বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৪৫ অপরাহ্ন
উত্তর : মৃত্যু সংবাদ জানানোর জন্য মসজিদে বা বাজারে-গ্রামে যেভাবে মাইকিং করা হয়, তা শরী‘আত সম্মত নয় (তিরমিযী হা/৯৮৬, সনদ হাসান)। অনুরূপ মসজিদের বোর্ডে কারো মৃত্যু সংবাদ লিখে প্রকাশ করাও জায়েয নয়। তবে নিকটাত্মীয় ও স্বজনদেরকে জানানোর জন্য মোবাইল বা অনলাইনে অবহিত করা জায়েয (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৯/১৪২ পৃ.)।

ইসলামের দৃষ্টিতে শোক সংবাদ তিন প্রকারের। যথা-
(১) হারাম শোক সংবাদ : যে প্রচারণা জাহিলী যুগের প্রচারণার ন্যায়। অর্থাৎ সাধারণ বাজার ও গণজমায়েতের স্থানগুলোতে ঘোষণার উদ্দেশ্যে মৃত্যুর সংবাদ জ্ঞাতকরণ করা এবং সেই সাথে মৃত ব্যক্তির বংশীয় গৌরব ও তার কীর্তিগুলো উল্লেখ করা কিংবা ঘোষণার সাথে বিলাপ, হাহাকার, আর্তনাদ ও হাহুতাশ প্রকাশ করা (হাশিয়াতুল জামাল ‘আলা শারহিল মানহাজ, ৩/৬৮৭ পৃ.)।

(২) মাকরূহ শোক সংবাদ : বংশীয় গৌরবগাঁথা কিংবা কীর্তি উল্লেখ না করে ঘোষণার মাধ্যমে মৃত্যু সংবাদ জ্ঞাতকরণ করা ও স্বর উচ্চ করা।

(৩) মুবাহ বা বৈধ শোক সংবাদ : কোন ঘোষণা ব্যতীত শুধু মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সংবাদটা জ্ঞাতকরণ করা। আলেমগণ বলেন, কোন ঘোষণা ব্যতীত শুধু জানাযার ছালাতের সময়কাল জ্ঞাতার্থে মৃত্যুর সংবাদটা জ্ঞাতকরণ করা বৈধ (ফাৎহুল ক্বাদীর, ২/১২৭; হাশিয়াতুদ দাসুক্বী, ১/২৪; নিহায়াতুল মুহতাজ, ৩/২০)। ছহীহ সুন্নাহর দলীলগুলো শেষ প্রকারের মৃত্যু সংবাদ বৈধ হওয়ার প্রমাণ বহন করে। যেমন নবী (ﷺ) নাজাশীর ক্ষেত্রে, মুতা যুদ্ধের শহীদদের ক্ষেত্রে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে জানিয়েছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৩২৮, ১৩৩৩, ৪৫৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৯৫৬)।

কাসানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সংবাদটি তার আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদেরকে জ্ঞাপন করাতে কোন আপত্তি নেই, যাতে করে তারা জানাযার ছালাত আদায় করা, দু‘আ করা ও দাফনে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির হক্ব আদায় করতে পারে। আর যেহেতু এই ধরণের সংবাদ দেয়ার মধ্যে নেক কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রস্তুতি নেয়ার প্রতি উৎসাহিতকরণ রয়েছে, তাই এটি নেকী ও তাক্বওয়ার কাজে সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত এবং ভাল কাজের মাধ্যম হওয়া ও সন্ধান দেয়ার পর্যায়ভুক্ত হবে’ (বাদায়িউছ ছানায়ী, ৩/২০৭ পৃ.)।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ বলেন, ‘কেউ মারা গেলে তার আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদেরকে আহ্বান করা জায়েয, যাতে করে তারা জানাযার ছালাতে অংশগ্রহণ করতে পারে, তার জন্য দু‘আ করতে পারে, তার লাশের সাথে যেতে পারে এবং তার দাফনকর্মে সহযোগিতা করতে পারে। কেননা নাজাশী বাদশাহ যখন মারা গিয়েছিলেন তখন নবী (ﷺ) তাঁর সাথীবর্গকে তার মৃত্যু সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন যাতে করে তারা তার জানাযার ছালাত আদায় করতে পারেন (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৮/৪০২ পৃ.)।

দ্বিতীয়তঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সমূহ যেমনঃ ফেসবুক, টুইটার ও ওয়াটস্আপ ইত্যাদিতে কিংবা ইমেইলে ও মোবাইল ম্যাসেজে কারো মৃত্যু সংবাদ প্রচার করাতে কোন আপত্তি নেই। এক্ষেত্রে মূল উদ্দেশ্যে হল, যাতে করে মানুষ তার জানাযার ছালাতে উপস্থিত হতে পারে, মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ ও ক্ষমাপ্রার্থনা করতে পারে কিংবা মৃতের পরিবার-পরিজনের প্রতি সহানুভূতি ও সমবেদনা জ্ঞাপন করতে পারে। এ অবহিতকরণ মূলত ঐ সমস্ত নেক কাজের মাধ্যম (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৩১০২৯)। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ)-কে পত্র-পত্রিকায় মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে উত্তরে তিনি বলেন, ‘খবর হিসাবে প্রচার করার ক্ষেত্রে এর মধ্যে কোন আপত্তিকর বিষয় আছে বলে আমাদের মনে হয় না (মাসায়িলুল ইমাম বিন বায, পৃ. ১০৮)।

প্রশ্নকারী : সেলিম, সাতক্ষীরা।





প্রশ্ন (১৫) : ইচ্ছা করে দীর্ঘদিন ছালাত আদায় না করলে কী করণীয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : যেসব দেশে রাত বা দিন ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময়ে প্রলম্বিত, সেসব দেশে কিভাবে ছিয়াম পালন করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : পিতার সূদের টাকা সন্তান ভক্ষণ করলে সন্তানের ইবাদত কবুল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : প্রচলিত রয়েছে যে, শু‘আইব (আলাইহিস সালাম) মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর শ্বশুর ছিলেন। কথাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জনৈক ব্যক্তি হারাম অর্থ দিয়ে বাড়ীতে নলকূপ স্থাপন করেছে। ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে সেই নলকূপের পানি দিয়ে ওযূ করা বা ফরয গোসল করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কয়টি স্ত্রী ও কয়টি ছেলে-মেয়ে ছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : উবাই ইবনু কা‘ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ছেলেটিকে খিযির হত্যা করেছিলেন, তাকে কাফির হিসাবেই সীলমোহর করা হয়েছিল। সে বেঁচে থাকলে তার পিতা-মাতাকে সীমালঙ্ঘন ও কুফরীর দ্বারা বিব্রত করত। উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদের ইবাদতের নেকি কি পিতা-মাতা পাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : তাহাজ্জুদ পড়ার পরে ফজরের সময় হওয়ার আগেই যদি কেউ ফজরের সুন্নাত পড়ে ফেলে তাহলে তা ছহীহ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : কুরআনুল কারীমের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠাগুলোতে নারীদের কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত করা হয়। উক্ত নারীকণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত শুনা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ‘যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে সে যেন একশ’টি হজ্জ আদায় করল বা একশ’টি উট আল্লাহর ওয়াস্তে দান করল। যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলল সে যেন আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ১০০টি ঘোড়ার পিঠে মুজাহিদ প্রেরণ করলো অথবা আল্লাহর রাস্তায় ১০০ টি গাযওয়া বা অভিযানে শরীক হলো। আর যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার করে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করলো, সে যেন ইসমাঈল বংশের একশ’ ব্যক্তিকে দাসত্ব থেকে মুক্তি প্রদান করলো। আর যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলল, ঐ দিনে তার চেয়ে বেশি আমল আর কেউ করতে পারবে না। তবে যদি কেউ তার সমান এই যিকরগুলো পাঠ করে বা তার চেয়ে বেশি পাঠ করে তাহলে ভিন্ন কথা। (তাহলে সেই শুধু তার উপরে উঠতে পারবে।) ইমাম নাসাঈর বর্ণনায় ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু’-র পরিবর্তে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুআ আলা কুলিল শাইয়্যিন কাদীর’ ১০০ বার পাঠ করার কথা বলা হয়েছে (তিরমিযী, ৫/৫১৩, নং ৩৪৭১; নাসাঈ, আস-সুনানুল কুবরা, ৬/২০৫)। উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছ কি আমলযোগ্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : লাইলাতুল ক্বদর কি দেশভেদে একাধিক হতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ