উত্তর : মুসলিমদের জন্য মুশরিকদের ঈদ-উৎসবে উপস্থিত হওয়া বৈধ নয়। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, তোমরা তাদের ঈদের দিনে মুশরিকদের গির্জায় প্রবেশ করো না; কেননা সে সময় তাদের উপর আল্লাহর গযব নাযিল হয়’। তিনি আরও বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর শত্রুদের ঈদসমূহ থেকে দূরে থাকো’। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আজম (অমুসলিম) জাতিদের দেশে যায়, তাদের নওরোজ ও মাহরজান পালন করে এবং তাদের সঙ্গে সাদৃশ্য গ্রহণ করে, এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে- ক্বিয়ামতের দিন তাকে তাদের সঙ্গেই উঠানো হবে’ (আহকামু আহলিয যিম্মাহ, ১/৭২৩-৭২৪)। যেখানে শরী‘আত বিরোধী কার্যকলাপ সংঘটিত হয় কিংবা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যেমন : গান-বাজনা, নৃত্য, অশ্লীলতা, মদ, শুকুরের গোশত ইত্যাদি, সেখানে উপস্থিত হওয়া যাবে না। অমুসলিমদের মন্দির বা পূজা পরিদর্শন করা বা উদ্বোধন করা কোন মুসলিমের জন্য হারাম। কেননা এতে তাদের শিরকী কর্মকাণ্ডের প্রতি স্বীকৃতি ও ভালোবাসার প্রকাশ পায়।
অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহ্কে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)। উপরিউক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে আল্লাহ তা‘আলা মুমিন ব্যক্তিদেরকে ভালো কাজে সহযোগিতা করতে আদেশ করেছেন এবং অন্যায়, অসৎ ও হারাম কাজে সাহায্য, সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন (তাফসীর ইবনে কাছীর, ২/১২; তাফসীরে কুরতুবী, ৬/৪৬-৪৭ পৃ.)।
অনুরূপভাবে মূর্তিওয়ালা কোন ঘরে বা উপাসনালয়ে প্রবেশ করাকেও বিদ্বানগণ মাকরূহ বলেছেন (ফাতাওয়া আল-কুবরা ইবনে তাইমিয়্যাহ, ৫/৩২৭ পৃ.)। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী করীম (ﷺ) যখন কা‘বা ঘরে ছবিগুলো দেখতে পেলেন, তখন যে পর্যন্ত তাঁর নির্দেশে তা মিটিয়ে ফেলা না হল, সে পর্যন্ত তিনি সেখানে প্রবেশ করলেন না (ছহীহ বুখারী, হা/১৬০১, ৩৩৫২, ৪২৮৮; আবূ দাঊদ, হা/২০২৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৪৫৫)। শাইখ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, কখনোই কোন কাফির বা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতাকারীদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব স্থাপন করা যাবে না (সূরা আল-মুজাদালাহ : ২২)। তবে মৌখিকভাবে ব্যবসায়িক আদান-প্রদান, হালাল খাদ্যের দাওয়াত ক্ববুল ও উপঢৌকন গ্রহণ করা জায়েয (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৮৭৯৮)।
দ্বিতীয়তঃ আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে অমুসলিমদের দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন। যেমন তিনি বলেন, ‘যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে না এবং তোমাদেরকে স্বভূমি হতে বহিষ্কার করার চেষ্টা করে না, তাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়-পরায়ণদেরকে ভালোবাসেন। পক্ষান্তরে আল্লাহ শুধু তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে স্বদেশ থেকে বহিষ্কার করেছে এবং তোমাদের বহিষ্করণে সহযোগিতা করেছে। তাদের সাথে যারা বন্ধুত্ব করে, তারাই তো অত্যাচারী (সূরা আল-মুমতাহিনা : ৮-৯)। এখানে আল্লাহ্ তা’আলা কাফিরদের দু’টি অবস্থা বর্ণনা করেছেন। যথা :
(১) এমন কাফির যারা দ্বীন ইসলামের কারণে মুসলিমদের সাথে শত্রুতা ও বিদ্বেষ রাখে না এবং এর ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে না। তারা তোমাদের সাথে এমন আচরণও করে না যে, তোমরা হিজরত করতে বাধ্য হয়ে যাও। তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অন্যান্য কাফিরদেরকে কোন প্রকার সাহায্য-সহযোগিতাও করে না, না পরামর্শ দিয়ে, আর না অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে। এই ধরনের কাফিরদের সাথে অনুগ্রহ প্রদর্শন এবং সুবিচারপূর্ণ আচরণ করা নিঃসন্দেহে জায়েয। তাদের সাথে পার্থিব লেনদেন ও আচার-ব্যবহার বিষয়ক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেমন, আসমা বিনতে আবী বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর মুশরিক মায়ের সাথে সদ্ব্যবহার করা সম্পর্কে নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বললেন, صِلِىْ أُمَّكِ ‘তোমার মায়ের সাথে সদ্ব্যবহার কর’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬২০, ৩১৮৩, ৫৯৭৮, ৫৯৮৯; ছহীহ মুসলিম, হা/১০০৩)।
(১) এমন কাফির যারা দ্বীন ইসলামের কারণে মুসলিমদের সাথে শত্রুতা ও বিদ্বেষ রাখে না এবং এর ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে না। তারা তোমাদের সাথে এমন আচরণও করে না যে, তোমরা হিজরত করতে বাধ্য হয়ে যাও। তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অন্যান্য কাফিরদেরকে কোন প্রকার সাহায্য-সহযোগিতাও করে না, না পরামর্শ দিয়ে, আর না অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে। এই ধরনের কাফিরদের সাথে অনুগ্রহ প্রদর্শন এবং সুবিচারপূর্ণ আচরণ করা নিঃসন্দেহে জায়েয। তাদের সাথে পার্থিব লেনদেন ও আচার-ব্যবহার বিষয়ক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেমন, আসমা বিনতে আবী বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর মুশরিক মায়ের সাথে সদ্ব্যবহার করা সম্পর্কে নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বললেন, صِلِىْ أُمَّكِ ‘তোমার মায়ের সাথে সদ্ব্যবহার কর’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬২০, ৩১৮৩, ৫৯৭৮, ৫৯৮৯; ছহীহ মুসলিম, হা/১০০৩)।
পক্ষান্তরে যে সমস্ত কাফিরের মধ্যে পূর্বোক্ত গুণাবলীগুলো থাকবে না, বরং যারা এর বিপরীত আচরণ করে, তাদের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ আচরণ করা যাবে না এবং তাদের সঙ্গে আদান-প্রদান ও বন্ধুত্ব স্থাপনও করা যাবে না (সূরা আল-মায়িদাহ : ৫১)। সুতরাং মুসলিম বিদ্বেষী ও সাম্প্রদায়িক অমুসলিমদের সঙ্গে আদান-প্রদান করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে।
প্রশ্নকারী : ইবরাহীম খলীল, রায়পুরা, নরসিংদী।