উত্তর : বরকত প্রাপ্তি, কল্যাণ কামনা ও দু‘আ নেয়ার উদ্দেশ্যে মাযারে গমন করা বা কোন ক্ববরকে উদ্দেশ্য করে সফর করা, শ্রদ্ধা নিবেদন করা, পুষ্পস্তবক অর্পণ করা, প্রদীপ জ্বালানো হারাম ও শিরকের অন্তর্ভুক্ত, যা মুসলিমকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৭/১৮৭-৮৯; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১/৪২৯ পৃ.)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, নবী (ﷺ)-এর যে রোগে মৃত্যু হয়েছিল, সে রোগাবস্থায় তিনি বলেছিলেন, ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ, তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৩০; ছহীহ মুসলিম, হা/৫২৯, ৫৩০-৫৩১)। অন্যত্র তিনি মৃত্যুর পাঁচ দিন আগে বলেন, ‘সাবধান! তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের নবী এবং নেককার মুমিনগণের কবরসমূহকে মসজিদ হিসাবে গ্রহণ করত! খবরদার! তোমরা কবরসমূহকে মসজিদ হিসাবে গ্রহণ করো না। কেননা আমি তোমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করছি’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৫৩২; ছহীহুল জামি‘, হা/২৪৪৫, ২৭৪৫)।
ঈমান বিনষ্টকারী কারণসমূহের প্রধান হল আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতে শিরক করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ (তাওবাহ্ ব্যতীত) ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করেন’ (সূরা আন-নিসা: ৪৮)। তিনি আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিবেন, আর তার আশ্রয়স্থল হবে জাহান্নাম’ (সূরা আল-মায়িদাহ: ৭২)।
তবে কোন মুসলিম যদি এমন কোন ভয়াবহ গুনাহে লিপ্ত হয়, যার ফলে সে ইসলাম থেকে বহির্ভূত হয়ে যায়, এমন গুনাহ যার ফলে সে মুসলিম থেকে মুরতাদ হয়ে যায়, আর সে যদি তাওবাহ করার পূর্বেই মারা যায়, তবে তার জানাযা পড়া যাবে না। যেমন (১) শিরক অথবা কুফর অথবা স্পষ্ট নিফাকের মধ্যে লিপ্ত ব্যক্তি (সূরা আত-তাওবাহ: ৮৪, ১১৩; আল-মাজমূঊ লিন-নববী, ৫/২৫৮; আল-মাওসূ‘আতিল ফিক্বহিয়্যাহ, ৪১/২১ পৃ.)। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম শাত্বিবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলার নিকট কঠোরভাবে তাওবাহ করতে হবে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা খালিছ তাওবাহর মাধ্যমে শিরকের মত ধ্বংসাত্মক, হত্যার মত মারাত্মক ও ব্যভিচারের মত জঘন্য গুনাহকেও ক্ষমা করার ঘোষণা করেছেন। যে ব্যক্তি স্বচ্ছ ও পবিত্র অন্তরে একনিষ্ঠ ও একাগ্রতার সহিত খালিছ তাওবাহ করে আল্লাহ তার তাওবাহ ক্ববুল করেন’ (সূরা আল-ফুরক্বান: ৬৮-৭০; আল-ই‘তিছাম, ২/২৮১; মাজাল্লাতুল বুহূছিল ইসলামিয়্যাহ, ১৪/১৮৩-১৮৫ পৃ.)। নবী (ﷺ) বলেছেন, التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ ‘গুনাহ থেকে তাওবাহকারী নিষ্পাপ ব্যক্তিতুল্য’ (ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫০, সনদ হাসান)।
প্রশ্নকারী : মিজানুর রহমান ভূইয়াঁ, এজিই আর্মি মোমেনশাহী।