ঐক্যের মর্যাদা ও মানদণ্ড
ড. মুযাফফর বিন মুহসিন
ঐক্য মুসলিমদের সোনালী ঐতিহ্য এবং গৌরবের প্রতীক। আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ উম্মত বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাই মুসলিমরা জামা‘আতবদ্ধ থাকলে অপ্রতিরোধ্য একটি শক্তিশালী জাতিতে পরিণত হবে। পৃথিবীর সকল মানুষ নিরাপত্তা পাবে এবং সমগ্র দুনিয়া যালেম ও যুলম মুক্ত হবে। আল্লাহর বিশেষ মদদে মুসলিমদের মর্যাদা ও প্রভাব স্থায়ী হবে। সংখ্যায় কম হলেও কোন জাতি বা গোষ্ঠী মুসলিমদের উপর চোখরাঙানির সাহস পাবে না ইনশাআল্লাহ। কিন্তু মুসলিমদের এই ইস্পাত কঠিন ঐক্যকে নষ্ট করার জন্য বিধর্মীরা সবচেয়ে বেশি অর্থ ও শ্রম ব্যয় করেছে এবং ষড়যন্ত্রের কালো জাল বিস্তার করেছে। ফলে মুসলিমরা দলে দলে বিভক্ত হয়েছে, ভিত্তি দুর্বল হয়েছে এবং সোনালী ঐতিহ্য বিনষ্ট হয়েছে। অবশ্য এটা আল্লাহ তা‘আলার বিশেষ পরীক্ষা। মুসলিমরা আবার যখন ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে, তখন বিজয় অর্জিত হবে ইনশাআল্লাহ। তাই সকল শ্রেণীর মানুষকে ঐক্যের মর্যাদা ও মানদণ্ড গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে।
ঐক্যের আবশ্যকতা
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَاعْتَصِمُوْا بِحَبْلِ اللّٰهِ جَمِيْعًا وَّ لَا تَفَرَّقُوْا ‘তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে সকলে মিলে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং দলে দলে বিভক্ত হয়ো না’ (সূরা আলে ইমরান : ১০৩)। ওছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উক্ত আয়াত উল্লেখ করে বলেন, اِلْزَمُوْا جَمَاعَتَكُمْ لَا تَصِيْرُوْا أَحْزَابًا ‘তোমরা তোমাদের জামা‘আতকে স্থায়ীভাবে আঁকড়ে ধর এবং দলে দলে বিভক্ত হয়ো না’।[১] অনুরূপ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, حَبْلُ اللهِ، اَلْجَمَاعَةُ ‘হাবলুল্লাহ হল, জামা‘আত’। অন্যত্র তিনি কুরআনকেও হাবলুল্লাহ বলেছেন।[২] অন্য বর্ণনায় এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ اِلْزَمُوْا هَذِهِ الطَّاعَةَ وَالْجَمَاعَةَ فَإِنَّهُ حَبْلُ اللهِ الَّذِيْ أَمَرَ بِهِ وَأَنَّ مَا تَكْرَهُوْنَ فِي الْجَمَاعَةِ خَيْرٌ مِمَّا تُحِبُّوْنَ فِي الْفُرْقَةِ
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, তোমরা এই আনুগত্য ও জামা‘আতকে আবশ্যক করে নাও। কারণ নিশ্চয় এটাই হাবলুল্লাহ, যার ব্যাপারে আল্লাহ নির্দেশ দান করেছেন। আর জামা‘আতবদ্ধ থাকায় তোমরা যা অপসন্দ করো তা উত্তম, বিভক্তির মধ্যে যা পসন্দ করো তার থেকে।[৩] আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
إِنَّ الْجَمَاعَةَ حَبْلُ اللهِ فَاعْتَصِمُوْا ... بِهَا فَإِنَّهَا الْعُرْوَةُ الْوُثْقَى لِمَنْ دَانَا
‘নিশ্চয় জামা‘আতই হাবলুল্লাহ। সুতরাং তোমরা জামা‘আতকেই শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো’।[৪] ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
أمَرَهُم بِالْجَمَاعَةِ وَنَهَاهُمْ عَنِ التَّفْرِقَةِ وَقَدْ وَرَدَتِ الأحاديثُ الْمُتَعَدِّدَةُ بِالنَّهْيِ عَنِ التَّفَرُّقِ وَالْأَمْرِ بِالِاجْتِمَاعِ وَالِائْتِلَافِ
‘আল্লাহ তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দান করেছেন এবং বিভক্তি থেকে নিষেধ করেছেন। তাছাড়া বেশ কিছু হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, যেখানে বিভক্ত হতে নিষেধ করা হয়েছে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে’।[৫] ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত আয়াত উল্লেখ করে বলেন,
فَأَوْجَبَ تَعَالَى عَلَيْنَا التَّمَسُّكَ بِكِتَابِهِ وَسُنَّةِ نَبِيِّهِ وَالرُّجُوعَ إِلَيْهِمَا عِنْدَ الِاخْتِلَافِ، وَأَمَرَنَا بِالِاجْتِمَاعِ عَلَى الِاعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ اعْتِقَادًا وَعَمَلًا
‘আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা আমাদের উপর আবশ্যক করেছেন; বিশেষ করে ইখতিলাফের সময় উক্ত দুই বস্তুর দিকে ফিরে যাওয়াকে। আর তিনি নির্দেশ দিয়েছেন আক্বীদা ও আমল উভয়ের ক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহকে ঐক্যবদ্ধভাবে শক্ত করে আঁকড়ে ধরতে’।[৬]
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللهَ يَرْضَى لَكُمْ ثَلَاثًا وَيَسْخَطُ لَكُمْ ثَلَاثًا يَرْضَى لَكُمْ أَنْ تَعْبُدُوْهُ وَلَا تُشْرِكُوْا بِهِ شَيْئًا وَأَنْ تَعْتَصِمُوْا بِحَبْلِ اللهِ جَمِيْعًا وَلَا تَفَرَّقُوْا وَأَنْ تُنَاصِحُوْا مَنْ وَلَّاهُ اللهُ أَمْرَكُمْ.
আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের তিনটি কাজে সন্তুষ্ট হন এবং তিনটি কাজে অসন্তুষ্ট হন। তিনি সন্তুষ্ট হন- (১) তোমরা তাঁরই ইবাদত করবে এবং তার সাথে অন্য কাউকে শরীক করবে না। (২) আল্লাহর রুজ্জুকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরবে এবং দলে দলে বিভক্ত হবে না (৩) আল্লাহ যাকে শাসন ভার দিয়েছেন তাকে নছীহত করবে’।[৭] উক্ত হাদীছ উল্লেখ করে ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
وَهَذِهِ الثَّلَاثُ تَجْمَعُ أُصُوْلَ الدِّيْنِ وَقَوَاعِدَهُ وَتَجْمَعُ الْحُقُوْقَ الَّتِيْ لِلهِ وَلِعِبَادِهِ وَتَنْتَظِمُ مَصَالِحَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
‘এই তিনটি বিষয় দ্বীনের মূলনীতি এবং কানূনগুলোকে একত্রিত করে, আল্লাহ এবং বান্দাদের হক্বসমূহ জমা করে। তাছাড়া দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণগুলোকে বিন্যাস করে’।[৮] অন্যত্র তিনি বলেন,
وَحُقُوْقُ الرَّعِيَّةِ لُزُوْمُ جَمَاعَتِهِمْ فَإِنَّ مَصْلَحَتَهُمْ لَا تَتِمُّ إلَّا بِاجْتِمَاعِهِمْ وَهُمْ لَا يَجْتَمِعُوْنَ عَلَى ضَلَالَةٍ؛ بَلْ مَصْلَحَةُ دِيْنِهِمْ وَدُنْيَاهُمْ فِي اجْتِمَاعِهِمْ وَاعْتِصَامِهِمْ بِحَبْلِ اللهِ جَمِيْعًا؛ فَهَذِهِ الْخِصَالُ تَجْمَعُ أُصُوْلَ الدِّيْنِ
‘জনগণের কর্তব্যের অন্যতম হল, তাদের জামা‘আতকে আঁকড়ে ধরা। কারণ ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া তাদের কল্যাণ সম্পন্ন হবে না। আর তারা ভ্রষ্টতার উপর একত্রিত হবে না; বরং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং হাবলুল্লাহকে আঁকড়ে ধরার মধ্যেই রয়েছে। আর এই বৈশিষ্ট্য দ্বীনের সমস্ত মূলনীতিকে একত্রিত করে’।[৯] সে জন্য রাসূল (ﷺ) তাঁর উম্মতকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ প্রদান করেছেন,
عَلَيْكُمْ بِالْجَمَاعَةِ وَإِيَّاكُمْ وَالْفُرْقَةَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ مَعَ الْوَاحِدِ وَهُوَ مِنَ الْاِثْنَيْنِ أَبْعَدُ مَنْ أَرَادَ بُحْبُوْحَةَ الْجَنَّةِ فَلْيَلْزَمِ الْجَمَاعَةَ
‘তোমাদের উপর আবশ্যক হল, জামা‘আতবদ্ধ থাকা এবং বিচ্ছিন্নতা থেকে দূরে অবস্থান করা। কারণ শয়তান একজনের সাথে থাকে, আর দুইজন থেকে বহুদূরে থাকে। যে ব্যক্তি জান্নাতের মাঝে অবস্থান করতে চায়, সে যেন ঐক্যকে আঁকড়ে ধরে থাকে’।[১০] অন্য হাদীছে এসেছে, যারা ঐক্যবদ্ধভাবে জীবন যাপন করবে তারাই কেবল জান্নাতে প্রবেশ করবে। যেমন রাসূল (ﷺ) বলেন,
أَلَا إِنَّ مَنْ قَبْلَكُمْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ افْتَرَقُوْا عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِيْنَ مِلَّةً وَإِنَّ هَذِهِ الْمِلَّةَ سَتَفْتَرِقُ عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِيْنَ ثِنْتَانِ وَسَبْعُوْنَ فِى النَّارِ وَوَاحِدَةٌ فِى الْجَنَّةِ وَهِىَ الْجَمَاعَةُ
‘সাবধান! তোমাদের পূর্বে আহলে কিতাব বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে এবং এই উম্মত অচিরেই তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে। এর মধ্যে বাহাত্তর দল জাহান্নামে যাবে এবং একটি জান্নাতে যাবে। আর সেটাই হল জামা‘আতবদ্ধ কাফেলা’।[১১] রাসূল (ﷺ) অন্যত্র বলেছেন,
لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِّنْ أُمَّتِيْ ظَاهِرِيْنَ عَلَى الْحَقِّ لَا يَضُرُّهُمْ مَّنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللهِ وَهُمْ كَذَلِكَ
‘চিরদিন আমার উম্মতের মধ্যে একটি দল হক্বের উপরে বিজয়ী থাকবে। বিরোধীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। এমতাবস্থায় ক্বিয়ামত এসে যাবে, অথচ তারা ঐভাবেই থাকবে’।[১২] বুঝা যাচ্ছে যে, ঐক্যবদ্ধ থাকলে আল্লাহ সবসময় বিজয়ী অবস্থায় থাকবে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেন,
ثَلَاثٌ لَا يُغِلُّ عَلَيْهِنَّ قَلْبُ مُسْلِمٍ إِخْلَاصُ العَمَلِ لِلهِ، وَمُنَاصَحَةُ أَئِمَّةِ الْمُسْلِمِيْنَ، وَلُزُوْمُ جَمَاعَتِهِمْ، فَإِنَّ الدَّعْوَةَ تُحِيْطُ مِنْ وَرَائِهِمْ
‘মুমিনের হৃদয় তিনটি বিষয়ে খেয়ানত করতে পারে না: আল্লাহ্্র জন্য একনিষ্ঠ আমল, মুসলিমদের শাসকগোষ্ঠীকে সদুপদেশ দান এবং মুসলিম জামা‘আতকে আঁকড়ে ধরা। কারণ (ইসলামের) দা‘ওয়াত তাদের পশ্চাৎকে পরিবেষ্টন করে’।[১৩]
ঐক্যের মর্যাদা
মুসলিম ঐক্য আল্লাহর কাছে চেয়ে নিতে হয়। এটা আল্লাহ তা‘আলার বিশেষ রহমতের উপর নির্ভর করে। ঐক্য আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ। এটা মুখে মুখে প্রচার করে পাওয়া সম্ভব নয়। আগে অন্তর থেকে আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
هُوَ
الَّذِيْۤ اَيَّدَكَ بِنَصْرِهٖ وَ بِالْمُؤْمِنِيْنَۙ۰۰۶۲ وَ اَلَّفَ بَيْنَ قُلُوْبِهِمْ١ؕ لَوْ اَنْفَقْتَ مَا فِي الْاَرْضِ
جَمِيْعًا مَّاۤ اَلَّفْتَ بَيْنَ قُلُوْبِهِمْ وَ لٰكِنَّ اللّٰهَ اَلَّفَ
بَيْنَهُمْ١ؕ اِنَّهٗ عَزِيْزٌ حَكِيْمٌ
‘নিশ্চয় আল্লাহ আপনাকে তাঁর সাহায্য ও মুমিনদের দ্বারা শক্তিশালী করেছেন এবং তিনি মুমিনদের অন্তরের মধ্যে প্রীতি-ঐক্য স্থাপন করেছেন। যমীনের যাবতীয় সম্পদ ব্যয় করলেও আপনি তাদের হৃদয়ে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করতে পারতেন না; কিন্তু আল্লাহ তাদের মধ্যে হৃদ্যতা স্থাপন করে দিয়েছেন। নিঃসন্দেহে তিনি মহা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়’ (সূরা আল-আনফাল : ৬২-৬৩)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম সা‘দী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
فاجتمعوا وائتلفوا، وازدادت قوتهم بسبب اجتماعهم، ولم يكن هذا بسعي أحد، ولا بقوة غير قوة اللّه، فلو أنفقت ما في الأرض جميعا من ذهب وفضة وغيرهما لتأليفهم بعد تلك النفرة والفرقة الشديدة { مَا أَلَّفْتَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ } لأنه لا يقدر على تقليب القلوب إلا اللّه تعالى
‘ফলে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে এবং ঐক্যের কারণে তাদের শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা কারো প্রচেষ্টায় হয়নি এবং আল্লাহর শক্তি ছাড়া অন্য কারো শক্তিতেও হয়নি। সুতরাং আপনি যদি যমীনের সমস্ত স্বর্ণ-রূপা এবং এছাড়াও অন্যকিছু দ্বারা এই বিচ্ছিন্ন ও কঠিন বিভক্তির পর ভ্রাতৃত্বের জন্য খরচ করতেন তবুও পারতেন না। কারণ আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ অন্তর পরিবর্তন করতে সক্ষম নয়’।[১৪] আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
وَ اذْكُرُوْا نِعْمَتَ اللّٰهِ عَلَيْكُمْ اِذْ كُنْتُمْ اَعْدَآءً فَاَلَّفَ بَيْنَ قُلُوْبِكُمْ فَاَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهٖۤ اِخْوَانًا١ۚ وَ كُنْتُمْ عَلٰى شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَاَنْقَذَكُمْ مِّنْهَا١ؕ كَذٰلِكَ يُبَيِّنُ اللّٰهُ لَكُمْ اٰيٰتِهٖ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَ
‘তোমাদের প্রতি আল্লাহর যে নে‘মত রয়েছে তা স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে, তখন তিনিই তোমাদের অন্তরে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেছিলেন, তারপর তাঁর দয়ায় তোমরা পরস্পরে ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ হলে। তাছাড়া তোমরা ছিলে অগ্নিকুণ্ডের অতি নিকটে। তিনিই তোমাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করেছেন; এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বীয় নিদর্শনাবলী ব্যক্ত করেন যেন তোমরা সুপথ প্রাপ্ত হও’ (সূরা আলে ইমরান : ১০৩)। রাসূল (ﷺ) বলেন,
يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ أَلَمْ أَجِدْكُمْ ضُلَّالًا فَهَدَاكُمُ اللهُ بِىْ وَكُنْتُمْ مُتَفَرِّقِيْنَ فَأَلَّفَكُمُ اللهُ بِىْ وَعَالَةً فَأَغْنَاكُمُ اللهُ بِىْ
‘হে আনছারদের দল! আমি কি তোমাদের পথভ্রষ্ট অবস্থায় পাইনি? অতঃপর আমার মাধ্যমে তোমাদেরকে আল্লাহ হেদায়াত দিয়েছেন। তোমরা ছিলে দলে দলে বিভক্ত, অতঃপর আমার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে আল্লাহ ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তোমরা ছিলে দরিদ্র, তারপর আল্লাহ তোমাদের প্রাচুর্য দান করেছেন’।[১৫]
(ক) হেদায়াতের নিশ্চয়তা
সালাফদের মানহাজের আলোকে জামা‘আতবদ্ধ থাকলে ছিরাতে মুস্তাক্বীমে পরিচালিত হওয়া এবং হেদায়াত প্রাপ্তির দাবী নিশ্চত হয়, পথভ্রষ্ট হওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না; বরং আল্লাহর রহমত ও তাঁর সাহায্যের বেষ্টনীর মধ্যে জীবনযাপন করা যায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَ مَنْ يَّعْتَصِمْ بِاللّٰهِ فَقَدْ هُدِيَ اِلٰى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيْمٍؒ
‘আর যে কেউ আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে, তবে নিশ্চয় সে সরল পথে পরিচালিত হবে’ (সূরা আলে ইমরান : ১০১)। এর অর্থ হল,
مَنْ يَّتَوَكَّلْ عَلَى اللهِ وَيَسْتَمْسِكْ بِالْقُرْآنِ وَالسُّنَّةِ فَقَدْ وُفِّقَ لِطَرِيْقٍ وَاضِحٍ، وَمِنْهَاجٍ مُسْتَقِيْمٍ
‘যে আল্লাহর উপর ভরসা করবে এবং কুরআন ও সুন্নাহ্কে আঁকড়ে ধরবে, তাকে দিপ্তীমান রাস্তা এবং সঠিক মানহাজের দিকে ধাবিত হওয়ার জন্য সহায়তা প্রদান করা হবে’।[১৬] আল্লামা সা‘দী বলেন,
وَهَذَا فِيْهِ الْحَثُّ عَلَى الْاِعْتِصَامِ بِهِ، وَأَنَّهُ السَّبِيْلُ إِلَى السَّلَامَةِ وَالْهِدَايَةِ
‘এতে কুরআন-সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার প্রতি উৎসাহ রয়েছে। আর নিশ্চয় এটা নিরাপত্তা ও হেদায়াতের রাস্তা’।[১৭] ইমাম ইবনু কাছীর বলেন,
فَالِاعْتِصَامُ بِاللهِ وَالتَّوَكُّلُ عَلَيْهِ هُوَ العُمْدة فِي الْهِدَايَةِ، والعُدَّةُ فِيْ مُبَاعَدَةِ الغَواية، وَالْوَسِيلَةُ إِلَى الرَّشَادِ، وَطَرِيْقِ السَّدَادِ، وَحُصُوْلِ الْمُرَادِ
‘আল্লাহকে আঁকড়ে ধরা এবং তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করা হল, হেদায়াতের মধ্যে খুঁটি স্থাপন করা, ভ্রষ্টতা থেকে বহুদূরে অবস্থান করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা, সততার অসীলাহ হওয়া, সঠিক রাস্তা পাওয়া এবং অভীষ্ট লক্ষ্যে উত্তীর্ণ হওয়া বুঝায়’।[১৮] ইমাম ত্বাবারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
فَقَدْ وُفِّقَ لِطَرِيْقٍ وَاضِحٍ، وَمُحَجَّةٍ مُسْتَقِيْمَةٍ غَيْرُ مَعَوَجَّةٍ، فَيَسْتَقِيْمُ بِهِ إِلَى رِضَى اللهِ، وَإِلَى النَّجَاةِ مِنْ عَذَابِ اللهِ وَالْفَوْزِ بِجَنَّتِهِ
‘উজ্জ্বল রাস্তা এবং বক্রতাহীন সোজা গন্তব্যের দিকে তাকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এর দ্বারা তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি, তাঁর শাস্তি থেকে মুক্তি এবং তাঁর জান্নাতে প্রবেশের সফলতার পথে অটল থাকবেন’।[১৯] এ জন্য আল্লাহ তা‘আলা তাদের পুরস্কার সম্পর্কে বলেন,
فَاَمَّا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا بِاللّٰهِ وَ اعْتَصَمُوْا بِهٖ فَسَيُدْخِلُهُمْ۠ فِيْ رَحْمَةٍ مِّنْهُ وَ فَضْلٍ١ۙ وَّ يَهْدِيْهِمْ اِلَيْهِ صِرَاطًا مُّسْتَقِيْمًاؕ
‘অতঃপর যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং তাঁকে সুদৃঢ় রূপে ধারণ করেছে, সত্বর তিনি তাদেরকে স্বীয় রহমত ও কল্যাণের মধ্যে প্রবেশ করাবেন এবং স্বীয় সরল পথে পথ-প্রদর্শন করবেন’ (সূরা আন-নিসা : ১৭৫)। ছিরাতে মুস্তাক্বীম-এর পরিচয় ব্যক্ত করতে গিয়ে ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
وَإِنَّمَا الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ صِرَاطُ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ مِنْ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ هِيَ سَبِيلُ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ ﷺ وَسَبِيلُ خُلَفَائِهِ وَأَصْحَابِهِ وَمَنْ سَلَكَ سَبِيلَهُمْ
‘মূলত ছিরাতে মুস্তাক্বীম হল, নবী, ছিদ্দীক্ব, শহীদ ও সৎ বান্দাগণের রাস্তা, যাদের উপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন। আর সেটাই আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ﷺ), তাঁর খলীফাগণ, তাঁর ছাহাবীগণ এবং তাঁদের রাস্তায় যারা পরিচালিত হন তাঁদের রাস্তা’।[২০]
(খ) আল্লাহর সাহায্য ও রহমতের বেষ্টনীর মধ্যে অবস্থান করা
ঐক্যবদ্ধ জীবনযাপন করলে আল্লাহর সাহায্য ও রহমত অবিরত ধারায় নাযিল হতে থাকে। যাবতীয় ক্ষতি, ভীতি, শঙ্কা ও বিশৃঙ্খলা থেকে আল্লাহ রক্ষা করেন। সার্বিকভাবে আল্লাহ নিরাপত্তা দান করেন। রাসূল (ﷺ) বলেন,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَدُ اللهِ مَعَ الْجَمَاعَةِ
ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, জামা‘আতের সাথে আল্লাহর হাত রয়েছে।[২১] আল্লামা মুহাম্মাদ তাহের পাট্টানী (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় বলেন,
أَيْ سَكِيْنَتُهُ وَرَحْمَتُهُ مَعَ الْمُتَّفِقِيْنَ وَهُمْ بَعِيْدَةٌ مِنْ الْخَوْفِ وَالْأَذَى وَالِاضْطِرَابِ فَإِذَا تَفَرَّقُوْا زَالَ السَّكِيْنَةُ وَأُوْقِعَ بَأْسُهُمْ بَيْنَهُمْ وَفَسَدَ الْأَحْوَالُ.ৎ
‘অর্থাৎ তাঁর প্রশান্তি ও রহমত ঐক্যবদ্ধ জীবন যাপনকারীদের সাথে থাকে। তারা ভীতি, ক্ষতি ও বিশৃঙ্খলা থেকে বহু দূরে অবস্থান করে। আর যখন তারা বিভক্ত হয়ে যায়, তখন প্রশান্তি চলে যায়, তাদের মাঝে সঙ্কট তৈরি হয় এবং সার্বিক অবস্থা বিপর্যন্ত হয়’।[২২] ইবনু আছীর আল-জাযারী বলেন,
أَيْ أَنَّ الْجَمَاعَةَ الْمُتَّفِقَةَ مِنْ أَهْلِ الْإِسْلَامِ فِي كَنَفِ اللَّهِ وَوِقَايَتُهُ فَوْقَهُمْ وَهُمْ بَعِيدٌ مِنْ الْأَذَى وَالْخَوْفِ, فَأَقِيمُوا بَيْنَ ظَهْرَانِيهِمْ
‘অর্থাৎ জামা‘আতবদ্ধ জীবন যাপনকারী মুসলিমরা আল্লাহর তত্ত্বাবধানে থাকে, তাদের উপর আল্লাহর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকে। তারা বিভিন্ন ক্ষতি ও ভীতি থেকে বহু দূরে অবস্থান করে। অতএব তোমরা তাদের মাঝে অবস্থান করো’।[২৩] এর ব্যাখ্যায় সালাফরা বলেন,
وقد اتفق أهل السنة والجماعة على أن المراد بذلك هو رعاية الله لهم، وعنايته بهم، وأنهم في كنفه وحفظه
‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, এর উদ্দেশ্য হল- তাদের জন্য আল্লাহর নিরাপত্তা এবং তাঁর সাহায্য জারি থাকে। আর তারা আল্লাহর নিরাপত্তা ও সংরক্ষণে অবস্থান করে’। অন্য হাদীছে এসেছে, রাসূল (ﷺ) বলেছেন,
وَيَدُ اللهِ عَلَى الْجَمَاعَةِ هَكَذَا، فَعَلَيْكُمْ بِسَوَادِ الْأَعْظَمِ، فَإِنَّهُ مَنْ شَذَّ شَذَّ فِي النَّارِ
‘জামা‘আতের উপর আল্লাহর হাত রয়েছে। সুতরাং তোমাদের উপর আবশ্যক হল, সর্ববৃহৎ জামা‘আতকে আঁকড়ে ধরে থাকা। নিশ্চয় যে ব্যক্তি বিচ্ছিন্ন হল সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হল’।[২৪] ইমাম ওবাইদুল্লাহ মুবারকপুরী বলেন,
المراد "بالسواد الأعظم من كان على ما عليه رسول الله ﷺ وأصحابه من أهل الحديث، وهم الطائفة المنصورون، الظاهرون على الحق، المعظمون عند الله، المذكورون في قوله: (لاتزال طائفة من أمتي) الحديث
‘সর্ববৃহৎ জামা‘আত দ্বারা উদ্দেশ্য হল, রাসূল (ﷺ) এবং ছাহাবীদের মধ্যে যারা আহলুল হাদীছ তাদের পথে যারা পরিচালিত হয়। তারা হলেন, বিজয়ী কাফেলা, হক্বের উপর প্রতিষ্ঠিত দল, আল্লাহর নিকট সম্মানিত। রাসূল (ﷺ)-এর বক্তব্যে যা উল্লিখিত হয়েছে- ‘আমার উম্মতের মাঝে সর্বদা একটি কাফেলা থাকবে...’।[২৫] ড. মাহমূদ বিন আহমাদ আদ-দুসরী উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় বলেন,
فيد الله مع الجماعة، ويد الله على الجماعة، ينصرهم، ويؤيدهم، ويسددهم، وهو معهم معية خاصة: معية النصر والتأييد؛ متى ما كانوا مجتمعين على الحق، مجتمعين على طاعة الله، وطاعة رسوله ﷺ
‘জামা‘আতের সাথে বা জামা‘আতের উপরে আল্লাহর হাত আছে বলতে, আল্লাহ তা‘আলা তাদের সাহায্য করেন, তাদের শক্তিশালী করেন এবং তাদেরকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেন। জামা‘আতবদ্ধ মানুষের সাথে আল্লাহ তা‘আলা বিশেষ সান্নিধ্যে থাকেন। সেটা হল- সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতার সান্নিধ্য। যতক্ষণ তারা হক্বের উপর এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের উপর ঐক্যবদ্ধ থাকবে’। অন্য হাদীছে এসেছে,
عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْجَمَاعَةُ رَحْمَةٌ وَالْفُرْقَةُ عَذَابٌ
নু‘মান ইবনু বাশীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, জামা‘আত হল, রহমত এবং বিভক্তি হল, গযব’।[২৬] ইমাম কুরতুবী উক্ত আয়াতে ব্যাখ্যায় বলেন,
إِنَّ اللهَ تَعَالَى يَأْمُرُ بِالْأُلْفَةِ وَيَنْهَى عَنِ الْفُرْقَةَ، لِأَنَّ الْفُرْقَةَ هَلَكَةٌ، وَالْجَمَاعَةَ نَجَاةٌ
‘নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা ঐক্যের নির্দেশ দান করেছেন এবং বিভক্তি থেকে নিষেধ করেছেন। কারণ বিভক্তি হল ধ্বংস আর ঐক্য হল মুক্তি’।[২৭]
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
তথ্যসূত্র :
[১]. বিদায়াহ্ নিহায়াহ্, ৭ম খণ্ড, পৃ. ২৩১।
[২]. তাফসীরে ত্বাবারী, ৭ম খণ্ড, পৃ. ৭১।
[৩]. মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, হা/৩৮৪৯২।
[৪]. ইমাম যিয়া মাক্বদেসী, আন-নাহী ফী সাব্বিল আছহাব, পৃ. ১২০।
[৫]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ২য় খণ্ড, পৃ. ৮৯।
[৬]. তাফসীরে কুরতুবী, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১৬৪।
[৭]. আহমাদ, হা/৮৭৮৫; মুওয়াত্ত্ব মালেক, হা/৩৬৩৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৫।
[৮]. ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়াহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৮।
[৯]. ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়াহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৮-১৯।
[১০]. তিরমিযী, হা/২১৬৫, সনদ ছহীহ।
[১১]. আবূ দাঊদ, হা/৪৫৯৭, সনদ ছহীহ।
[১২]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৯২০।
[১৩]. তিরমিযী, হা/২৬৫৮; ইবনে মাজাহ, হা/৩০৫৬, সনদ ছহীহ।
[১৪]. তাফসীরে সা‘দী, পৃ. ৩২৫।
[১৫]. ছহীহ বুখারী, হা/৪৩৩০।
[১৬]. আত-তাফসীর আল-মুইয়াস্সার, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪০০।
[১৭]. তাফসীরুস সা‘দী, পৃ. ৯৭১।
[১৮]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ২য় খণ্ড, পৃ. ৮৬।
[১৯]. তাফসীরে ত্বাবারী, ৭ম খণ্ড, পৃ. ৬১।
[২০]. ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়াহ, ২৮শ খণ্ড, পৃ. ৩৯৫।
[২১]. তিরমিযী, হা/২১৬৬, সনদ ছহীহ।
[২২]. মাজমাঊ বিহারিল আনওয়ার ৫/১৯২ পৃ.; মির‘আতুল মাফাতীহ ১/৪৮০ পৃ., হা/১৭৪-এর ব্যাখ্যা দ্র.।
[২৩]. আন-নিহায়া ফী গারীবিল হাদীছ ওয়াল আছার, ৫/২৯৩ পৃ.।
[২৪]. হাকেম হা/৩৯২; আস-সুন্নাহ ইবনু আবী আছেম হা/৮০; সনদ হাসান, সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৩৩১।
[২৫]. মির‘আতুল মাফাতীহ ১/৪৮০ পৃ., হা/১৭৪-এর ব্যাখ্যা দ্র.।
[২৬]. আহমাদ হা/১৯৩৭০, সনদ ছহীহ।
[২৭]. তাফসীরে কুরতুবী ৪/১৫৯ পৃ.।
প্রসঙ্গসমূহ »:
সংগঠন