রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
উত্তর : ‘শরী‘আহ’ শব্দের অর্থ শরী‘আত, আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। শরী‘আত বলতে সম্পূর্ণ দ্বীনকেই বুঝায়, যাকে আল্লাহ তা‘আলা চয়ন করেছেন তাঁর বান্দাদের জন্য, তাদেরকে এর মাধ্যমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসার জন্য। যার মধ্যে আদেশ-নিষেধ ও হালাল-হারাম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আল্লাহ বলেন,

ثُمَّ جَعَلۡنٰکَ عَلٰی شَرِیۡعَۃٍ  مِّنَ الۡاَمۡرِ فَاتَّبِعۡہَا وَ لَا تَتَّبِعۡ  اَہۡوَآءَ الَّذِیۡنَ لَا یَعۡلَمُوۡنَ

‘অতঃপর আমরা আপনাকে শরী‘আতের বিশেষ বিধানের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছি, কাজেই আপনি তার অনুসরণ করুন। আর অজ্ঞদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করবেন না’ (সূরা আল-জাছিয়া : ১৮; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২১০৭৪২; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ২/২১৯ পৃ.)।

খলীল ইবনু আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘শরী‘আহ বলতে দ্বীনের ঐ বিধানসমূহ বুঝায়, যা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং তার আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন ছালাত, যাকাত, ছিয়াম, হজ্জ ইত্যাদির বিধান’ (আল-আইনু, ১/২৫৩ পৃ.; আস-সিহাহু, ৩/১২৩৬ পৃ.)। ইমাম ইবনু হায্ম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর পূর্বের নবীগণের পবিত্র জিহ্বা দ্বারা যা কিছু দ্বীনের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাকেই শরী‘আহ বলে’ (আল-ইহকাম, ১/৪৬ পৃ.)। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কোন মানুষের জন্য শরী‘আতের কোন বিষয় থেকে বেরিয়ে যাওয়া উচিত নয়। বরং মানুষের যাবতীয় প্রয়োজনাদি শরী‘আতের মধ্যে বিদ্যমান। যেমন উছূল বা মূলনীতি, নীতিমালা, রীতি-নীতি, বিধি-বিধান, নিয়মাবলী, ফুরুঊ বা শাখা-প্রশাখা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি, অবস্থাসমূহ, আমলসমূহ, রাজনৈতিক বিষয়াদি, বৈষয়িক বিষয়াদি এছাড়াও অন্যান্য বিষয় (ইবনু তাইমিয়্যাহ, মাজমূঊল ফাতাওয়া, ১৯/৩০৯ পৃ.)।

দ্বিতীয়তঃ নিঃসন্দেহে কুরআনুল কারীমের পর হাদীছ শরী‘আতের দ্বিতীয় উৎস। হাদীছের উপর আমল ব্যতীত শরী‘আতের কোন একটি বিধান পূর্ণাঙ্গরূপে পালন করা সম্ভব নয়। কুরআন মান্যকারীদের উপর হাদীছ মানা অপরিহার্য। হাদীছের সত্যতা ও বাস্তবতাকে অস্বীকার করে কেউ মুসলিম থাকতে পারে না। কেননা পবিত্র কুরআনের মধ্যেই হাদীছের প্রামাণিকতা বিদ্যমান (সূরা আত-তাওবাহ : ২৯; সূরা আন-নিসা : ৬৫, ১১৫; সূরা আল-হাশর : ৭; সূরা আন-নাজম : ৩-৪; সূরা আলে ‘ইমরান : ৩১)। হাদীছের প্রামাণিকতায় এ রকম আরো সহস্র আয়াত বিদ্যমান। অতএব বুঝা যাচ্ছে যে, ‘আহলে কুরআন’ নামক দলটি কুরআন-সুন্নাহ ও শরী‘আতের দলীলাদি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। এদের ভ্রান্ত মতবাদ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনেক পূর্বেই সতর্ক করেছেন (আবূ দাঊদ, হা/৪৬০৪-৪৬০৫, সনদ ছহীহ)


প্রশ্নকারী :  আল-মামুন, নওদাপাড়া, রাজশাহী।





প্রশ্ন (৯) : মুসাফির অবস্থায় স্টেশনে বা বাসস্ট্যান্ডের পাশের কোন মসজিদে জামা‘আত চলাকালীন প্রবেশ করলে জামা‘আতে শামিল না হয়ে একা একা ক্বছর আদায় করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : আমার মা অসহায়। তাকে দেখার কেউ নেই। অন্যদিকে আমার স্বামী স্বাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও মাকে সহযোগিতা করতে চায় না। আমি কি স্বামীর সংসার থেকে গোপনে আমার মাকে সহযোগিতা করতে পারব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : হিবা কী ও কিভাবে সংঘটিত হয়? কোন্ ধরনের বস্তুতে হিবা শুদ্ধ হয়? হিবা এবং ছাদাক্বার মধ্যে পার্থক্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) :  যেখানে পানির ব্যবস্থা নেই, সেখানে পেশাব করার পর শুধু ঢিল বা টিস্যু নিয়ে পবিত্রতা হাছিল করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৩) : সমাজের অধিকাংশ মসজিদে দেখা যায় যে, ছালাতে তারা নাভীর নীচে হাত বেঁধে থাকে। প্রশ্ন হল- নাভীর নীচে হাত বাঁধার দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : ভাড়া দেয়া হয়েছে এমন বাড়ীর যাকাত দেয়ার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : আমি আগে হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিলাম। কয়েক বছর থেকে আহলেহাদীছের মাসলাক অনুসরণ করে থাকি আলহামদুলিল্লাহ। আগে থেকেই আমার বাসায় অনেক বিদ‘আতী কিতাব আছে। যেমন বেহেস্তি জেওর, নেয়ামুল কোরআন, ফাজায়েলে আমল ইত্যাদি ইত্যাদি রয়েছে। এখন এগুলো পুড়িয়ে ফেলা বা নষ্ট করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : রোগ থেকে পরিত্রাণের জন্য কোন গাছের  শিকড় মাদুলীর মধ্যে ঢুকিয়ে গলায় ঝুলিয়ে ব্যবহার করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : পৃথিবীতে যেখানে যারা কুরআন ও ছহীহ হাদীছ দ্বারা জীবন পরিচালিত করে তারাই আহলেহাদীছ। প্রশ্ন হল- ‘আহলেহাদীছ’ নাম না দিয়ে ‘আহলুস সুন্নাত’ নাম দেয়া যাবে কি? কারণ হাদীছের মধ্যে জাল-যঈফ আছে কিন্তু নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর মধ্যে জাল-যঈফ নেই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ভুল তিলাওয়াতকারী ইমামের পিছনে জেনেশুনে নিয়মিত ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একবার দাবা খেলায় রত কিছু মানুষের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন, এই মুর্তিগুলো কী, যাদের সামনে তোমরা বসে আছ? এগুলো স্পর্শ করার চেয়ে জলন্ত অঙ্গার নির্বাপিত হওয়া পর্যন্ত তাতে হাতে রেখে দেয়া ভাল (সুনানে কুবরা, বায়হাক্বী, ১০/২১২)। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে দাবা খেলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, সেটা ‘নারদ’ (নামক খেলা) থেকে নিকৃষ্ট (সুনানে কুবরা, বায়হাক্বী, ১০/২১২)। ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ছাত্র ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘দাবা খেলা, পাশা খেলা এবং এ জাতীয় খেলাগুলোতে কোন কল্যাণ নেই’। উপরিউক্ত দলীলের আলোকে লুডু, তাস, ক্যারাম ইত্যাদি খেলাকেও হারাম বলা হয়। প্রশ্ন হল, ছাহাবী বা তাবেঈ কি কোন জিনিস হারাম করতে পারেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : রামাযান ধরে যাকাত দিবে, না জানুয়ারী ধরে দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ