শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন
উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জুমু‘আর খুতবায় আল্লাহর প্রশংসা করতেন, দুরূদ পড়তেন, কুরআন থেকে তেলাওয়াত করতেন এবং কিছু ওয়ায-নছিহত করতেন। নবীদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ مَاۤ  اَرۡسَلۡنَا مِنۡ رَّسُوۡلٍ  اِلَّا بِلِسَانِ قَوۡمِہٖ  لِیُبَیِّنَ لَہُمۡ ‘আমরা সব নবীকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে’ (সূরা ইবরাহীম: ৪)।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মাতৃভাষা যেহেতু আরবী ছিল এবং ছাহাবীদেরও ভাষা আরবী ছিল, তাই তিনি আরবীতেই তাদেরকে নছীহত করতেন। এখন যারা নবী (ﷺ)-এর নায়েব হয়ে জুমু‘আর খুতবা দিবেন তাদেরকেও উল্লেখিত আয়াত ও হাদীছ অনুসারে তাদের শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে মাতৃভাষায় খুতবা দেয়াটা শরী‘আতসম্মত এবং যুক্তি সংগত। এ কারণে ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রত্যেক খত্বীবকে জুমু‘আর সময় তাঁর মাতৃভাষায় ওয়ায করা ওয়াজিব’ (তানক্বীহুর রুওয়াত, ১/২৬৪ পৃ.)। আল্লামা তাহাভী হানাফী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘জুমু‘আর খুতবা আরবী জানলেও ফারসি ভাষায়ও চলবে’ (হাশিয়া তাহতাবী আলা মারাক্বিল ফালাহ, পৃ. ২৭)। আল্লামা আব্দুল হাই লাক্ষেèৗভী হানাফী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘শ্রোতাদেরকে তাদের মাতৃভাষায় খুতবা বুঝিয়ে দেয়া জায়েয’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া, ১/২৪৫ পৃ.)। হানাফী ফিক্বহ গ্রন্থ ‘নিহায়া’, ‘মুজতাবা’, ‘ফাতাওয়া সিরাজিয়্যাহ’, ‘মুহীত’ প্রভৃতি গ্রন্থে আছে যে, ইমাম আবূ হানীফার মতে, ফারসি ভাষাতে জুমু‘আর খুতবা দেয়া জায়েয। হানাফী ফাতাওয়ার কিতাব ‘শামী’তে আছে, ‘আরবী ভাষায় খুতবা দেয়া শর্ত নয়’। হানাফী ফিকহ গ্রন্থ ‘হিদায়া’য় আছে, ‘প্রত্যেক ভাষায় খুতবার নছীহত চলতে পারে’ (কিতাবুল জুমু‘আহ, পৃ. ৫৫-৫৬; বিস্তারিত দ্র.: আইনী তোহফা ছলাতে মুস্তফা, ১/৯৮-৯৯ পৃ.)।

নিজ ভাষায় খুতবা না দেয়ার কারণে যেহেতু তা মানুষের বোধগম্য হয় না সেজন্যই এই খুতবার আগে খত্বীবগণ ‘বয়ান’-এর ব্যবস্থা রেখেছেন, যা শরী‘আতের দৃষ্টিতে একটি জঘন্যতম বিদ‘আত। কারণ ‘খুতবা’ প্রদানের পূর্বে ‘বয়ান’ দেয়া এবং এটাকে এভাবে স্থায়ী রূপ দেয়া নবী (ﷺ) থেকে আদৌ প্রমাণিত নয়। নবী (ﷺ) কখনো খুতবার পূর্বে এ ধরণের বয়ান দেননি। দিতে বলেছেন বলেও কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। এজন্যই এ সঊদী আরবের বরেণ্য মুফতি শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-কে মাতৃভাষায় খুতবা প্রদান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা সরাসরি জায়েয বলে মন্তব্য করেন এবং একথা স্পষ্ট ভাবে বলেন যে, খত্বীবকে নিজ ভাষায় খুতবা দিতে হবে (ফাতাওয়া আরকানিল ইসলাম, প্রশ্ন নং-৩২৪)।


প্রশ্নকারী : আখতারুযযামন, নেত্রকোনা।





প্রশ্ন (৭) : এশার ছালাত কখন আদায় করা উত্তম? আউয়াল ওয়াক্তে, না-কি দেরিতে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : আমার সৎ মাকে বাবা জীবিত অবস্থায় ত্বালাক্ব দিয়ে গেছেন, তাকে আমি যাকাতের অর্থ দিতে পারবো কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়াদের ব্যাপারে একজন মুমিনের কেমন ধারণা থাকা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : মানুষের মৃত্যুর পর তাকে সামনে রেখে বলা হয় যে, মানুষটি ভাল ছিল, না-কি খারাপ ছিল? প্রচলিত পদ্ধতি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : যারা রাসূল (ﷺ)-কে গালি দেয়, তাদের হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২): ইসলামী সম্মেলনকে লক্ষ্য করে যাকাত ও উশরের টাকা আদায় করা যাবে কী? অর্থাৎ যাকাত ও উশরের টাকা দিয়ে ইসলামী সম্মেলন করা যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : জনৈক মহিলা বিয়ের সময় প্রায় ১২ ভরি স্বর্ণ পেয়েছিল। তার অন্য কোন আয় নেই। শুধু স্বামী কিছু হাত খরচ দেন। এক্ষণে ঐ স্বর্ণের যাকাত মহিলা নিজে দিবে, না তার স্বামী দিবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : হজ্জ করতে গিয়ে সেখান থেকে ব্যবসার উদ্দেশ্যে কোন পণ্য নিয়ে আসা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ফিতরার পরিমাণ হিসাবে কেউ বলছেন এক ছা‘ সমান আড়াই কেজি, কেউ পৌনে তিন কেজি, কেউ তিন কেজি বলছেন। আসলে এ বিষয়ে সঠিক সমাধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : অনেকে জীব-জন্তু বা মানুষের ছবি দিয়ে শুভেচ্ছা ব্যানার তৈরি করেন। উক্ত ব্যানার বা কার্ডের ডিজাইনের কাজ করা কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : আমি যদি বর্তমানে আল্লাহ ও রাসূল (ﷺ)-এর আদেশ মোতাবেক পর্দা শুরু করি এবং পূর্ববর্তী জীবনধারার জন্য তওবা করার পর মৃত্যুবরণ করি, তাহলে আমার মৃত্যুর পর কোন নন-মাহরাম আমার হিজাব বিহীন ছবি দেখলে কবরের আযাব হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : ‘যে বিয়েতে খরচ কম ঐ বিয়েতে বরকত বেশি’। এই হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ