শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন

ঐক্যের মর্যাদা ও মানদণ্ড

-ড. মুযাফফর বিন মুহসিন

(২য় কিস্তি)


(গ) ভ্রষ্টতা থেকে নিরাপত্তা

পথভ্রষ্ট হওয়া ও গোমরাহী থেকে নিরাপদে অবস্থান করা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক বিশাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আর এটা তখনই পাওয়া যাবে যখন আমরা জামা‘আতবদ্ধ থাকবো। ঐক্যবদ্ধ থাকলে আল্লাহ নিজেই আমাদের নিরাপত্তা দান করবেন। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেছেন,

إِنَّ اللهَ لَا يَجْمَعُ أُمَّتِيْ أَوْ قَالَ أُمَّةَ مُحَمَّدٍ ﷺ عَلَى ضَلَالَةٍ وَيَدُ اللهِ مَعَ الْجَمَاعَةِ

‘নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা আমার উম্মতকে অথবা তিনি বলেছেন, মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উম্মতকে কখনো ভ্রষ্টতার উপরে ঐক্যবদ্ধ করবেন না। আর আল্লাহর হাত জামা‘আতের উপর রয়েছে’।[১] অন্য হাদীছে এসেছে,

عَنْ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا يَجْمَعُ اللهُ أُمَّتِي عَلَى ضَلَالَةٍ أَبَدًا وَيَدُ اللهِ عَلَى الْجَمَاعَةِ

ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘আল্লাহ্ আমার উম্মতকে কখনই ভ্রষ্টতার উপরে একত্রিত করবেন না। আর আল্লাহর হাত জামা‘আতের উপর রয়েছে’।[২] অন্য বর্ণনায় এসেছে,

عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ نَبِيَّ اللهِ ﷺ قَالَ لَا يَجْمَعُ اللهُ أُمَّتِيْ عَلَى ضَلَالَةٍ أَبَدًا، وَيَدُ اللهِ عَلَى الْجَمَاعَةِ هَكَذَا، فَاتَّبِعُوا السَّوَادَ الْأَعْظَمَ، فَإِنَّهُ مَنْ شَذَّ شَذَّ فِي النَّارِ

ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, ‘আল্লাহ্ তা‘আলা কখনই আমার উম্মাতকে ভ্রষ্টতার উপরে একত্রিত করবেন না। আর আল্লাহর হাত জামা‘আতের উপর রয়েছে। অতএব তোমরা সর্ববৃহৎ কাফেলার অনুসরণ করবে। কারণ যে ব্যক্তি (জামা‘আত থেকে) বিচ্ছিন্ন হবে, সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে’।[৩] অন্য হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ إِنَّ أُمَّتِيْ لَا تَجْتَمِعُ عَلَى ضَلَالَةٍ، فَإِذَا رَأَيْتُمُ الْاِخْتِلَافَ فَعَلَيْكُمْ بِسَوَادِ الْأَعْظَمِ: الْحَقِّ وَأَهْلِهِ

আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মত গোমরাহীর উপর একত্রিত হবে না। সুতরাং তোমরা যখন মতভেদ দেখবে, তখন তোমাদের উপর সর্ববৃহৎ হক্বপন্থী কাফেলাকে ও তার অনুসারীদেরকে আকড়ে ধরা আবশ্যক হয়ে যাবে’।[৪] যেমন ইমাম মুহাম্মাদ তাহের পাট্টানী (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় বলেন,

أَيْ سَكِيْنَتُهُ وَرَحْمَتُهُ مَعَ الْمُتَّفِقِيْنَ وَهُمْ بَعِيْدَةٌ مِنْ الْخَوْفِ وَالْأَذَى وَالِاضْطِرَابِ فَإِذَا تَفَرَّقُوْا زَالَ السَّكِيْنَةُ وَأُوْقِعَ بَأْسُهُمْ بَيْنَهُمْ وَفَسَدَ الْأَحْوَالُ

‘তাঁর প্রশান্তি ও রহমত ঐক্যবদ্ধ জীবন যাপনকারীদের সাথে থাকে। তারা ভীতি, ক্ষতি ও বিশৃঙ্খলা থেকে বহু দূরে অবস্থান করে। আর যখন তারা বিভক্ত হয়ে যায়, তখন প্রশান্তি চলে যায়, তাদের মাঝে সঙ্কট তৈরি হয় এবং সার্বিক অবস্থা বিপর্যন্ত হয়’।[৫] ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

وَقَدْ ضُمِنَتْ لَهُمُ العِصْمَةُ عِنْدَ اتِّفَاقِهِمْ مِنَ الْخَطَأِ، كَمَا وَرَدَتْ بِذَلِكَ الْأَحَادِيْثُ الْمُتَعَدِّدَةُ

‘তারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে তাদেরকে ভুল-ত্রুটি থেকে নিরাপত্তা দেয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। এ সম্পর্কে অনেক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে’।[৬] অন্যত্র তিনি বলেন,

فَإِنَّهُ قَدْ ضُمِنَتْ لَهُمُ الْعِصْمَةُ فِي اجْتِمَاعِهِمْ مِنَ الْخَطَأِ، تَشْرِيْفًا لَهُمْ وَتَعْظِيْمًا لِنَبِيِّهِمْ ﷺ وَقَدْ وَرَدَتْ فِيْ ذَلِكَ أَحَادِيْثُ صَحِيْحَةٌ كَثِيْرَةٌ

‘অবশ্যই তারা জামা‘আতবদ্ধ থাকলে তাদেরকে ভুল-ভ্রান্তি থেকে নিরাপত্তা দেয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। তাদের মর্যাদা এবং নবী করীম (ﷺ)-এর সম্মানের কারণে। এ সম্পর্কে অনেক ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে’।[৭]

দ্বীনের স্বার্থে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকলে কত যে উপকার তা উক্ত আলোচনায় ফুটে উঠেছে। অথচ এ ব্যাপারে আমাদের কোন উপলব্ধি নেই। আমরা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য কোন উদ্যোগও গ্রহণ করি না। সাধারণ মানুষকে অনুপ্রেণাও দিতে পারি না। সমস্যা হলে সমাধানের জন্য এবং ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টির জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করি না। অথচ ঐক্যের জন্য কাজ করা এবং ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টা চালানো ছালাত-ছিয়াম ও ছাদাক্বার চেয়েও বেশি ফযীলতপূর্ণ। যেমন হাদীছে বর্ণিত হয়েছে,

عَنْ أَبِى الدَّرْدَاءِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَفْضَلَ مِنْ دَرَجَةِ الصِّيَامِ وَالصَّلَاةِ وَالصَّدَقَةِ. قَالُوْا بَلَى. قَالَ إِصْلَاحُ ذَاتِ الْبَيْنِ

আবূ দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে ছিয়াম, ছালাত ও ছাদাক্বাহর চেয়েও ফযীলাতপূর্ণ কাজের কথা বলে দিব না? ছাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তিনি বললেন, পরস্পরের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়া’।[৮] এ জন্য ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

وَحُقُوْقُ الرَّعِيَّةِ لُزُوْمُ جَمَاعَتِهِمْ فَإِنَّ مَصْلَحَتَهُمْ لَا تَتِمُّ إلَّا بِاجْتِمَاعِهِمْ وَهُمْ لَا يَجْتَمِعُوْنَ عَلَى ضَلَالَةٍ؛ بَلْ مَصْلَحَةُ دِيْنِهِمْ وَدُنْيَاهُمْ فِي اجْتِمَاعِهِمْ وَاعْتِصَامِهِمْ بِحَبْلِ اللهِ جَمِيْعًا ؛ فَهَذِهِ الْخِصَالُ تَجْمَعُ أُصُوْلَ الدِّيْنِ

‘জনগণের কর্তব্যের অন্যতম হল, তাদের জামা‘আতকে আঁকড়ে ধরা। কারণ ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া তাদের কল্যাণ সম্পন্ন হবে না। আর তারা ভ্রষ্টতার উপর একত্রিত হবে না; বরং ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং হাবলুল্লাহকে আঁকড়ে ধরার মধ্যেই তাদের জন্য দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ রয়েছে। আর এই বৈশিষ্ট্য দ্বীনের সমস্ত মূলনীতিকে একত্রিত করে’।[৯]

(ঘ) জান্নাত লাভে ধন্য হওয়া

ঐক্যবদ্ধ থাকলে আল্লাহ তা‘আলা যেমন দুনিয়াতে নিরাপত্তা দিবেন এবং রহমতের আওতায় রাখবেন, তেমনি আখেরাতেও সম্মানিত করবেন এবং জান্নাত দান করবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

یَّوۡمَ تَبۡیَضُّ وُجُوۡہٌ  وَّ تَسۡوَدُّ وُجُوۡہٌ ۚ فَاَمَّا الَّذِیۡنَ اسۡوَدَّتۡ وُجُوۡہُہُمۡ ۟ اَکَفَرۡتُمۡ بَعۡدَ اِیۡمَانِکُمۡ فَذُوۡقُوا الۡعَذَابَ بِمَا کُنۡتُمۡ تَکۡفُرُوۡنَ-  وَ اَمَّا الَّذِیۡنَ ابۡیَضَّتۡ وُجُوۡہُہُمۡ فَفِیۡ رَحۡمَۃِ اللّٰہِ ؕ ہُمۡ  فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ

‘সেদিন কতকগুলো মুখমণ্ডল হবে উজ্জ্বল সাদা বর্ণের এবং কতক মুখমণ্ডল হবে কালো বর্ণের; অতঃপর যাদের মুখমণ্ডল কালো বর্ণের হবে, (তাদেরকে বলা হবে) তোমরা কি ঈমান আনার পর কুফ্রী করেছো? অতএব তোমরা শাস্তি ভোগ কর, যেহেতু তোমরা কুফরী করেছিলে’ (সূরা আলে ইমরান : ১০৬-১০৭)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,

 تَبْيَضُّ وُجُوْهُ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ، وَتَسْوَدُّ وُجُوْهُ أَهْلِ البِدْعَةِ وَالْفُرْقَةِ

‘ক্বিয়ামতের দিন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অনুসারীদের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে এবং যারা বিদ‘আতী ও জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন তাদের মুখমণ্ডল কালো-কুৎসিত হবে’।[১০] উপরের আয়াত ও উক্ত বক্তব্য পেশ করে ইমাম ইবনু তায়ময়িাহ (রাহিমাহুল্লাহ) উম্মাহকে লক্ষ্য করে বলেন,

فَانْظُرُوا رَحِمَكُمْ اللهُ كَيْفَ دَعَا اللهُ إلَى الْجَمَاعَةِ وَنَهَى عَنْ الْفُرْقَةِ

‘আল্লাহ আপনাদের উপর রহম করুন! আপনারা লক্ষ্য করুন, কিভাবে আল্লাহ ঐক্যের দিকে আহ্বান করেছেন এবং বিভক্ত হতে নিষেধ করেছেন’।[১১] ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

يُخْبِرُ تَعَالَى عَنْ يَوْمِ الْقِيَامَةِ أَنَّهُ تَسْوَدُّ فِيْهِ وُجُوْهٌ، وَتَبْيَضُّ فِيْهِ وُجُوْهٌ، تَسْوَدُّ وُجُوْهُ أَهْلِ الْفُرْقَةِ وَالِاخْتِلَافِ، وَتَبْيَضُّ وُجُوْهُ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ

‘ক্বিয়ামতের দিন সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা জানাচ্ছেন যে, কতক মুখমণ্ডল সেদিন কালো বর্ণের হবে এবং কতক হবে উজ্জ্বল বর্ণের। যারা জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন ও মতভেদ সৃষ্টিকারী তাদের মুখমণ্ডল কালো-কুৎসিত হবে, আর যারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অনুসারী হবে, তাদের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে’।[১২]

প্রমাণিত হল যে, যারা শরী‘আতের অনুসরণ করবে এবং জামা‘আতবদ্ধ জীবন যাপন করবে, তাদেরকে আল্লাহ ক্বিয়ামতের দিন সম্মানিত করবেন, তাদেরকে জান্নাত দিবেন এবং জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন। যেমন হাদীছে এসেছে,

عَنْ صُهَيْبٍ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ إِذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ قَالَ يَقُولُ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى تُرِيدُونَ شَيْئًا أَزِيدُكُمْ فَيَقُولُونَ أَلَمْ تُبَيِّضْ وُجُوهَنَا أَلَمْ تُدْخِلْنَا الْجَنَّةَ وَتُنَجِّنَا مِنَ النَّارِ قَالَ فَيَكْشِفُ الْحِجَابَ فَمَا أُعْطُوا شَيْئًا أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنَ النَّظَرِ إِلَى رَبِّهِمْ عَزَّ وَجَلَّ

ছুহাইব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেন, জান্নাতীগণ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তোমরা কি আরো কিছু চাও, তাহলে আমি তোমাদের আরো অনুগ্রহ বৃদ্ধি করে দিব? জান্নাতীরা বলবে, আপনি কি আমাদের চেহারাগুলোকে আলোকজ্জ্বল করেননি, আমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাননি এবং জাহান্নাম থেকে মুক্ত করেননি? রাসূল (ﷺ) বলেন, এরপর আল্লাহ তা‘আলা পর্দা খুলে দিবেন। আল্লাহ্কে দেখার চেয়ে অধিক পসন্দনীয় আর কিছুই তাদেরকে দেয়া হয়নি’।[১৩] অন্য হাদীছে রাসূল (ﷺ) বলেন,

مَنْ أَرَادَ بُحْبُوْحَةَ الْجَنَّةِ فَلْيَلْزَمِ الْجَمَاعَةَ

‘যে ব্যক্তি জান্নাতের মাঝে অবস্থান করতে চায়, সে যেন জামা‘আতকে আঁকড়ে ধরে থাকে’।[১৪] অন্য হাদীছে এসেছে, যারা দুনিয়াতে ঐক্যবদ্ধভাবে জীবন যাপন করবে, কেবল তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। যেমন রাসূল (ﷺ) বলেন,

أَلَا إِنَّ مَنْ قَبْلَكُمْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ افْتَرَقُوْا عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِيْنَ مِلَّةً وَإِنَّ هَذِهِ الْمِلَّةَ سَتَفْتَرِقُ عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِيْنَ ثِنْتَانِ وَسَبْعُوْنَ فِى النَّارِ وَوَاحِدَةٌ فِى الْجَنَّةِ وَهِىَ الْجَمَاعَةُ

‘সাবধান! তোমাদের পূর্বে আহলে কিতাব বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে এবং এই উম্মত অচিরেই তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে। এর মধ্যে বাহাত্তর দল জাহান্নামে যাবে এবং একটি জান্নাতে যাবে। আর সেটাই হল জামা‘আতবদ্ধ কাফেলা’।[১৫] ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) অনেক হাদীছ উল্লেখ করে বলেন,

فَوَصَفَ الْفِرْقَةَ النَّاجِيَةَ بِأَنَّهُمْ الْمُسْتَمْسِكُونَ بِسُنَّتِهِ وَأَنَّهُمْ هُمْ الْجَمَاعَةُ

‘রাসূল (ﷺ) মুক্তিপ্রাপ্ত দলের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন যে, তারা সুন্নাতকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে থাকবে এবং তারা হবে জামা‘আতবদ্ধ কাফেলা’।[১৬] ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

مِنْهَا فِرْقَةٌ نَاجِيَةٌ إِلَى الْجَنَّةِ ومُسَلَّمَةٌ مِنْ عَذَابِ النَّارِ وَهُمُ الَّذِيْنَ عَلَى مَا كَانَ عَلَيْهِ رسوْلُ اللهِ ﷺ وَأَصْحَابُهُ

‘দলসমূহের মধ্যে একটি মুক্তিপ্রাপ্ত দল জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা জাহান্নামের শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকবে, যারা রাসূল (ﷺ) এবং ছাহাবায়ে কেরামের মানহাজের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে’।[১৭] শাইখ হাসান আবুল আশবাল বলেন,

اَلْفِرْقَةُ النَّاجِيَةُ هُمُ الَّذِيْنَ تَمَسَّكُوْا بِالسُّنَّةِ وَتَمَسَّكُوْا بِالْجَمَاعَةِ، بَلْ سَمَّاهُمُ النَّبِيُّ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ بِالْجَمَاعَةِ

‘মুক্তিপ্রাপ্ত দল হল, যারা রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাহকে এবং জামা‘আতকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে থাকে; বরং নবী করীম (ﷺ) তাদেরকে জামা‘আত বলেই নামকরণ করেছেন’।[১৮]

উক্ত আলোচনায় জামা‘আতবদ্ধ থাকার গুরুত্ব ও সফলতা ফুটে উঠেছে। দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা পেতে চাইলে ঐক্যবদ্ধভাবেই জীবন যাপন করতে হবে। একাকী বসবাস করার চিন্তা করা যাবে না। যে একাকী থাকার চেষ্টা করবে সে দুনিয়াতেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পরকালেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ শয়তান তাকে ইজারা নিয়ে নিবে। এ জন্য যারা আমিত্ব ও দুনিয়ার তুচ্ছ স্বার্থে জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, তারা মূলত অভিশপ্ত এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে লা‘নতপ্রাপ্ত। তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেই। আল্লাহ সবাইকে হেফাযত করুন-আমীন!

(ইনশাআল্লাহ চলবে)

তথ্যসূত্র :
[১]. তিরমিযী, হা/২১৬৭, সনদ ছহীহ।      
[২]. হাকেম, হা/৩৯৯।      
[৩]. হাকেম, হা/৩৯৬।       
[৪]. আস-সুন্নাহ ইবনু আবী আছেম, হা/৮৪; সনদ হাসান, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৩৩১।        
[৫]. মাজমাঊ বিহারিল আনওয়ার, ৫/১৯২ পৃ.; মির‘আতুল মাফাতীহ, ১/৪৮০ পৃ., হা/১৭৪-এর ব্যাখ্যা দ্র.।    
[৬]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ২/৯০ পৃ.।     
[৭]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ২/৪১২ পৃ.।     
[৮]. আবূ দঊদ, হা/৪৯১৯, সনদ ছহীহ।     
[৯]. ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়াহ, ১/১৮-১৯ পৃ.।       
[১০]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ২/৯২ পৃ.।       
[১১]. মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়াহ, ২৪/১৭১ পৃ.।        
[১২]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ৭/১১১ পৃ.।       
[১৩]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৮১।       
[১৪]. তিরমিযী, হা/২১৬৫, সনদ ছহীহ।      
[১৫]. আবূ দাঊদ, হা/৪৫৯৭, সনদ ছহীহ।    
[১৬]. ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়াহ ২৪/১৭২ পৃ.।        
[১৭]. তাফসীরে ইবনে কাছীর ২/৯০ পৃ.।     
[১৮]. হাসান আবুল আশবাল আল-যুহাইরী, কিতাবু উছূলি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহ।     




প্রসঙ্গসমূহ »: সংগঠন মুসলিম জাহান
প্রচলিত তাবলীগ জামা‘আত সম্পর্কে শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের অবস্থান (৭ম কিস্তি) - অনুবাদ : আব্দুর রাযযাক বিন আব্দুল ক্বাদির
মাতুরীদী মতবাদ ও তাদের ভ্রান্ত আক্বীদাসমূহ (৫ম কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
ফাযায়েলে কুরআন (৫ম কিস্তি) - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
ইসলামে পর্দার বিধান (২য় কিস্তি) - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর
দু‘আ ও যিকর : আল্লাহর অনুগ্রহ ও প্রশান্তি লাভের মাধ্যম (৩য় কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
তারুণ্যের উপর সন্ত্রাসবাদের হিংস্র ছোবল : প্রতিকারের উপায় - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
আল-কুরআন তেলাওয়াতের ফযীলত (৮ম কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
আধুনিক যুগে দাওয়াতী কাজের পদ্ধতি - ড. মুকাররম বিন মুহসিন মাদানী
হজ্জ ও ওমরার সঠিক পদ্ধতি - ড. মুযাফফর বিন মুহসিন
ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় যুবসমাজ (২য় কিস্তি) - ড. মেসবাহুল ইসলাম
ইখলাছই পরকালের জীবনতরী (২য় কিস্তি) - আব্দুল গাফফার মাদানী
মসজিদ: ইসলামী সমাজের প্রাণকেন্দ্র (১১তম কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ