বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কারে আলিমগণের গৃহীত মূলনীতিসমূহ: একটি পর্যালোচনা
- ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
(৪র্থ কিস্তি)
৩. ইসলামের সৌন্দর্য ও মৌলিকত্বের গভীর অনুশীলন (Deep practice of the beauty and originality of Islam)
ইসলাম সৌন্দর্যময় পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। এ ইসলামে রয়েছে সুস্থ, সুন্দর, যুগোপযোগী ও প্রগতিশীল ব্যবস্থা। যেখানে নেই কোন কুসংস্কার, মূর্তিপূজা, বস্তুপূজা, হিংসা-বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা, যুলুম-নির্যাতন-নিষ্পেষণের মত জঘন্য অসামাজিক কর্মকাণ্ড। বরং ইসলাম সম্পূর্ণরূপে সকল প্রকার অন্যায়-অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সকল ধরনের যুলুম-নির্যাতন মূলোৎপাটন এবং সকল প্রকার উন্নতি ও উৎকর্ষ বিধানে উৎসাহিত করার মূলনীতির উপর সুপ্রতিষ্ঠিত।[১] ইসলাম এমন কর্মতৎপরতার বাস্তব উদাহরণ যে, এটা ব্যষ্টি ও সমষ্টি, ব্যক্তি ও সমাজ, যুক্তি ও ধারণাজ্ঞান, ‘আমল ও ‘ইবাদত, আসমান ও যমীন এবং দুনিয়া আখিরাতের মধ্যে এমন এক ভারসাম্য ও সামঞ্জস্য বিধান করেছে যে, মানব জীবনের বহুমুখী ক্ষেত্রগুলো একটি সুষমামন্বিত সৌন্দর্যে পরিণত করেছে।[২] এজন্য জনৈক ইটালিয়ান লেখক ইসলাম সম্পর্কে নিম্নোক্ত স্বীকৃতি দিয়ে বলেন,
"Islam is a religion which provided a code of life establishes the fundamentals principals of our morality on a systematic and positive base; precisely formulates mans duty to himself and other by means of rules which are capable evolutions and compatible with the widest intellectual development which gives laws a divine sanction; so, Islam deserves our profound admiration as its influence is continual and salutary on man".
‘ইসলাম এমন একটি ধর্ম, যা মানবজীবনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা প্রদান করেছে। এটি আমাদের নৈতিকতার মৌলিক নীতিসমূহকে একটি সুসংগঠিত ও ইতিবাচক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে। ইসলাম সুস্পষ্টভাবে মানুষের নিজের প্রতি ও অন্যদের প্রতি কর্তব্যসমূহ নির্ধারণ করে এমন বিধি-বিধানের মাধ্যমে, যা বিবর্তনযোগ্য এবং সর্বোচ্চ বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এই বিধানসমূহকে ইসলাম আসমানী অনুমোদনের মর্যাদা প্রদান করে। অতএব, ইসলামের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও প্রশংসা প্রাপ্য; কেননা মানুষের ওপর এর প্রভাব সর্বদা ধারাবাহিক ও কল্যাণকর’।[৩]
ইসলামী জীবনব্যবস্থার সৌন্দর্য ব্যাপকভাবে তার সকল মাসআলা, দলীল-প্রমাণ এবং নীতিমালা ও শাখা-প্রশাখায় প্রমাণিত। এছাড়াও শরী‘আতের বিধি-বিধান সংক্রান্ত জ্ঞান ও আহকামে এবং সৃষ্টিজগৎ ও সামাজিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও তা প্রমাণিত। এখানে এগুলো মূলত অধ্যয়ন ও পর্যবেক্ষণ উদ্দেশ্য নয়; বরং এখানে উদ্দেশ্য হলো, এ দ্বীনের এমন কিছু উপকারী বিষয় ও দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা, যা দ্বারা দ্বীনের অন্যান্য সৌন্দর্যের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং তা গ্রহণেচ্ছু প্রত্যেকের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।[৪] ইসলামী সৌন্দর্যের কতিপয় দিক হলো-
(ক) ঈমান বা স্বীকার করা বা স্বীকৃতি দেয়া।[৫] যার দ্বারা অন্তর পবিত্র হয় ও আত্মা পরিশুদ্ধ হয় এবং তা দ্বারা উত্তম চরিত্র ও সৎকর্মের সৌন্দর্য দৃঢ়মূল হয়।
(খ) ইসলামের আবশ্যকীয় বিধানসমূহ। অর্থাৎ ছালাত, যাকাত, ছিয়াম ও হজ্জ পরিপালন করা। কেননা ছালাত মানুষকে যাবতীয় অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে।[৬] যাকাত ধন-সম্পদকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আবিলতা ও পঙ্কিলতা থেকে হেফাযত করে।[৭] ছাওম পালন তাক্বওয়া অর্জনের শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণ।[৮] হজ্জে রয়েছে আল্লাহর প্রতি সম্মান, সর্বজনীনতা ও বিশ্বজনীনতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।[৯]
(গ) ঐক্যবদ্ধভাবে জীবন-যাপন।[১০] যার ফলে ধর্মীয় ও পার্থিব কল্যাণসমূহ বিন্যস্ত, যার দ্বারা যাবতীয় ক্ষতিকর ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ বিষয়সমূহ বিদূরিত হয়।[১১]
(ঘ) পারস্পরিক সম্প্রীতি, প্রবৃদ্ধি, অনুগ্রহ এবং উপকার সাধন।[১২]
(ঙ) স্বভাব-প্রকৃতি ও বাস্তবসম্মত জীবন-যাপনে যা প্রয়োজন তার সবগুলোই এখানে অন্তর্ভুক্ত।[১৩]
(চ) জিহাদ ও আমর বিল মা‘রূফ ওয়া নাহি ‘আনিল মুনকার।[১৪] এর মাধ্যমে ইসলাম বিরোধী এবং দা‘ওয়াত প্রত্যাখ্যানকারীদের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধ করা যায়।[১৫]
(ছ) বৈষম্যহীন সুষম অর্থনৈতিক কাঠামো।[১৬]
(জ) শরী‘আত কর্তৃক যাবতীয় পবিত্র খাদ্যদ্রব্য, পানীয়, পোশাক-পরিচ্ছদ, বিয়ে-সাদী ইত্যাদির বৈধতা।[১৭]
(ঝ) পরস্পরের মধ্যে সততা, কল্যাণ, অনুগ্রহ, ন্যায়পরায়ণতা, ন্যায়বিচার এবং যুলুম বর্জিত সকল অধিকার স্বীকৃত।[১৮]
(ঞ) উত্তরাধিকারী আইন।[১৯]
(ট) ধর্মীয়, পার্থিব, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সকল কর্মকাণ্ড পরামর্শ ভিত্তিক পরিচালনা করা ইত্যাদি।[২০]
ইসলামের সৌন্দর্য প্রকাশে নিম্নের হাদীছটি গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবী রাখে। ‘আমর ইবনু ‘আবাসাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসলাম। অতঃপর জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এ কাজে (ইসলামের দা‘ওয়াতী কাজে) আপনার সাথে প্রথম থেকে কারা আছেন? তিনি বললেন, একজন স্বাধীন ও একজন গোলাম। আমি বললাম, ‘ইসলাম’ কী? তিনি বললেন, মিষ্টি কথা ও মানুষকে খাদ্যদান। আমি বললাম, ‘ঈমান’ কী? তিনি বললেন, ধৈর্যধারণ করা ও দানশীলতা। রাবী বলেন, আমি বললাম, কোন্ ইসলাম সর্বোত্তম? তিনি বললেন, যার যবান ও হাত হতে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে। আমি বললাম, কোন্ ঈমান সর্বোত্তম? তিনি বললেন, সচ্চরিত্রবান হওয়া। রাবী বলেন, আমি বললাম, কোন্ ছালাত সর্বোত্তম? তিনি বললেন, দীর্ঘ ক্বিয়াম অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে ছালাত আদায় করা। রাবী বলেন, আমি বললাম, কোন্ হিজরত সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ঐসব বিষয় বর্জন করা, যা তোমার পালনকর্তা অপসন্দ করেন। রাবী বলেন, আমি বললাম, কোন্ জিহাদ সর্বোত্তম? তিনি বললেন, যার ঘোড়া হত্যা করা হয়েছে ও নিজের রক্ত প্রবাহিত হয়েছে। অর্থাৎ যে ব্যক্তির ঘোড়া নিহত হয়েছে এবং সে নিজে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়েছে। রাবী বলেন, আমি বলালম, ‘ইবাদতের জন্য কোন্ সময়টা উত্তম? তিনি বললেন, শেষ রাতের মধ্যভাগ’।[২১]
ইসলামের সৌন্দর্যের অন্যতম নিদর্শন হলো আধ্যাত্মিকতা ও তাক্বওয়া। যার অলৌকিক শক্তি আরবের বর্বর ও কট্টর বেদুইনদেরকে একটি অখণ্ড জাতিতে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছিল। পশুত্বের স্তর থেকে মুক্ত করে তাদেরকে উন্নত মানসিকতা ও মহান মূল্যবোধ উপলব্ধি করতে শিখিয়েছিল। এমনকি এ ইসলামই তাদেরকে অন্যদের পথপ্রদর্শক এবং আল্লাহর দ্বীনের আহ্বায়ক হওয়ার অনন্য গৌরবও দান করেছিল।[২২] এজন্য আধ্যাত্মিক ও তাক্বওয়ার মূল্যবোধ মানবজাতির অমূল্য সম্পদ। মানব জীবনে এর প্রভাব যে কত গভীরে প্রোথিত ও সুদূরপ্রসারী তা ভাষায় প্রকাশ করা দুঃসাধ্য। সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আধ্যাত্মিকতা ও তাক্বওয়ার প্রভাব অন্যান্য যে কোন ব্যবস্থার প্রভাব অপেক্ষা অধিক কার্যকরী। তাই বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কারের জন্য এর প্রতি যথাযথ মনোযোগ দিয়ে উহার সুষ্ঠু বিন্যাস করা যরূরী। কেননা যখন আধ্যাত্মিকতা ও তাক্বওয়ার মূল্যায়ন করা হবে, তখন শরী‘আতের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হবে। আর যখন আস্থা তৈরি হবে তখন শরী‘আতের বিধানাবলী প্রতিপালনে তারা উদ্বুদ্ধ হবে। এছাড়া ধর্মীয় চেতনাহীন কোন জাতি উন্নতি ও অগ্রগতির শীর্ষে বেশিদিন অবস্থান করতে পারে না। মুসলিমদের ইতিহাসে আধ্যাত্মিকতা ও তাক্বওয়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে। যেমন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর ইন্তিকালের পরপরই একশ্রেণীর মানুষ ফরয ‘ইবাদত যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তাদের প্রচণ্ড বিদ্রোহ যখন ইসলামের উদীয়মান শক্তিকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়, তখন ইসলামের প্রথম খলীফা আবূ বাকর ছিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করেন। তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।[২৩] অথচ ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সহ অন্য বিজ্ঞ ছাহাবীগণ যুদ্ধ করার পক্ষাবলম্বন না করলেও আবূ বাকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) অবিচল থেকে সুদৃঢ় প্রত্যয় ও অভাবনীয় বীরত্বের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন। সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদসংকুল সংগ্রামে তার এই প্রত্যয় ও দৃঢ়তার মূলে কোন্ বিষয়টি সক্রিয় ছিল? সেটা ইসলামের সঠিক বুঝ ও নীতিবোধের প্রেরণা ছাড়া কিছুই নয়। এজন্যই ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছিলেন,
وَاللهِ لَقَدْ رَجَحَ إِيْمَانُ أَبِيْ بَكْرٍ بِإِيْمَانِ هٰذِهِ الْأُمَّةِ جَمِيْعًا فِيْ قِتَالِ أَهْلِ الرِّدَّةِ
‘আল্লাহর শপথ! মুরতাদদের বিরুদ্ধে আবূ বাকরের জিহাদের সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, এ উম্মাহর সকলের ঈমানকে যদি একত্র করা হয়, তবুও আবূ বাকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ঈমান সবার চেয়ে ভারী হবে’।[২৪] আধ্যাত্মিকতার প্রশিক্ষণ গ্রহণের ব্যাপারে ‘উমার ফারুক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আজারবাইজানে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের এ মর্মে পত্র লিখেছিলেন যে,
إِيَّاكُم والتنعم وزي الْعَجم وَعَلَيْكُم بالشمس فَإِنَّهَا حمام الْعَرَب وَتَمَعْدَدُوا وَاخْشَوْشنُوا وَاخْلَوْلقُوا
‘অলস, আরামপ্রিয়তা জীবন ও অনারবীয় পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে সবসময় দূরে থাকবে, রৌদ্রে বসা ও পথচলার অভ্যাস বজায় রাখবে; কেননা তা আরবের গোসলখানা। সহনশীলতা, সহজসরল জীবন, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও মোটাসোটা কাপড় পরিধানে অভ্যস্ত থেকো’।[২৫] অতএব আধ্যাত্মিক উন্নতি ও তাক্বওয়া ভিত্তিক শক্তির জাগরণই বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কারে ‘আলিমগণের মূল প্রেরণা।
ইসলামের মৌলিকত্ব (The fundamentals of Islam)
ইসলামের মৌলিকত্ব হলো- এটা রব্বানী বা আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত পরম সত্য জীবন ব্যবস্থা। তাই এ মর্মে দৃঢ় বিশ্বাস করতে হবে যে, আল্লাহর নিকট অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যত বলে কিছু নেই, সবই তাঁর বর্তমান সবই তাঁর আয়ত্বাধীনে। কাজেই তাঁর নিকট অজ্ঞতা ও অসম্পূর্ণতার কোন স্থান নেই, তাঁর দেয়া বিধানেও তেমনি অসম্পূর্ণতা নেই। আল্লাহ তা‘আলা আল-কুরআনের শুরুতেই চ্যালেঞ্জ করেছেন যে, এ কিতাবের মধ্যে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।[২৬] অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীও নির্ভুল, সংরক্ষিত ও আল্লাহ প্রদত্ত বিধান।[২৭] এজন্য এতদুভয়ের মধ্যকার কোন কিছুই সংযোজ-বিয়োজন করার অধিকারও কারো নেই।[২৮] এমনকি কুরআনের সাথে আল্লাহ প্রদত্ত তাওরাতের তুলনাও আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বরদাশত করেননি।[২৯] কেননা কুরআন পূর্বাপর সকল গ্রন্থ থেকে যেমন উজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন, তেমনি এর মর্যাদাও সবার শীর্ষে।[৩০] এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনু হাযাম আন্দালুসী (৩৮৪-৪৫৬ হি.) বলেন,
فَصَحَّ أَنَّ كَلَامَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ كُلَّهُ فِىْ الدِّيْنِ وَحْىٌ مِنْ عِنْدِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ لَاشَكَّ فِىْ ذَلِكَ وَلَاخِلاَفَ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ أَهْلِ اللُّغَةِ وَالشَّرِيْعَةِ فِىْ أَنَّ كُلَّ وَحْىٍ نَزَلَ مِنْ عِنْدِ اللهِ تَعَالَى فَهُوَ ذِكْرٌ مُنَزَّلٌ فَالْوَحْىُ كُلُّهُ مَحْفُوْظٌ بِحِفْظِ اللهِ تَعَالَى لَهُ بِيَقِيْنٍ
‘সুতরাং বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হলো যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রত্যেকটি কথাই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত, যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অহী করা হয়েছে। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। আর অহীর সবকিছুই যে স্বয়ং আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, সে বিষয়ে ভাষাবিদ ও শরী‘আত অভিজ্ঞ কোন একজনের মধ্যেও মতানৈক্য নেই। আর সেটাই হলো নাযিলকৃত যিকির। সুতরাং অহীর সবকিছুই আল্লাহর বিশেষ সংরক্ষণে সংরক্ষিত’।[৩১] ইসলামের সৌন্দর্য বর্ণনা করতে গিয়ে প্রখ্যাত গবেষক ‘আব্দুর রহমান ইবনু নাসির আস-সা‘আদী (১৩০৭-১৩৭৬ হি.) বলেন, ‘ইসলামী শরী‘আত প্রত্যেক যামানা ও স্থান বা অঞ্চলের জন্য উপযুক্ত। এর সকল তথ্য সঠিক ও সত্য। পূর্বে বা সাম্প্রতিককালে এমন কোন জ্ঞানের আগমন ঘটেনি এবং ঘটাও অসম্ভব, যা তাকে খণ্ডন করতে পারে অথবা তাকে মিথ্যা প্রমাণ করতে পারে; বরং সকল প্রকার বাস্তব জ্ঞান তাকে শক্তিশালী করে ও সমর্থন প্রদান করে। অনুরূপভাবে তার সকল আদেশ ও নিষেধ ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ, তাতে কোন প্রকার যুল্ম নেই। তার যে কোন আদেশই নির্ভেজাল কল্যাণ অথবা অগ্রধিকার পাওয়ার উপযোগী; আর প্রত্যেক নিষেধই শুধু এমন বস্তু বা বিষয় থেকে, যা নির্ভেজাল অকল্যাণকর অথবা যার মধ্যে উপকারের চেয়ে ক্ষতির দিক বেশি। এ বিধান আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, যিনি প্রজ্ঞাময় প্রশংসিত’।[৩২] এছাড়া ইসলামী বিধান সর্বাধিক অভ্রান্ত এবং চূড়ান্ত।[৩৩]
তাই ইসলামের সৌন্দর্য ও মৌলিকত্বের ব্যাপারে যেমন গভীর অনুশীলন করতে হবে, তেমনি শরী‘আতের আধ্যাত্মিক বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। অন্যথা ধর্মীয় সংস্কারের সফলতা আশা করা যাবে না। কারণ ইসলামী মূল্যবোধশূন্য ধর্মহীন ব্যক্তি পশুর ন্যায়, যা সার্বিক উন্নতি ও অগ্রযাত্রার স্বপ্নিল যাত্রাকে অবশ করে দেয়। অতএব বাংলাদেশের মুসলিমদের হৃদয়রাজ্যে ঈমানের ও তাক্বওয়ার বীজ পুনরায় বপন করতে হবে, তাদের দ্বীনি জাযবা ও উৎসাহ-উদ্দীপনা পুনরায় সক্রিয় ও গতিশীল করতে হবে এবং প্রাথমিক যুগের ইসলামের দা‘ওয়াতের মূলনীতি ও কর্মপন্থা মোতাবেক মুসলিমদের ‘আক্বীদাহ-বিশ্বাসের প্রতি পুনর্বার তাবলীগ ও তালকীন করতে হবে।
এজন্য ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ের দাঈগণ যেসকল পন্থা কাজে লাগিয়েছিলেন সেগুলোকে কাজে লাগাতে হবে এবং বর্তমানে যে সমস্ত উপায়-উপকরণ ও শক্তি রয়েছে, সেগুলোকেও কাজে লাগাতে হবে। কারণ কোন রকমের সংস্কার ও সংশোধন এবং কোন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিপ্লব আধ্যাত্মিক চেতনার জাগরণ ও মানসিক প্রস্তুতি ব্যতীত সংঘটিত হয় না। এজন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো- মুসলিমদের মধ্যে সঠিক ও সহীহ-শুদ্ধ চেতনাবোধ সৃষ্টি করা। এমন চেতনা যা কোন রকমের জুলুম ও বেইনসাফি বরদাশত করে না, ধর্ম ও নৈতিকতার বিকৃতি সহ্য করে না; যা সহীহ-শুদ্ধ ও ভুল-ভ্রান্তি, অকপটতা ও কপটতা, দোস্ত-দুশমন তথা শত্রুমিত্র, শান্তিকামী ও অশান্তি সৃষ্টিকারীর মধ্যে খুব সহজেই পার্থক্য করতে পারে। অপরাধী ও অন্যায়কারী যেন তার অসন্তোষ ও ক্রোধের হাত থেকে বাঁচতে না পারে এবং অকপট ও নিষ্ঠাবান মানুষ যেন তার উপযুক্ত কদর ও স্বীকৃতি পাওয়া থেকে মাহরুম না হয়। সে যেন তার সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সমস্যা-সংকট বিষয়াদির ক্ষেত্রে একজন বুদ্ধিমান ও পূর্ণবয়স্ক মানুষের মত গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করতে পারে এবং ফয়সালা করার সামর্থ্য রাখে। যতদিন এ চেতনাবোধের উন্মেষ না ঘটবে, ততদিন কোন মুসলিম দেশ ও জাতির কর্মপ্রেরণা, কাজের সামর্থ্য ও যোগ্যতা এবং ধর্মীয় আবেগ ও মাযহাবী প্রদর্শনী খুব বেশী গুরুত্ব বহন করবে না।[৩৪]
বাংলাদেশের ‘আলিমগণও ইসলামের সৌন্দর্য ও মৌলিকত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। কেননা এদেশের মানুষ ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে পড়ার কারণে তাদের মধ্যে অসংখ্য ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড অনুপ্রবেশ করেছিল। আবার অন্যদিকে অসংখ্য দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। ফলে ‘আলিমগণ একদিকে যেমন মানুষকে ঈমান ও বিশ্বাসের দিকে দা‘ওয়াত দেন, বিভক্ত মুসলিমদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টা করেন, ইসলামী শিক্ষা-সাহিত্য ও সংস্কৃতির পুনর্জাগরণে সচেষ্ট থাকেন; অন্যদিকে তেমনি ধর্মনিরপেক্ষবাদ, পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র, স্বৈরশাসন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও প্রতারণা ইত্যাদির মত জঘন্য ইসলাম বিরোধী কর্মতৎপরতার বিরুদ্ধে জনসচেতনা সৃষ্টি করেন। যেমন,
মাওলানা হাজী শরীয়াতুল্লাহ (১১৯৬-১২৫৬ হি./১৭৮১-১৮৪০ খ্রি.)-এর আমলে বাংলায় পীর, গুরু, যোগী, পাদ্রী বিভিন্ন ধরনের আধ্যাত্মিকতার দাবিদার ব্যক্তিরা ছিলেন। অশিক্ষিত মুসলিমরা হিন্দু গুরুদের কাছে এবং অশিক্ষিত হিন্দুরা মুসলিম পীরের কাছে বায়‘আত গ্রহণ করতেন। হাজী শরীয়াতুল্লাহ ঈশ্বরের সাথে গুরুর এই সম্পর্ককে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেন এবং আল্লাহ ও মানুষের মাঝে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পীরেরা যে ভূমিকা রাখতেন তিনি তাঁর চরম নিন্দা জানান। তিনি ‘পীর-মুরীদি’র প্রচলিত পরিভাষার বিরুদ্ধে ‘উস্তাদ-শাগরিদ’ পরিভাষার প্রচলন করেন এবং ভণ্ড পীরের হাতে হাত রেখে মহিলাদের বায়‘আত গ্রহণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। বরং তিনি বায়‘আতের সময় কোন মহিলার হাত স্পর্শ করতেন না। শুধু পুরুষরা হাতে হাত রাখত। সাথে সাথে তিনি শাগরিদদের বায়‘আত গ্রহণের সময় তাদেরকে তাওবাহ গ্রহণ করাতেন। তাওবাহ গ্রহণের সময় উস্তাদ-শাগরিদ মুখোমুখি বসে বলতেন,
‘আমি তাওবা করিতেছি অতীতের সকল গোনাহ থেকে, যা জেনে শুনে অথবা ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় সম্পন্ন করেছি। আমি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করব না, কোন ধরনের কুসংস্কার ও বিদ‘আতে লিপ্ত হব না, কারো উপর জুলুম করব না। আমি আরো প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হচ্ছি যে, আমি আল্লাহর তাওহীদের বিশ্বাস দৃঢ়ভাবে ধারণ করব, আল্লাহর আদেশ নিষেধকে সাধ্যমত মান্য করব এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর হাদীছ অনুযায়ী জীবন যাপন করব’।[৩৫]
বাংলাদেশে ইসলামের মৌলিকত্ব তথা আল-কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী যখনই কোন আইন প্রণিত হয়েছে কিংবা আল-কুরআন ও সুন্নাহর মৌলিকত্বকে অস্বীকার করা হয়েছে, তখনই এদেশের অকুতোভয় ‘আলিম সমাজ তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন এবং এতদুভয়ের মৌলিকত্ব রক্ষায় জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম করেছেন। যেমন,
আইয়ুব খানের সামরিক শাসন ছিল পাকিস্তানের আদর্শিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডকে ধ্বংস করার এক সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের ফসল। ১৯৬১ সনে আইয়ুব সরকার ‘মুসলিম পারিবারিক আইন অর্ডিন্যান্স’ নামে একটি অধ্যাদেশ জারী করেন। এতে আল-কুরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট বিধানগুলোকে অগ্রাহ্য করে প্রণেতাদের স্বেচ্ছাচারকেই মুসলিম আইন বলে চালানো হয়। তখন মওলানা আবদুর রহীম ৮৬ জন বিশিষ্ট আলেমের স্বাক্ষরসহ একটি সমালোচনামূলক পুস্তিকা প্রকাশ করেন এবং সমগ্র প্রদেশে এর ব্যাপক-প্রচারের উদ্যোগ নেন।
বিষয়টি সামরিক সরকারের গোচরীভূত হলে মওলানা আবদুর রহীমকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা বিভাগের সদর দফতরে নিয়ে যায়। অতঃপর সামরিক আইন সম্পর্কে তার অভিমত লিখিত আকারে জানতে চায়। তখন তিনি গোয়েন্দা অফিসে বসেই অজস্র যুক্তি, তথ্য ও প্রমাণের উল্লেখ করে সামরিক আইন ও তাদের পারিবারিক আইনকে অবৈধ বলে রায় দিলেন। কয়েক দিন পর ডেপুটি কমিশনার প্রশ্ন করলেন, ‘আপনি কি জানেন যে, দেশে সামরিক আইন চালু রয়েছে?’ মওলানা আবদুর রহীম তৎক্ষণাৎ জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ, আমি ভালোভাবে জানি যে, দেশে সামরিক আইন চালু রয়েছে। কিন্তু আমি এও জানি যে, সমগ্র বিশ্বলোকে একটি সর্বাত্মক আইন চালু রয়েছে, যার প্রবর্তক হচ্ছেন সর্বশক্তিমান আল্লাহ’। একটু দম নিয়ে আবার তিনি বললেন, ‘তবে হ্যাঁ, আমাদের শুধু এটাই খেয়াল রাখা উচিত নয় যে, সামরিক আইন কী বলছে, বরং সর্বদা খেয়াল রাখা উচিত যে, মহান আল্লাহর আইন কী বলছে? কেননা সামরিক আইন কর্তৃপক্ষের নিকট জবাবদিহির চেয়ে আল্লাহ তা‘আলার নিকট জবাবদিহিতা অত্যন্ত কঠিন’।[৩৬]
উক্ত প্রচেষ্টা ইসলামের সৌন্দর্য ও মৌলিকত্ব সংরক্ষণের একটি প্রকৃষ্ট নিদর্শন। সুতরাং ধর্মীয় সংস্কার কার্যক্রমকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য ইসলামের সৌন্দর্য ও মৌলিকত্বের গভীর অনুশীলনের মূলনীতি গ্রহণ করা আবশ্যক।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
তথ্যসূত্র :
[১]. শায়খ ‘আব্দুর রহমান ইবন নাসির ইবন ‘আব্দিল্লাহ আস-সা‘আদী, আদ-দুররাতুল মুখতাসিরাহ ফী মাহাসিনিদ দ্বীনিল ইসলামী (রিয়াদ : আর-রিয়াসাতুল ‘আম্মাহ লিল বুহূছিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা, ৫ম সংস্করণ ১৪৩২ হি./২০১১ খ্রি.), পৃ. ৪৪।
[২]. মুহাম্মাদ কুতুব, ভ্রান্তির বেড়াজালে ইসলাম, (অনুবাদ : অধ্যক্ষ মুহাম্মাদ আবদুর রাজ্জাক) (ঢাকা : আধুনিক প্রকাশনী, ১৫শ প্রকাশ, এপ্রিল ২০১৩), পৃ. ৫৭।
[৩]. Laura Veccia Vaglieri, Apologia dell’ Islamismo (Rome : A. F. Formiggini, 1925), P- 88.
[৪]. আদ-দুররাতুল মুখতাসিরাহ ফী মাহাসিনিদ দ্বীনিল ইসলামী, পৃ. ৯-১০।
[৫]. সূরাহ আল-বাকারাহ : ১৩৬।
[৬]. সূরাহ আল-‘আনকাবূত : ৪৫।
[৭]. মুহাম্মাদ ইবন সালিহ ইবন মুহাম্মাদ আল-‘উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতি‘ ‘আলা যাদিল মুসতানকি‘, ৬ষ্ঠ খণ্ড (দারু ইবনিল জাওযী, ১ম সংস্করণ ১৪২২-১৪২৮ হি.), পৃ. ৭।
[৮]. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, পৃ. ১১৯৯, হাদীছ নং-৭৪৯২; ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, পৃ. ৩৪৭-৩৪৮, হাদীছ নং-১১৫১।
[৯]. আদ-দুররাতুল মুখতাসিরাহ ফী মাহাসিনিদ দ্বীনিল ইসলামী, পৃ. ১৫।
[১০]. সূরাহ আলি ‘ইমরান : ১০৩।
[১১]. আদ-দুররাতুল মুখতাসিরাহ ফী মাহাসিনিদ দ্বীনিল ইসলামী, পৃ. ১৭।
[১২]. আদ-দুররাতুল মুখতাসিরাহ ফী মাহাসিনিদ দ্বীনিল ইসলামী, পৃ. ১৭।
[১৩]. সূরাহ আল-আন‘আম : ৩৮; তাইসীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, পৃ. ২৫৫; তাফসীরুল কুরআনিল ‘আযীম, ৩য় খণ্ড, পৃ. ২৫৩।
[১৪]. সূরাহ আস-সাফ : ১০-১১; সূরাহ আলি ‘ইমরান : ১০৪, ১১০।
[১৫]. আদ-দুররাতুল মুখতাসিরাহ ফী মাহাসিনিদ দ্বীনিল ইসলামী, পৃ. ২১।
[১৬]. প্রাগুক্ত, পৃ. ২২-২৪।
[১৭]. প্রাগুক্ত, পৃ. ২৪-২৫।
[১৮]. প্রাগুক্ত, পৃ. ২৬-২৭।
[১৯]. সূরাহ আন-নিসা : ১১।
[২০]. সূরাহ আলি ‘ইমরান : ১৫৯; আদ-দুররাতুল মুখতাসিরাহ ফী মাহাসিনিদ দ্বীনিল ইসলামী, পৃ. ৩৫-৩৬।
[২১]. ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল, আল-মুসনাদ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩৮৫, হাদীছ নং-১৯৪৫৪; ‘আব্দু ইবনি হুমাইদ ইবন নাসর আবূ মুহাম্মাদ আল-কুসী, আল-মুনতাখাবু মিন মুসনাদি ‘আবি ইবনি হুমাইদ (কায়রো : মাকতাবাতুস সুন্নাহ, ১ম সংস্করণ ১৪০৮ হি./১৯৮৮ খ্রি.), পৃ. ১২৪, হাদীছ নং-৩০০; মিশকাতুল মাসাবীহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ১০, হাদীছ নং-৪৬।
[২২]. ভ্রান্তির বেড়াজালে ইসলাম, পৃ. ২২৬।
[২৩]. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, পৃ. ২৩১-২৩২, হাদীছ নং-১৩৯৯-১৪০০ ‘যাকাত’ অধ্যায়-২৪, ‘যাকাত ওয়াজিব হওয়া’ অনুচ্ছেদ-১; ইমাম বায়হাকী, সুনানুল কুবরা, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১০৪, হাদীছ নং-৭১১৬; মিশকাতুল মাসাবীহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪০৩, হাদীছ নং-১৭৯০।
[২৪]. হুসাইন ইবন মুহাম্মাদ ইবনল হাসান আদ-দিয়ার বাকরী, তারীখুল খামীস ফী আহওয়ালি আনফুসিন নাফীস, ২য় খণ্ড (বৈরূত : দারু সাদর, তা.বি.), পৃ. ২০১।
[২৫]. মুহাম্মাদ ইবন আবী বাকর আইয়ূব আয-যারঈ ইবনুল ক্বাইয়িম আল-জাওযিয়্যাহ, আল-ফুরূসিয়্যাহ (সঊদী আরব : দারুল আন্দালুস, ১ম সংস্করণ, ১৪১৪ হি./১৯৯৩ খ্রি.), পৃ. ১২০।
[২৬]. সূরাহ আল-বাক্বারাহ : ২।
[২৭]. সূরাহ আন-নাজম : ৩ ও ৪ সূরাহ আল-হা-ক্কাহ : ৪৪-৪৬; সূরাহ আল-হিজর : ৯।
[২৮]. সূরাহ আল-আন‘আম : ১১৬।
[২৯]. জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একদা তাওরাতের একটি কপি নিয়ে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এটি তাওরাতের কপি। একথা শুনে তিনি চুপ থাকলেন। তখন ‘উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) পড়তে শুরু করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল। তখন আবূ বাকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ‘উমারকে বললেন, তোমার ধ্বংস হৌক! তুমি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেহারার দিকে দেখছ না? তখন ‘উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মুখের দিকে তাকালেন। অতঃপর বললেন, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ক্রোধ হতে আল্লাহর কাছে পরিত্রাণ চাচ্ছি। আমরা আল্লাহকে রব হিসাবে, ইসলামকে দ্বীন হিসাবে এবং মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে নবী হিসাবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যার হাতে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রাণ রয়েছে, তার কসম করে বলছি, যদি আজ মূসা (আলাইহিস সালাম) তোমাদের মাঝে আবির্ভূত হন আর তোমরা তার অনুসরণ কর এবং আমাকে পরিত্যাগ কর, তবুও তোমরা সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবে। আজ মূসা (আলাইহিস সালাম) যদি বেঁচে থাকতেন আর আমার নবুওয়াত পেতেন, তবে তিনিও আমার অনুসরণ করতেন’। দ্রষ্টব্য : ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্দির রহমান আবূ মুহাম্মাদ আদ-দারিমী, আস-সুনান, ১ম খণ্ড (বৈরূত : দারুল কিতাবিল ‘আরাবী, ১ম সংস্করণ ১৪০৭ হি.), পৃ. ১২৬, হাদীছ নং-৪৩৫, সনদ হাসান; মিশকাতুল মাসাবীহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪২, হাদীছ নং-১৯৪।
[৩০]. ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল, আল-মুসনাদ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৮৭, হাদীছ নং-১৫১৯৫; মিশকাতুল মাসাবীহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩০, হাদীছ নং-১৭৭, সনদ হাসান।
[৩১]. ইমাম আবূ মুহাম্মাদ ‘আলী ইবন আহমাদ ইবন সা‘ঈদ ইবন হাযাম, আল-ইহকাম ফী উসূলিল আহকাম, ১ম খণ্ড (কায়রো : দারুল হাদীছ, ১৪২৬ হি./২০০৫ খ্রি.), পৃ. ১৩৩।
[৩২]. আদ-দুররাতুল মুখতাসিরাহ ফী মাহাসিনিদ দীনিল ইসলামী, পৃ. ১৯-২০।
[৩৩]. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, পৃ. ৪৪৪, হাদীছ নং-২৭২৯; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৪৮, হাদীছ নং-২৮৭৭।
[৩৪]. মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?, পৃ. ৩২৮-৩২৯।
[৩৫]. হাজী শরীয়ত উল্লাহ’র ফারায়েজী আন্দোলন, পৃ. ।
[৩৬]. মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ), পৃ. ২১১-২১২।
প্রসঙ্গসমূহ »:
সমাজ-সংস্কার