শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৬ অপরাহ্ন
উত্তর : ফের্কায়ে নাজিয়া বা মুক্তিপ্রাপ্ত দলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল আক্বীদা, ইবাদত, চরিত্র ও আচার ব্যবহারে নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা। যেমন,
আক্বীদার ক্ষেত্রে : আক্বীদার ক্ষেত্রে ফের্কা নাজিয়ার অন্তর্ভুক্ত লোকেরা আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাতের অনুসারী। উলূহিয়্যাহ তথা ইবাদতে আল্লাহর একত্ব, রুবূবিয়্যাহ তথা প্রতিপালনে আল্লাহর একত্ব এবং আসমা ওয়া ছিফাত তথা সুন্দর নামসমূহ ও গুণাবলীতে আল্লাহর একত্বের ক্ষেত্রে তারা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সঠিক বিশ্বাস পোষণ করে থাকেন (শায়খ উছায়মীন, ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম (রিয়ায, সঊদী আরব : দারুছ ছুরইয়া, ১ম সংস্করণ, ১৪২২ হি.), পৃ. ২২-২৩, প্রশ্ন নং-৬; মাজমঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৮)।

ইবাদতের ক্ষেত্রে : এ ক্ষেত্রে তারা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর পরিপূর্ণ বাস্তবায়নকারী। ইবাদতের প্রকার, পদ্ধতি, পরিমাণ, সময়, স্থান এবং ইবাদতের কারণ ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর অনুসরণ করাই তাদের বৈশিষ্ট্য। তাদের নিকট দ্বীনের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ে বিদ‘আত খোঁজে পাবেন না। তারা আল্লাহ এবং রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সর্বোচ্চ আদব বা শিষ্টাচার রক্ষা করে চলেন। আল্লাহ অনুমতি দেননি, ইবাদতের ক্ষেত্রে এমন বিষয়ের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অগ্রগামী হয় না (ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃ. ২৩, প্রশ্ন নং-৬; মাজমঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৯)।

আখলাক্ব বা চরিত্রের ক্ষেত্রে : এক্ষেত্রেও তারা অন্যদের চেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। মুসলিমদের কল্যাণ কামনা, অপরের জন্য উদার মনের পরিচয় দেয়া, মানুষের সাথে হাসিমুখে উত্তম কথা বলা, বদান্যতা, বীরত্ব এবং অন্যান্য মহান গুণাবলী তাদের চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য (ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃ. ২৩, প্রশ্ন নং-৬; মাজমঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৯)।
পার্থিব বিষয়ের ক্ষেত্রে : এক্ষেত্রে তারা সততার সাথে সকল প্রকার লেনদেন সম্পন্ন করে থাকেন। কাউকে ধোঁকা দেন না। ক্রয়-বিক্রয়ের সময় তারা দ্রব্যের আসল অবস্থা বর্ণনা করে দেন (ছহীহ বুখারী, হা/২০৭৯, ২০৮২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৩২; মিশকাত, হা/২৮০২)।

ঐক্যবদ্ধ থাকার ক্ষেত্রে : এটি তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। তবে চরিত্রর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল পরস্পরে একতাবদ্ধ থাকা এবং আল্লাহ তা‘আলা যে হক্বের উপর ঐক্যবদ্ধ থাকার আদেশ দিয়েছেন, তার উপর অটুট থাকা (সূরা আশ-শূরা : ১৩)। এছাড়া আল্লাহ তা‘আলা সংবাদ দিয়েছেন যে, যারা নিজেদের দ্বীনকে বিভক্ত করেছে এবং বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত হয়েছে, মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, إِنَّ الَّذِيْنَ فَرَّقُوْا دِيْنَهُمْ وَكَانُوْا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِيْ شَيْءٍ ‘নিশ্চয় যারা দ্বীনকে বিভক্ত করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে আপনি কোন ব্যাপারেই তাদের অন্তর্ভুক্ত নন’ (সূরা আল-আন‘আম : ১৫৯)।

উক্ত গুণাবলীগুলোর মধ্যে যদি কোন একটি গুণাবলী কোন ব্যক্তির মাঝে অনুপস্থিত থাকে, তাহলে এ কথা বলা যাবে না যে, যে মুক্তিপ্রাপ্ত দল হতে বের হয়ে গেছে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ আমল অনুযায়ী মর্যাদা লাভ করবে। তবে তাওহীদের ক্ষেত্রে ত্রুটি করলে মুক্তিপ্রাপ্ত দল হতে বের হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ‘আতের বিষয়টিও অনুরূপ। কিছু কিছু বিদ‘আত এমন আছে, যা মানুষকে মুক্তিপ্রাপ্ত দল থেকে বের করে দেয়। তবে চরিত্র ও লেন-দেনের ভিতরে কেউ ত্রুটি করলে সে মুক্তিপ্রাপ্ত দল থেকে বের হবে না। বরং মর্যাদা কমিয়ে দিবে (ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃ. ২৩-২৪, প্রশ্ন নং-৬)।


প্রশ্নকারী : আহমাদ আশ-শারীফ, সাতক্ষীরা।





প্রশ্ন (৩৭) : মহিলার পেটে বাচ্চা থাকলে কি ত্বালাক্ব পতিত হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পর তা আদায়ের পূর্বে মালিক মৃত্যুবরণ করলে তার হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : জনৈক খত্বীব বলেন, পাঁচটি রাতের দু‘আ ফেরত দেয়া হয় না। রজবের প্রথম রাত্রি, শা‘বানের মধ্য রাত্রি, জুমু‘আর রাত্রি, ঈদুল ফিতরের রাত্রি এবং ঈদুল আযহার রাত্রি (ইবনু আসাকির, তারীখে দিমাষ্ক ১০/২৭৫ পৃঃ)। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : সূদি ব্যাংকে সকল প্রকার চাকুরী কি নিষিদ্ধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : মসজিদের ছাদের উপরে ফ্লাট বাড়ীর মত দু’টি রুম তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ইমাম ছাহেব স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকবেন। উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করলে ছালাত শুদ্ধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : জুম‘আর দিন আছর ছালাতের পর উক্ত স্থানে বসে ‘আল্লাহুম্মা ছাল্লি‘আলা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যিল উম্মী ওয়া ‘আলা আলিহী ওয়া সাল্লিম তাসলীমা’ এ দরূদটি ৮০ বার পাঠ করলে আল্লাহ ৮০ বছরের ছগীরা গোনাহ মাফ করে দেন এবং তার আমলনামায় ৮০ বছরের নফল ইবাদতের ছওয়াব লিপিবদ্ধ করেন। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : জনৈক ব্যক্তি সোমবার ও বৃহস্পতিবার নফল ছিয়াম পালন করে। কিন্তু কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে আবার কখনো স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে উক্ত ছিয়াম ভেঙ্গে ফেলে। এমতাবস্থায় সে কি গুনাহগার হবে কিংবা এ জন্য কি কাফফারা দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ফের্কাবন্দীর হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : রবীঊল আউয়াল মাসে কি নির্দিষ্ট কোন ইবাদত আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ‘যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে সে যেন একশ’টি হজ্জ আদায় করল বা একশ’টি উট আল্লাহর ওয়াস্তে দান করল। যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলল সে যেন আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ১০০টি ঘোড়ার পিঠে মুজাহিদ প্রেরণ করলো অথবা আল্লাহর রাস্তায় ১০০ টি গাযওয়া বা অভিযানে শরীক হলো। আর যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার করে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করলো, সে যেন ইসমাঈল বংশের একশ’ ব্যক্তিকে দাসত্ব থেকে মুক্তি প্রদান করলো। আর যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলল, ঐ দিনে তার চেয়ে বেশি আমল আর কেউ করতে পারবে না। তবে যদি কেউ তার সমান এই যিকরগুলো পাঠ করে বা তার চেয়ে বেশি পাঠ করে তাহলে ভিন্ন কথা। (তাহলে সেই শুধু তার উপরে উঠতে পারবে।) ইমাম নাসাঈর বর্ণনায় ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু’-র পরিবর্তে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুআ আলা কুলিল শাইয়্যিন কাদীর’ ১০০ বার পাঠ করার কথা বলা হয়েছে (তিরমিযী, ৫/৫১৩, নং ৩৪৭১; নাসাঈ, আস-সুনানুল কুবরা, ৬/২০৫)। উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছ কি আমলযোগ্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : তিলাওয়াতে সিজদাহর নিয়ম কী এবং এ জন্য কোন নির্দিষ্ট কোন দু‘আ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : পানিতে বরই পাতা মিশিয়ে মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেয়া হয় কেন? সাবান দিয়ে গোসল দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ