রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
উত্তর : ঐতিহাসিকদের মতে ভারতের নদীয়া যেলায় এর জন্ম। পরবর্তীতে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়া গ্রাম হয় বাউল মতবাদের কেন্দ্রস্থল। ‘বাউল’ শব্দটির উৎপত্তি নিয়ে মতভেদ আছে। ডঃ পঞ্চানন সাহা বলেন, হিন্দী শব্দ ‘বাউরা’ বা উন্মাদ থেকে বাউল কথাটি এসেছে বলে অনেকে মনে করেন। আবার অনেকে মনে করেন যে, সংস্কৃত ‘বাতুন’ থেকে বাউল শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে। অন্যদিকে ছূফীরা সাধু ফকীরকে বলে আউলিয়া। এই আউলিয়া শব্দটি থেকে উদ্ধৃত ‘আউল’ শব্দটি ‘বাউল’ শব্দটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এই বাউলরা জাত-গাত-হিন্দু মুসলমানে বিচার করে না (হিন্দু মুসলমান সম্পর্ক নতুন ভাবনা, পৃ. ৭৭)। ঈশ্বরপুরী, চৈতন্যদেব (১৪৮৪-১৫২৩ খৃ.), অদ্বৈতাচার্য হরি গুরু প্রমুখের মাধ্যমে এর সূচনা। বাউল ফকীর লালন শাহ (১৭৭৪-১৮৯০ খৃ.)-এর মাধ্যমে আনুমানিক ১৮১৫-১৮৮৬ সালে এই দর্শনের বিস্তৃতি ঘটে। তাদের আক্বীদা হল-

(ক) বাউলরা তাদের গুরুকে ঈশ্বরের সঙ্গে তুলনা করে। তারা গুরুর মধ্যে বিধাতার প্রতিমূর্তি দেখতে পায় (ভারতীয় সাংস্কৃতিতে ইসলামের প্রভাব, পৃ. ১১১; বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৮৮)।

(খ) অধ্যাপক আবু জাফর বলেন, লালন তার কিছু গানে সাম্যের কথা বললেও তার গানের একটি বিরাট অংশ খুবই গর্হিত ও বিকৃত যৌনাচারের রূপক স্বরূপ। তার মতে, লালন আসলে গানের নামে ছূফীতত্ত্ব ও মরমিয়া আধ্যাত্মিকতার নামে পর্ণোগ্রাফির দক্ষ কুশলী উপস্থাপক ছিলেন। গুপ্ততত্ত্বের ছদ্মাবরণে লালন দেহতত্ত্বের নামে এক কদর্য যৌনাচারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বাউলদের এক অংশ এখন লাউয়ের খোল নিয়ে গেরুয়া পরিধান করে সাধনসঙ্গিনী নিয়ে ভিক্ষা করে বেড়ায়। অধ্যাপক আবু জাফরের মতে ‘লালন একটি চিরস্থায়ী ফিতনা’ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা, ৪৪ বর্ষ, ১ম সংখ্যা, পৃ. ২৩৩)।

(গ) বাউলদের গানে যে লতা ও ত্রিবেনী শব্দের প্রয়োগ দেখা যায়, তার এক বিশেষ তাৎপর্য আছে। অভিধান খুললে এর তাৎপর্য জানা যায় না। বাউল বা তান্ত্রিক সাহিত্যে লতার পারিভাষিক অর্থ হল নারীর যৌনাঙ্গ (লোকায়ত দর্শন, পৃ. ৩৯০)। বাউল দরবেশদের মধ্যে ‘লতাসিদ্ধি’ বলে একটি কাণ্ড আছে। তাদেরকে ছালাতের কথা বললে তারা উত্তর দেয়, ইবলীস সব জায়গায় সিজদা করেছে আমরা সিজদা করব কোথায়? তাহলে কোথায় সিজদা করতে হবে- এই কথাটা আর সহজে বলবে না। তবে শিষ্য হয়ে একান্ত ভক্ত হতে পারলে তখন বলবে, ইবলীস ঐ একটা জায়গা বাদ রেখেছে ওখানেই সিজদা করতে হবে। ওটা হল ঐ ‘লতা’। বাউল ছূফীরা এভাবেই লতাসিদ্ধি পালন করে থাকে (উল্টা বুঝিল রাম ও সাধু সাবধান, পৃ. ৬৭)।

অতএব এই দর্শনের সাথে সম্পৃক্ত থাকলে মুসলিম বলে গণ্য হওয়ার কোন সুযোগ নেই। মুসলিমের জন্য ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বিতীয় মতবাদের অনুসরণ করা হারাম (সূরা আলে ইমরান : ১৯ ও ৮৫)।


প্রশ্নকারী : সাদিয়া তাবাসসুম, মোহাম্মাদপুর, ঢাকা।





প্রশ্ন (১১) : নিজের বোনের মেয়ের মেয়েকে (বোনের নাতনী) কি বিয়ে করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : এক তাশাহ্হুদ বিশিষ্ট ছালাত তথা এক বা দুই রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাতের সময় কিভাবে বসতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : রামাযান মাসে জামা‘আতের সাথে তারাবীহ উত্তম, না একাকী তাহাজ্জুদ উত্তম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : ‘আমি তখনও ছিলাম নবী; আদম (আলাইহিস সালাম) যখন রূহ এবং দেহের মধ্যে ছিলেন’ (আহমাদ, হা/১৭১৬৩; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৩৭৩) মর্মে হাদীছটি কি ছহীহ? এই হাদীছের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : হাত তুলে দু‘আর শুরুতে হামদ ও দরূদ পাঠ করার কথা বলা হয়েছে। কোন্ বাক্য দ্বারা হামদ ও দরূদ পাঠ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : ইমামের পিছনে ১ রাক‘আত ছালাত না পেলে ইমামের যদি সাহু সিজদাহ থাকে, তাহলে ইমামের সাথে কি সাহু সিজদাহ দিতে হবে, না-কি উঠে যেতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ছেলের নাম ‘আদনান ইকতিদার’ রাখা যাবে কি? পিতা-মাতার সাথে মিল রেখে নাম রাখা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : ছালাতে সূরা ফাতিহা কিংবা অন্য কোন দু‘আ পড়ার সময় যদি মাখরাজ বা তাজবীদে ভুল হয়, তাহলে কি সাহু সিজদাহ দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : তৃতীয় লিঙ্গ তথা হিজড়াদের অধিকার, মীরাছ, ইবাদতের পদ্ধতি, পোশাক, মু‘আমালাত, চালচলন, কর্মজীবন ইত্যাদি সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : অপবিত্র অবস্থায় কুরআন বা হাদীছ অডিও শুনা যাবে কি? অথবা মোবাইলে দেখে পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : দুই ব্যক্তির মধ্যে প্রথম ব্যক্তি সালাম দিলে দ্বিতীয় ব্যক্তি সালামের জবাব দেয়ার পর উল্টো সালাম দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : কেক ও চকলেটের উপর ‘আল্লাহ’ লেখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ