বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন
উত্তর : মুসলিমদের জন্য এ সমস্ত কাজ করা হারাম। এতে ঈমান এবং ইসলাম ভঙ্গ হয়ে যাবে। কারণ এগুলো মূর্তিপূজার উৎসব, যা কুফ্র ও শিরকে পরিপূর্ণ। এ ধরনের কাজে তাদেরকে সহযোগিতা করা যাবে না এবং তাদের নীতি অবলম্বন করা যাবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরষ্পরে সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদা: ২)। অন্য আয়াতে বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, তারা তাদের মধ্যে গণ্য হবে (আল-মায়িদাহ ৫১)। রাসূল (ﷺ) বলেন, যে অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে (আবুদাঊদ হা/৪০৩১, সনদ ছহীহ)। ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,

لَا تَدْخُلُوا عَلَى الْمُشْرِكِينَ فِي كَنَائِسِهِمْ يَوْمَ عِيدِهِمْ فَإِنَّ السَّخْطَةَ تَنْزِلُ عَلَيْهِمْ

তোমরা মুশরিকদের উৎসবের দিন তাদের উপাসনালয়ে প্রবেশ কর না। কারণ তাদের উপর গযব নাযিল হয় (বাহয়হাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা হা/১৮৮৬১, সনদ ছহীহ)। অন্যত্র তিনি বলেন,

اجْتَنِبُوا أَعْدَاءَ اللهِ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى فِي عِيدِهِمْ يَوْمَ جَمْعِهِمْ , فَإِنَّ السَّخَطُ يَنْزِلُ عَلَيْهِمْ فَأَخْشَى أَنْ يُصِيبَكُمْ

তোমরা আল্লাহর শত্রু ইহূদী-নাছারাদের উৎসব থেকে বিরত থাক। কারণ তাদের উপর গযব নাযিল হয়। আমি আশঙ্কা করছি যে, সেই গযব তোমাদের উপরেও নাযিল হবে (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, হা/৮৯৪০)। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,

مَنْ بَنَى بِبِلَادِ الْأَعَاجِمِ وَصَنَعَ نَيْرُوزَهُمْ وَمِهْرَجَانَهُمْ وَتَشَبَّهَ بِهِمْ حَتَّى يَمُوتَ وَهُوَ كَذَلِكَ حُشِرَ مَعَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ "

যে ব্যক্তি অমুসলিম দেশে বাড়ী তৈরি করবে এবং তাদের অনুকরণে নববর্ষ ও তাদের উৎসব পালন করে মারা যাবে, ক্বিয়ামতের দিন তাকে তাদের সাথেই উঠানো হবে (বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা হা/১৮৮৬৩, সনদ ছহীহ)। ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, وَأَمَّا التَّهْنِئَةُ بِشَعَائِرِ الْكُفْرِ الْمُخْتَصَّةِ بِهِ فَحَرَامٌ بِالِاتِّفَاقِ কাফেরদের বিশেষ প্রতীক ব্যবহার করে শুভেচ্ছা জানানো সকলের ঐকমত্যে হারাম (আহকামু আহলিয যিম্মাহ, ১/৪৪১ পৃ.)। উছায়মীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

يحرم على المسلمين التشبه بالكفار بإقامة الحفلات بهذه المناسبة، أو تبادل الهدايا أو توزيع الحلوى، أو أطباق الطعام، أو تعطيل الأعمال ونحو ذلك

কাফেরদের অনুকরণে উৎসব আয়োজন করা, শুভেচ্ছা বা উপহার বিনিময় করা, মিষ্টান্ন বিতরণ, রকমারি খাদ্য তৈরী করা, ছুটি ঘোষণা করা মুসলিমদের জন্য হারাম (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩/৪৬ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : মুনীর, ময়মনসিংহ।





প্রশ্ন (৩) : ইসলাম প্রচারের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লিফলেট, হ্যান্ডবিল ইত্যাদি প্রচার করা হয়, যেখানে প্রচারকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি নিজস্ব পরিচিতি ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে থাকে। দাওয়াতী কাজের ক্ষেত্রে এরূপ পরিচয় দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : সালাফী মানহাজ মতে, আশ‘আরী আক্বীদা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত নয় অর্থাৎ বাতিল আক্বীদা। কিন্তু বাংলা উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুসারে আশ‘আরীর মধ্যে অন্যতম- ইমাম বায়হাক্বী, ইবনু হাজার আসক্বালানী, ইমাম দারাকুৎনী, খত্বীব বাগদাদী, ইমাম নববী, জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী প্রমুখ। তাদের বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে ইলম নেয়ার ক্ষেত্রে সালাফী মানহাজের উছূল কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ফরয ছালাতে মাসবূক মুক্তাদী যদি ইমামের দুই দিকের সালাম ফিরানোর আগেই বা এক সালাম শেষ হওয়ার সাথে সাথে পরের রাক‘আতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে কি তার ছালাত বাতিল হবে, না-কি একাজের জন্য সে গুনাহগার হবে? ছালাতে সালাম ফিরানোর বিশুদ্ধ পদ্ধতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : গীবতের গুনাহ থেকে কিভাবে বাঁচব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০): সরকারী ভ্যাট বা কর হিসাবে যাকাতের টাকা প্রদান করা যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : সমাজে প্রচলিত আছে যে, হজ্জ পালন করে বাড়ীতে ফেরার পর তিনদিন কারো সাথে কথা বলা এবং বাড়ী থেকে বের হওয়া যায় না। গরু-খাসী যবেহ করে সবাইকে খাওয়াতে হয়। বাজারে কিছু কিনতে গেলে একদরে কিনতে হয়। এগুলো কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : রাসূল (ﷺ) মক্কা বিজয়ের আগে মূর্তি থাকা অবস্থায় কা‘বার পাশে ছালাত আদায় করেছেন মর্মে বক্তব্য কি সঠিক? উল্লেখ্য যে, জানা যায় যে, মক্কা বিজয়ের আগে কা‘বা ঘরের ভিতরে ৩৬০টি মূর্তি ছিল। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : আমি দীর্ঘদিন থেকে একটি মেয়ের সাথে যেনায় লিপ্ত। অনেকবার ছাড়তে চেয়েও পারিনি। আমি লজ্জায় কিছুই করতে পারি না। কী কী কাজ করলে আমি এটা থেকে বের হয়ে আসতে পারি? কিভাবে তওবাহ করতে পারি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : জনৈক আলেম বলেন, মসজিদে এমন কোন বস্তু রাখা যাবে না, যা মুছল্লীকে আকৃষ্ট করে। তাই কা‘বার ছবি, নববীর ছবি, মিনারের ছবি ইত্যাদি রাখা যাবে না। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : জুমু‘আহ ও পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের আযান মসজিদের কোন্ জায়গা থেকে দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : জনৈক ব্যক্তি ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার কারণে দেউলিয়া হয়েছে। ঋণ পরিশোধের জন্য উক্ত ব্যক্তিকে সহযোগিতা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন আল্লাহ তা‘আলা যমীন সৃষ্টি করলেন তখন তা দুলতে লাগল। অতঃপর পাহাড়গুলো সৃষ্টি করে সেগুলো পৃথিবীর উপর স্থীর করেন। অতঃপর পৃথিবী স্থীর হয়ে গেল। ফেরেশতাগণ পাহাড়ের এ শক্তি দেখে আশ্চর্যান্বিত হলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পাহাড় অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? আল্লাহ বললেন, হ্যাঁ; আর সেটা লোহা। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করল, হে প্রভু! আপনার সৃষ্টির মধ্যে লোহা অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আগুন। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে আগুন অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; পানি। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পানি অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; বাতাস। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে বাতাস অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; আদম সন্তান। যে তার ডান হাতে দান করে আর দানকে বাম হাত হতে গোপন রাখে। এ ঘটনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ