বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন
উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জুমু‘আর খুতবায় আল্লাহর প্রশংসা করতেন, দুরূদ পড়তেন, কুরআন থেকে তেলাওয়াত করতেন এবং কিছু ওয়ায-নছিহত করতেন। নবীদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ مَاۤ  اَرۡسَلۡنَا مِنۡ رَّسُوۡلٍ  اِلَّا بِلِسَانِ قَوۡمِہٖ  لِیُبَیِّنَ لَہُمۡ ‘আমরা সব নবীকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে’ (সূরা ইবরাহীম: ৪)।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মাতৃভাষা যেহেতু আরবী ছিল এবং ছাহাবীদেরও ভাষা আরবী ছিল, তাই তিনি আরবীতেই তাদেরকে নছীহত করতেন। এখন যারা নবী (ﷺ)-এর নায়েব হয়ে জুমু‘আর খুতবা দিবেন তাদেরকেও উল্লেখিত আয়াত ও হাদীছ অনুসারে তাদের শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে মাতৃভাষায় খুতবা দেয়াটা শরী‘আতসম্মত এবং যুক্তি সংগত। এ কারণে ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রত্যেক খত্বীবকে জুমু‘আর সময় তাঁর মাতৃভাষায় ওয়ায করা ওয়াজিব’ (তানক্বীহুর রুওয়াত, ১/২৬৪ পৃ.)। আল্লামা তাহাভী হানাফী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘জুমু‘আর খুতবা আরবী জানলেও ফারসি ভাষায়ও চলবে’ (হাশিয়া তাহতাবী আলা মারাক্বিল ফালাহ, পৃ. ২৭)। আল্লামা আব্দুল হাই লাক্ষেèৗভী হানাফী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘শ্রোতাদেরকে তাদের মাতৃভাষায় খুতবা বুঝিয়ে দেয়া জায়েয’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া, ১/২৪৫ পৃ.)। হানাফী ফিক্বহ গ্রন্থ ‘নিহায়া’, ‘মুজতাবা’, ‘ফাতাওয়া সিরাজিয়্যাহ’, ‘মুহীত’ প্রভৃতি গ্রন্থে আছে যে, ইমাম আবূ হানীফার মতে, ফারসি ভাষাতে জুমু‘আর খুতবা দেয়া জায়েয। হানাফী ফাতাওয়ার কিতাব ‘শামী’তে আছে, ‘আরবী ভাষায় খুতবা দেয়া শর্ত নয়’। হানাফী ফিকহ গ্রন্থ ‘হিদায়া’য় আছে, ‘প্রত্যেক ভাষায় খুতবার নছীহত চলতে পারে’ (কিতাবুল জুমু‘আহ, পৃ. ৫৫-৫৬; বিস্তারিত দ্র.: আইনী তোহফা ছলাতে মুস্তফা, ১/৯৮-৯৯ পৃ.)।

নিজ ভাষায় খুতবা না দেয়ার কারণে যেহেতু তা মানুষের বোধগম্য হয় না সেজন্যই এই খুতবার আগে খত্বীবগণ ‘বয়ান’-এর ব্যবস্থা রেখেছেন, যা শরী‘আতের দৃষ্টিতে একটি জঘন্যতম বিদ‘আত। কারণ ‘খুতবা’ প্রদানের পূর্বে ‘বয়ান’ দেয়া এবং এটাকে এভাবে স্থায়ী রূপ দেয়া নবী (ﷺ) থেকে আদৌ প্রমাণিত নয়। নবী (ﷺ) কখনো খুতবার পূর্বে এ ধরণের বয়ান দেননি। দিতে বলেছেন বলেও কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। এজন্যই এ সঊদী আরবের বরেণ্য মুফতি শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-কে মাতৃভাষায় খুতবা প্রদান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা সরাসরি জায়েয বলে মন্তব্য করেন এবং একথা স্পষ্ট ভাবে বলেন যে, খত্বীবকে নিজ ভাষায় খুতবা দিতে হবে (ফাতাওয়া আরকানিল ইসলাম, প্রশ্ন নং-৩২৪)।


প্রশ্নকারী : আখতারুযযামন, নেত্রকোনা।





প্রশ্ন (৩১) : মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাটির তৈরি, না-কি নূরের তৈরি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : জনৈক ব্যক্তি মানত করেছিল যে, পুত্র সন্তান হলে একটি ইসলামী জালসা করবে। প্রশ্ন হল- গ্রামের ইসলামী জালসায় টাকা দিয়ে অংশগ্রহণ করলে উক্ত মানত পূর্ণ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫২) : যে ব্যক্তি রামাযান, শাওয়াল, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছিয়াম পালন করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’ (আহমাদ, হা/১৫৪৭২) মর্মে বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : তাহাজ্জুদ বা তারাবীহর মত নফল ছালাতে কুরআন দেখে দেখে পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২): ‘কতক ক্বারীকে কুরআন লা‘নত করে’ মর্মে হাদীছটি কি নবী (ﷺ) থেকে ছহীহ সূত্রে বর্ণিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মুসাফির অবস্থায় স্টেশনে বা বাসস্ট্যান্ডের পাশের কোন মসজিদে জামা‘আত চলাকালীন প্রবেশ করলে জামা‘আতে শামিল না হয়ে একা একা ক্বছর আদায় করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : শুক্রবারে জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয় এবং সেদিন কেউ মারা গেলে বিনা হিসাবে জান্নাতে চলে যায়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : ধান, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, আলু ইত্যাদি মওজুদ করে রাখার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : কুরআন খতমের পর নিম্নের দু‘আ পড়ার কোন ছহীহ দলীল আছে কি? اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي بالقُرْءَانِ وَاجْعَلهُ لِي إِمَاماً وَنُوراً وَهُدًى وَرَحْمَةً اللَّهُمَّ ذَكِّرْنِي مِنْهُ مَانَسِيتُ وَعَلِّمْنِي مِنْهُ مَاجَهِلْتُ وَارْزُقْنِي تِلاَوَتَهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَأَطْرَافَ النَّهَارِ وَاجْعَلْهُ لِي حُجَّةً يَارَبَّ العَالَمِينَ - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : সূরা মুলকের ফযীলত সম্পর্কিত বর্ণিত হাদীছ কি ছহীহ? এই হাদীছ নাকি হাসান। হাসান হলে কি আমলযোগ্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : পুরুষরা হাতে-পায়ে মেহেদি লাগাতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : ইসলামের কোন ইখতিলাফী মাসআলা বিষয়ে কুরআন ও ছহীহ হাদীছ এ সমাধান থাকার পরেও ইজমা ও ক্বিয়াছের সমাধান খোঁজা যাবে কি? উক্ত বিষয়ে কুরআন ও ছহীহ হাদীছের সমাধান জানার পরেও যারা ইজমা ও ক্বিয়াসের দোহাই দিয়ে তা অমান্য করে, তাদের হুকুম কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ