শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:০৩ অপরাহ্ন

ইত্তিবাউস সুন্নাহর প্রকৃতি ও স্বরূপ

- হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন*




ভূমিকা

মানবতার হেদায়াতের জন্য মহান আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রাসূগণকে প্রেরণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)। তাঁর উম্মত তথা মুসলিম জাতিকে হেদায়াতের জন্য মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাযিল করা হয়েছে। হাদীছ বা সুন্নাহ হচ্ছে কুরআনের নির্ভুল ব্যাখ্যা। কুরআন সঠিকভাবে বুঝে সে অনুযায়ী আমল করতে হলে হাদীছ বা সুন্নাহর কোন বিকল্প নেই। সুতরাং মুমিন জীবনে সুন্নাহর গুরুত্ব অপরিসীম। পক্ষান্তরে খেলাফে সুন্নাহ তথা সুন্নাহকে উপেক্ষা করা, তাকে অবজ্ঞা-অবহেলা করে প্রত্যাখ্যান করা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রত্যাখ্যান করার নামান্তর। এহেন গর্হিত কাজের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। আলোচ্য নিবন্ধে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

ইত্তিবা’-এর পরিচয়

আভিধানিক অর্থে ইত্তিবা হল রেওয়ায়াতের অনুসরণ। ইত্তিবা‘ হল কারো কথা দলীল সহ কবুল করা। পারিভাষিক অর্থে ইমাম শাওক্বানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

التَّقْلِيْدُ إِنَّمَا هُوَ قُبُوْلُ الرَّأْىِ وَالْإِتِّبَاعُ إِنَّمَا هُوَ قُبُوْلُ الرِّوَايَةِ، فَالْإِتِّبَاعُ فِي الدِّيْنِ مَسُوْغُ وَالتَّقْلِيْدُ مَمْنُوْعٌ

‘তাক্বীলদ হল (শারঈ বিষয়ে) রায়ের অনুসরণ এবং ইত্তিবা হল রেওয়ায়াতের অনুসরণ। ইসলামী শরী‘আতে ইত্তিবা সিদ্ধ এবং তাক্বলীদ নিষিদ্ধ’।[১]

সুন্নাহর পরিচয়

سُنَّة (সুন্নাহ) শব্দটি سَنَّ (মূল ধাতু থেকে فُعْلَةٌ-এর ওযনে مَفْعُوْلَةٌ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যার আভিধানিক অর্থ- الطريقة والسيرة বা পথ-পদ্ধতি ও আচার-প্রথা’।[২]

‘সুন্নাহ’ অর্থ দাগ। ছুরি ধার করার উদ্দেশ্যে পাথরের উপর বারবার ঘর্ষণের ফলে সেখানে যে দাগ পড়ে যায়, সেটাই ‘সুন্নাহ’। নিয়মিতভাবে কোন কাজ করলে তাকে সুন্নাহ বলা হয়। যেমন আরবরা বলে থাকে, سننت الماء ‘আমি অবিরামভাবে পানি প্রবাহিত করেছি।’ এজন কিসাঈ (মৃ. ১৮৯ হি.) সুন্নাহর অর্থ করেছেন, دائم বা নিয়মিত। ইমাম শাওক্বানী (রাহিমাহুল্লাহ) এর অর্থ নিয়েছেন ‘প্রচলিত পদ্ধতি’ (الطريقة المسلوكة)। খাত্তাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সুন্নাহর মূল অর্থ ‘প্রশংসনীয় রীতি’ (الطريقة المحمودة )। তবে শর্তসাপেক্ষে অন্য অর্থেও ব্যবহৃত হয়’।[৩] আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতে الطريقة المسلوكة والمعتدة في الحياة ‘সমাজ জীবনে প্রচলিত সাধারণ রীতিকে ‘সুন্নাহ’ বলা হয়’।[৪]

বলা হয়ে থাকে, এর অর্থ-চলমান। সুতরাং আমরা যদি বলি, সুন্নাত; তাহলে এর অর্থ হবে, চলমান রাখার নির্দেশনা। যেমন তারা বলে থাকে, আমি পানিকে চলামান রেখেছি, তথা তা পর্যায়ক্রমে ঢেলেছি’।[৫]

এমনিভাবে ‘সুন্নাহ’ অর্থ আকৃতি, রূপরেখা, তরীকা বা পদ্ধতি। সেখান থেকে এসেছে নবী করীম (ﷺ)-এর কর্মপদ্ধতি-যা হাদীছের মাধ্যমে শাব্দিক রূপ লাভ করেছে’

(Sunnite: The Sunnite is the follower of the Sunnah (Form, out[1]line, mode, usage), or the view and usage of the Prophet.... The Sunnah of the Prophet would be found embodied in a tradition (hadith).[৬]

‘সুন্নাহ’-এর শাব্দিক অর্থ বর্ণনায় ইবনু মানযূর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, الطريقة والسيرة حسنة كانت أم قبيحة ‘পথ বা জীবনাদর্শ, তা উৎকৃষ্ট হোক বা নিকৃষ্ট হোক’।[৭]

পারিভাষিক অর্থ

ইসলামী আক্বীদার উলামাগণের পরিভাষায় সুন্নাহ হল,

الهدي الذي كان عليه رسول الله ﷺ وأصحابه علماً واعتقاداً وقولاً وعملاً وهي السنة التي يجب اتباعها ويُحمد أهلُها ويُذمُّ من خَالَفها ولهذا قيل فلان من أهل السنة أي من أهل الطريقة الصحيحة المستقيمة المحمودة

‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর ছাহাবীগণ যে জীবনাদর্শ অনুযায়ী জীবন যাপন করেছেন, জ্ঞান, বিশ্বাস, কথা, কাজের ক্ষেত্রে সে জীবনাদর্শকে ‘সুন্নাহ’ বলা হয়। এটা এমন এক আদর্শ, যা অনুসরণ করা ওয়াজিব। এ সুন্নাতের অনুসীদের প্রশংসা করা হয়। পক্ষান্তরে এর বিরোধীদের নিন্দা করা হয়। এ জন্যই বলা হয় অমুক ব্যক্তি আহলুস্ সুন্নাহ্ ওয়াল জামা‘আহ্র অনুসারী অর্থাৎ সে সুদৃঢ় ও প্রশংসিত আদর্শের অনুসারী’।[৮] পরিভাষায় আরো বলা হয়েছে,

فَهِيَ  مَا أمَرَ بِهِ النَّبِيُّ ﷺ وَنَهَى عَنْهُ وَنَدَبَ إِلَيْهِ قَوْلًا وفِعْلًا، مِمَّا لَمْ يَنْطِقُ بِهِ الْكِتَابُ الْعَزِيْزُ

‘তাহল এমন বিষয়, যা নবী করীম (ﷺ) করতে আদেশ করেছেন ও যা থেকে নিষেধ করেছেন এবং কথা ও কর্ম দ্বারা এর প্রতি তিনি উৎসাহিত করেছেন, যে বিষয় মহিমান্বিত কিতাবে বলেনি’। এজন্য শরী‘আতের দলীলগুলো সম্পর্কে বলা হয়, কিতাব ও সুন্নাত। অর্থাৎ কুরআন ও হাদীছ’।[৯] হাফেয ইবনু রজব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

 السنة هي الطريقة المسلوكة فيشمل ذلك التمسك بما كان عليه ﷺ هو وخلفاؤه الراشدون من الاعتقادات والأعمال والأقوال وهذه هي السنة الكاملة

‘সুন্নাহ হল অনুসরণীয় পদ্ধতি, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও খোলাফায়ে রাশেদীনের বিশ্বাস, আমল ও বক্তব্যসমূহকে অন্তর্ভূক্ত করে। এটাই পরিপূর্ণ সুন্নাত’।[১০]

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

السُّنَّةَ هِيَ مَا قَامَ الدَّلِيلُ الشَّرْعِيُّ عَلَيْهِ بِأَنَّهُ طَاعَةٌ لِلهِ وَرَسُولِهِ سَوَاءٌ فَعَلَهُ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَوْ فُعِلَ عَلَى زَمَانِهِ أَوْ لَمْ يَفْعَلْهُ وَلَمْ يُفْعَلْ عَلَى زَمَانِهِ لِعَدَمِ الْمُقْتَضِي حِينَئِذٍ لِفِعْلِهِ أَوْ وُجُودِ الْمَانِعِ مِنْهُ

‘সুন্নাত হল ঐ সকল আমল, যা পালনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর অনুগত হওয়ার ব্যাপারে দলীল রয়েছে। চাই তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে পালন করেছেন বা তাঁর যুগে পালন করা হয়েছে অথবা চাহিদা না থাকায় কিংবা অসুবিধার কারণে সে যুগে তিনি নিজে করেনি ও অন্যরাও করেননি। এসবই সুন্নাতের অন্তর্ভূক্ত’।[১১]

এই অর্থে সুন্নাহ হচ্ছে- ‘বাহ্যিক ও আভ্যান্তরীণ সকল ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদীছের অনুসরণ করা ও মুহাজির-আনছার ছাহাবীদের আদর্শের অনুসরণ করা’।[১২]

‘সুন্নাহ’ হচ্ছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঐ সকল বাণী, যা দ্বারা তিনি কোন বিষয়ে আদেশ-নিষেধ, বিশ্লেষণ, মৌন সম্মতি ও সমর্থন দিয়েছেন এবং কথা ও কর্মের মাধ্যমে অনুমোদন করেছেন, যা সঠিকভাবে জানা যায় তাকে সুন্নাহ বলা হয়’।[১৩]

সায়ফুদ্দীন আমেদী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শরী‘আত বিষয়ক কথা, কর্ম ও মৌনসম্মতিকে ‘সুন্নাহ’ বলা হয়, যা অহীয়ে গায়রে মাতলু অর্থাৎ অনাবৃত অহী এবং অহীয়ে মাতলু অর্থাৎ কুরআন নয়’।[১৪]

আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘অহীর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয় এরূপ নিজ সত্তাগত ও দুনিয়াবী বিষয়সমূহের বাইরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শরী‘আত বিষয়ক সকল কথা, কর্ম ও  মৌনসম্মতিকে ‘সুন্নাহ’ বলে’।[১৫]

‘সুন্নাহ’ নামকরণের কারণ

সুন্নাহ নামকরণ করা হয়েছে একারণে যে, তা চলমান। এজন্য বলা হয়ে থাকে, তুমি তোমার সুন্নাহ মোতাবেক চল। বাতাস চলমান রয়েছে, যদি তা একইভাবে প্রবাহিত হয়’।[১৬]

ইত্তিবাঊস সুন্নাহর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

ইসলামী শরী‘আতের উৎস দু’টি, পবিত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ তথা ছহীহ হাদীছ। পবিত্র কুরআন যেমন আল্লাহর প্রেরিত অহী, ঠিক তেমনি সুন্নাহও অহী। কুরআন পঠিত অহী, আর সুন্নাহ অপঠিত অহী। পবিত্র কুরআনের পরই সুন্নাহর স্থান। সুন্নাহ প্রকৃতপক্ষে আল-কুরআনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে পূর্ণাঙ্গ দ্বীন মানব জাতিকে উপহার দিয়েছেন, সুন্নাহ মূলতঃ এরই বহিঃপ্রকাশ। তাই বলা হয়, পবিত্র কুরআন ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের হৃদপিণ্ড স্বরূপ। আর সুন্নাহ এ হৃদপিণ্ডের চলমান ধমনী। হৃদপিণ্ডের ধমনী যেমন দেহের সকল অঙ্গ-প্রতঙ্গের শোণিত ধারা সতেজ, সক্রিয় ও গতিশীল রাখে। এজন্যই ইসলামে ছহীহ সুন্নাহর গুরুত্ব অপরিসীম। সুন্নাহ উন্নত ও মহামূল্যবান জ্ঞান সম্পদ হিসাবে সমাদৃত। দ্বীন ইসলাম পূর্ণাঙ্গ। এই পূর্ণতা ধরে রাখতে সুন্নাহর ভূমিকা অপরিসীম। কারণ যারা সুন্নাহর জ্ঞান থেকে বিমুখ তারা বিদ‘আতী পথ অন্বেষণে সর্বদা ব্যস্ত। সুন্নাহ ব্যতীত দ্বীন ইসলামের পূর্ণতা কল্পনা করা যায় না।

পবিত্র কুরআন যেমন আল্লাহ প্রেরিত অহী, ঠিক তেমনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কথা, কাজ, মৌন সম্মতি তথা সুন্নাহও আল্লাহর অহী, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জানিয়ে দেয়া হত। কুরআন ও সুন্নাহ উভয়টিই জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে নাযিল হয়েছে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, وَأَنْزَلَ اللّٰهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ ‘আর আল্লাহ আপনার উপর কিতাব ও সুন্নাহ অবতীর্ণ করেছেন’ (সূরা আন-নিসা : ১১৩)। ‘আর তিনি শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমাত’ (সূরা আল-জুমু‘আহ : ২)। অবশ্য কুরআন ও সুন্নাহ উভয়টির তথ্যসমূহ আল্লাহর পক্ষ থেকেই আগত’।[১৭]

এ মর্মে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, أَلَا إِنِّي أُوْتِيْتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ ‘জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আমাকে কুরআন ও তার সাথে অনুরূপ বিষয় (সুন্নাহ) দান করা হয়েছে’।[১৮]

হাসান বিনতে আতিয়া বলেন, জিবরীল (আলাইহিস সালাম) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে সুন্নাহ নাযিল করতেন, যেভাবে কুরআন নাযিল করতেন’।[১৯] কুরআন প্রত্যক্ষ অহী ও হাদীছ অপ্রত্যক্ষ অহী। কুরআন অহী মাতলূ যা তেলাওয়াত করা হয়। কিন্তু হাদীছ গায়রে মাতলূ যা তেলাওয়াত করা হয় না’।[২০] যার ভাষা ও অর্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, তাই কুরআন। আর যার অর্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে ও রাসূল (ﷺ)-এর ভাষায় তা ব্যক্ত করেন, তাই হাদীছ ও সুন্নাহ’।[২১] রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ولْيَقْضِ اللهُ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ مَا شَاءَ ‘আল্লাহ যা পছন্দ করেন, তাঁর নবীর মুখ দিয়ে তা প্রকাশ করেন’।[২২]

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের খেয়াল-খুশিমত কোন ফায়ছালা দিতেন না এবং ইচ্ছামত কোন কথা বলতেন না। মহান আল্লাহ বলেন, وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى - إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى - عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَى ‘তিনি (রাসূল) তাঁর প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। কেবলমাত্র অতটুকু বলেন, যা তাঁর নিকটে অহী হিসাবে নাযিল করা হয়। আর তাকে শিক্ষা দান করে এক শক্তিশালী ফেরেশতা’ (সূরা আন-নাজম : ৩-৫)। হাদীছে এসেছে, একদা জনৈক ইয়াহূদী আলেম রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করল, পৃথিবীর কোন ভূখণ্ড সর্বাপেক্ষা উত্তম? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এসে তা জানিয়ে দেয়ার পর বললেন,خَيْرُ الْبِقَاعِ الْمَسَاجِدُ وَشَرُّهَا الأسْوَاقُ ‘সর্বোৎকৃষ্ট স্থান হল মসজিদ ও সর্বনিকৃষ্ট স্থান হল বাজার’।[২৩]

অতএব সুন্নাহও কুরআনের মতই অহী। এক অবহেলা করার কোন উপাই নেই। এর গুরুত্ব অপরিসীম।

সুন্নাহর সর্বজনীনতা

নবী করীম (ﷺ) ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সম্প্রদায়, জাতি নির্বিশেষে গোটা মানবজাতির জন্য প্রয়োগযোগ্য সার্বজনীন উত্তম আদর্শ ও কল্যাণ নিয়ে দুনিয়ায় আগমন করেছেন। তিনি ছিলেন সর্বোত্তম আদর্শ। বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ। আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর পবিত্র জীবণাচরণ, কথামালা ও ইঙ্গিতাদি সম্বলিত পবিত্র সুন্নাহর নির্যাসকে এক কথায় ‘মানবতা’ও বলা যায়। এ মানবতা সর্বজনীন, তা আল্লাহর কালাম কুরআনেরই বাস্তবতার বহিঃপ্রকাশ। সর্বজনীনতা বলতে আমরা যে সর্বমানবের কল্যাণধর্মিতা বুঝি, ইসলামের সামগ্রিক নিয়ে পৃথিবীতে আবির্ভূত নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর বাণীর সর্বজনীনতার আওতায় তা তো বটেই, গোটা বিশ্ব-জীবজন্তু, কীট-পতঙ্গ, নিসর্গজগত তাবৎ মাখলুকাত কল্যাণ ও শান্তির আশ্বাস পাচ্ছে। জলে-স্থলে, অন্তরীক্ষে শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত এ সর্বজনীন জীবন দর্শনের শান্তির ছায়াবৃক্ষ। মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে শুধু মুসলিম উম্মাহর জন্য রাসূল রূপে মনে করার অবকাশ নেই; কেবল মানবজাতির ত্রাণকর্তারূপে দেখাটাও বেশ সীমিত। তিনি তো সারা সৃষ্টিজগতের জন্য কল্যাণ ও শান্তির শ্রেষ্ঠ বার্তাবাহী, বিশ্বজগতের জন্য রহমত। এটা কোনো মানবীয় দাবী নয়, মহান রব্বুল আলামীনের ঘোষণায় এ সত্যই উচ্চারিত হয়েছে।  তিনি বলেন,وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِيْنَ ‘আর আমরা তো আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসাবেই প্রেরণ করেছি’ (সূরা আল-আম্বিয়া : ১০৭)।

الْعَالَمِينَ শব্দটি عالم শব্দের বহুবচন। মানব, জিন, জীবজন্তু, উদ্ভিদ, জড় পদার্থসমূহ সবই এর অন্তর্ভূক্ত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সবার জন্যই রহমতস্বরূপ ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আগমন মানব জাতির জন্য আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ। হাদীছে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, بُعِثْتُ رَحْمَةً مُهْدَاةً ‘আমি তো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রহমত’।[২৪]

তাছাড়া যদি আখেরাতই সঠিক জীবন হয় তাহলে আখেরাতের আহ্বানকে প্রতিষ্ঠিত করতে কুফর ও শিরক-কে নিশ্চিহ্ন করার জন্য কাফেরদেরকে হীনবল করা এবং তাদের মোকাবেলায় জিহাদ করাও সাক্ষাত রহমত। এর ফলে আশা করা যায় যে, অবাদ্ধদের জ্ঞান ফিরে আসবে এবং তারা ঈমান ও সৎকর্মের অনুসারী হয়ে যাবে। যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর ঈমান আনবে ও তাঁর কথায় বিশ্বাস করবে তারা অবশ্যই সৌভাগ্যবান হবে, আর যারা ঈমান আনবে না, তারা দুনিয়াতে পূর্ববর্তী উম্মতদের মত ভূমিধ্বস বা ডুবে মরা থেকে অন্তত নিরাপদ থাকবে। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বাবস্থায় রহমত’ (কুরতবী)। ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

 أَنَّ رَجُلاً مِنَ الْيَهُودِ قَالَ لَهُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ ، آيَةٌ فِى كِتَابِكُمْ تَقْرَءُونَهَا لَوْ عَلَيْنَا مَعْشَرَ الْيَهُودِ نَزَلَتْ لاَتَّخَذْنَا ذَلِكَ الْيَوْمَ عِيدًا . قَالَ أَىُّ آيَةٍ قَالَ (الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِىْ وَرَضِيْتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِيْنًا ) قَالَ عُمَرُ قَدْ عَرَفْنَا ذَلِكَ الْيَوْمَ وَالْمَكَانَ الَّذِى نَزَلَتْ فِيهِ عَلَى النَّبِىِّ  ﷺ  وَهُوَ قَائِمٌ بِعَرَفَةَ يَوْمَ جُمُعَةٍ  

‘জনৈক ইয়াহূদী তাকে বলল, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনাদের কিতাবে একটি আয়াত আছে, যা আপনারা পাঠ করে থাকেন, তা যদি আমাদের ইয়াহূদী জাতির উপর নাযিল হত, তাহলে অবশ্যই আমরা সে দিনকে ঈদের দিন হিসাবে পালন করতাম। তিনি বললেন, কোন আয়াত? সে বলল, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং তোমাদের উপর আমার অনুগ্রহকে সম্পূর্ণ করলাম। আর ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসাবে মনোনীত করলাম’ (সূরা আল-মায়েদাহ : ৩) এই আয়াতটি। ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, এটি যে দিনে এবং যে স্থানে নবী করীম (ﷺ)-এর উপর নাযিল হয়েছিল তা আমরা জানি। তিনি সেদিন আরাফায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। আর দিনটি ছিল জুমু‘আর দিন’।[২৫]

সুন্নাহর গভীরতা

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহ তথা তাঁর আদর্শকে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা তাকীদ দিয়েছেন। তাতেই বুঝা যায় যে, সুন্নাহের গভীরতা অনেক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللّٰهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللّٰهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ ‘আপনি বলুন! যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তবে আমার অনুসরণ কর। তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন ও তোমাদের গোনাসমূহ মাফ করে দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান’ (সূরা আলে-‘ইমরান : ৩১)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের খেয়াল-খুশিমত কোন ফায়ছালা দিতেন না এবং ইচ্ছামত কোন কথা বলতেন না। মহান আল্লাহ বলেন, وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى - إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى- عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَى ‘তিনি (রাসূল) তাঁর প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। কেবলমাত্র অতটুকু বলেন, যা তাঁর নিকটে অহী হিসাবে নাযিল করা হয়। আর তাকে শিক্ষা দান করে এক শক্তিশালী ফেরেশতা’ (সূরা আন-নাজম : ৩-৫)। মহান আল্লাহ আরো বলেন, وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا ‘আর রাসূল তোমাদের যা দেন তোমরা তা গ্রহণ কর এবং যা কিছু নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক’ (সূরা আল-হাশর : ৭)।

সুন্নাহর মূল্যায়ন

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে ছাহাবীগণ তাঁর কথা তথা সুন্নাহকে কিখাবে মুল্যায়ন করতেন। তিনি ছাহাবীদের যেভাবে আমল করতে বলতেন বা তিনি যা করতেন তা দেখে ছাহাবীগণ তা গুরুত্ব সহকারে মুল্যায়ন করতেন। আর আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহকে মুল্যায়ন করার পরিবর্তে বাব-দাদার আমলকে বেশী মুল্যায়ন করি। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহ মুল্যায়নে উম্মতের জন্য কল্যাণ রয়েছে। যা নিম্নের হাদীছ সমূহে প্রমান পাওয়া যায়।

ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে এসে তা চুম্বন করে বললেন, إِنِّيْ أَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ لاَ تَضُرُّ وَلاَ تَنْفَعُ وَلَوْلاَ أَنِّيْ رَأَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ يُقَبِّلُكَ مَا قَبَّلْتُكَ ‘আমি অবশ্যই জানি যে, তুমি একখানা পাথর মাত্র, তুমি কারো অকল্যাণ বা কল্যাণ করতে পার না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে কখনো আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না’।[২৬]

ওমর ইবনু আবূ সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,

كُنْتُ غُلاَمًا فِى حَجْرِ رَسُولِ اللهِ  ﷺ  وَكَانَتْ يَدِى تَطِيشُ فِى الصَّحْفَةِ فَقَالَ لِى رَسُولُ اللهِ  ﷺ   يَا غُلاَمُ سَمِّ اللهَ  وَكُلْ بِيَمِينِكَ وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ فَمَا زَالَتْ تِلْكَ طِعْمَتِى بَعْدُ

‘আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর তত্ত্বাবধানাধীন ছোট বালক ছিলাম। সে সময় আমার হাত (খাদ্য) পাত্রের এদিক-সেদিক যেত। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘হে বৎস! তুমি খাওয়ার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বল। ডান হাদ দিয়ে খাও ও নিকট থেকে খাও, মাঝখান থেকে নয়। এরপর থেকে তাঁর শিখানো পদ্ধতিতেই আমার খাবার পদ্ধতি’।[২৭]

আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, এক বেদুঈন নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলুন যদি আমি তা সম্পাদন করি তাহলে জান্নাতে প্রবেশ করব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন,

تَعْبُدُ اللهَ لاَ تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا ، وَتُقِيمُ الصَّلاَةَ الْمَكْتُوبَةَ وَتُؤَدِّى الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ وَتَصُومُ رَمَضَانَ قَالَ وَالَّذِى نَفْسِى بِيَدِهِ لاَ أَزِيدُ عَلَى هَذَا فَلَمَّا وَلَّى قَالَ النَّبِىُّ ﷺ  مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى هَذَا

‘আল্লাহর ইবাদত করবে আর তাঁর সাথে অপর কোন কিছু শরীক করবে না। ফরয ছালাত আদায় করবে, ফরয যাকাত প্রদান করবে, রামাযান মাসে ছিয়াম পালন করবে। সে বলল, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তার কসম করে বলছি, আমি এর চেয়ে বেশী করব না। যখন সে ফিরে গেল, নবী করীম (ﷺ) বললেন, যে ব্যক্তি কোন জান্নাতী ব্যক্তিকে দেখতে পছন্দ করে সে যেন এই ব্যক্তিকে দেখে নেয়’।[২৮]

عَنْ أَبِى سَعِيْدٍ الْخُدْرِيُّ ঃ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ৎ كَانَ يَخْرُجُ يَوْمَ الْأَضْحَى وَيَوْمَ الْفِطْرِ فَيَبْدَأُ بِالصَّلَاةِ فَإِذَا صَلَّى صَلَاتَهُ قَامَ فَأَقْبَلَ عَلَي النَّاسِ وَهُمْ جُلُوْسٌ فِىْ مُصَلَّاهُمْ فَإِنْ كَانَتْ لَهُ حَاجَةٌ بِبَعْثِ ذَكَرَهُ لِلنَّاسِ أَوْ كَانَتْ لَهُ حَاجَةٌ بِغَيْرِ ذَلِكَ أَمَرَهُمْ بِهَا وَكَانَ يَقُوْلُ تَصَدَّقُوْا تَصَدَّقُوْا تَصَدَّقُوْا وَكَانَ أَكْثَرَ مَنْ يَّتَصَدَّقُ النِّسَاءَ ثُمَّ يَنْصَرِفُ فَلَمْ يَزَلْ كَذٰلِكَ حَتَّى كَانَ مَرْوَانُ بْنُ الْحَكَمِ فَخَرَجْتُ مُخَاصِرًا مَرْوَانَ حَتّٰى أَتَيْنَا الْمُصَلَّى فَإِذَا كَثِيْرُ بْنُ الصَّلْتِ قَدْ بَنَى مِنْبَرًا مِنْ طِيْنٍ وَلَبِنٍ فَإِذَا مَرْوَانُ يُنَازِعُنِيْ يَدَهُ كَأَنَّهُ يَجُرُّنِيْ نَحْوَ الْمِنْبَرِ وَأَنَا أَجُرُّهُ نَحْوَ الصَّلَاةِ فَلَمَّا رَأَيْتُ ذَلِكَ مِنْهُ قُلْتُ أَيْنَ الْاِبْتِدَاءُ بِالصَّلَاةِ؟ فَقَالَ لَا يَا أَبَا سَعِيْدٍ قَدْ تُرِكَ مَا تَعْلَمُ قُلْتُ كَلَّا وَالَّذِيْ نَفْسِيْ بِيَدِهِ لَا تَأتُوْنَ بِخَيْرٍ مِمَّا أعْلَمُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ انْصَرَفَ

আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরবানীর ঈদের দিন এবং ছিয়ামের ঈদের দিন বের হতেন এবং প্রথমে ছালাত আরম্ভ করতেন। যখন ছালাত সম্পন্ন করতেন, তখন উঠে দাঁড়াতেন এবং মানুষের দিকে ফিরতেন। আর লোক তখন নিজ নিজ ছালাতের স্থানে বসে থাকত। তখন যদি তাঁর কোথাও সৈন্য প্রেরণের আবশ্যক থাকত, তাহলে লোকদের তা বলতেন, আর এটা ছাড়া অন্য কোন আবশ্যক থাকলেও তাদেরকে তার নির্দেশ দিতেন। তিনি বলতেন যে, দান কর! দান কর!! দান কর!!! আর দানকারীদের অধিকাংশই হত মহিলা। অতঃপর তিনি ফিরে আসতেন। অবস্থা এইরূপই ছিল যতক্ষণ না মারওয়ান ইবনু হাকাম শাসক হয়। এসময় মারওয়ানের হাত ধরাধরি করে বের হলাম। হঠাৎ দেখি কাছীর ইবনু ছালত মাটি ও কাঁচা ইট দ্বারা একটি মিম্বার তৈরি করেছেন। এমন সময় মারওয়ান আমার সাথে টানাটানি আরম্ভ করল। সে তার হাত দ্বারা আমাকে (খুৎবার জন্য) মিম্বারের দিকে টানতে লাগল আর আমি তাকে ছালাতের দিকে টানতে লাগলাম। আমি যখন তার এই অবস্থা দেখলাম, বললাম, ছালাত প্রথমে আরম্ভ করার কথা কোথায় গেল? সে বলল না আবূ সাঈদ! আপনি যা জানেন তা এখন পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। আমি বললাম, কখনও না, আমার প্রাণ যাঁর হাতে সেই আল্লাহ্র কসম! আমি যা জানি তা অপেক্ষা উত্তম কিছু তোমরা কখনও করতে পারবে না। (পরবর্তী রাবী বলেন,) এটা তিনবার বললেন এবং (ঈদগাহ হতে) চলে গেলেন।[২৯]



* পরিচালক: দারুস সালাম ইসলামী কমপ্লেক্স, পিরুজালী ময়তাপাড়া, গাযীপুর।

তথ্যসূত্র:
[১]. মুহাম্মাদ বিন আলী শাওক্বানী ইয়ামানী, আল-ক্বাওলুল মুফীদ (মিসর : ১৩৪০ হি.), পৃ. ১৪।
[২]. ইবনু মানযূর, লিসানুল আরব, ১৩তম  খণ্ড, পৃ. ২২৫; আয-যুবায়দী, তাজুল আরূস, ৩৫ তম খণ্ড, পৃ. ২২৯; মুহাম্মাদ আর-রাযী, মুখতারুছ ছিহাহ, পৃ. ৩২৬।
[৩].  শাওক্বানী, ‘ইরশাদুল ফুহূল’ (মিসর : বাবী হালবী, হি. ১৩৫৬ হি.) পৃ. ৩৩)।
[৪]. আলবানী, ‘আল-হাদীছু হুজ্জিয়াতুন, পৃ. ১৫।
[৫]. জাওহারী, আছ-ছিহাহ, ৫ম খণ্ড, পৃ. ১৭২১; তাহ্যীবুল লুগাত, ১২তম খণ্ড, পৃ. ২৯৮; লিসানুল আরব, ১৩তম খণ্ড, পৃ. ২২০; জুরজানী, তা‘রীফাত, পৃ. ১৬১; ইরশাদুল ফুহূল, ১ম খণ্ড, পৃ. ৯৫।
[৬]. Encyclopaedia of Religion and Ethics, Vol. 12, P. 114. Edited by James Hastings. Printed in Great Britain by MORRI[6]SON & GIBB Limited. N.D).
[৭]. ইবনু মানযূর, লিসানুল আরব, ‘আরবী হরফ নুন’ অধ্যায়, ‘সীন’ অনুচ্ছেদ, ১৩তম খণ্ড, পৃ. ২২৫।
[৮]. ড. নাছের আল-আকল, মাবাহিছু ফী আক্বীদাতি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহ, পৃ. ১৩।
[৯]. নিহায়াহ ফী গারীবিল আছার, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪০৯।
[১০]. জামিঊল ঊলুম ওয়াল হিকাম, ১ম খণ্ড, পৃ. ১২০।
[১১]. ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ, মাজমু‘ ফাতাওয়া, ২১তম খণ্ড, পৃ. ৩১৭।
[১২]. ইবনু তাইমিয়্যাহ, মাজমূঊ ফাতাওয়া, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১৫৭।
[১৩]. যাকারিয়া আল-আনছারী, ফাতহুল বাকী আলা আলফাযিল ইরাকী (বৈরূত : দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, তা.বি.), পৃ. ১২।
[১৪]. সায়ফুদ্দীন আমেদী, আল-ইহকাম, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৫৬।
[১৫]. আলবানী, আল-হাদীছু হুজ্জিয়াতুন, পৃ. ১৫।
[১৬]. মাক্বাইসুল লুগাত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫৪৯-৫৫০।
[১৭]. তাফসীরে মা‘রেফুল কুরআন, পৃ. ২৮২।
[১৮]. আবূ দাঊদ, হা/৪৬০৪; ইবনু মাজাহ, হা/১২; মিশকাত, হা/১৬৩; ছহীহুল জামে‘, হা/২৬৪৩; সনদ ছহীহ।
[১৯]. আশ-শারহুল ইবানা, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের পরিচিতি দ্র.। 
[২০]. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, হাদীছের প্রামাণিকতা, পৃ. ৫।  
[২১]. তাফসীরে মা‘রেফুল কুরআন, পৃ. ১৩০৩।    
[২২]. ছহীহ বুখারী, হা/৬০২৭।  
[২৩]. ইবনু হিব্বান, হা/২৯৯; মিশকাত, হা/৭৪১, সনদ হাসান। 
[২৪]. ত্বাবারাণী, মু‘জামুল আওসাত, হা/২৯৮১; মু‘জামুস ছাগীর, হা/২৬৪; মুসতাদরাক হাকেম, হা/১০০; মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ, হা/৩০৫; মারফু‘ সনদে; দারেমী, হা/১৫, মুরসাল ছহীহ সনদে।   
[২৫]. ছহীহ বুখারী, হা/৪৫; ছহীহ মুসলিম, হা/৩০১৭।   
[২৬]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫৯৭, ১৬০৬, ১৬১০; ছহীহ মুসলিম, হা/১২৭০।   
[২৭]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৩৭৬; ছহীহ মুসলিম, হা/৫৩৮৮।
[২৮]. ছহীহ বুখারী, হা/১৩৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪; মিশকাত, হা/১৪।
[২৯]. ছহীহ মুসলিম, হা/৮৮৯; মিশকাত, হা/১৪৫২।




প্রসঙ্গসমূহ »: সুন্নাত
ইমাম মাহদী, দাজ্জাল ও ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর আগমন সংশয় নিরসন (১৫তম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
সুন্নাতের আলো বিদ‘আতের অন্ধকার (৩য় কিস্তি) - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
ঈদে মীলাদুন্নবী : একটি পর্যালোচনা - আল-ইখলাছ ডেস্ক
সালাফী মানহাজের বৈশিষ্ট্য (শেষ কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
কুরবানীর মাসায়েল - আল-ইখলাছ ডেস্ক
আল্লাহ তা‘আলাকে কি স্বপ্নযোগে দেখা সম্ভব? - হাসিবুর রহমান বুখারী
ছয়টি মূলনীতির ব্যাখ্যা (৪র্থ কিস্তি) - অনুবাদ : আব্দুর রাযযাক বিন আব্দুল ক্বাদির
বিদ‘আত পরিচিতি (১১তম কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
জীবন ব্যবস্থা হিসাবে আল-কুরআনের মূল্যায়ন - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
শরী‘আত অনুসরণের মূলনীতি (৪র্থ কিস্তি) - ড. মুযাফফর বিন মুহসিন
মাযহাবী গোঁড়ামি ও তার কুপ্রভাব (৪র্থ কিস্তি) - অনুবাদ : রিদওয়ান ওবাইদ
তওবার গুরুত্ব ও ফযীলত (শেষ কিস্তি) - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর

ফেসবুক পেজ