রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৫:০৭ অপরাহ্ন
উত্তর : উক্ত মর্মে যে বর্ণনা এসেছে, তা জাল। শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছের সনদগুলো ছহীহ নয়। আর এ কথা সর্বজনবিদিত যে, যঈফ হাদীছ দ্বারা শরী‘আতের কোন বিধান প্রতিষ্ঠিত হয় না। যেমন ইবনু আবী-‘আছীম তার কিতাব আস-সুন্নাহর ১/৩০৫-৩০৬ পৃষ্ঠায় একটি দীর্ঘ হাদীছ বর্ণনা করেছেন, যার শেষ অংশে বলা হয়েছে, উম্মতে মুহাম্মাদীর মর্যাদার কথা শুনে মূসা (আলাইহিস সালাম) আল্লাহ তা‘আলাকে বলেছিলেন,

إِلَهِي اجْعَلْنِي نَبِيَّ تِلْكَ الْأُمَّةِ. قَالَ: نَبِيُّهَا مِنْهُمْ. قَالَ: اجْعَلْنِي مِنْ أُمَّةِ ذَلِكَ النَّبِيِّ. قَالَ: اسْتَقْدَمْتَ وَاسْتَأْخَرُوا يَا مُوسَى، وَلَكِنْ يَا مُوسَى سَأَجْمَعُ بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ فِي دَارِ الْجَلَالِ

‘হে আমার আল্লাহ! আমাকে ঐ উম্মতের নবী বানিয়ে দিন। আল্লাহ বলেন, তাঁদের নবী তাঁদের মধ্যে থেকেই হবে। তিনি বলেন, তাহলে আমাকে ঐ নবীর উম্মত বানিয়ে দিন। আল্লাহ বলেন, হে মূসা! তুমি তো অগ্রবর্তী হয়েছ, আর তারা তো পরবর্তী সময়ে আসবে। কিন্তু হে মূসা! আমি তোমাকে এবং তাঁকে সম্মানীত ঘরে একত্রিত করব’। এ হাদীছের সনদ নিতান্তই দুর্বল অথবা জাল বা বানোয়াট।

আল্লামা মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এর সনদ খুবই দুর্বল বরং এটি মাওযূঊ’ (তাখরীজু কিতাবিস সুন্নাহ, পৃ. ৬৯৬; যিলালুল জান্নাহ, ১/৩০৬ পৃ.)। আবূ নু‘আইম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে (দালাইলুন নুবুওয়াহ, পৃ. ৬৮-৬৯)। ইবনু আবী হাতীম তাঁর তাফসীর গ্রন্থের ৫/১৫৮৭ পৃষ্ঠায় বলেন, এই হাদীছের সনদে দুর্বলতা রয়েছে। হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এই হাদীছের বর্ণনাকারীগণ দুর্বল এবং সন্দেহযুক্ত’ (তাক্বরীবুত তাহযীব, পৃ. ২৩৩, ৪৫৭, ৪৯৩ ও ৫৪৭ পৃ.)। জারীর আত্ব-ত্বাবারী ও ইমাম ইবনু কাছীর, ক্বাতাদাহ (রাহিমাহুমুল্লাহ) উক্ত হাদীছ বর্ণনা করে বলেন, এই হাদীছের সনদ ছহীহ নয় (তাফসীরে ত্বাবারী, ১০/৪৫২; তাফসীরে ইবনে কাছীর, ৩/৪৭৭ পৃ.)। মোদ্দাকথা, এই হাদীছটিকে রাসূল (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে প্রমাণিত নয়। কারণ এটি তাঁর উক্তি নয়। বরং প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে, এগুলো আহলে কিতাবদের মতবাদ বা তাদের মনগড়া কাহিনী (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৫৮৪৯৩)।


প্রশ্নকারী : তাইফ মোল্লা, গুলশান, ঢাকা।





প্রশ্ন (৩৯) : ‘ছালাতুল ইশরাক্ব’, ‘ছালাতুয যুহা’ এবং ‘ছালাতুল আউওয়াবীন’ বলতে কোন্ কোন্ ছালাতকে বুঝানো হয় এবং এই সকল ছালাতের ফযীলত কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মীমাংসামূলক ছালাতের  বিশুদ্ধ আাছে কি? সেটা হচ্ছে: দুই রাক‘আত ছালাত পড়া। প্রত্যেক রাক‘আতে সূরা ফাতিহা পড়া এবং সাতবার ‘সম্ভবত আল্লাহ তোমাদের মধ্যে এবং তাদের মধ্য থেকে যাদের সাথে তোমাদের শত্রুতা আছে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। আল্লাহ সবকিছই করতে সক্ষম। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ আয়াতটি পড়া। ছালাত শেষ করার পর এই দু‘আ করা, ‘হে আল্লাহ! অমুকের ছেলে অমুকের (স্বামীর নাম) অন্তর অমুকের মেয়ে অমুকের (স্ত্রীর নাম) উপর কোমল করে দিন; যেভাবে আপনি দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য লোহাকে কোমল করে দিয়েছেন। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : সাধারণ মানুষ বা আলেম সমাজ যারা সালাফী আক্বীদার, তারা কি নিজের নামের শেষে সালাফী নামটি ব্যবহার করতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : কবর যিয়ারত করা যাবে কি? যিয়ারতে সঠিক নিয়ম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : ছালাতে তাশাহুদের সময় নযর কোন দিকে রাখতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ইমাম যদি রুকূ‘, সিজদা, কিরাআত, তাসবীহ খুব দ্রুত করে তাহলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : ক্বদরের রাত্রে সারা রাত নফল ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : আমার স্ত্রী আমাকে রুপার দু’টি আংটি উপহার দিয়েছে। আমি আংটি দু’টি দুই হাতে পরিধান করি। প্রশ্ন হল- ছেলেরা কি দুই হাতে দু’টি আংটি পড়তে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : যাকাত ইংরেজী মাস হিসাবে দিতে হবে, না-কি আরবী মাস হিসাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : কোন ব্যক্তি যদি একাধারে কয়েক বছর যাকাত আদায় না করে, তাহলে তার করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : মসজিদের সামনে কবর আছে এবং কবর ও মসজিদের মাঝে কোন প্রাচীর নেই। এখন করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : ছালাতুল ইশরাক, ছালাতু যোহা, ছালাতুল আউয়াবীন কোন্ সময় পড়তে হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ