রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
উত্তর : বাজনা বা বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা ইসলামে হারাম (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ১১/৫৩৫-৫৭৭; তাফসীরে ত্বাবারী, ২১/৪০; তাফসীরে ইবনে কাছীর, ৩/৪৫১; ফাৎহুল বারী, ১০/৫৫ পৃ.)। অশ্লীলতার ধারক-বাহক ও প্রচারকদের শাস্তি সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করে মহান আল্লাহ বলেন,

اِنَّ الَّذِیۡنَ یُحِبُّوۡنَ اَنۡ تَشِیۡعَ الۡفَاحِشَۃُ فِی الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ۙ فِی الدُّنۡیَا وَ الۡاٰخِرَۃِ

‘নিশ্চয় যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর আল্লাহ‌ জানেন, তোমরা জানো না’ (সূরা আন-নূর: ১৯)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘(হে নবী!) আপনি বলুন, আমার প্রতিপালক নিষিদ্ধ করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতাকে, পাপাচারকে ও অসংগত বিদ্রোহকে’ (সূরা আল-আ‘রাফ: ৩৩)।

গান-বাজনা ইসলামে চিরতরে হারাম। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের কতক লোক মদের ভিন্নতর নামকরণ করে তা পান করবে। আর (পাপাসক্ত অবস্থায়) তাদের সামনে বাদ্যবাজনা চলবে এবং গায়িকা নারীরা গীত পরিবেশন করবে। আল্লাহ তা‘আলা এদেরকে মাটির নিচে ধসিয়ে দিবেন এবং তাদের কতককে বানর ও শূকরে রূপান্তরিত করবেন’ (ইবনু মাজাহ, হা/৪০২০; আবূ দাঊদ, হা/৩৬৮৮)। সুতরাং গান গাওয়া ব্যক্তি মুসলিম হোক কিংবা অমুসলিম তাতে কোন যায় আসে না। আর বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার যতই কম থাকুক না কেন, তবুও হারাম। তবে হ্যাঁ, এমন মিউজিক বিহীন গান যার শব্দগুলো রুচিসম্মত এবং তা ইসলামিক চিন্তাধারার সাথে সাংঘর্ষিকও নয়, এমন নাশীদ বা গীত শ্রবণ করা দোষনীয় নয়। যেমন শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) ও শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘মিউজিক এবং অতিরঞ্জিত নিষিদ্ধ কথাবার্তা থেকে মুক্ত গজল, কবিতা, দেশাত্মবোধক গান অথবা গীত শ্রবণ করা দোষনীয় নয়। দাফ্‌ ব্যতীত অন্য কোন বাজনা বা বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হারাম।

অনুরূপভাবে পুরুষদের জন্য নারীদের কন্ঠ শ্রবণ করাও হারাম। তবে এর চাইতে উত্তম হল- নিজের অতিরিক্ত সময় কুরআন তিলাওয়াত, যিকির-আযকার, নির্ভরযোগ্য বক্তার বক্তব্য শ্রবণ অথবা কোন শাইখের দারস্ শ্রবণ করা। যা তার উভয় জগতের জন্যই কল্যাণকর হবে’ (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, ১৪/১১১ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৩৮০৯৩৩)। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ, ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম ও ইমাম শাত্বিবী (রাহিমাহুমুল্লাহ) বলেন,  ِسَدُّ الذَّرَائِع ‘পাপের দরজা বন্ধ করার লক্ষ্যে বাজনা বিহীন হলেও গান শ্রবণ না করাই উচিত। এমন প্রত্যেক বৈধ কাজ যা মানুষকে অবৈধ কাজের দিকে ধাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তার মধ্যে যদি কোন শারঈ কল্যাণ না থাকে, তবে সেটি অবৈধ হিসাবেই বিবেচিত হবে’ (ফাতাওয়া আল-কুবরা, ৪/৪৬৫; ইগাছাতুল লাহফান, ১/৪২৬-৪২৭; আল-মুওয়াফিক্বাত, ৫/১৭৯-১৮২ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : আহমাদ আবিদ, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী।





প্রশ্ন (১৭) : ছালাতের পর হাদীছে বর্ণিত যিকির ও দু‘আসমূহ পড়ে নিজের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন চাহিদা জন্য একাকী হাত তুলে নিজের ভাষায় দু‘আ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ‘দাসী তার মুনিবকে জন্ম দিবে’ হাদীছটির ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : আমি অবিবাহিত যুবক। আমি ছোটখাট পরিবহন ব্যবসা ব্যবসায় জড়িত ছিলাম। কিন্তু দুই বছর পরে শয়তানের ধোঁকায় পরে ব্যভিচারে লিপ্ত হই। দুঃখজনক বিষয় হলো এর কিছুদিন পরে আমার গাড়ি চুরি হয়ে যায়। এভাবে আমার ব্যবসা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। আমি খুবই অনুতপ্ত। প্রশ্ন হল- আমি কি আল্লাহর ক্ষমা পাব এবং আমার বিবাহের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) :  যেখানে পানির ব্যবস্থা নেই, সেখানে পেশাব করার পর শুধু ঢিল বা টিস্যু নিয়ে পবিত্রতা হাছিল করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : কারো বিরুদ্ধে বদদু‘আ করা বৈধ কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : সর্বনিম্ন কত টাকা থাকলে যাকাত দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : বিয়ের সময় মোহরানা আদায় করেননি। পরবর্তীতে স্ত্রীও স্বামীর কাছে মোহরানা চাইনি। এমন অবস্থায় স্বামী মারা গেলে কি মোহরানা আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : দুই সিজদার মাঝে কি রাফউল ইয়াদায়ন করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি কবরে কতদিন থাকবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জুমু‘আর খুতবাহ চলাকালীন খত্বীব কর্তৃক হাত তুলে দু‘আ করা এবং মুক্তাদীগণের হাত তুলে আমীন আমীন বলা কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : জামা‘আতে ছালাত আদায় করার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : আমরা ‘বায়তুল্লাহর মুসাফির’ নামে একটি হজ্জ ও ওমরা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করছি। যারা আলেম, ইমাম বা দাঈ হিসাবে আমাদের সাথে যুক্ত থাকবেন, তাদের মাধ্যমে যদি কেউ হজ্জে যান, তাহলে আমরা তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সম্মাননা, ওমরার সুযোগ বা অর্থ দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই। এভাবে বলা যায় যে, ‘কেউ যদি আমাদের নির্দিষ্ট সংখ্যক হাজী দেন, তাহলে তাকে ওমরা করানোর ব্যবস্থা করা হবে’। শরী‘আতের দৃষ্টিতে এভাবে কাজ করাটা জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ