বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ছালাতের এক রাক‘আত ইমামের সাথে পেলে জামা‘আতের পূর্ণ ফযীলত পাওয়া যায়। রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমামের সাথে এক রাক‘আত ছালাত পেয়ে গেল, সে ছালাত পেয়ে গেল’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮০; ছহীহ মুসলিম, হা/৬০৭; মিশকাত, হা/১৪১২)। তিনি আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমু‘আহ অথবা অন্য ছালাতের এক রাক‘আত পেয়ে গেল, সে ছালাত পেয়ে গেল’ (ইবনু মাজাহ, হা/১১২৩, সনদ ছহীহ)। অন্যত্র রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এক রাক‘আত ছালাত পায়, সে ছালাত পেয়ে যায়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৬০৭; তিরমিযী, হা/৫২৪)। এর বিপরীত অর্থ এই দাঁড়ায় যে, ‘যে ব্যক্তি এক রাক‘আত ছালাত পায় না, সে ছালাত পায় না’। এ জন্যই ইমাম তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত হাদীছের টীকায় বলেছেন, ‘এ হাদীছটি হাসান ছহীহ। নবী (ﷺ)-এর অধিকাংশ ছাহাবী ও অন্যান্য আহলে ইলম এ হাদীছের উপর আমল করেছেন। তাঁরা বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমু‘আর এক রাক‘আত পেয়ে যায়, সে ব্যক্তি যেন আর এক রাক‘আত পড়ে নেয়। কিন্তু যে (দ্বিতীয় রাক‘আতের তাশাহহুদের) বৈঠক অবস্থায় জামা‘আত পায়, সে যেন যোহরের ৪ রাক‘আত পড়ে নেয়’। এ মত গ্রহণ করেছেন সুফইয়ান ছাওরী, ইবনুল মুবারক, শাফেঈ, আহমাদ এবং ইসহাক (রাহিমাহুমুল্লাহ)। ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমু‘আর এক রাক‘আত পেয়ে যায়, সে ব্যক্তি যেন আর এক রাক‘আত পড়ে নেয়। কিন্তু যে (দ্বিতীয় রাক‘আতের) রুকূ না পায়, সে যেন যোহরের ৪ রাক‘আত পড়ে নেয়’ (আলবানী, ইরওয়াউল গালীল, হা/৬২১)।

ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমু‘আর এক রাক‘আত পেয়ে যায়, সে ব্যক্তি যেন আর এক রাক‘আত পড়ে নেয়। কিন্তু যে (দ্বিতীয় রাক‘আতের) তাশাহহুদ পায়, সে যেন যোহরের ৪ রাক‘আত পড়ে নেয়’ (বায়হাকী, আলবানী, ইরওয়াউল গালীল, হা/৬২১)। কোন কোন বর্ণনায় তাশাহহুদ পেলে ছালাত পেয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর তার মানে হল জামা‘আতের ছওয়াব পেয়ে যাওয়া (আলবানী, ইরওয়াউল গালীল, ৩/৮২ পৃ.)। অবশ্য ইমামের সালাম ফিরার আগে তাকবীরে তাহরীমা দিয়ে ছালাতের যেটুকু অংশ পাওয়া যায় সেটুকুকে ভিত্তি করে জামা‘আতে শামিল হওয়া যায়। যেহেতু রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘ছালাতের ইকামত হয়ে গেলে তোমরা দৌড়ে এস না। বরং তোমরা স্বাভাবিকভাবে চলে এস। আর তোমাদের মাঝে যেন স্থিরতা থাকে। অতঃপর যেটুকু ছালাত পাও তা পড়ে নাও এবং যা ছুটে যায় তা পুরা করে নাও’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৬০২)। উল্লেখ্য যে, জামা‘আত করার মত লোক থাকলেও শেষ রাক‘আতে রুকূর পর বা শেষ তাশাহ্‌হুদে জামা‘আতে শামিল না হয়ে ইমামের সালাম ফিরার পর দ্বিতীয় জামা‘আত করা উত্তম নয়। উত্তম হল, ইমামের সালাম ফিরার আগে পর্যন্ত জামা‘আতে শামিল হওয়া (ইবনে বায, ফাতাওয়া মুহিম্মাহ্ তাতা‘আল্লাকু বিছ ছালাহ, পৃ. ৭৬)। কেউ কেউ বলেন, ‘সঙ্গে জামা‘আত করার মত লোক থাকলে এবং ইমাম শেষ তাশাহ্হুদে থাকলে জামা‘আতে শামিল না হয়ে তাদের সালাম ফিরার পর নতুনভাবে জামা‘আত করে ছালাত পড়া উত্তম। কেননা নবী (ﷺ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমামের সাথে এক রাক‘আত ছালাত পেয়ে গেল, সে ছালাত পেয়ে গেল’। আর তার মানেই হল যে এক রাক‘আত পেল না বরং সিজদাহ বা তাশাহহুদ পেল, সে ছালাত পেল না। ফলে সে জামা‘আতের ছওয়াবও পাবে না। অতএব নতুন করে জামা‘আত করলে প্রথম থেকে জামা‘আত পাওয়া যাবে এবং পূর্ণ ছালাতও পাওয়া যাবে। আর এটাই হবে উত্তম’ (ফাতাওয়া তাতা‘আল্লাকু বি-জামা‘আতিল মাসজিদ, পৃ. ৫০)।

প্রশ্নকারী : সিয়াম শিকদার, চিতলমারী, বাগেরহাট ।





প্রশ্ন (৩৬) : শাসক, লেখক অথবা সরদার না হয়ে মৃত্যুবরণ করলে সফলকাম হওয়া যায়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : আমি নির্জনে সংঘটিত একটি গোপন পাপে আক্রান্ত। দীর্ঘদিন ধরে তা ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু সফল হতে পারছি না। কিছুদিন ছেড়ে দিই, আবার ফিরে যাই। এভাবেই বারবার ঘটছে। আমি চিন্তিত যে, এই গুনাহ নিয়ে কীভাবে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হব? আমার পরিণতি খারাপ হয়ে যেতে পারে। তবে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত মসজিদে আদায় করি, সুন্নাত ছালাত পড়ি, ছালাত-পরবর্তী যিকির এবং সকাল-সন্ধ্যার যিকির পাঠ করি, ছালাতুদ-দুহা ও তাহাজ্জুদ পড়ি, ছাদাক্বাহ করি, নফল ছিয়াম রাখি, কুরআনের নিয়মিত তিলাওয়াত বজায় রাখার চেষ্টা করি, কুরআন হিফয করছি এবং শরয়ী ইলম অর্জনের চেষ্টা করছি। তাহলে আমি গোপনে আল্লাহর অবাধ্যতা করার পরও কি আল্লাহ এসব আমল কবুল করবেন? না-কি এগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো করে দেবেন? এই গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : ‘স্ত্রীকে খুশি করার জন্য এবং যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্ব প্রকাশের জন্য দাড়িতে কলপ ব্যবহার করা যায়’ মর্মে বর্ণিত বর্ণনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : অনেকেই হাতের আঙ্গুলে চুমু দিয়ে বা ফুঁ দিয়ে চোখ স্পর্শ করে থাকে। এটা কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : আমার স্ত্রীর মায়ের দুধ কোন এক ছেলে পান করছে। তার সাথে কি আমার স্ত্রী কথা বলতে পারবে বা দেখা দিতে পারবে? উল্লেখ্য, পাঁচ বার দুধ পান করেনি। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : ওযূর ফরযের ক্ষেত্রে কেউ বলে চারটি, পাঁচটি, ছয়টি অথবা সাতটি। মূলত ওযূর ফরয কয়টি ও কী কী?  - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের অনুসরণ করার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : হারাম পথে উপার্জিত সম্পদ দ্বারা হজ্জ করলে হজ্জ হবে কি? সন্তানের উপার্জিত হারাম অর্থ দিয়ে পিতা-মাতা হজ্জ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়াদের ব্যাপারে একজন মুমিনের কেমন ধারণা থাকা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : নানীর আপন ভাইয়ের মেয়ে মাহরাম, না-কি গায়রে মাহরাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : জানাযার আগে এলাকার নেতা ও আলেমরা কথা বলে থাকেন। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : একজন ছেলে এক মেয়েকে বিয়ের জন্য পসন্দ করেছেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন যে মেয়েটির হেপাটাইটিস-বি। এই মুহূর্তে তাকে বিয়ে করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ