বুধবার, ২২ Jul ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন
উত্তর : পোশাকের ক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য শরী‘আত যে শর্ত আরোপ করেছে, সেই শর্ত অনুযায়ী শাড়ি পরা উচিত নয়। শর্তগুলো হল, পোশাক যেন পুরো শরীরকে আবৃত করে, ঢিলেঢালা ও প্রশস্ত হয়, পাতলা-ফিনফিনে যেন না হয়, শরীরে যে অঙ্গগুলো ঢাকা আবশ্যক সেগুলো যেন প্রকাশিত না হয়, বিপরীত লিঙ্গ ও কাফিরদের ধর্মীয় পোশাকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ না হয় ইত্যাদি (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১২৩৪০৬)

শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যে পোশাক শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অবয়বকে আবৃত করতে পারে না সে পোশাক পরিধান করা হারাম। যেমন, কিছু পুরুষ এমন ফিনফিনে পোশাক পরিধান করে যে, চামড়ার রং পর্যন্ত দেখা যায়, বা এমন সংকীর্ণ বস্ত্র পরিধান করে যে, অন্তর্বাস পর্যন্ত দেখা যায়, নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ফরয লজ্জাস্থানটাও পূর্ণাঙ্গ আবৃত হয় না। এই ধরনের পোশাক পরিধান করে ছালাত আদায় করা যাবে না। অনুরূপভাবে কিছু মহিলাও এমন ছোট ও সংকীর্ণ অথবা ফিনফিনে পোশাক পরিধান করে যে, তার শরীরের চামড়ার রং দৃশ্যমান হয় এবং দেহের উঁচু-নিচু স্থানগুলো প্রকাশিত হয়। মহিলাদের জন্য এ জাতীয় পোশাক পরিধান করা হারাম’ (ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দারব, ১১/৮৫-৯৮)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘জাহান্নামবাসীদের মধ্যে দুই প্রকার মানুষ, যাদের আমি (এখনো পর্যন্ত) দেখিনি। একদল মানুষ, যাদের সঙ্গে গরুর লেজের মত চাবুক থাকবে, তা দ্বারা তারা লোকজনকে মারবে (অর্থাৎ মানুষের উপর অত্যাচার করবে) এবং একদল স্ত্রী লোক, যারা বস্ত্র পরিহিতা হয়েও বিবস্ত্রা বা উলঙ্গ হবে, যারা অন্যদের আকর্ষণকারিণী ও আকৃষ্টা হবে, আর তাদের মাথার চুলের অবস্থা উটের হেলে পড়া কুঁজের মত হবে। ওরা জান্নাতে যেতে পারবে না, এমনকি তার সুগন্ধিও পাবে না। অথচ এত এত দূর হতে তার সুগন্ধি পাওয়া যায়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২১২৮)। ‘যারা বস্ত্র পরিহিতা হয়েও বিবস্ত্রা বা উলঙ্গ’ এই শব্দের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনু আব্দিল বার্র (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, فهن كاسيات بالإسم و عاريات في الحقيقة ‘তারা কিন্তু নামমাত্র বস্ত্র পরিহিতা, বাস্তবে কিন্তু তারা বিবস্ত্রা বা উলঙ্গ’ (আত-তামহীদ, ১৩/২০৪ পৃ.)।

শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সংকীর্ণ বা আটোসাঁটো পোশাক পরিধান করা অপসন্দনীয়। মধ্যবর্তী পোশাক পরিধান করাই শরী‘আত সম্মত। এমন আটোসাঁটো বা সংকীর্ণও নয় যে, দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গোচরীভূত হয়, আবার এমন শিথিল বা ঢিলেঢালাও নয় যে, রক্ষণাবেক্ষণ করা দুষ্কর হয়ে যায়। বরং এই দু’য়ের মধ্যবর্তী পোশাক হতে হবে। মুমিন নারী-পুরুষের জন্য ফিনফিনে, অল্পায়তন, স্বল্পায়তন, সংকীর্ন ও আটোসাঁটো পোশাক পরিধান করা অশোভনীয়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু বায, ২৯/২২৭ পৃ.)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, ‘দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গোচরীভূত হয় বা লজ্জাস্থান বিকশিত হয় এমন পোশাক পরিধান করা অবৈধ। যেমন কিছু ট্রাউজার, জিম বা সুইমিংয়ের পোশাক ইত্যাদি’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৩/৪৩০, ২৪/৪০ পৃ.)। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এমন সংকীর্ণ পোশাক যে, সৃষ্টির অবয়ব প্রকাশিত হয় বা এমন ফিনফিনে পোশাক যে, চামড়া আবৃত হয় না তা পরিধান করা নিষেধ। কেননা মহিলাদেরকে এ জাতীয় পোশাক পরিধান করতে নিষেধ করা হয়েছে। অভিভাবকদের (বাবা ও স্বামী) উচিত তাদের এধরনের পোশাক পরতে নিষেধ করা’ (ফাতাওয়া আল-কুবরা, ৫/৩৫৩ পৃ.)। অন্যত্র শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

والضيِّق لا يجوز لا عند المحارم ولا عند النساء إذا كان ضيِّقًا شديدًا يبيِّن مفاتن المرأة

‘যদি পোশাক এতটাই সংকীর্ণ বা আটোসাঁটো হয় যে, মহিলাদের আকর্ষণীয় বিষয়গুলো পরিস্ফুটিত হচ্ছে এবং তাদের রূপ যৌবন বিকশিত হচ্ছে, তাহলে এ জাতীয় পোশাক মাহরিম ও গাইর মাহরিম উভয়ের সামনেই পরিধান করা যাবে না’ ।

উক্ত আলোচনায় বুঝা যায় যে, মুসলিম মহিলাদের জন্য শাড়ি পরিধান করা জায়েয নয়। কারণ শাড়ি পরলে তাদের শরীরের অবয়ব প্রকাশিত হবে। তাই শাড়ি পরতে চাইলে তার উপর বোরকা পরিধান করা অপরিহার্য।


প্রশ্নকারী : জান্নাত, রাজারবাগ, ঢাকা।





প্রশ্ন (২০) : আল্লাহ তা‘আলাকে রব হিসাবে মানা বলতে কী বুঝায়? মক্কার কাফেররা কি আল্লাহ তা‘আলাকে রব্ব হিসাবে মেনে নিয়েছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : কোন ব্যক্তির কাছে টাকা না থাকায় ২০ টাকা রিকশা ভাড়া দেয়া সম্ভব না হওয়ায় পরে দেয়ার কথা বলে চলে যায়। তারপরে মাঝে মাঝেই ঐ রিকশায় যাতায়াত করা হয়েছে। কিন্তু সে টাকাটার কথা ভুলেও গেছে। একদিন মনে পড়ায় রিকশাওয়ালাকে ২০ টাকার জায়গায় ৪০ টাকা দেয়। ২০ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা দেয়া কি সূদ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : সম্মানার্থে ছেলেদের নাম ‘আবূ হুরায়রা’ রাখলে কোন সমস্যা হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : জুম‘আর দিন আছর ছালাতের পর উক্ত স্থানে বসে ‘আল্লাহুম্মা ছাল্লি‘আলা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যিল উম্মী ওয়া ‘আলা আলিহী ওয়া সাল্লিম তাসলীমা’ এ দরূদটি ৮০ বার পাঠ করলে আল্লাহ ৮০ বছরের ছগীরা গোনাহ মাফ করে দেন এবং তার আমলনামায় ৮০ বছরের নফল ইবাদতের ছওয়াব লিপিবদ্ধ করেন। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : রামাযান ধরে যাকাত দিবে, না জানুয়ারী ধরে দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : জুমু‘আর দিনে ইমাম মিম্বারে বসেছেন এবং মুওয়াযযিন আযান দিচ্ছেন; এমতাবস্থায় কোন মুছল্লী মসজিদে প্রবেশ করলে তার করণীয় কি? সে দু’ রাকা‘আত ছালাত শুরু করবে নাকি আযানের জবাব দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : মসজিদের কাতারের মাঝে পিলার থাকলে ঐ কাতারে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : ছালাত শেষে ইমাম যখন সালাম ফিরাবে, তখন মুছল্লীদেরকে কি উক্ত সালামের জবাব প্রদান করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : কেউ অন্যের নামে মিথ্যা কথা প্রচার করে থাকলে ক্ষমা নেওয়ার উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : শরী‘আতে শরীরে ট্যাটু করা হারাম। কিন্তু ভিটিলিগো বা শ্বেত রোগের চিকিৎসা হিসাবে ট্যাটুর মত করে কালার করা হয়; যা ত্বকের পূর্বের রং ফিরিয়ে আনে। এমতাবস্থায় শ্বেত রোগ থেকে মুক্তির জন্য এমনটি করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : আল-কুরআন অবমাননাকারীর বিধান ও শাস্তি কী? অবমাননাকারীর শাস্তি কারা দিবে? সাধারণ জনগণ কি অবমাননাকারীকে শাস্তি দিতে পারে? এর প্রতিবাদে মিছিল-মিটিং ও সমাবেশ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৬) : গ্রামে বা মহল্লায় জুমু‘আর ছালাত হবে না সন্দেহ করে অনেক মুছল্লী জুমু‘আর ছালাতের পর চার রাক‘আত যোহর ছালাত আদায় করে থাকে। এটা কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ