রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:০০ অপরাহ্ন
উত্তর : নাফস্ বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করার ক্ষতি অত্যধিক। খেয়াল-খুশি, কামনা-বাসনা মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু। তাই যে কোন শত্রুর তুলনায় কামনা-বাসনার বিরুদ্ধে কঠিনভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া প্রতিটি মুমিনের উপর অপরিহার্য। আবূ হাযিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, قَاتِلْ هَوَاكَ أَشَدَّ مِمَّا تُقَاتِلُ عَدُوَّكَ ‘তুমি তোমার শত্রুর বিরুদ্ধে যেভাবে যুদ্ধ কর, তার থেকেও অত্যধিক কঠোরভাবে তোমার প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর’ (হিলয়াতুল আওলিয়া, ৩/২৩১ পৃ.)। এই খেয়াল-খুশিই সকল অশান্তি ও  বিশৃঙ্খলার মূল এবং সকল বিপদ-আপদের কারণ। ইমাম সুফিয়ান ছাওরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, يَا نَفْسُ تُوْبِىْ فَإِنَّ الْمَوْتَ قَدْ حَانَا * وَاعْصِ الْهَوَى فَالْهَوَى مَا زَالَ فَتَّانَا ‘হে মন! তুমি তওবা কর। কেননা মরণ তো অতি নিকটে। আর খেয়াল-খুশির অবাধ্য হবে। কেননা খেয়াল-খুশি তো সব সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী’ (কিতাবু মাজমু‘আতিল ক্বাছাইদিল যুহ্দিয়্যাত, ২/৯৫ পৃ.)।

আল্লাহ তা‘আলা প্রবৃত্তির দাসত্ব সম্পর্কে বলেন, اَرَءَیۡتَ مَنِ اتَّخَذَ اِلٰـہَہٗ ہَوٰىہُ ؕ اَفَاَنۡتَ تَکُوۡنُ  عَلَیۡہِ وَکِیۡلًا ‘আপনি কি দেখেন না তাকে, যে তার প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনাকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে? তবুও কি আপনি তার কর্মবিধায়ক হবেন’ (সূরা আল-ফুরক্বান : ৪৩)। তিনি আরো বলেন, ‘আপনি কি লক্ষ্য করেছেন তাকে, যে তার খেয়াল-খুশীকে নিজের উপাস্য করে নিয়েছে? আল্লাহ জেনেশুনেই তাকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং তার কর্ণে ও হৃদয়ে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তার চোখের ওপর রেখেছেন পর্দা। অতএব আল্লাহ মানুষকে বিভ্রান্ত করার পর কে তাকে পথনির্দেশ করবে? তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না’? (সূরা আল-জাছিয়া : ২৩)।

প্রবৃত্তির অনুসরণকারীর বিধান ক্ষেত্র বিশেষে পরিবর্তিত হয়, কখনো তা কুফরী অথবা শিরকে আকবার হিসাবে বিবেচিত হয়, কখনো তা শিরকে আছগার হিসাবে বিবেচিত হয়। আবার কখনো তা কাবীরা গুনাহ হিসাবে বিবেচিত হয়, কিংবা কখনো তা ছাগীরা গুনাহ হিসাবে বিবেচিত হয়। যদি কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অস্বীকার করা অথবা তাঁকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা অথবা তাঁর থেকে বিমুখ হয়ে যাওয়ার মত ভয়াবহ গুনাহের দিকে ধাবিত করে, তবে সে মুশরিক এবং এটি শিরকে আকবার হবে। যেমনটি সূরা ফুরক্বান ও জাছিয়ার আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ যদি ব্যক্তিকে এমন গুনাহের দিকে ধাবিত করে যেগুলোর ‘শিরকে আকবার অথবা কুফরে আকবার’ হওয়ার বিষয়টি শারঈ দলীল দ্বারা প্রমাণিত। যেমন মৃত ব্যক্তির কাছে কোন কিছু চাওয়া অথবা তাকে প্রয়োজন পূরণকারী ও দুঃখ-কষ্ট নিবারণকারী মনে করা অথবা ছালাত ত্যাগ করা অথবা যিনা-ব্যভিচার ও মদ পান করাকে হালাল মনে করা ইত্যাদি। যদি কুপ্রবৃত্তির অনুসরণকারী আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি বা বস্তুর কসম খায় অথবা লোক দেখানোর জন্য কাজ করে, তবে সে মুশরিক কিন্তু এটি শিরকে আছগার হবে। কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ যদি ব্যক্তিকে বিদ‘আতের দিকে ধাবিত করে, তবে সে বিদ‘আতী। কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ যদি ব্যক্তিকে কাবীরা গুনাহের দিকে ধাবিত করে, যেমন যিনা-ব্যভিচার ও মদ পান করা ইত্যাদি, তবে সে ফাসিক্ব, পাপাচারী, দুরাচারী। আর কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ যদি ব্যক্তিকে ছাগীরা গুনাহের দিকে ধাবিত করে, তবে সে অবাধ্য, পাপী (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৪৫৪৬৬)।


প্রশ্নকারী : ইমরান ফরহাদ, চট্টগ্রাম।





প্রশ্ন (৯) : রাগের মাথায় ত্বালাক্ব দিলে কি ত্বালাক্ব পতিত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : জনৈক ব্যক্তি বলেন. কিয়ামতের দিন রাসূল (ﷺ) আরশের পাশে বসবেন। উক্ত কথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : কেক ও চকলেটের উপর ‘আল্লাহ’ লেখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : কিছু মানুষ হারাম কাজে লিপ্ত। যেমন- দাড়ি মুণ্ডন করা, ধূমপান করা, হারামের সাথে জড়িত থাকা ইত্যাদি। যদি এগুলো বর্জন করতে বলা হয় তখন সে বলে, ঈমান ঠিক আছে। দাড়ি লম্বা করা, ধুমপান বর্জন করাই শুধু ঈমান নয়। এ ধরনের লোকের পরিণাম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : ডান দিক থেকে কাতার পূরণ করার কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩): পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধির জন্য জাদু, তন্ত্রমন্ত্র ও বশীকরণ বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : অনেকে রামাযান মাস আসলে তওবা করে, ছালাত আদায় করে এবং ছিয়াম পালন করে। কিন্তু রামাযানের পর সব ছেড়ে দেয়। এদের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ইমামের কুরআন তেলওয়াত শুদ্ধ না হলে, মুক্তাদির ছালাত হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : বর্তমানে সমাজে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। এমন অবস্থায় যদি কেউ আত্মরক্ষার কোন উপায় না থাকা সত্ত্বেও সম্মান, জীবন বা সম্পদ রক্ষার নিয়তে প্রতিরোধ করে এবং এতে আহত বা নিহত হয়, তাহলে শরী‘আতের দৃষ্টিতে সে কি শহীদ হিসাবে গণ্য হবে? অপরদিকে, যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে, প্রতিরোধ করলে মৃত্যুর আশঙ্কা নিশ্চিত, তারপরও কেউ দুঃসাহসিকভাবে প্রতিরোধ করে, তবে কি তা আত্মহননের শামিল বলে গণ্য হবে, না-কি ইজ্জত রক্ষার একটি শারঈ বৈধ প্রয়াস হিসাবে বিবেচিত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : কিছু উন্নত জাতের গরু আছে যা বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। সেগুলো সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আসে। একজন খামারি সীমান্ত পথে অবৈধভাবে এনে এই গরু বিক্রয় করছে। এটা জানার পরেও তা ক্রয় করা আমার জন্য বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : আমি আল্লাহর কাছে ওয়াদা করেছিলাম যে, আমার পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে আর মোবাইল দেখবো না, তবে যদি দেখি তাহলে আর মুসলিম থাকব না। প্রশ্ন হল- এই ওয়াদা ভঙ্গ করার পরিণাম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ফরয ছালাতে মাসবূক মুক্তাদী যদি ইমামের দুই দিকের সালাম ফিরানোর আগেই বা এক সালাম শেষ হওয়ার সাথে সাথে পরের রাক‘আতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে কি তার ছালাত বাতিল হবে, না-কি একাজের জন্য সে গুনাহগার হবে? ছালাতে সালাম ফিরানোর বিশুদ্ধ পদ্ধতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ