রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:৩১ অপরাহ্ন
উত্তর : এতে কোনও সন্দেহ নেই যে, আদম (আলাইহিস সালাম) পৃথিবীর প্রথম মানুষ এবং ভাষা, স্থান, কাল, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র মানব জাতির আদি পিতা তিনিই (সূরা আন-নিসা : ১)। এখানে ‘একটি প্রাণ’ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, আদম (আলাইহিস সালাম) আর ‘তাঁর সঙ্গিনী’ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, মা হাওয়া (ছহীহ বুখারী, হা/৩৩৪০, ৪৭১৩)।

দ্বিতীয়তঃ ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) হলেন ‘আবুল আম্বিয়া’ বা নবীগণের পিতা। কারণ তাঁর যুগ থেকে শুরু করে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত যত নবী এসেছেন সমস্ত নবী-ই তাঁর বংশোদ্ভূত এবং তিনি হলেন তাঁর পরবর্তী সময়ের মুসলিম জাতির পিতা, বিশেষ করে আরবীয়দের। সমগ্র মানব জাতির পিতা বলাটা উচিত নয়। কারণ তিনি তাঁর পূর্বের লোকেদের পিতা কিভাবে হবেন? তাঁর পক্ষে তো আদাম (ﷺ)-এর পিতা হওয়াটা অসম্ভব। তাঁর সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, مِلَّۃَ  اَبِیۡکُمۡ اِبۡرٰہِیۡمَ ؕ ہُوَ سَمّٰىکُمُ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ‘তোমাদের পিতা ইবরাহীমের মিল্লাত (ধর্মাদর্শ মেনে চল), তিনিই তোমাদের নামকরণ করেছেন ‘মুসলিম’ (সূরা আল-হাজ্জ : ৭৮)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

وإبراهيم هو أبو العرب قاطبة. وقيل الخطاب لجميع المسلمين وإن لم يكن الكل من ولده؛ لأن حرمة إبراهيم على المسلمين كحرمة الوالد على الولد

‘ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) হলেন সমগ্র আরব জাতির পিতা এবং কোন কোন মুফাসসির বলেন, সকল মুসলিমকে উদ্দেশ্য করেই তাঁকে ‘পিতা’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে যদিও সকল মুসলিম তার সন্তান নয়। এর কারণ হল, মুসলিমদের নিকট ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর মর্যাদা পুত্রের নিকট পিতার মর্যাদা সমতুল্য’ (তাফসীরে কুরতুবী, ১২/১০১ পৃ.)। ইমাম বাগাভী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

فإن قيل : فما وجه قوله : ( ملة أبيكم ) فَإِنْ قِيلَ: فَمَا وَجْهُ قَوْلِهِ: {مِلَّةَ أَبِيكُمْ} وَلَيْسَ كُلُّ الْمُسْلِمِينَ يَرْجِعُ نَسَبُهُمْ إِلَى إِبْرَاهِيمَ؟ قِيلَ خَاطَبَ بِهِ الْعَرَبَ وَهُمْ كَانُوا مِنْ نَسْلِ إِبْرَاهِيمَ. وَقِيلَ: خَاطَبَ بِهِ جَمِيعَ الْمُسْلِمِينَ، وَإِبْرَاهِيمُ أَبٌ لَهُمْ، عَلَى مَعْنَى وُجُوبِ احْتِرَامِهِ وَحِفْظِ حَقِّهِ كَمَا يَجِبُ احْتِرَامُ الْأَبِ، وَهُوَ كَقَوْلِهِ تَعَالَى: { وَ اَزۡوَاجُہٗۤ  اُمَّہٰتُہُمۡ } (الْأَحْزَابِ: ৬) وَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ "إِنَّمَا أَنَا لَكُمْ مِثْلُ الْوَالِدِ

‘যদি প্রশ্ন করা হয় যে, এই আয়াতে ‘তোমাদের পিতা’ বলার কারণ কী অথচ সকল মুসলিমের বংশ পরম্পরা ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) পর্যন্ত পৌঁছে না? এর উত্তরে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের পিতা’ এ বাক্যটি দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা আরবদেরকে উদ্দেশ্য করেছেন। কারণ তারাই ছিল ইবরাাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর। অথবা এ কথা দ্বারা সকল মুসলিমই উদ্দেশ্য। তিনি মুসলিম জাতির পিতা এই মর্মে যে, তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাঁর অধিকার সংরক্ষণ করা ঠিক তেমনিভাবে অপরিহার্য যেমনিভাবে পিতার সম্মান রক্ষা করা অপরিহার্য। উক্ত আয়াতটি আল্লাহর এই বাণীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যেখানে তিনি বলেছেন, وَ اَزۡوَاجُہٗۤ  اُمَّہٰتُہُمۡ ‘আর তাঁর অর্থাৎ নবী (ﷺ)-এর স্ত্রীগণ তাদের অর্থাৎ মুসলিমদের ‘মা’ (সূরা আল-আহযাব : ৬) এবং নবী (ﷺ) বলেছেন, إِنَّمَا أَنَا لَكُمْ مِثْلُ الْوَالِدِ ‘আমি তো তোমাদের জন্য পিতৃতুল্য’ (নাসাঈ, হা/৪০; ইবনু মাজাহ, হা/৩১৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৩৬৮, ৭৪০৯; তাফসীরে বাগাভী, ৫/৪০৩-৪০৪ পৃ.)। ওয়াছিলাহ ইবনুল আসক্বা‘ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর সন্তানদের মধ্য হতে ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে বেছে নিয়েছেন এবং ইসমাঈল-এর বংশে কিনানাহ গোত্রকে বংশ বেছে নিয়েছেন, কিনানাহ গোত্র হতে কুরাইশ বংশকে বেছে নিয়েছেন, কুরাইশ বংশ থেকে হাশিম উপগোত্রকে বেছে নিয়েছেন এবং বানী হাশিম হতে আমাকে বেছে নিয়েছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/২২৭৬; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৩০২)।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে যে কয়েকটি বিষয় প্রতিভাত হয় তা নিম্নরূপ : (১) মূলত ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) হলেন রাসূল (ﷺ) ও কুরাইশ বংশ তথা আরব জাতির পিতা। কেননা আরব জাতি ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর ছিল। সেই হিসাবে ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) হলেন আরববাসীর পিতা। অতঃপর কুরাইশদের অনুগামী হয়ে সমস্ত মুসলিম-ই এই সম্মানে ভূষিত হয়েছে। যেমন আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘সব মানুষ-ই দ্বীনের ব্যাপারে কুরাইশদের অনুগামী। মুসলিমরা মুসলিম কুরাইশদের অনুগামী এবং কাফিররা কাফির কুরাইশদের অনুগামী’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৯৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৮১৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮, ১৯, ৭৩০৬, ৭৫৫৬, ৮২৪৩, ৯১৩২, ৯৫৯৩)। (২) যেহেতু অনারবরাও ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-কে একজন উচ্চ সম্মানীয় নবী হিসাবে শ্রদ্ধা করে। কারণ আল্লাহ‌ তা‘আলা সমগ্র মানব জাতির জন্য ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-কে তাঁর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরে নেতা হিসাবে মনোনীত করেন। তিনি আনুগত্যের চরম পারাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন। সুতরাং সমস্ত আনুগত্যকারীদের তিনি পিতা। তাছাড়া ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর সম্মান করা তেমনি অপরিহার্য যেমনি সন্তান তার পিতার সম্মান করা একান্ত কর্তব্য। কারণ তিনি হলেন ইসলামের নাবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর বংশ পরম্পরায় পিতা। আর এই জন্যই তিনি হলেন সকল উম্মাতে মুহাম্মাদীর পিতা। অর্থাৎ তিনি যদিও বংশ পরম্পরায় সকল মুসলিমের পিতা নন, কিন্তু সম্মানের দিক দিয়ে সকলের নিকট পিতৃতুল্য (আহকামুল কুরআন লিল জাছ্ছাছ, তাফসীরে কুরতুবী, ফাৎহুল ক্বাদীর)।


প্রশ্নকারী : আল-মামুন, শিবগঞ্জ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।





প্রশ্ন (৩) : যোহরের ছালাতের আউয়াল ওয়াক্ত কখন শুরু হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : আযানের সময় ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্’-এর জবাবে ‘ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ছালাতে রুকূ থেকে উঠে দুই হাত উত্তোলন করার পর হাত ছেড়ে দিতে হবে, না-কি আবার বুকে হাত বাঁধতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩): রহমত ও বরকত লাভের আশায় কোন সৎ ব্যক্তিকে ডেকে বা কোন সৎ ব্যক্তি কারো বাড়িতে বেড়াতে আসলে তাকে ঘরে সাধারণভাবে নফল ছালাত পড়তে বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : মসজিদে বিয়ে পড়ানোর কি কোন ফযীলত আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : সিজদায় কুরআনে বর্ণিত কোন্ দু‘আ করা নিষেধ? কুরআনে বর্ণিত দু‘আ করার শুরুতে ‘আঊযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম’ পড়তে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : আমাদের এলাকায় প্রায় প্রতিটা মসজিদে ইফতারের চার্ট ভিত্তিক সময় থেকে ১৫ মিনিট পরে ছালাত শুরু হয়। এ অবস্থায় আমাদের ছালাতের কোন ক্ষতি হচ্ছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ৮ রাক‘আত তারাবীহ পড়লেও ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ২০ রাক‘আত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ২০ রাক‘আতের উপর ইজমা হয়েছে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১): ইসলামী রাষ্ট্রে বা ইসলামী (এনজিও) সংস্থার অধীনে যে সমস্ত ওয়াক্বফের সম্পত্তি একত্রিত হয়, পরবর্তীতে ওই সম্পত্তি থেকে বিনিয়োগ করা হলে তাতে কি যাকাত ওয়াজিব হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : মেয়ের বাড়ীতে বিয়ের অনুষ্ঠানে বর পক্ষের লোকেরা খেতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : যারা সরকারী এবং বেসরকারী ভাবে বিদেশে (অমুসলিম দেশে) চাকরীর উদ্দেশ্যে যেতে চায়, তাদেরকে সেই দেশের ভাষা শেখানো এবং কাগজপত্র প্রস্তুতির বিনিময়ে টাকা নেয়া জায়েয হবে কি? উল্লেখ্য, আমরা কাউকে উৎসাহিত করছি না। শুধু যারা আগ্রহী তাদেরকে সহযোগিতা করতে চাচ্ছি। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : যমযমের পানি পানের সময় নিম্নের দু‘আ পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ