েছে  : শয়তান থেকে সাবধান থাকা। শয়তানের কাজ এই জীবনে ক্ষতি সৃষ্টি করা। যেমন : দ্বীন নষ্ট করা, চরিত্র নষ্ট করা, পারস্পরিক আচরণ নষ্ট করা, দাম্পত্য জীবন নষ্ট করা, ভ্রাতৃত্ব নষ্ট করা এবং সব ধরনের সৎকাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করা। প্রতিদিন সে তার দায়িত্ব সম্পাদনের জন্য দূত ও সৈন্য পাঠায়।

আর আমরা এই হাদীছটি গভীরভাবে চিন্তা করি। নবী (ﷺ) বলেছেন, إِنَّ إِبْلِيسَ يَضَعُ عَرْشَهُ عَلَى الْمَاءِ ثُمَّ يَبْعَثُ سَرَايَاهُ ‘নিশ্চয়ই ইবলীস তার সিংহাসন পানির উপর স্থাপন করে, এরপর সে তার সৈন্য ও দূত প্রেরণ করে’। অর্থাৎ সে  ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টির জন্য সৈন্য ও দল প্রেরণ করে।  (فَأَدْنَاهُمْ مِنْهُ مَنْزِلَةً أَعْظَمُهُمْ فِتْنَةً) ‘তন্মধ্যে তার সর্বাধিক নৈকট্য অর্জনকারী সেই, যে সবচেয়ে বেশী ফিতনাহ সৃষ্টিকারী। অর্থাৎ তার নিকট সর্বাধিক মর্যাদাবান সেই, যে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফিতনা সৃষ্টি করে। (يَجِىءُ أَحَدُهُمْ) তাদের একজন এসে বলে। অর্থাৎ এই সৈন্যদের একজন আসে, فَيَقُولُ فَعَلْتُ كَذَا وَكَذَا فَيَقُولُ مَا صَنَعْتَ شَيْئًا ‘আমি অমুক অমুক কাজ করেছি। সে বলে, তুমি কিছুই করনি। অর্থাৎ তখন শয়তান বলে, তুমি তো কোনো কাজই করনি। অতঃপর অন্যজন এসে বলে, مَا تَرَكْتُهُ حَتَّى فَرَّقْتُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ امْرَأَتِهِ قَالَ فَيُدْنِيهِ مِنْهُ وَيَقُولُ نِعْمَ أَنْتَ ‘অমুকের সাথে আমি সকল প্রকার ধোকার আচরণই করেছি। এমনকি তার থেকে তার স্ত্রীকে আলাদা করে দিয়েছি। তারপর শয়তান তাকে তার নিকটবর্তী করে নেয় এবং বলে, হ্যাঁ, তুমি কতইনা উত্তম![১]

বর্ণনাকারী আল-আ‘মাশ বলেন, আমার ধারণা, তিনি বলেছেন, فَيَلْتَزِمُهُ ‘অতঃপর শয়তান তার সাথে আলিঙ্গন করে। অর্থাৎ শয়তান তাকে জড়িয়ে ধরে ও নিকটস্থ করে, যখন সে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায়।

এক্ষেত্রে একজন সৎ স্ত্রীর জন্য প্রয়োজন এই বিষয়টি গভীরভাবে বোঝা এবং এই সত্যটি উপলব্ধি করা। একইভাবে তার স্বামীর জন্যও প্রয়োজন, যেন তারা উভয়েই বুঝতে পারে যে, একটি অদৃশ্য শত্রু রয়েছে, যা তোমাকে দেখে, কিন্তু তুমি তাকে দেখতে পারো না এবং যা তোমার শরীরের রক্তের মতো প্রবাহিত হয়।

সে কুমন্ত্রণা দেয়, অন্তরে ফিসফিস করে, চক্রান্ত ও কৌশল চালায়, সবই সে করে, অথচ তুমি তাকে দেখতে পারো না। সে তোমার হৃদয় এবং তার হৃদয়ে সন্দেহ ও কুমন্ত্রণা নিক্ষেপ করে, যার ফলে অবশেষে শত্রুতা সৃষ্টি হয়। তার অনুপ্রবেশের অনেকগুলো মাধ্যম রয়েছে।

এ কারণেই সুন্নাহতে নির্দেশ এসেছে, বাড়িতে প্রবেশের সময়, দাম্পত্য মিলনের সময়, খাবার গ্রহণের সময়, রাগান্বিত হওয়ার সময়, প্রতিটি ক্ষেত্রে শয়তান থেকে সুরক্ষা চাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মানুষের প্রয়োজন প্রতিটি ক্ষেত্রে শয়তান থেকে সুরক্ষা নেওয়া, যাতে শয়তান তার পরিবার, গৃহ ও সন্তানদের সঙ্গে অংশীদার না হতে পারে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমাদের লক্ষ্য করা উচিত,  এই অদৃশ্য শত্রু, যা তোমাকে দেখে কিন্তু তুমি তাকে দেখো না, অত্যন্ত দক্ষ ও বহু অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। বর্তমানে যখন কিছু কোম্পানির অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়, সর্বোচ্চ অভিজ্ঞতাও হয় পঞ্চাশ বা ষাট বছর পর্যন্ত; কিন্তু মানুষকে প্রলোভনে ফেলা, সরল পথে বাধা সৃষ্টি করা, বিভ্রান্ত করা, শত্রুতা তৈরি করা, ঘরবাড়ি ধ্বংস করা এবং পরিবারগুলোকে ছিন্নভিন্ন করা, এতে ইবলীসের অভিজ্ঞতা হাযার হাযার বছরের।

অনেক মানুষ এই ফাঁদে পড়ে বিপদগ্রস্ত হয়েছে এবং ধ্বংসের মুখে পড়েছে; তারা লাঞ্ছিত শয়তানের বন্দি হয়ে গেছে এবং তার প্রলোভন ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের শিকার হয়েছে। এই কারণে মুসলিম পরিবারকে প্রয়োজন নিজেকে রক্ষা করা, সুরক্ষিত রাখা এবং লাঞ্ছিত শয়তানকে দূরে রাখা।

সৎ স্ত্রীর গুণাবলীর মধ্যে আরও রয়েছে  : স্বামীকে আনন্দিত করা, তার সামনে এমনভাবে উপস্থিত হওয়া, যাতে তার চেহারা, শারীরিক গঠন, সাজসজ্জা ও পোশাক তাকে আনন্দ দেয় এবং নিজেকে এমনভাবে অভ্যস্ত করা যে, তিনি স্বামীর আনুগত্য করে, তার নির্দেশে সাড়া দেয়, কোনো রকম অপছন্দ, অহংকার বা অবজ্ঞা ছাড়া এবং যেন সে গুরুত্বের সাথে চিন্তা করে। এই বিষয়ে নবী (ﷺ)-এর হাদীছটি গভীরভাবে মনোযোগ দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন নারী সর্বোত্তম? তিনি বললেন,تَسُرُّهُ إِذَا نَظَرَ وَتُطِيعُهُ إِذَا أَمَرَ وَلاَ تُخَالِفُهُ فِى نَفْسِهَا وَمَالِهَا بِمَا يَكْرَهُ ‘যে নারী স্বামীকে আনন্দ দেয়, যখন সে তাকে দেখে, তার আদেশ মেনে চলে, যখন সে নির্দেশ দেয় এবং নিজের জীবন ও সম্পদে এমন কোনো কাজ করে না, যা স্বামী অপছন্দ করে’।[২] 

দুর্ভাগ্যজনক বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো, অনেক নারী সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যের দিকে মনোযোগ দেয় শুধু তখনই, যখন তারা বাড়ির বাইরে কোনো অনুষ্ঠান, সমাবেশ বা অনুরূপ কিছু কাজে বের হয়। কিন্তু স্বামীর হক্বের ক্ষেত্রে, যখন স্বামী ঘরে প্রবেশ করে, তখন সে তাকে জীর্ণ-শীর্ণ পোশাকে গ্রহণ করে, অপ্রীতিকর গন্ধে গ্রহণ করে, এলোমেলো চুলে গ্রহণ করে এবং এমন সব অবস্থায় গ্রহণ করে, যা তাকে স্বামীর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং স্বামীর আকাক্সক্ষাকে ভেঙে দেয়।  অথচ স্বামী বিস্ময়ের সঙ্গে দেখে যে, যখনই সে বাইরে যেতে চায়, তখনই এমন সাজসজ্জা করে বের হয়, যার এক-দশমাংশ সৌন্দর্যও স্বামী পায় না। তাহলে এমন স্বভাবের নারীর প্রতি স্বামীর অন্তরে কী আকাক্সক্ষা জন্ম নেবে? আর তার অন্তর এমন স্ত্রীর প্রতি কী ভালোবাসায় পূর্ণ হবে, যদি তার সাথে ব্যবহার এ রকমই হয়? জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে, নবী (ﷺ) বলেছেন, إِذَا قَدِمَ أَحَدُكُمْ لَيْلاً فَلاَ يَأْتِيَنَّ أَهْلَهُ طُرُوقًا حَتَّى تَسْتَحِدَّ الْمُغِيبَةُ وَتَمْتَشِطَ الشَّعِثَةُ ‘তোমাদের কেউ রাতের বেলায় (ভ্রমণ শেষে) ফিরে এলে যেন হঠাৎ করে (অপ্রস্তুত অবস্থায়) পরিবারের কাছে না যায়। যাতে যে স্ত্রী স্বামীর অনুপস্থিতিতে ছিল সে নিজের পরিচ্ছন্নতার কাজ সেরে নিতে পারে এবং অগোছালো চুল আঁচড়াতে পারে’।[৩]

এতে স্ত্রীর প্রতি এক কোমল ইঙ্গিত রয়েছে যে, স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তার উচিত পূর্ণ পরিচ্ছন্নতা, সুন্দর সাজসজ্জা ও মনোরম অবয়বে হাজির হওয়া। বিশেষ করে যখন স্বামী দীর্ঘ অনুপস্থিতি বা ভ্রমণ শেষে ফিরে আসে। এ সময় শুধু ব্যক্তিগত প্রস্তুতি নয়, বরং ঘরবাড়ি গোছানো ও পরিপাটি করারও প্রয়োজন হয়।

আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)  বলেছেন, أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِنِسَائِكُمْ فِي الْجَنَّةِ ‘আমি কি তোমাদের জানাবো তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে কারা জান্নাতে যাবে?[৪]  অর্থাৎ সেই স্ত্রী, যিনি তাঁর সুন্দর গুণাবলী ও বরকতময় চরিত্রের মাধ্যমে জান্নাতের উপযুক্ত হয়ে যান। তিনি (ﷺ) বলেন,كُلُّ وَدُودٍ وَلُودٍ إِذَا غَضِبَتْ أَوْ أُسِيءَ إِلَيْهَا قَالَتْ: هَذِهِ يَدِي فِي يَدِكَ، لَا أَكْتَحِلُ بِغَمْضٍ حَتَّى تَرْضَى ‘সে হলো প্রত্যেক প্রেমময়ী (স্নেহশীলা) এবং সন্তান জন্মদানে সক্ষম স্ত্রী; যখন সে রাগান্বিত হয়, অথবা তার প্রতি কষ্ট দেওয়া হয়, অথবা তার স্বামী রাগান্বিত হয়, তখন সে বলে, এই নাও, আমার হাত তোমার হাতে। আমি তোমার সন্তুষ্টি না পাওয়া পর্যন্ত চোখে ঘুম আনব না’।[৫] অর্থাৎ আমি চোখ বন্ধ করব না, আরামদায়ক ঘুম উপভোগ করব না এবং আমার চোখ শীতল হবে না, যতক্ষণ না তুমি (আমার স্বামী) আমার উপর সন্তুষ্ট হও।

দুঃখজনক হলো, কিছু স্ত্রী এ বিষয়ে কোনো তোয়াক্কা করে না। তাদের স্বামী এক রাত, দুই রাত, তিন রাত, দশ রাত এমনকি এক মাস পর্যন্ত রাগান্বিত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ে, অথচ সে (স্ত্রী) যেন একেবারেই উদাসীন! যেন এ বিষয়টি তার সাথে কোনো সম্পর্কই নেই! অথচ বাস্তবতা হলো, সে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার সাক্ষাত পাবে এবং এ সকল বিষয় ও কাজের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।

সৎ স্ত্রীর গুণাবলীর মধ্যে আরও রয়েছে  : নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন,

خَيْرُ نِسَائِكُمُ الْوَدُودُ الْوَلُودُ، الْمُوَاتِيَةُ الْمُوَاسِيَةُ إِذَا اتَّقَيْنَ اللهَ، وَشَرُّ نِسَائِكُمُ الْمُتَبَرِّجَاتُ الْمُتَخَيِّلَاتُ، وَهُنَّ الْمُنَافِقَاتُ، لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْهُنَّ إِلَّا مِثْلُ الْغُرَابِ الْأَعْصَمِ

‘তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে উত্তম হলেন সেই স্ত্রী, যিনি স্নেহময়ী, সন্তান জন্মদানে সক্ষম,  স্বামীর সাথে খাপ খাইয়ে চলতে পারে এবং তার দুঃখ-কষ্টে সঙ্গী হয়, যদি তারা আল্লাহকে ভয় করে চলে। আর তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে নিকৃষ্ট হলেন সেই সকল স্ত্রী, যারা অশ্লীলভাবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রকাশ করে সাজ-সজ্জা করে (পরপুরুষকে দেখানোর জন্য), অহংকারী স্বভাবের দেমাগী ও আত্মম্ভরী হয়ে চলে। তারা হলো মুনাফিক্ব। তাদের মধ্যে জান্নাতে প্রবেশ করবে কেবল সেইরূপ অল্পসংখ্যক নারী, যেমন সাদা দাগওয়ালা ডানা বা পা-যুক্ত কালো কাক’।[৬]

الودود আল-ওয়াদুদ (স্নেহশীলা) : এটি একজন ধার্মিক ও কল্যাণময়ী স্ত্রী-এর একটি মহৎ গুণ এবং উত্তম চরিত্র। অর্থাৎ সে সেই নারী, যিনি প্রেমময় এবং সুন্দরভাবে স্নেহ প্রদর্শনে সমৃদ্ধ। আর এর সবচেয়ে অধিক অধিকারী ব্যক্তি হল তার স্বামী। স্নেহ ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা যায় কথার মাধ্যমে (মধুর ও প্রীতিকর কথার মাধ্যমে), আচরণ ও ভঙ্গিমার মাধ্যমে (সুন্দর আচরণ ও শরীরী ভঙ্গিমার মাধ্যমে), দৃশ্য বা চেহারার মাধ্যমে (বাহ্যিক রূপ, চেহারা ও সাজ-সজ্জার মাধ্যমে), কর্মের মাধ্যমে (সহায়ক ও উপকারী কাজের মাধ্যমে), চরিত্রের মাধ্যমে (সদাচরণ, সৌম্যতা ও নৈতিক গুণের মাধ্যমে)।

(الولود) আল-ওয়ালূদ (অধিক সন্তানপ্রসূতি) : এটি একজন মহিলার একটি উত্তম ও প্রশংসনীয় গুণ। অধিক সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা ও ইচ্ছা থাকা সৎ নারীর মধ্যে একটি শুভ বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য হয়। এটি তার মধ্যে সেরা নারীদের অন্যতম গুণ। নবী (ﷺ) বলেছেন,تَزَوَّجُوا الْوَدُودَ الْوَلُودَ فَإِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الْأُمَمَ ‘তোমরা স্নেহশীলা ও অধিক সন্তানপ্রসূতি নারীদেরকে বিয়ে কর। কারণ আমি ক্বিয়ামতের দিনে তোমাদের মাধ্যমে উম্মতগুলোকে বৃদ্ধি করব’।[৭]  

কিন্তু যদি কোনো নারী কোনো রোগ বা অসুখে আক্রান্ত হয়, তবে এটি তার জন্য কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ এটি এমন কোনো বিষয় নয়, যা সে অবহেলা করেছে বা ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করার চেষ্টা করেছে। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা তাকে এ জন্য হিসাব করবেন না এবং এটি তার জন্য কোনো ক্ষতি বা দুর্ভোগ সৃষ্টি করবে না। এছাড়াও, এটি তার ধার্মিকতা ও সৎ চরিত্রের সঙ্গে কোনোভাবে বিরোধপূর্ণ নয়।

المواتية-আল-মুওয়াতিয়াহ (খাপ খাইয়ে চলা) : অর্থাৎ সেই স্ত্রী যিনি রূক্ষ বা কঠোর স্বভাবের নয়; বরং তিনি কোমল, স্বামীর সাথে খাপ খাইয়ে চলেন, তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন, আনুগত্য করেন এবং সাড়া দেন। তিনি অভিমান অবজ্ঞা করেন না, অহংকার প্রকাশ করেন না এবং স্বামীর প্রতি উদ্ধত আচরণ করেন না। তাঁর পক্ষ থেকে স্বামীর প্রতি বৈবাহিক অবাধ্যতা বা ঔদ্ধত্য প্রকাশ পায় না।

المواسية-আল-মুওয়াসিয়াহ (সহমর্মী স্ত্রী) : অর্থাৎ যে স্ত্রী স্বামীর সাথে দুঃখ-কষ্ট ভাগাভাগি করে, তার পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায় এবং কল্যাণের কাজে, আল্লাহর আনুগত্যে ও যে বিষয়ে সুখ-সমৃদ্ধি ও সফলতা নিহিত রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে স্বামীর জন্য সহায় ও সহযোগী হয়ে ওঠে।

যদি তারা আল্লাহকে ভয় করে চলে : অর্থাৎ এসব গুণাবলী তখনই নারীর জন্য কল্যাণকর ও উপকারী হবে, যখন সে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার তাক্বওয়া অবলম্বন করবে। যদি কোনো নারী স্নেহময়ী, অধিক সন্তান প্রসবকারিণী, খাপ খাইয়ে চলতে পারদর্শিনী ও সহমর্মিণী হয়, কিন্তু এসব গুণ কেবল দুনিয়ার উদ্দেশ্যে ধারণ করে এবং আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন না করে, তবে এসব গুণ তার জন্য কোনো উপকারে আসবে না। বরং এসব গুণ তখনই প্রকৃতপক্ষে তার জন্য কল্যাণকর হবে, যখন সে এগুলো ধারণ করবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে, তখনই এগুলো তার জন্য কল্যাণকর ও উপকারী হবে।

সৎ স্ত্রীর গুণাবলীর মধ্যে আরও রয়েছে : স্বামীর হক্ব আদায়ে কোনো ত্রুটি না করা, সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা, তাকে সেবা করতে আন্তরিক চেষ্টা করা এবং তার উচিত ভাবা বিবেচনা করা। হুসাইন ইবনু মিহসন (রাহিমাহুল্লাহ) তার ফুফুর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি নবী (ﷺ)-এর নিকট কোন এক প্রয়োজন নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। যখন নবী (ﷺ) তাঁর প্রয়োজন পূর্ণ করলেন, তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন,

أَذَاتُ زَوْجٍ أَنْتِ؟ قَالَتْ: نَعَمْ، قَالَ: فَأَيْنَ أَنْتِ مِنْهُ؟ قَالَ يَعْلَى: فَكَيْفَ أَنْتِ لَهُ؟ قَالَتْ: مَا آلُوهُ إِلَّا مَا عَجَزْتُ عَنْهُ، قَالَ: انْظُرِي أَيْنَ أَنْتِ مِنْهُ فَإِنَّهُ جَنَّتُكِ وَنَارُكِ

‘তুমি কি স্বামী-ভক্ত নারী? তিনি বললেন, জি হ্যাঁ। তিনি বললেন, তুমি তার সাথে কেমন ব্যবহার করো? তিনি বললেন, আমি তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করি, শুধু যা আমার সামর্থ্যের বাইরে তাই করতে পারি না। তখন নবী (ﷺ) বললেন, তুমি লক্ষ্য করো, তুমি তার কাছে কেমন অবস্থানে আছো! কারণ, সেই তোমার জান্নাত কিংবা তোমার জাহান্নাম’।[৮]

স্বামী কখন তার স্ত্রীর জন্য জান্নাত হয়? আর কখন সে জাহান্নাম হয়? এখানে নারীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, সে এই সত্যটি উপলব্ধি করুক, তুমি তার সম্পর্কে কোথায় অবস্থান করছ? তোমার উপর দায়িত্ব রয়েছে এবং তুমি আল্লাহর দাসী। আর এখানে জান্নাত ও জাহান্নামের বিষয় জড়িত। আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে আদেশ করেছেন এবং স্বামীর প্রতি এই অধিকারসমূহ তোমার জন্য ওয়াজিব করেছেন। সুতরাং তুমি তা পূর্ণভাবে পালন করো, সম্পূর্ণ ও নিখুঁতভাবে আদায় করো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য।  তোমার দায়িত্বসমূহ তুমি যথাযথভাবে পূরণ করো এবং যা অধিকার তোমার, তা আল্লাহর নিকট চাও। কারণ স্বামীই তোমার জান্নাত, আবার স্বামীই তোমার জাহান্নাম।

সৎ স্ত্রীর গুণাবলীর মধ্যে আরও রয়েছে : স্বামীকে অর্থনৈতিক চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকা। ঘরে অপচয় বা বিলাসিতা না করা এবং স্বামীর সম্পদ নষ্ট না করা; বরং ব্যয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা। মহান আল্লাহ বলেন, وَ الَّذِیۡنَ  اِذَاۤ  اَنۡفَقُوۡا لَمۡ  یُسۡرِفُوۡا وَ لَمۡ یَقۡتُرُوۡا وَ کَانَ  بَیۡنَ  ذٰلِکَ  قَوَامًا ‘আর যারা যখন ব্যয় করে, তারা অতিপ্রচুর ব্যয় করে না, তেমনই কৃপণও নয়; বরং তারা উভয়ের মধ্যে মধ্যম পথ অবলম্বন করে’ (সূরা আল-ফুরকান : ৬৭)।

সৎ স্ত্রীর গুণাবলীর মধ্যে আরও রয়েছে : উপকারী বা অনুগ্রহকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার যে বরকত ও অনুগ্রহ স্বামীর মাধ্যমে তার জন্য প্রেরণ করেছেন, তা সে অস্বীকার করবে না। হাদীছে এসেছে, لاَ يَشْكُرُ اللهَ مَنْ لاَ يَشْكُرُ النَّاسَ ‘যে মানুষ অন্যের প্রতি কৃতজ্ঞ নয়, সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞও নয়’।[৯] এ বিষয়ে আসমা বিনতে ইয়াযীদ আল-আনছারী (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) আমাকে অতিক্রম করলেন। আর আমি আমার সমবয়সী কয়েকজন বান্ধবীর সাথে বসে ছিলাম। তিনি আমাদেরকে সালাম দিলেন এবং বললেন,

إِيَّاكُنَّ وَكُفْرَ الْمُنَعَّمِينَ. فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا كُفْرُ الْمُنَعَّمِينَ قَالَ ্র لَعَلَّ إِحْدَاكُنَّ أَنْ تَطُولَ أَيْمَتُهَا بَيْنَ أَبَوَيْهَا وَتَعْنُسَ فَيَرْزُقَهَا اللهُ عَزَّ وَجَلَّ زَوْجاً وَيَرْزُقَهَا مِنْهُ مَالاً وَوَلَداً فَتَغْضَبَ الْغَضْبَةَ فَرَاحَتْ تَقُولُ مَا رَأَيْتُ مِنْهُ يَوْماً خَيْراً قَطُّ وَقَالَ مَرَّةً خَيْراً قَطُّ

‘তোমরা অনুগ্রহকারীদের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ থেকে বেঁচে থাক। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! অনুগ্রহকারীদের অকৃতজ্ঞতা কী? তিনি বললেন, সম্ভবত তোমাদের মধ্যে কোনো একজন মেয়ে তার পিতা-মাতার কাছে দীর্ঘ সময় অবিবাহিত থাকলে, আল্লাহ তাকে স্বামী দান করেন এবং তার মাধ্যমে সন্তান দান করেন। অতঃপর সে একবার রাগান্বিত হয়; ফলে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং বলে, ‘আমি তোমার কাছ থেকে কখনো কোনো ভালো কিছু পেলাম না’।[১০] মর্মার্থ হলো তার বিবাহের সময় দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়।

সৎ স্ত্রীর গুণাবলীর মধ্যে আরও রয়েছে : স্বামীকে সম্মান করা, তার মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে জানা। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,  

لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لِأَحَدٍ لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا، وَلَا تُؤَدِّي الْمَرْأَةُ حَقَّ زَوْجِهَا حَتَّى لَوْ سَأَلَهَا نَفْسَهَا عَلَى قَتَبٍ لَأَعْطَتْهُ

‘যদি আমি কাউকে কারও সামনে সিজদা করার আদেশ দিতে পারতাম, তবে আমি স্ত্রীকে তার স্বামীর সামনে সিজদা করার আদেশ দিতাম। আর স্ত্রী তার স্বামীর পূর্ণ হক্ব আদায় করতে পারে না; এমনকি স্বামী যদি তার কাছে (দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য) চায়, সে যদি উটের কাঠের কাঁধা (পিঠে রাখার কাঠের কাঠামো)-এর ওপরও থাকে, তবুও সে তা গ্রহণ করবে (অর্থাৎ স্বামীর প্রতি কর্তব্য পালন করবে)’।[১১]  

স্বামীর অধিকার আরও বহুগুণে বেড়ে যায়, যদি তিনি হন সৎকর্মশীল, তাক্বওয়াবান, দ্বীনদার, আল্লাহর ইবাদতের প্রতি যত্নবান এবং তাঁর আনুগত্যের প্রতি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মু‘আয ইবনু জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

لاَ تُؤْذِى امْرَأَةٌ زَوْجَهَا فِى الدُّنْيَا إِلاَّ قَالَتْ زَوْجَتُهُ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ لاَ تُؤْذِيهِ قَاتَلَكِ اللهُ فَإِنَّمَا هُوَ عِنْدَكِ دَخِيلٌ يُوشِكُ أَنْ يُفَارِقَكِ إِلَيْنَا

‘দুনিয়ায় কোন স্ত্রী তার স্বামীকে কষ্ট দিলে জান্নাতের হূরগণ বলে ওঠে, তুমি তাকে কষ্ট দিও না, আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন! সে তো তোমার নিকট সাময়িক অতিথি মাত্র, খুব শীঘ্রই সে তোমাকে ছেড়ে আমাদের কাছে চলে আসবে’।[১২] ইসলামী বিদ্বানগণ বলেছেন, এ হাদীছে স্বামীকে কষ্টদানকারী নারীদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে।

সৎ স্ত্রীর গুণাবলীর মধ্যে আরও রয়েছে : যদি মহান আল্লাহ তাকে সন্তান দ্বারা অনুগ্রহ করেন ও সম্মানিত করেন, তবে সে তাদের মাঝে ন্যায়বিচার করবে। যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, اعْدِلُوا بَيْنَ أَوْلاَدِكُمْ اعْدِلُوا بَيْنَ أَبْنَائِكُمْ ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাথে সমান আচরণ করো; তোমাদের সন্তানদের সাথে ইনসাফ করো’।[১৩]

সৎ স্ত্রীর গুণাবলীর মধ্যে আরও রয়েছে : সে যেন তার ঘরেই অবস্থান করে এবং অতিরিক্ত বের হওয়া-চলাফেরায় লিপ্ত না হয়। আর যখন সে বাইরে যায়, তখন কেবল প্রয়োজনেই বের হয়, সে যেন প্রকাশ্যে সৌন্দর্য প্রদর্শনকারী বা পর্দাবিহীন না হয়। এছাড়া সে যেন তার দৃষ্টি সংযত রাখে, লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে। এ সম্পর্কে সালিম ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর পিতা থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন,

الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ، وَإِنَّهَا إِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ، وَإِنَّهَا أَقْرَبُ مَا يَكُونُ إِلَى اللهِ وَهِيَ فِي قَعْرِ بَيْتِهَا

‘নারী হলো গোপনীয় জিনিস। যখন সে বাইরে যায়, শয়তান তাকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। আর সে আল্লাহর নিকটতম হয় তখনই, যখন সে নিজ ঘরের গভীরে অবস্থান করে’।[১৪]     

সৎ স্ত্রীর গুণাবলীর মধ্যে আরও রয়েছে : সে যেন স্বামীর গোপনীয়তা ও দাম্পত্য জীবনের ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ না করে, এমনকি যদি তাদের মধ্যে ঝগড়া বা বৈরীতা ঘটেও এবং ঐক্য ফিরে না আসে। প্রতিটি পক্ষের ওপর আল্লাহর প্রতি ভয় রাখা এবং এই বিষয়ে সতর্ক থাকা আবশ্যক। আসমা বিনতে ইয়াযীদ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে ছিলেন এবং পুরুষ ও মহিলারা বসা অবস্থায় ছিল। নবী (ﷺ) বললেন, সম্ভবত স্বামী-স্ত্রীর সাথে যা করে, তা অন্য পুরুষকে বলে দেয় এবং স্ত্রী স্বামীর সাথে যা করে, তা অন্য মহিলাকে বলে দেয়। তখন সবাই উত্তর না দিয়ে চুপ থাকল।  আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই মহিলা ও পুরুষরা তা করে। তিনি বললেন,فَلاَ تَفْعَلُوا فَإِنَّمَا مِثْلُ ذَلِكَ مِثْلُ الشَّيْطَانِ لَقِىَ شَيْطَانَةً فِى طَرِيقٍ فَغَشِيَهَا وَالنَّاسُ يَنْظُرُونَ ‘তোমরা এরূপ কখনোই করো না। কেননা নিশ্চয়ই এই কাজ ঐ পুরুষ শয়তানের ন্যায় যে, মহিলা শয়তানের সাথে রাস্তায় সাক্ষাত করে এবং তার সাথে সহবাস করে এমতাবস্থায় যে, মানুষেরা তা দেখতে থাকে’।[১৫]

নবী (ﷺ)-এর বাণী (فَإِنَّمَا مِثْلُ ذَلِكَ مِثْلُ الشَّيْطَانِ لَقِىَ شَيْطَانَةً فِى طَرِيقٍ فَغَشِيَهَا وَالنَّاسُ يَنْظُرُونَ)-এর ব্যাখ্যা হলো, নিশ্চয়ই এই কাজ ঐ পুরুষ শয়তানের ন্যায়, যে মহিলা শয়তানের সাথে রাস্তায় সাক্ষাত করে এবং তার সাথে সহবাস করে এমতাবস্থায় যে, মানুষেরা তা দেখতে থাকে। তাদের অবস্থার উদাহরণ হলো, একটি শয়তান রাস্তার মধ্যে অন্য শয়তানকে পায় এবং তাকে ঢেকে ফেলে, যেখানে মানুষ দেখে। অর্থাৎ এই ধরনের কাজ কলঙ্কজনক এবং নিন্দনীয়।

এগুলো সৎ স্ত্রীদের কিছু গুণাবলী, যেগুলো আমি সংগ্রহ করেছি আল্লাহ তা‘আলার কিতাব এবং আমাদের প্রিয় নবী (ﷺ)-এর সুন্নাহ থেকে। আমি প্রার্থনা করি যে, আল্লাহ তা‘আলা এই জ্ঞান দিয়ে যেকোনো বান্দাকে উপকার করুন, কারণ সফলতা একমাত্র তাঁরই হাতে। হে আল্লাহ! মুসলিম নারীদের দুনিয়া ও আখিরাতে সততা, কল্যাণ এবং সুখ প্রদান করুন। আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপর শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক এবং তাঁর পরিবার ও ছাহাবাদের উপরও।


* ফাযিল (সমমান স্নাতক), ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়, বি.এ অনার্স, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী।

তথ্যসূত্র :
[১]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৮১৩।
[২]. নাসাঈ, হা/৩২৩১।
[৩]. ছহীহ মুসলিম, হা/৭১৫।
[৪]. ত্বাবারাণী, মু‘জামুল আওসাত্ব, হা/১৭৪৩।
[৫]. ত্বাবারাণী, মু‘জামুল আওসাত্ব, হা/১৭৪৩।
[৬]. বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা, হা/১৩৬০৭।
[৭]. আবূ দাঊদ, হা/২০৫০, সনদ হাসান ছহীহ।
[৮]. মুসনাদে আহমাদ, হা/২৭৩৯২; সুনানুল কুবরা, হা/৮৯১৩, সনদ ছহীহ।
[৯]. আবূ দাঊদ, হা/৪৮১১, সনদ ছহীহ।
[১০]. আদাবুল মুফরাদ, হা/১০৪৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৭৬০২, সনদ ছহীহ।
[১১]. ত্বাবারাণী, মু‘জামুল কাবীর, হা/৫১১৬, সনদ ছহীহ।
[১২]. তিরমিযী, হা/১১৭৪, সনদ ছহীহ।
[১৩]. আবূ দাঊদ, হা/৩৫৪৪, সনদ ছহীহ।
[১৪]. ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল কাবীর, হা/১০১১৫, সনদ ছহীহ।
[১৫]. মুসনাদে আহমাদ, হা/২৮৩৫০, সনদ ছহীহ।




প্রসঙ্গসমূহ »: পরিবার
ফাযায়েলে কুরআন (৩য় কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
সুন্নাহ বিরোধী ও সংশয় উত্থাপনকারীদের চক্রান্তসমূহ ও তার জবাব (৭ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
আল-কুরআন তেলাওয়াতের ফযীলত (৮ম কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
সূদ-ঘুষ ও অবৈধ ব্যবসা (শেষ কিস্তি) - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর
সূদ-ঘুষ ও অবৈধ ব্যবসা (৭ম কিস্তি) - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর
বিদ‘আত পরিচিতি (২০তম কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
হজ্জ ও ওমরার সঠিক পদ্ধতি (২য় কিস্তি) - ড. মুযাফফর বিন মুহসিন
সালাফী মানহাজের মূলনীতিসমূহ (শেষ কিস্তি) - আব্দুল গাফফার মাদানী
আধুনিক যুগে দাওয়াতী কাজের পদ্ধতি - ড. মুকাররম বিন মুহসিন মাদানী
সুন্নাতের আলো বিদ‘আতের অন্ধকার (১২তম কিস্তি) - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
ইসলামের দৃষ্টিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা (৪র্থ কিস্তি) - মুহাম্মাদ আযীযুর রহমান
মাতুরীদী মতবাদ ও তাদের ভ্রান্ত আক্বীদাসমূহ (১২তম কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম

ফেসবুক পেজ