রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন
উত্তর : প্রয়োজনে তাহাজ্জুদ বা তারাবীহর মত দীর্ঘ ক্বিরাআত বিশিষ্ট নফল ছালাতে দেখে কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করা জায়েয। যেমন, وَكَانَتْ عَائِشَةُ يَؤُمُّهَا عَبْدُهَا ذَكْوَانُ مِنَ الْمُصْحَفِ ‘আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর গোলাম যাক্ওয়ান কুরআনুল কারীম দেখে তিলাওয়াত করার মাধ্যমে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ইমামতি করতেন’ (তা‘লীক্ব, ছহীহ বুখারী, হা/৬৯২, অধ্যায়-১০, অনুচ্ছেদ-৫৪; মুছান্নাফু ইবনি আবী শাইবাহ, ২/৩৩৮ পৃ.)। ইবনু শিহাব ও ইমাম যুহরী  (রাহিমাহুল্লাহ)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, রামাযান মাসে লোকদের ইমামতি করার সময় দেখে কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করা যাবে কি? উত্তরে তাঁরা বলেছিলেন, ‘ইসলামের প্রথম যুগ থেকেই এই ধারা চলে আসছে। আমাদের যুগের সর্বোত্তম লোকেরাও দেখে তিলাওয়াত করতেন। ইবরাহীম ইবনু সাঈদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমাকে আমার পিতা রামাযান মাসে নিজ পরিবারকে নিয়ে ক্বিয়ামুল লাইল আদায় করার আদেশ দিতেন এবং কুরআনুল কারীম থেকে দেখে দেখে তিলাওয়াত করারও নির্দেশ দিতেন। আইয়ূব (রাহিমাহুল্লাহ) মুহাম্মাদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করে বলেন যে, তিনি নফল ছালাতে দেখে দেখে তিলাওয়াত করাকে দোষনীয় মনে করতেন না। ‘আত্বা (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনছারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, রামাযান মাসে তারাবীর ইমামতি করার সময় দেখে দেখে কুরআন পাঠ করা দোষনীয় নয়। ইবনু ওয়াহাব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-কে এমন একটি গ্রাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, যে গ্রামে কোন দক্ষ ক্বারী বা হাফিয নেই। সেক্ষেত্রে তাদের মধ্য হতে কেউ কি দেখে কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করার মাধ্যমে ইমামতি করতে পারবে? উত্তরে তিনি বলেন, ‘এটি দোষনীয় নয়’। ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ক্বিয়ামুল লাইলের ইমামতি করার সময় দেখে কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করা দোষনীয় নয়’। ইমাম নববী, ইমাম ইবনু কুদামাহ, শায়খ আব্দুল্লাহ্ ইবনু বায (রাহিমাহুমুল্লাহ) এবং সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটিও একই ফৎওয়া দিয়েছেন (আল-মাজমূঊ, ৪/২৭ পৃ.; আল-মুগনী, ১/৩৩৫ পৃ.; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, ১/২০০ পৃ.; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু বায, ১১/১১৭-১১৮ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৬৫৯২৪; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৭/২০৩-২০৬ পৃ.)

উল্লেখ্য যে, মুজাহিদ, ইবরাহীম, সুফিয়ান ও শায়খ ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) রামাযান মাসে ক্বিয়ামুল লাইলে দেখে কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করাকে অপসন্দ করতেন। কেননা এর মধ্যে নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। যেমন (১) হাতে কুরআন ধরার কারণে দাঁড়ানো অবস্থায় বুকের উপর দুই হাত রাখার বিধানের উপর আমল করা যায় না। (২) পৃষ্ঠা উল্টানোর সময় ও পকেটে রাখার সময় নড়াচড়া করতে হয়। (৩) ছালাত থেকে মুছল্লীর মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করে এর মধ্যে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। (৪) সাজদার জায়গায় দৃষ্টি নিক্ষেপ করা সম্ভবপর হয় না। (৫) অমনোযোগী হয়ে ছালাত আদায়কারী প্রায় ভুলেই যায় যে, সে ছালাতরত অবস্থায় আছে’ (মাজমূউ ফাতাওয়া ইবনু উছাইমীন, ১৪/২৩১-২৩৮ পৃ.; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৭/২০৪-২০৬ পৃ.)


প্রশ্নকারী : বেলাল, ঢাকা।





প্রশ্ন (৮) : একজন স্বামী রাগের মাথায় বলে- ‘তোমাকে ডিভোর্স, তোমার ১৪ গুষ্টিকে ডিভোর্স’। কিন্তু স্বামীর ত্বালাক্ব দেয়ার কোন নিয়ত (ইচ্ছা) ছিল না। সে কথাগুলো শুধু রাগ ও গালির ভাষায়, ত্বালাক্বের উদ্দেশ্য ছাড়া উচ্চারণ করেছে। স্বামী জানে যে, ‘তোমাকে ত্বালাক্ব দিলাম’- এই কথা নিয়তসহ বললে তবেই ত্বালাক্ব হয়। ইংরেজিতে ডিভোর্স, বললে হয় না। এখন প্রশ্ন হলো- এই অবস্থায় স্বামীর উক্তি ‘তোমাকে ডিভোর্স, তোমার ১৪ গুষ্টিকে ডিভোর্স’। বলার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ত্বালাক্ব সংঘটিত হয়েছে কি না? যদি হয়, তাহলে কয়টা হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : শুক্রবারে জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয় এবং সেদিন কেউ মারা গেলে বিনা হিসাবে জান্নাতে চলে যায়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : এক ছেলের বয়স ১৮ বছর। পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করে এবং যাবতীয় গুনাহ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু হস্তমৈথুনের প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারে না। তওবাহ করলেও পরে আবার উক্ত কর্মে লিপ্ত হয়। এ অবস্থায় করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কুরবানী দিবেন, না-কি আগে ঋণ পরিশোধ করবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ছালাতে হাত বাঁধা সম্পর্কে সঊদী আরবের সর্বোচ্চ ফাতাওয়া বোর্ড এবং শায়খ ইবনু বায, আলবানী, শায়খ উছায়মীন (রাহিমাহুমুল্লাহ) কী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন? নাভীর নিচে বাঁধতে বলেছেন, না-কি বুকের উপর? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : প্রচলিত রয়েছে যে, শু‘আইব (আলাইহিস সালাম) মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর শ্বশুর ছিলেন। কথাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : কেক ও চকলেটের উপর ‘আল্লাহ’ লেখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : বাচ্চাদের পেশাব করা কাপড় দিয়ে কি ছালাত আদায় করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : ইলম অর্জন, তাবলীগ ও দাওয়াতের কাজে সফরে যাওয়ার জন্য পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়া যাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন(২৮) : ‘রামাযানের প্রথম দশক রহমত, মধ্য দশক মাগফিরাত এবং শেষ দশক নাজাত’ মর্মে আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : আলেম বা সম্মানী ব্যক্তিদের হাতে চুম্বন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : দাড়ি একমুষ্টি রেখে বাকি অংশ কাটা যাবে কি? যেখানে ছহীহ বুখারীর ৫৮৯২ নম্বর হাদীছে এসেছে, ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহ আনহুমা) সূত্রে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের উল্টো করবে- দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে। ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহ আনহুমা) যখন হজ্জ বা ওমরাহ করতেন, তখন তিনি তাঁর দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশি থাকত, তা কেটে ফেলতেন। এছাড়া আরো হাদীছ এসেছে। এই বিষয়ে সঠিক সমাধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ