রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ন
উত্তর : বিবাহ একটি সামাজিক অনুষ্ঠান। একজন নারী ও একজন পুরুষ তারা সমাজেরই লোক, যারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পারস্পরিক দাম্পত্য জীবন-যাপন করে। কাজেই তাদের সুষ্ঠু জীবন-যাপনের জন্য শারঈ অনুমোদন একান্তই অপরিহার্য। কারণ ইসলামে নারী-পুরুষের গোপন মিলনকে স্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছে এবং ওলীবিহীন বিবাহ হলে তাকে বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে (ছহীহ বুখারী, ‘বিবাহ’ অধ্যায়-৬৭, অনুচ্ছেদ-৩৬; আবু দাঊদ, হা/২০৮৫; তিরমিযী, হা/১১০১; ইবনু মাজাহ, হা/১৮৮০-১৮৮১; মিশকাত, হা/৩১৩০; সনদ ছহীহ, ছহীহুল জামে‘, হা/৭৫৫৫)। আল্লাহ তা‘আলা পুরুষদের ব্যাপারে বলেন, وَ اُحِلَّ لَکُمۡ مَّا وَرَآءَ ذٰلِکُمۡ اَنۡ تَبۡتَغُوۡا بِاَمۡوَالِکُمۡ مُّحۡصِنِیۡنَ غَیۡرَ مُسٰفِحِیۡنَ ‘তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে যে, তোমরা স্বীয় ধন-সম্পদের দ্বারা বিবাহ করার জন্য তাদের অনুসন্ধান কর ব্যভিচারের উদ্দেশ্য নয়’ (সূরা আন-নিসা : ২৪)। অন্যত্র নারীদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন,

.فَانۡکِحُوۡہُنَّ بِاِذۡنِ اَہۡلِہِنَّ وَ اٰتُوۡہُنَّ اُجُوۡرَہُنَّ بِالۡمَعۡرُوۡفِ مُحۡصَنٰتٍ غَیۡرَ مُسٰفِحٰتٍ وَّ لَا مُتَّخِذٰتِ اَخۡدَانٍ

‘অতএব তাদের মনিবদের অনুমতিক্রমে তাদের মধ্যকার সতী-সাধ্বীদেরকে বিবাহ কর এবং তাদেরকে নিয়ম অনুযায়ী মোহর প্রদান কর; ব্যভিচারিণী ও অতীব সংগোপনে বন্ধুত্বকারিণী হয়ে নয়’ (সূরা আন-নিসা : ২৫)। উক্ত আয়াতদু’টি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, বিবাহ গোপনীয় জিনিস নয়, বরং যিনা গোপনীয় জিনিস। বিবাহের ব্যাপারটা সমাজের লোককে জানাতে হবে, তার প্রতি তাদের সমর্থনও থাকতে হবে। এজন্য বিবাহ গোপনে অনুষ্ঠিত হলে চলবে না, বরং তা হতে হবে প্রকাশ্যে সকলকে জানিয়ে সমাজের সমর্থন নিয়ে। হাদীছে এসেছে, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, إِعْلِنُوْا هَذَا النِّكَاحَ ‘তোমরা এই বিবাহের অনুষ্ঠানের ব্যাপক প্রচার কর’ (তিরমিযী, হা/১০৮৯; ইবনু মাজাহ, হা/১৮৯৫; মিশকাত, হা/৩১৫২; হাদীছটির এ অংশ হাসান, ইরওয়াউল গালীল, হা/১৯৯৩, ৭/৫০ পৃ.; নাছিরুদ্দীন আলবানী, আদাবুয যিফাফ, পৃ. ১০৭)। বিবাহের অন্যতম নির্দেশনা হল অলীমাহ। যা গোপন বিবাহকেও রহিত করে। হাদীছে এসেছে, আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)) থেকে বর্ণিত,

.أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ  رَأَى عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ  أَثَرَ صُفْرَةٍ فَقَالَ مَا هَذَا؟ قَالَ إِنِّي تَزَوَّجْتُ امْرَأَةً عَلَى وَزْنِ نَوَاةٍ مِنْ ذَهَبٍ قَالَ بَارَكَ اللهُ لَكَ أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ

‘নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আব্দুর রহমান ইবনু ‘আওফের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) গায়ে হলুদ রঙের চিহ্ন দেখে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কী? তিনি বললেন, আমি খেজুর আটির সমপরিমাণ ওযনের স্বর্ণ দিয়ে একজন মহিলাকে বিবাহ করেছি। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘আল্লাহ তোমার বিবাহে রবকত দান করুন। একটি ছাগল দ্বারা হলেও তুমি অলীমাহ কর (ছহীহ বুখারী, হা/৫১৫৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪২৭; মিশকাত, হা/৩২১০)।


প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ আরীফুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ।




প্রশ্ন (২৭) : বাচ্চাদের বদনযর থেকে রক্ষা পাওয়ার দু’আ এবং উপায়সমূহ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৪) : ঈদুল ফিতরের ছালাত আদায়ের পর পরিবারের সবাই মিলে কবর যিয়ারত করা কি যায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : সফরে সর্বোচ্চ কতদিন পর্যন্ত ক্বছর করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : জনৈক বক্তা বলেন, ইসলাম ধর্মে এমন একটি নফল ছালাত আছে যা সফর মাসের শেষ বুধবার পূর্বাহ্নের প্রথম প্রহরে এক সালামে চার রাক‘আত আদায় করা খুবই ফযীলতপূর্ণ। পদ্ধতি হল, প্রত্যেক রাক‘আতে সূরা ফাতিহার সঙ্গে ১৭ বার সূরা কাওছার, ৫০ বার সূরাহ ইখলাছ এবং একবার করে সূরা নাস ও ফালাক্ব পাঠ করে। সালাম ফিরানোর পর সূরা ইউসুফের ২১ নং আয়াতের শেষাংশ ৩৬০ বার পাঠ করবে। শেষে সূরা আস-সাফফাতের ১৮০-১৮২ নং আয়াত পাঠ করে শেষ করবে। অতঃপর ফক্বীর মিসকীনদের মাঝে কিছু রুটি ছাদাক্বাহ করবে। এর মাধ্যমে বুধবার নাযিল হওয়া সমস্ত বিপদ থেকে মুক্তি লাভ করবে। কারণ প্রত্যেক বছর এই দিন ২০ হাজার ৩০০ শত বালা-মুছীবত নাযিল হয়। প্রশ্ন হল, উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : বালতিতে বা আবদ্ধ পাত্রে নাপাক কাপড় ধৌত করলে তা কীভাবে পবিত্র করতে হবে? অনেকে বলে ৩ বার ধৌত করলেই তা পবিত্র হয়ে যাবে। এ কথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোন একজন কাফের কিংবা মুরতাদ হলে অপরজনের করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : নিজের বোনের মেয়ের মেয়েকে (বোনের নাতনী) কি বিয়ে করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : রামাযান শব্দের অর্থ কী? রামাযানের উদ্দেশ্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : ঈদের দিনে কুরবানীর পশুর রক্ত ঝরানোর চেয়ে আল্লাহর নিকট অধিক পসন্দনীয় কোন আমল নেই। সে ক্বিয়ামত দিবসে উক্ত পশুর শিং, খুর, লোম প্রভৃতি নিয়ে উপস্থিত হবে এবং তার রক্ত যমীনে পড়ার পূর্বেই আল্লাহর নির্ধারিত মর্যাদার স্থানে পতিত হয়। অতএব তোমরা প্রফুল্লচিত্তে কুরবানী কর’। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : আমি একটি দোকানে চাকরি করি। কিন্তু দোকানের মালিক সূদের সাথে জড়িত। আমাকের ব্যাংকের কিস্তি দিতে হয়, ব্যাংকের সাথে লেনদেন করতে হয়। এখানে চাকরি করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : কুরআন তিলাওয়াত, কুরআন মুখস্থ, ইসলামী জ্ঞান চর্চা বা দ্বীনি কাজে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা এবং আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিজয়ীদের পুরস্কার গ্রহণের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ইমাম ক্বিরায়াত উচ্চৈঃস্বরে পড়বে এবং মুক্তাদিরা আস্তে পড়বে তার দলীল কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ