রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন
উত্তর : প্রথমতঃ কোন একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা সংক্রান্ত উদ্দেশ্যেই স্টুডেন্ট ভিসায় বিদেশ যাত্রা করেছে। সে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের প্রয়োজনে পার্টটাইম কাজও করে। আর তা যদি সরকার ও আইন বিরোধী কার্যকলাপ না হয়, সেক্ষেত্রে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু যদি এখানে প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হয়, তবে জায়েয নয়। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنِّيْ ‘যে ব্যক্তি ধোঁকাবাজি ও প্রতারণা করে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১-১০২)। ইমাম তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘উলামায়ে কেরামের মতানুযায়ী প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি খুবই জঘন্য অপরাধ। তাঁরা বলেছেন, প্রতারণা হারাম’ (তিরমিযী, হা/১৩১৫)। আসলে ব্যবসা-বাণিজ্যেসহ সর্বক্ষেত্রেই প্রতারণা হারাম’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া লিইবনে বায, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ৩৯৭; ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দারব, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৪)।

দ্বিতীয়তঃ আন্তর্জাতিক স্তরে আদান-প্রদানকৃত টাকার একটা অংশ সরকারী আয়কর বিভাগকে প্রদান করতে হয়। মূলত ঐ ট্যাক্স বা কর ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশ্যেই হুন্ডি ব্যবস্থার উৎপত্তি হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা উন্নয়নের এবং নানাবিধ কল্যাণসাধনের অভিপ্রায়ে হুন্ডি ব্যবস্থাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একজন আদর্শ মুসলিমের উচিত এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা। শায়খ ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘আয়কর বিভাগের ট্যাক্স বা কর সংক্রান্ত আইন-কানুন ও রাষ্ট্রীয় বিধান মেনে চলা প্রত্যেক অধিবাসীর উপর অপরিহার্য। আর এ ব্যাপারে আমরা সকলেই নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট গ্রহণ করার সময় দেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। অতএব যতক্ষণ পর্যন্ত সরকারী বিধিনিষেধ শরী‘আতের মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত উক্ত সরকারী আইন মেনে চলা যরূরী। আর অঙ্গীকার ভঙ্গ করা জায়েয নয় (সূরা আল-মায়িদাহ : ১; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৫২৮১০)। উল্লেখ্য, যে সমস্ত দেশের সঙ্গে জাতীয় স্তরে অর্থ আদান-প্রদানের সুব্যবস্থা নেই এবং যাদের সরকার অতিরিক্ত ট্যাক্স বসিয়ে যুলুম করে, সেক্ষেত্রে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো জায়েয হতে পারে। কেননা আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় কর’ (সূরা আত-তাগাবূন : ১৬)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘আল্লাহ কাউকেও তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করেন না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ  : ২৮৬)।

 
প্রশ্নকারী : আবু ছালেহ, জাপান।




প্রশ্ন (২৩) : লাল ও হলুদ পোশাক পরিধানের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : শরী‘আত কাকে বলে? হাদীছ কি শরী‘আতের দলীল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : আমি ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাত বাড়ী থেকে আদায় করে এমন সময় মসজিদে এসেছি, যখন জামা‘আত শুরু হতে অনেক সময় রয়েছে। এমতাবস্থায় আমি কি আবার ছালাত আদায় করব, না-কি বসে পড়ব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : এক ব্যক্তি জীবনে অনেকবার একটি পাপ করেছে এবং সে পাপ আর করবে না বলে বহুবার কসমও করেছে। কিন্তু বারবার সে কসম ভঙ্গ করে ফেলেছে। এখন অসুস্থ হয়ে পাপ ছেড়ে দিয়েছে। পরে সে জানতে পেরেছে যে, শপথের কাফ্ফারা দিতে হয়। এখন সে কীভাবে কাফ্ফারা দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : ‘কাবিন’ এবং ‘মোহর’ কি একই জিনিস, না-কি পৃথক? ইসলামের দৃষ্টিতে মোহরের গুরুত্ব কতটুকু? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : ছালাতের সময় নারীদের পায়ের পাতা ঢেকে রাখা ওয়াজিব কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : জনৈক বক্তা বলেন, পাঁচটি বিষয় ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত- কুরআনের মুছহাফের দিকে দৃষ্টি দেয়া, কা‘বা, মাতা-পিতা, যমযম এবং আলেমের চেহারার দিকে দৃষ্টি দেয়া। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : আল্লাহর তা‘আলার গুণবাচক নাম কতটি এবং সেগুলো মুখস্থের ফযীলত কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : মসজিদের পশ্চিম দিকে কবর থাকলে ঐ মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : ছিয়াম থাকা অবস্থায় ইনজেকশন নেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : জনৈক ব্যক্তি ওয়েব সাইট ডেভলপার এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। মৌলিকভাবে এসব কাজ হারাম না। তবে স্পষ্ট হারাম যেমন সূদ ভিত্তিক ব্যাংক, মাদক, জুয়া, যৌনতা ইত্যাদি বাদ দিয়ে যেকোন ওয়েব সাইটের কাজ করলে কি তা হালাল হবে? এছাড়া কোন্ কোন্ বিষয়ের সংমিশ্রণ হলে ইনকাম হারাম হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : এক লোক মারা যাবার সময় কিছু নগদ অর্থ (৭,৪৭,০০০) ও একটি বাড়ী রেখে গেছেন। এখন তার মা, স্ত্রী, সাত ছেলে ও ছয় মেয়ে তার সম্পদের কে কত অংশ পাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ