শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৫ অপরাহ্ন
উত্তর : ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যেক গোলাম, আযাদ, পুরুষ, নারী, প্রাপ্ত বয়স্ক, অপ্রাপ্ত বয়স্ক সকল মুসলিমের উপর ছাদাকাতুল ফিতর হিসাবে খেজুর হোক অথবা যব হোক এক ছা‘ পরিমাণ আদায় করা ফরয করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৫০৩, ১৫০৪, ১৫০৬, ১৫০৭, ১৫০৮, ১৫১০, ১৫১১, ১৫১২; ছহীহ মুসলিম, হা/৯৮৪-৯৮৬)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত হাদীছ প্রমাণ করে যে, এক ছা পরিমাণ খাদ্য দ্রব্য প্রদান করা ফরয। অর্ধ ছা‘ পরিমাণ ফিতরা আদায় করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে ছহীহ সূত্রে কোন তথ্য প্রমাণিত হয়নি’ (আল-মাজমূঊ, ৬/১৪৩ পৃ.)।

আর সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বক্তব্য হল, এক ছা‘ সমান প্রায় তিন কেজি। যেমন, সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, ‘একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে যাকাতুল ফিতর  হিসাবে প্রায় তিন কেজি চাল অথবা দেশের অন্যান্য প্রধান খাদ্য দ্রব্য হতে আদায় করতে হবে’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৮/২৬৬ পৃ.)। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ছা‘ অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রেণীর মানুষের পক্ষ থেকে এক ছা‘ পরিমাণ ফিতরা আদায় করা অপরিহার্য। আর তা হল, মধ্যম মানের হস্তদ্বয়ের পূর্ণাঙ্গ চার মুষ্টি, যা অভিধানে বর্ণিত হয়েছে। ওজনের হিসাবে যার পরিমাণ প্রায় তিন কেজি’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া লিইবনি বায, ১৪/২০১ পৃ.)।

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ), ইবনুল মুনযির (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইবনু রুশদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, আলিমদের ঐকমত্যানুসারে নির্ধারিত এক ছা‘ থেকে কম ফিতরা দেয়া জায়েয নয়। কেননা এক ছা‘ থেকে কম দিলে ফিতরা আদায় হবে না (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনু তাইমিয়্যাহ, ২৫/৭০; আল-ইজমা‘আ, পৃ. ৪৮; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ১/২৮১ পৃ.)। মালিকী, শাফিঈ ও হাম্বালী মাযহাবের আলিমগণের মতানুযায়ী ফিতরায় এক ছা‘ পরিমাণ খাদ্য দ্রব্য প্রদান করা ফরয (আল-কাফী ফী ফিক্বহি আহলিল মাদীনাহ, ১/৩২৩ পৃ.; শারহু মুখতাছার খালীল, ২/২২৮; রাওযাতুত্ব ত্বালিবীন, ২/৩০১ পৃ.; আল-হাবী, ৩/৩৭৯ পৃ.; কাশ্শাফুল ক্বিনা‘, ২/২৫৩; আল-মুগনী, ৩/৮১; আল-মাজমূঊ, ৬/১৪২ পৃ.)।

তবে শাইখ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)  বলেন, মসুরের ডালের মত দানা বিশিষ্ট গম ওজন করে দেখা যায় যে, তা এক ছা‘ সমান ২ কেজি ৪০ গ্রামের মত হচ্ছে’ (আশ-শারহুল মুমতি‘, ৬/১৭৬ পৃ.; মাজমূঊ ফাতাওয়া লিইবনি উছাইমীন, ২০/১১২ পৃ.)। শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, এ ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত অধিকটাকে ধরাটাই উত্তম হবে। কেননা বেশির মধ্যে কমটাও শামিল থাকে (আল-মুগনী, ৪/১৬৮; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৪৯৭৯৩)।

প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ আল-মামুন, নবাবগঞ্জ।





প্রশ্ন (৪২) : মহিলারা পৃথকভাবে ঈদের জামা‘আত করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : আমার বড় বোনের সাথে আমার খালাতো ভাইয়ের বিয়ে হয়েছে। এখন জানা যাচ্ছে, ছোট বেলায় আমার খালা আমাকে দুধ পান করিয়েছেন। এখন তাদের বিয়ে কি জায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : একই রাতে দুইবার বিতর পড়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ইয়া’জূজ-মা’জূজ মানুষ জাতি। তারা কি সবাই পথভ্রষ্ট? ইয়া’জূজ-মা’জূজ কি কোন নবীর অনুসরণ করতে পেরেছে? তাদেরকে কেন সুযোগ দেয়া হল না? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : অমুসলিম দেশে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়া যাবে কি? এমন দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের হুকুম কী? এ বিষয়ে সৌদি ফাতাওয়া বোর্ডের অভিমত কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : ছালাতে মাঝে মধ্যে রুকূতে সিজদার তাসবীহ অথবা সিজদাতে রুকূ-র তাসবীহ পড়ে ফেলি। রুকূ‘-সিজদাহ সম্পূর্ণ হওয়ার পর মনে পড়ে আমি ভুল করেছি। এই ক্ষেত্রে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : সাহু সিজদা দেয়ার সময় দুই সিজদার মাঝে দু‘আ পড়তে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : গীবত করা যেনার চেয়ে বড় পাপ। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’, ‘ইয়া হাবীবাল্লাহ’ বলা যাবে কি? যেমন- আমার আব্বু, দাদী এবং আত্মীয়-স্বজন অনেকের মুখে শুনি, তারা ভাত খাওয়ার পর বলেন ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ’, ‘ইয়া হাবীবাল্লাহ’। এমনকি তারা প্রায় সময় আল্লাহর যিকির না করে এইগুলো বলে থাকেন। এভাবে বললে কি শিরক হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : কেউ যদি ছালাত ছেড়ে ছেড়ে পড়ে যেমন আছর পড়লে মাগরিব পড়ে না, এশার পড়লে ফজর পড়ে না। এমন ব্যক্তিও কি কাফের হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : সকালে বরকত নাযিল হয়। এই কথার কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : আমার স্ত্রী দুইবার ইচ্ছাকৃত বাচ্চা নষ্ট করে দিয়েছে। তাকে বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও সে শুনেনি। এখন স্বামী হিসাবে আমার ও তার কীরূপ পাপ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ