বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যেক গোলাম, আযাদ, পুরুষ, নারী, প্রাপ্ত বয়স্ক, অপ্রাপ্ত বয়স্ক সকল মুসলিমের উপর ছাদাকাতুল ফিতর হিসাবে খেজুর হোক অথবা যব হোক এক ছা‘ পরিমাণ আদায় করা ফরয করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৫০৩, ১৫০৪, ১৫০৬, ১৫০৭, ১৫০৮, ১৫১০, ১৫১১, ১৫১২; ছহীহ মুসলিম, হা/৯৮৪-৯৮৬)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত হাদীছ প্রমাণ করে যে, এক ছা পরিমাণ খাদ্য দ্রব্য প্রদান করা ফরয। অর্ধ ছা‘ পরিমাণ ফিতরা আদায় করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে ছহীহ সূত্রে কোন তথ্য প্রমাণিত হয়নি’ (আল-মাজমূঊ, ৬/১৪৩ পৃ.)।

আর সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বক্তব্য হল, এক ছা‘ সমান প্রায় তিন কেজি। যেমন, সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, ‘একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে যাকাতুল ফিতর  হিসাবে প্রায় তিন কেজি চাল অথবা দেশের অন্যান্য প্রধান খাদ্য দ্রব্য হতে আদায় করতে হবে’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৮/২৬৬ পৃ.)। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ছা‘ অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রেণীর মানুষের পক্ষ থেকে এক ছা‘ পরিমাণ ফিতরা আদায় করা অপরিহার্য। আর তা হল, মধ্যম মানের হস্তদ্বয়ের পূর্ণাঙ্গ চার মুষ্টি, যা অভিধানে বর্ণিত হয়েছে। ওজনের হিসাবে যার পরিমাণ প্রায় তিন কেজি’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া লিইবনি বায, ১৪/২০১ পৃ.)।

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ), ইবনুল মুনযির (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইবনু রুশদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, আলিমদের ঐকমত্যানুসারে নির্ধারিত এক ছা‘ থেকে কম ফিতরা দেয়া জায়েয নয়। কেননা এক ছা‘ থেকে কম দিলে ফিতরা আদায় হবে না (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনু তাইমিয়্যাহ, ২৫/৭০; আল-ইজমা‘আ, পৃ. ৪৮; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ১/২৮১ পৃ.)। মালিকী, শাফিঈ ও হাম্বালী মাযহাবের আলিমগণের মতানুযায়ী ফিতরায় এক ছা‘ পরিমাণ খাদ্য দ্রব্য প্রদান করা ফরয (আল-কাফী ফী ফিক্বহি আহলিল মাদীনাহ, ১/৩২৩ পৃ.; শারহু মুখতাছার খালীল, ২/২২৮; রাওযাতুত্ব ত্বালিবীন, ২/৩০১ পৃ.; আল-হাবী, ৩/৩৭৯ পৃ.; কাশ্শাফুল ক্বিনা‘, ২/২৫৩; আল-মুগনী, ৩/৮১; আল-মাজমূঊ, ৬/১৪২ পৃ.)।

তবে শাইখ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)  বলেন, মসুরের ডালের মত দানা বিশিষ্ট গম ওজন করে দেখা যায় যে, তা এক ছা‘ সমান ২ কেজি ৪০ গ্রামের মত হচ্ছে’ (আশ-শারহুল মুমতি‘, ৬/১৭৬ পৃ.; মাজমূঊ ফাতাওয়া লিইবনি উছাইমীন, ২০/১১২ পৃ.)। শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, এ ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত অধিকটাকে ধরাটাই উত্তম হবে। কেননা বেশির মধ্যে কমটাও শামিল থাকে (আল-মুগনী, ৪/১৬৮; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৪৯৭৯৩)।

প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ আল-মামুন, নবাবগঞ্জ।





প্রশ্ন (৯) : অফিসে কোন ব্যক্তির কাজ করার পর যদি খুশি হয়ে আমি টাকা না নেয়া সত্ত্বেও ঐ ব্যক্তি জোর করে আমাকে টাকা দেয় এবং বলে আমার মন থেকে হাদিয়া দিয়েছি। তাহলে এইটা জায়েয হবে কিনা? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : গান-বাজনা হারাম মর্মে কোন্ কোন্ দলীল পেশ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ছালাতের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বেই আযান দিলে আযান শুদ্ধ হবে কি? এক্ষেত্রে করণীয় কী?. - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩): অপচয় ও অপব্যয় এর মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : মসজিদের ইমাম যদি বিশ্বাস করে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নূর থেকে মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সৃষ্টি করেছেন, তাহলে সেই ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : ২৭ শে রামাযানের রাত্রিকে সারা বিশ্বে ক্বদরের রাত্রি হিসাবে পালন করা হয়। এ ব্যাপারে ইসলামের পরিষ্কার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ের ইবাদত অধ্যায়ের পাঠ-২ এ লিখা আছে, ‘উৎপন্ন শস্যের যাকাত ধান, গম, যব, খেজুর ইত্যাদি শস্য সেচ প্রদান ছাড়া বৃষ্টির পানিতে জন্মালে ‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত’ সব ফসলের দশ ভাগের এক ভাগ যাকাত আদায় করতে হবে। একে উশর বলে। আর সেচ ব্যবস্থায় উৎপন্ন ফসলের বিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত আদায় করতে হয়’। প্রশ্ন হল- ‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত’ কথাটি কি সঠিক? এর ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : কুনূতে নাযেলা পড়ার সময় আমীন আমীন বলা যাবে কি? কুনূতে নাযেলার সাথে কুরআন বা হাদীছের অন্যান্য দু‘আ পড়া কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যে নারী ক্বাযা ছিয়াম পালন করার আগেই গর্ভবতী হয়ে গেছেন এবং আগত রামাযানেও তার পক্ষে ছিয়াম রাখা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় পূর্বের ক্বাযা ছিয়াম ও আগত ছিয়ামের হুকুম কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : অনেকে জ্বর এবং যাবতীয় বেদনার জন্য নিম্নের দু‘আটি আমল করেন- بِسْمِ اللهِ الْكَبِيْرِ أَعُوْذُ بِاللهِ الْعَظِيْمِ مِنْ شَرِّ كُلِّ عِرْقٍ نَعَّارٍ وَّمِنْ شَرِّ حَرِّ النَّارِ  ‘মহান আল্লাহ্র নামে, মর্যাদাবান আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় চাচ্ছি সমস্ত রক্তপূর্ণ শিরার অপকার হতে এবং জাহান্নামের উত্তাপ হতে’। এই দু‘আ পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : ইয়াযীদ ইবনু মু‘আবিয়া সম্পর্কে কেমন ধারণা পোষণ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : আমার মা-বাবার সাথে আমার স্ত্রীর ঝগড়া হওয়ার কারণে কয়েক বছর আগে সে বাপের বাড়ি চলে যায়। আমি তখন বিদেশে ছিলাম। আমি বলেছিলাম, যদি আমাকে নিয়ে সুখী হতে না পার তবে অন্য কাউকে বিয়ে করে সুখী হও। কিন্তু সে তা করেনি। এখন পর্যন্ত আমরা সংসার করে আসছি। আর সমস্যা হয়নি। প্রশ্ন হল, এভাবে বললে কি ত্বালাক্ব হয়ে যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ