উত্তর : অন্যের ফোনে থাকা ছবিগুলো ডিলিট করতে যেহেতু অপারগ, তাই আশা করা যায় কোন শাস্তি হবে না ইনশাআল্লাহ। কেননা আল্লাহ তা‘আলা সাধ্যের বাইরে কোন কাজ বান্দার উপর চাপিয়ে দেননি। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ মানুষের সাধ্যাতীত কোন কিছু তার উপর চাপিয়ে দেননি’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ২৮৬)। তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা সাধ্যানুযায়ী আল্লাহকে ভয় কর’ (সূরা আত-তাগাবুন: ১৬)। এক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে কঠোরভাবে তাওবাহ করলে ইনশাআল্লাহ আযাব হবে না। প্রত্যেক পাপ থেকে তাওবাহ করা অপরিহার্য। যদি গুনাহের সম্পর্ক আল্লাহর (অবাধ্যতার) সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তাহলে এ ধরনের তাওবাহ ক্ববুলের জন্য নিম্নোক্ত তিনটি শর্ত রয়েছে। যথা: (১) পাপকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে। (২) কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে। (৩) ঐ পাপ পুনরায় না করার দৃঢ় সঙ্কল্প করতে হবে। সুতরাং যদি এর মধ্যে একটি শর্তও লুপ্ত হয়, তাহলে সেই তাওবাহ বিশুদ্ধ হবে না। পক্ষান্তরে যদি সেই পাপ মানুষের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে তা ক্ববুলের জন্য চারটি শর্ত আছে। উপরিউক্ত তিনটি এবং চতুর্থ শর্ত হল- অধিকারীর অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। যদি অবৈধ পন্থায় কারো মাল বা অন্য কিছু নিয়ে থাকে, তাহলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে (রিয়াযুছ ছালিহীন, তাওবাহ অনুচ্ছেদ, পৃ. ১৪-২২)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘(হে নবী!) বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আয-যুমার: ৫৩)।
অতএব আপনি বেশি-বেশি আমালে ছালেহ, ছালাত, তাওবাহ-ইস্তিগফার ইত্যাদি করুন। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, الَتَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ ‘গুনাহ থেকে তওবাকারী নিষ্পাপ ব্যক্তিতুল্য’ (ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫০, সনদ হাসান)।
প্রশ্নকারী : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, রাজশাহী।