রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ন
উত্তর : উক্ত মর্মে যে বর্ণনা এসেছে, তা জাল। শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছের সনদগুলো ছহীহ নয়। আর এ কথা সর্বজনবিদিত যে, যঈফ হাদীছ দ্বারা শরী‘আতের কোন বিধান প্রতিষ্ঠিত হয় না। যেমন ইবনু আবী-‘আছীম তার কিতাব আস-সুন্নাহর ১/৩০৫-৩০৬ পৃষ্ঠায় একটি দীর্ঘ হাদীছ বর্ণনা করেছেন, যার শেষ অংশে বলা হয়েছে, উম্মতে মুহাম্মাদীর মর্যাদার কথা শুনে মূসা (আলাইহিস সালাম) আল্লাহ তা‘আলাকে বলেছিলেন,

إِلَهِي اجْعَلْنِي نَبِيَّ تِلْكَ الْأُمَّةِ. قَالَ: نَبِيُّهَا مِنْهُمْ. قَالَ: اجْعَلْنِي مِنْ أُمَّةِ ذَلِكَ النَّبِيِّ. قَالَ: اسْتَقْدَمْتَ وَاسْتَأْخَرُوا يَا مُوسَى، وَلَكِنْ يَا مُوسَى سَأَجْمَعُ بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ فِي دَارِ الْجَلَالِ

‘হে আমার আল্লাহ! আমাকে ঐ উম্মতের নবী বানিয়ে দিন। আল্লাহ বলেন, তাঁদের নবী তাঁদের মধ্যে থেকেই হবে। তিনি বলেন, তাহলে আমাকে ঐ নবীর উম্মত বানিয়ে দিন। আল্লাহ বলেন, হে মূসা! তুমি তো অগ্রবর্তী হয়েছ, আর তারা তো পরবর্তী সময়ে আসবে। কিন্তু হে মূসা! আমি তোমাকে এবং তাঁকে সম্মানীত ঘরে একত্রিত করব’। এ হাদীছের সনদ নিতান্তই দুর্বল অথবা জাল বা বানোয়াট।

আল্লামা মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এর সনদ খুবই দুর্বল বরং এটি মাওযূঊ’ (তাখরীজু কিতাবিস সুন্নাহ, পৃ. ৬৯৬; যিলালুল জান্নাহ, ১/৩০৬ পৃ.)। আবূ নু‘আইম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে (দালাইলুন নুবুওয়াহ, পৃ. ৬৮-৬৯)। ইবনু আবী হাতীম তাঁর তাফসীর গ্রন্থের ৫/১৫৮৭ পৃষ্ঠায় বলেন, এই হাদীছের সনদে দুর্বলতা রয়েছে। হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এই হাদীছের বর্ণনাকারীগণ দুর্বল এবং সন্দেহযুক্ত’ (তাক্বরীবুত তাহযীব, পৃ. ২৩৩, ৪৫৭, ৪৯৩ ও ৫৪৭ পৃ.)। জারীর আত্ব-ত্বাবারী ও ইমাম ইবনু কাছীর, ক্বাতাদাহ (রাহিমাহুমুল্লাহ) উক্ত হাদীছ বর্ণনা করে বলেন, এই হাদীছের সনদ ছহীহ নয় (তাফসীরে ত্বাবারী, ১০/৪৫২; তাফসীরে ইবনে কাছীর, ৩/৪৭৭ পৃ.)। মোদ্দাকথা, এই হাদীছটিকে রাসূল (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে প্রমাণিত নয়। কারণ এটি তাঁর উক্তি নয়। বরং প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে, এগুলো আহলে কিতাবদের মতবাদ বা তাদের মনগড়া কাহিনী (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৫৮৪৯৩)।


প্রশ্নকারী : তাইফ মোল্লা, গুলশান, ঢাকা।





প্রশ্ন (১১) : মাথার চুল ডাস্টবিনে ফেললে কি পাপ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : কোন ব্যক্তি যদি কুরআনের মুছহাফ ব্যতীত মুখস্থ কুরআন তেলাওয়াত করে, তাহলে তার জন্য এক হাযার মর্যাদার সমান নেকী রয়েছে। আর যদি মাছহাফে কুরআন পড়া মুখস্থ পড়ার চেয়ে দুই হাজার মর্যাদার সমান রয়েছে (ত্বাবারাণী, আল-জামেঊল কাবীর হা/৬০১)। বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : ঘুষের বিনিময়ে চাকরি নিলে সেই চাকরির বেতন কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবর ত্বাওয়াফ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : চার রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাতে ইমাম ভুল করে যদি তিন রাক‘আত পড়ে, এমতাবস্থায় করণীয় কী? সালাম ফিরানোর পরে এক রাক‘আত পড়বে, না-কি চার রাক‘আত পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : চার রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাতে ১ম রাক‘আত যদি ছুটে যায়, তাহলে ইমামের সাথে তিন রাক‘আত আদায় করার পর শেষ রাক‘আতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়লে হবে, না-কি ফাতিহার সাথে অন্য আরেকটি সূরা মিলাতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মুসলিম হয়েও যারা মসজিদ ভাঙ্গে কিংবা পুড়িয়ে দেয়, তাদের জন্য বদ-দু‘আ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : স্বামী-স্ত্রী একসাথে জামা‘আতে ছালাত আদায় করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : আমি দীর্ঘদিন থেকে একটি মেয়ের সাথে যেনায় লিপ্ত। অনেকবার ছাড়তে চেয়েও পারিনি। আমি লজ্জায় কিছুই করতে পারি না। কী কী কাজ করলে আমি এটা থেকে বের হয়ে আসতে পারি? কিভাবে তওবাহ করতে পারি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : কোন অমুসলিম যদি কালেমা পাঠ করে মুসলিম হয়, তাহলে তার কি সুন্নাতে খাৎনা করা এবং এভিডেভিট করা যরূরী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : সূরা আল-ফাতিহা না পড়লে ছালাত হয় না, তবে রুকূ‘ পেলে কেন রাক‘আত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : যারা ছালাত আদায় করেও মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করে, অন্যের ক্ষতি করে তাদের ব্যাপারে অনেকেই বলে, ছালাত মানুষকে ভালো করতে পারে না কিংবা ছালাত পড়লেই মানুষ ভালো হয় না ইত্যাদি। এ ধরনের কথা বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ