রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
উত্তর : উক্ত মর্মে যে বর্ণনা এসেছে, তা জাল। শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছের সনদগুলো ছহীহ নয়। আর এ কথা সর্বজনবিদিত যে, যঈফ হাদীছ দ্বারা শরী‘আতের কোন বিধান প্রতিষ্ঠিত হয় না। যেমন ইবনু আবী-‘আছীম তার কিতাব আস-সুন্নাহর ১/৩০৫-৩০৬ পৃষ্ঠায় একটি দীর্ঘ হাদীছ বর্ণনা করেছেন, যার শেষ অংশে বলা হয়েছে, উম্মতে মুহাম্মাদীর মর্যাদার কথা শুনে মূসা (আলাইহিস সালাম) আল্লাহ তা‘আলাকে বলেছিলেন,

إِلَهِي اجْعَلْنِي نَبِيَّ تِلْكَ الْأُمَّةِ. قَالَ: نَبِيُّهَا مِنْهُمْ. قَالَ: اجْعَلْنِي مِنْ أُمَّةِ ذَلِكَ النَّبِيِّ. قَالَ: اسْتَقْدَمْتَ وَاسْتَأْخَرُوا يَا مُوسَى، وَلَكِنْ يَا مُوسَى سَأَجْمَعُ بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ فِي دَارِ الْجَلَالِ

‘হে আমার আল্লাহ! আমাকে ঐ উম্মতের নবী বানিয়ে দিন। আল্লাহ বলেন, তাঁদের নবী তাঁদের মধ্যে থেকেই হবে। তিনি বলেন, তাহলে আমাকে ঐ নবীর উম্মত বানিয়ে দিন। আল্লাহ বলেন, হে মূসা! তুমি তো অগ্রবর্তী হয়েছ, আর তারা তো পরবর্তী সময়ে আসবে। কিন্তু হে মূসা! আমি তোমাকে এবং তাঁকে সম্মানীত ঘরে একত্রিত করব’। এ হাদীছের সনদ নিতান্তই দুর্বল অথবা জাল বা বানোয়াট।

আল্লামা মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এর সনদ খুবই দুর্বল বরং এটি মাওযূঊ’ (তাখরীজু কিতাবিস সুন্নাহ, পৃ. ৬৯৬; যিলালুল জান্নাহ, ১/৩০৬ পৃ.)। আবূ নু‘আইম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে (দালাইলুন নুবুওয়াহ, পৃ. ৬৮-৬৯)। ইবনু আবী হাতীম তাঁর তাফসীর গ্রন্থের ৫/১৫৮৭ পৃষ্ঠায় বলেন, এই হাদীছের সনদে দুর্বলতা রয়েছে। হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এই হাদীছের বর্ণনাকারীগণ দুর্বল এবং সন্দেহযুক্ত’ (তাক্বরীবুত তাহযীব, পৃ. ২৩৩, ৪৫৭, ৪৯৩ ও ৫৪৭ পৃ.)। জারীর আত্ব-ত্বাবারী ও ইমাম ইবনু কাছীর, ক্বাতাদাহ (রাহিমাহুমুল্লাহ) উক্ত হাদীছ বর্ণনা করে বলেন, এই হাদীছের সনদ ছহীহ নয় (তাফসীরে ত্বাবারী, ১০/৪৫২; তাফসীরে ইবনে কাছীর, ৩/৪৭৭ পৃ.)। মোদ্দাকথা, এই হাদীছটিকে রাসূল (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে প্রমাণিত নয়। কারণ এটি তাঁর উক্তি নয়। বরং প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে, এগুলো আহলে কিতাবদের মতবাদ বা তাদের মনগড়া কাহিনী (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৫৮৪৯৩)।


প্রশ্নকারী : তাইফ মোল্লা, গুলশান, ঢাকা।





প্রশ্ন (৩০) : জনৈক ব্যক্তি ওয়েব সাইট ডেভলপার এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। মৌলিকভাবে এসব কাজ হারাম না। তবে স্পষ্ট হারাম যেমন সূদ ভিত্তিক ব্যাংক, মাদক, জুয়া, যৌনতা ইত্যাদি বাদ দিয়ে যেকোন ওয়েব সাইটের কাজ করলে কি তা হালাল হবে? এছাড়া কোন্ কোন্ বিষয়ের সংমিশ্রণ হলে ইনকাম হারাম হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : হাদীছে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কুরআনে নিজের মত পেশ করবে সে জাহান্নামে যাবে। যুগ যুগ ধরে মুফাসসিরগণ কুরআনের তাফসীর করতে কুরআন, হাদীছ, ছাহাবী, তাবেঈদের উক্তির পাশাপাশি নিজ চিন্তা, গবেষণা ও মত প্রকাশ করেন। তাহলে হাদীছে নিজ মত প্রকাশ করা বলতে কী বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : জনৈক বক্তা বলেন, সূরা ফাতিহা প্রায় ১০০০ রোগের ঔষধ। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : আমি বিবাহিত। কিন্তু স্ত্রীর যৌন চাহিদা পূরণে আমি পুরোপুরি অক্ষম। অনেক চিকিৎসা করেছি। কিন্তু উপকার হয়নি। প্রশ্ন হল- স্ত্রীর যৌনাঙ্গে হাত দিয়ে তার চাহিদা পূরণ করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণীর ‘সাহিত্যপাঠ’ বইয়ে কবি মীর মশাররফ হোসেনের রচিত ‘কারবালা প্রান্তর’ গদ্যাংশে রয়েছে, ‘হোসেনের অশ্ব প্রভুর হস্ত’। এমন কথা বিশ্বাস করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : অপবিত্র অবস্থায় কুরআন বা হাদীছ অডিও শুনা যাবে কি? অথবা মোবাইলে দেখে পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : স্ত্রীর ভরণ-পোষণ না দিলে স্বামী গুনাহগার হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ‘সূরা ফাতেহা সকল রোগের ঔষধ’ কথাটি কি ঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : টিকটিকি মারার ফযীলত সংক্রান্ত কয়েকটি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। অনেকেই বলে, তা টিকটিকি নয়, বরং তা গিরগিটি কিংবা কাঁকলাস মারতে হবে। এর সঠিক অর্থ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : বিয়েতে মেয়েকে কবুল বলাতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : যারা মিউজিক শুনে তাদের কানে উত্তপ্ত গলিত সীসা ঢেলে দেয়ার হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : পিতার চাচী কি ছেলের জন্য মাহরাম হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ