উত্তর : ছালাতের মধ্যে চক্ষু খুলে রাখা সুন্নাত। সেটা দাঁড়ানো অবস্থায় হোক বা সাজদায় হোক। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কা‘বা গৃহে প্রবেশ করার পর সেখান থেকে বের হওয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর দৃষ্টি সিজদার স্থান হতে সরাননি (মুসতাদরাক হাকেম, হা/১৭৬১; সুনানুছ-ছুগরা, হা/১৩৬৭)। ক্বিলাবা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি মুসলিম ইবনু ইয়াসারকে জিজ্ঞাসা করলাম। ছালাতে মুছল্লীর দৃষ্টি কোথায় থাকবে? তিনি বললেন, তোমার সিজদার, স্থানে (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, হা/৬৫৬২)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, একবার নবী (ﷺ) একটি নকশা করা চাদর পরে ছালাত আদায় করলেন। ছালাতের পরে তিনি বললেন, ‘এ চাদরের কারুকার্য আমার মনকে নিবিষ্ট করে রেখেছিল। এটি আবূ জাহমের কাছে নিয়ে যাও এবং এর পরিবর্তে একটি ‘আম্বিজানিয়্যা’ (নকশাহীন চাদর) নিয়ে এসো’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭৫২)।
আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর একটি পর্দা ছিল, যা দ্বারা তিনি ঘরের একদিক ঢেকে রেখেছিলেন। নবী করীম (ﷺ) বললেন, ‘তোমার এ পর্দা সরিয়ে ফেল। কারণ তার ছবিসমূহ আমার ছালাতের মাঝে আমার চোখে পড়ে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৭৪; মিশকাত, হা/৭৫৮)। যদি ছালাতে চক্ষু বন্ধ করে রাখা শরী‘আতসম্মত হত, তাহলে রাসূল (ﷺ) অবশ্যই চক্ষু বন্ধ রাখতেন এবং সেই চিত্রগুলো তাকে অমনোযোগী করত না (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়েমা, ৫/৩৭৯ পৃ.)। উল্লেখ্য, অনেকে বলে থাকেন, ছালাতে খুশূ‘-খুযূ সৃষ্টির জন্য চক্ষু বন্ধ করা যায়। তাদের এই বক্তব্যের পক্ষে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না।
প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ যুবাইর, নেত্রকোনা।