শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন
উত্তর :  অধিকাংশ আলেমের মতে শিরককারী, ছালাত ত্যাগকারী, সূদী কারবারের সাথে যুক্ত বা অন্য কোন কাবীরা গুনাহে লিপ্ত পুরুষ বা নারীর সঙ্গে তওবাহের পূর্বে বিবাহের সম্পর্ক জায়েয নয় (ফাতাওয়া ইবনে বায, ২০/১৪৯-১৫১, ১৫৪-১৫৭, ১৫৯-১৬০, ২০৯-২১১, ৩৮২-৩৮৪ পৃ.; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমা, ১৮/১২৫-১২৬ পৃ.)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ বলেন, ‘সূদভিত্তিক ব্যাংকে চাকরী করা হালাল নয়। এর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ ভক্ষণ করা হারাম। এই রকম ছেলের সঙ্গে বিবাহ দেয়া অনুচিত। বিবাহের ক্ষেত্রে দ্বীনদারিকে প্রাধান্য দেয়া ধর্মীয় দায়িত্ব (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমা, ১৮/১৯৫-১৯৬ পৃ.)। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর আলোকে আদর্শ পাত্র-পাত্রীর যোগ্যতার মাপকাঠি তার দ্বীনদারিতা ও উত্তম চরিত্র। বিবাহের ক্ষেত্রে আল্লাহভীরুতা, ন্যায়পরায়ণতা ও ধার্মিকতাই মূখ্য বিষয়। বাকী ধনসম্পদ, বংশ পরিচয়, বংশ মর্যাদা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এগুলো গৌণ বিষয়’ (লিক্বা আশ-শাহরী, লিক্বা নং-৪৬)। শায়খ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘পাপিষ্ঠ, অধর্মচারী ও কাবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি বিবাহের প্রস্তাব পাঠালে, তাওবাহ না করা পর্যন্ত তাকে বর্জন করতে হবে’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২১/৪৮ পৃ.)। নিঃসন্দেহে সূদ কাবীরা গুনাহ বা মহাপাপের অন্তর্ভুক্ত (সূরা আলে ইমরান : ১৩০)। নবী (ﷺ) সূদখোর, সূদদাতা, তার সাক্ষীদাতা ও তার লেখককে অভিসম্পাত করেছেন এবং বলেছেন, ‘ওরা সবাই সমান’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৭-১৫৯৮)।

দ্বিতীয়তঃ কোন পিতা যদি সূদী কারবার, হারাম উপার্জন, মদ্যপান বা অন্যান্য পাপাচার করে, কিন্তু তার মেয়ে যদি ভালো, সৎ ও দ্বীনদার হয় তাহলে তাকে বিয়ে করতে কোন বাধা নেই ইনশাআল্লাহ। কারণ ‘ফক্বীহগণ বলেছেন, হারাম পন্থায় উপার্জিত অর্থ শুধু উপার্জনকারীর জন্যই হারাম। সন্তান হিসাবে পিতা যদি তাকে উপহার স্বরূপ ঐ মাল থেকে কিছু দেয়, তবে তা গ্রহণ করা তার জন্য বৈধ হবে। আর যদি সম্ভব হয় তাহলে পিতার ঐ উপহার বর্জন করাই উত্তম হবে (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৪৫০১৮; আহকামুল কুরআন, ১/৩২৪ পৃ.; আল-মাজমূঊ, ৯/৪৩০ পৃ.; ফাতাওয়া ফিক্বহিয়্যাহ আল-কুবরা, ২/২৩৩ পৃ.; কাশশাফুল ক্বিনা‘, ৩/৪৯৬ পৃ.)‌। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি পিতা হারাম পন্থায় উপার্জন করে, সেক্ষেত্রে সন্তানের উপর অপরিহার্য পিতাকে সদুপদেশ দেয়া। যদি সন্তানের পক্ষে পিতাকে হারাম উপার্জন সম্পর্কে উপদেশ দেয়া এবং বিরত রাখা সম্ভব না হয়, তবে তার বিষয়টি এমন কারোর নিকট উপস্থাপন করা অথবা এমন কারোর সাহায্য নেয়া যে বা যারা তাকে হারাম উপার্জনে বাধা প্রদান করতে পারবে। এর পরেও যদি পিতা হারাম উপার্জন পরিহার না করে, এমতাবস্থায় সন্তানেরা প্রয়োজন অনুযায়ী ঐ টাকা ভক্ষণ করলে তাদের কোন গুনাহ হবে না। কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিতে পারবে না। এক্ষেত্রে হারাম উপার্জনকারীই প্রকৃত গুনাহগার। সে ছাড়া অন্য কারো জন্য তা হারাম নয়। যেমন রাসূল (ﷺ) ইহুদীদের সঙ্গে আদান-প্রদান করেছেন এটি জানার পরও যে তারা সূদী কারবারের সঙ্গে যুক্ত এবং হারাম ভক্ষণ করে। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, তা উপার্জনকারী ব্যতীত অন্য কারো জন্য হারাম নয় (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যা, ৩/৪৫২; তাফসীরু সূরাতিল বাক্বারাহ, ১/১৯৮; আল-ক্বাউলুল মুফীদ আলা কিতাবিত তাওহীদ, ৩/১১২ পৃ.)।

প্রশ্নকারী ওয়াহীদুযযামান, ঢাকা।





প্রশ্ন (১৯) : মুক্তিপ্রাপ্ত দলের বৈশিষ্ট্য কী? কোন ব্যক্তির মাঝে যদি উক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহের কোন একটি অনুপস্থিত থাকে, তাহলে সে কি মুক্তিপ্রাপ্ত দল হতে বের হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : হারাম উপার্জনকারীর বাড়িতে দাওয়াত খাওয়া ও দেয়া কোন উপহার গ্রহণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : প্রচলিত চার মাযহাব কি স্ব স্ব ইমাম সৃষ্টি করেছেন, না-কি তাঁদের মৃত্যুর পরে তৈরি হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : যদি কোন পুরুষের ছবি এডিট করে মহিলাতে রুপান্তরিত করা হয়, তাহলে কি তার কারণে কাবীরা গুনাহ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : এলাকায় ২টি জামে মসজিদ আছে। উক্ত দুই মসজিদের ইমামই তাবীয ব্যবহার জায়েয আছে বলে জুমু‘আর খুতবায় আলোচনা করেছেন এবং তারা প্রতিনিয়তই বিভিন্ন রোগের জন্য মানুষকে তাবীয দিয়ে থাকেন। এমতাবস্থায় ঐ ইমামদের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : আমি গর্ভবতী। আমি আল্লাহর কাছে নেককার সন্তান লাভের জন্য নিয়মিত দু‘আ করি। আমি এক লোকের কাছে শুনেছি যে, গর্ভবতী নারী যদি প্রতিদিন নিয়মিত সূরা মারিয়াম তেলাওয়াত করে, তাহলে তার প্রসব সহজ হয় এবং প্রতিদিন নিয়মিত সূরা ইউসুফ পড়ে, তাহলে বাচ্চা সুন্দর হয়। এর সমর্থনে কি কোন ছহীহ হাদীছ আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজে তাঁর জীবনে কখনো দাড়িতে খিযাব করেছেন কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ‘যে ব্যক্তি ‘লা হাওলা ওয়ালা কুউওতা ইল্লাবিল্লাহ’ পাঠ করবে, তার যাবতীয় বিপদাপদ দূর করবে। যার সর্বনিম্ন হল দারিদ্র্যতা মোচন করা’ (তিরমিযী, ৩/১৮৬) মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : মুসলিম বিদ্বেষী ও সাম্প্রদায়িক অমুসলিমদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : তারাবীহর ছালাত কয় রাক‘আত? কেউ ৮ রাক‘আত পড়ে, কেউ পড়ে ২০ রাক‘আত। কোনটি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : জনৈক আলিম বলেন, ‘ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) মুসলিম জাতির পিতা নন। বরং সকলের জাতির পিতা আদম (আলাইহিস সালাম)। আবার কেউ কেউ বলেন, নবী-রাসূলগণের পিতা হচ্ছেন ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : হাদীছ থেকে জানা যায় যে, তিন শ্রেণীর মুসলিমদের হত্যা করা যায়। ১. বিবাহিত অবস্থায় যেনা করা ব্যক্তি, ২. হত্যার প্রতিশোধ বা ক্বিছাছের হত্যা, ৩. যারা জাম‘আত থেকে বের হয়ে যাবে। প্রশ্ন হল, হাদীছটি কি ছহীহ? আর জামা‘আত বলতে কী বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ