রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন
উত্তর :  স্ত্রীর কুকথা ও গালাগালির কারণে তীব্র রাগান্বিত হয়ে অনুভূতিহীন ও উম্মাদ অবস্থায় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে যদি কেউ স্ত্রীকে ত্বালাক্ব দেয় এবং এ বিষয়ে যদি সৎ ও বিশ্বস্ত কোন ব্যক্তি সাক্ষী দেয়, তাহলে ত্বালাক্ব পতিত হবে না। নবী করীম (ﷺ) বলেন, لَا طَلَاقَ وَلَا عَتَاقَ فِيْ غِلَاقٍ قَالَ أَبُوْ دَاوُدَ الْغِلَاقُ: أَظُنُّهُ فِي الْغَضَبِ ‘রাগের অবস্থায় কোন ত্বালাক্ব সংঘটিত হয় না এবং দাসত্বমুক্ত করা যায় না। ইমাম আবূ দাঊদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমার মতে ‘আল-গিলাক্ব’ অর্থ রাগ’ (আবূ দাঊদ, হা/২১৯৩; ইবনে মাজাহ, হা/২০৪৬; সনদ হাসান, ছহীহুল জামি‘, হা/৭৫২৫)। বিদ্বানগণের একটি জামা‘আত বলেন, 'গিলাক্ব’ শব্দের অর্থ হল রাগ, অর্থাৎ প্রচ- রাগ, এমন রাগ যা মানুষকে জ্ঞানশূন্য করে দেয়, পাগল ও উম্মাদের মত আচরণ করে, বুদ্ধি লোপ পেয়ে যায়, অনুভূতিহীন হয়ে পড়ে, এমতাবস্থায় ত্বালাক্ব সংঘটিত হয় না। মূলত রাগের তিনটি অবস্থা। যথা: প্রথমতঃ এত তীব্র রাগ যে, ব্যক্তি তার অনুভুতি হারিয়ে ফেলে। পাগল বা উন্মাদের মত হয়ে যায়। সকল আলিমের মতে, এ লোকের ত্বালাক্ব কার্যকর হবে না। কারণ সে বিবেকহীন পাগল বা উন্মাদের পর্যায়ভুক্ত। দ্বিতীয়তঃ এখানেও রাগ তীব্র আকার ধারণ করে। কিন্তু সে অনুভূতিহীন হয়ে পড়ে না। বরং তার কাছে কিছু অনুভূতি অবশিষ্ট থাকে। এবং কিছু বুদ্ধিমত্তা, সে যা বলছে সেটা সে বুঝতে পারছে এবং বিবেক জাগ্রত আছে। তবে তার রাগ তীব্র আকার ধারণ করার ফলে ত্বালাক্বের দিকে ধাবিত হয়েছে। এ লোকের ত্বালাক্বের ব্যাপারে আলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। তবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতানুযায়ী, এ লোকের ত্বালাক্বও কার্যকর হবে না। তৃতীয়তঃ অভ্যাসগত রাগ হয়েছে কিন্তু তা মাত্রাতিরিক্ত নয়। সাধারণভাবে ঝগড়া-ঝামেলার সময় যেমন রাগ উঠে থাকে। কিন্তু সে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েনি। স্ত্রীর কোন কাজ অপসন্দ করা কিংবা মনোমালিন্য থেকে স্বামীর এই রাগের উদ্রেক হয়। কিন্তু এত তীব্র আকার ধারণ করে না যে, এতে বিবেক-বুদ্ধি হারিয়ে ফেলে কিংবা নিজের ভাল-মন্দের বিবেচনা করতে পারে না। আলিমগণের সর্বসম্মতিক্রমে এ অবস্থায় ত্বালাক্ব সংঘটিত হয়ে যাবে (শায়খ ইবনু বায, ফাতাওয়াতুত ত্বালাক্ব, পৃ. ১৯-২১)। রাগাম্বিত ব্যক্তির ত্বালাক্বের ব্যাপারে শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) এবং তাঁর ছাত্র ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) এভাবেই বিশ্লেষণ করেছেন এবং ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) এ সম্পর্কে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। নাম দিয়েছেন ‘ইগাছাতুল লাহ্ফান ফী হুকমি ত্বালাক্বিল গাযবান’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২২০২৪; যাদুল মা‘আদ, ৫/২১৫; কুয়েতী ফিক্বাহ্ বিশ্বকোষ, ১৮/২৯ পৃ.)।

প্রশ্নকারী আব্দুল জাব্বার, রংপুর।





প্রশ্ন (২৩) : সমাজে এমন কিছু ব্যক্তি আছে, যারা ছালাত আদায় করে না, শুধু ঈদের ছালাত আদায় করে। কিছু ব্যক্তি আছে, তারা শুধু জুমু‘আর ছালাত আদায় করে। আবার কিছু ব্যক্তি আছে, যারা দৈনিক ২, ৩, ৪ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করে। এই তিন ব্যক্তি সম্পর্কে হাদীছ ও সালাফে ছালেহীন কী ফৎওয়া দিয়েছেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ইলিয়াসী তাবলীগের এক ব্যক্তি বলেন, নাফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করা হল, বড় জিহাদ। আর যুদ্ধের মাঠে কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা ছোট জিহাদ। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : পিতা মারা যাওয়ার পরে ছেলেরা জানতে পেরেছে যে, তিনি ফুফুকে জমি দেননি। এখন আমার ফুফুকে কি জমি দেয়া লাগবে, না-কি ফুফুর কাছ থেকে মাফ চেয়ে নিলেই হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪১) : ঈদের খুৎবা কয়টি? কোথাও একটি আবার কোথাও দু’টি দিতে দেখা যায়। কোনটি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪): বর্ণিত আছে, ‘যে ব্যক্তি রাতে ‘সূরা হা-মীম দুখান’ পড়ে সকালে উঠে, তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রর্থনা করতে থাকেন (তিরমিযী, হা/২৮৮৮; মিশকাত, হা/২১৪৯)। এ বর্ণনাটি কি বিশুদ্ধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) :  ছালাতুল ইসতিখারা, ছালাতুল ইসতিসকা, ছালাতুল হাজাত, ছালাতুত তাওবাহ, সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের ছালাত, ইশরাক ও চাশতের ছালাত, ছালাতুয যোহা ইত্যাদি ছালাতগুলো সুন্নাতে মুওয়াক্কাদা, সুন্নাতে গায়ের মুওয়াক্কাদা, না-কি নফল ছালাত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : জনৈক আলেম বলেন, মসজিদে প্রবেশ করে ইচ্ছা করে ছালাত না পড়ে বসলে কোন গুনাহ হবে না, কারণ এটা নফল ছালাত। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) :  জনৈক ইমাম বলেন, ক্বিয়ামতের দিন পৃথিবীর সকল মুয়াযযিন বেলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর অনুসরণ করবেন এবং বেলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। উক্ত বক্তব্যের দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : মসজিদে যখন আযান হয়, আযান চলাকালীন অবস্থায় মসজিদে প্রবেশের সময়, মসজিদে প্রবেশের দু‘আ পড়ে মসজিদে প্রবেশ করতে হবে, না-কি আযানের জবাব দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : বাবার চার ছেলে, মেয়ে নেই। প্রথম ছেলে ও দ্বিতীয় ছেলে ১৫-১৬ বছর থেকে শহরে ব্যবসা করেন। ৩য় ছেলে ১৬-১৭ বছর যাবৎ বাবার সংসারে এখনো হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সংসার দেখাশুনা করে যাচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ছেলে বাবার সংসার থেকে চাল ডাল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়মিত নিয়েছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় ছেলেকে বাবা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতাও করেছেন, এখন তারা সাবলম্বী। চতুর্থ ছেলে ছোট হওয়ায় লেখাপড়া করে ও বর্তমানে বিবাহ করে বাবার সংসারে খায় আর সারাদিন ঘুরে বেড়ায়। প্রশ্ন হল- যখন বাবা সব ছেলেকে কিছু কিছু করে জমি লিখে দিতে চাইলেন, তখন তৃতীয় ছেলে সবার উপস্থিতিতে প্রস্তাব করল, ‘আমি যেহেতু ১৬-১৭ বছর ধরে সংসার দেখাশুনা করছি তাই এজমালিতে আমাকে এক বিঘা জমি দেয়া হোক’। উক্ত শর্তে দ্বিতীয় ও চতুর্থ ছেলের কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু প্রথম ছেলে উক্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ফলে তৃতীয় ছেলে বলে, আমি যেহেতু পরিশ্রম করেছি তাই এটা আমার অধিকার। পরবর্তীতে বাবা তৃতীয় ছেলেকে এক বিঘা জমি লিখে দেন। এক্ষেত্রে প্রথম ছেলে তৃতীয় জনকে ভাই হিসাবে স্বীকার করতে নারাজ এবং তাকে জাহান্নামী ও হারামখোর বলে প্রচার করতেছে। উল্লেখ্য যে, বাবার জমির পরিমাণ ৪০ বিঘার উপরে। এক্ষেত্রে বাবা কি অপরাধ করেছেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : সাহাবী গাছের সত্যতা কী? এটি না-কি সেই গাছ যেখানে ১৪৫০ বছর আগে প্রিয় নবী (ﷺ) বিশ্রাম নিয়েছিলেন। এটি ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত জীবিত আছে। উক্ত দাবীগুলো কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাড়িতে মেহেদী ব্যবহার করেছেন কি-না? দলীলসহ জানতে চাই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ