বুধবার, ২২ Jul ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ন
উত্তর : রামাযানের ক্বাযা ছিয়াম যত দ্রুত সম্ভব আদায় করে নেয়া উচিত। কারণ আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, اُولٰٓئِکَ یُسٰرِعُوۡنَ فِی الۡخَیۡرٰتِ وَ ہُمۡ لَہَا سٰبِقُوۡنَ ‘তারাই কল্যাণকর কাজ দ্রুত সম্পাদন করে এবং তারাই তার প্রতি অগ্রগামী হয়’ (সূরা আল-মুমিনূন : ৬১)। মাযহাব চতুষ্টয়ের সম্মতিক্রমে রামাযান মাসের ছিয়ামের ক্বাযা আগামী রামাযান আসার আগেই পূরণ করতে হবে (ফাৎহুল ক্বাদীর, ২/৩৫৫; মাওয়াহিবুল জালীল, ৩/৩৮৪; আল-মাজমূঊ, ৬/৩৬৫; আল-ইনছাফ, ৩/৩৩৪ পৃ.)। ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) ছিয়াম অধ্যায়ে, بَاب مَتَى يُقْضَى قَضَاءُ رَمَضَانَ ‘রমাযানের ক্বাযা কখন আদায় করতে হবে?’ নামে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন (৩০/৪০)। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত হাদীছটি বর্ণনা করেন।
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, আমার উপর রামাযানের যে ক্বাযা ছিয়াম থাকত তা পরবর্তী শা‘বান মাস ব্যতীত আমি আদায় করার সুযোগ পেতাম না। ইয়াহ্ইয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী করীম (ﷺ)-এর ব্যস্ততার কারণে অথবা নবী করীম (ﷺ)-এর সঙ্গে ব্যস্ত থাকার কারণে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন, ‘আমাদের কেউ (ঋতুস্রাব, প্রসবোত্তর স্রাব ইত্যাদি কারণে) রামাযান মাসের ছিয়াম পালন করতে পারত না, অতঃপর তার ঐ ক্বাযা আদায় করার সুযোগ পাওয়ার পূর্বেই শা‘বান মাস এসে যেত (ছহীহ বুখারী, হা/১৯৫০; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৪৬)। ইমাম নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এখানে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর বাহ্যিক উক্তি থেকে এ কথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, তাঁর ব্যস্ততা না থাকলে ছুটে যাওয়া ছিয়াম সত্বরই ক্বাযা করতেন। এ থেকে বুঝা যায় যে, যার কোন সমস্যা-অসুবিধা নেই, তার জন্য দেরী না করে সত্বর ক্বাযা আদায় করে নেয়াই অধিক উত্তম’ (তামামুল মিন্নাহ, পৃ. ৪২২)।

শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘অর্থাৎ সে অন্য যে কোন দিনে ছিয়াম আদায় করে নিবে। এখানে আল্লাহ তা‘আলা ধারাবাহিকভাবে বা সাথে সাথে রাখার শর্ত আরোপ করেননি। সে শর্তের কথা উল্লেখ থাকলে অবশ্যই তা সত্বর পালনীয় হত। অতএব বুঝা গেল যে, এ ব্যাপারে প্রশস্ততা আছে’ (আশ-শারহুল মুমতি‘, ৬/৪৪৯ পৃ.)। তবে ঈদের পরে সমস্যা দূর হয়ে গেলে সুযোগ হওয়ার সাথে সাথে সত্বর ক্বাযা আদায় করে নেয়াই উচিত। কারণ তাতে সত্বর দায়িত্ব পালন হয়ে যায় এবং পূর্বসতর্কতামূলক কর্ম সম্পাদন করা হয় (আশ-শারহুল মুমতি‘, ৬/৪৪৬ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : আশিক, গোপালগঞ্জ।





প্রশ্ন (৪৬) : সূরা মুলকের ফযীলত সম্পর্কিত বর্ণিত হাদীছ কি ছহীহ? কেননা তিরমিযী, আবু দাউদে হাসান এবং হাকিম ও দারীমীতে ছহীহ বলা আছে। হাসান হলে কি আমলযোগ্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : সম্মেলন, সমাবেশ, সভা-সমিতি, খতমে বুখারী ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান শেষে দলবদ্ধ মুনাজাত করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে যদি দান-ছাদাক্বাহ করা যায়, তাহলে তার উদ্দেশ্যে মানুষ খাওয়ানো যাবে না কেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : মসজিদের দেওয়ালে কুরআনের বা হাদীছ লেখে রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : ‘যে ব্যক্তি কাতার মিলাবে, আল্লাহও তাকে তাঁর রহমত দ্বারা মিলাবেন। আর যে ব্যক্তি কাতার ভঙ্গ করবে, আল্লাহও তাকে তাঁর রহমত হতে কর্তন করবেন’। উক্ত হাদীছ কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : ওযূ অবস্থায় নেশাদার দ্রব্য পানকারীর সাথে মুছাফাহা করলে ওযূ নষ্ট হবে কি কিংবা ঐ ওযূ দিয়ে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : জনৈক আলেম বলেন, অতিরিক্ত কথা বলা মুনাফিকের লক্ষণ। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : জনৈক নারী উকিলের মাধ্যমে ত্বালাক্বনামা লিখিয়ে রাখে, কিন্তু বেশ কিছুদিন পরে তা স্বামীর নিকট পৌছায় এবং স্বামী তাতে স্বাক্ষর করেন। প্রশ্ন হল- ত্বালাক্বনামা লিখিত হওয়ার মাধ্যমে বা স্বামীর স্বাক্ষরের পূর্বেই কী ত্বালাক্ব পতিত হয়ে গেছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : মহিলার পেটে বাচ্চা থাকলে কি ত্বালাক্ব পতিত হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : পিতা-মাতার নামে কি দান করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : জনৈক বক্তা বলেছেন, হজ্জ করার পূর্বে কোন অবস্থাতেই ওমরাহ পালন করা যাবে না? উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জামা‘আতে আমার কোন রাক‘আত ছুটে গেলে জামা‘আত শেষে সেটা পূরণ করব। সেক্ষেত্রে ইমাম যখন শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ, দরূদ এবং ছানা পড়বে, তখন আমি কি শুধু তাশাহ্হুদ পড়ে চুপ থাকব, না-কি আমিও দরূদ ও ছানা পড়ব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ