রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০২:৫৯ অপরাহ্ন
উত্তর :  অধিকাংশ আলেমের মতে শিরককারী, ছালাত ত্যাগকারী, সূদী কারবারের সাথে যুক্ত বা অন্য কোন কাবীরা গুনাহে লিপ্ত পুরুষ বা নারীর সঙ্গে তওবাহের পূর্বে বিবাহের সম্পর্ক জায়েয নয় (ফাতাওয়া ইবনে বায, ২০/১৪৯-১৫১, ১৫৪-১৫৭, ১৫৯-১৬০, ২০৯-২১১, ৩৮২-৩৮৪ পৃ.; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমা, ১৮/১২৫-১২৬ পৃ.)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ বলেন, ‘সূদভিত্তিক ব্যাংকে চাকরী করা হালাল নয়। এর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ ভক্ষণ করা হারাম। এই রকম ছেলের সঙ্গে বিবাহ দেয়া অনুচিত। বিবাহের ক্ষেত্রে দ্বীনদারিকে প্রাধান্য দেয়া ধর্মীয় দায়িত্ব (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমা, ১৮/১৯৫-১৯৬ পৃ.)। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর আলোকে আদর্শ পাত্র-পাত্রীর যোগ্যতার মাপকাঠি তার দ্বীনদারিতা ও উত্তম চরিত্র। বিবাহের ক্ষেত্রে আল্লাহভীরুতা, ন্যায়পরায়ণতা ও ধার্মিকতাই মূখ্য বিষয়। বাকী ধনসম্পদ, বংশ পরিচয়, বংশ মর্যাদা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এগুলো গৌণ বিষয়’ (লিক্বা আশ-শাহরী, লিক্বা নং-৪৬)। শায়খ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘পাপিষ্ঠ, অধর্মচারী ও কাবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি বিবাহের প্রস্তাব পাঠালে, তাওবাহ না করা পর্যন্ত তাকে বর্জন করতে হবে’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২১/৪৮ পৃ.)। নিঃসন্দেহে সূদ কাবীরা গুনাহ বা মহাপাপের অন্তর্ভুক্ত (সূরা আলে ইমরান : ১৩০)। নবী (ﷺ) সূদখোর, সূদদাতা, তার সাক্ষীদাতা ও তার লেখককে অভিসম্পাত করেছেন এবং বলেছেন, ‘ওরা সবাই সমান’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৭-১৫৯৮)।

দ্বিতীয়তঃ কোন পিতা যদি সূদী কারবার, হারাম উপার্জন, মদ্যপান বা অন্যান্য পাপাচার করে, কিন্তু তার মেয়ে যদি ভালো, সৎ ও দ্বীনদার হয় তাহলে তাকে বিয়ে করতে কোন বাধা নেই ইনশাআল্লাহ। কারণ ‘ফক্বীহগণ বলেছেন, হারাম পন্থায় উপার্জিত অর্থ শুধু উপার্জনকারীর জন্যই হারাম। সন্তান হিসাবে পিতা যদি তাকে উপহার স্বরূপ ঐ মাল থেকে কিছু দেয়, তবে তা গ্রহণ করা তার জন্য বৈধ হবে। আর যদি সম্ভব হয় তাহলে পিতার ঐ উপহার বর্জন করাই উত্তম হবে (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৪৫০১৮; আহকামুল কুরআন, ১/৩২৪ পৃ.; আল-মাজমূঊ, ৯/৪৩০ পৃ.; ফাতাওয়া ফিক্বহিয়্যাহ আল-কুবরা, ২/২৩৩ পৃ.; কাশশাফুল ক্বিনা‘, ৩/৪৯৬ পৃ.)‌। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি পিতা হারাম পন্থায় উপার্জন করে, সেক্ষেত্রে সন্তানের উপর অপরিহার্য পিতাকে সদুপদেশ দেয়া। যদি সন্তানের পক্ষে পিতাকে হারাম উপার্জন সম্পর্কে উপদেশ দেয়া এবং বিরত রাখা সম্ভব না হয়, তবে তার বিষয়টি এমন কারোর নিকট উপস্থাপন করা অথবা এমন কারোর সাহায্য নেয়া যে বা যারা তাকে হারাম উপার্জনে বাধা প্রদান করতে পারবে। এর পরেও যদি পিতা হারাম উপার্জন পরিহার না করে, এমতাবস্থায় সন্তানেরা প্রয়োজন অনুযায়ী ঐ টাকা ভক্ষণ করলে তাদের কোন গুনাহ হবে না। কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিতে পারবে না। এক্ষেত্রে হারাম উপার্জনকারীই প্রকৃত গুনাহগার। সে ছাড়া অন্য কারো জন্য তা হারাম নয়। যেমন রাসূল (ﷺ) ইহুদীদের সঙ্গে আদান-প্রদান করেছেন এটি জানার পরও যে তারা সূদী কারবারের সঙ্গে যুক্ত এবং হারাম ভক্ষণ করে। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, তা উপার্জনকারী ব্যতীত অন্য কারো জন্য হারাম নয় (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যা, ৩/৪৫২; তাফসীরু সূরাতিল বাক্বারাহ, ১/১৯৮; আল-ক্বাউলুল মুফীদ আলা কিতাবিত তাওহীদ, ৩/১১২ পৃ.)।

প্রশ্নকারী ওয়াহীদুযযামান, ঢাকা।





প্রশ্ন (৩৬) : আমার মা ই‘তিকাফে ঢুকেছেন, তিনি ইস্তিঞ্জার নিয়তে বের হয়েছিলেন এবং আমাকে (সন্তান) খাওয়ার জন্য একটি কমলা দিয়েছেন এবং কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে কথা বলেছেন, জিজ্ঞেস করেছেন- ছালাত পরেছি কী না? প্রশ্ন হল- ই‘তিকাফ হয়েছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : ছালাতের ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ার পরে মসজিদে আযান দেয়নি। এমতাবস্থায় বলা হয় যে, আযান শুনে ছালাত পড়তে হবে। এ কথা কি ঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ফ্রিল্যান্সিং করে জীবিকা নির্বাহ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : শী‘আরা বলে, ‘নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে লক্ষ্য করে বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তোমার দলের লোকদের পাপ আমার উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। এরপর তিনি তা আমার জন্য মাফ করে দিয়েছেন’ (আশ-শী‘আ ওয়া আহলুল বাইত, পৃ. ২৫৪)। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : কোন মুসাফির ব্যক্তির এমন হতে পারে যে, তার ছিয়াম পালন অবস্থায় বিমান উড্ডয়নের পূর্বে সূর্য অস্ত গেল। ফলে সে ইফতার করল। কিন্তু বিমান উড্ডয়নের পরে সে সূর্য দেখতে পেল। এমতাবস্থায় তার হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : জনৈক আলেম বলেন, কুরবানী দিতে অক্ষম ব্যক্তিগণ কুরবানীর খালেছ নিয়তে যিলহজ্জ মাসের চাঁদ ওঠার পর নখ ও চুল না কাটলে সে আল্লাহর নিকটে তা পূর্ণাঙ্গ কুরবানী হিসাবে গৃহীত হবে। তিনি দলীল হিসাবে মিশকাত হা/১৪৭৯ পেশ করেছেন। সেই সাথে এটাও বলেছেন যে, শু‘আইব আরনাঊত্ব (রাহিমাহুল্লাহ) অত্র হাদীছটিকে হাসান বলেছেন। তবে শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) অত্র হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন। এখন আমরা দুই শায়খের মধ্যে কার তাহক্বীক্বকে প্রাধান্য দিব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : খাৎনা করার সময় মুখে মিষ্টি দেয়া হয়, অনুষ্ঠান করা, গানবাজনা করা এবং গোসল দেয়ার সময় বিভিন্ন নিয়ম পালন করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : ওয়াক্বফ্ করা সম্পত্তি ফিরিয়ে নেয়া যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : আল্লাহ তা‘আলা যুগে যুগে কতজন নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮): ঈদের স্বালাতের পূর্বেই কি যাকাতুল ফিতরের সমস্ত খাদ্যদ্রব্য বন্টন করতে হবে না-কি ঈদের পরেও করা যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : তিন ভাইয়ের মধ্যে দুই ভাই শহরে থাকে। তারা শহরে থাকলেও একই পরিবারভুক্ত। এমন পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ছাগল কুরবানী দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ছালাত আদায়কারীর সামনে অন্য কেউ সুতরা বা অন্য কোন বস্তু দিয়ে অতিক্রম করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ