রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : উক্ত মর্মে যে বর্ণনা এসেছে, তা জাল। শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছের সনদগুলো ছহীহ নয়। আর এ কথা সর্বজনবিদিত যে, যঈফ হাদীছ দ্বারা শরী‘আতের কোন বিধান প্রতিষ্ঠিত হয় না। যেমন ইবনু আবী-‘আছীম তার কিতাব আস-সুন্নাহর ১/৩০৫-৩০৬ পৃষ্ঠায় একটি দীর্ঘ হাদীছ বর্ণনা করেছেন, যার শেষ অংশে বলা হয়েছে, উম্মতে মুহাম্মাদীর মর্যাদার কথা শুনে মূসা (আলাইহিস সালাম) আল্লাহ তা‘আলাকে বলেছিলেন,

إِلَهِي اجْعَلْنِي نَبِيَّ تِلْكَ الْأُمَّةِ. قَالَ: نَبِيُّهَا مِنْهُمْ. قَالَ: اجْعَلْنِي مِنْ أُمَّةِ ذَلِكَ النَّبِيِّ. قَالَ: اسْتَقْدَمْتَ وَاسْتَأْخَرُوا يَا مُوسَى، وَلَكِنْ يَا مُوسَى سَأَجْمَعُ بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ فِي دَارِ الْجَلَالِ

‘হে আমার আল্লাহ! আমাকে ঐ উম্মতের নবী বানিয়ে দিন। আল্লাহ বলেন, তাঁদের নবী তাঁদের মধ্যে থেকেই হবে। তিনি বলেন, তাহলে আমাকে ঐ নবীর উম্মত বানিয়ে দিন। আল্লাহ বলেন, হে মূসা! তুমি তো অগ্রবর্তী হয়েছ, আর তারা তো পরবর্তী সময়ে আসবে। কিন্তু হে মূসা! আমি তোমাকে এবং তাঁকে সম্মানীত ঘরে একত্রিত করব’। এ হাদীছের সনদ নিতান্তই দুর্বল অথবা জাল বা বানোয়াট।

আল্লামা মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এর সনদ খুবই দুর্বল বরং এটি মাওযূঊ’ (তাখরীজু কিতাবিস সুন্নাহ, পৃ. ৬৯৬; যিলালুল জান্নাহ, ১/৩০৬ পৃ.)। আবূ নু‘আইম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে (দালাইলুন নুবুওয়াহ, পৃ. ৬৮-৬৯)। ইবনু আবী হাতীম তাঁর তাফসীর গ্রন্থের ৫/১৫৮৭ পৃষ্ঠায় বলেন, এই হাদীছের সনদে দুর্বলতা রয়েছে। হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এই হাদীছের বর্ণনাকারীগণ দুর্বল এবং সন্দেহযুক্ত’ (তাক্বরীবুত তাহযীব, পৃ. ২৩৩, ৪৫৭, ৪৯৩ ও ৫৪৭ পৃ.)। জারীর আত্ব-ত্বাবারী ও ইমাম ইবনু কাছীর, ক্বাতাদাহ (রাহিমাহুমুল্লাহ) উক্ত হাদীছ বর্ণনা করে বলেন, এই হাদীছের সনদ ছহীহ নয় (তাফসীরে ত্বাবারী, ১০/৪৫২; তাফসীরে ইবনে কাছীর, ৩/৪৭৭ পৃ.)। মোদ্দাকথা, এই হাদীছটিকে রাসূল (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে প্রমাণিত নয়। কারণ এটি তাঁর উক্তি নয়। বরং প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে, এগুলো আহলে কিতাবদের মতবাদ বা তাদের মনগড়া কাহিনী (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৫৮৪৯৩)।


প্রশ্নকারী : তাইফ মোল্লা, গুলশান, ঢাকা।





প্রশ্ন (১৭) : নিম্নের দু‘আটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : একই পশুতে কুরবানী ও আক্বীক্বার নিয়ত করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ‘আহলেহাদীছ’ নামে কোন মসজিদের নামকরণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : কোন অসুস্থ ব্যক্তি দু‘আ চাইলে শুক্রবারে জুমু‘আর ছালাতের পর সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : রাসূল (ﷺ) ও দুই ছাহাবীর কবর যিয়ারতের সময় কি পৃথক দু‘আ পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : স্ত্রী ছালাত আদায় না করলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : জনৈক ব্যক্তি পূর্বে যাকাত আদায় করেনি। এখন বিগত বছরগুলোর যাকাত কিভাবে আদায় করব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) মনে মনে কুরআন তেলাওয়াত করলে ছওয়াব পাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : বিভিন্ন ভাষায় রচিত গল্প, নাটক, উপন্যাসের বই বিক্রি করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : ঋতু হতে পবিত্র হওয়ার পদ্ধতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : ক্বিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম কাকে বস্ত্র পরিধান করানো হবে? কেউ কেউ বলে যে, ‘বস্ত্র পরিধান করেই রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্বিয়ামতের দিন উঠবেন’, একথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : মসজিদের পূর্ব, পশ্চিম এবং উত্তর দিকে কবর রয়েছে। মসজিদ ও কবরের মাঝে মসজিদের দেয়াল ছাড়া অন্য কোন দেয়াল নেই। মসজিদ কমিটিকে মসজিদ ও কবরের মাঝে প্রাচীর দেয়ার কথা বলেও কোন লাভ হয়নি। কমিটির অধিকাংশ সদস্য চরমোনাই ও ইলিয়াসী তাবলীগের সাথে জড়িত। এমন মসজিদে মাসিক চাঁদা দেয়া, ইমামের বেতনের জন্য টাকা দেয়া, দান করা কি জায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ