শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন

 ঈমানের ফযীলত ও তার  হ্রাস-বৃদ্ধি 

- মূল: আব্দুর রাযযাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-বদর 
- অনুবাদ: সাইনুল ইসলাম বিন শাহজাহান আলী* 



আলহামদুলিল্লাহ, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি ও তাঁর দিকেই তাওবা করি। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের অন্তরের কুপ্রবৃত্তি ও মন্দ কর্মের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই। যাকে আল্লাহ হেদায়াত দেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো হেদায়াতদাতা নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, তাঁর মনোনীত বন্ধু, অহির আমানতদার এবং মানুষের কাছে তাঁর বিধান পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত। আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর উপর, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সকল সাহাবীর উপর।

অতঃপর নিশ্চয়ই সর্বোত্তম অর্জন যা মানুষের অন্তর লাভ করে, হৃদয় অর্জন করে এবং এর মাধ্যমে বান্দা দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত হয়, তা হলো ঈমান। ঈমান সর্বোচ্চ কাম্য বিষয়, শ্রেষ্ঠ লক্ষ্য এবং সর্বাধিক সম্মানিত উদ্দেশ্য। এটি দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মান, সাফল্য ও মর্যাদার কারণ। ঈমানের মাধ্যমেই অর্জিত হয় সর্বোচ্চ কামনা ও সবচেয়ে সুন্দর নে‘মত। ঈমানের মাধ্যমেই বান্দা ক্বিয়ামতের দিন এমন জান্নাত লাভ করবে, যার প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের সমান, যা প্রস্তুত করা হয়েছে মুমিনদের জন্য। ঈমানের মাধ্যমেই বান্দা জাহান্নামের আগুন, তার তীব্র শাস্তি ও তার গভীর গহ্বর থেকে মুক্তি পাবে। ঈমানের মাধ্যমে মুমিন লাভ করে সর্বশ্রেষ্ঠ নে‘মত, যা হলো ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর দর্শন লাভ করা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ لاَ تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ ‘অচিরেই তোমরা ক্বিয়ামতের দিন তোমাদের রবকে দেখতে পাবে, যেমন এই পূর্ণিমার চাঁদকে স্বচ্ছভাবে দেখতে পাও, তাতে কোনো অসুবিধা হবে না।[১]

ঈমানের মাধ্যমেই সকল কল্যাণ, সাফল্য এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মান লাভ করা যায়। আর এর মাধ্যমেই সব অকল্যাণ, বিপদ-আপদ ও শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

মুমিনদের কর্তব্য হলো মহান আল্লাহর অগণিত প্রশংসা করা, যিনি তাদের উপর এই মহান নে‘মত (ঈমান) দান করেছেন এবং এতে তাদের হেদায়াত দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ لٰکِنَّ اللّٰہَ حَبَّبَ  اِلَیۡکُمُ  الۡاِیۡمَانَ وَ زَیَّنَہٗ  فِیۡ  قُلُوۡبِکُمۡ وَ کَرَّہَ  اِلَیۡکُمُ الۡکُفۡرَ وَ الۡفُسُوۡقَ وَ الۡعِصۡیَانَ ؕ اُولٰٓئِکَ ہُمُ  الرّٰشِدُوۡنَ  ‘বরং আল্লাহ তোমাদের কাছে ঈমানকে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তা তোমাদের অন্তরে সুশোভিত করেছেন। আর তোমাদের কাছে কুফরী, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে অপছন্দনীয় করে দিয়েছেন। তারাই তো সত্য পথপ্রাপ্ত’ (সূরা আল-হুজুরাত : ৭)।

ঈমান হল সর্বব্যাপী উপদেশ, সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি বিশেষ নে‘মত। মহান আল্লাহ বলেন,

وَ اعۡلَمُوۡۤا  اَنَّ  فِیۡکُمۡ رَسُوۡلَ اللّٰہِ ؕ لَوۡ یُطِیۡعُکُمۡ فِیۡ کَثِیۡرٍ مِّنَ الۡاَمۡرِ لَعَنِتُّمۡ وَ لٰکِنَّ اللّٰہَ حَبَّبَ  اِلَیۡکُمُ  الۡاِیۡمَانَ وَ زَیَّنَہٗ  فِیۡ  قُلُوۡبِکُمۡ وَ کَرَّہَ  اِلَیۡکُمُ الۡکُفۡرَ وَ الۡفُسُوۡقَ وَ الۡعِصۡیَانَ ؕ اُولٰٓئِکَ ہُمُ  الرّٰشِدُوۡنَ  ۙ.  فَضۡلًا مِّنَ اللّٰہِ وَ نِعۡمَۃً ؕ وَ اللّٰہُ  عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ 

‘আর তোমরা জেনে রাখ যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল রয়েছেন। সে যদি অধিকাংশ বিষয়ে তোমাদের কথা মেনে নিত, তাহলে তোমরা অবশ্যই কষ্টে পতিত হতে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের কাছে ঈমানকে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তা তোমাদের অন্তরে সুশোভিত করেছেন। আর তোমাদের কাছে কুফরী, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে অপছন্দনীয় করে দিয়েছেন। তারাই তো সত্য পথপ্রাপ্ত। আল্লাহর পক্ষ থেকে করুণা ও নে‘মত স্বরূপ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়’ (সূরা আল-হুজুরাত : ৭-৮)।

ইমাম মুসলিম ও ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে (ইমাম আহমাদের বর্ণনা অনুযায়ী) সুফিয়ান ইবনু আব্দুল্লাহ আস-সাক্বাফী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! ইসলাম সম্পর্কে আমাকে এমন একটি কথা বলুন যা সম্পর্কে আপনার পর আর কাউকে জিজ্ঞাসা করবে না। তিনি বললেন, قُلْ آمَنْتُ بِاللهِ ثُمَّ اسْتَقِمْ ‘বল আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম। অতঃপর এর উপর অবিচল থাকো’।[২]

এই মহান ও সার্বিক হাদীছ প্রমাণ করে যে, ঈমান হল একটি পূর্ণাঙ্গ উপদেশ যা দুনিয়া ও আখিরাতের সকল কল্যাণ ও সুখের পথকে অন্তর্ভুক্ত করে। ঈমান কোন বাহ্যিক আচরণের নাম নয়; বরং ঈমান হল সেই বিশ্বাস যা হৃদয়ে গেঁথে থাকে এবং আমলের মাধ্যমে যার সত্যতা প্রমাণিত হয়।

ঈমান হলো সঠিক বিশ্বাস ও দৃঢ় ঈমানী বিশ্বাসের সমষ্টি, যার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়: আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, আখিরাত এবং তাক্বদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান বা বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে।  ছহীহ মুসলিমে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনায় এসেছে যে, জিবরীল (আলাইহিস সালাম) নবী (ﷺ)-কে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তরে বলেন,أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ ‘ঈমান এই যে, তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর প্রেরিত রাসূলগণ, আখিরাত দিবস এবং তুমি তাক্বদীর ও এর ভালো ও মন্দের প্রতিও ঈমান রাখবে’।[৩]

ঈমান হলো পবিত্র আনুগত্য, মহান ইবাদত ও নানা প্রকার নেক আমলের সমন্বয়, যার মাধ্যমে একজন মুসলিম আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করে। এই ইবাদতসমূহ পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত, যা নবী (ﷺ) এর হাদীছে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন,

بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَحَجَّ الْبَيْتِ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ

‘ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত। ১. আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা। ২. ছালাত কায়িম করা। ৩. যাকাত আদায় করা। ৪. বাইতুল্লাহর হজ্জ সম্পাদন করা এবং ৫. রামাযানের সিয়াম পালন করা’।[৪]

এই পাঁচটি ইবাদাত এবং ধর্মের অন্যান্য সকল আমল ও বিধান সবই ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধিদল সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, নবী করীম (ﷺ) তাদের বলেছিলেন,

آمُرُكُمْ بِالْإِيمَانِ بِاللهِ وَحْدَهُ، أَتَدْرُونَ مَا الْإِيمَانُ بِاللهِ؟ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، وَإِقَامُ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، وَصَوْمُ رَمَضَانَ، وَأَنْ تُعْطُوا مِنَ الْمَغْنَمِ الْخُمُسَ

‘আমি তোমাদেরকে এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিচ্ছি। তোমরা কি জান এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন কী? তা হলো- ১. এ সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল ২. ছালাত কায়েম করা ৩. যাকাত প্রদান করা ৪. রামাযানের ছিয়াম পালন করা এবং ৫. গনীমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) প্রদান করা’।[৫]

এই মহান হাদীছ প্রমাণ করে যে, ইসলামের সকল আনুষ্ঠানিকতা, ইবাদাত ও নেক আমল সবই ঈমানের পরিধিভুক্ত। ঈমান কেবল অন্তরের বিশ্বাসেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বাস্তব জীবনের আমল দ্বারা পরিপূর্ণতা লাভ করে।

ঈমানের বহু শাখা-প্রশাখা ও বিভিন্ন প্রকারের আমল রয়েছে। এর কিছু মুখের জবান দ্বারা, কিছু অন্তরের বিশ্বাস দ্বারা এবং কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ দ্বারা সম্পাদিত হয়। নবী (ﷺ) বলেন, الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً، أَعْلاهَا شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ ‘ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ শাখা হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর সাক্ষ্য দেওয়া এবং সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া। আর হায়া (লজ্জা) হলো ঈমানের একটি শাখা’।[৬]

ঈমান হলো হারাম থেকে দূরে থাকা, পাপাচার বর্জন করা এবং গুনাহ পরিহার করা। ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন,

لَا يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَشْرَبُ الْخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَسْرِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَنْتَهِبُ نُهْبَةً يَرْفَعُ النَّاسُ إِلَيْهِ فِيهَا أَبْصَارَهُمْ حِينَ يَنْتَهِبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ

‘যিনি ব্যভিচার করেন, তিনি ব্যভিচার করার সময় মুমিন থাকে না। যে মদ্যপান করে, সে পান করার সময় মুমিন থাকে না। যে চুরি করে, সে চুরি করার সময় মুমিন থাকে না। আর লুটপাটকারীরা যখন প্রকাশ্যে লুটপাট করে, যে অপরাধে লোকেরা তাকে তাকিয়ে দেখে, এমতাবস্থায় সে মুমিন থাকে না’।[৭] এই মহান হাদীছটি ইঙ্গিত করে যে, হারাম কাজ বর্জন করা এবং পাপাচার থেকে দূরে থাকা, এই সবকিছুই ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।

ঈমান হলো অপরের ক্ষতি থেকে বিরত থাকা, যুলুম-অন্যায় থেকে দূরে থাকা এবং ওয়াদা ও অঙ্গীকার, চুক্তি ও আমানত রক্ষা করা। নবী (ﷺ) বলেন, الْمُؤْمِنُ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ عَلَى دِمَائِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ ‘মুমিন সে ব্যক্তি যার থেকে মানুষ নিজের জীবন ও সম্পদকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে মনে করে’।[৮] অন্য হাদীছে তিনি (ﷺ) বলেন, لَا إِيمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ ‘যার মধ্যে আমানতদারিতা নেই, তার মধ্যে ঈমান নেই’।[৯]

ঈমান হচ্ছে পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব, স্নেহ-মমতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা। নবী (ﷺ) বলেন,لا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ ‘তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে, যা নিজের জন্য পছন্দ করে’।[১০] অন্য হাদীছে তিনি (ﷺ) বলেন,

مَثَلُ الْمُؤْمِنِينَ فِي تَوَادِّهِمْ وَتَرَاحُمِهِمْ وَتَعَاطُفِهِمْ مَثَلُ الْجَسَدِ إِذَا اشْتَكَى مِنْهُ عُضْوٌ تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ الْجَسَدِ بِالسَّهَرِ وَالْحُمَّى  

‘মুমিনদের উদাহরণ তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহানুভূতির দৃষ্টান্ত একটি দেহের মতো। যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ অসুস্থ হয়, তখন সমস্ত দেহ জ্বর ও অনিদ্রায় তা অনুভব করে’।[১১]

ঈমান হলো, ঈমানদারদের  মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, দয়া ও সহমর্মিতা এবং একে অপরের জন্য দু‘আ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَ الَّذِیۡنَ جَآءُوۡ مِنۡۢ  بَعۡدِہِمۡ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَا  اغۡفِرۡ لَنَا وَ لِاِخۡوَانِنَا  الَّذِیۡنَ سَبَقُوۡنَا بِالۡاِیۡمَانِ وَ لَا تَجۡعَلۡ  فِیۡ قُلُوۡبِنَا غِلًّا  لِّلَّذِیۡنَ  اٰمَنُوۡا  رَبَّنَاۤ  اِنَّکَ رَءُوۡفٌ  رَّحِیۡمٌ

‘আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে, ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে ও আমাদের সেই ভাইদেরকে ক্ষমা করুন, যারা আমাদের পূর্বে ঈমান এনেছে। আর আমাদের হৃদয়ে ঈমানদারদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের রব! নিশ্চয় আপনি অতি স্নেহশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আল-হাশর : ১০)।

ঈমান হলো আল্লাহর আনুগত্যে অবিচল থাকা, তাঁর ইবাদতে নিয়মিত থাকা এবং মৃত্যু পর্যন্ত এই দ্বীনের উপর অটল থাকা। সুফিয়ান ইবনু আব্দুল্লাহ আস-সাক্বাফী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! ইসলাম সম্পর্কে আমাকে এমন একটি কথা বলুন যা সম্পর্কে আপনার পর আর কাউকে জিজ্ঞাসা করব না। তিনি বললেন, قُلْ آمَنْتُ بِاللهِ ثُمَّ اسْتَقِمْ ‘বল, আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম। অতঃপর এর উপর অবিচল থাকো’।[১২]

ঈমান মানুষের জন্য সৌন্দর্য ও শোভা, মাধুর্য ও তৃপ্তি। এর স্বাদ ও আনন্দ অতুলনীয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ذَاقَ طَعْمَ الإِيمَانِ مَنْ رَضِيَ بِاللهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ ﷺ رَسُولاً ‘সে ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পেয়েছে, যে রব হিসেবে আল্লাহকে, দ্বীন হিসেবে ইসলামকে এবং রাসূল হিসেবে মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে সন্তুষ্ট চিত্তে স্বীকার করেছে’।[১৩] অন্য হাদীছে তিনি (ﷺ) বলেন,

ثَلَاثُ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ بِهِنَّ حَلَاوَةَ الْإِيمَانِ: مَنْ كَانَ اللهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا، وَأَنْ يُحِبُّ الْمَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلهِ، وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَعُودَ فِي الْكُفْرِ بَعْدَ أَنْ أَنْقَذَهُ اللهُ مِنْهُ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ

‘তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে রয়েছে, সে ঈমানের প্রকৃত স্বাদ অনুভব করবে। (১) অন্য সবার তুলনায় যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর (ﷺ)-কে সবকিছুর চেয়ে বেশি ভালোবাসা (২) যে কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তার বান্দাকে ভালোবাসে। এবং (৩) যাকে আল্লাহ কুফর থেকে মুক্তি দিয়েছেন, তারপর সে কুফরের দিকে ফিরে যাওয়াকে এমন অপছন্দ করে, যেমন আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে’।[১৪] ঈমান সৌন্দর্য ও শোভা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর এক দু‘আয় বলতেন, اللَّهُمَّ زَيِّنَّا بِزِينَةِ الْإِيمَانِ وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُهْتَدِينَ ‘হে আল্লাহ! আমাদেরকে ঈমানের সৌন্দর্য দ্বারা সুশোভিত-সজ্জিত করুন। আর আমাদেরকে হেদায়াতপ্রাপ্ত ও হেদায়াত দানকারী বানান’।[১৫] এছাড়াও আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে বলেন, وَ لِبَاسُ التَّقۡوٰی ۙ ذٰلِکَ خَیۡرٌ ‘আর তাক্বওয়ার পোশাক, এটাই সর্বোত্তম’ (সূরা আল-আ‘রাফ : ২৬)।

নিশ্চয়ই ঈমানের অধিকার আদায় করা, ঈমানের মর্যাদা ও গুরুত্ব জানা এবং জীবনের সকল বিষয়ে ঈমানের যত্ন-পরিচর্যাকে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দেয়া ঈমানদারদের জন্য অপরিহার্য। কেননা, ঈমানই হচ্ছে দুনিয়া ও আখিরাতে যাবতীয় কল্যাণ, সৌভাগ্য, সফলতা ও মর্যাদার মূল ভিত্তি।

ঈমান বৃদ্ধি ও শক্তিশালী করার অনেক কারণ রয়েছে, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো, উপকারী জ্ঞান অর্জন করা, কুরআনুল কারীম তেলাওয়াত ও তা গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করা, আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও শ্রেষ্ঠ গুণাবলি জানা, ইসলামের সৌন্দর্য নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা, আমাদের প্রিয় নবী করীম (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীদের জীবনী অধ্যায়ন করা এবং এই বিশাল বিশ্বজগতের মধ্যে যা কিছু রয়েছে তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা, যা আল্লাহর অসংখ্য স্পষ্ট নিদর্শন, অকাট্য প্রমাণ ও উজ্জ্বল দলীল দ্বারা পরিপূর্ণ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে আমাদের রব, আপনি এসব অনর্থক সৃষ্টি করেননি। আপনি পবিত্র মহান। সুতরাং আপনি আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন’ (সূরা আলে ‘ইমরান  : ১৯১)।

আর ঈমান বৃদ্ধি পায় আল্লাহর আনুগত্যে আত্মনিয়োগ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে, তাঁর আদেশসমূহ রক্ষা করা এবং সময়কে তাঁর আনুগত্য ও নৈকট্য অর্জনের কাজে ব্যয় করার মাধ্যমে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ الَّذِیۡنَ جَاہَدُوۡا فِیۡنَا لَنَہۡدِیَنَّہُمۡ سُبُلَنَا ؕ وَ اِنَّ اللّٰہَ  لَمَعَ الۡمُحۡسِنِیۡنَ ‘আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথেই আছেন’ (সূরা আল-‘আনকাবূত : ৬৯)।

আর ঈমান হ্রাস ও দুর্বল হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে, যা থেকে মুমিন বান্দাকে সতর্ক থাকতে হবে এবং এগুলোর মধ্যে কোনোটিতে পতিত হওয়া থেকে সাবধান থাকতে হবে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা, গাফলতি, ঈমান থেকে বিমুখতা, গুনাহ করা, পাপের কাজে লিপ্ত হওয়া, কুপ্রবৃত্তির আত্মার আনুগত্য করা, ফাসেক্ব ও ফাজির লোকদের সাথে মিশে যাওয়া, প্রবৃত্তি ও শয়তানের অনুসরণ করা এবং দুনিয়ার ধোঁকায় পড়া এবং এর ফিতনায় পতিত হওয়া, এমন অবস্থায় পৌঁছে যাওয়া যে, দুনিয়াই মানুষের সবচেয়ে বড় কামনা ও প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। হাকেম তাঁর ‘আল-মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, إِنَّ الإِيمَانَ لَيَخْلَقُ فِي جَوْفِ أَحَدِكُمْ كَمَا يَخْلَقُ الثَّوْبَ الخَلِقِ، فَاسْأَلُوا اللهَ أَنْ يُجَدِّدَ الإِيمَانَ فِي قُلُوبِكُمْ ‘নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে কারও অন্তরে ঈমান পুরনো হয়ে যায়, যেমন কাপড় পুরনো হয়ে যায়। অতএব, তোমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা কর, যেন তিনি তোমাদের অন্তরে ঈমান নবায়ন করে দেন’।[১৬]

হ্যাঁ! নিশ্চয়ই ঈমান পুরনো হয়ে যায়; অর্থাৎ তা দুর্বল ও কমে যায়, যেমন পুরাতন হয়ে যায় কাপড় এবং জীর্ণ হয় কাপড়। আর এর কারণ হলো, এই জীবনে বান্দা যখন পাপ করে এবং গুনাহের কাজে লিপ্ত হয় তখন এর মাধ্যমে ঈমান কমে যায়। তদ্রুপ, বান্দা যখন নানা ধরনের ফেতনা, বিভ্রান্তি ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়, যা তাকে আল্লাহর সৃষ্ট ঈমান থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। যে ঈমান আল্লাহ বান্দার জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং বাস্তবায়নের জন্য আদিষ্ট করেছেন। এ স্থানে নবী (ﷺ) বান্দাকে নির্দেশ দিয়েছেন, অন্তর থেকে আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে মুখ ফেরানো এবং তাঁর নিকট ঈমান নবায়নের জন্য প্রার্থনা করা আবশ্যক। তিনি বলেছেন, فَاسْأَلُوا اللهَ أَنْ يُجَدِّدَ الإِيمَانَ فِي قُلُوبِكُمْ ‘তোমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা কর, যেন তিনি তোমাদের অন্তরে ঈমান নবায়ন করেন’।[১৭] এ স্থানটির দাবি হলো, বান্দা আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করবে এবং তাঁর নিকট বারবার প্রার্থনা করবে তিনি যেন ঈমান বৃদ্ধি করেন, তা মজবুত করেন, অন্তরে তা নবায়ন করেন এবং স্থায়ী করে দেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

یُثَبِّتُ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِالۡقَوۡلِ الثَّابِتِ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَ فِی الۡاٰخِرَۃِ

‘আল্লাহ অবিচল রাখেন ঈমানদারদেরকে সুদৃঢ় বাণী দ্বারা দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে’ (সূরা ইবরাহীম : ২৭)।

এছাড়া বান্দার কর্তব্য হলো সে যেন চেষ্টা ও সাধনা করে ঈমানকে বাস্তবায়ন করে, তা পূর্ণ করে এবং শক্তিশালীকরণে সাধনা করা। কারণ, ঈমান শক্তিশালী ও দুর্বল এবং হ্রাস-বৃদ্ধি হয়।

আর যখন সালাফে উম্মতের প্রথম প্রজন্ম, যারা ছিলেন উম্মতের শ্রেষ্ঠরা, তাঁরা ঈমানের গুরুত্ব ও এর প্রতি প্রচণ্ড প্রয়োজনীয়তাকে উপলব্ধি করলেন যে, ঈমানের প্রয়োজন খাবার, পানি এমনকি বাতাসের চেয়েও অধিক, তখন তাঁরা ঈমানকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করতেন এবং সব কিছুর উপরে এর যত্ন নিতেন। তাঁরা নিজেদের ঈমানের যত্ন নিতেন, নিজেদের আমল যাচাই করতেন এবং একে অপরকে নসীহত করতেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সাথীদের বলতেন, هَلُمُّوا نَزْدَدْ إِيمَانًا ‘চলো, আমরা ঈমানে বৃদ্ধি লাভ করি’।[১৮]

আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলতেন, اجْلِسُوا بِنَا نَزْدَدْ إِيمَانًا ‘এসো, আমরা বসে ঈমান বাড়াই’।[১৯] তিনি দু‘আয় বলতেন, اللَّهُمَّ زِدْنَا إِيمَانًا، وَيَقِينًا، وَفِقْهًا ‘হে আল্লাহ! আমাদের ঈমান, নিশ্চিত বিশ্বাস এবং ফিক্বহ বাড়িয়ে দিন’।[২০]

আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর কিছু সাথীর হাত ধরতেন এবং বলতেন,تَعَالَوْا نُؤْمِنُ سَاعَةً تَعَالَوْا فَلْنَذْكُرِ اللهَ وَنَزْدَدْ إِيمَانًا، تَعَالَوْا نَذْكُرُهُ بِطَاعَتِهِ لَعَلَّهُ يَذْكُرُنَا بِمَغْفِرَتِهِ ‘এসো, আমরা এক ঘণ্টার জন্য ঈমান অর্জন করি। এসো, আমরা আল্লাহকে স্মরণ করি এবং তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে ঈমানে বৃদ্ধি লাভ করি, হয়তো তিনি আমাদের তাঁর ক্ষমার কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন’।[২১]

আবূ দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন, مِنْ فِقْهِ الْعَبْدِ أَنْ يَعْلَمَ أَمُزْدَادٌ هُوَ أَوْ مُنْتَقِصٌ ‘একজন বান্দার জন্য সবচেয়ে বড় বোধশক্তির পরিচয় হলো, সে যেন বুঝতে পারে তার ঈমান বাড়ছে না কমছে’।[২২] অর্থাৎ ঈমান হলো,وَإِنَّ مِنْ فِقْهِ الْعَبْدِ أَنْ يَعْلَمَ نَزَعَاتِ الشَّيْطَانِ أَنَّى تَأْتِيهِ ‘একজন ফক্বীহ (দ্বীন সম্পর্কে গভীরভাবে বুঝা ব্যক্তি) সেই, যে শয়তানের ধোঁকার পথগুলো চেনে, যেখান থেকে শয়তান তার কাছে আসে’।[২৩]

উমাইর ইবনু হাবীব আল-খাতমি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন, الْإِيمَانُ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ ‘ঈমান বাড়ে এবং কমে। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, এর হ্রাস-বৃদ্ধি কীভাবে ঘটে? তিনি বললেন,

إِذَا ذَكَرْنَا اللهَ عَزَّ وَجَلَّ وَحَمِدْنَاهُ وَسَبَّحْنَاهُ، فَتِلْكَ زِيَادَتُهُ، وَإِذَا أَغْفَلْنَا وَضَيَّعْنَا وَأَسَأْنَا فَذَاكَ نُقْصَانُهُ

‘যখন আমরা আল্লাহকে স্মরণ করি, তাঁর প্রশংসা করি এবং তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করি, তখন তা ঈমানের বৃদ্ধি। আর যখন আমরা উদাসীন হই, অবহেলা করি এবং ভুলে যাই, তখন তা ঈমানের হ্রাস’।[২৪]

আল্লাহ আমাদের সকলের ঈমান বাড়িয়ে দিন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ার মাধ্যমে আমাদের সত্য ও হেদায়েতের ওপর স্থির রাখুন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী, উত্তরদানকারী। আর আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ﷺ), তাঁর পরিবার এবং সাহাবীদের উপর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক।



* ফাযিল (সমমান স্নাতক), ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়, বি.এ অনার্স, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী।

তথ্যসূত্র :

[১]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৫৪।
[২]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫৪৫৪; সনদ ছহীহ।
[৩]. ছহীহ মুসলিম, হা/৮।
[৪]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৬।
[৫]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৩।
[৬]. ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/১৯১, সনদ ছহীহ।
[৭]. ছহীহ বুখারী, হা/২৪৭৫।
[৮]. তিরমিযী, হা/২৬২৭, সনদ ছহীহ।
[৯]. শু‘আবুল ঈমান, হা/৪০৪৫; সনদ ছহীহ, ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩০০৪।
[১০]. ছহীহ বুখারী, হা/১৩।
[১১]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৮৬।
[১২]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫৪৫৪; সনদ ছহীহ।
[১৩]. ছহীহ মুসলিম, হা/৩৪।
[১৪]. ছহীহ মুসলিম, হা/৪৩।
[১৫]. নাসাঈ, হা/১৩০৫, সনদ ছহীহ।
[১৬]. মুসতাদরাক হাকিম, হা/৫, সনদ হাসান।
[১৭]. মুসতাদরাক হাকিম, হা/৫, সনদ হাসান।
[১৮]. শারহু উছূলি ই‘তিকাদিল আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত, ৫ম খণ্ড, পৃ. ১০১২।
[১৯]. বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, হা/৪৪।
[২০]. আবূ বকর আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু হারূন আল-বাগদাদী আল-হানবালী, আস-সুন্নাহ, হা/১১২০; শারহু উছূলি ই‘তিকাদিল আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত, ৫ম খণ্ড, পৃ. ১০১৩।
[২১]. মুছান্নাফ ইবনু আবি শায়বাহ, হা/৩০৪২৬, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ১৭০।
[২২]. ইবনু বাত্ত্বাহ, আল-ইবানাতুল কুবরা, হা/১১৪০, ২য় খণ্ড, পৃ. ৮৪৯।
[২৩]. ইবনু বাত্ত্বাহ, আল-ইবানাতুল কুবরা, হা/১১৪০, ২য় খণ্ড, পৃ. ৮৪৯।
[২৪]. আস-সুন্নাহ, হা/১১৪১; শারহু উছূলি ই‘তিকাদিল আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত, হা/১৭২১, ৫ম খণ্ড, পৃ. ১০১৯।




প্রসঙ্গসমূহ »: ঈমান-আক্বীদা
বিদ‘আত পরিচিতি (১৫তম কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
মসজিদ: ইসলামী সমাজের প্রাণকেন্দ্র (৭ম কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
কুসংস্কার প্রতিরোধে সুন্নাহর ভূমিকা - ড. সাদীক মাহমূদ
মাতুরীদী মতবাদ ও তাদের ভ্রান্ত আক্বীদাসমূহ (১১তম কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
ইসলামে পর্দার বিধান (শেষ কিস্তি) - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর
ইমাম মাহদী, দাজ্জাল ও ঈসা (আলাইহিস সালাম) -এর আগমন সংশয় নিরসন (৬ষ্ঠ কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
আল-কুরআনের ব্যাপারে অমুসলিমদের মিথ্যা অভিযোগ ও তার খণ্ডন - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
বিদ‘আত পরিচিতি (৪র্থ কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
ছয়টি মূলনীতির ব্যাখ্যা (২য় কিস্তি) - অনুবাদ : আব্দুর রাযযাক বিন আব্দুল ক্বাদির
ইসলামে দারিদ্র্য বিমোচনের কৌশল (২য় কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
ইসলামী পুনর্জাগরণের প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণের উপায় (৬ষ্ঠ কিস্তি) - ড. মুযাফফর বিন মুহসিন
জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ - অনুবাদ : মুহাম্মদ ইমরান বিন ইদরিস

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ