রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ন
উত্তর : কৃপণতা একটি মন্দ গুণ। কৃপণতার চেয়ে মন্দ গুণ আর কী হতে পারে? কৃপণতার সীমারেখা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আলেমগণের বিবিধ বক্তব্য পাওয়া যায়। ইবনুল মুফলিহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আলেমগণ কৃপণতার সীমারেখার ব্যাপারে কয়েকটি মত উল্লেখ করেছেন। যথা: ১- যাকাত প্রদান না করা। যে ব্যক্তি যাকাত আদায় করল সে ব্যক্তি কৃপণতার অভিধা থেকে রেহাই পেল। ২- ফরয যাকাত ও ফরয খরচাদি বহন না করা। এ অভিমতের ভিত্তিতে কেউ যদি যাকাত প্রদান করে কিন্তু অন্য ফরয খরচ প্রদানে অস্বীকৃতি জানায় তাহলে তাকে কৃপণ হিসাবে গণ্য করা হবে। ৩- ফরয খরচ ও মুস্তাহাব খরচ প্রদান করা। তাই কেউ যদি শুধু দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে কসুর করে তাহলে সে কৃপণ (আল-আদাবুশ শারইয়্যা, ৩/৩০৩ পৃ.)। ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কৃপণ হচ্ছে- যে ব্যক্তি তার উপরে ফরয খরচ প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। সুতরাং কেউ যদি তার উপরে যা কিছু খরচ করা ফরয সেগুলো আদায় করে তাহলে তাকে কৃপণ বলা যাবে না। বরং কৃপণ হল যে ব্যক্তির দায়িত্বে যা দেয়া ও খরচ করার দায়িত্ব সেটা করতে অস্বীকৃতি জানায়’ (জালাউল আফহাম, পৃ. ৩৮৫)। ইমাম গাজ্জালী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কৃপণ হচ্ছে- এমন ব্যক্তি যে ব্যক্তি এমন স্থানে খরচ করতে অস্বীকৃতি জানায় যেখানে খরচ করা বাঞ্ছনীয়; সেটা শরী‘আতের বিধানের নিরিখে হোক কিংবা ব্যক্তিত্ব রক্ষার নিরিখে হোক। এর পরিমাপ নির্দিষ্ট করা সম্ভবপর নয়’ (ইহইয়া ঊলূমিদ দ্বীন, ৩/২৬০ পৃ.)। অনুরূপভাবে শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)ও বলেছেন, ‘কৃপণতা হচ্ছে- যা খরচ করা আবশ্যক ও যা খরচ করা বাঞ্ছনীয়’ (শারহু রিয়াদুছ ছালিহীন, ৩/৪১০ পৃ.)।

পুরুষের উপর ফরয তার স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ব্যয় করা। খরচাদির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে: খাদ্য, পানীয়, পোশাক ও বাসস্থান এবং স্ত্রী ও সন্তানদের যাবতীয় যা কিছু প্রয়োজন; যেগুলো না হলে নয়। যেমন- চিকিৎসার খরচ, শিক্ষা খরচ ইত্যাদি। এ খরচাদি প্রদান করা হবে, স্বামীর সামর্থ্য ও তার আর্থিক অবস্থা অনুযায়ী। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘বিত্তবান তার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে। আর যার জীবনোপকরণ সীমিত সে আল্লাহ্‌ তাকে যা দান করেছেন সেটা থেকে ব্যয় করবে। আল্লাহ‌ যাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন তার চেয়ে গুরুতর বোঝা তিনি তার উপর চাপান না’ (সূরা আত-ত্বালাক্ব: ৭)।


প্রশ্নকারী : হারুনুর রশীদ, ঝিনাইদহ।





প্রশ্ন (২৮) : শাওয়াল মাসে বিয়ে করা কি সুন্নত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : তৃতীয় সিজারের সময় ডাক্তাররা মহিলার নাড়ি উল্টিয়ে দেয়। কারণ ৪র্থ সন্তান আসলে মহিলার জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। এটা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : সফরে সর্বোচ্চ কতদিন পর্যন্ত ক্বছর করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক শিক্ষামূলক অনেক প্রোগ্রামের আয়োজন করে। প্রশ্ন হল- এমন সূদী ব্যাংক থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : দুই ব্যক্তির মধ্যে প্রথম ব্যক্তি সালাম দিলে দ্বিতীয় ব্যক্তি সালামের জবাব দেয়ার পর উল্টো সালাম দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : ছালাতে তাশাহুদের সময় নযর কোন দিকে রাখতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : রামাযানের ক্বাযা বা ছুটে যাওয়া ছিয়াম কখন আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : জনৈক ব্যক্তির জীবনে রাশি রাশি পাপে ভরপুর। বর্তমানে সে এক জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা নেয়ার বহু চেষ্টা করেও কোন লাভ হয়নি। ডাক্তার বলেছেন, এই রোগের কোন চিকিৎসা নেই। এ পর্যায়ে এসে তিনি অত্যন্ত অনুতপ্ত এবং গুনাহ থেকে তওবা করতে ইচ্ছুক। এমন ব্যক্তির তওবা শুদ্ধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : ছিয়াম পালনকারীর রক্ত পরীক্ষা ও স্বেচ্ছায় রক্তদান করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : হারাম পথে উপার্জিত সম্পদ দ্বারা হজ্জ করলে হজ্জ হবে কি? সন্তানের হারাম পথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে পিতা-মাতা হজ্জ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪২) : মানুষ মারা যাওয়ার পর ঢেকে দেয়া হয় কেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যে ব্যক্তি চারের অধিক বিয়ে করেছে, ইসলামে তার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ