রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন
উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জুমু‘আর খুতবায় আল্লাহর প্রশংসা করতেন, দুরূদ পড়তেন, কুরআন থেকে তেলাওয়াত করতেন এবং কিছু ওয়ায-নছিহত করতেন। নবীদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ مَاۤ  اَرۡسَلۡنَا مِنۡ رَّسُوۡلٍ  اِلَّا بِلِسَانِ قَوۡمِہٖ  لِیُبَیِّنَ لَہُمۡ ‘আমরা সব নবীকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে’ (সূরা ইবরাহীম: ৪)।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মাতৃভাষা যেহেতু আরবী ছিল এবং ছাহাবীদেরও ভাষা আরবী ছিল, তাই তিনি আরবীতেই তাদেরকে নছীহত করতেন। এখন যারা নবী (ﷺ)-এর নায়েব হয়ে জুমু‘আর খুতবা দিবেন তাদেরকেও উল্লেখিত আয়াত ও হাদীছ অনুসারে তাদের শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে মাতৃভাষায় খুতবা দেয়াটা শরী‘আতসম্মত এবং যুক্তি সংগত। এ কারণে ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রত্যেক খত্বীবকে জুমু‘আর সময় তাঁর মাতৃভাষায় ওয়ায করা ওয়াজিব’ (তানক্বীহুর রুওয়াত, ১/২৬৪ পৃ.)। আল্লামা তাহাভী হানাফী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘জুমু‘আর খুতবা আরবী জানলেও ফারসি ভাষায়ও চলবে’ (হাশিয়া তাহতাবী আলা মারাক্বিল ফালাহ, পৃ. ২৭)। আল্লামা আব্দুল হাই লাক্ষেèৗভী হানাফী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘শ্রোতাদেরকে তাদের মাতৃভাষায় খুতবা বুঝিয়ে দেয়া জায়েয’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া, ১/২৪৫ পৃ.)। হানাফী ফিক্বহ গ্রন্থ ‘নিহায়া’, ‘মুজতাবা’, ‘ফাতাওয়া সিরাজিয়্যাহ’, ‘মুহীত’ প্রভৃতি গ্রন্থে আছে যে, ইমাম আবূ হানীফার মতে, ফারসি ভাষাতে জুমু‘আর খুতবা দেয়া জায়েয। হানাফী ফাতাওয়ার কিতাব ‘শামী’তে আছে, ‘আরবী ভাষায় খুতবা দেয়া শর্ত নয়’। হানাফী ফিকহ গ্রন্থ ‘হিদায়া’য় আছে, ‘প্রত্যেক ভাষায় খুতবার নছীহত চলতে পারে’ (কিতাবুল জুমু‘আহ, পৃ. ৫৫-৫৬; বিস্তারিত দ্র.: আইনী তোহফা ছলাতে মুস্তফা, ১/৯৮-৯৯ পৃ.)।

নিজ ভাষায় খুতবা না দেয়ার কারণে যেহেতু তা মানুষের বোধগম্য হয় না সেজন্যই এই খুতবার আগে খত্বীবগণ ‘বয়ান’-এর ব্যবস্থা রেখেছেন, যা শরী‘আতের দৃষ্টিতে একটি জঘন্যতম বিদ‘আত। কারণ ‘খুতবা’ প্রদানের পূর্বে ‘বয়ান’ দেয়া এবং এটাকে এভাবে স্থায়ী রূপ দেয়া নবী (ﷺ) থেকে আদৌ প্রমাণিত নয়। নবী (ﷺ) কখনো খুতবার পূর্বে এ ধরণের বয়ান দেননি। দিতে বলেছেন বলেও কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। এজন্যই এ সঊদী আরবের বরেণ্য মুফতি শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-কে মাতৃভাষায় খুতবা প্রদান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা সরাসরি জায়েয বলে মন্তব্য করেন এবং একথা স্পষ্ট ভাবে বলেন যে, খত্বীবকে নিজ ভাষায় খুতবা দিতে হবে (ফাতাওয়া আরকানিল ইসলাম, প্রশ্ন নং-৩২৪)।


প্রশ্নকারী : আখতারুযযামন, নেত্রকোনা।





প্রশ্ন (১৭) : আপন ভাগ্নির মেয়েকে বিয়ে করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : ঈমানদার জিনরা কি ঈমানদার মানুষের সাথে বিবাহ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : যারা এমন বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহ সব জায়গায় এবং তিনি নিরাকার, তাদের ইমামতিতে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : কোন্ অবস্থায় ছাদাক্বাহ করলে নেকী বেশি পাওয়া যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : সাতদিনের মধ্যে বাচ্চা মারা গেলে ‘আক্বীক্বা দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ঈদ ও অনুরূপ সময়ে একজন ব্যক্তির নিজের ছবি তুলে পরিবারের কাছে পাঠানো কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : নিম্নের দু‘আটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : বিয়ের সময় পাত্রীকে সাজানোর জন্য পোশাক ও বিভিন্ন কসমেটিকস দেয়া হয়। সেইগুলো কি দেনমোহর হিসাবে ধরা যাবে? দেনমোহরের পরিমাণ কত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : প্রচলিত আছে যে, সমাজের কেউ ই‘তিকাফ না করলে সবাই পাপী হবে। উক্ত কথা কোন ভিত্তি আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মীমাংসামূলক ছালাতের  বিশুদ্ধ আাছে কি? সেটা হচ্ছে: দুই রাক‘আত ছালাত পড়া। প্রত্যেক রাক‘আতে সূরা ফাতিহা পড়া এবং সাতবার ‘সম্ভবত আল্লাহ তোমাদের মধ্যে এবং তাদের মধ্য থেকে যাদের সাথে তোমাদের শত্রুতা আছে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। আল্লাহ সবকিছই করতে সক্ষম। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ আয়াতটি পড়া। ছালাত শেষ করার পর এই দু‘আ করা, ‘হে আল্লাহ! অমুকের ছেলে অমুকের (স্বামীর নাম) অন্তর অমুকের মেয়ে অমুকের (স্ত্রীর নাম) উপর কোমল করে দিন; যেভাবে আপনি দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য লোহাকে কোমল করে দিয়েছেন। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : কাঁকড়া খাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ক্বিয়ামতের আগে কোন মুমিন থাকবে না এবং কেউ আল্লাহর নাম স্মরণ করবে না। এটি কি ক্বিয়ামতের পূর্বমুহূর্র্তে, না-কি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের পূর্ববর্তী সময়ে? উল্লেখ্য, ক্বিয়ামতের পূর্বে মুমিনদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং দ্বীনের বিজয় হবে। তাহলে এর ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ