ফাসিক্বের পরিচয় ও পরিণাম
-আবূ মাহদী মামুন বিন আব্দুল্লাহ *
ভূমিকা
ইসলামে ঈমান, ন্যায়পরায়ণতা ও সৎকর্মের উপর অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর আদেশ মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয। কিন্তু যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর বিধান অমান্য করে ও প্রকাশ্যে গুনাহের কাজে লিপ্ত থাকে, সে মূলত ফাসিক্ব। ইসলামের দৃষ্টিতে ফাসিক্ব হওয়া একটি ভয়াবহ অবস্থা, যা ব্যক্তির ঈমান, সমাজ এবং পরকালের পরিণতির উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। নিচে ফাসিক্বের পরিচয়, হুকুম, বৈশিষ্ট্য ও তার পরিণতি সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হল।
ফাসিক্বের পরিচয়
ফাসিক্ব (الفاسق) শব্দটি আরবী “فسق” (ফিসক্ব) মূলধাতু থেকে উদ্ভূত। যার অর্থ হল সীমা অতিক্রম করা, সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া, আল্লাহর আদেশ অমান্য করা এবং গুনাহে লিপ্ত হওয়া। উদাহরণস্বরূপ, আরবী ভাষায় যখন একটি খেজুরের বীজ তার খোলস (আবরণ) থেকে বেরিয়ে আসে, তখন সেটাকে “فَسَقَتِ التَّمْرَةُ” বলা হয়। অনুরূপভাবে, যখন কোনো ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ-নিষেধ লঙ্ঘন করে, তখন তাকে ‘ফাসিক্ব’ বলা হয়।
শরী‘আতের পরিভাষায় ফাসিক্ব বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যে আল্লাহ তা‘আলার বিধানসমূহ ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করে এবং প্রকাশ্যে গুনাহের কাজ করে। ইবনে মানজুর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ফাসিক্ব হল আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘন করা এবং তাঁর আনুগত্য থেকে বেরিয়ে যাওয়া’।[১] রাগিব আল-আসফাহানি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ফাসিক্ব হল সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর আদেশ অমান্য করে’।[২]
ফাসিক্বের প্রকারভেদ
ফাসিক্ব প্রধানত দু’ প্রকার। যথা-
১. আক্বীদাগত ফাসিক্ব (الفاسق في العقيدة) বা বড় ফাসিক
যে আল্লাহর আনুগত্য থেকে বের হয়ে কুফরীতে লিপ্ত হয়েছে।[৩] এটি এমন ফাসিক্ব, যা ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। যেমন দ্বীনের অপরিহার্য কোনো বিষয় অস্বীকার করা, বিশ্বাসগত মুনাফিক্বী আচরণ এবং কুফরী ও বিদ‘আতী বিশ্বাস লালন করা অর্থাৎ যারা বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণের ভান করে কিন্তু অন্তরে কুফর লালন করে ইত্যাদি। আল্লাহ বলেন, اِنَّ الۡمُنٰفِقِیۡنَ ہُمُ الۡفٰسِقُوۡنَ ‘নিশ্চয়ই মুনাফিক্বরাই ফাসিক্ব (সূরা আত-তাওবা : ৬৭)।
বড় ফাসিক্বের হুকুম
(ক) এই ফাসিক্ব মুসলিম নয়, বরং কাফের বা মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) হিসাবে গণ্য হবে।
(খ) ইসলামী শরী‘আত অনুযায়ী, তার ইসলামী অধিকার যেমন মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন, মুসলমানদের জানাযা, মুসলমান উত্তরাধিকারীদের সম্পদ পাওয়া ইত্যাদি বাতিল হয়ে যাবে।
(গ) এই ফাসিক্বের সঙ্গে মুসলমানদের বৈবাহিক সম্পর্ক টিকে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
مَنۡ کَفَرَ بِاللّٰہِ مِنۡۢ بَعۡدِ اِیۡمَانِہٖۤ اِلَّا مَنۡ اُکۡرِہَ وَ قَلۡبُہٗ مُطۡمَئِنٌّۢ بِالۡاِیۡمَانِ وَ لٰکِنۡ مَّنۡ شَرَحَ بِالۡکُفۡرِ صَدۡرًا فَعَلَیۡہِمۡ غَضَبٌ مِّنَ اللّٰہِ ۚ وَ لَہُمۡ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ
‘কেউ ঈমান আনার পর আল্লাহ তা‘আলাকে অস্বীকার করলে এবং কুফরীর জন্য হৃদয় উন্মুক্ত রাখলে তার ওপর পতিত হবে আল্লাহ তা‘আলার গযব এবং তার জন্য আছে মহাশাস্তি; তবে তার জন্য নয়, যাকে কুফরীর জন্য বাধ্য করা হয় কিন্তু তার মন ঈমানে অবিচল’ (সূরা আন-নাহল : ১০৬)।
ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, من أنكر أمراً ضرورياً من الدين، فقد كفر وارتد عن الإسلام ‘যে ব্যক্তি দ্বীনের অপরিহার্য কোনো বিষয় অস্বীকার করে, সে কাফের ও মুরতাদ হয়ে যায়’।[৪]
২. আমলগত ফাসিক্ব (الفاسق في العمل) বা ছোট ফাসিক্ব
যে বড় গুনাহ করে, যেমন মিথ্যা অপবাদ দেয়া।[৫] এটি এমন ফাসিক্ব, যা ইসলাম থেকে বের করে না, তবে বড় গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। যেমন মদপান করা, ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া, সূদ গ্রহণ করা ইত্যাদি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَ الَّذِیۡنَ یَرۡمُوۡنَ الۡمُحۡصَنٰتِ ثُمَّ لَمۡ یَاۡتُوۡا بِاَرۡبَعَۃِ شُہَدَآءَ فَاجۡلِدُوۡہُمۡ ثَمٰنِیۡنَ جَلۡدَۃً وَّ لَا تَقۡبَلُوۡا لَہُمۡ شَہَادَۃً اَبَدًا ۚ وَ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡفٰسِقُوۡنَ
‘আর যারা সতী নারীদের অপবাদ দেয় এবং চারজন সাক্ষী হাজির করতে পারে না, তাদের আশি বেত্রাঘাত কর এবং তাদের সাক্ষ্য কখনো গ্রহণ করো না। কারণ, তারাই ফাসিক্ব’ (সূরা আন-নূর : ৪)।
ছোট ফাসিক্বের হুকুম
(ক) এই ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে থাকবে, তবে গুনাহগার (ফাসিক্ব) হিসাবে গণ্য হবে।
(খ) ইসলামের মৌলিক বিধানগুলো যেমন জানাযা, মুসলিম উত্তরাধিকার, বিবাহ ইত্যাদি তার জন্য প্রযোজ্য থাকবে। তবে সে ইসলামী নেতৃত্ব, সাক্ষ্যগ্রহণ, ইমামতি ইত্যাদির যোগ্য নাও হতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اِنۡ جَآءَکُمۡ فَاسِقٌۢ بِنَبَاٍ فَتَبَیَّنُوۡۤا ‘যদি কোনো ফাসিক্ব ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তাহলে তা যাচাই করো’ (সূরা আল-হুজরাত : ৬)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
من وقع في الكبائر لكنه يؤمن بالله ورسوله، فهو مسلم عاصٍ، ولكن لا تُقبل شهادته ولا يُولّى في المناصب الشرعية
‘যে ব্যক্তি বড় গুনাহ করে কিন্তু ঈমান রাখে, সে গুনাহগার মুসলিম। তবে তার সাক্ষ্যগ্রহণ ও নেতৃত্ব গ্রহণযোগ্য নয়’।[৬]
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ফাসিক্ব দু’ প্রকার: বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ। বাহ্যিক ফাসিক্ব হল প্রকাশ্য পাপাচার, আর অভ্যন্তরীণ ফাসিক্ব হল অন্তরের কপটতা, হিংসা ও রিয়া। উভয় প্রকার ফাসিক্বই মানুষকে ধ্বংস করে দিতে পারে।[৭]
ফাসিক্বের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য
কুরআন ও হাদীছে ফাসিক্বদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এবং তাদের কিছু চিহ্ন বা বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে, যা দ্বারা তাদের চেনা যায়।
১. আল্লাহ ও রাসূলের আদেশ অমান্য করা। মহান আল্লাহ বলেন, وَ مَنۡ یَّعۡصِ اللّٰہَ وَ رَسُوۡلَہٗ وَ یَتَعَدَّ حُدُوۡدَہٗ یُدۡخِلۡہُ نَارًا خَالِدًا فِیۡہَا ۪ وَ لَہٗ عَذَابٌ مُّہِیۡنٌ ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করে এবং তাঁর সীমালঙ্ঘন করে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন, যেখানে সে চিরস্থায়ী হবে, এবং তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি’ (সূরা আন-নিসা : ১৪)।
২. আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিচার না করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ مَنۡ لَّمۡ یَحۡکُمۡ بِمَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡفٰسِقُوۡنَ ‘যারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই ফাসিক্ব’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৪৭)।
৩. সমাজে ফিতনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَ اِذَا قِیۡلَ لَہُمۡ لَا تُفۡسِدُوۡا فِی الۡاَرۡضِ ۙ قَالُوۡۤا اِنَّمَا نَحۡنُ مُصۡلِحُوۡنَ . اَلَاۤ اِنَّہُمۡ ہُمُ الۡمُفۡسِدُوۡنَ وَ لٰکِنۡ لَّا یَشۡعُرُوۡنَ
‘যখন তাদের বলা হয়, তোমরা পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো শুধু সংশোধনকারী। জেনে রাখো, নিশ্চয় তারাই বিপর্যয় সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা অনুভব করে না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১১-১২)।
৪. সত্য গোপন করা ও মিথ্যা বলা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اِنَّمَا یَفۡتَرِی الۡکَذِبَ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِاٰیٰتِ اللّٰہِ ۚ وَ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡکٰذِبُوۡنَ ‘যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে ঈমান আনে না, তারাই মিথ্যা উদ্ভাবন করে এবং তারাই মিথ্যাবাদী’ (সূরা আন-নাহল : ১০৫)।
৫. হারামকে হালাল মনে করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَ لَا تَقُوۡلُوۡا لِمَا تَصِفُ اَلۡسِنَتُکُمُ الۡکَذِبَ ہٰذَا حَلٰلٌ وَّ ہٰذَا حَرَامٌ لِّتَفۡتَرُوۡا عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ ؕ اِنَّ الَّذِیۡنَ یَفۡتَرُوۡنَ عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ لَا یُفۡلِحُوۡنَ
‘তোমাদের জিহ্বা দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার প্রতি মিথ্যারোপ করে তোমরা বল না, ‘এটা হালাল এবং এটা হারাম’। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ তা‘আলা সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করবে তারা সফলকাম হবে না’ (সূরা আন-নাহল : ১১৬)।
৬. মানুষের নামে কুৎসা রটানো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ نَمَّامٌ ‘যে ব্যক্তি পরনিন্দা করে (নামীমাহ করে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না’।[৮]
৭. হারাম ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত থাকা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَّ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ ‘আমার উম্মতের মধ্যে কিছু লোক থাকবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে’।[৯]
৮. অন্যায়ভাবে মানুষকে কষ্ট দেয়া এবং যুলুম করা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ ‘মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার হাত ও মুখের দ্বারা অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে’।[১০]
এ ছাড়া আল্লাহর সাথে শিরক করা, চুরি করা, ধোঁকা দেয়া, সুদ আদান-প্রদান, ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতি, অন্যায়ভাবে হত্যা করা, ছালাত, ছিয়াম, যাকাত ইত্যাদি ফরয ইবাদত পরিত্যাগ করা সহ আরো অনেক ফাসিক্বী কাজ রয়েছে, যে কাজগুলো করলে বড় ধরনের গুনাহ হবে; এমনকি ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফাসিক্বের পরিণতি
ফাসিক্বের পরিণতি সম্পর্কে কুরআন ও হাদীছে কঠোর সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। যারা আল্লাহর বিধান অমান্য করে এবং পাপাচারে লিপ্ত থাকে, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে।
১. ফাসিক্বরা পথভ্রষ্ট, তারা কখনো হেদায়েত পাবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَ اللّٰہُ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الۡفٰسِقِیۡنَ
‘আল্লাহ ফাসিক্বদের সঠিক পথ দেখান না’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ১০৮)।
২. ফাসিক্বরা প্রকৃতপক্ষে ঈমানদার নয়, বরং মুনাফিক্ব। আল্লাহ তা’আলা বলেন, اِنَّ الۡمُنٰفِقِیۡنَ ہُمُ الۡفٰسِقُوۡنَ ‘নিশ্চয়ই মুনাফিক্বরাই ফাসিক্ব (সূরা আত-তাওবা : ৬৭)।
৩. ফাসিক্বরা আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত, তাঁরা কখনো আল্লাহর প্রিয় হতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ اللّٰہُ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الۡفٰسِقِیۡنَ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ফাসিক্বদের ভালোবাসেন না’ (সূরা আছ-ছফ : ৫)।
৪. ফাসিক্বদের দু’আ কবুল হয় না; কবুল করা হয় শুধু মুত্তাক্বীদের দু’আ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اِنَّمَا یَتَقَبَّلُ اللّٰہُ مِنَ الۡمُتَّقِیۡنَ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ শুধু মুত্তাক্বীদের দু‘আ কবুল করেন’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২৭)।
৫. ফাসিক্বদের জন্য আল্লাহর অভিশাপ। মহান আল্লাহ বলেন, فَبِمَا نَقۡضِہِمۡ مِّیۡثَاقَہُمۡ لَعَنّٰہُمۡ وَ جَعَلۡنَا قُلُوۡبَہُمۡ قٰسِیَۃً ‘অতএব, তাদের প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের কারণে আমি তাদেরকে লানত করেছি এবং তাদের হৃদয় কঠিন করে দিয়েছি’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ১৩)।
৬. ফাসিক্বদেরকে কবরের কঠিন শাস্তি দেয়া হবে এবং ক্বিয়ামতের দিনে অপমানিত হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
یَّوۡمَ تَبۡیَضُّ وُجُوۡہٌ وَّ تَسۡوَدُّ وُجُوۡہٌ ۚ فَاَمَّا الَّذِیۡنَ اسۡوَدَّتۡ وُجُوۡہُہُمۡ ۟ اَکَفَرۡتُمۡ بَعۡدَ اِیۡمَانِکُمۡ فَذُوۡقُوا الۡعَذَابَ بِمَا کُنۡتُمۡ تَکۡفُرُوۡنَ
‘সেদিন কিছু মুখ উজ্জ্বল হবে এবং কিছু মুখ কালো হয়ে যাবে। যাদের মুখ কালো হবে, তাদের বলা হবে, তোমরা কি ঈমান আনার পর কুফরী করেছিলে? তাহলে এখন তোমরা কুফরীর কারণে শাস্তি আস্বাদন কর’ (সূরা আলে-‘ইমরান : ১০৬)।
৮. ফাসিক্বরা জাহান্নামের অধিবাসী হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَ اَمَّا الَّذِیۡنَ فَسَقُوۡا فَمَاۡوٰىہُمُ النَّارُ ؕ کُلَّمَاۤ اَرَادُوۡۤا اَنۡ یَّخۡرُجُوۡا مِنۡہَاۤ اُعِیۡدُوۡا فِیۡہَا وَ قِیۡلَ لَہُمۡ ذُوۡقُوۡا عَذَابَ النَّارِ الَّذِیۡ کُنۡتُمۡ بِہٖ تُکَذِّبُوۡنَ
‘আর যারা ফাসিক্ব, তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। যখনই তারা সেখান থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদের আবার তাতে ফিরিয়ে দেয়া হবে এবং বলা হবে, তোমরা জাহান্নামের শাস্তি আস্বাদন কর, যা তোমরা মিথ্যা মনে করতে’ (সূরা আস-সাজদাহ : ২০)।
উপসংহার
উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে প্রতিয়মান হয় যে, ফাসিক্ব ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ অমান্যকারী, সত্যকে লুকানো, মিথ্যাচারী ও সমাজে ফিতনা সৃষ্টিকারী হয়ে থাকে। তাদের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। আল্লাহ তাদের অভিশাপ দেন, তাদের পথভ্রষ্ট করেন এবং শেষ পর্যন্ত জাহান্নামে নিক্ষেপ করেন। আমাদের উচিত নিজেদের আমল যাচাই করা এবং যে কোনো ধরনের ফাসিক্বী থেকে বিরত থাকা। আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে জীবন গঠন করা, সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকা এবং বড় গুনাহ থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও সঠিক পথে রত থাকা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ফাসিক্বী থেকে রক্ষা করুন এবং সৎ পথে চলার তাওফীক্ব দিন-আমীন!!
* দাওরায়ে হাদীছ, মাদরাসাতুল হাদীস, নাজির বাজার, ঢাকা। অধ্যয়নরত, আক্বীদা ও দাওয়াহ বিভাগ, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব।
তথ্যসূত্র :
[১]. লিসানুল আরব, ১০ম খণ্ড, পৃ. ৩১০।
[২]. মুফরাদাত ফি গরিবীল কুরআন, পৃ. ৩৮৪।
[৩]. তাফসীর আত-তাবারি, ১৪তম খণ্ড, পৃ. ৩১৮।
[৪]. মাজমূঊ ফাতাওয়া, ৭ম খণ্ড, পৃ. ২৮৭।
[৫]. তাফসীর ইবনে কাছীর, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ২৫।
[৬]. আল-মাজমূঊ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ২২০।
[৭]. মাদারিজুস সালিকিন, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৪৫।
[৮]. ছহীহ মুসলিম, হা/১০৫।
[৯]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৫৯০।
[১০]. ছহীহ বুখারী, হা/১০।