রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২২ অপরাহ্ন
উত্তর : উক্ত বিশ্বাস সঠিক নয়। খানকা ব্যবসায়ীরা উক্ত ভ্রান্ত আক্বীদা সমাজে চালু রেখেছে। তারা কতিপয় হাদীছের অপব্যাখ্যা করে থাকে। যেমন- রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘নবীগণ তাদের কবরে জীবিত থেকে ছালাত আদায় করছেন’ (মুসনাদে বাযযার, হা/৬৮৮৮; মুসনাদে আবী ইয়ালা, হা/৩৪২৫; বায়হাক্বী, হায়াতুল আম্বিয়া, পৃ. ৩; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৬২১)। অন্য হাদীছে বলেন, ‘মি‘রাজের রাত্রে আমি যখন লাল টিলার নিকট দিয়ে মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে অতিক্রম করছিলাম, তখন তিনি তাঁর কবরে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করছিলেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৭৫, ‘মর্যাদা’ অধ্যায়, ‘মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর ফযীলত’ অনুচ্ছেদ-৪২)। ‘নিশ্চয় মহান আল্লাহ যমীনের উপর নবীগণের শরীরকে হারাম করে দিয়েছেন’ (আবূ দাঊদ, হা/১০৪৭ ও ১৫৩১; মিশকাত, হা/১৩৬১ ও ১৩৬৬)।

মূলত রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মারা গেছেন এটিই সঠিক আক্বীদা। আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে লক্ষ্য করে বলেন,

اِنَّکَ مَیِّتٌ وَّ  اِنَّہُمۡ  مَّیِّتُوۡنَ  -ثُمَّ  اِنَّکُمۡ  یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ عِنۡدَ رَبِّکُمۡ تَخۡتَصِمُوۡنَ.

‘আপনিও মারা যাবেন এবং তারাও মারা যাবে। অতঃপর ক্বিয়ামত দিবসে তোমরা পরস্পর তোমাদের প্রতিপালকের সামনে বাক-বিতণ্ডা  করবে’ (সূরা আয-যুমার : ৩০-৩১)। এছাড়াও এ ব্যাপারে অনেক আয়াত ও হাদীছ বিদ্যমান রয়েছে।

তবে উপরে বর্ণিত হাদীছগুলোও ছহীহ। কিন্তু তা বারযাখী জীবনের বিষয় অর্থাৎ দুনিয়াবী জীবন ও পরকালীন জীবনের মাঝের জীবন। দুনিয়াবী জীবনের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। দুনিয়ার মানুষের কথা শুনতে পান না, উপকার বা ক্ষতিও করতে পারেন না। তাই কুরআন ও ছহীহ হাদীছে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, ঠিক সেভাবেই বিশ্বাস করতে হবে। কারণ এগুলো গায়েবের বিষয়। যেমন- রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে কবরে ছালাত আদায় করতে দেখলেন কিন্তু একটু পরে ৬ষ্ঠ আসমানে দেখা হল (ছহীহ বুখারী, হা/৩৮৮৭; ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৭৫, মিশকাত, হা/৫৮৬২)। এরপর যখন ফিরে আসলেন, তখন বায়তুল মাক্বদেছে সকল নবী-রাসূল তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাঁর ইমামতিতে ছালাত আদায় করলেন (ছহীহ মুসলিম, হা/১৭২, ‘ঈমান’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৭৭)। সুতরাং এগুলোর কোন কল্পিত ব্যাখ্যা করা যাবে না।

দ্বিতীয়তঃ কবরে ছালাত আদায়ের বিষয়টি কেবল নবীদের সাথেই খাছ। অন্যদের ব্যাপারে নয়। কারণ মৃত্যুর পর কোন ইবাদত নেই। তাছাড়া কবরস্থানে ছালাত আদায় করা নিষেধ (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৩০; মিশকাত, হা/৭১২)। অথচ তাঁরা সেখানে ছালাত আদায় করছেন। তাই এগুলো দুনিয়াবী বিষয়ের সাথে মিলানো যাবে না।

তৃতীয়তঃ সাধারণ মানুষকে কবরে রাখার পর লোকেরা যখন চলে আসে, তখনও মৃত ব্যক্তি তাদের পায়ের জুতার শব্দ শুনতে পায় (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৩৮, ‘জানাযা’ অনুচ্ছেদ-৬৭; মিশকাত, হা/১২৬)। কিন্তু কুরআন-হাদীছ থেকে এর বেশী কিছু জানা যায় না। তাই যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, সেভাবেই বিশ্বাস করতে হবে।

মূলত উক্ত বিষয়গুলো কোনটিই দুনিয়াবী জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। কারণ ছাহাবায়ে কেরাম উক্ত হাদীছগুলো জানা সত্ত্বেও কখনোই রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবরের কাছে গিয়ে কোন কিছু চাননি কিংবা তাঁর কাছে কোন অভিযোগ করেননি এবং তাঁকে অসীলা মেনে দু‘আও করেননি। বরং দুর্ভিক্ষের কারণে তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবরের কাছে না গিয়ে তাঁর জীবিত চাচা আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে গিয়ে দু‘আ চেয়েছেন (ছহীহ বুখারী, হা/১০১০, ‘ইস্তিস্কা’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৩)। কারণ কবরে যাওয়ার পর দুনিয়ার সাথে যেমন কোন সম্পর্ক থাকে না, তেমনি কারো কোন উপকার বা ক্ষতি করারও ক্ষমতা থাকে না।

তাই ‘হায়াতুন্নবী’ কথাটিও সঠিক নয়। বিনা পূঁজির ব্যবসা করার জন্য পীরপূজারী ও কবরপূজারীরা এই বাক্যটির  আমদানি করেছে। এছাড়া শিরকের ব্যবসাকে আরো জোরদার করার জন্য তথাকথিত পীর-ফকীর ও অলীরাও কবরে জীবিত আছে এবং মানুষের উপকার বা ক্ষতি করতে পারে বলে প্রচার করে থাকে। এগুলো সব ধর্মের নামে ভণ্ডামি। এ সমস্ত প্রতারণা থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।


প্রশ্নকারী : আব্দুল আযীয, বরিশাল।




প্রশ্ন (৩) : দেওবন্দী মানহাজের লোকেরা বলে থাকে যে, চার ইমামের প্রত্যেকেই ২০ রাক‘আত তারাবীহ আদায় করেছেন এবং অন্যদেরকে পড়তে বলেছেন। প্রশ্ন হল- তাদের দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : মাতুরিদী মতবাদের পরিচয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘ছালাতের প্রথম ওয়াক্ত আল্লাহ সন্তুষ্টি আর শেষ ওয়াক্ত আল্লাহ ক্ষমা’ (তিরমিযী, হা/১৭২, ১/৪৩ পৃ.) মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ, না-কি জাল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : হারাম পথে উপার্জিত সম্পদ দ্বারা হজ্জ করলে হজ্জ হবে কি? সন্তানের হারাম পথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে পিতা-মাতা হজ্জ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : জায়নামাজে বিভিন্ন ছবি থাকে যেমন কা‘বা ঘর, চাঁদ, তারা, গাছের ছবি ইত্যাদি। উক্ত জায়নামাজে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : বাড়ির মধ্যে পুরুষরা হাফপ্যান্ট পরতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : বর্তমানে সমাজে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। এমন অবস্থায় যদি কেউ আত্মরক্ষার কোন উপায় না থাকা সত্ত্বেও সম্মান, জীবন বা সম্পদ রক্ষার নিয়তে প্রতিরোধ করে এবং এতে আহত বা নিহত হয়, তাহলে শরী‘আতের দৃষ্টিতে সে কি শহীদ হিসাবে গণ্য হবে? অপরদিকে, যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে, প্রতিরোধ করলে মৃত্যুর আশঙ্কা নিশ্চিত, তারপরও কেউ দুঃসাহসিকভাবে প্রতিরোধ করে, তবে কি তা আত্মহননের শামিল বলে গণ্য হবে, না-কি ইজ্জত রক্ষার একটি শারঈ বৈধ প্রয়াস হিসাবে বিবেচিত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : আমি এক ছাত্রকে মসজিদের ভিতর গণিত ও পদার্থ পড়ায়। প্রশ্ন হল, মসজিদের ভিতরে এই বিষয়গুলো পড়ানো কি মসজিদের আদবের খেলাপ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : আবূ দাঊদে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ  বলেছেন, যে কুরআনকে মধুর সূরে পাঠ করে না সে আমাদের দলভুক্ত নয়’। উক্ত হাদীছের মূল ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : অনেক মসজিদ বা বাসা-বাড়িতে এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ৪ কূল বেঁধে রাখা হয়। এর কোন ফযীলত আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৮) : অনেকেই কবরস্থানে গিয়ে সূরা ইয়াসীন বা কুরআন তেলাওয়াত করে থাকে। এটা শরী‘আতসম্মত কি-না? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কয়টি স্ত্রী ও কয়টি ছেলে-মেয়ে ছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ