রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
উত্তর : মুসলিমদের জন্য এ সমস্ত কাজ করা হারাম। এতে ঈমান এবং ইসলাম ভঙ্গ হয়ে যাবে। কারণ এগুলো মূর্তিপূজার উৎসব, যা কুফ্র ও শিরকে পরিপূর্ণ। এ ধরনের কাজে তাদেরকে সহযোগিতা করা যাবে না এবং তাদের নীতি অবলম্বন করা যাবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরষ্পরে সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদা: ২)। অন্য আয়াতে বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, তারা তাদের মধ্যে গণ্য হবে (আল-মায়িদাহ ৫১)। রাসূল (ﷺ) বলেন, যে অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে (আবুদাঊদ হা/৪০৩১, সনদ ছহীহ)। ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,

لَا تَدْخُلُوا عَلَى الْمُشْرِكِينَ فِي كَنَائِسِهِمْ يَوْمَ عِيدِهِمْ فَإِنَّ السَّخْطَةَ تَنْزِلُ عَلَيْهِمْ

তোমরা মুশরিকদের উৎসবের দিন তাদের উপাসনালয়ে প্রবেশ কর না। কারণ তাদের উপর গযব নাযিল হয় (বাহয়হাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা হা/১৮৮৬১, সনদ ছহীহ)। অন্যত্র তিনি বলেন,

اجْتَنِبُوا أَعْدَاءَ اللهِ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى فِي عِيدِهِمْ يَوْمَ جَمْعِهِمْ , فَإِنَّ السَّخَطُ يَنْزِلُ عَلَيْهِمْ فَأَخْشَى أَنْ يُصِيبَكُمْ

তোমরা আল্লাহর শত্রু ইহূদী-নাছারাদের উৎসব থেকে বিরত থাক। কারণ তাদের উপর গযব নাযিল হয়। আমি আশঙ্কা করছি যে, সেই গযব তোমাদের উপরেও নাযিল হবে (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, হা/৮৯৪০)। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,

مَنْ بَنَى بِبِلَادِ الْأَعَاجِمِ وَصَنَعَ نَيْرُوزَهُمْ وَمِهْرَجَانَهُمْ وَتَشَبَّهَ بِهِمْ حَتَّى يَمُوتَ وَهُوَ كَذَلِكَ حُشِرَ مَعَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ "

যে ব্যক্তি অমুসলিম দেশে বাড়ী তৈরি করবে এবং তাদের অনুকরণে নববর্ষ ও তাদের উৎসব পালন করে মারা যাবে, ক্বিয়ামতের দিন তাকে তাদের সাথেই উঠানো হবে (বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা হা/১৮৮৬৩, সনদ ছহীহ)। ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, وَأَمَّا التَّهْنِئَةُ بِشَعَائِرِ الْكُفْرِ الْمُخْتَصَّةِ بِهِ فَحَرَامٌ بِالِاتِّفَاقِ কাফেরদের বিশেষ প্রতীক ব্যবহার করে শুভেচ্ছা জানানো সকলের ঐকমত্যে হারাম (আহকামু আহলিয যিম্মাহ, ১/৪৪১ পৃ.)। উছায়মীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

يحرم على المسلمين التشبه بالكفار بإقامة الحفلات بهذه المناسبة، أو تبادل الهدايا أو توزيع الحلوى، أو أطباق الطعام، أو تعطيل الأعمال ونحو ذلك

কাফেরদের অনুকরণে উৎসব আয়োজন করা, শুভেচ্ছা বা উপহার বিনিময় করা, মিষ্টান্ন বিতরণ, রকমারি খাদ্য তৈরী করা, ছুটি ঘোষণা করা মুসলিমদের জন্য হারাম (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩/৪৬ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : মুনীর, ময়মনসিংহ।





প্রশ্ন (৬) : ইফতারের শুরুতে ও শেষে কোন্ দু‘আ পাঠ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : তরকারী জাতীয় পণ্যে যাকাত দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : জনৈক ব্যক্তি বিয়ের পর মেয়েকে গর্ভবতী অবস্থায় পেয়েছে। এমতাবস্থায় করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : ঋণগ্রহীতা ও ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি মুক্তির জন্য কী করতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : ‘যে ব্যক্তি জুম‘আর দিনে আমার উপর ৮০ বার দরূদ পাঠ করবে আল্লাহ তার ৮০ বছরের পাপ ক্ষমা করে দিবেন’ মর্মে প্রচলিত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : গায়রুল্লাহর নৈকট্য হাছিলের জন্য পশু কুরবানী করার হুকুম কী? এই পশুর গোশত খাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ের ইবাদত অধ্যায়ের পাঠ-২ এ লিখা আছে, ‘উৎপন্ন শস্যের যাকাত ধান, গম, যব, খেজুর ইত্যাদি শস্য সেচ প্রদান ছাড়া বৃষ্টির পানিতে জন্মালে ‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত’ সব ফসলের দশ ভাগের এক ভাগ যাকাত আদায় করতে হবে। একে উশর বলে। আর সেচ ব্যবস্থায় উৎপন্ন ফসলের বিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত আদায় করতে হয়’। প্রশ্ন হল- ‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত’ কথাটি কি সঠিক? এর ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : ফিতরার পরিমাণ কতটুকু? অর্ধ ছা‘ ফিতরা দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে যে সমস্ত মুসলিম সেক্যুলার রাজনীতির সমর্থক বা কর্মী, তাদের সম্পর্কে আহলেহাদীছদের আকীদা কী হবে এবং তাদের সাথে সামাজিক সম্পর্ক কিভাবে মূল্যায়ন করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : কোন জরুরী কারণে মুক্বীম অবস্থায় ছালাত জমা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : ইসলামের দৃষ্টিতে বজ্রপাতের ব্যাখ্যা কী এবং এ সময় আমাদের করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ফজরের ওয়াক্ত পুরো সময় বায়ু বের হয় এমনকি মাঝে মধ্যে ওযূতেও বায়ু বের হয়। অন্য ওয়াক্তে মাঝে মাঝে এমনটি হয়। এখন উক্ত ব্যক্তি কি মা‘যূর? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ