রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : পোশাকের ক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য শরী‘আত যে শর্ত আরোপ করেছে, সেই শর্ত অনুযায়ী শাড়ি পরা উচিত নয়। শর্তগুলো হল, পোশাক যেন পুরো শরীরকে আবৃত করে, ঢিলেঢালা ও প্রশস্ত হয়, পাতলা-ফিনফিনে যেন না হয়, শরীরে যে অঙ্গগুলো ঢাকা আবশ্যক সেগুলো যেন প্রকাশিত না হয়, বিপরীত লিঙ্গ ও কাফিরদের ধর্মীয় পোশাকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ না হয় ইত্যাদি (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১২৩৪০৬)

শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যে পোশাক শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অবয়বকে আবৃত করতে পারে না সে পোশাক পরিধান করা হারাম। যেমন, কিছু পুরুষ এমন ফিনফিনে পোশাক পরিধান করে যে, চামড়ার রং পর্যন্ত দেখা যায়, বা এমন সংকীর্ণ বস্ত্র পরিধান করে যে, অন্তর্বাস পর্যন্ত দেখা যায়, নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ফরয লজ্জাস্থানটাও পূর্ণাঙ্গ আবৃত হয় না। এই ধরনের পোশাক পরিধান করে ছালাত আদায় করা যাবে না। অনুরূপভাবে কিছু মহিলাও এমন ছোট ও সংকীর্ণ অথবা ফিনফিনে পোশাক পরিধান করে যে, তার শরীরের চামড়ার রং দৃশ্যমান হয় এবং দেহের উঁচু-নিচু স্থানগুলো প্রকাশিত হয়। মহিলাদের জন্য এ জাতীয় পোশাক পরিধান করা হারাম’ (ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দারব, ১১/৮৫-৯৮)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘জাহান্নামবাসীদের মধ্যে দুই প্রকার মানুষ, যাদের আমি (এখনো পর্যন্ত) দেখিনি। একদল মানুষ, যাদের সঙ্গে গরুর লেজের মত চাবুক থাকবে, তা দ্বারা তারা লোকজনকে মারবে (অর্থাৎ মানুষের উপর অত্যাচার করবে) এবং একদল স্ত্রী লোক, যারা বস্ত্র পরিহিতা হয়েও বিবস্ত্রা বা উলঙ্গ হবে, যারা অন্যদের আকর্ষণকারিণী ও আকৃষ্টা হবে, আর তাদের মাথার চুলের অবস্থা উটের হেলে পড়া কুঁজের মত হবে। ওরা জান্নাতে যেতে পারবে না, এমনকি তার সুগন্ধিও পাবে না। অথচ এত এত দূর হতে তার সুগন্ধি পাওয়া যায়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২১২৮)। ‘যারা বস্ত্র পরিহিতা হয়েও বিবস্ত্রা বা উলঙ্গ’ এই শব্দের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনু আব্দিল বার্র (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, فهن كاسيات بالإسم و عاريات في الحقيقة ‘তারা কিন্তু নামমাত্র বস্ত্র পরিহিতা, বাস্তবে কিন্তু তারা বিবস্ত্রা বা উলঙ্গ’ (আত-তামহীদ, ১৩/২০৪ পৃ.)।

শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সংকীর্ণ বা আটোসাঁটো পোশাক পরিধান করা অপসন্দনীয়। মধ্যবর্তী পোশাক পরিধান করাই শরী‘আত সম্মত। এমন আটোসাঁটো বা সংকীর্ণও নয় যে, দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গোচরীভূত হয়, আবার এমন শিথিল বা ঢিলেঢালাও নয় যে, রক্ষণাবেক্ষণ করা দুষ্কর হয়ে যায়। বরং এই দু’য়ের মধ্যবর্তী পোশাক হতে হবে। মুমিন নারী-পুরুষের জন্য ফিনফিনে, অল্পায়তন, স্বল্পায়তন, সংকীর্ন ও আটোসাঁটো পোশাক পরিধান করা অশোভনীয়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু বায, ২৯/২২৭ পৃ.)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, ‘দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গোচরীভূত হয় বা লজ্জাস্থান বিকশিত হয় এমন পোশাক পরিধান করা অবৈধ। যেমন কিছু ট্রাউজার, জিম বা সুইমিংয়ের পোশাক ইত্যাদি’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৩/৪৩০, ২৪/৪০ পৃ.)। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এমন সংকীর্ণ পোশাক যে, সৃষ্টির অবয়ব প্রকাশিত হয় বা এমন ফিনফিনে পোশাক যে, চামড়া আবৃত হয় না তা পরিধান করা নিষেধ। কেননা মহিলাদেরকে এ জাতীয় পোশাক পরিধান করতে নিষেধ করা হয়েছে। অভিভাবকদের (বাবা ও স্বামী) উচিত তাদের এধরনের পোশাক পরতে নিষেধ করা’ (ফাতাওয়া আল-কুবরা, ৫/৩৫৩ পৃ.)। অন্যত্র শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

والضيِّق لا يجوز لا عند المحارم ولا عند النساء إذا كان ضيِّقًا شديدًا يبيِّن مفاتن المرأة

‘যদি পোশাক এতটাই সংকীর্ণ বা আটোসাঁটো হয় যে, মহিলাদের আকর্ষণীয় বিষয়গুলো পরিস্ফুটিত হচ্ছে এবং তাদের রূপ যৌবন বিকশিত হচ্ছে, তাহলে এ জাতীয় পোশাক মাহরিম ও গাইর মাহরিম উভয়ের সামনেই পরিধান করা যাবে না’ ।

উক্ত আলোচনায় বুঝা যায় যে, মুসলিম মহিলাদের জন্য শাড়ি পরিধান করা জায়েয নয়। কারণ শাড়ি পরলে তাদের শরীরের অবয়ব প্রকাশিত হবে। তাই শাড়ি পরতে চাইলে তার উপর বোরকা পরিধান করা অপরিহার্য।


প্রশ্নকারী : জান্নাত, রাজারবাগ, ঢাকা।





প্রশ্ন (১৬) : রাতে ছালাত আদায়ের সময় মুছল্লীর ছায়া সামনে পড়লে কি কোন সমস্যা হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭): আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে প্রশ্ন করা হয়, রাসূল (ﷺ)-এর ছাহাবীগণ কি হাসতেন? তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ। তবে তাঁদের অন্তরে ঈমান ছিল পাহাড়ের চেয়ে বড়’ (আল-মাউসূ‘আতুল কুবরা, ৩১/১৯৩)। বর্ণনাটি কী ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : মাসবূককে ইমাম করে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কতজন ছাহাবী বিবাহ করেননি বা সংসার করেননি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : পরীক্ষার্থীদের জন্য বিদায় অনুষ্ঠান করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : মুকিম অবস্থায় কোন্ কোন্ ছালাত (যোহর/আছর ও মাগরিব/এশা) জমা করে পড়া জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : আমার মা রক্তের সম্পর্কের বহির্ভূত এক জনের সাথে কথা বলেন। মাকে তিনি ‘ভাবী’ বলেন এবং আমার মা তাকে ‘ভাই’ বলেন। আমাদের বাড়িতে আসেন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা সামনাসামনি হয়ে কথা বলেন। এখন সন্তান হিসাবে আমার করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : সউদী আরবের স্থায়ী গবেষণা ও ফাতাওয়া বোর্ড মুনাজাতের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত দিয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : এক জায়গায় মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু জমির দলীল হয়নি। উক্ত জায়গায় ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ঘুমের কারণে যদি আছরের ছালাত ছুটে যায় এবং ঘুম থেকে উঠেই আছরের ছালাত আদায় করা হয়, তাহলে কি পরিবারবর্গ ও ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে যায় এই হাদীছের আওতাভুক্ত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : ইসলামকে শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে জানতে চাইলে কোন্ বইগুলো পড়া উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : দীর্ঘ ৪/৫ বছর ধরে দুই বোনের মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই। কারণ এক বোনের ছেলেরা তার মাকে তাদের খালার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে নিষেধ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে তারা আবার সম্পর্ক রাখতে চায়। কিন্তু সমস্যা হল- অন্য বোনের মেয়েরা তার মাকে বলছে যে, খালা তার ছেলেদের কথায় আমাদের সাথে সম্পর্ক রাখেননি এখন তুমিও খালার সাথে সম্পর্ক রাখবে না। কিন্তু তিনি তার বোনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাচ্ছেন না। তখন তার মেয়েরা বলছে, হয় খালার সাথে সম্পর্ক রাখতে হবে, না হয় মেয়েদের সাথে। এই বলে মেয়েরা মায়ের উপর রাগ করে দীর্ঘদিন কথা বলে না। প্রশ্ন হল- মেয়েরা কী ধরনের গুনাহ করছে? এই ক্ষেত্রে মায়ের করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ