শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কারে আলিমগণের গৃহীত মূলনীতিসমূহ: একটি পর্যালোচনা

-ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান

(৩য় কিস্তি)

২. ‘আক্বীদার পরিশুদ্ধি (Purification of 'Aqeedah)

‘আক্বীদা মানব স্বভাবের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা তার দেহ, মন ও অস্তিত্বের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এটি মানবজীবনের এমন একটি অপরিহার্য বিষয়, যা তার জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করে। এই ‘আক্বীদার উপর ভিত্তি করেই মানুষ তার সমগ্র জীবনধারা পরিচালনা করে। কোন অবকাঠামো যেমন ভিত্তি ছাড়া অকল্পনীয়, তেমনি একজন মুসলিমের জীবনে ‘আক্বীদা ও বিশ্বাসের দর্শন এমনই একটি অপরিহার্য বিষয়। এজন্যই সঠিক ‘আক্বীদা মুমিন জীবনের মূল চাবিকাঠি ও মুসলিম উম্মাহর সুদৃঢ় ভিত্তি। ‘আক্বীদা যদি বিশুদ্ধ হয়, তাহলে সকল ‘আমল বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য হবে। আর ‘আক্বীদা ত্রুটিপূর্ণ হলে ‘আমল বাতিল বলে গণ্য হবে। এজন্য প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ‘আক্বীদা-বিশ্বাসের ব্যাপারে সুস্পষ্ট জ্ঞান রাখা এবং সে বিশ্বাসের যথার্থতা নিশ্চিত করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কেননা বিশ্বাসের বিশুদ্ধতা ব্যতীত কোন ব্যক্তি প্রকৃত অর্থে মুসলিম হতে পারে না। অথচ বাংলাদেশের মুসলিম সমাজে ভ্রান্ত ‘আক্বীদা-বিশ্বাসের ছড়াছড়ি। কেউ কুফরী ‘আক্বীদা, কেউবা শিরকী ‘আক্বীদা এবং কেউ বিদ‘আতী ‘আক্বীদা লালন করে থাকে। অন্যদিকে অসংখ্য ভ্রান্তমত ও পথের প্রভাবে মুসলিমদের ঈমান ও ‘আমল দু’টিই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পরিতাপের বিষয় হলো অধিকাংশ মানুষ ‘আকীদার ব্যাপারে চরমভাবে উদাসীন। কেউ ‘আক্বীদার প্রকৃত মূল্যায়নই করতে চায় না। অথচ ‘আকীদার উন্নয়ন সাধন ব্যতিরেকে কোন জাতির প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়। কোন বিপ্লব, কোন আন্দোলনের মূল্য নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত তার ভিত্তির মাঝে দৃঢ় ‘আক্বীদা-বিশ্বাস, বিশুদ্ধ চিন্তা-চেতনা এবং প্রশিক্ষিত ও বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনা না থাকবে’।[১] এজন্য বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কার কার্যক্রমে সফলতার জন্য ‘আক্বীদার পরিশুদ্ধির মূলনীতি গ্রহণ করা আবশ্যক। যদিও সমকালীন ‘আলিমগণ এ মূলনীতিকেই যথার্থভাবেই গ্রহণ করেছিলেন।

‘আক্বীদার পরিচয় (The identity of 'Aqeedah)

‘আক্বীদাহ (العقيدة) ‘আরবী শব্দ, যা عقد থেকে গৃহীত। এর অর্থ হচ্ছে وهو الربط والشدّ بقوة ‘দৃঢ় ও শক্তভাবে বাঁধা’। এজন্য মানুষের অন্তরে দৃঢ়তার সাথে যা কিছু গেঁথে যায় সেটাকেই ‘আক্বীদা বলা হয়।[২] এটি فَعِيْلَةٌ ‘ফা‘ঈলাতুন’ শব্দের ওযনে ব্যবহৃত হয়। অর্থ সুদৃঢ় বন্ধন, গিরা বা বাঁধন, দৃঢ় বিশ্বাস, নিগূঢ় বিশ্বাস ও বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত বিষয়সমূহ ইত্যাদি।[৩] আল-কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, عُقۡدَۃَ النِّکَاحِ ‘বিবাহের বন্ধন’।[৪] বাঁধনের মাঝে কী আছে তা না দেখেই শুধু শুনে চূড়ান্ত বিশ্বাস করার নাম ‘আক্বীদা। ড. ‘আব্দুল্লাহ আল-‘আযাম বলেন,

العقيدة هي العهد المشدود والعروة الوثقى وذلك لاستقرارها في القلوب ورسوخها في الأعماق

‘আক্বীদা হলো মযবুত চুক্তি এবং সুদৃঢ় হাতল, যা হৃদয়ের দৃঢ়তা এবং গভীরতার স্থায়ীত্বকে বুঝায়’।[৫] মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম আল-হামাদ বলেন,

العقيدة في الاصطلاح العام هي الإيمان الجازم ، والحكم القاطع الذي لا يتطرق إليه شك 

‘সাধারণ পরিভাষায় ‘আক্বীদা হচ্ছে এমন দৃঢ় বিশ্বাস ও অকাট্য বিষয়ের নাম যাতে ‘আক্বীদা পোষণকারীর হৃদয়ে কোন সন্দেহ থাকে না’।[৬]

এক কথায়, যে দৃঢ় বিশ্বাস ও প্রত্যয়ের ভিত্তিতে মানুষের চিন্তা-চেতনা পরিচালিত হয়, তাকেই ‘আক্বীদা বলে।

‘ইসলামী ‘আক্বীদা’-এর পারিভাষিক সংজ্ঞায় ড. নাছির ইবনু ‘আব্দিল কারীম আল-‘আকল বলেন, ‘ইসলামী ‘আক্বীদা হচ্ছে আল্লাহ ও তাঁর রুবূবিয়াত[৭], উলূহিয়্যাত[৮] এবং নাম ও গুণাবলীর প্রতি সুদৃঢ় ঈমান আনয়ন করা। আর তার ফিরিশতাগণ, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, আখিরাত দিবস, তাকদীরের ভাল-মন্দ এবং ধর্মতত্ত্ব ও গায়েবী সে সব বিষয় ও সংবাদের প্রতিও ঈমান আনয়ন করা, ইসলামী ‘আকীদার অন্তর্ভুক্ত যে সব বিষয় সম্পর্কে আল-কুরআন ও সুন্নাহর বক্তব্য রয়েছে। ইসলামী আক্বীদার মধ্যে আরো রয়েছে সালাফে ছালেহীনের ইজমা‘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন বিষয়ের প্রতি ঈমান রাখা, শাসন-নির্দেশ-তাকদীর ও আইন প্রণয়নে আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতাকে স্বীকার করে নেয়া এবং তাঁর রাসূল (ﷺ)-কে অনুকরণ, অনুসরণ, বিচার ও শাসনের একমাত্র আদর্শ হিসাবে মেনে নেয়া’।[৯]

‘আক্বীদার বিষয়বস্তু (Content of 'Aqeedah)

ইসলামী ‘আক্বীদা মানব জীবনের সকল দিক ও বিভাগে পরিব্যপ্ত। এর বিষয়বস্তু অনেক প্রলম্বিত ও সুবিস্তৃত। ড. নাছির ইবন ‘আব্দিল কারীম আল-‘আক্বল বলেন, ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের অভিমত অনুযায়ী, ‘আক্বীদার আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে তাওহীদ, ঈমান, ইসলাম, গায়েবী বিষয়সমূহ, নবুওয়াত, তাকদীর, মৌলিক অকাট্য বিধানসমূহ, দ্বীনের সকল মৌল-নীতি, তত্ত্ব ও ‘আক্বীদা এবং প্রবৃত্তির অনুসারী বিভিন্ন দল, মত ও বিভ্রান্ত ফিরকাসমূহের বিভ্রান্তি খণ্ডন করে সঠিক জবাব প্রদান’।[১০]

আক্বীদার গুরুত্ব (The importance of 'Aqeedah)

মানুষের জীবন বিশুদ্ধ ‘আক্বীদার উপর প্রতিষ্ঠিত। তাই ‘আক্বীদা বা বিশ্বাস যার বিশুদ্ধ নয় তার জীবন অনেকটাই মাঝি বিহীন নৌকার ন্যায়। কেননা ‘আকীদা বিশুদ্ধ না হলে আমলের কোন গুরুত্ব নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ ‘সমস্ত ‘আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল’।[১১] ‘নিয়ত’ শব্দটি ‘নাওয়া’ (نواة, نوى) শব্দ থেকে গৃহীত হয়েছে। আর এর অর্থ হলো- বিচি বা আঁঠি।[১২] অতএব ‘আকীদা বা নিয়ত যার যেমন হবে, আমল তেমনই হবে। তার বিপরীত হবে না। সুতরাং কলবের কল্পনার ভিত্তি আক্বীদাকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রত্যেকেরই দায়িত্ব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,

أَلَا وَإِنَّ فِى الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ أَلَا وَهِىَ الْقَلْبُ 

‘মনে রেখ! মানুষের শরীরে একটি গোশতের টুকরা রয়েছে। যদি সেটি বিশুদ্ধ হয়, তাহলে শরীরের সবই সুস্থ থাকে আর যদি অসুস্থ হয়, তাহলে শরীরের সবই অসুস্থ হয়ে যায়। মনে রেখ! সেটা হলো ‘অন্তর’।[১৩] অন্য হাদীছে এসেছে, আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

إِنَّ اللهَ لَا يَنْظُرُ إِلَى صُوَرِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ وَلَكِنْ يَنْظُرُ إِلَى قُلُوْبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ

‘নিশ্চয় (ক্বিয়ামতের দিন) আল্লাহ তোমাদের সুন্দর আকৃতি ও ধন-সম্পত্তির দিকে তাকাবেন না; বরং তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে তাকাবেন’।[১৪] অতএব আল্লাহর নিকট কোন ‘আমল গৃহীত হওয়ার জন্য একমাত্র ও প্রধান শর্ত হলো বিশুদ্ধ ‘আক্বীদা। ‘আক্বীদা বিশুদ্ধ না হলে জীবনের সব ‘আমল বরবাদ হয়ে যাবে।

ভ্রান্ত ‘আক্বীদার পরিণাম (Consequences of erroneous 'Aqeedahs)

‘আক্বীদা মুসলিম জীবনের মূল সম্বল। এটা যদি ভ্রষ্ট, ভ্রান্ত ও ত্রুটিপূর্ণ হয়, তাহলে গোটা জীবন ব্যর্থ। এজন্য মুসলিমের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো নিজের ‘আক্বীদাকে পরিশুদ্ধ করা। মহান আল্লাহ বলেন, وَ مَنۡ یَّکۡفُرۡ بِالۡاِیۡمَانِ فَقَدۡ حَبِطَ عَمَلُہٗ ۫ وَ ہُوَ فِی الۡاٰخِرَۃِ  مِنَ  الۡخٰسِرِیۡنَ ‘যে ব্যক্তি ঈমান বা বিশ্বাসের সাথে কুফুরী করবে তার ‘আমল নষ্ট হয়ে যাবে এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে’।[১৫] উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় প্রখ্যাত মুফাসসির ‘আল্লামা আবূ জা‘ফর আত-ত্বাবারী (২২৪-৩১০ হি./৮৩৯-৯২৩ খ্রি.) বলেন,

ومن يجحد ما أمر الله بالتصديق به من توحيد الله ونبوّة محمد صلى الله عليه وسلم وما جاء به من عند الله 

‘আল্লাহর নির্দেশ, তাওহীদের স্বীকৃতি ও মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন, সেগুলোকে যে অস্বীকার করে’।[১৬]

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, إِنَّ اللهَ لَا يَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلَّا مَا كَانَ لَهُ خَالِصًا وَابْتُغِىَ بِهِ وَجْهُهُ ‘আল্লাহ তা‘আলা কোন ‘আমল কবুল করবেন না, যতক্ষণ না তা কেবল তাঁর জন্য একনিষ্ঠ ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য না হয়’।[১৭] অন্য হাদীছে রাসূল (ﷺ) ‘আক্বীদাভ্রষ্ট ‘আমলকারীদের সম্পর্কে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন।

عَنْ أَبِىْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِىِّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ يَخْرُجُ فِيْكُمْ قَوْمٌ تَحْقِرُوْنَ صَلَاتَكُمْ مَعَ صَلَاتِهِمْ وَصِيَامَكُمْ مَعَ صِيَامِهِمْ وَعَمَلَكُمْ مَعَ عَمَلِهِمْ وَيَقْرَءُوْنَ الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ حَنَاجِرَهُمْ يَمْرُقُوْنَ مِنَ الدِّيْنَ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ يَنْظُرُ فِى النَّصْلِ فَلَا يَرَى شَيْئًا وَيَنْظُرُ فِى الْقِدْحِ فَلَا يَرَى شَيْئًا وَيَنْظُرُ فِى الرِّيْشِ فَلَا يَرَى شَيْئًا وَيَتَمَارَى فِى الْفُوْقِ

‘আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের মধ্য হতে একটি সম্প্রদায় বের হবে, যাদের ছালাতের তুলনায় তোমাদের ছালাতকে, ছিয়ামের তুলনায় তোমাদের ছিয়ামকে এবং ‘আমলের তুলনায় তোমাদের ‘আমলকে তোমরা হালকা মনে করবে। তারা কুরআন তিলাওয়াত করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন ইসলাম থেকে অনুরূপভাবে বেরিয়ে যাবে, যেভাবে শিকার ভেদ করে তীর বেরিয়ে যায়। শিকারী তীরের ফলার দিকে তাকায়, কিন্তু তাতে শিকারের কোন অংশ দেখতে পায় না। সে তীরের পার্শ্ব ও ফলার দিকে তাকায়, কিন্তু সেখানেও কিছু দেখতে পায় না। অবশেষে সে তীরের মাথায় কিছু আছে মনে করে সন্দেহ পোষণ করে’।[১৮] তবে আল্লাহ তা‘আলা সঠিক ‘আক্বীদা ও ‘আমলের অপরিমেয় প্রতিদান প্রদান করবেন। এর সবচেয়ে বড় প্রতিদান হলো জান্নাত।[১৯] কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা ‘আক্বীদা ও কালেমার সাক্ষ্য প্রদানকারীকে পুরস্কৃত করবেন। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তথা নেই কোন সত্য মা‘বূদ আল্লাহ ব্যতীত এই কালেমার ঘোষণাকে সবচেয়ে ওযনে ভারী হবে।[২০]

উপর্যুক্ত আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, ধর্মীয় সংস্কারের জন্য দাঈকে যেমন সঠিক ‘আমল ও ‘আকীদায় দৃঢ় বিশ্বাসী হতে হবে অনুরূপভাবে দা‘ওয়াতের বিষয়বস্তু হিসেবে ইসলামী ‘আক্বীদাকেই সর্বাগ্রে স্থান দিতে হবে। কেননা নবী করীম (ﷺ) কোথাও কোন দা‘ওয়াতী কাফেলা প্রেরণ করলে তাদেরকে সর্বাগ্রে এই দা‘ওয়াত প্রদান করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করতেন। অতঃপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিষয়ের দা‘ওয়াত দেয়ার কথা বলতেন।[২১] নিম্নের হাদীছটি লক্ষ্যনীয়-

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كُنْتُ خَلْفَ رَسُوْلِ اللهِ  ﷺ يَوْمًا فَقَالَ يَا غُلَامُ احْفَظِ اللهَ يَحْفَظْكَ احْفَظِ اللهَ تَجِدْهُ تُجَاهَكَ وَإِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللهَ وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللهِ وَاعْلَمْ أَنَّ الْأُمَّةَ لَوِ اجْتَمَعَتْ عَلَى أَنْ يَنْفَعُوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَنْفَعُوْكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللهُ لَكَ وَلَوِ اجْتَمَعُوْا عَلَى أَنْ يَضُرُّوْكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَضُرُّوْكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللهُ عَلَيْكَ رُفِعَتِ الْأَقْلاَمُ وَجُفَّتِ الصُّحُفُ

‘ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর পিছনে ছিলাম। তিনি বললেন, ‘হে প্রিয় বৎস! আল্লাহর অধিকার সংরক্ষণ কর, আল্লাহ তোমাকে সংরক্ষণ করবেন। তুমি আল্লাহর উপর ভরসা কর, তোমার প্রয়োজনে তাঁকে পাবে। যখন তুমি চাইবে তখন আল্লাহর কাছেই চাইবে। যখন সাহায্য চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবে। তুমি জেনে রাখ! সমস্ত মানুষ যদি তোমার উপকার করার চেষ্টা করে তারা সক্ষম হবে না, যদি আল্লাহ তা তোমার জন্য নির্ধারণ না করেন। আর যদি সকলে মিলে কোন বিষয়ে তোমার ক্ষতি করার চেষ্টা করে, আর আল্লাহ যদি তা নির্ধারণ না করেন, তাহলে তারা তা করতে পারবে না। কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে এবং খাতা বন্ধ করা হয়েছে’।[২২] যাবতীয় ‘ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক গণ্য না করলে বান্দা আল্লাহর নিরাপত্তা থেকে বেরিয়ে যায়। মূলত এ দুর্বলতার কারণেই মুসলিম উম্মাহর মর্মান্তিক অধঃপতন।

উপরিউক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, প্রত্যেক মুসলিমের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য হলো তাঁর ‘আক্বীদা-বিশ্বাসকে পরিশুদ্ধ করা এবং ব্যাপকভিত্তিক প্রচার ও প্রসারে আত্মনিয়োগ করা। সুতরাং ধর্মীয় সংস্কারের মৌলিক অনুষঙ্গ বিষয় হলো- অসংখ্য ভ্রান্ত ‘আক্বীদা-বিশ্বাসে নিমজ্জিত মুসলিম জনসাধারণকে ‘আকীদার পরিশুদ্ধি আনয়নের প্রচেষ্টা করা। বাংলাদেশের ‘আলিম সমাজ এ ‘আক্বীদা সংশোধনের চূড়ান্ত মূলনীতির আলোকেই তাদের ধর্মীয় সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। কেননা এদেশের মানুষ অসংখ্য শিরক-বিদ‘আত, নানাবিধ কুসংস্কার এবং ইসলাম বিরোধী নানা প্রকার প্রথায় বিশ্বাসী ছিল। তারা পীর-ফকীর ও তাদের মাজারে গমন করত এবং মানত করত, যব্হ করত, শিরনী বিতরণ করত ইত্যাদি। হিন্দু সমাজের অনেক প্রথা মুসলিম সমাজে অনুপ্রবেশ করেছিল। কুফর, নেফাকী, প্রতারণা, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত ছিল। আল্লাহ, রাসূল, ফেরেশতা, ছাহাবীগণ প্রভৃতি সম্পর্কে অসংখ্য ভ্রান্ত বিশ্বাস প্রচলিত ছিল। এতদ্ব্যতীত কাদিয়ানী, ভণ্ড পীর-ফকীর, বাহাইয়া, বাউল, কোয়ান্টাম মেথড ও হেযবুত তওহীদ প্রভৃতি ভ্রান্তমতের প্রভাবও প্রচলিত ছিল। এজন্য ‘আকীদার পরিশুদ্ধির মূলনীতির আলোকেই ‘আলিম ধর্মীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেন। যেমন,

হাজী শরীয়াতুল্লাহ (১১৯৬-১২৫৬ হি./১৭৮১-১৮৪০ খ্রি.) বিশ্বাসের যে বিষয়ের উপর অধিক গুরুত্ব দিতেন, তাহলো তাওহীদ ও জিহাদের উপর জোর দেয়া এবং কুফুরী, বিদ‘আত ও আনুষ্ঠানিকতা, কুসংস্কার ও আল্লাহর সাথে শরীক না করা।[২৩] ‘ফারায়েজী আন্দোলন’-এর মূলনীতি ছিল প্রাথমকি যুগ তথা মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর যুগের ইসলামকে ফিরিয়ে আনা।[২৪] তারা আল্লাহর তাওহীদ তথা একমাত্র আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা, লালনকর্তা, পালনকর্তা, আইনদাতা ও মুক্তিদাতা হিসাবে বিশ্বাস করে।[২৫] মাওলানা বেলায়েত আলী সাদেকপুরী (১২০৫-১২৬৯ হি./১৭৯০-১৮৫২ খ্রি.) শিরক-বিদ‘আত দূরীকরণ ও ‘আকীদার সংশোধনের জন্য বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দাঈ প্রেরণ করতেন। মাওলানা এনায়েত আলী সাদেকপুরী (১২০৭-১২৭৪ হি./১৭৯৩-১৮৫৮ খ্রি.)ও বাংলাদেশে আগমন করে মুসলিমদের মধ্যকার ভ্রান্ত ‘আকীদার মূলোৎপাটন করে ‘আকীদার পরিশুদ্ধতায় আত্মনিয়োগ করেন।[২৬]

মাওলানা আকরম খাঁ (১৮৬৮-১৯৬৮ খ্রি.) মুসলিম জাতিকে ইসলামী ‘আকীদার পতাকাতলে সমবেত করার জোর প্রচেষ্টা করেন এবং প্রচলিত সকল শিরক-বিদ‘আত ও কুসংস্কার উচ্ছেদসাধনে ক্ষুরধার লেখনী পরিচালনা করেছেন।[২৭] মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী (১৮৭৫-১৯৫০ খ্রি.) পীরের মাজারে ও দরগাহে বাতি জ্বালানো, গান-বাজনা, মানত করা ইত্যাদি কুসংস্কার দূর করার চেষ্টা করেন।[২৮] মাওলানা আব্দুল কালাম আজাদ (১৮৮৮-১৯৫৮ খ্রি.) মুসলিম সমাজে প্রচলিত ভ্রান্ত ‘আক্বীদা থেকে মুসলিম সমাজকে পবিত্র করার কর্মসূচী গ্রহণ করেন।[২৯] মাওলানা মোয়েজউদ্দীন হামিদী (১৮৯৫-১৯৭০ খ্রি.) ভণ্ড পীর-ফকীর ও তাদের মাজারে সেজদা করা, কবরে বাতি দেয়া, কবর চুম্বন করা, কবর ত্বাওয়াফ করা, কবরের উপর ফুল দেয়া, কবর ধৌত পানি পান করা, দুধ-কলা ইত্যাদি ভোগ দেয়া, সেখানে গরু-ছাগল, মোরগ-মুরগী যব্হ করা কিংবা মহিলাদেরকে সেখানে গমন করা ইত্যাদিকে শিরক, হারাম ও অবৈধ বলে ঘোষণা করেন।[৩০] এমনকি খ্রিষ্টান মিশনারীদের কুপ্রভাবের বিরুদ্ধেও তিনি বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিলেন।[৩১]

মাওলানা আব্দুল্লাহিল কাফী আল-কুরাইশী (১৩১৮-১৩৮০ হি./১৯০০-১৯৬০ খ্রি.) ইসলামের মৌলিক ‘আক্বীদা-বিশ্বাসের সামান্য বিকৃতিও সহ্য করতেন না।[৩২] ১৯৩৪ সালে গাইবান্ধায় কাদিয়ানী ফিতনাহ মাথা চাড়া দিলে তিনি ‘মাসিক তর্জুমানুল হাদীসে’ তাদের সে অপকৌশলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রবন্ধ প্রকাশ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে সেগুলো একত্রিত করে ‘নবুওতে মুহাম্মদী’ শিরোনামে একটি তাত্ত্বিক গবেষণালব্ধ গ্রন্থ প্রকাশ করেন।[৩৩] তিনি ‘কলেমায় তৈয়েবা’ নামে পৃথক একটি আক্বীদার উপর বই রচনা করেন। যেখানে তিনি ‘আল-আকীদাতুল মুহাম্মদীয়া’ শিরোনামে ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ’ এর ব্যাখ্যা করেছেন। উক্ত আলোচনার অধীনে তিনি ‘উপাস্য’-এর ব্যাখ্যা, ‘আল্লাহ’ শব্দের তাৎপর্য উল্লেখ করেছেন। অতঃপর ‘কলেমায় তৈয়েবা’র প্রথমার্ধের কুরআনী তাৎপর্য’ শীর্ষক শিরোনামে ‘আল্লাহ কে?’ এর পরিচয় প্রদানে ২০০টি আল্লাহর নাম আয়াত নং সহ উল্লেখ করেছেন। এরপর ‘আল্লাহ ব্যতীত কাহাকেও ইলাহ স্বীকার না করার কুরআনী তাৎপর্য’ শীর্ষক শিরোনামে ২০টি কুরআনের দলীল উল্লেখ করেছেন। অতঃপর ‘কলেমায় তৈয়েবা’র প্রথমার্ধ কর্তৃক গঠিত আকীদা’ শিরোনামে ২২টি আক্বীদা উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি ‘কলেমায় তৈয়েবা’র শেষার্ধের ব্যাখ্যা’ শিরোনামে প্রথমে শাব্দিক অর্থ আলোচনা করেছেন।

অতঃপর ‘মোহাম্মদ রসূলুল্লাহ’-এর কুরআনী তাৎপর্য’ শিরোনামে ৫১টি কুরআনী দলীল উল্লেখ করেছেন। এরপর ‘কলেমায় তৈয়েবা’র শেষার্ধ কর্তৃক গঠিত মনোভাব, আকীদা- (Faith)' অংশে ২৭টি আকীদা উল্লেখ উল্লেখ করেছেন। এরপর ‘কলেমায় তৈয়েবা’ কর্তৃক গঠিত ব্যবহারিক আচরণ’ শিরোনামে ২৩টি আচরণ উল্লেখ করেছেন। অতঃপর ‘আনুষ্ঠানিক আচরণ (কর্মযোগ)’ শিরোনামে ৮৫টি দলীল-প্রমাণাদী উল্লেখ করে গ্রন্থের পরিসমপ্তি ঘটিয়েছেন।[৩৪] মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (১৯১৮-১৯৮৭ খ্রি.) ‘কালেমায়ে তাইয়েবা’ ও ‘আল-কুরআনের আলোকে তাওহীদ ও শিরক’ শীর্ষক দু’টি মৌলিক গ্রন্থ প্রণয়নের মাধ্যমে ইসলামী ‘আকীদার পুনর্জাগরণের চেষ্টা করেন।[৩৫] মাওলানা ‘আলীমুদ্দীন (১৯২৫-২০০১ খ্রি.) অসীয়াত করে বলেন, ‘আমি ওয়াসীয়াত করছি যে, যারা দ্বীন সম্পর্কে ঐ সমস্ত নতুন কথার আবিষ্কার করেছে, যা প্রকৃতপক্ষে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়, তোমরা ঐ সমস্ত বিদ‘আতীগণকে মনে প্রাণে অপসন্দ করবে এবং ঐ সমস্ত বিদ‘আতীগণের সাথে উঠা-বসা করবে না এবং তাদের কর্ণকুহুরে বিদ‘আতীগণের বাতিল কথাগুলো শোনা হতে দূরে রাখবে’।[৩৬] অনুরূপভাবে প্রফেসর ড. খোন্দকার আ ন ম আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) শিরক, বিদ‘আত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন জীর্ণ সমাজে তিনি তাওহীদের বীজ বপনের প্রত্যাশী ছিলেন। ইসলামী আক্বীদার প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি ‘কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা’ শীর্ষক গ্রন্থটি প্রণয়ন করেন।[৩৭] এতদ্ব্যতীত তিনি খ্রিষ্টান মিশনারীদের অপতৎপরতা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘পবিত্র বাইবেল পরিচিতি ও পর্যালোচনা’ শীর্ষক বিরাট একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন।[৩৮]

উপরিউক্ত আলোচনায় স্পষ্টরূপে প্রতিভাত হয় যে, ধর্মীয় সংস্কারে বাংলাদেশের ‘আলিমগণ ‘আক্বীদার পরিশুদ্ধির উপর ব্যাপকভাবে জোর দিয়েছেন। কেননা মানুষের ‘আক্বীদাহ-বিশ্বাস যদি সঠিক হয়ে যায়, তাহলে অন্যান্য কার্যক্রমও সঠিক হিসাবে পরিচালিত হবে এবং আল্লাহ তা‘আলা নিকট গ্রহণ হবে। অতএব এ ‘আক্বীদা পরিশুদ্ধির মূলনীতি অনুসরণ করেই সংস্কার কাজকে এগিয়ে নিতে হবে।

(ইনশাআল্লাহ চলবে)

তথ্যসূত্র :
[১]. সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নাদভী, মাযা খাসিরাল ‘আলামি বি ইনহিতাতিল মুসলিমীন (প্রকাশনা স্থান বিহীন : মাকতাবাতুল ঈমান, তা.বি.), পৃ. ২৩৫।  
[২]. ড. নাছির ইবন ‘আব্দিল কারীম আল-‘আকল, মাবাহিছ ফী ‘আক্বীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আত (প্রকাশনা স্থান বিহীন : দারুল ওয়াতান, ১ম সংস্করণ, ১৪১২ হি.), পৃ. ৬; ‘আব্দুল্লাহ ইবন ‘আব্দিল হামীদ আল-আছারী, আল-ওয়াজীযু ফী ‘আক্বীদাতি সালফিস সালিহ (সা‘ঊদী ‘আরব : ওযারাতুশ শুয়ূনিল ইসলামিয়্যাহ ওয়া আওকাফ ওয়াদ দা‘ওয়াহ ওয়াল ইরশাদ, ১ম সংস্করণ, ১৪২২ হি.), পৃ. ১১।  
[৩]. আল-মু‘জামুল ওয়াসীত, ২য় খণ্ড, পৃ. ৬১৪; ড. মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, আল-মু‘জামুল ওয়াফী (আধুনিক আরবী-বাংলা অভিধান) (ঢাকা : রিয়াদ প্রকাশনী, ২২তম সংস্করণ ২০১৭), পৃ. ৭০৩।
[৪]. সূরাহ আল-বাকারাহ : ২৩৫ ও ২৩৭।
[৫]. ড. ‘আব্দুল্লাহ আল-‘আযাম, আল-‘আক্বীদাতু ওয়া আসরিহা ফী বিনাইল জায়ল (পাকিস্তান : মারকায শহীদ ‘আযাম আল-‘আলামী, তা.বি.), পৃ. ১২।
[৬]. মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম আল-হামাদ, মুখতাসারু ‘আক্বীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আত (প্রকাশনা স্থান, সংস্থা, সংস্করণ, তারিখ বিহীন), পৃ. ৮।
[৭]. আল্লাহর রুবূবিয়াতের ক্ষেত্রে তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে শরীক স্থাপন না করা। আল্লাহর রুবূবিয়্যহ এর অর্থ হল- هُوَ إِفْرَاد الله سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى بِالْخَلْقِ وَالْمُلْكِ وَالتَّدْبِيْرِ ‘সৃষ্টি, মালিকানা এবং পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক গণ্য করাকে তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ বলে’। সুতরাং মানুষের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পাদনের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক গণ্য করা হল তাওহীদে রুবূবিয়াহ। আল্লাহকে পালনকর্তা, সৃষ্টিকর্তা, ব্যবস্থাপক, রূযীদাতা, জীবন ও মৃত্যুদাতা, আইনদাতা, মালিক ও প্রতিপালক হিসাবে বিশ্বাস করাকে ‘তাওহীদে রুবূবিয়াহ’ বলে। এটাও বিশ্বাস করা যে, আল্লাহর রুবূবিয়াতের সাথে কারও অংশীদারিত্ব নেই। তবে শুধু এর স্বীকৃতি কাউকে পরকালের আযাব থেকে মুক্তি দিতে পারবে না, যতক্ষণ না সে এর আবশ্যিক বিষয় ‘তাওহীদুল উলূহিইয়্যাত’ তথা ‘ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক গণ্য করবে ও বাস্তবায়ন করবে। দ্রষ্টব্য : মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ.৩৪; ‘আব্দুল ‘আযীয ইবন বায ও মুহাম্মাদ ইবন ছালিহ আল-‘উছায়মীন, ফাতাওয়া মুহিম্মাহ লি ‘উমূমিল উম্মাহ, (তাহকীক : ইবরাহীম আল-ফারিস) (রিয়াদ : দারুল ‘আসিমাহ, ১ম সংস্করণ, ১৪১৩ হি.), পৃ. ৮।
[৮]. যাবতীয় ‘ইবাদতকে মহান আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করাকে তাওহীদে উলূহিয়াহ বলে। অর্থাৎ ‘ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক গণ্য করা। কেবল এককভাবে তাঁরই ইবাদত করা এবং অন্য কোন ফেরেশতা, রাসূল, নবী, অলী, পীর-ফকীর, গাছ. পাথর, সূর্য, চন্দ্র ইত্যাদির ‘ইবাদত না করা। কেননা এগুলো তাঁর (আল্লাহর) পক্ষ থেকেই সৃষ্ট’। অতএব যে আল্লাহর ইবাদত করে না সে অহংকারী ও তাওহীদ পরিপন্থী। আর যে আল্লাহ ব্যতীত কোন বান্দার ইবাদত করে, সে মুশরিক ও তাওহীদ পরিপন্থী। আর যে আল্লাহর ইবাদত শরী‘আত অনুযায়ী করে না, সে বিদ‘আতী’। দ্রষ্টব্য : মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ২২৪-২২৫।
[৯]. বক্তব্যটি নিম্নরূপ : العقيدة الإِسلاميَّة : هي الإِيمان الجازم بربوبية اللّه تعالى وأُلوهيته وأَسمائه وصفاته ، وملائكته ، وكتبه ، ورسله ، واليوم الآخر ، والقدر خيره وشره ، وسائر ما ثَبَتَ من أُمور الغيب ، وأصول الدِّين ، وما أَجمع عليه السَّلف الصَّالح ، والتسليم التام للّه تعالى في الأَمر ، والحكم ، والطاعة ، والاتباع لرسوله صلى اللّه عليه وعلى آله وسلم । দ্রষ্টব্য : আল-ওয়াজীযু ফী ‘আকীদাতি সালফিস সালিহ, পৃ. ১২; মাবাহিছ ফী ‘আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আত, পৃ. ৬।  
[১০]. মাবাহিছ ফী ‘আকীদাতি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আত, পৃ. ৬।  
[১১]. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, পৃ. ১৯, হাদীছ নং-১ ‘অহীর সূচনা’ অধ্যায়-১, অনুচ্ছেদ-১; আবূ দাঊদ সুলাইমান ইবনুল আশ‘আছ আস-সিজিস্তানী, আস-সুনান (রিয়াদ : মাকতাবাতুল মা‘আরিফ, ২য় সংস্করণ ১৪২৭ হি./২০০৭ খ্রি.),  পৃ. ৩৮৪, হাদীছ নং-২২০১; মিশকাতুল মাসাবীহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ১, হাদীছ নং-১।
[১২]. আল-মু‘জামুল ওয়াসীত, ২য় খণ্ড, পৃ. ৯৬৫।
[১৩]. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, পৃ. ৩০, হাদীছ নং-৫২ ‘ঈমান’ অধ্যায়-২, ‘দ্বীন রক্ষাকারীর মর্যাদা’ অনুচ্ছেদ-৩৯; ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, পৃ. ৫১২, হাদীছ নং-১৫৯৯; ; ‘আব্দুল্লাহ ইবন ‘আব্দির রহমান আবূ মুহাম্মাদ আদ-দারিমী, আস-সুনান, ২য় খণ্ড (বৈরূত : দারুল কিতাবিল ‘আরাবী, ১ম সংস্করণ ১৪০৭ হি.), পৃ. ৩১৯, হাদীছ নং-২৫৩১; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ১২৪, হাদীছ নং-২৭৬২।
[১৪]. ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, পৃ. ৮১৯, হাদীছ নং-২৫৬৪ ‘সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও শিষ্টাচার’ অধ্যায়-৪৫, অনুচ্ছেদ-১০; মুহাম্মাদ ইবনু হিব্বান ইবনু আহমাদ আবূ হাতিম আত-তামীমী, আস-সহীহ, ২য় খণ্ড (বৈরূত : মুওয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ২য় সংস্করণ ১৪১৪ হি./১৯৯৩ খ্রি.), ২য় খণ্ড, পৃ. ১১৯, হাদীছ নং-৩৯৪।
[১৫]. সূরাহ আল-মায়িদাহ : ৫।
[১৬]. জামি‘ঊল বায়ান ফী তা’বীলিল কুরআন, ৯ম খণ্ড, পৃ. ৫৯১-৫৯২।
[১৭]. আহমাদ ইবন শু‘আইব আবূ ‘আব্দির রহমান আন-নাসাঈ, সুনানুল কুবরা, ৬ষ্ঠ খণ্ড (বৈরূত : দারুল কুতুবিল ‘ইলমিয়্যাহ, ১ম সংস্করণ ১৪১১ হি./১৯৯১ খ্রি.), পৃ. ২৫, হাদীছ নং-৩১৪০ ‘জিহাদ’ অধ্যায়-২৩, ‘যে ব্যক্তি সওয়াব ও সুনামের জন্য যুদ্ধ করে’ অনুচ্ছেদ।
[১৮]. ইমম আহমাদ ইবন হাম্বাল, আল-মুসনাদ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৬০, হাদীছ নং-১১৫৯৬; ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, পৃ. ৮৪৮-৮৪৯, হাদীছ নং-৫০৫৮ ‘ফাযাইলুল কুরআন’ অধ্যায়-৬৬. ‘যে ব্যক্তি দেখানো বা দুনিয়ার লোভে অথবা গর্বের জন্য কুরআন পাঠ করে’ অনুচ্ছেদ-৩৬; মিশকাতুল মাসাবীহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৮২, হাদীছ নং-৫৮৯৪।  
[১৯]. আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, একদা একজন বেদুইন ব্যক্তি রাসূল (ﷺ)-এর কাছে আসল। অতঃপর রাসূল (ﷺ)-কে বলল, ‘আমাকে এমন ‘আমলের কথা বলুন, যে ‘আমল করলে আমি জান্নাতে যেতে পারব। তিনি বললেন, তুমি আল্লাহর ‘ইবাদত করবে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না, ফরয সালাত আদায় করবে, ফরয যাকাত আদায় করবে এবং রামাযানের সিয়াম পালন করবে। তখন ঐ ব্যক্তি আল্লাহর শপথ করে বলল, আমি এর বেশী করব না। যখন লোকটি চলে গেল, তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, যে ব্যক্তি একজন জান্নাতী ব্যক্তিকে দেখে আনন্দিত হতে চায় সে যেন এই ব্যক্তির দিকে দেখে’। দ্রষ্টব্য : ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল,  আল-মুসনাদ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৪২, হাদীছ নং-৮৪৯৬; ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, পৃ. ২৩১, হাদীছ নং-১৩৯৭ ‘যাকাত’ অধ্যায়-২৪, ‘যাকাত ওয়াজিব হওয়া’ অনুচ্ছেদ-১; ইমাম মুসলিম, আস-সহীহ, পৃ. ৩১, হাদীছ নং-১৪; মিশকাতুল মাসাবীহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩, হাদীছ নং-১৪।   
[২০]. মুহাম্মাদ ইবনু ঈসা আবূ ঈসা আত-তিরমিযী, আস-সুনান, ৫ম খণ্ড (বৈরূত : দারু ইহইয়াইত তুরাছিল ‘আরাবী, তা.বি.), পৃ. ২৪, হাদীছ নং-২৬৩৯; ইমাম ইবন হিব্বান, আস-সহীহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪৬১, হাদীছ নং-২২৫; মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ২০৮, হাদীছ নং-৫৫৫৯ ।     
[২১]. ইবনু ‘আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যখন নবী কারীম (ﷺ) মু‘আয ইবনু জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ইয়ামান পাঠালেন, তখন তিনি তাঁকে বললেন, তুমি আহলি কিতাবদের একটি কাওমের কাছে যাচ্ছ। অতএব তাদের প্রতি তোমার প্রথম আহ্বান হবে- তারা যেন আল্লাহ‌র একত্ব তথা তাওহীদ মেনে নেয়। তারা তা স্বীকার করার পর তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ দিনে রাতে তাদের প্রতি পাঁচবার সালাত ফরয করে দিয়েছেন। যখন তারা ছালাত আদায় করবে, তখন তুমি তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের ধন-সম্পদে আল্লাহ তাদের প্রতি যাকাত ফরয করেছেন। তা তাদেরই ধনশালীদের থেকে গ্রহণ করা হবে। আবার তাদের ফকীরদেরকে তা দেয়া হবে। যখন তারা স্বীকার করে নেবে, তখন তাদের থেকে গ্রহণ কর। তবে লোকজনের ধন-সম্পদের উত্তম অংশ গ্রহণ করা থেকে বেঁচে থাক’। দ্রষ্টব্য : ইমাম বুখারী, আছ-ছহীহ, পৃ. ১১৮১, হাদীছ নং-৭৩৭২ ‘তাওহীদ’ অধ্যায়-৯৭, অনুচ্ছেদ-১; আবূ মুহাম্মাদ ‘আব্দুল হাক আল-ইশবীলী, আল-আহকামুশ শার‘ইয়্যাহ আল-কুবরা, ১ম খণ্ড (রিয়াদ : মাকতাবাতুর রুশদ, ১৪২২ হি./২০০১ খ্রি.), পৃ. ৯১।     
[২২]. ইমাম ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল, আল-মুসনাদ, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৯৩, হাদীছ নং-২৬৬৯; ইমাম তিরমিযী, আস- সুনান, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৬৬৭, হাদীছ নং-২৫১৬, ‘কিয়ামতের বিবরণ’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৫৯; আল-মুসতাদরাকু ‘আলাস সহীহইন, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৬২৪, হাদীছ নং-৬৩০৪; মিশকাতুল মাসাবীহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১৪৯, হাদীছ নং-৫৩০২।
[২৩]. হাজী শরীয়ত উল্লাহ’র ফারায়েজী আন্দোলন, পৃ. ৯৩।
[২৪]. ঐ. Bevaeridge, The District of Bakergong, its History and Statistics (London, 1876), P. 381.
[২৫]. F. W. Strong, Eastern Bengal District Geazatter (Dinajpur, Allahabad, 1912), P. 37-38.
[২৬]. আব্দুর রহীম সাদেকপুরী, তাযকিরায়ে সাদেকাহ (পাটনা : মাতবা‘আ উছমানী, ১৩১৯ হি./১৯০১ খ্রি.), পৃ. ৯৮।
[২৭]. মোছলেম বঙ্গের সামাজিক ইতিহাস, পৃ. ১৪২-১৪৪, ১৭২, ১৮১; ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, রাজনীতিতে বঙ্গীয় উলামার ভূমিকা (ঢাকা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ২০০৯ খ্রি.), পৃ. ৪০৩।
[২৮]. মুস্তাফা নুর-উল-ইসলাম, সাময়িক পত্রে জীবন ও জনমত (ঢাকা : বাংলা একাডেমী, ১৯৭৭ খ্রি.), পৃ. ১১৮-১১৯।
[২৯]. আবদুল মুগনি, মাওলানা আবুল কালাম আযাদ যিহেন ওয়া কিরদার (নয়া দিল্লী : আনজুমানি তারাক্কিয়ে উর্র্দূ (হিন্দ), ১৯৮৯ খ্রী.), পৃ. ১৪৬-১৪৮; মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, মাকালাতে আবুল কালাম আযাদ (নয়া দিল্লী : ইতিকাদ পাবলিশিং হাউস, তা.বি.), পৃ. ১-১০।
[৩০]. আল্লামা মোয়েজউদ্দীন হামিদী (রাহিমাহুল্লাহ), বেদয়াতী দলন (সাতক্ষীরা : হামিদিয়া লাইব্রেরী, ২য় সংস্করণ, চৈত্র ১৪২৬ বাংলা), পৃ. ৬-২৬।
[৩১]. ড. মুহাম্মদ ইকবাল হোছাইন, সাংবাদিকতায় বঙ্গীয় উলামা-মাশায়েখ (ঢাকা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ১ম প্রকাশ, নভেম্বর ২০১৭ খ্রি.), পৃ. ১৩০।
[৩২]. অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাস‘ঊদ, “আল্লামা মোহাম্মদ ‘আবদুল্লাহেল কাফী আল-কুরায়শী (রাহিমাহুল্লাহ) : সংগঠক ও সংস্কারক”, বিশিষ্ট গবেষকগণের কলমে আল্লামা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী আল-কোরাইশী (রাহিমাহুল্লাহ) (ঢাকা : আল-খাইর পাবলিকেশন্স, ১ম প্রকাশ, মার্চ ২০১৭ খ্রি.), পৃ. ১০৭।
[৩৩]. আল্লামা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফী আল-কুরায়শী, নবুওতে মুহাম্মদী (ঢাকা : আল-হাদীছ প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং হাউজ, ২য় সংস্করণ, মে ১৯৮৮ খ্রি.), পৃ. ট-ঠ ‘মুখবন্ধ’ দ্র.।
[৩৪]. আল্লামা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী আল-কুরায়শী, কলেমায় তৈয়েবা (ঢাকা: আহলে হাদীস প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং হাউজ, ২য় সংস্করণ, ১৯৮৫ খ্রি.), পৃ. ১-১৪৪।
[৩৫]. হাফেজ মুহাম্মদ হাবীবুর রহমান, মওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম (রহ) (ঢাকা : মওলানা আবদুর রহীম ফাউন্ডেশন, ১ম প্রকাশ, ফেব্রুয়ারী ২০০৭ খ্রি.), পৃ. ৪৭-৪৮।
[৩৬]. আবূ ‘আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম রিজাল শাস্ত্রবিদ ‘আল্লামা আবূ মুহাম্মাদ ‘আলীমুদ্দীন (রহ.) (ঢাকা : আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ, ১ম প্রকাশ, জুলাই ২০১১), পৃ. ১২৫।
[৩৭]. ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা (ঝিনাইদহ : আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট, ১ম প্রকাশ, ডিসেম্বর ২০০৭ খ্রি.)।
[৩৮]. ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, পবিত্র বাইবেল : পরিচিতি ও পর্যালোচনা (ঝিনাইদহ : আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, জুন ২০১৬ খ্রি.), পৃ. ৩৩ ‘ভূমিকা’ দ্র.। 




প্রসঙ্গসমূহ »: সমাজ-সংস্কার
ঈদুল ফিতরে করণীয় ও বর্জনীয় - আব্দুল্লাহ বিন খোরশেদ
শরী‘আত অনুসরণের মূলনীতি (২য় কিস্তি) - ড. মুযাফফর বিন মুহসিন
ছাহাবায়ে কেরামকে গালি দেয়া নিষিদ্ধ - ড. মুযাফফর বিন মুহসিন
রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎকারী - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর
ইসলামে ব্যবসায়িক মূলনীতি - ড. সাদীক মাহমূদ
জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ (৫ম কিস্তি) - অনুবাদ : মুহাম্মদ ইমরান বিন ইদরিস
ইসলামী জামা‘আতের মূল স্তম্ভ (৬ষ্ঠ কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ মুছলেহুদ্দীন
সুন্নাতের রূপরেখা (৩য় কিস্তি) - মাইনুল ইসলাম মঈন
ফাযায়েলে কুরআন (৬ষ্ঠ কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
ইসলামী পুনর্জাগরণের প্রতিবন্ধকতা ও তার সমাধান (৪র্থ কিস্তি) - ড. মুযাফফর বিন মুহসিন
অল্পে তুষ্ট (২য় কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আলো ও অন্ধকার (২য় কিস্তি) - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ