রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন
উত্তর : বরকত প্রাপ্তি, কল্যাণ কামনা ও দু‘আ নেয়ার উদ্দেশ্যে মাযারে গমন করা বা কোন ক্ববরকে উদ্দেশ্য করে সফর করা, শ্রদ্ধা নিবেদন করা, পুষ্পস্তবক অর্পণ করা, প্রদীপ জ্বালানো হারাম ও শিরকের অন্তর্ভুক্ত, যা মুসলিমকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ,  ২৭/১৮৭-৮৯; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১/৪২৯ পৃ.)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, নবী (ﷺ)-এর যে রোগে মৃত্যু হয়েছিল, সে রোগাবস্থায় তিনি বলেছিলেন, ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ, তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৩০; ছহীহ মুসলিম, হা/৫২৯, ৫৩০-৫৩১)। অন্যত্র তিনি মৃত্যুর পাঁচ দিন আগে বলেন, ‘সাবধান! তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের নবী এবং নেককার মুমিনগণের কবরসমূহকে মসজিদ হিসাবে গ্রহণ করত! খবরদার! তোমরা কবরসমূহকে মসজিদ হিসাবে গ্রহণ করো না। কেননা আমি তোমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করছি’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৫৩২; ছহীহুল জামি‘, হা/২৪৪৫, ২৭৪৫)।

ঈমান বিনষ্টকারী কারণসমূহের প্রধান হল আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতে শিরক করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ (তাওবাহ্ ব্যতীত) ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করেন’ (সূরা আন-নিসা: ৪৮)। তিনি আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিবেন, আর তার আশ্রয়স্থল হবে জাহান্নাম’ (সূরা আল-মায়িদাহ: ৭২)।

তবে কোন মুসলিম যদি এমন কোন ভয়াবহ গুনাহে লিপ্ত হয়, যার ফলে সে ইসলাম থেকে বহির্ভূত হয়ে যায়, এমন গুনাহ যার ফলে সে মুসলিম থেকে মুরতাদ হয়ে যায়, আর সে যদি তাওবাহ করার পূর্বেই মারা যায়, তবে তার জানাযা পড়া যাবে না। যেমন (১) শিরক অথবা কুফর অথবা স্পষ্ট নিফাকের মধ্যে লিপ্ত ব্যক্তি (সূরা আত-তাওবাহ: ৮৪, ১১৩; আল-মাজমূঊ লিন-নববী, ৫/২৫৮; আল-মাওসূ‘আতিল ফিক্বহিয়্যাহ, ৪১/২১ পৃ.)। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম শাত্বিবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলার নিকট কঠোরভাবে তাওবাহ করতে হবে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা খালিছ তাওবাহর মাধ্যমে শিরকের মত ধ্বংসাত্মক, হত্যার মত মারাত্মক ও ব্যভিচারের মত জঘন্য গুনাহকেও ক্ষমা করার ঘোষণা করেছেন। যে ব্যক্তি স্বচ্ছ ও পবিত্র অন্তরে একনিষ্ঠ ও একাগ্রতার সহিত খালিছ তাওবাহ করে আল্লাহ তার তাওবাহ ক্ববুল করেন’ (সূরা আল-ফুরক্বান: ৬৮-৭০; আল-ই‘তিছাম, ২/২৮১; মাজাল্লাতুল বুহূছিল ইসলামিয়্যাহ, ১৪/১৮৩-১৮৫ পৃ.)। নবী (ﷺ) বলেছেন, ‏التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ ‘গুনাহ থেকে তাওবাহকারী নিষ্পাপ ব্যক্তিতুল্য’ (ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫০, সনদ হাসান)।


প্রশ্নকারী : মিজানুর রহমান ভূইয়াঁ, এজিই আর্মি মোমেনশাহী।





প্রশ্ন (২৯) : ইসলামের দৃষ্টিতে মধ্যমপন্থার মূল্যায়ন কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫০) : কারো কাছে জমানো টাকা এবং ব্যবসায় বিনিয়োগ করা টাকা মিলে যাকাতের নিছাবের চেয়ে বেশি অর্থ আছে। কিন্তু ঋণ রয়েছে উক্ত অর্থের চেয়ে বেশি। এখন কি তার উপর যাকাত ফরয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে নগ্ন অবস্থায় ফরয গোসল করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : একজন মেয়ে বিয়ে হওয়ার পরে তার স্বামীর হুকুম মানবে, না পিতার হুমুক মানবে? যদি পিতার অবাধ্য হয় তাহলে কি সে গুনাহগার হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) বিয়ের সময় মেয়ের বাবার বাড়ী থেকে যে মালপত্র দেয়া হয় তা দেয়া কি ঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : ব্যাংকারকে বা ব্যাংকারের মেয়েকে বিয়ে করা যাবে কি? যারা ব্যাংকে চাকুরী করে তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : অনেক বক্তা বলেন, জুমু‘আর দিনটি গরীবের হজ্জ। এই দাবী কি সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : কোন ব্যক্তি যদি রামাযানের রাত্রিতে স্ত্রী সহবাস করে ঘুমিয়ে যায় এবং অপবিত্র অবস্থায় সাহারী খেয়ে ছিয়াম রাখে, তাহলে ছিয়াম শুদ্ধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জনৈক ব্যক্তি হারাম অর্থ দিয়ে বাড়ীতে নলকূপ স্থাপন করেছে। ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে সেই নলকূপের পানি দিয়ে ওযূ করা বা ফরয গোসল করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : মাঝে মাঝে কেউ যদি ছালাতে রাফ‘ঊল ইয়াদায়েন না করে, তাহলে তার ছালাত বাতিল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : আমি কোন ব্যক্তির নিকট থেকে টাকা নিব ব্যবসার জন্য। ব্যবসার শর্ত অনুযায়ী সে লাভ বা ক্ষতি মেনে নিবে। আমি সেই টাকা দিয়ে বিদেশ যাব চাকরি করতে। বিদেশে গিয়ে চাকুরী করে যদি বেতন উঠাতে পারি, তখন ব্যবসায়িক লাভ হিসাবে তার টাকার অনুপাতে তাকে পারসেন্ট দিব। যতদিন পর্যন্ত তার টাকা ফিরিয়ে না দিব ততদিন তার পারসেন্ট সক্রিয় থাকবে। আর যদি বিদেশ গিয়ে কোন কারণে চাকুরী কনফার্ম না হয় কিংবা যদি যেকোন ধরনের প্রতারণার স্বীকার হয়ে বিদেশ যাওয়া না হয়, অথবা অন্য কোন কারণে যদি বিদেশ যাওয়া না হয় যেমনঃ ভিসা রিজেক্ট, মেডিকেল আনফিট তাহলে যে টাকা ক্ষতি হবে তার ভার সে বহন করবে তার টাকার অনুপাতে। উক্ত চুক্তিটি কি বাইয়ে মুশারাকা বা মুযারাবা হিসাবে গণ্য হবে, না-কি সূদী কারবার হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : তাসবীহ কি দু’হাতের আঙ্গুলেই গণনা করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ