শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৬ অপরাহ্ন
উত্তর : তারাবীহর ছালাত ৮ রাক‘আত। ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ), ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈগণ সকলেই ৮ রাক‘আত তারাবীহ পড়তেন। আবূ সালামা ইবনু আব্দুর রহমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একদা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে জিজ্ঞেস করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রামাযানের রাতের ছালাত কেমন ছিল? উত্তরে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রামাযান মাসে এবং রামাযানের বাইরে ১১ রাক‘আতের বেশি ছালাত আদায় করতেন না। তিনি প্রথমে (২+২) চার রাক‘আত পড়তেন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিনি (২+২) চার রাক‘আত পড়তেন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিনি তিন রাক‘আত পড়তেন (ছহীহ বুখারী, হা/২০১৩, ইফাবা হা/১৮৮৬, ৩/২৯৭ পৃ. ও ১২৬৯, ‘তারাবীহ্র ছালাত’ অধ্যায়-৩১; ছহীহ মুসলিম, হা/৭১৮, ১/২৫৪ পৃঃ)। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রামাযান মাসে আমাদের সাথে ৮ রাক‘আত ছালাত আদায় করেছেন এবং বিতর পড়েছেন.. (ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ, হা/১০৭০, ২/১৩৮ পৃ.; ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/২৪০৯ ও ২৪১৫, ৬/১৬৯ ও ১৭৩ পৃ., সনদ ছহীহ)।  

সায়েব ইবনু ইয়াযীদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ওবাই বিন কা‘ব ও তামীম দারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে রামাযান মাসে ১১ রাক‘আত তারাবীহ্র ছালাত জামা‘আতের সাথে পড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন (মুওয়াত্ত্বা ১/১১৫ পৃ.; মিশকাত, ১১৫ পৃ., হা/১৩০২ ‘ছালাত’ অধ্যায়, ‘রামাযানে রাত্রি জাগরণ’ অনুচ্ছেদ)।

২০ রাক‘আত তারাবীহর পক্ষে যে বর্ণনাটি এসেছে, তা মুহাদ্দিছগণের নিকট যঈফ ও জাল। উক্ত বর্ণনায় ইবরাহীম ইবনু ওছমান নামে একজন ত্রুটিপূর্ণ রাবী রয়েছে (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ, ২/২৮৬; বায়হাক্বী, হা/৪৬১৫, ২/৬৯৮)। ইমাম বায়হাক্বী (৩৮৪-৪৫৮ হি.) উক্ত বর্ণনা উল্লেখ করে বলেন, ‘আবূ শায়বাহ (ইবরাহীম ইবনু ওছমান) হাদীছটি এককভাবে বর্ণনা করেছে। সে যঈফ রাবী’ (সুনানুল কুবরা, হা/৪৬১৫, ২/৬৯৮ পৃ.)। ছহীহ বুখারীর ভাষ্যগ্রন্থ ‘ঊমদাতুল ক্বারী’ প্রণেতা আল্লামা বদরুদ্দীন আয়নী হানাফী (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত রাবী সম্পর্কে বলেন,

جَدُّ أَبِىْ بَكْرِ ابْنِ أَبِىْ شَيْبَةَ كَذَّبَهُ شُعْبَةُ وَضَعَّفَهُ أَحْمَدُ وَابْنُ مَعِيْنٍ وَالْبُخَارِىُّ وَالنَّسَائِىُّ وَغَيْرُهُمْ

‘ইবনু আবী শায়বাহকে ইমাম শু‘বাহ মিথ্যুক বলেছেন এবং ইমাম আহমাদ, ইবনু মাঈন, ইমাম বুখারী, নাসাঈ (রাহিমাহুমুল্লাহ) সহ অন্যান্য মুহাদ্দিছ তাকে যঈফ বলেছেন’ (ঊমদাতুল ক্বারী, ১১/১২৮ পৃ.)। শায়খ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত হাদীছকে জাল বলেছেন (সিলসিলা যঈফাহ, হা/৫৬০, ২/৩৫-৩৭ পৃ.)। অতএব ২০ রাক‘আতের বর্ণনার উপর আমল করা যাবে না। ছহীহ হাদীছের আলোকে ৮ রাক‘আত তারাবীহ পড়তে হবে।

প্রশ্নকারী : মাসুদ রানা, নরসিংদী।





প্রশ্ন (১৩) : আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একবার দাবা খেলায় রত কিছু মানুষের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন, এই মুর্তিগুলো কী, যাদের সামনে তোমরা বসে আছ? এগুলো স্পর্শ করার চেয়ে জলন্ত অঙ্গার নির্বাপিত হওয়া পর্যন্ত তাতে হাতে রেখে দেয়া ভাল (সুনানে কুবরা, বায়হাক্বী, ১০/২১২)। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে দাবা খেলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, সেটা ‘নারদ’ (নামক খেলা) থেকে নিকৃষ্ট (সুনানে কুবরা, বায়হাক্বী, ১০/২১২)। ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ছাত্র ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘দাবা খেলা, পাশা খেলা এবং এ জাতীয় খেলাগুলোতে কোন কল্যাণ নেই’। উপরিউক্ত দলীলের আলোকে লুডু, তাস, ক্যারাম ইত্যাদি খেলাকেও হারাম বলা হয়। প্রশ্ন হল, ছাহাবী বা তাবেঈ কি কোন জিনিস হারাম করতে পারেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : শরী‘আতের দৃষ্টিতে স্ত্রীর নামে কোন সম্পত্তি বা বাড়ী লিখে দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ঋণ নিয়ে কুরবানী দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৩) : দাড়ি রাখা সুন্নাত না ওয়াজিব? এটি না রাখার পরিণতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : মহিলারা মাহরামদের সামনে কেমন পর্দা করবে? মহিলাদের পোশাক কেমন হওয়া দরকার? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : দাঁত সাজানো কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : জানাযা ছালাতের পূর্বে নছীহতমূলক আলোচনা করার কোন বিধান আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : শাওয়াল মাসে বিয়ে করা কি সুন্নত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : ছালাতে সিজদায় বাংলাতে দু‘আ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : জনৈক মহিলার সাধারণত ৭ম দিনে হায়েয শেষ হয়। কিন্তু মাঝে ১/২ দিন স্রাব সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। প্রশ্ন হল- উক্ত এক বা দুই দিন সে ছলাত/ছিয়াম পালন করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : জনৈক আলেম বলেন, যে ব্যক্তি ছালাত না পড়ে ইচ্ছা করে ঘুমিয়ে থাকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত তারা মাথায় ফেরেশতা পাথর মারতে থাকবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮): ‘এ যুগে মুসলিমদের দরিদ্রতা, দুর্বলতা ও পিছিয়ে থাকার কারণ হচ্ছে- অর্থনৈতিক অগ্রগতির তুলনায় জনসংখ্যা বিস্ফোরণ ও অধিক জন্মহার’। এ কথাটির ব্যাপারে শারঈ হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ