শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৯ অপরাহ্ন
উত্তর : নাফস্ বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করার ক্ষতি অত্যধিক। খেয়াল-খুশি, কামনা-বাসনা মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু। তাই যে কোন শত্রুর তুলনায় কামনা-বাসনার বিরুদ্ধে কঠিনভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া প্রতিটি মুমিনের উপর অপরিহার্য। আবূ হাযিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, قَاتِلْ هَوَاكَ أَشَدَّ مِمَّا تُقَاتِلُ عَدُوَّكَ ‘তুমি তোমার শত্রুর বিরুদ্ধে যেভাবে যুদ্ধ কর, তার থেকেও অত্যধিক কঠোরভাবে তোমার প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর’ (হিলয়াতুল আওলিয়া, ৩/২৩১ পৃ.)। এই খেয়াল-খুশিই সকল অশান্তি ও  বিশৃঙ্খলার মূল এবং সকল বিপদ-আপদের কারণ। ইমাম সুফিয়ান ছাওরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, يَا نَفْسُ تُوْبِىْ فَإِنَّ الْمَوْتَ قَدْ حَانَا * وَاعْصِ الْهَوَى فَالْهَوَى مَا زَالَ فَتَّانَا ‘হে মন! তুমি তওবা কর। কেননা মরণ তো অতি নিকটে। আর খেয়াল-খুশির অবাধ্য হবে। কেননা খেয়াল-খুশি তো সব সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী’ (কিতাবু মাজমু‘আতিল ক্বাছাইদিল যুহ্দিয়্যাত, ২/৯৫ পৃ.)।

আল্লাহ তা‘আলা প্রবৃত্তির দাসত্ব সম্পর্কে বলেন, اَرَءَیۡتَ مَنِ اتَّخَذَ اِلٰـہَہٗ ہَوٰىہُ ؕ اَفَاَنۡتَ تَکُوۡنُ  عَلَیۡہِ وَکِیۡلًا ‘আপনি কি দেখেন না তাকে, যে তার প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনাকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে? তবুও কি আপনি তার কর্মবিধায়ক হবেন’ (সূরা আল-ফুরক্বান : ৪৩)। তিনি আরো বলেন, ‘আপনি কি লক্ষ্য করেছেন তাকে, যে তার খেয়াল-খুশীকে নিজের উপাস্য করে নিয়েছে? আল্লাহ জেনেশুনেই তাকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং তার কর্ণে ও হৃদয়ে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তার চোখের ওপর রেখেছেন পর্দা। অতএব আল্লাহ মানুষকে বিভ্রান্ত করার পর কে তাকে পথনির্দেশ করবে? তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না’? (সূরা আল-জাছিয়া : ২৩)।

প্রবৃত্তির অনুসরণকারীর বিধান ক্ষেত্র বিশেষে পরিবর্তিত হয়, কখনো তা কুফরী অথবা শিরকে আকবার হিসাবে বিবেচিত হয়, কখনো তা শিরকে আছগার হিসাবে বিবেচিত হয়। আবার কখনো তা কাবীরা গুনাহ হিসাবে বিবেচিত হয়, কিংবা কখনো তা ছাগীরা গুনাহ হিসাবে বিবেচিত হয়। যদি কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অস্বীকার করা অথবা তাঁকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা অথবা তাঁর থেকে বিমুখ হয়ে যাওয়ার মত ভয়াবহ গুনাহের দিকে ধাবিত করে, তবে সে মুশরিক এবং এটি শিরকে আকবার হবে। যেমনটি সূরা ফুরক্বান ও জাছিয়ার আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ যদি ব্যক্তিকে এমন গুনাহের দিকে ধাবিত করে যেগুলোর ‘শিরকে আকবার অথবা কুফরে আকবার’ হওয়ার বিষয়টি শারঈ দলীল দ্বারা প্রমাণিত। যেমন মৃত ব্যক্তির কাছে কোন কিছু চাওয়া অথবা তাকে প্রয়োজন পূরণকারী ও দুঃখ-কষ্ট নিবারণকারী মনে করা অথবা ছালাত ত্যাগ করা অথবা যিনা-ব্যভিচার ও মদ পান করাকে হালাল মনে করা ইত্যাদি। যদি কুপ্রবৃত্তির অনুসরণকারী আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি বা বস্তুর কসম খায় অথবা লোক দেখানোর জন্য কাজ করে, তবে সে মুশরিক কিন্তু এটি শিরকে আছগার হবে। কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ যদি ব্যক্তিকে বিদ‘আতের দিকে ধাবিত করে, তবে সে বিদ‘আতী। কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ যদি ব্যক্তিকে কাবীরা গুনাহের দিকে ধাবিত করে, যেমন যিনা-ব্যভিচার ও মদ পান করা ইত্যাদি, তবে সে ফাসিক্ব, পাপাচারী, দুরাচারী। আর কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ যদি ব্যক্তিকে ছাগীরা গুনাহের দিকে ধাবিত করে, তবে সে অবাধ্য, পাপী (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৪৫৪৬৬)।


প্রশ্নকারী : ইমরান ফরহাদ, চট্টগ্রাম।





প্রশ্ন (১৩) : কুরবানীর পশুর বয়স কত হতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’, ‘ইয়া হাবীবাল্লাহ’ বলা যাবে কি? যেমন- আমার আব্বু, দাদী এবং আত্মীয়-স্বজন অনেকের মুখে শুনি, তারা ভাত খাওয়ার পর বলেন ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ’, ‘ইয়া হাবীবাল্লাহ’। এমনকি তারা প্রায় সময় আল্লাহর যিকির না করে এইগুলো বলে থাকেন। এভাবে বললে কি শিরক হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : যেকোন মসজিদে ই‘তিকাফ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : যে ইমাম তাবীযের ব্যবসা করে তার পিছনে কি ছালাত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : জনৈক ব্যক্তি বিজিবি কর্মকর্তা। ছালাত আদায়কালে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা চলে আসলে তিনি ছালাত বাদ দিয়ে স্যালুট জানাবেন, না-কি ছালাত শেষ করে তাকে স্যালুট জানাবেন? উল্লেখ্য যে, স্যালুট জানাতে বিলম্ব হলে চাকরীচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২): হায়েযের সময়সীমা ব্যাপারে একেক হাদীছে একেক রকম বর্ণনা পাওয়া যায়। প্রশ্ন হল- ঠিক কতদিন পর্যন্ত ছালাত আদায় করা যাবে না? যদিও একেক মাসে একেক সময়সীমা থাকে। কখনো ৪ দিন আবার কখনো ৭ দিন। বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : একটি ইসলামী কোম্পানীতে মানুষ তাদের উপার্জিত লক্ষ লক্ষ টাকা গচ্ছিত রাখে। কোম্পানী উক্ত টাকা দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা করে। যেমন: জমি ক্রয়-বিক্রয়, প্লট ক্রয়-বিক্রয়, বিদেশ থেকে পাথর ক্রয় ও তা বিক্রয়, ফ্লাট ক্রয়-বিক্রয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে শমিং মল পরিচালনা ইত্যাদি। উক্ত ব্যবসা করে কোম্পানী লাখে কখনো ১২০০/-, কখনো ১৩০০/- এভাবে কমবেশি লভ্যাংশ দিয়ে থাকে। এখন আমি উক্ত কোম্পানীতে আমার পেনশনের প্রায় চল্লিশ লক্ষ টাকা রাখতে চাচ্ছি। প্রশ্ন হল- কোম্পানী প্রদত্ত উক্ত লভ্যাংশ গ্রহণ সূদ হবে, না-কি হালাল হবে? উল্লেখ যে, উপরিউক্ত ব্যবসায়ের মধ্যে কোন্ ব্যবসায়ে আমার টাকা ব্যয় হবে তা আমি জানি না এবং শপিং মলে কিছু মিউজিক ও পর্দার সাথে মহিলা রিপ্রেজেনটিভ রয়েছে। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৩) : ঈদগাহে দ্রুত আসার জন্য আহ্বান করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : যে ব্যক্তি ছালাত ছেড়ে দিল সে শিরক করল। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : কিছু আতর আছে, যা অনেক দামী। প্রশ্ন হল- দামী আতর কিনলে কি তা অপচয় হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : বিদ‘আত মিশ্রিত আমল যদি বাতিল হয় তাহলে যারা ঘাড় মাসাহ করে তাদের নিশ্চয় ওযূ বাতিল হয়ে যায় আর ওযূ বাতিল মানে ছালাতও বাতিল হয়ে যায়। বক্তব্যটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : আমার স্ত্রী ছালাতের ওয়াক্ত হওয়ার সাথে সাথেই ছালাত আদায় করার চেষ্টা করে। ঢাকাতে যোহরের ওয়াক্ত শুরু হয় ১২.০৪ মিনিটে। এর পরপরই সে ছালাত পড়ে নেয়। সেক্ষেত্রে কোন অসুবিধা আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ