বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন
উত্তর : খাঁটি ঈমানদারগণ ও মুত্তাক্বীদেরকে আল্লাহর ওলী বলে, যাঁরা তাঁদের সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা‘আলাকে স্মরণ করে, তাঁর আদেশসমূহকে পালন করে এবং নিষেধগুলোকে বর্জন করে। আল্লাহ বলেন, ‘মনে রেখো! আল্লাহর ওলীদের (বন্ধুদের) কোন আশঙ্কা নেই আর তাঁরা বিষণ্ণ ও হবে না। তাঁরা হচ্ছেন সেই লোক, যাঁরা ঈমান এনেছে এবং তাক্বওয়া অবলম্বন করেছে। তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে পার্থিব জীবনে এবং পরকালেও, আল্লাহর বাণীসমূহের কোন পরিবর্তন নেই, এটাই হচ্ছে বিরাট সফলতা’ (সূরা ইউনুস : ৬২-৬৪; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১০৭২৮৩)।

উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা জানিয়ে দিচ্ছেন যে, তাঁর বন্ধু হচ্ছে ঐ সমস্ত লোক যারা ঈমান আনয়নের পর আল্লাহভীরুতাও অবলম্বন করে থাকে। সুতরাং এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যারা ঈমানদার ও আল্লাহভীরু তাঁরাই আল্লাহর বন্ধু। তাঁরা মহাপ্রলয়ের দিবস সম্পর্কে এবং পারলৌকিক অবস্থা সম্পর্কে মোটেও শংকিত নন। আর দুনিয়ার জীবন সম্পর্কেও তাঁরা কখনো দুঃখ-চিন্তায় নিমগ্ন হন না। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা), ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং অন্যান্য একাধিক সালাফ বলেন, ‘আল্লাহর অলী হচ্ছে ঐ লোকেরা যারা সদা-সর্বদা আল্লাহর স্মরণ ও চিন্তায় নিমগ্ন থাকেন’।
আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কিছু এমন লোকও রয়েছে যারা নবীও নন এবং শহীদও নন। কিন্তু ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট তাঁদের মর্যাদা দেখে নবী ও শহীদগণ তাঁদের উপর ঈর্ষান্বিত হবেন এবং তাঁদের মত মর্যাদা কামনা করবেন। ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের অবহিত করুন, তাঁরা কারা? তিনি বলেন, তাঁরা ঐ সব লোক যারা আল্লাহর মহানুভবতায় পরস্পরকে ভালোবাসে, অথচ তাঁরা পরস্পর আত্মীয়ও নন এবং পরস্পরকে সম্পদও দেননি। আল্লাহর শপথ! তাঁদের মুখমণ্ডল নূরানী হবে এবং তাঁরা নূরের আসনে উপবেশন করবেন। যখন মানুষেরা ভীত অবস্থায় থাকবে, তখন তাঁরা ভীত হবেন না। যখন মানুষেরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকবে, তখন তাঁরা দুশ্চিন্তায় পড়বেন না। অতঃপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন, ‘জেনে রাখো! আল্লাহর বন্ধুদের কোন ভয় নেই এবং তাঁরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে না’ (সূরা ইউনুস : ৬২; আবূ দাঊদ হা/৩৫২৭; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩০২৩; ছহীহুল মাওয়ারিদ, হা/২১২৬; সিলসিলা ছহীহাহ, ৭/১৩৬৯ পৃ.; তাফসীরে ইবনু কাছীর, ৪/২১৪ পৃ.)।

শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুমিন ও মুত্তাক্বী তিনিই আল্লাহর অলী। আর যে এমন নয়, সে ওলীও নয়। যার মধ্যে কিছুটা ঈমান ও তাক্বওয়া আছে, তার মধ্যে কিছুটা বন্ধুত্ব আছে’ (ফাতাওয়া মুহিম্মাহ, পৃ. ৮৩)।

উল্লেখ্য, বর্তমান যুগের কোন মানুষ ছাহাবী বা তাবিঈ হতে পারবে না। কেননা এই পরিভাষা একটি নির্দিষ্ট সময়ের লোকদের জন্যই নির্ধারিত। কিন্তু অলী হওয়ার বিষয়টি কোন একটি সময়ের, যুগের, পরিবারের, সমাজের, দলের, উপদলের, গোষ্ঠীর, সম্প্রদায়ের জন্য নির্দিষ্ট নয়। বরং এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যে বা যারা আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক নির্বাচিত গুণে গুণান্বিত, তাঁরাই আল্লাহর অলী। অথচ আজ আমাদের সমাজের কথিত ধর্মের ঠিকাদাররা স্ব স্ব তরীকা ও মাযহাবের কিছু লোককে ওলীর সার্টিফিকেট প্রদান করেছে, যাদেরকে পীর-ফকীর, দরবেশ বলা হয়। যদিও এদের মধ্যে ওলী হওয়ার কোন গুণ নেই। পক্ষান্তরে আল্লাহ তা‘আলার এ বিধান সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য। যে কেউ ঈমান আনয়ন করে ও তাক্বওয়া অবলম্বন করে, তাঁর আদেশসমূহকে পালন করে এবং নিষেধগুলোকে বর্জন করে অলী হতে পারে’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১০৭২৮৩)।

ইমাম যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) আব্দুল ক্বাদির জিলানী (রাহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে বলেন, ‘তিনি শায়খ, ইমাম, আলিম, দুনিয়াবিমুখ, অভিজ্ঞ, সহনশীল, অনুসরণীয়, শাইখুল ইসলাম ও ওলীদের ঝাণ্ডা ছিলেন’ (সিয়ারু ‘আলামিন নুবালা, ২০/৪৩৯ পৃ.)। ইমাম ছাম‘আনী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আব্দুল ক্বাদির ‘জলান’ শহরের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি তাঁর সময়কালে হাম্বালী মাযহাবের ইমাম ও শায়খ ছিলেন। এছাড়া তিনি ফিক্বাহশাস্ত্রবিদ, সৎ, ধার্মিক, দ্বীনদার, পরোপকারী, অধিক যিকিরকারী, অবিচল চিন্তাশীল ও দ্রুত অশ্রু প্রবাহিতকারী ছিলেন (সিয়ারু ‘আলামিন নুবালা, ২০/৪৪১ পৃ.)। ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সৎ কার্যের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা ছাড়াও তাঁর ছিল উত্তম চরিত্র ও নিস্তব্ধতা এবং তিনি প্রচুর পরিমাণে ইবাদত করতেন। তাঁর অনুসারী ও সাথীরা তাঁর কথা ও কাজ সম্পর্কে অধিকাংশ বিষয়ে অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি করেছে। তিনি সৎ ও আল্লাহভীরু ছিলেন। তিনি ‘গুনইয়াহ’ ও ‘ফুতূহুল-গায়িব’ নামে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে অনেক ভাল জিনিস রয়েছে। তবে তিনি তার মধ্যে অনেক দুর্বল ও বানোয়াট হাদীছ উল্লেখ করেছেন। মোদ্দাকথা তিনি শায়খদের অন্যতম ছিলেন (আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ, ১২/৭৬৮ পৃ.)।

শায়খ ড. সাঈদ ইবনু মুসফির আল-ক্বাহত্বানী (রাহিমাহুল্লাহ) ‘উম্মুল কুরা’ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচ.ডি করার সময় শায়খ আব্দুল ক্বাদীর জিলানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী ও আক্বীদা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন এবং এ সম্পর্কে তিনি ‘আশ-শায়খ আব্দুল ক্বাদীর জিলানী ওয়া আরাউহুল ই‘তিক্বাদিয়্যাহ ওয়াছ-ছূফিয়্যাহ’ নামে একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনা করেন। তিনি তাঁর প্রবন্ধের সারমর্মে লিখেছেন, ‘শায়খ আব্দুল ক্বাদির জিলানী (রাহিমাহুল্লাহ) সালাফী আক্বীদায় বিশ্বাসী ছিলেন। আক্বীদার সকল বিষয়ে তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের মানহাজ অনুসরণ করতেন। যেমন ঈমান, তাওহীদ, নুবুওয়াত ও ক্বিয়ামতের বিষয়ে। তিনি প্রথম যুগের ছূফীবাদের অন্যতম উস্তাদ ছিলেন। সেই সময় ছূফীবাদের অধিকাংশ বিষয় কুরআন ও সুন্নাহর নিকটবর্তী ছিল। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে বাড়াবাড়ি, আতিশয্য, বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি শুরু হয়। তাঁর নামে যে সমস্ত কারামাত বর্ণনা করা হয়ে থাকে, তার সিংহভাগে আতিশয্য ও বাড়াবাড়ি আছে, এবং তার বৃহৎ অংশই ছহীহ নয় (আশ-শায়খ আব্দুল ক্বাদির জিলানী ওয়া আরাউহুল ই‘তিক্বাদিয়্যাহ ওয়াছ-ছূফিয়্যাহ, পৃ. ৬৬০-৬৬১; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৪৩৬১৫, ১২৯৩২)।


প্রশ্নকারী : কাওছার, পত্নীতলা, নওগাঁ।





প্রশ্ন (২০) : তাওহীদ কাকে বলে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : জুম‘আর দিন চুপ থেকে খুত্ববাহ শুনলে ৭ কোটি ৭ লক্ষ ৭০ হাযার নেকী হবে। উক্ত ফযীলত কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : এমন সংগীত যেখানে বাদ্য-যন্ত্রের ব্যবহার খুব‌ই কম এবং মুহাম্মাদ রাফী, তালাত মাহমুদ প্রভৃতিদের গাওয়া গান কি শোনা জায়েয হবে? এ সকল গানে কোন অশ্লীলতা, কিংবা যৌন উত্তেজনা সম্পর্কিত কিছু নেই। এগুলো শোনা কি জায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৪) : আল্লাহ যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪): বর্ণিত আছে, ‘যে ব্যক্তি রাতে ‘সূরা হা-মীম দুখান’ পড়ে সকালে উঠে, তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রর্থনা করতে থাকেন (তিরমিযী, হা/২৮৮৮; মিশকাত, হা/২১৪৯)। এ বর্ণনাটি কি বিশুদ্ধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : আহলে কিতাবদের যব্হ করা খাবার খাওয়া কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : মসজিদের বারান্দায় ই‘তিকাফ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : বাদ্যযন্ত্র কি হালাল? তা কোনভাবে হালালের ন্যূনতম অবকাশ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : খাদ্য ও পানীয় হারাম হলে দু‘আ কবুল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : আব্দুল্লাহ ইবনু শাকীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘মানুষের হৃদয়ে আছে দু’টি কুঠরী, একটিতে থাকে ফেরেশতা, অপরটিতে থাকে শয়তান। মানুষ যখন আল্লাহর যিকিরে মগ্ন হয়, তখন শয়তান পিছনে সরে যায়। আর যখন মানুষ যিকির থেকে উদাসীন থাকে, তখন সে তার ঠোঁট দিয়ে হৃদয়ে ঠোকর মারতে থাকে। হৃদয়ে প্রক্ষেপ করে প্ররোচনা’। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : ইসলামী শরী‘আতে কৃপণতার সীমারেখা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : গীবত বা বান্দার সাথে সংশ্লিষ্ট গুনাহ মাফ করানোর জন্য কী কী কাজ করা যেতে পারে, যদি সে বান্দাকে না পাওয়া যায়?   - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ