রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ন
উত্তর :  স্ত্রীর কুকথা ও গালাগালির কারণে তীব্র রাগান্বিত হয়ে অনুভূতিহীন ও উম্মাদ অবস্থায় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে যদি কেউ স্ত্রীকে ত্বালাক্ব দেয় এবং এ বিষয়ে যদি সৎ ও বিশ্বস্ত কোন ব্যক্তি সাক্ষী দেয়, তাহলে ত্বালাক্ব পতিত হবে না। নবী করীম (ﷺ) বলেন, لَا طَلَاقَ وَلَا عَتَاقَ فِيْ غِلَاقٍ قَالَ أَبُوْ دَاوُدَ الْغِلَاقُ: أَظُنُّهُ فِي الْغَضَبِ ‘রাগের অবস্থায় কোন ত্বালাক্ব সংঘটিত হয় না এবং দাসত্বমুক্ত করা যায় না। ইমাম আবূ দাঊদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমার মতে ‘আল-গিলাক্ব’ অর্থ রাগ’ (আবূ দাঊদ, হা/২১৯৩; ইবনে মাজাহ, হা/২০৪৬; সনদ হাসান, ছহীহুল জামি‘, হা/৭৫২৫)। বিদ্বানগণের একটি জামা‘আত বলেন, 'গিলাক্ব’ শব্দের অর্থ হল রাগ, অর্থাৎ প্রচ- রাগ, এমন রাগ যা মানুষকে জ্ঞানশূন্য করে দেয়, পাগল ও উম্মাদের মত আচরণ করে, বুদ্ধি লোপ পেয়ে যায়, অনুভূতিহীন হয়ে পড়ে, এমতাবস্থায় ত্বালাক্ব সংঘটিত হয় না। মূলত রাগের তিনটি অবস্থা। যথা: প্রথমতঃ এত তীব্র রাগ যে, ব্যক্তি তার অনুভুতি হারিয়ে ফেলে। পাগল বা উন্মাদের মত হয়ে যায়। সকল আলিমের মতে, এ লোকের ত্বালাক্ব কার্যকর হবে না। কারণ সে বিবেকহীন পাগল বা উন্মাদের পর্যায়ভুক্ত। দ্বিতীয়তঃ এখানেও রাগ তীব্র আকার ধারণ করে। কিন্তু সে অনুভূতিহীন হয়ে পড়ে না। বরং তার কাছে কিছু অনুভূতি অবশিষ্ট থাকে। এবং কিছু বুদ্ধিমত্তা, সে যা বলছে সেটা সে বুঝতে পারছে এবং বিবেক জাগ্রত আছে। তবে তার রাগ তীব্র আকার ধারণ করার ফলে ত্বালাক্বের দিকে ধাবিত হয়েছে। এ লোকের ত্বালাক্বের ব্যাপারে আলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। তবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতানুযায়ী, এ লোকের ত্বালাক্বও কার্যকর হবে না। তৃতীয়তঃ অভ্যাসগত রাগ হয়েছে কিন্তু তা মাত্রাতিরিক্ত নয়। সাধারণভাবে ঝগড়া-ঝামেলার সময় যেমন রাগ উঠে থাকে। কিন্তু সে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েনি। স্ত্রীর কোন কাজ অপসন্দ করা কিংবা মনোমালিন্য থেকে স্বামীর এই রাগের উদ্রেক হয়। কিন্তু এত তীব্র আকার ধারণ করে না যে, এতে বিবেক-বুদ্ধি হারিয়ে ফেলে কিংবা নিজের ভাল-মন্দের বিবেচনা করতে পারে না। আলিমগণের সর্বসম্মতিক্রমে এ অবস্থায় ত্বালাক্ব সংঘটিত হয়ে যাবে (শায়খ ইবনু বায, ফাতাওয়াতুত ত্বালাক্ব, পৃ. ১৯-২১)। রাগাম্বিত ব্যক্তির ত্বালাক্বের ব্যাপারে শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) এবং তাঁর ছাত্র ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) এভাবেই বিশ্লেষণ করেছেন এবং ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) এ সম্পর্কে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। নাম দিয়েছেন ‘ইগাছাতুল লাহ্ফান ফী হুকমি ত্বালাক্বিল গাযবান’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২২০২৪; যাদুল মা‘আদ, ৫/২১৫; কুয়েতী ফিক্বাহ্ বিশ্বকোষ, ১৮/২৯ পৃ.)।

প্রশ্নকারী আব্দুল জাব্বার, রংপুর।





প্রশ্ন (১) : মুমিন ও‌ মুসলিমের মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : প্রচলিত আছে যে, কেউ যদি জুমু‘আহ বা অন্য কোন ছালাতের আযান দেয়, তাহলে ঐ ব্যক্তি আর ছালাতের ইমামতি করতে পারবে না। এটা কি হাদীছসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : অনেকে দাবী করে, তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ পৃথক ছালাত। তাহাজ্জুদ ৮ রাক‘আত, আর তারাবীহ ২০ রাক‘আত। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : জনৈক ব্যক্তি রাগ করে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী তিন ত্বালাক্ব দেয় এবং ৯০ দিন পর সিটিকর্পোরেশন থেকে সার্টিফিকেট নেয়। তাদের দাম্পত্য জীবন ১১ বছরের এবং ১০ বছরের একটি ছেলে সন্তানও আছে। তবে ত্বালাক্ব দেয়ার সময় সে এক ত্বালাক্ব দিয়েছে। এমতাবস্থায় স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়ার কোন সুযোগ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : সন্তানের বয়স মাত্র ২৩ মাস। বর্তমানে স্ত্রী পুনরায় গর্ভধারণ করেছেন। আনুমানিক এক সপ্তাহ হল। প্রথম সন্তানটি এখনও খুব ছোট। এছাড়া তার স্ত্রীর বয়স প্রায় ২০-২১ বছর এবং শারীরিক দিক থেকেও তিনি অনেক বেশি সবল নন। এ অবস্থায় পরিবারের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, এই গর্ভধারণ অব্যাহত থাকলে মা ও ছোট সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শরী‘আতের দৃষ্টিতে এই প্রাথমিক পর্যায়ের গর্ভ নষ্ট করার অনুমতি আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : সমস্ত মুসলিমদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়ার মত কোন দু‘আ আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : পিতা-মাতার দিকে রহমতের নযরে তাকালে একটি কবুল হজ্জের ছওয়াব পাওয়া যায়। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : জনৈক ব্যক্তি স্ত্রীর প্রতি রাগান্বিত হয়ে স্ত্রীর সামনে স্ত্রীর নাম উল্লেখ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আল্লাহ তুমি স্বাক্ষী থাক, আল্লাহর কসম! আল্লাহর কসম! আল্লাহর কসম! আমি তোমার সাথে (স্ত্রী) আর কখনো মিলন করব না’। এরূপ কসমের জন্য করণীয় কী? এজন্য কি বিবাহ বিচ্ছিদ ঘটবে, না-কি কসমের কাফ্ফারা স্বরূপ তিনটি ছিয়াম রাখলেই যথেষ্ট হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : কোন্ কাজগুলো ডান দিক থেকে এবং কোন্ কাজগুলো বাম দিক থেকে শুরু করা সুন্নাত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : কবিরাজের উপর বিশ্বাস রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : জনৈক বক্তা বলেছেন, যার নিছাব পরিমাণ সম্পদ আছে, তার উপর ফিতরা ওয়াজিব। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? কতটুকু খাবার থাকলে ফিতরা দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : যদি কোন সন্তান তার দৈনন্দিন খরচ থেকে দান করে, তাহলে এর ছওয়াব কি বাবা পাবেন, না-কি ছেলে পাবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ