বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কারে আলিমগণের গৃহীত মূলনীতিসমূহ: একটি পর্যালোচনা
ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
(২য় কিস্তি)
১. আল-কুরআন ও সুন্নাহকে মূলভিত্তি হিসাবে গ্রহণ (Taking Al-Quran and Sunnah as the basis)
ধর্মীয় সংস্কার কার্যক্রম অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এর ব্যাপ্তি শুধু বাংলাদেশ নয় বরং গোটা মুসলিমবিশ্ব। তাই এ সংস্কার প্রচেষ্টা অনিবার্যভাবে আল-কুরআন ও সুন্নাহর উপর সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া আবশ্যক। কেননা আল-কুরআন ও সুন্নাহ আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে প্রেরিত অভ্রান্ত ও চূড়ান্ত সংবিধান। মুসলিম হিসাবে এই সংবিধানের উপর বিশ্বাস রাখা এবং যথাযথভাবে জীবনে বাস্তবায়ন করা ফরজ। আর সংস্কার কার্যক্রমের সফলতার সোপান হলো- আল্লাহ তা‘আলার কুরআন ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সুন্নাতকে নিঃশর্তভাবে আঁকড়ে ধরা তথা মূলভিত্তি হিসাবে গ্রহণ করা। কেননা এ দু’টি মাধ্যম ঐ ব্যক্তির জন্য দুর্ভেদ্য দুর্গ এবং মজবুত বর্ম, যাকে আল্লাহ তা‘আলা তাওফীক দিয়েছেন।[১] আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَ
اعْتَصِمُوْا بِحَبْلِ اللّٰهِ جَمِيْعًا وَّ لَا تَفَرَّقُوْا١۪ وَ اذْكُرُوْا
نِعْمَتَ اللّٰهِ عَلَيْكُمْ اِذْ كُنْتُمْ اَعْدَآءً
فَاَلَّفَ بَيْنَ قُلُوْبِكُمْ فَاَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهٖۤ اِخْوَانًا١ۚ وَ
كُنْتُمْ عَلٰى شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَاَنْقَذَكُمْ مِّنْهَا١ؕ
كَذٰلِكَ يُبَيِّنُ اللّٰهُ لَكُمْ اٰيٰتِهٖ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَ.
‘আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ়রূপে ধারণ কর ও বিভক্ত হয়ে যেয়ো না এবং তোমাদের প্রতি আল্লাহর যে নে‘আমত রয়েছে তা স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে তখন তিনিই তোমাদের অন্তঃকরণে প্রীতি স্থাপন করেছিলেন, তৎপর তোমরা তাঁর অনুগ্রহে ভ্রাতৃত্বে আবদ্ধ হলে এবং তোমরা অগ্নিকুণ্ডের নিকটে ছিলে অনন্তর তিনিই তোমাদেরকে ওটা হতে উদ্ধার করেছেন; এরূপে আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বীয় নিদর্শনাবলী ব্যক্ত করেন যেন তোমরা সুপথপ্রাপ্ত হও’।[২]
উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রশিকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আর আল্লাহর রশি হলো আল্লাহর অঙ্গীকার বা কুরআন।[৩] আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের নিকট থেকে যে অঙ্গীকার নিয়েছেন তা হলো- আল-কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা।[৪] আল-কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা প্রত্যেক মুসলিমের উপর আবশ্যক। এ ব্যাপারে আল-কুরআন ও সুন্নাহয় অসংখ্য প্রমাণ বিদ্যমান রয়েছে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اِتَّبِعُوْا مَاۤ اُنْزِلَ اِلَيْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَ لَا تَتَّبِعُوْا مِنْ دُوْنِهٖۤ اَوْلِيَآءَ١ؕ قَلِيْلًا مَّا تَذَكَّرُوْنَ ‘তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তোমরা তারই অনুসরণ কর। তা ব্যতীত অন্যদের অভিভাবক হিসাবে অনুসরণ কর না। তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ করে থাক’।[৫] অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَ مَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَّ لَا مُؤْمِنَةٍ اِذَا قَضَى
اللّٰهُ وَ رَسُوْلُهٗۤ اَمْرًا اَنْ يَّكُوْنَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ
اَمْرِهِمْ١ؕ وَ مَنْ يَّعْصِ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ فَقَدْ ضَلَّ ضَلٰلًا
مُّبِيْنًا
‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিলে কোন মুমিন পুরুষ বা কোন মুমিন নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকার থাকে না। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করবে, সে স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে’।[৬] এ প্রসঙ্গে আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
إِنَّ اللهَ يَرْضَى لَكُمْ ثَلَاثًا وَيَكْرَهُ لَكُمْ ثَلَاثًا فَيَرْضَى لَكُمْ أَنْ تَعْبُدُوْهُ وَلَا تُشْرِكُوْا بِهِ شَيْئًا وَأَنْ تَعْتَصِمُوْا بِحَبْلِ اللهِ جَمِيْعًا وَلَا تَفَرَّقُوْا وَيَكْرَهُ لَكُمْ قِيْلَ وَقَالَ وَكَثْرَةَ السُّؤَالِ وَإِضَاعَةَ الْمَالِ
‘অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের তিনটি বস্তুতে সন্তুষ্ট হন আর তোমাদের তিনটি বস্তুতে অসন্তুষ্ট হন, তোমাদের উপর সন্তুষ্ট হন যদি তোমরা তাঁর ‘ইবাদত কর ও তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক না কর, তোমরা সবাই আল্লাহর রশিকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হও। আর তোমাদের উপর অসন্তুষ্ট তিনটি কাজে- কথাবার্তায় বাড়াবাড়ি করা, অধিক প্রশ্ন করা এবং সম্পদ নষ্ট করা’।[৭] অনুরূপভাবে বর্ণিত হয়েছে, ইবনু ‘আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিদায় হাজ্জের ভাষণে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, ‘হে লোক সকল! নিশ্চয় আমি তোমাদের মাঝে ছেড়ে যাচ্ছি এমন কিছু, যা দৃঢ়ভাবে ধারণ করলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। (তাহলো) আল্লাহর কিতাব তথা আল-কুরআন ও তাঁর নবীর সুন্নাত তথা হাদীছ’।[৮] রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, قَدْ تَرَكْتُكُمْ عَلَى الْبَيْضَاءِ لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا لَا يَزِيْغُ عَنْهَا بَعْدِى إِلَّا هَالِكٌ ‘আমি তোমাদেরকে শুভ্র আলোকে রেখে যাচ্ছি যেখানে রাত্রি দিনের মত। এরপর যার ধ্বংস অনিবার্য সে ব্যতীত কেউ তা থেকে বক্রতা অবলম্বন করে না’।[৯] প্রখ্যাত সাহাবী উবাই ইবন কা‘ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘তোমাদের উপর ওয়াজিব হলো সুনির্দিষ্ট সত্য পথ ও সুন্নাতের উপর চলা। কেননা কোন বান্দা সুনির্দিষ্ট সত্য পথ ও সুন্নাহর উপর অটল থেকে আল্লাহকে স্মরণ করে আল্লাহর ভয়ে তার চক্ষু সিক্ত হলে তাকে জাহান্নামের অগ্নি কখনো স্পর্শ করবে না। সুনির্দিষ্ট সত্য পথ ও সুন্নাহর উপর মধ্যম পর্যায়ের ‘আমল করা সুনির্দিষ্ট সত্য পথ ও সুন্নাহর বিপরীতে অনেক ‘আমল করার চেয়েও উত্তম’।[১০]
তাই ধর্মীয় সংস্কারের সকল ক্ষেত্রে আল-কুরআন ও সুন্নাহকে নিঃশর্তভাবে আঁকড়ে ধরা তথা এতদুভয়কে মূলভিত্তি হিসাবে গ্রহণ করা অপরিহার্য। ধর্মীয় সংস্কারের জন্য আল-কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে সর্বাগ্রে মূল্যায়ন করা জরুরী।
১. সম্মান প্রদর্শন (Show respect) : আল-কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করার অর্থ হলো- আল-কুরআন ও সুন্নাহকে সম্মান প্রদর্শন করা। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সম্মান প্রদর্শন করা। আর আল্লাহ তা‘আলাকে সম্মান প্রদর্শন করার অর্থ হলো- খুলূসিয়্যাতের সাথে তাঁর ‘ইবাদত করা এবং তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরীক স্থাপন না করা। এর সাথে সাথে তিনি যেগুলো হারাম সাব্যস্ত করেছেন সেগুলোকে হারাম মনে করে বিরত থাকা এবং যেগুলো হালাল করেছেন সেগুলোকে হালাল মনে করে গ্রহণ করা। অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রে ইসলামকে পরিপূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ مَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَ الْاِنْسَ اِلَّا لِيَعْبُدُوْنِ ‘আমি জিন ও ইনসানকে সৃষ্টি করেছি কেবল আমার ‘ইবাদত করার জন্য’।[১১] শায়খ সালিহ আল-‘উসায়মীন (১৩৪৭-১৪২১ হি./১৯২৮-২০০১ খ্রি.) উক্ত ‘ইবাদত শব্দটির দু’টি অর্থ করেছেন, তাহলো- (ক) الحب والتعظيم ‘আল্লাহর উদ্দেশ্যেই পরিপূর্ণ ভালবাসা ও সম্মান-মর্যাদার সাথে ‘ইবাদত করা’ (খ) اسما جامعا لكل ما يتعبد به لله تعالى ‘ইবাদত হলো প্রত্যেক ঐ বিষয়ের নাম, যেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর ‘ইবাদত করা হয়’। যেমন পবিত্রতা অর্জন, সালাত আদায় করা, সাদাকাহ প্রদান করা, ছিয়াম পালন করা, হজ্জ সম্পাদন করা, পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা ইত্যাদি’।[১২]
আর ‘সুন্নাহকে সম্মান প্রদর্শন করা’র অর্থ হলো- রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সম্মান প্রদর্শন করা।[১৩] আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে লক্ষ্য করে বলেন,
اِنَّاۤ
اَرْسَلْنٰكَ شَاهِدًا وَّ مُبَشِّرًا وَّ نَذِيْرًاۙ۰۰۸ لِّتُؤْمِنُوْا بِاللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ وَ تُعَزِّرُوْهُ وَ تُوَقِّرُوْهُ١ؕ
وَ تُسَبِّحُوْهُ بُكْرَةً وَّ اَصِيْلًا.
‘আমরা আপনাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি ঈমান আনয়ন করো এবং তাঁকে [রাসূল (ﷺ)-কে] সাহায্য করো ও সম্মান করো; সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর (আল্লাহর) পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করা’।[১৪] উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম কুরতুবী (৬০০-৬৭১ হি./১২০৪-১২৭৩ খ্রি.) বলেন, تُعَظِّمُوهُ وَتُفَخِّمُوهُ ‘তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাঁর মর্যাদাকে উন্নীত করা। কাতাদা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, تَنْصُرُوهُ وَتَمْنَعُوا مِنْهُ ‘তাঁকে সাহায্য করা এবং প্রতিপক্ষের (আক্রোশ) থেকে তাঁকে রক্ষা করা’।[১৫]
২. ভালবাসা (Love) : আল-কুরআন ও সুন্নাহকে মযবুতভাবে আঁকড়ে ধরার অর্থ হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-কে একনিষ্ঠ মনে ভালবাসা। বান্দার উপর প্রথম আবশ্যক হলো আল্লাহর প্রতি ভালবাসা। কেননা এটি আল্লাহর ‘ইবাদতের মধ্যে সবচেয়ে বড় ‘ইবাদত। এজন্য তাঁর উপর ঈমান রাখা ও তাঁকে নিজের চেয়েও ভালবাসা মুমিনের একান্ত কর্তব্য। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন,
وَ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْۤا اَشَدُّ حُبًّا لِّلّٰهِ ‘আর যারা ঈমান এনেছে, তারাই আল্লাহকে সবেচেয়ে বেশী ভালবাসে’।[১৬] কেননা তিনিই বান্দার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল নে‘আমতের একমাত্র প্রভু। অতঃপর ভালবাসা পোষণ করতে হবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি। কেননা তিনি মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেছেন, আল্লাহর পরিচয় দিয়েছেন, তাঁর শরী‘আত পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁর বিধানসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং মুমিনদের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের ব্যাপারে তিনি সকল কিছু বাৎলে দিয়েছেন। যার আনুগত্য ও অনুসরণ ব্যতীত কোন ব্যক্তির পক্ষে জান্নাতে যাওয়া সম্ভব নয়।[১৭] আর মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে ভালবাসার অর্থ হলো, কোন ব্যক্তি তার নিজের জীবনের চেয়ে, নিজের পার্শ্ববর্তী আত্মীয়-স্বজন এবং দুনিয়ার সকল মানুষ অপেক্ষা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ভাল না বাসলে সে পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না। যারা আল্লাহকে ভালবাসে তাদের উপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ভালবাসা আবশ্যক। এটা আল্লাহর প্রতি মুমিনের ভালবাসা হ্রাস-বৃদ্ধির কারণও বটে এবং পরিপূর্ণ ঈমানের নিদর্শন।[১৮]
অতএব কোন ব্যক্তি, পীর-দরবেশ, অলি-আওলিয়া, ‘‘আলিম, আমীর, শিক্ষক-মুরব্বী প্রভৃতিকে ভালবাসা ও সম্মান-মর্যাদা প্রদর্শনের উপরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সম্মান-মর্যাদা ও আনুগত্যের মাধ্যমে ভালবাসা প্রদর্শন করতে হবে।[১৯] ইবনুল ক্বাইয়িম (৬৯১-৭৫১ হি./১২৯২-১৩৫০ খ্রি.) বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর অনুসারীদের উপর আল্লাহকে ভালবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের ন্যায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ভালবাসা ও সম্মান করা মুস্তাহাব’।[২০] শায়খ ‘উছায়মীন (১৩৪৭-১৪২১ হি./১৯২৮-২০০১ খ্রি.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ভালবাসা ও সম্মান করার মৌলিকত্ব হলো- রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে শিষ্টাচার বজায় রাখা, আমরা তাঁর পথের অনুসরণ করব, তিনি যা থেকে সতর্ক করেছেন তা থেকে বিরত থাকব, দ্বীনি বিষয়ে তিনি যা বলেননি সে বিষয়ে অগ্রগামী হবো না এবং তিনি যা শরী‘আত হিসেবে সাব্যস্ত করেননি, তা দ্বীনের ব্যাপারে আলোচনা করব না’।[২১]
৩. আত্মসমার্পণ (Submission) : নিঃশর্তভাবে আত্মসমার্পণ করা আল-কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার অন্য আরেকটি অর্থ। প্রত্যেক মুসলিমকে ইসলামের সকল বিধি-বিধানের নিকট পরিপূর্ণরূপে আত্মসমার্পণ করা আবশ্যক। কেননা আল-কুরআন ও সুন্নাহকে সম্মান প্রদর্শন ও ভালবাসা আর বাস্তব জীবনে তার প্রতিফলন করা এক বিষয় নয়। তাই বাস্তবে ইসলামের বিধানাবলী যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। কেবল তখনই সমাজের বুকে ইসলাম প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে। সমাজ সংস্কার করতে হলে প্রত্যেক মুসলিমকে সকল ক্ষেত্রে, সকল পরিস্থিতিতে ও সকল অবস্থায় সকল কাজের নিয়ত, ইচ্ছা ও উদ্দেশ্যকে আল-কুরআন ও সুন্নাহর নিকট সমর্পণ করতে হবে। নবী-রাসূলগণ তাদের নিয়ত, ইচ্ছা ও উদ্দেশ্যকে এক আল্লাহর জন্যই খাস করেছিলেন। ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-কে লক্ষ্য করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اِذْ قَالَ لَهٗ رَبُّهٗۤ اَسْلِمْ١ۙ قَالَ اَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعٰلَمِيْنَ ‘যখন তাঁর (ইবরাহীমের) প্রভু তাঁকে বললেন, তুমি আত্মসমর্পণ কর; তিনি বললেন, আমি বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করলাম’।[২২] উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু কাছীর (৭০১-৭৭৪ হি.) বলেন, أمره الله بالإخلاص له والاستسلام والانقياد فأجاب إلى ذلك شرعًا وقدرًا ‘আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে ইখলাসের সাথে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি শরী‘আত ও তার তাকদীরের প্রতি আত্মসমর্পণ করেন’।[২৩]
সাহাবীগণ সকল প্রতিকূল ও অনুকূল পরিস্থিতিতেও আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাতের মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন করতেন। যেমন,
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ كُنْتُ سَاقِىَ الْقَوْمِ فِىْ مَنْزِلِ أَبِىْ طَلْحَةَ وَكَانَ خَمْرُهُمْ يَوْمَئِذٍ الْفَضِيْخَ فَأَمَرَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مُنَادِيًا يُنَادِىْ أَلَا إِنَّ الْخَمْرَ قَدْ حُرِّمَتْ قَالَ فَقَالَ لِىْ أَبُوْ طَلْحَةَ اخْرُجْ فَأَهْرِقْهَا فَخَرَجْتُ فَهَرَقْتُهَا فَجَرَتْ فِىْ سِكَكِ الْمَدِيْنَةِ فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ قَدْ قُتِلَ قَوْمٌ وَهْىَ فِىْ بُطُوْنِهِمْ فَأَنْزَلَ اللهُ ( لَيْسَ عَلَى الَّذِيْنَ آمَنُوْا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيْمَا طَعِمُوْا)
‘আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ তালহার বাড়ীতে জনগণকে পানি পান করাচ্ছিলাম। সেদিন তাদের মদ ছিল অত্যন্ত দামী। এ সময় রাসূল (ﷺ) একজন আহ্বানকারীকে নির্দেশ দিলেন যে, তুমি ঘোষণা কর, সাবধান! নিশ্চয় মদ্যপানকে হারাম করা হয়েছে। তখন আবূ তালহা আমাকে বললেন, তুমি বের হও এবং মদ ঢেলে ফেল। তাই আমি বের হলোাম এবং মদ ঢেলে ফেললাম। এতে মদীনার রাস্তায় মদের স্রোত প্রবাহিত হলো। এ সময় কতিপয় লোক বলল, যাদের পেটে মদ রয়েছে, তারা ধ্বংস হয়ে গেছে। তখন আল্লাহ আয়াত নাযিল করলেন, ‘যারা ঈমান আনয়ন করে ও সৎকর্ম করে, এরূপ লোকদের উপর কোন গুনাহ নেই, যা তারা পানাহার করেছে’।[২৪] সাহাবীগণের এরূপ আত্মসমর্পণের অসংখ্য বিরল দৃষ্টান্ত রয়েছে।
উক্ত হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাত ও আদর্শের মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন কিভাবে করতেন। মদ হারাম হয়ে যাওয়ার ঘোষণা শ্রবণের সাথে সাথে তার প্রতি আত্মসমর্পণ করেছেন এবং ‘আমল করেছেন বিন্দুমাত্র বিলম্ব করেননি। অতএব বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কার কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রতিকূল ও অনুকূল সকল পরিস্থিতিতে আল-কুরআন ও সুন্নাহর প্রতি পূর্ণাঙ্গ আত্মসমর্পণের এ অনিবার্য মূলনীতিকে মূলভিত্তি হিসাবে গ্রহণ করা জরুরী।
৪. অনুসরণ (Follow-up) : আল-কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থ হলো- উক্ত উৎসদ্বয়ের প্রতি পরিপূর্ণ ও নিঃশর্ত আনুগত্যের মাধ্যমে মানব জীবনের সকল ক্ষেত্র ঢেলে সাজানো। কেননা এর মধ্যেই মানব জীবনের সার্বিক সফলতা নিহিত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ اَطِيْعُوا اللّٰهَ وَ الرَّسُوْلَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَۚ‘আর আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য স্বীকার কর যেন তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও’।[২৫] অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ مَنْ يُّطِعِ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ يُدْخِلْهُ جَنّٰتٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِيْنَ فِيْهَا١ؕ وَ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ ‘যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার নিম্নে নদীসমূহ প্রবাহিত, যেখানে তারা সদা অবস্থান করবে এবং এটাই মহা সাফল্য’।[২৬] আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং উলুল আমরের আনুগত্য করো; অতঃপর যদি তোমাদের মধ্যে কোন বিষয়ে কোন মতবিরোধ হয়, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তিত হও, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস করে থাক; এটাই কল্যাণকর ও পরিণামের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠতর’।[২৭]
এছাড়া যদি আল-কুরআন ও সুন্নাহর পরিপূর্ণ আনুগত্য ও অনুসরণ না করা হয়, তাহলে ধ্বংস অনিবার্য। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَلْيَحْذَرِ الَّذِيْنَ يُخَالِفُوْنَ عَنْ اَمْرِهٖۤ اَنْ تُصِيْبَهُمْ فِتْنَةٌ اَوْ يُصِيْبَهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ ‘সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের উপর আপতিত হবে অথবা আপতিত হবে তাদের উপর কঠিন শাস্তি’।[২৮] ইমাম ইবনু কাছীর (৭০১-৭৭৪ হি.) এ আয়াত সম্পর্কে বলেছেন,
فَلْيَحْذَرِ وليخْشَ من خالف شريعة الرسول باطنًا أو ظاهرًا { اَنْ تُصِيْبَهُمْ فِتْنَةٌ} أي في قلوبهم من كفر أو نفاق أو بدعة { اَوْ يُصِيْبَهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ} أي في الدنيا بقتل أو حَد أو حبس أو نحو ذلك
‘ فَلْيَحْذَرِ ‘সাবধান’ অর্থ যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শরী‘আতের প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে বিরোধিতা করে, তাদের ভয় করা উচিত। اَنْ تُصِيْبَهُمْ فِتْنَةٌ ‘তাদেরকে ফিতনা স্পষ্ট করবে’ অর্থ তাদের অন্তরে কুফরী অথবা কপটতা অথবা বিদ‘আত স্পর্শ করবে। اَوْ يُصِيْبَهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ ‘তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি গ্রাস করবে’ অর্থ দুনিয়াতে হত্যা, দণ্ডবিধি, গ্রেফতার অথবা অন্য কিছুর মাধ্যমে (শাস্তি প্রদান)’।[২৯]
উপরিউক্ত আলোচনায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ইসলামের বিধি-বিধানের নিকটে আপোসহীনভাবে আত্মসমপর্ণ করা এবং পরিপূর্ণ আনুগত্য পোষণের মধ্যেই ইসলামের বিজয় নিহিত রয়েছে। তাই ধর্মীয় সংস্কার কার্যক্রম আল-কুরআন ও সুন্নাহর উপর ভিত্তিশীল হওয়া আবশ্যক। অন্যথায় ব্যর্থতা পর্যবসিত হবে। এ প্রসঙ্গে শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালিহ আল-‘উসায়মীন (১৩৪৭-১৪২১ হি./১৯২৮-২০০১ খ্রি.) বলেন, ‘আল্লাহর জন্য যাবতীয় প্রশংসা যে, এ সংস্কার ইসলামী রাষ্ট্রসমূহে এখন ব্যাপকভাবে বিস্তৃত, যেমনটি আমাদের কাছে সংবাদ আসছে। তবে এ সংস্কার আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাতের সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া আবশ্যক। কারণ এর উপর প্রতিষ্ঠিত না হলে এ জাগরণ হবে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের মত, যা নির্মাণের চেয়ে বিনাশই বেশী করবে। কিন্তু যদি তা আল-কুরআন ও সুন্নাহর দৃঢ় ভিত্তির উপর ভিত্তিশীল হয়, তবে মুসলিম উম্মাহসহ অন্যান্যদের উপরও এর কার্যকরী প্রভাব পড়বে’।[৩০] অনুরূপভাবে ড. ইসরার আহমাদও একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন,
"For this task as well, besides critical knowledge of contemporary world affairs and social sciences, a deep and sound understanding of the Qur’an and Sunnah is called for".
‘আর এ কাজের জন্য সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ঘটনাবলী ও সামাজিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাশাপাশি আল-কুরআন ও সুন্নাহর গভীর ও পরিপূর্ণ বুঝ অপরিহার্য’।[৩১]
হাজী শরীয়াতুল্লাহ (১১৯৬-১২৫৬ হি./১৭৮১-১৮৪০ খ্রি.) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘ফারায়েযী আন্দোলন’-এর মূলত আল-কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক সংস্কারমূলক আন্দোলন।[৩২] যদিও এ আন্দোলনকে ‘ইসলামী আন্দোলন’, ‘বিপ্লবী’, ‘মৌলবাদী’, ‘আল-কুরআন ভিত্তিক ধর্মীয় উজ্জীবনকারী’ ও ‘শুদ্ধবাদী আন্দোলন’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।[৩৩] এ আন্দোলনের অনুসারীরা আল-কুরআনের প্রতিটি অক্ষরকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করা ও আল-কুরআন বহির্ভূত যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতাকে প্রত্যাখ্যান করতেন।[৩৪] কুরআনের মত সুন্নাহকেও তারা মান্য করে চলতেন। হাজী শরীয়াতুল্লাহ’র সন্তান ও ‘ফারায়েযী আন্দোলন’ এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাতা দুদু মিয়া বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করি এবং আমার জন্য কুরআন শিখি। তাছাড়া আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর নির্দেশকে আমি মান্য করি’।[৩৫]
ইসলামে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ এবং প্রত্যেকটি কাজে ও কর্মে আল্লাহ ও তদীয় রাসূল (ﷺ) এর নির্দেশ পালন ছিল তিতুমীরের দা‘ওয়াতী কাজের মূল বক্তব্য। তিনি তাঁর কোন এক ভাষণে বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। যারা মুসলমান নয় তাদের সাথে শুধু ধর্মের দিক দিয়ে পৃথক বলে, বিবাদ বিসম্বাদ করা আল্লাহ ও তদীয় রাসূল (ﷺ) কিছুতেই বরদাশত করবেন না। তবে ইসলাম একথা বলে যে, যদি কোন প্রবল শক্তিশালী লোক কোন মুসলমানের উপর অন্যায় উৎপীড়ন করে তাহলে মুসলমানরা সেই দুর্বলকে সাহায্য করতে বাধ্য’।[৩৬]
মাওলানা বেলায়েত আলী (রাহিমাহুল্লাহ) প্রচলিত সকল রসম-রেওয়াজ ও তাকলীদী গোঁড়ামি বাদ দিয়ে কেবল আল-কুরআন ও হাদীছ ভিত্তিক ‘আমলের ব্যাপক প্রসার ঘটিয়েছিলেন।[৩৭] অন্যদিকে মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ (১৮৬৮-১৯৬৮ খ্রি.) বাংলাদেশে কবর ও মাযার কেন্দ্রীক শিরক-বিদ‘আতের কোন প্রকার প্রতিকার করা সম্ভবপর না হওয়ার জন্য আল-কুরআন ও হাদীছের চর্চার অভাবকে দায়ী করেছেন।[৩৮] মাওলানা আব্দুল্লাহেল বাকী (১৮৮৬-১৯৫৬ খ্রি.) সর্বদা আল-কুরআন ও সুন্নাহর পুনর্জাগরণে বিশ্বাসী ছিলেন। এজন্য তিনি আল-কুরআন ও সুন্নাহকে পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রে পূর্ণ স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে দাবী করেন।[৩৯]
মাওলানা আব্দুল কালাম আজাদ (১৮৮৮-১৯৫৮ খ্রি.) হিল্লা বিবাহ প্রথা আল-কুরআন ও সুন্নাহ পরিপন্থী হওয়ায় তিনি এর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন।[৪০] মাওলানা আব্দুল্লাহিল কাফী আল-কুরাইশী (১৩১৮-১৩৮০ হি./১৯০০-১৯৬০ খ্রি.) মতবিরোধপূর্ণ অবস্থায় আল-কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার চূড়ান্ত দু’টি মূলনীতি গ্রহণের আহ্বান করেছেন। তিনি বলেছেন, আল-কুরআন ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদীছকে প্রামাণিকতার অপরিহার্য উপাদান বলে সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করে বলে আহলে হাদীছ ও অন্যান্যরা ‘আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতে’র অন্তর্ভুক্ত।[৪১] মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (১৯১৮-১৯৮৭ খ্রি.) বাংলাদেশে আল-কুরআন ও সুন্নাহ প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করেছেন। যখনই আল-কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন কিংবা কার্যক্রম তাঁর দৃষ্টিগোচর হত, তখন সাথে সাথে তার প্রতিবাদ করতেন এবং এ ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করার জন্য গবেষণালব্ধ গ্রন্থ প্রণয়ন করতেন। যেমন ১৯৬১ সালে পাকিস্তানের আইয়ূব খান যখন আল-কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী ‘মুসলিম পারিবারিক আইন’ অর্ডিন্যান্স জারি করে, তখন তিনি ইসলামের পরিবার সম্পর্কে একটি পাণ্ডুলিপি তৈরি করে, যা ১৯৮৩ সালে পরিপূর্ণ আকারে ‘পরিবার ও পারিবারিক জীবন’ নামে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ প্রকাশ করে।[৪২] শায়খুল হাদীছ আল্লামা আজিজুল হক (১৯১৯-২০১২ খ্রি.) আল-কুরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার প্রতিই মানুষকে আহ্বান করতেন।[৪৩]
এভাবে বাংলাদেশের ‘আলিমসমাজ আল-কুরআন ও সুন্নাহকে তাদের ধর্মীয় সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনায় মূলভিত্তি হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন।
অতএব বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও তার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল লাভের জন্য সর্বাগ্রে আল-কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এ দু’টির উপর কারো কথাকে প্রাধান্য দেয়া যাবে না। তাই মানবতার সার্বিক মুক্তি ও সফলতার প্রধানতম এ মূলনীতি পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ধর্মীয় সংস্কার কার্যক্রম সম্মুখে এগিয়ে নিতে হবে।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
তথ্যসূত্র :
[১] মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ‘আলিম, কিতাবু উসূলিল ঈমান ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (সা‘ঊদী ‘আরব : ওয়াযারাতুশ শুয়ূনিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল আওকাফ ওয়াদ দা‘ওয়াত ওয়াল ইরশাদ, ১ম সংস্করণ ১৪২১ হি.), পৃ. ৩৮১।
[২] সূরাহ আলি ‘ইমরান : ১০৩।
[৩] আবুল ফিদা ইসমা‘ঈল ইবন কাছীর আদ-দিমাস্কী, তাফসীরুল কুরআনিল ‘আযীম, ২য় খণ্ড (প্রকাশনা স্থান বিহীন : দারু তাইয়েবা, ২য় সংস্করণ ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.), পৃ. ৮৯; মুহাম্মাদ ইবন জারীর ইবন ইয়াযীদ ইবন কাছীর আবূ জা‘ফর আত-তাবারী, জামি‘ঊল বায়ান ফী তা’বীলিল কুরআন, ৭ম খণ্ড (প্রকাশনা স্থান বিহীন : মুওয়াস্সাসাতুর রিসালাহ, ১ম সংস্করণ, ১৪২০ হি./২০০০ খ্রি.), পৃ. ৭১।
[৪] কিতাবু উসূলিল ঈমান ফী যাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, পৃ. ৩৮১।
[৫] সূরাহ আল-আ‘রাফ : ৩।
[৬] সূরাহ আল-আহযাব : ৩৬।
[৭] আহমাদ ইবন হাম্বল আবূ ‘আব্দিল্লাহ আশ-শাইবানী, আল-মুসনাদ, ২য় খণ্ড (কায়রো : মুওয়াসসাসাতু কুর্তুবা, তা.বি.), পৃ. ৩২৭, হাদীছ নং-৮৩১৬; আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশাইরী আন-নাইসাপুরী, আস-সহীহ (কায়রো : দারুল হাদীছ, ১৪৩১ হি./২০১০ খ্রি.), পৃ. ৫৬১, হাদীছ নং-১৭১৫ ‘আকযিয়া’ অধ্যায়-৩০, অনুচ্ছেদ-৫; মুহাম্মাদ ইবন ইসমা‘ঈল আবূ ‘আব্দিল্লাহ আল-বুখারী আল-জু‘ফী, আল-আদাবুল মুফরাদ (বৈরূত : দারুল বাশাইরিল ইসলামিয়্যাহ, ৩য় সংস্করণ, ১৪০৯ হি./১৯৮৯ খ্রি.), পৃ. ১৫৮, হাদীছ নং-৪৪২; মুহাম্মাদ ইবন হিব্বান ইবন আহমাদ আবূ হাতিম আত-তামীমী, আস-সহীহ, ৮ম খণ্ড (বৈরূত : মুওয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ২য় সংস্করণ, ১৪১৪ হি./১৯৯৩ খ্রি.), পৃ. ১৮২, হাদীছ নং-৩৩৮৮; আহমাদ ইবনুল হুসাইন ইবন ‘আলী ইবন মূসা আবূ বাকর আল-বাইহাকী, সুনানুল কুবরা, ৮ম খণ্ড (মক্কাতুল মুকাররমা : মাকতাবাতু দারিল বায, ১৪১৪ হি./১৯৯৪ খ্রি.), পৃ. ১৬৩, হাদীছ নং-১৬৪৩৩।
[৮] আল-মুসতাদরাকু ‘আলাস সহীহাইন, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৭১, হাদীছ নং-৩১৮; ইমাম বায়হাকী, সুনানুল কুবরা, ১০তম খণ্ড, পৃ. ১১৪, হাদীছ নং-২০১২৩।
[৯] ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল, আল-মুসনাদ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১২৬, হাদীছ নং-১৭১৮২; আল-মুসতাদরাকু ‘আলাস সহীহাইন, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৭৫, হাদীছ নং-৩৩১; সুলাইমান ইবন আহমাদ ইবন আইয়ূব আবুল কাসিম আত-তাবারানী, আল-মু‘জামুল কাবীর, ১৮তম খণ্ড (আলেপ্পো : মাকতাবাতুল ‘উলূম ওয়াল হিকাম, ২য় সংস্করণ, ১৪০৪ হি./১৯৮৩ খ্রি.), পৃ. ২৫৭, হাদীছ নং-৬৪২।
[১০] তাকীউদ্দীন আবুল ‘আব্বাস আহমাদ ইবন ‘আব্দিল হালীম ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ‘ঊল ফাতাওয়া, ১০তম খণ্ড (প্রকাশনা স্থান বিহীন : দারুল ওয়াফা, ৩য় সংস্করণ ১৪২৬ হি./২০০৫ খ্রি.), পৃ. ৭৭; আবুল ফাজল আল-কাযী ‘ইয়াজ ইবন মূসা আল-ইয়াহসবী, আশ-শাফা বিতা‘রীফি হুকূকিল মুসতফা, ২য় খণ্ড (বৈরূত : দারুল ফিকর, ১৪০৯ হি./১৯৮৮ খ্রি.), পৃ. ১৪; মুহাম্মাদ ইবন খালীফাহ ইবন ‘আলী আত-তামীমী, হুকূকুন নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘আলা উম্মাতিহি ফী যাউইলি কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, ১ম খণ্ড (রিয়াদ : আযওয়াউস সালাফ, ১ম সংস্করণ, ১৪১৮ হি./১৯৯৭ খ্রি.), পৃ. ২০৯; আবূ নু‘আইম আহমাদ ইবন ‘আব্দিল্লাহ আল-ইস্পাহানী, হিলইয়াতুল আওলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া, ১ম খণ্ড ( বৈরূত : দারুল কুতুবিল ‘আরাবী, ৪র্থ সংস্করণ, ১৪০৫ হি.), পৃ. ২৫৩; আবুল ফারজ ‘আব্দির রহমান ইবন ‘আলী ইবন মুহাম্মাদ, সিফাতুত সাফাওয়াহ, ১ম খণ্ড (বৈরূত : দারুল মা‘আরিফাহ, ২য় সংস্করণ ১৩৯৯ হি./১৯৭৯ খ্রি.), পৃ. ৪৭৬।
[১১] সূরাহ আল-যারিয়াত : ৫৬।
[১২] মাজমূ‘ঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ২২৫।
[১৩] হুকূকুন নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘আলা উম্মাতিহি ফী যাউইলি কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, ২ড খণ্ড, পৃ. ৪২৩; আবূ ‘আব্দিল্লাহ আল-হুসাইন ইবন হাসান আল-হালীমী, আল-মিনহাজু ফী শু‘আবিল ঈমান, ২য় খণ্ড (দারুল ফিকর, ১ম সংস্করণ ১৩৯৯ হি./১৯৭৯ খ্রি.), পৃ. ১২৪।
[১৪] সূরাহ আল-ফাতহ : ৮-৯।
[১৫] আল-জামি‘ঊ লি আহকামিল কুরআন, ১৬তম খণ্ড, পৃ. ২৬৬; মুহাম্মাদ ইবন ‘আলী ইবনি মুহাম্মাদ ইবন ‘আব্দিল্লাহ আশ-শাওকানী, ফাতহুল কাদীর, ৫ম খণ্ড (দামিস্ক : দারু ইবনি কাছীর, ১ম সংস্করণ, ১৪১৪ হি.), পৃ. ৫৬।
[১৬] সূরাহ আল-বাকারাহ : ১৬৫।
[১৭] সালিহ ইবন ফাওযান ইবন ‘আব্দিল্লাহ আল-ফাওযান, কিতাবুত তাওহীদ (সা‘ঊদী ‘আরব : ওযারাতুশ শুয়ূনিল ইসলামিইয়া ওয়াল আওকাফ ওয়াদ দা‘ওয়াহ ওয়াল ইরশাদ, ৪র্থ সংস্করণ ১৪২৩ হি.), পৃ. ১০৩।
[১৮] মুহাম্মাদ ইবন ‘আব্দিল ওয়াহহাব আত-তামীমী, ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ (কায়রো : মাত্ববা‘আতুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ, ৭ম সংস্করণ, ১৩৭৭ হি./১৯৫৭ খ্রি.), পৃ. ৩৩৭-৩৮।
[১৯] কিতাবতু তাওহীদ, পৃ. ১০৪-১০৫।
[২০] মুহাম্মাদ ইবন আবী বাকর শামসুদ্দীন ইবনল কাইয়িম আল-জাওযিয়াহ, জালাউল আফহাম ফী ফাযলিস সালাতি ‘আলা মুহাম্মাদি খায়রিল আন‘আম (কুয়েত : দারুল ‘আরূবাহ, ২য় সংস্করণ, ১৪০৭ হি./১৯৮৭ খ্রি.), পৃ. ১৮৭; দ্বীনুল হাক, পৃ. ৪৫।
[২১] মুহাম্মাদ ইবন সালিহ ইবন মুহাম্মাদ আল-‘উসায়মীন, মিনহাজু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত ফিল ‘আকীদাহ ওয়াল ‘আমাল (প্রকাশনা স্থান বিহীন : দারুশ শারী‘আহ, ১ম সংস্করণ, ১৪২৪ হি./২০০৩ খ্রি.), পৃ. ২৭।
[২২] সূরাহ আল-বাকারাহ : ১৩১।
[২৩] তাফসীরুল কুরআনিল ‘আযীম, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪৪৬।
[২৪] ইমামু আবি ‘আব্দিল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ইসমা‘ঈল আল-বুখারী, আস-সহীহ (কায়রো : দারুল হাদীছ, ১৪৩২ হি./২০১১ খ্রি.), পৃ. ৩৯৪, হাদীছ নং-২৪৬৪, ‘মাযালিম’ অধ্যায়, ‘রাস্তায় মদ ঢেলে ফেলা’ অনুচ্ছেদ-৩১, পৃ. ৬৮০, হাদীছ নং-৪১৯৬; ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, পৃ. ৬৫১, হাদীছ নং-১৯৮০।
[২৫] সূরাহ আলি ‘ইমরান : ১৩২।
[২৬] সূরাহ আন-নিসা : ১৩।
[২৭] সূরাহ আন-নিসা : ৫৯।
[২৮] সূরাহ আন-নূর : ৬৩।
[২৯] তাফসীরুল কুরআনিল ‘আযীম, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ৯০।
[৩০] শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু সালিহ আল-‘উসায়মীন, আস-সাহওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ : যাওয়াবিত ওয়া তাওজীহাত (রিয়াদ : মাদারু ওয়াতান, ১৪২৬ হি.), পৃ. ৯।
[৩১] Dr. Israr Ahmad, Islamic Renaissance : the Real Task Ahead (Lahore : Markazi Anjuman Khuddam-ul-Qu'ran, 2001), p. 28.
[৩২] সম্পাননা পরিষদ, ইসলামী বিশ্বকোষ, ২৩তম খণ্ড (ঢাকা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ১৯৯৭ খ্রি.), পৃ. ২৩; Wahiduzzaman And others, Islam in South Asia (Islamabad, 1993), P. 339.
[৩৩] ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ ফয়সল, হাজী শরীয়ত উল্লাহ’র ফারায়েজী আন্দোলন : ইতিহাস ধর্মীয় দাওয়াত ও রাজনৈতিক সংগ্রাম (ঢাকা : শরীয়তিয়া প্রকাশনী, ২য় সংস্করণ, এপ্রিল ২০১০ খ্রি.), পৃ. ৮৩। পরবর্তীতে এ উৎসটি ‘হাজী শরীয়ত উল্লাহ’র ফারায়েজী আন্দোলন’ নামে উল্লিখিত হবে।
[৩৪] James Taylor, A Sketch of the Topography and Statistics of Dhaka (Calcutta, 1840), P. 248.
[৩৫] হাজী শরীয়ত উল্লাহ’র ফারায়েজী আন্দোলন, পৃ. ৮৪।
[৩৬] আব্বাস আলী খান, বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস (ঢাকা : বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, ১৯৯৫ খ্রি.), পৃ. ২১৭-২১৮।
[৩৭] সিদ্দীক হাসান খান, ইবকাউল মিনান বি ইলকাইল মিহান (লাহোর : দারুদ দা‘ওয়াতিস সালাফিয়্যাহ, ১ম সংস্করণ, ১৯৮৬ খ্রি.), পৃ. ৪৪-৪৫; মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, আহলেহাদীছ আন্দোলন : উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষিতসহ (রাজশাহী : হাদীছ ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ, ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬ খ্রি.), পৃ. ২৯৫।
[৩৮] মোছলেম বঙ্গের সামাজিক ইতিহাস, পৃ. ১৮১।
[৩৯] সম্পাদনা পরিষদ, ইসলামী বিশ্বকোষ, ২য় খণ্ড (ঢাকা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ২য় সংস্করণ, জুন ২০০৫ খ্রি.), পৃ. ৬৩।
[৪০] আবুল কালাম আযাদ, তাযকিরা (নয়া দিল্লী : সাহিত্য একাডেমী, ৪র্থ সংস্করণ ১৯৯০ খ্রি.), পৃ. ৮৪।
[৪১] আল্লামা আবদুল্লাহেল কাফী আল-কুরায়শী, আহলে হাদীছ পরিচিতি (ঢাকা : আল-হাদীছ প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং হাউজ, ৩য় সংস্করণ, অক্টোবর ১৯৯২ খ্রি.), পৃ. ১৩৮।
[৪২] হাফেজ মুহাম্মদ হাবীবুর রহমান, মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) (ঢাকা : মওলানা আবদুর রহীম ফাউণ্ডেশন, ১ম প্রকাশ, ফেব্রুয়ারী ২০০৭ খ্রি.), পৃ. ১১১, ১২৭।
[৪৩] মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক, “শায়খুল হাদীছ হযরত মাওলানা আজিজুল হক রাহ. : জীবন ও খেদমতের কয়েকটি দিক”, মাসিক আল-কাউসার, ঢাকা, মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া, ৮ম বর্ষ, ১১ সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১২, পৃ. ১৭-১৮।