শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন
উত্তর : এতে কোনও সন্দেহ নেই যে, আদম (আলাইহিস সালাম) পৃথিবীর প্রথম মানুষ এবং ভাষা, স্থান, কাল, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র মানব জাতির আদি পিতা তিনিই (সূরা আন-নিসা : ১)। এখানে ‘একটি প্রাণ’ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, আদম (আলাইহিস সালাম) আর ‘তাঁর সঙ্গিনী’ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, মা হাওয়া (ছহীহ বুখারী, হা/৩৩৪০, ৪৭১৩)।

দ্বিতীয়তঃ ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) হলেন ‘আবুল আম্বিয়া’ বা নবীগণের পিতা। কারণ তাঁর যুগ থেকে শুরু করে মুহাম্মাদ (ﷺ) পর্যন্ত যত নবী এসেছেন সমস্ত নবী-ই তাঁর বংশোদ্ভূত এবং তিনি হলেন তাঁর পরবর্তী সময়ের মুসলিম জাতির পিতা, বিশেষ করে আরবীয়দের। সমগ্র মানব জাতির পিতা বলাটা উচিত নয়। কারণ তিনি তাঁর পূর্বের লোকেদের পিতা কিভাবে হবেন? তাঁর পক্ষে তো আদাম (ﷺ)-এর পিতা হওয়াটা অসম্ভব। তাঁর সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, مِلَّۃَ  اَبِیۡکُمۡ اِبۡرٰہِیۡمَ ؕ ہُوَ سَمّٰىکُمُ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ‘তোমাদের পিতা ইবরাহীমের মিল্লাত (ধর্মাদর্শ মেনে চল), তিনিই তোমাদের নামকরণ করেছেন ‘মুসলিম’ (সূরা আল-হাজ্জ : ৭৮)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

وإبراهيم هو أبو العرب قاطبة. وقيل الخطاب لجميع المسلمين وإن لم يكن الكل من ولده؛ لأن حرمة إبراهيم على المسلمين كحرمة الوالد على الولد

‘ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) হলেন সমগ্র আরব জাতির পিতা এবং কোন কোন মুফাসসির বলেন, সকল মুসলিমকে উদ্দেশ্য করেই তাঁকে ‘পিতা’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে যদিও সকল মুসলিম তার সন্তান নয়। এর কারণ হল, মুসলিমদের নিকট ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর মর্যাদা পুত্রের নিকট পিতার মর্যাদা সমতুল্য’ (তাফসীরে কুরতুবী, ১২/১০১ পৃ.)। ইমাম বাগাভী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

فإن قيل : فما وجه قوله : ( ملة أبيكم ) فَإِنْ قِيلَ: فَمَا وَجْهُ قَوْلِهِ: {مِلَّةَ أَبِيكُمْ} وَلَيْسَ كُلُّ الْمُسْلِمِينَ يَرْجِعُ نَسَبُهُمْ إِلَى إِبْرَاهِيمَ؟ قِيلَ خَاطَبَ بِهِ الْعَرَبَ وَهُمْ كَانُوا مِنْ نَسْلِ إِبْرَاهِيمَ. وَقِيلَ: خَاطَبَ بِهِ جَمِيعَ الْمُسْلِمِينَ، وَإِبْرَاهِيمُ أَبٌ لَهُمْ، عَلَى مَعْنَى وُجُوبِ احْتِرَامِهِ وَحِفْظِ حَقِّهِ كَمَا يَجِبُ احْتِرَامُ الْأَبِ، وَهُوَ كَقَوْلِهِ تَعَالَى: { وَ اَزۡوَاجُہٗۤ  اُمَّہٰتُہُمۡ } (الْأَحْزَابِ: ৬) وَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ "إِنَّمَا أَنَا لَكُمْ مِثْلُ الْوَالِدِ

‘যদি প্রশ্ন করা হয় যে, এই আয়াতে ‘তোমাদের পিতা’ বলার কারণ কী অথচ সকল মুসলিমের বংশ পরম্পরা ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) পর্যন্ত পৌঁছে না? এর উত্তরে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের পিতা’ এ বাক্যটি দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা আরবদেরকে উদ্দেশ্য করেছেন। কারণ তারাই ছিল ইবরাাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর। অথবা এ কথা দ্বারা সকল মুসলিমই উদ্দেশ্য। তিনি মুসলিম জাতির পিতা এই মর্মে যে, তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাঁর অধিকার সংরক্ষণ করা ঠিক তেমনিভাবে অপরিহার্য যেমনিভাবে পিতার সম্মান রক্ষা করা অপরিহার্য। উক্ত আয়াতটি আল্লাহর এই বাণীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যেখানে তিনি বলেছেন, وَ اَزۡوَاجُہٗۤ  اُمَّہٰتُہُمۡ ‘আর তাঁর অর্থাৎ নবী (ﷺ)-এর স্ত্রীগণ তাদের অর্থাৎ মুসলিমদের ‘মা’ (সূরা আল-আহযাব : ৬) এবং নবী (ﷺ) বলেছেন, إِنَّمَا أَنَا لَكُمْ مِثْلُ الْوَالِدِ ‘আমি তো তোমাদের জন্য পিতৃতুল্য’ (নাসাঈ, হা/৪০; ইবনু মাজাহ, হা/৩১৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৩৬৮, ৭৪০৯; তাফসীরে বাগাভী, ৫/৪০৩-৪০৪ পৃ.)। ওয়াছিলাহ ইবনুল আসক্বা‘ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর সন্তানদের মধ্য হতে ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে বেছে নিয়েছেন এবং ইসমাঈল-এর বংশে কিনানাহ গোত্রকে বংশ বেছে নিয়েছেন, কিনানাহ গোত্র হতে কুরাইশ বংশকে বেছে নিয়েছেন, কুরাইশ বংশ থেকে হাশিম উপগোত্রকে বেছে নিয়েছেন এবং বানী হাশিম হতে আমাকে বেছে নিয়েছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/২২৭৬; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৩০২)।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে যে কয়েকটি বিষয় প্রতিভাত হয় তা নিম্নরূপ : (১) মূলত ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) হলেন রাসূল (ﷺ) ও কুরাইশ বংশ তথা আরব জাতির পিতা। কেননা আরব জাতি ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর ছিল। সেই হিসাবে ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) হলেন আরববাসীর পিতা। অতঃপর কুরাইশদের অনুগামী হয়ে সমস্ত মুসলিম-ই এই সম্মানে ভূষিত হয়েছে। যেমন আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘সব মানুষ-ই দ্বীনের ব্যাপারে কুরাইশদের অনুগামী। মুসলিমরা মুসলিম কুরাইশদের অনুগামী এবং কাফিররা কাফির কুরাইশদের অনুগামী’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৯৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৮১৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮, ১৯, ৭৩০৬, ৭৫৫৬, ৮২৪৩, ৯১৩২, ৯৫৯৩)। (২) যেহেতু অনারবরাও ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-কে একজন উচ্চ সম্মানীয় নবী হিসাবে শ্রদ্ধা করে। কারণ আল্লাহ‌ তা‘আলা সমগ্র মানব জাতির জন্য ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-কে তাঁর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরে নেতা হিসাবে মনোনীত করেন। তিনি আনুগত্যের চরম পারাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন। সুতরাং সমস্ত আনুগত্যকারীদের তিনি পিতা। তাছাড়া ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর সম্মান করা তেমনি অপরিহার্য যেমনি সন্তান তার পিতার সম্মান করা একান্ত কর্তব্য। কারণ তিনি হলেন ইসলামের নাবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর বংশ পরম্পরায় পিতা। আর এই জন্যই তিনি হলেন সকল উম্মাতে মুহাম্মাদীর পিতা। অর্থাৎ তিনি যদিও বংশ পরম্পরায় সকল মুসলিমের পিতা নন, কিন্তু সম্মানের দিক দিয়ে সকলের নিকট পিতৃতুল্য (আহকামুল কুরআন লিল জাছ্ছাছ, তাফসীরে কুরতুবী, ফাৎহুল ক্বাদীর)।


প্রশ্নকারী : আল-মামুন, শিবগঞ্জ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।





প্রশ্ন (২৫): রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন আল্লাহ তা‘আলা যমীন সৃষ্টি করলেন তখন তা দুলতে লাগল। অতঃপর পাহাড়গুলো সৃষ্টি করে সেগুলো পৃথিবীর উপর স্থীর করেন। অতঃপর পৃথিবী স্থীর হয়ে গেল। ফেরেশতাগণ পাহাড়ের এ শক্তি দেখে আশ্চর্যান্বিত হলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পাহাড় অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? আল্লাহ বললেন, হ্যাঁ; আর সেটা লোহা। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করল, হে প্রভু! আপনার সৃষ্টির মধ্যে লোহা অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আগুন। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে আগুন অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; পানি। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পানি অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; বাতাস। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে বাতাস অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; আদম সন্তান। যে তার ডান হাতে দান করে আর দানকে বাম হাত হতে গোপন রাখে। এ ঘটনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : কুরবানীর চামড়ার টাকা কিভাবে বণ্টন করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : কেউ কসম করে বলল, ‘আমি তাকে বিয়ে করব না। অতঃপর সে তাকে বিয়ে করে নিল’। তার জন্য করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : আউয়াল ওয়াক্তে ফরয ছালাত আদায় করে বিলম্বিত ওয়াক্তে মসজিদে ছালাত আদায়ের ক্ষেত্রে মুছল্লী কি নফল ছালাতের নিয়ত করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লা-হু’ কিভাবে তাওহীদের সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : বালতিতে বা আবদ্ধ পাত্রে নাপাক কাপড় ধৌত করলে তা কীভাবে পবিত্র করতে হবে? অনেকে বলে ৩ বার ধৌত করলেই তা পবিত্র হয়ে যাবে। এ কথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : কোন ভবনের দ্বিতীয় তলায় মসজিদ। নিচতলায় রংয়ের গুদাম, মসজিদের টয়লেট এবং ওযূখানা। দ্বিতীয় তলায় মসজিদের মিম্বার বরাবর নিচ তলায় হাতের বায়ে দেয়াল ঘেষে একটি কবর। প্রশ্ন হল, উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : রামাযান মাসে জামা‘আতের সাথে তারাবীহ উত্তম, না একাকী তাহাজ্জুদ উত্তম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ইমাম আবূ হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে কেমন আক্বীদা পোষণ করা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোন একজন কাফের কিংবা মুরতাদ হলে অপরজনের করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যিলহজ্জ মাসে কয়দিন তাকবীর পাঠ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : বাংলাদেশে ওশর প্রযাজ্য নয়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ